Home Blog Page 114

তীব্র গরম আর যুদ্ধ-উদ্বেগের আবহে শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজ পালন আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিস্থিতির আবহেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন।

হজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিনে মক্কায় উপস্থিত বহু হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হন। এর আগে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে তারা মসজিদুল হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এদিকে গরমের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করার সময় অনেক হজযাত্রী ছায়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে পোর্টেবল বা হাত-পাখা রাখছেন। শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং বড় ফ্যান বা পাখার সাহায্যে চারদিকে হালকা পানির কুয়াশা ছিটানো হচ্ছে।

গরমের পাশাপাশি এবার সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির কথা বলা হলেও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেও বিভিন্ন দেশ হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সার্বিক বিষয়ে জরুরি বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির হজযাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো না হয় তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

সরকারের পরিচালন ও সুদ পরিশোধ ব্যয় বাড়ছেই

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া বরাদ্দ অনুসারে পরিচালন ব্যয়ের হারও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে পরিচালন ব্যয় ছিল এ খাতে মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশ, যা এবার বেড়ে হয়েছে ৬৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হার গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় ছিল ৭১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের হালনাগাদ বাজেট বাস্তবায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আর্থিক খাতে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রভাব ব্যাংক খাত পেরিয়ে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির ক্ষত সারাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার ঘোষণা দেয়। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালন ব্যয়ে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে নতুন সরকার। বাস্তবে পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচালন ব্যয় বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশি ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও বিশেষ প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় আরও বাড়ছে।

এদিকে, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধেও সরকারের ব্যয় বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৬ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় বাড়ার প্রভাবে এ সময়ে মোট বাজেট বাস্তবায়ন হারও বেড়ে ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

পরিচালন ব্যয়ের চেয়ে কম রাজস্ব আয়
পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় বেশি হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়, বেতন-ভাতা, সুদ ও ভর্তুকির মতো পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশও সরকারকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যয়ের ৫৭ হাজার কোটি টাকার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়েরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা সরকারকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল।

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, সাধারণত রাজস্ব আয় দিয়েই পরিচালন ব্যয় মেটানো হয় এবং সেখান থেকে কিছু অর্থ উন্নয়ন ব্যয়েও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই ঠিকমতো মেটানো যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, সরকারের উচিত পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

এদিকে, মোট ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

ঈদ-পরবর্তী সাত দিন পশুর চামড়া ঢাকায় আনা যাবে না

রাজধানীর বাইরে থেকে ঈদ-পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত কাঁচা চামড়াবাহী কোনো যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে যথাযথভাবে কাঁচা চামড়ায় লবণ দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিসিকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

এতে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে বলা হয়, পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুত রক্ত-মাংস পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি গরুর চামড়ায় আট থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়ায় তিন থেকে চার কেজি লবণ দিতে হবে। চামড়া ভাঁজ করে শুকনো ও ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে দীর্ঘ সময় চামড়া ভালো থাকবে।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাঁচা চামড়াবাহী কোনো যানবাহন নির্ধারিত সময়ের (সাত দিন) আগে ঢাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই কারও কথায় চামড়া বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করবেন না। এতে চামড়াসহ ট্রাক জব্দ করা হতে পারে।

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান সমকালকে বলেন, গত বছর ২০ কোটি টাকার লবণ ফ্রি দেওয়া হয়েছে, যাতে চামড়া নষ্ট না হয়। এবার ১৮ কোটি টাকার লবণ ফ্রি দেওয়া হবে। কোন কোন মিলারের কাছ থেকে লবণ কিনতে হবে, সেটিও সরবরাহকারীদের বলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কীভবে কাঁচা চামড়ায় লবণ দিতে হবে, কীভাবে গরু থেকে চামড়া আলাদা করে তা সংরক্ষণ করতে হবে– এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরম আর যুদ্ধ-উদ্বেগের আবহে শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজ পালন আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিস্থিতির আবহেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন।

হজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিনে মক্কায় উপস্থিত বহু হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হন। এর আগে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে তারা মসজিদুল হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এদিকে গরমের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করার সময় অনেক হজযাত্রী ছায়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে পোর্টেবল বা হাত-পাখা রাখছেন। শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং বড় ফ্যান বা পাখার সাহায্যে চারদিকে হালকা পানির কুয়াশা ছিটানো হচ্ছে।

