Home Blog Page 124

মেয়েটির এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর মামলা তুলে নিতে ভিকটিমের পরিবারকে অব্যাহত হুমকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখানো হচ্ছে।

আসামিদের ভয়ে বর্তমানে ওই কিশোরীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গতকাল শনিবার সকালে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন স্কুলছাত্রীর বড় বোন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পাগলা থানার ডুবাইল এলাকায় স্থানীয় যুবদল নেতা মোশাররফ হোসেন মানিক ও আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে ওই কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার পরপরই ভিকটিমের পরিবার পাগলা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে নিরুপায় হয়ে পরিবারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হয়। আদালতের নির্দেশে গত ৭ মার্চ পাগলা থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর পুলিশ মামলার প্রধান আসামি আশিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলেও মানিকসহ অন্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। মানিক গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মোহাম্মদ ইসহাকের ভাতিজা এবং পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য শেখ মোহাম্মদ ইসমতের ছেলে। রাজনৈতিক এই প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণেই মানিকসহ অন্য আসামিরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

ভিকটিমের বড় বোন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তারা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি এই সংবাদ সম্মেলনে আসার জন্যও আমাদের রাতের আঁধারে গোপনে বাড়ি থেকে ময়মনসিংহ শহরে আসতে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা-মা জানান, আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে মেয়ের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে স্কুলেও যেতে পারছে না। চলতি বছর তার এসএসসি পরীক্ষায় বসার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ সময় তারা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানিকের বাবা শেখ মোহাম্মদ ইসমত বলেন, আমার ছেলে এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত না। তাকে কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বর্তমানে সে এলাকায় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সর্দার মোহাম্মদ খুররম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মানিক রাজনীতি করে কিনা, এটা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, ভিকটিম পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ অবগত। আসামিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ব্যাংক রেজল্যুশন বিলে নতুন ধারা আগের মালিকের কাছে ফেরার সুযোগ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের

অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে পাস করায় একীভূত ব্যাংক আগের মালিকদের কাছে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একীভূত ব্যাংক পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার এ পর্যন্ত যে অর্থ দিয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশ পরিশোধ করে আগের মালিকরা এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এমন ধারা সংযোজনের বিপক্ষে মত দিয়েছিল। বিরোধী দলও সংসদে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তবে ১৮(ক) ধারা সংযুক্ত করেই গত শুক্রবার সংসদে বিলটি পাস হয়।

বিলের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন কিংবা এ আইনের অন্যান্য বিধানে যা কিছু থাকুক না কেন, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের শেয়ার ধারক অথবা শেয়ার ধারকরা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত বিবেচিত ব্যক্তি ওই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণ করার জন্য রেজল্যুশন কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করতে পারবে। তবে শেয়ার পুনঃধারণের আবেদন করার ক্ষেত্রে একটি পৃথক অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।

অঙ্গীকারের মধ্যে থাকবে– ক. রেজল্যুশনভুক্ত হওয়ার আগে বা পরে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ পরিশোধ করে ব্যাংক পরিচালনা করতে ইচ্ছুক। খ. বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত নতুন মূলধন জোগান এবং বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। গ. সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য সরকারি, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা আধাসরকারি উৎস থেকে দেওয়া ঋণ, ঋণের সুদ অথবা মুনাফা, ইকুইটি, গ্যারান্টি, সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বা অন্যান্য সুবিধা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া। ঘ. একীভূত হওয়ার আগের আমানতকারী, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পাওনাদার এবং তৃতীয় পক্ষের বৈধ দাবি ও দায়সমূহ যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। ঙ. সরকারের সব কর এবং করবহির্ভূত রাজস্ব ও অন্যান্য আর্থিক দায় সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হবে।

আরও অঙ্গীকার করতে হবে– চ. রেজল্যুশন কার্যক্রম চলাকালীন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ছ. বাংলাদেশ ব্যাংক, আবেদনকারীর নিকট হস্তান্তরের তারিখ থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শেয়ার হস্তান্তর, বিক্রয় বা স্থানান্তর সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত আরোপ করলে তা পালন করতে বাধ্য থাকা। জ. ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করা। ঝ. বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক দেওয়া অন্য যে কোনো শর্ত প্রতিপালন করা।

এই ধারার উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, আবেদন চূড়ান্তভাবে মঞ্জুরের তিন মাসের মধ্যে পূর্ববর্তী শেয়ার, সম্পদ-দায় পুনঃধারণ বা ধারণের বাস্তবিক দখল হস্তান্তরের আগে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে, তার সাড়ে ৭ শতাংশের পে-অর্ডার দিতে হবে।

