Home Blog Page 116

ভারতের পর এবার পাকিস্তানে প্রকাশ্যে এলো ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’

ভারতে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’, ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা তেলাপোকা মুভমেন্ট’-এর মতো একাধিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে।

ভারতের তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ এখন পাকিস্তানের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে তৈরি হওয়া এসব অ্যাকাউন্টের বায়ো ও রাজনৈতিক স্লোগান ভারতের মূল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ধাঁচেই তৈরি। ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা হয়েছে, তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য। আরেকটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর।

এসব পেজের লোগোও ভারতের ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সংস্করণগুলোতে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’?

ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।

গত ১৬ মে এই ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দলটির নিজস্ব ওয়েবসাইট, ম্যানিফেস্টো ও সংগঠিত অনলাইন প্রচারণাও রয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে বিতর্ক

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র জন্ম হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণ ও কিছু কর্মীকে ‘তেলাপোকা ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো। তাদের কোনো চাকরি নেই, পেশাতেও কোনো জায়গা নেই।

এই মন্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের বোঝাতে চেয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই ‘তেলাপোকা’ প্রতীক ব্যবহার করে তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট ও রাজনৈতিক হতাশাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরতে শুরু করে সিজেপি।

যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবুও ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে দুই কোটিরও বেশি অনুসারী সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিম, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, অ্যানিমেশন ও তরুণদের ভাষায় তৈরি কনটেন্টের কারণে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেকারত্ব, পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তাদের পোস্ট তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পাকিস্তানেও তরুণদের হতাশার প্রতিফলন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে ‘তেলাপোকা’ ব্র্যান্ডের দ্রুত বিস্তার শুধু একটি অনলাইন ট্রেন্ড নয় বরং এটি দেশটির তরুণদের রাজনৈতিক হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলনও হতে পারে।

ভারতে যেমন ব্যঙ্গ ও মিমভিত্তিক ডিজিটাল আন্দোলন তরুণদের আকৃষ্ট করেছে, পাকিস্তানেও একই ধরনের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভাগ করতে নতুন আইন হচ্ছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ আলাদা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নতুন করে যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি আগামীকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে। যাচাই শেষে নতুন করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে শিগগির উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই যাচাই-বাছাই শেষে নতুন বিল উত্থাপন করা হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে অধ্যাদেশের কিছু কাঠামোগত বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে প্রায় দুই মাস আন্দোলন চলে। পরে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ দুটি তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো প্রতি বছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ কারণে রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতসহ অন্যান্য সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় আইএমএফ দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেনি। একই সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের জন্য প্রস্তুত করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার পর থেকেই এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় না। এতে স্বার্থের সংঘাত, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়, করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ এবং জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় তাঁকে রাজস্ব আহরণের চেয়ে নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজস্ব প্রশাসন ও রাজস্ব নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম পৃথক করতে একটি আদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর এনবিআরের দুই সাবেক চেয়ারম্যান ও তিন সাবেক সদস্যকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বিভিন্ন দলিল ও অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন পৃথক করার সুপারিশ দেয়।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে একই কর্মকর্তার দ্বৈত দায়িত্ব আলাদা করার সুপারিশ করা হয়। কমিশন আয়কর, শুল্ক ও আবগারি এবং ভ্যাটের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনেরও পরামর্শ দেয়। এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নপূর্বক রাজস্ব আহরণ পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, কমিটির সুপারিশে রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব নিয়োগের বিধানেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অধ্যাদেশে বলা আছে, সরকার উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে। তবে সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।

একইভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগেও কঠোরতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল অধ্যাদেশে রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির জন্য অ্যালোকেশন অব বিজনেস, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ কারণে অধ্যাদেশ কার্যকরের তারিখ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল  গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, একই সংস্থা যখন করনীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে, তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেয়নি বিএনপিসহ ২৩টি দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫০টি দলের মধ্যে ২৩টি নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচনে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম। এসব দলকে এক মাস সময় বাড়িয়ে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত ৫০টি দল অংশ নেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সরকারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে দলীয়ভাবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। গত ১৩ মে ছিল দলগুলোর হিসাব জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে ইসি আরও এক মাস সময় বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আইনে বলা আছে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ ২৭ দল তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। বাকি ২৩ দল হিসাব জমা দেয়নি। সম্প্রতি ইসির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর ১৩ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যে ২৩টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, সেগুলো হচ্ছে- বিএনপি, এনসিপি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণফোরাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যে দলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, তাদের জন্য এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপরও তাদের কেউ জমা না দিলে আইনানুগভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা হবে। ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিলে সংশ্লিষ্ট দলকে আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া যাবে। তারপরও হিসাব না দিলে নিবন্ধন বাতিলের কথা বলা হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যার বিচার শুরু ঈদের পর: আইনমন্ত্রী