গরমের পাশাপাশি এবার সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির কথা বলা হলেও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেও বিভিন্ন দেশ হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সার্বিক বিষয়ে জরুরি বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির হজযাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো না হয় তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই চুক্তি হচ্ছে না: ইরান

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো চুক্তি এখনই হচ্ছে না।

সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আলোচনাধীন বিষয়গুলোর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। এ কথা সত্য। কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র- এমনটা বলা ঠিক হবে না।’

বাঘাই আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতাও তৈরি হয়েছে। তবে চুক্তি এখনই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সময় রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আছে। একইদিন ভারতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিশ্ববাসী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুখবর পাবে। তবে রাতে ট্রাম্প জানান, তিনি চুক্তির বিষয়ে তড়িঘড়ি করতে বারণ করেছেন।

চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার আগে ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, ইরানের উদ্দেশ্য প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করা। এর পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

দুই পক্ষ পৃথকভাবে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কথা বললেও মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কে কতটুকু ছাড় দিতে পারে তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে আছে- পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জব্দকৃত সম্পদ ও লেবানন প্রসঙ্গ।

পারমাণবিক কর্মসূচি
ইসমাইল বাঘাই জানান, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি প্রাথমিক রূপরেখার অংশ না। বরং পরবর্তী পর্যায়ে এটি পৃথক আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যেটির মজুত ত্যাগ করার বিষয়ে তেহরানের একটি দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি আছে।

ইরানের ফার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর, সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া কিংবা পারমাণবিক বোমা তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

হরমুজ কীভাবে খুলবে?
সমঝোতার একটি জটিল ও অমীমাংসিত বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা। ইরান জোর দিয়ে বলছে, তেলবাহী জাহাজ চলার সময় তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হলেও কৌশলগত এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা বজায় থাকবে।

তাসনিম নিউজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালির সার্বিক পরিস্থিতি কোনোভাবেই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে তারা আরও লিখেছে, রূপরেখা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

জব্দ সম্পদ ও লেবানন
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেকোনো প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পূর্বশর্ত হতে হবে এই আটকে থাকা সম্পদের অন্তত আংশিক ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া। একেবারে প্রথম ধাপে যদি তাদের অবরুদ্ধ সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে দেওয়া না হয়, তবে কোনো চুক্তি হবে না।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি এই সংস্থাটি লিখেছে, আটকে থাকা বাকি তহবিল ধারাবাহিকভাবে বা নিয়মিত ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তির আগে নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। আরেক সংস্থা ফার্স লিখেছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাসনিম জানিয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির আগে একটি সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হবে। সেখানে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করা থাকবে।

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনা ১৫ নিহতের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি নওগাঁয়

টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিহতদের বাড়ি মান্দা থানার বিভিন্ন গ্রামে। আমাদের কাছে যে তথ্যগুলো আসছে আমরা তা সংগ্রহ করছি। নিহতদের নাম পরিচয় পেশা এখনও জানা যায়নি। তাদের নাম পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার (টাঙ্গাইল) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফুয়াদ রোহানী জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক ভোর ৫টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি সড়কে উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক এস এম হুমায়ুন কারনায়েক বলেন, সড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের মধ্যে চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় আরও ৪ জনকে আনা হয়। তারা বর্তমানে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঈদযাত্রা সড়কে চাপ আছে, যানজট নেই

কর্মদিবস থেকে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পদ্মা এবং যমুনা সেতুতে যান চলাচল দ্বিগুণ হওয়ায়, ধীরগতি তৈরি হলেও অচলাবস্থা তৈরি হয়নি।

সকালে তিনটি ট্রেন রাজধানী থেকে বিলম্বে যাত্রা করলেও, রাত পর্যন্ত শিডিউল ঠিক ছিল। আজ সোমবার অধিকাংশ কলকারাখানায় ছুটি হবে; তাই সন্ধ্যার পর যাত্রীর ঢলে যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

গত বছরও পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যাপক ভোগান্তি হয়েছিল আগের দুই দিনে। এবারও সোম ও মঙ্গলবার যানজটের শঙ্কা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হবে। গাজীপুরের অধিকাংশ কলকারখানা আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার ছুটি হবে।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়।  প্রতি ঈদেই এখানে দীর্ঘ যানজট হয়। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবর পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল গতকাল রাত ১০টার দিকে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। চালক ও যাত্রীরা জানান, বৃষ্টির কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছিল না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশেও বিকেলের পর যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়ের ফলে  যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গতকালের বৃষ্টিতে নির্মাণকাজের মাটি ও বালুতে কাদা হয়ে রূপগঞ্জের বরপা ও ভূলতা এলাকায় ভোগান্তি হয়। মহাসড়কের খানাখন্দের গাড়ি গতি কমে দুর্ভোগ হচ্ছে।