উপধারা (৪) অনুযায়ী, সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া বাকি সাড়ে ৯২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তরের দুই বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ হারে সরল সুদসহ ফেরত দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, এর মাধ্যমে কেবল সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত ব্যাংককে যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছে তার সাড়ে ৭ শতাংশ অর্থের পে অর্ডার দিয়ে ব্যাংকের মালিকানায় ফেরা যাবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এভাবে একবার কেউ মালিকানা পেলে তাঁকে বাদ দেওয়া সহজ হবে না।

অধ্যাদেশটি কোনো সংশোধনী ছাড়া পাস করতে বিরোধী দল অনাপত্তি দিয়েছিল। কিন্তু যাচাই-বাছাই করে সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের জন্য গত ১ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আজিম উদ্দিন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চারজন, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের দুজন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনজন ছিলেন। সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে।

জানা গেছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে ৯৮টি ধারা ছিল। ধারার সংখ্যা কমিয়ে ৭৪টি করার সুপারিশ করে কমিটি। আইনের পরিধি কমানোর জন্য তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি ধারা প্রবিধানে যুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া অধ্যাদেশে সামান্য যেসব অসংগতি ছিল, তা সংশোধন করে গত মঙ্গলবার সরকারকে খসড়া কপি দেওয়া হয়। অধ্যাদেশ কিংবা গঠিত কমিটির সুপারিশে ১৮(ক) ধারাটি ছিল না বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিলটি সংসদে যাওয়ার আগে এই ধারা যুক্ত করা হয়।

যেভাবে যুক্ত হলো নতুন ধারা
অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরের জন্য খসড়া প্রণয়নে গঠিত কমিটির তিনজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক। তারা জানান, কমিটি গঠনের পর থেকে একটি পক্ষ এ রকম ধারা যুক্ত করার পরামর্শ দেয়। তবে অধিকাংশ সদস্যের আপত্তির কারণে চূড়ান্ত খসড়ায় তা যুক্ত হয়নি। বিল পাসের আগে গত ৯ এপ্রিল রাতে এ রকম ধারা যুক্ত করার বিষয়টি জানতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়কে তা না করার অনুরোধ জানানো হয়।

খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এরপরও যদি নতুন ধারা যুক্ত করতে হয়, তাহলে এমন কিছু উপধারা রাখার সুপারিশ করা হয়, যাতে কোনো ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য দায়ী কেউ আর মালিকানায় ফিরতে না পারে। একই সঙ্গে আমানতকারী, সরকারের দেওয়া অর্থ এবং অন্য পাওনাদারের সব দায় পরিশোধের পর মালিকানা নেওয়ার শর্ত যুক্ত করতে বলা হয়। তবে তা না করে পুরো দায় পরিশোধের অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে শেয়ার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আইনে যুক্ত করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কেন এটা করা হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। নিশ্চয় এর ফল ভালো হবে না।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের অবস্থা
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আলোকে গত বছর শরিয়াহভিত্তিক এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক ফার্ম দিয়ে অডিটসহ বিভিন্ন পর্যায় শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ধার হিসেবে দিয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাংকের চাঁদায় গড়ে ওঠা আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো অর্থ যেন তুলতে পারেন, সে জন্য আলাদা একটি স্কিম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঋণের ৮৪ শতাংশ খেলাপি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ঋণ রয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর দেশের পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ২২ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল দুই লাখ ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। মোট মূলধন ঘাটতির অর্ধেকের বেশি এই পাঁচ ব্যাংকে।

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছে এক্সিম ব্যাংক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির ৫৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৬২ দশমিক ৪৫ শতাংশ খেলাপি। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে ২২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। একীভূত হওয়ার আগে এক্সিম ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে। বাকি চার ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে।

চার ব্যাংকের মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের ২৮ হাজার ১৭ কোটি টাকার ঋণের ৯৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ এখন খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ২৭ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৬২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ঋণের ৯৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ৬৫ হাজার ৯০ কোটি টাকা। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণের ৯৬ দশমিক ২৭ শতাংশ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ১৩ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। আর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৮ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ৭৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ খেলাপি। মূলধন ঘাটতি ২২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।

মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টায় শিক্ষক শিল্পী, আইনজীবী, ছাত্রদল নেত্রী

সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ ঘিরে গত দুই দিন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সামনের সড়কজুড়ে নেতাকর্মীর জটলা। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। এ ছাড়া দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ ও তদবির করছেন নারী নেত্রীরা। তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে দল সমর্থিত শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীসহ পরিচিত মুখ– সবাই এ প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে গত শুক্র ও শনিবার মিলে এক হাজার ২৫ জন নারী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আজ রোববার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর মধ্যে ফরম পূরণ করে শতাধিক নেত্রী তা জমা দিয়েছেন।

তবে মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব নেত্রী শুধু মনোনয়ন সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত নেই। সবাই যার যার মতো নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বৃত্তান্ত তৈরি করে নীতিনির্ধারণী নেতাদের কাছে দিচ্ছেন। অনেকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সচিবালয় এবং দলীয় কার্যালয়ে ছুটছেন।