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পাওয়া গেলে ঈদের পরই মামলার বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‌‘আমরা এমনভাবে এই মামলাটির বিচার অগ্রাধিকারভিত্তিতে শুরু করতে চাই যাতে কোনো প্রশ্ন না থাকে।’

আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সেক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর মহাখালী ব্রাক সেন্টার অডিটরিয়ামে ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি নেত্রকোনায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্তার বিষয়টি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি এ কর্মশালার আয়োজন করে। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আইন নিয়ে কোনো বৈষম্য থাকলে সেটাকে আমরা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা সমান্তরালভাবে কাজ করতে চাই।

দেশীয় প্রযুক্তির ইভি গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আনা বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তৈরি কয়েকটি ইভি গাড়ি শনিবার সকালে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি একটি স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) কার ও একটি কাভার্ড ভ্যান নিজে চালিয়ে দেখেন। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি নির্মাতাদের প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড দেশের প্রথম ইভি গাড়ি নির্মাতা। গাড়িগুলো সম্পূর্ণ ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব। এতে জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয় না এবং বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে গাড়িগুলোর দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন, সব ধরনের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যদি ইভি গাড়ি উৎপাদন করা যায় এবং এর মাধ্যমে দেশ উপকৃত হয়, তাহলে সরকার সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর জন্য কার্যালয় প্রাঙ্গণে আনা হয় দুটি এসইউভি, একটি কাভার্ড ভ্যান, একটি ট্রাক, একটি অটোরিকশা এবং দুটি মোটরসাইকেল। আজ সকাল ১০টার দিকে কার্যালয়ে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।

প্রথমে তিনি একটি এসইউভি কার চালান। এ সময় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং গাড়িটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি কাভার্ড ভ্যানও চালিয়ে দেখেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবিরকে নিয়ে নিজ দপ্তরে যান। সেখানে ইভি গাড়ির বাজারজাতকরণ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

নির্মাতাদের তথ্য অনুযায়ী, এসইউভি ধরনের একটি গাড়ি একবার চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারে। স্বাভাবিক চার্জে ব্যাটারি পূর্ণ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা, আর ফাস্ট চার্জিংয়ে লাগে আধা ঘণ্টা।

অন্যদিকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান একবার চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম। এসব গাড়ির ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সাধারণভাবে প্রায় ৬ ঘণ্টা এবং দ্রুত চার্জে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর প্রাণহানি

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে আরও ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫১২ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ১২ শিশু হামের বিভিন্ন তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে আরও এক হাজার ৯৬৭টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং হামের উপসর্গে আরও এক শিশুসহ মোট ২ জন; ঢাকায় হামের উপসর্গে ৪, সিলেটে ৪, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে এক শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪২৬টি শিশু। আর হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৮৬টি শিশু। অর্থাৎ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশুকে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি শিশুরা চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত হামের টিকা নিশ্চিত করার এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

রামিসা হত্যাকারীর প্রকাশ্যে ফাঁসি চাইলেন আমির হামজা

রাজধানীর পল্লবী‌তে আট বছ‌রের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ ক‌রে জ‌ড়িত‌দের প্রকা‌শ্যে ফাঁসি চেয়েছেন ইসলামী বক্তা কু‌ষ্টিয়া-৩ (সদর) আস‌নের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর সিটি বাইপাস রোডে অনুষ্ঠিত এক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আমির হামজা বলেন, ‘দেশের যে আইন আছে, সেই আইনে রামিসা, আছিয়া, তানিয়ার বিচার হবে না। এই দেশে যদি সত্যিই ধর্ষণের বিচার করা লাগে তাহলে কোরআনে সুরা আন-নূরের আয়াতের আলোকে বিচার করা লাগবে। এই আয়াতটা সংসদে কার্যকর করে দেন। তাহলে বাংলাদেশের যুবকদের ধর্ষণ তো দূরের কথা স্বপ্নদোষও বন্ধ হয়ে যাবে।’