মন্ত্রী বললেন যাত্রীরা সন্তুষ্ট 

ট্রেনের যাত্রীরা সন্তুষ্ট বলে দাবি করে সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভে  (ইঞ্জিন) সর্বোচ্চ সতর্কতায় ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।

গতকাল ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিটসহ ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষাধিক যাত্রীর ট্রেন ভ্রমণের চাহিদা থাকে।

কমলাপুরে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোন ট্রেনে উঠব, তা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। পরিদর্শনের সময় দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে।’

সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ে এর চাকা স্লিপ করায় বিকল হয়। এটি তাই ঢাকাতে দেরিতে এসেছে। ফলে  কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দায়িত্বে বসে আছি, আমাদের তখনই ঈদ মনে হয়, যখন শুনি ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। সড়ক ফাঁকা হয়েছে।’

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা য়ায়।

গত বৃহস্পতিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে আজ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আইএমএফের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্যাংক-ফান্ড বার্ষিক সভায় হওয়া ফলপ্রসূ আলোচনার কথা স্মরণ করেন। ওই বৈঠকের পর সরকার অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে।’

বৈঠকে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছরের একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বৈঠকে নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করতে পারে। তখন ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।

সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি হ্রাস, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার আপাতত এসব কঠোর সংস্কারে যেতে আগ্রহী নয়।

তবে কর্মকর্তাদের মতে, একটি সক্রিয় আইএমএফ কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ‘সিল অব অ্যাপ্রুভাল’ হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়াও সহজ হয়।

সরকার আশা করছে, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি ইতিবাচক হলে আইএমএফ বাংলাদেশকে একটি ‘কমফোর্ট লেটার’ দেবে। এর ফলে বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।

আহত তরুণের মৃত্যুর জেরে পুড়ল প্রতিপক্ষের বাড়ি

খুলনার একটি ঘেরে মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড় খুটিরঘাটের ঘেরে পাওয়া যায় তাঁর মরদেহ। শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর পলাশে ছুরিকাঘাতে আহত তরুণ রাতে ঢাকায় মারা যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী গতকাল সকালে হামলাকারীদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার রাতে গাজীপুর ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ি মালিকের লাথিতে প্রাণ গেছে ভাড়াটিয়ার। বাগেরহাটে গতকাল ৬ বছরের শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎমাকে আটক করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছেলের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বৃদ্ধ বাবা।

মাছের ঘেরে যুবকের লাশ
খুলনায় ওমর ফারুক ওরফে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি নগরীর জাব্দিপুরের ইব্রাহীম শেখের ছেলে। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও রাব্বি দৌলতপুরে মা-বোনের সঙ্গে থাকতেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড় খুটিরঘাটের ঘেরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। রাব্বির মাথা ও বুকে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, রাতে রাব্বিকে গুলি করে হত্যা করে ওই মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে বিস্ফোরিত গুলির খোসা পাওয়া গেছে। নিহত যুবক স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি মো. মুরাদুল ইসলাম জানান, সকালে এক ব্যক্তি ঘেরের পাশে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। রক্তাক্ত রাব্বির লাশের মাথা ও বুকের মাঝখানে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোন থেকে বোনের নম্বরে কল দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
রাব্বি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলতি বছরে খুলনায় ১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত বছর হয়েছে ৩৭টি।

গভীর রাতে মৃত্যু, সকালে হামলা
নরসিংদীর পলাশে পূর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল আশিক ভূঁইয়া (২০) নামে এক তরুণসহ তিনজনকে। শুক্রবার বিকেলে গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৩টার দিকে সেখানে মারা যান আশিক। এ সংবাদে গতকাল সকালে উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে হামলাকারীদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও দুটি বাড়ি।