তবে আশঙ্কাও ভর করছে তাদের মনে। যেভাবে নতুনরা সামনে আসছেন, বিভিন্ন কায়দায় তদবির করছেন, তাতে মূল্যায়ন নিয়ে সন্দিহান রাজপথের ত্যাগীরা। এর সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নয়াপল্টনে দলের প্রধান কার্যালয়ে। বিগত দিনে যারা দলের কোনো ভূমিকায় ছিলেন না; রাজপথে ছিলেন না তাদের অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা।
তারা বলছেন, বিগত দিনে জেল-জুলুম আর নির্যাতন সহ্য করে এখন মূল্যায়নের আশা করছি। কিন্তু অনেকে দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও হঠাৎ মনোনয়নপ্রত্যাশী হচ্ছেন। এটা সুবিধাবাদিতার শামিল।
যদিও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে; যাদের সংসদে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে; সমাজে যাদের সুনাম আছে, তাদের নিশ্চয় দল বাছাই করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বিএনপির বেশ কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক যোগ্য নারী যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে দলের আলাদা সহানুভূতি থাকবে। এর বাইরে রাজপথের ত্যাগীদের বিষয়েও বিবেচনা থাকবে। সবকিছু মিলিয়ে জাতীয় সংসদে যারা কথা বলতে পারবেন; দলকে উপস্থাপন করতে পারবেন, এমন নারীদের অগ্রাধিকার থাকবে এবারের মনোনয়নে।

জানা গেছে, বিএনপির প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্‌দীন মওদুদ, বিএনপি সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রোকসানা খানম মিতু, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ ছাড়াও পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুন নাহার, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই, মহিলা দলের নেত্রী আসমা আজিজ, প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, ঢাকার কোতোয়ালি থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর সুরাইয়া বেগম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক বেবি নাজনীন, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, সানজীদা ইসলাম তুলি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেত্রী ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা, নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম জোরেশোরে আলোচনায় আছে।

সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপিদের মধ্যে শিরিন সুলতানা, শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, ফরিদা ইয়াসমিনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
শিরিন সুলতানা সমকালকে বলেন, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা থেকে নির্বাচন করেছি। ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে উঠে এসেছি। দল সবসময় যোগ্যদের মূল্যায়ন করেছে। এবারও সেই প্রত্যাশা করছি।

দুইবারের সাবেক এমপি ও দলের সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আকতার রানু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নারীদের মূল্যায়নের সুযোগ এসেছে। সেখানে যাদের বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ছিল, তাদেরকেই মূল্যায়নের দাবি জানাই। কোনো হাইব্রিডকে যেন সামনে আনা না হয়, সে দাবিও আছে।
এদিকে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসে গতকাল শনিবার দলীয় নেত্রীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছেন? যারা আন্দোলনে ছিল; ১৭ বছর আমরা দলের জন্য খেটেছি, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?

সমঝোতার ব্যর্থতা ইরানের জন্যই ক্ষতিকর: জেডি ভ্যান্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওই উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষে ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, আমরা ইরানিদের সঙ্গে বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি, সেটা আশার কথা। কিন্তু খারাপ খবর হলো যে, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আর আমি মনে করি, এই ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।

আজ রোববার সকালে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ভ্যান্স। ‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত এ আলোচনা চলে।

ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় নমনীয় মনোভাব এবং ‘সদিচ্ছা’ নিয়ে এসেছিল। ‘কিন্তু ইরান মার্কিন শর্ত মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তেহরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার ব্যাপারে ‘শক্ত অঙ্গীকার’ রয়েছে, সেটি দেখতে পারতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।’

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল লক্ষ্য’ বলে জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।

ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ওই কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘সহজ কথা হলো, আমরা ইরানের কাছ থেকে এমন একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চাই যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো সরঞ্জামও খুঁজবে না যা দিয়ে তারা দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।’

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে’ বলে দাবি করেন মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন যে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে ‘দৃঢ় মানসিক অঙ্গীকার’ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই অঙ্গীকার দেখতে পাইনি। তবে ভবিষ্যতে তা দেখতে পাব বলে আমরা আশা করি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওই বৈঠকে ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা ওই সব বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি। এর বাইরেও আরও অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি।

জেডি ভ্যান্স জানান, আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি যেখানে ইরানিরা আমাদের শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি ছিল।

এই আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা যথেষ্ট নমনীয় ছিলাম এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের ছিল।’

দিয়াবাতের জাদুতে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী

দেশের ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান। প্রায় এক মাসের বিরতি শেষে আজ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা মাঠে গড়ায়। কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এই দুই দল।