আমির হামজা বলেন, ‘এটা কোনো ওয়াজ মাহফিল, তফসিরুল মাহফিল না, সংসদে গলাবাজি করা না, কোনো মঞ্চে বক্তব্য, বিবৃতি কিংবা মানববন্ধন করা না। ধর্ষণ জীবনেও বন্ধ হবে না, যদি শরিয়তের আইন বাংলাদেশে কায়েম না করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনারও একটা মেয়ে আছে। এই রামিসাকেও নিজের মেয়ের মতো মনে করেন তো? রামিসার জায়গায় যদি আপনার মেয়েটা হতো। তাহলে বাংলাদেশে কী অবস্থা হয়ে যেত এতক্ষণ? আমার মনে হয়, ধর্ষক যেখানেই থাকুক তাকে ধরে নিয়ে এসে ১৪ টুকরা করে ফেলতেন। আমিও বাবা। আমারও তিনটা মেয়ে আছে। রামিসার দিকে তাকালে আমার মেজো মেয়ের কথা মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এত নিচে নামে কী করে। আপনি কোন রুচিতে পাঁচ-ছয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করলেন, আবার মেরেও ফেললেন। মানুষ নামের এই জানোয়ার গুলোর বিচার শুধু জেল দিয়ে, জরিমানা দিয়ে হবে না। এদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া লাগবে।’

মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা খুন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১৬ মে ২০২৬, ০২:০০ পিএম
Image not found

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ইব্রাহীম হোসেন মিলনকে আটক করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়িতে মাদক সেবন নিয়ে বাবা আহমদ ডিলারের সঙ্গে মিলনের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন লাঠি দিয়ে তার বাবাকে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন আহমদ ডিলার। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত আহমদ ডিলার (৭০) উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইব্রাহীম হোসেন মিলন মাদকাসক্ত জীবনযাপন করছিল। এছাড়া বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সে ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ১২টার দিকে অভিযুক্ত মিলনকে আটক করে। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, ‘পিতাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে ছেলেকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছেলে মাদকাসক্ত। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর-১০ গোলচত্বর অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোলচত্বরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এতে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধেরও আহ্বান জানান তারা।

গত ১৯শে মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

এবার রামিসা হত্যার বিচার চাইলেন বাবা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল সারাদেশ। তার বাবা হান্নান মোল্লা প্রথমে ‘বিচার চাই না’ বলে আক্ষেপ করেছিলেন। এবার তিনি দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

আজ শুক্রবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদি গ্রামে মোল্লাবাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে রামিসার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।

এ সময় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা বলেছিলেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

সমকাল এক্সপ্লেইনার মহিষের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখার রাজনীতি ও অর্থনীতি

ঠিক পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়েছিল ফিলিস্তিনের সশস্ত্রগোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। সে বছরের জুলাইয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের এক খামারে কোরবানির পশুর নাম রাখা হয়েছিল ‘হামাস’।

পাঁচ বছর পর ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে মহিষের নাম রাখা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরেকটিকে ডাকা হচ্ছে ‘নেতানিয়াহু’ নামে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যশোরে একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের নামানুসারে।

২০২১ ও ২৬ এর মাঝের বছরগুলোতেও কোরবানির পশুর হাট কিংবা খামারে সমসাময়িক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গরু-মহিষের নামকরণের প্রবণতা দেখা গেছে। একটি ধর্মীয় আচারের জন্য নির্ধারিত পশুর গায়ে যখন কোনো বিশ্বনেতা বা বিতর্কিত ব্যক্তির নাম সেঁটে দেওয়া হয়, তখন সেটি আর কেবল একটি পশু থাকে না; পরিণত হয় শক্তিশালী প্রতীকী বার্তায়।

প্রশ্ন হলো- এই নামকরণের পেছনে ঠিক কী ধরনের মনস্তত্ত্ব কাজ করে, কেন সাধারণ মানুষ একজন ক্ষমতাধর নেতার নাম কোরবানির পশুর সঙ্গে যুক্ত করছে এবং ডিজিটাল যুগের অ্যাটেনশন ইকোনমি বা মনোযোগের অর্থনীতি কীভাবে এই ট্রেন্ডকে উসকে দিচ্ছে?