আশিক ভূঁইয়া মাঝেরচরের মনির হোসেন ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, একই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সাগর ও তার ছোট ভাই সোহাগের সঙ্গে মাদক সেবন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার রুহুল আমিনের তর্ক হয়। এ বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছিলেন আশিক। তাঁর মা খুকুমনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশের সময় দিয়েছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী আরমান মিয়াসহ অন্যরা। তারা এদিন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সাগর, সোহাগ, তাদের বাবা ইউনুস আলীসহ ১০-১৫ জন হঠাৎ আশিকের ওপর হামলা করে। সাগর ছুরি দিয়ে তার শরীরে একাধিক আঘাত করে। তাকে ফেরাতে এলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসকেও আঘাত করা হয়।

এলাকাবাসী আশিক, রুহুল ও ইলিয়াসকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে আশিককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রুহুল গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে গতকাল সকালে আশিকের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের একাংশ সাগরদের বাড়ি গিয়ে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া সাগরের চাচা মিন্নত আলী ও আরেক আত্মীয়ের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর আশিকের মরদেহ গতকাল সন্ধ্যার পর তার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন হয়েছে। তার স্বজনেরা এলে রাতেই মামলা হবে। ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।

পারিবারিক বিরোধে চার হত্যাকাণ্ড
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক বিরোধে তর্কাতর্কির সময় ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছিন্নমূল সমাজ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে সাড়ে ৬ বছর বয়সী মো. তালহাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎমা রুবাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় রুবাইয়াকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। এদিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লখপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে গাজীপুরে ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর পোড়া লাশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মহানগরের কোনাবাড়ী নতুন বাজার নিউমার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফারজানার স্বামী বাবু ও বাড়ির কেয়ারটেকার রোমানকে আটক করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে কি বাবু বাইরে যান, নাকি ফারজানা আত্মহত্যা করেন– তদন্ত চলছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে শিমুলি আক্তার শিউলির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিউলির ভগ্নিপতি নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। শিউলির মেয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তাঁকে মারধরের পর মরদেহ ঝুলিয়ে পালিয়ে যান স্বামী আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী সুলতানা বেগম।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে শুক্রবার রাতে দোকান মালিকের লাথিতে প্রাণ গেছে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক ভাড়াটিয়ার।

ঈদযাত্রা সরকার প্রতিশ্রুতি রাখেনি, এসি বাসে যথেচ্ছ ভাড়া

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৩০ টাকা। একই দূরত্বে এসি বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪৫০ টাকা। ঈদে তা হয়েছে ৫০০ টাকা। সরকারের নির্দেশনায় এ ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাস মালিকদের সংগঠন। আমদানি শুল্ক এবং গাড়ির বডিভেদে মালিকরা ব্যাখ্যা ছাড়াই বিজনেস এবং ইকোনমি ক্লাস নামে তা নির্ধারণ করেছেন। অথচ সরকারের আশ্বাস ছিল, ঈদুল আজহার আগে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তা না হওয়ায় এবার ঈদযাত্রাতেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এসি বাসে।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, নন-এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে সরকার। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ১২টি ব্যয় বিশ্লেষণ করে ভাড়ার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়কে। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। গত মাসে ডিজেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লায় ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় কিলোমিটারে দুই টাকা ২৩ পয়সা। ৪০ আসনের বাসে তা ২ টাকা ৮৪ পয়সা।

এসি বাসের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। দূরপাল্লার পথে কোম্পানি মালিকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া ঠিক করেন। বাসের আসন ও সুবিধা অনুযায়ী তা নির্ধারণ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নন-এসি ভাড়ার তিনগুণ পর্যন্ত।

ঈদে ভাড়া বাড়ে এসিতে
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৭০৪ টাকা। এসি বাসে ভাড়া ঈদের সময়ে এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে এ রুটে এসি বাসে ভাড়া থাকে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ঈদে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এসি বাসের ভাড়া।

ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৯৫০ টাকা। এসি-বাসে ঈদের আগে এখন তা এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এসব ভাড়া ছিল এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সর্বোচ্চ স্তরে ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

একাধিক মালিক সমকালকে বলেছেন, নন-এসি বাস ৪০ আসনের। আরামদায়ক যাত্রার জন্য এসি বাসগুলো ২৮, ৩২ আসনেরও হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ৪০ আসনের এসি বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও ২৮ আসনের ক্ষেত্রে তা ৭০০ টাকা। কুড়িগ্রাম, চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে স্লিপার কোচে শুয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে; সেগুলোতে ভাড়া নন-এসি বাসের চার গুণ।