খেলার তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় মোহামেডান। উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ অসাধারণ এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন। চোখধাঁধানো এই গোলে উল্লাসে ভাসে মোহামেডান শিবির। তবে তাদের এই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আবাহনীর হয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান মিরাজুল। ১-১ গোলের এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে দেখা মেলে দিয়াবাতে জাদুর। মোহামেডানের সাবেক এই তারকা এখন খেলছেন আবাহনীর হয়ে। আজ পুরোনো দলের বিপক্ষেই তিনি জ্বলে ওঠেন। দ্বিতীয়ার্ধে তার পা থেকেই আসে আবাহনীর জয়সূচক গোলটি। এই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।

হুট করে বাংলাদেশি এই সিরিজটি কেনো আলোচনায়?

প্রায় ঊনিশ বছর আগে ময়মনসিংহের কাশর এলাকায় একই পরিবারের ৯ জন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আত্মহত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। আদম পরিবারের সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা শুনলে এখনো মানুষের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।

সেই ঘটনার ছায়া অবলম্বনে দুই বছর আগে ভিকি জাহেদ নির্মাণ করেছিলেন ওয়েব সিরিজ ‘চক্র’। সিরিজটি মুক্তির পর দর্শকরা বুঝেছিলেন এটি সাধারণ কোনো হরর বা থ্রিলার নয়। সেসময় সিরিজটি দারুণ সাড়া ফেলে। তারই ধারাবাহিতায় আসে এর দ্বিতীয় সিজন।

কিছুদিন আগে উন্মুক্ত হওয়া ‘চক্র ২’ সেই আলোচনার পারদকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। কেবল একটি ওয়েব সিরিজ নয়,  আধুনিক মনস্তত্ত্ব আর ডার্ক ফ্যান্টাসির মিশেলে এটি যেন এখন  সিরিজ দর্শকদদের কাছে তুমুল চর্চায়।

656323601 1505612057588387 1220301932748628837 n 1775825816

শুধু আলোচনা-ই নয়, মুক্তির মাত্র সাত দিনেই দ্বিতীয় সিজনটি দ্বিগুণ আয় করে ফেলেছে, সেইসঙ্গে রেকর্ড ব্রেকিং সাবস্ক্রিপশনের পাশাপাশি এবং এটি এখন আইস্ক্রিনের সবচেয়ে বেশি ভিউ পাওয়া সিরিজ।

‘চক্র ২’ যে কারণে এত আলোচনা

দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, সিরিজটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর প্রেক্ষাপট। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার ফলে দর্শকদের মনে সবসময় একটি খটকা কাজ করে ‘কতটুকু সত্যি আর কতটুকু কল্পনা?’ চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক এই ধোঁয়াশাটিকে খুব নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বাস্তব জীবনের ট্র্যাজেডিকে যখন ফিকশনে রূপান্তর করা হয়, তখন তা দর্শকদের অবচেতন মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

কারও মতে, সিরিজটি কেবল অতিলৌকিক ভয় দেখায় না, বরং মানুষের মনের গহীন কোণে লুকিয়ে থাকা অপরাধবোধ এবং ট্রমাকে সামনে আনে। ‘চক্র ২’- বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ভৌতিকের চেয়েও মানুষের অতীত বা কর্মফল বেশি ভীতি জাগানিয়া। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারের চিত্র এখানে খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

গল্প, নির্মাণ সবকিছু ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ‘প্রফেসর ড. হুমায়ূন’ চরিত্রটি নিয়ে। এই চরিত্রে তৌসিফ মাহবুবের অভিনয় দর্শকদের চমকে দিয়েছে।

656466659 1505612044255055 5541282827788425166 n 1775825842

তার লুক, ট্রান্সফরমেশন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়া একটি চরিত্রকে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা প্রশংসিত হচ্ছে সর্বত্র। কেউ কেউ বলছেন, ‘এত ভয়ংকর অভিনয় কিভাবে করলেন তৌসিফ?’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ড. হুমায়ূন’ চরিত্রটি নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা রসিক ছবি, মিমস এবং কার্টুন—যা সিরিজটির আলোচনা আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তৌসিফ মাহবুবের মতে, আট থেকে আশি, প্রত্যেকটা দর্শকের সঙ্গে কানেক্ট করার চরিত্র এবং ঘটনা রয়েছে, যেগুলো সবাই নিজেদের সঙ্গে রিলেট করতে পারছে।

তিনি বললেন, অনেকেই এটাকে হরর, থ্রিলার ভেবে দেখা শুরু করেছেন। হরর, থ্রিলার উপাদানগুলো তো আছেই, পাশাপাশি নিজেদের সঙ্গে রিলেট করার মতো অনেকগুলো ঘটনা পাচ্ছেন। এখানে অনেকগুলো চরিত্র আছে তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত, সেই চরিত্র এবং ঘটনাগুলো যখন নিজেদের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে তখনই তারা সেটা নিয়ে কথা বলছেন। আমার কাছে এটা মনে হয়।