অ্যাটেনশন ইকোনমি
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক বাজার ব্যবস্থায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের ফলে, কোরবানির পশুর হাটগুলো এখন আক্ষরিক অর্থেই একটি ‘অ্যাটেনশন ইকোনমি’ বা মনোযোগের অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে বানানো।

প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে বানানো।

অ্যাটেনশন ইকোনমির তাত্ত্বিক ভিত্তি হলো- আধুনিক বিশ্বে তথ্যের কোনো অভাব নেই, বরং অভাব আছে মানুষের মনোযোগের। তাই যেখানে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়, অর্থের প্রবাহ সেদিকেই যায়।

নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে অ্যালবিনো (ধবল) জাতের যে মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখা হয়েছে, সেটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। মহিষটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও খবরের শিরোনাম হয়েছে। সুদূর ফ্রান্সের গণমাধ্যম টিএফওয়ান-এর ফেসবুক পেজে মহিষটি নিয়ে বানানো একটি রিল ৬২ লাখের বেশি দেখা হয়েছে।

সমকালের ১২ মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটি লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতিকেজি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসেবে মোট দাম পড়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদুল আজহায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়। এমন পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, দেশে ঈদ ঘিরে গবাদিপশু লালন-পালন ও বিক্রি একটি বড় ধরনের ব্যবসা। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজের খামারের পশুকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করাটাও কৌশলে পরিণত হয়েছে।

যেমন- নারায়ণগঞ্জের মহিষটির ক্ষেত্রে বিক্রেতারা যুক্তি দিচ্ছেন, মাথায় একগুচ্ছ সোনালি চুলের মিল থাকায় এর নাম রাখা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেও তাঁর হালকা সোনালি চুলের জন্য বেশ পরিচিত। এই নামের কারণে মহিষটি সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমের যে বিপুল মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, তা সাধারণ বিপণন কৌশলের মাধ্যমে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

খামারে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ চুল আঁচড়ে দেন এক ব্যক্তি। ১৭ মে নারায়ণগঞ্জে। ছবি: এএফপি

খামারে অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ চুল আঁচড়ে দেন এক ব্যক্তি। ১৭ মে নারায়ণগঞ্জে। ছবি: এএফপি

গত কয়েক বছরের প্রবণতা দেখাচ্ছে, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সাররা মূলত পশুর হাটে ‘ভাইরাল মার্কেটিং’-এর প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেন। এটি এমন এক বিপণন কৌশল যা মানুষের আবেগ, কৌতূহল ও বিনোদনের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো কনটেন্টকে দ্রুত ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদমও অস্বাভাবিক বা কৌতূহলোদ্দীপক কনটেন্ট খুব দ্রুত মানুষের ফিডে ছড়িয়ে দেয়। যেমন- নারায়ণগঞ্জের খামারটিতে যাওয়া দর্শনার্থীরাই বলছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য পেয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা মহিষটি দেখতে গেছেন।

রাজনীতিও তাহলে যুক্ত?
নারায়ণগঞ্জের মহিষটি নিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেটির মন্তব্যের ঘরে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মেক ক্যাটল গ্রেট অ্যাগেইন’। এই মন্তব্যটি অনেকটা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রচার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-এর আদলে করা হয়েছে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্যের ঘরে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে পার্থক্য হলো, মহিষটির কথা এপস্টেইন ফাইলে নেই’। কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত নথি এপস্টেইন ফাইল নামে পরিচিত। যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের নাম আছে।

কোরবানির পশুর হাটে আনা হয়েছে গরু। শুক্রবার রাজধানীর ধোলাইখালে। ছবি: ফোকাস বাংলা

কোরবানির পশুর হাটে আনা হয়েছে গরু। শুক্রবার রাজধানীর ধোলাইখালে। ছবি: ফোকাস বাংলা

এই দুটি মন্তব্য দেখাচ্ছে, কোরবানির পশুর নাম দেখেই পাঠকের রাজনৈতিক মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে। অর্থ্যাৎ, তারা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিকে পরোক্ষভাবে ব্যঙ্গ করার সুযোগ পেয়েছেন। বিষয়টির আরো ভালো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় রাশিয়ান দার্শনিক মিখাইল বাখতিনের ‘কার্নিভালেস্ক’ তত্ত্বে।