বিআরটিএ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৮৯ এবং মিনিবাসের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৯৬। যদিও এর অধিকাংশ সচল নেই। দূরপাল্লার রুটে ৩০ হাজারের মতো বাস চলে বলে ধারণা করা হয়। সারাদেশে নিবন্ধিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের মোট সংখ্যা দুই হাজার ৭৮৩। বিআরটিসির ৪১৩টি বাসের কয়েকটি বাদে প্রায় সব এসি বাস দূরপাল্লার পথে চলে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া কোম্পানিভেদে ৫৯০ থেকে ৬২০ টাকা। এসি বাসে তা এখন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। যদিও ঈদের আগে এ ভাড়া ছিল ৮৫০ থেকে হাজার টাকা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে এসি বাসের ভাড়া এখন তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে যা এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। স্লিপারে ছিল দুই হাজার ২০০ টাকা। আবার ঈদের সময়ে ঢাকা থেকে রংপুরের স্লিপারের ভাড়া জনপ্রতি তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

কর্তৃপক্ষ ‘না’ বললেও আইনে সুযোগ আছে 
ঈদুল ফিতরেও এসি বাসে যথেচ্ছ ভাড়া নিয়ে সমালোচনা হয়। গত ৯ এপ্রিল সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা শিগগিরই তৈরি করা হবে।

গত ২১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান রহমান জানিয়েছিলেন, ঈদুল আজহার আগেই এসি বাসের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে।

এই বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তারাও নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে যুক্ত একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেছেন, এসি বাসকে সরকারি ভাড়ার আওতায় আনতে হলে আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
সড়ক পরিবহন আইনের ৩৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদনে গণপরিবহনের ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ও বিশেষ সুবিধাসংবলিত গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।

তবে একই উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার বা কর্তৃপক্ষ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ও বিশেষ সুবিধাসংবলিত গণপরিবহনের ভাড়া যুক্তিসংগতভাবে নির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

এ শর্তের উদাহরণ দিয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, এসি ভাড়া নিয়ে জনগণের অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং সরকারের ক্ষমতা রয়েছে, ভাড়া নির্ধারণের। এ জন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই। যারা তা বলেন, তারা আসলে কোম্পানিগুলোকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

মালিকদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার!
গত ১৫ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ সম্পর্কিত অনুষ্ঠিত ওই সভা থেকে ঈদের আগে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিকেই ভাড়া নির্ধারণ করতে বলা হয়। সমিতি উচ্চস্তর এবং নিম্নস্তর নামে চার ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করে। বিজনেস ক্লাসে দুটি ভাগ রয়েছে–বিদেশে নির্মিত বাস বডি (সিবিইউ) এবং দেশে এনে সংযোজন করা (সিকেডি) বডি। সিবিইউ বাসের আমদানি শুল্ক বেশি। তাই মালিকরা এসব বাসের ভাড়াও নির্ধারণ করেছেন বেশি। সিকেডি বাসের আমদানি শুল্ক কম। তাই ভাড়া কিছুটা কম।

দেশে তৈরি বডির বাসকে ইকোনমি ক্লাস দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সমিতি। আবার শুয়ে যাত্রার সুযোগ রয়েছে–এমন ‘স্লিপার’ বা ‘স্যুইট ক্লাস’ বাসের ভাড়া আলাদা। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মালিকদের ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ায় তারা বিজনেস, ইকোনমি ক্লাস নাম দিয়ে নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।

তবে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, বাড়তি ভাড়া যাতে কেউ আদায় করতে না পারে, এ জন্য সমিতি একটি তালিকা করেছে মাত্র। ঈদের পর চূড়ান্ত হবে ভাড়ার তালিকা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদীউজ্জামান বলেন, মালিকরা যদি নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করেন, তাহলে তো তাদের মতো করে নির্ধারণ করবেন। ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। মালিকরা নির্ধারণ করলে বিশৃঙ্খলা হবে।

শুয়ে ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে যেসব বাসে, সেগুলো আসলে একতলা বাস হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। এগুলোর মাঝখানে পার্টিশন দিয়ে খোপ তৈরি করে দ্বিতল বানানো হয়েছে। হাদিউজ্জামান বলেন, নকশা বহির্ভূতভাবে একতলা বাসকে দ্বিতল বানানোয় বাসের ভরকেন্দ্র নষ্ট হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কারণ, এসব বাসের চ্যাসিস তৈরি হয়েছে একতলা বাসের জন্য। দেশে আমদানি করে মাঝখানে পাটাতন বসিয়ে দোতলা বানিয়ে ফেলা অবৈধ।