ভিকি জাহেদ পরিচালিত ৮ পর্বের ‘চক্র ২’-এ তৌসিফ মাহবুব ছাড়া আরো অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, মৌসুমী মৌ, মেঘলা মুক্তা, শাহেদ আলী, নাদের খান, আরেফিন জিলানি, শাওন প্রমুখ।

সময়মতো যক্ষ্মার টিকাও মেলেনি, নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই দেশে এবার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসে যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শনাক্তের হার কম হওয়ার অর্থ বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে এরই মধ্যে ওষুধ ও কিটের মজুত শেষ হয়েছে। নতুন কেনাকাটাতেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যক্ষ্মা বিস্তারের শঙ্কা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত মাসে করা স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য বলছে, সরকারের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাতীয় কেস নোটিফিকেশন রেট (সিএনআর) নেমে এসেছে ১৬৯-এ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৪ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ১৯৬ এবং ২০২৩ সালে ২০১। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তকরণ কমে যাওয়া মানে রোগ কমে যাওয়া নয়; বরং এটি সেবা ও নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১২১ জনের যক্ষ্মা হয়।

অর্থায়ন ও জনবল সংকটের প্রভাব
স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির (সেক্টর কর্মসূচি নামে পরিচিত) অধীন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) আওতায় প্রায় তিন দশক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে এই কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর নতুন করে ডিপিপি জমা দিলেও অনুমোদন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে ওষুধ ও টিকার কেনাকাটা। এতে মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। এককভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কোনো অর্থায়ন করবে না এই দুটি প্রতিষ্ঠান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত জুনে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) করা হয়, যা এখনও অনুমোদন হয়নি।

গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটিতে কিছু সংশোধনী দিয়ে ফের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত অর্থায়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদন না হলে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তারা জানান, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হতো রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন ও বৈদেশিক ফান্ডে। ২০২৪ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে জটিলতা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনবল ঘাটতির কারণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ফলে রোগী শনাক্তকরণেও ভাটা পড়েছে। এর ফলে উচ্চ হারে যক্ষ্মা ছড়াবে।

বিভাগভিত্তিক একই চিত্র
সব বিভাগেই রোগী শনাক্তের হার কমেছে। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে যেখানে প্রতি লাখে শনাক্ত ছিল ২০০ জন, চতুর্থ প্রান্তিকে তা নেমে এসেছে ১৪৯-এ। অন্যদিকে সিলেট বিভাগ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও সেখানেও হার কমেছে— তৃতীয় প্রান্তিকে ২১৫ থেকে চতুর্থ প্রান্তিকে ২০১ জনে নেমে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দেশে প্রতি লাখে প্রায় ১২১ জন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় তিন লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত হয় এক হাজার ৩৪ জন রোগী এবং বছরে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অর্থাৎ প্রতিদিন মারা যায় প্রায় ১২১ জন।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৬০ শতাংশই ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত। ব্যাকটেরিয়াল পরীক্ষায় তা নিশ্চিত। এ ছাড়া ২৫ শতাংশ ফুসফুসের বাইরে এবং ১৫ শতাংশ রোগী ক্লিনিক্যালি নির্ণীত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র শিশুদের ক্ষেত্রে। সাধারণত দেশে মোট যক্ষ্মা রোগীর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু থাকে। কিন্তু এখন শনাক্ত হচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে শিশু রোগী শনাক্ত সংখ্যা নেমে এসেছে দুই হাজার ৯৯৫-এ। অথচ ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল চার হাজার ৩৩১ এবং ২০২৩ সালে চার হাজার ৩২৮। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন প্রকৃতপক্ষে রোগ কমার ইঙ্গিত নয়; বরং শনাক্তকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর নভেম্বরে গ্লোবাল ফান্ডের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। তাদের পর্যবেক্ষণে সেবা প্রদানে ঘাটতি, তথ্যের মানোন্নয়নের প্রয়োজন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা উঠে আসে। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এখনও প্রায় ২১ শতাংশ রোগী শনাক্তের বাইরে রয়ে গেছে। বিশ্বের যে ৩০টি দেশে যক্ষ্মার প্রকোপ বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগ দ্রুত শনাক্ত করা, পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং শিশু রোগী শনাক্তে বিশেষ জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের সাফল্যের পর যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এখন নতুন করে চাপে পড়েছে। পরিকল্পনা ছাড়া কার্যক্রমে পরিবর্তন, অর্থায়ন সংকট এবং পরীক্ষাগার কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে রোগ শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সংগঠন সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ ফোরামের সভাপতি কাজী সাইফউদ্দীন বেন্নূর বলেন, শনাক্ত কমে যাওয়া মানে রোগ কমে যাওয়া নয়, এটি সেবা ও নজরদারিতে ঘাটতি। গত ৫০ বছরে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে দেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল। তবে হঠাৎ করে পরিকল্পনা ছাড়াই ‘অপারেশন প্ল্যান’ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন থেকে বেরিয়ে আসার প্রভাব সরাসরি যক্ষ্মা কর্মসূচিতে পড়েছে।