বাখতিনের মতে, কার্নিভাল বা মেলা হলো এমন একটি স্থান যেখানে সমাজের প্রতিষ্ঠিত সমস্ত নিয়মকানুন, আনুষ্ঠানিকতা, শ্রেণিবিন্যাস এবং ক্ষমতার দম্ভ সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে যায়। কার্নিভালের সময় সমাজে একটি উল্টো পৃথিবী তৈরি হয়। যেখানে রাজা সাময়িকভাবে পরিণত হয় ভিখারিতে, আর ভিখারি বা বোকা ব্যক্তি রাজার বেশ ধারণ করেন। যেটিকে বাখতিন ক্ষমতার উল্টোপাল্টা রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নামকরণের ট্রেন্ড বিবেচনায় ধরলে বাংলাদেশের কোরবানির পশুর হাটগুলো সেই কার্নিভালেস্ক তত্ত্বের একটি নিখুঁত উদাহরণ। একজন সাধারণ কৃষক ও গরুর ব্যাপারী যখন তার গবাদিপশুর নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বা ‘নেতানিয়াহু’ রাখেন, তখন তিনি মূলত বাখতিনের সেই ‘উল্টানো পৃথিবীর’ জন্ম দেন। যেখানে বিশ্ব রাজনীতির পরাক্রমশালী ব্যক্তিরা নগণ্য ও ব্যঙ্গাত্মক চরিত্রে পরিণত হন।

বিষয়টিকে আরেকভাবেও দেখা যায়। তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের সাধারণ মানুষের পক্ষে ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহুর মতো ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ সমালোচনা কিংবা তাদের ক্ষমতার ওপর আঘাত করা অসম্ভব। কিন্তু কার্নিভালের পরিবেশে (কোরবানির পশুর হাট) ক্ষমতাধর ব্যক্তির নাম এমন এক প্রাণীর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যেটিকে দড়ি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ দৃশ্য দেখাটাও একজন সাধারণ দর্শকের কাছে প্রতীকী বিজয়।

নারায়ণগঞ্জের খামারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ। ছবি: এএফপি

নারায়ণগঞ্জের খামারে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষ। ছবি: এএফপি

যেমন- টেলিগ্রাফে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মন্তব্যের ঘরে আজহার ইসলাম রাসেল নামে একজন লিখেছেন, ‘মহিষ ও ট্রাম্পের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হলো- মহিষটি সহিংস নয়।’ ফারিস্তা আন্দালিব নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর মতে, ‘মহিষটিকে ট্রাম্পের চেয়ে বরং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মতো লাগছে।’ হুসাইনি উসমান নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘ক্রেতার উচিত মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় রাখা, যাতে আরো দর্শনার্থী দেখতে পারে।’

এটি এক ধরনের লুকায়িত প্রতিরোধ, যা সরাসরি রাজনৈতিক বিক্ষোভের পরিবর্তে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মোড়কে প্রকাশ পায়।

বিশ্বে পশুকেন্দ্রিক যত ব্যঙ্গ
ফরাসি বিপ্লবের সময় রানি মেরি অ্যান্টোয়েনেটের চিতাবাঘের ক্যারিকেচার প্রকাশ করা হতো। এর মনস্তাত্ত্বিক উদ্দেশ্য ছিল রানিকে অমানবিক হিসেবে জনতার সামনে উপস্থাপন করা। একইভাবে, রাজা ষোড়শ লুইসহ সম্পূর্ণ রাজপরিবারকে শুকরের পাল হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। যা তাদের লোভ ও সম্পদ গিলে খাওয়ার প্রতীক ছিল।

জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর প্রচ্ছদ। ছবি: আমাজন ডটকমের সৌজন্যে

জর্জ অরওয়েলের উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’-এর প্রচ্ছদ। ছবি: আমাজন ডটকমের সৌজন্যে

সাহিত্যের জগতে আরেকটি উদাহরণ হলো জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’। সেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের স্তালিনপন্থী সমাজতন্ত্রের পতন এবং স্বৈরাচারী শাসনকে রূপকভাবে তুলে ধরতে খামারের পশুদের ব্যবহার করা হয়েছে। স্তালিনকে চিত্রিত করা হয় স্বৈরাচারী শুকর হিসেবে।

সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অজ্ঞতাকে ব্যঙ্গ করতে পরিবেশবাদীরা একটি উভচর প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম রেখেছেন ‘ডেরমোফিস ডোনাল্ড ট্রাম্পি’।