তাঁর ভাষ্য, অনেক জেলায় জিন এক্সপার্ট ল্যাব বন্ধ রয়েছে। কিছু ল্যাব সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে সেগুলোও চালু করা যাচ্ছে না। ফলে আবারও ভুল রোগী শনাক্তের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে কাজী সাইফউদ্দীন বলেন, সক্রিয়ভাবে রোগী খোঁজা বাড়াতে হবে এবং কমিউনিটি পর্যায়ে স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যক্ষ্মা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এমনকি হামের চেয়েও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ে স্ক্রিনিং কার্যক্রম কমে যাওয়া, রিপোর্টিংয়ে ঘাটতি, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে জনসাধারণের নানা প্রতিবন্ধকতা— এসব কারণে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। সরকারি অর্থায়নের যে জটিলতা জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে চলছে, আশা করা যায় তা দ্রুতই সমাধান হবে। বর্তমান সরকার রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিয়ে এ জাতীয় বাজেটে অর্থায়ন বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে অবদান রাখবে।

জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপপরিচালক ডা. শাফিন জাব্বার বলেন, শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) এসে শনাক্তকরণ হার কমছে কেন– এ বিষয়ে জানতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে বড় গবেষণা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সমকালকে বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গতি ফেরাতে দ্রুত ডিপিপি অনুমোদন করার চেষ্টা করছি। ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

চট্টগ্রামের ফুটপাত সকালে উচ্ছেদ হলে বিকেলেই দখল

দুপুর ১২টা ২২ মিনিট। হঠাৎ ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি। চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেটের পরিত্যক্ত ফুট ওভারব্রিজের নিচে ফুটপাতে নতুন কাপড় বৃষ্টি থেকে রক্ষায় ব্যস্ত বৃদ্ধ হকার আবদুর রশিদ। আকস্মিক এই বৃষ্টির মতোই এক বছরে তাড়া করে তাঁর দোকান সিটি করপোরেশন চারবার উচ্ছেদ করেছে। আবারও বসেছেন। ২৪ মাসে সাতবার চলেছে উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা। কেমন চলছে ব্যবসা– এ প্রশ্ন করতেই বলেন, ‘এ ফুটপাতে ১৮ বছর ধরে ব্যবসা করছি। এর আগে এখানে ব্যবসা করতেন নাজমুল আলম নামে আরেকজন হকার। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকায় জায়গাটি (ফুটপাত) কিনে নিয়েছি।’

একটু সামনে যেতেই দেখা যায় কুমিল্লার মুরাদনগরের হকার আবু ছিদ্দিক প্লাস্টিকের পলি দিয়ে শার্টের দোকান (চৌকি) ঢাকছেন। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘ছয় বছর ধরে বিদেশি শার্টের ব্যবসা করছি। আগে আমার চাচা করতেন এ ব্যবসা। এখানে ব্যবসা করতে প্রতিদিন হকার্স সমিতিকে ২০ টাকা করে চাঁদা দিই। প্রায় চার হাজার হকার প্রতিদিন ২০ টাকা করে বছরে তিন কোটি টাকা চাঁদা দেন। অন্য কাউকে চাঁদা দিতে হয় না।’

কথা শেষ হলে মূল সড়ক পার হয়ে বিপরীতে তামাকমুণ্ডি লেইনের মুখের ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায় জিন্স প্যান্টের দোকান খুলে ব্যবসা করছেন নোয়াখালী থেকে আসা রজব আলী। তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় যত হকার আছে সবাই এক নিয়মে ব্যবসা করেন। সমিতি যেভাবে বলে আমরা সেইভাবে চলি। সমিতিতে প্রতিদিন ২০ টাকা চাঁদা দিই। তবে সন্ধ্যার পর প্রতিটি বাতি (লাইট) জ্বালানোর জন্য পাশের দোকানদারকে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। মার্কেটের যে দোকান থেকে বিদ্যুতের লাইন নিয়েছি, তারা টাকা নেন। চার হাজার হকার এভাবেই টাকা দিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন।’

গত মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, নিউমার্কেটের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত তিন থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে হকার। ফুটপাত ও সড়কের একাংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে। নিউমার্কেট থেকে আমতল, আমতল থেকে শহীদ মিনার হয়ে সিনেমা প্যালেস, আমতল থেকে জুবলী রোড, নিউমার্কেট থেকে পুরাতন রেলস্টেশন, নিউমার্কেট থেকে কোতোয়ালি মোড়, নিউমার্কেট থেকে সিটি কলেজ হয়ে সদরঘাট মেমন মাতৃসদন হাসপাতাল পর্যন্ত ফুটপাতসহ সড়কের অংশ এখন হকারদের নিয়ন্ত্রণে। এতে দুর্ভোগে পড়েন পথচারী।

চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেন দায়িত্ব নিয়েই চারবার অভিযান চালিয়েছেন। এর আগে মেয়র রেজাউল করিমের আমলে হয়েছে তিনবার। এভাবে ২৪ মাসে সাতবার উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে। তবু বাড়ছে দোকান। সকালে উচ্ছেদ করার পর বিকেলেই ফের দখল। যতবার উচ্ছেদ হয়েছে ততবার বেড়েছে চাঁদার হার।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর আমতল থেকে শহীদ মিনার হয়ে সিনেমা প্যালেস সড়কের থিয়েটার ইনস্টিটিউট লাগোয়া ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির কিছু দোকান। ডাবের দোকান,  চা-বিস্কুটের টং দোকান ফুটপাতের ওপর। আরেকটু এগোতেই শহীদ মিনার লাগোয়া গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে দেখা যায় বিশাল ফুটপাতে ২০ থেকে ২৫টি দোকানে দেশীয় চেয়ার, টেবিল ও  খাটের পসরা সাজানো। ফুটপাতে থাকা দোকানে মিস্ত্রিদের করাত নিয়ে কাজ করতেও দেখা যায়। পথচারীরা হাঁটছেন সড়কের ওপর দিয়ে।

একইভাবে নিউমার্কেট মোড় থেকে সিটি কলেজ হয়ে রেলওয়ের সীমানা দেয়াল ঘেঁষে ফুটপাতে সারিবদ্ধভাবে ফলের দোকান, সাইকেলের গ্যারেজ, ভাতের টং দোকান খুলে বসেছেন হকাররা। এ ছাড়া সিটি কলেজ মোড় থেকে সদরঘাট রোডের মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের উভয় পাশে সবজি, মাছ, ফলের ভ্যানগুলো চলাচলের জায়গা দখল করে আছে। মাংসের দোকানও আছে ফুটপাতে।

নগরের কোতোয়ালি থানার ওসি আফতার উদ্দিন বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় হকার বসছে বহুদিন ধরে। সাধারণ মানুষ যাতে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারে তা নিশ্চিত করেই দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছে। সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদের বিষয়টি দেখে।

নিউমার্কেট ঘিরে চার হাজারের বেশি তালিকাভুক্ত হকার আছে। হকাররা তিনটি বড় শ্রমিক সংগঠনের সদস্য। বিনা বাধায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করতে এ তিনটি সংগঠন সাধারণ হকারদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে কাজ করে। প্রতিদিন চার হাজার হকার থেকে সংগঠনগুলো ২০ টাকা করে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তুলছে। বছরে হয় প্রায় তিন কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে হকারদের ওপর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল। এখন হকার সমিতির নিয়ন্ত্রণ শ্রমিক দল নেতাদের কবজায়। চট্টগ্রাম সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি মিরন হোসেন মিলন। সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জসিমসহ বিএনপিপন্থিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হকারদের ওপর।

মিরন হোসেন মিলন বলেন, নিউমার্কেট এলাকায় পাকিস্তান আমল থেকে ফুটপাতে হকাররা ব্যবসা করে আসছেন। সদস্যদের থেকে যে টাকা নেওয়া হয় তা দিয়ে অফিস, বিদ্যুৎ খরচ, কোনো হকার মারা গেলে তাঁর কফিন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া, সন্তানদের বিয়েতে অনুদানসহ নানা কাজে ব্যয় করা হয়।

চট্টগ্রামে পরীক্ষার কেন্দ্রের প্রতি কক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

চট্টগ্রামের প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি স্থাপন এবং নকল ঠেকানোর জন্য কেন্দ্রের প্রবেশমুখে বুথ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। চলতি সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি।

চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষাকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইপিএস সংযোজনের জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মো. নুরুল হক ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন।
আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

তেল কীভাবে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করল

দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে একটি উপাদান। সেটি হলো- তেল। গাড়ির জ্বালানি, ঘর কিংবা বাজারে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য তৈরি, বিদ্যুৎ, এমনকি চাষাবাদে ব্যবহৃত সার উৎপাদনেও তেলের প্রয়োজন হয়।

এত চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতই তেলের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। বিভিন্ন যুদ্ধের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে তরল পদার্থটি। এটি কোনো জাতিকে যেমন সম্পদশালী করে, তেমনি ঘাটতির কারণে কোনো দেশের অর্থনীতি ধসেও যেতে পারে। কিন্তু কালো, আঠালো এই পদার্থটি কীভাবে বিশ্ব পরিচালনার মূল শক্তিতে পরিণত হলো?

৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ: প্রথম ব্যবহার
বর্তমান বিশ্বই তেলকে প্রথম সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছে না। প্রাচীনতম কিছু সভ্যতাও তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের বাসিন্দারা মাটির নিচ থেকে বুদবুদ আকারে ওপরে উঠে আসা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করত। নথিভুক্ত ইতিহাস অনুযায়ী, ব্যবিলনীয়রা (আধুনিক ইরাকিদের পূর্বপুরুষ) তাদের নৌকাকে পানিরোধক করতে এবং ভবন নির্মাণে চুন-সুরকির বিকল্প হিসেবে তেল ব্যবহার করত। মিশরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মমি তৈরির প্রস্তুতিতেও তেলকে কাজে লাগাত। তবে, এই রহস্যময় কালো পদার্থের পূর্ণ সম্ভাবনা বুঝতে বা তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে মানবজাতির আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

১৮৫৯: আধুনিক তেল শিল্পের যাত্রা
বর্তমান তেল শিল্পের সূচনা হয়েছিল ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। বাণিজ্যিকভাবে সফল বিশ্বের প্রথম তেল কূপ আবিষ্কার হয় ‍যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর উদীয়মান প্রযুক্তি তেল থেকে নতুন নতুন পণ্য তৈরি শুরু করে। যেমন- বসতবাড়িতে আলো জ্বালাতে কেরোসিনের মতো সস্তা জ্বালানি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এর কয়েক বছর পর, পেনসিলভানিয়ার টাইটাসভিলে আমেরিকার প্রথম বাণিজ্যিক তেল কূপ তৈরি করা হয়। ওই কূপের সাফল্য এবং কেরোসিনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা তেলের মহোৎসব শুরু করে। যা নতুন নতুন শিল্পের জন্ম দেয়।

১৮৮৫: মোটরগাড়ির জ্বালানি
মোটরগাড়ি আবিষ্কৃত হওয়ার পর তেলের চাহিদা এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জার্মান প্রকৌশলী কার্ল বেঞ্জ ১৮৮৫ সালে প্রথম মোটরগাড়ি আবিষ্কার করেন। এই নতুন যানটি চলত গ্যাসোলিন নামক একটি জ্বালানির সাহায্যে। যা ছিল কেরোসিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন একটি সস্তা উপজাত। ১৯০৮ সালে হেনরি ফোর্ড যখন সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে গাড়ি তৈরি করেন, তখন থেকে গ্যাসোলিনের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বাড়তে শুরু করে।

১৯০৮: আরব রাষ্ট্রে তেল আবিষ্কার
গাড়ির মালিকানা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসোলিন তৈরির জন্য তেলের চাহিদাও বাড়তে থাকে। ঠিক এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের খনি আবিষ্কৃত হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আরও তেলের মজুত পাওয়া যায়। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে তেল উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও জ্ঞান ছিল না। এই সুযোগে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নামমাত্র মূল্যে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের অধিকার নিজেদের করে নেয়। পরে মধ্যপ্রাচ্যের এই উৎপাদন এতটাই বাড়ে যে, তা বিশ্বের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি সরবরাহ করতে শুরু করে।

১৯১৪-১৯১৮: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দেখিয়ে দেয়, একটি জাতির প্রতিরক্ষার জন্য তেল কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ওই যুদ্ধের ট্যাঙ্ক, ট্রাক এবং জাহাজ চালানোর জন্য তেলের প্রয়োজন ছিল অপরিহার্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে নৌবাহিনীকে আধুনিক ও সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তখন থেকে যুদ্ধজাহাজগুলোকে কয়লার বদলে তেলচালিত ইঞ্জিনে রূপান্তর করা হয়। নিজেদের ভূখণ্ডে না হলেও কেবল উৎপাদনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার করণে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য তেলকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তাদের কাছে কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও একইভাবে তেলের নিজস্ব উৎস নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

১৯৪৪: যুদ্ধ শেষে ভাগবাটোয়ারা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন বিশ্বনেতারা তেলের আরও গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেন। তাই তেলের নিয়ন্ত্রণ ছিল যুদ্ধে জয়-পরাজয় নির্ধারণের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উনস্টন চার্চিল মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান তেলের মজুতের দিকে নজর রাখছিলেন। ১৯৪৪ সালের ৮ আগস্ট ‘অ্যাংলো-আমেরিকান পেট্রোলিয়াম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের তেল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। রুজভেল্ট তখন বলেছিলেন, ‘পারস্যের (ইরান) তেল আপনাদের। ইরাক এবং কুয়েতের তেল আমরা ভাগ করে নেব। আর সৌদি আরবের তেলের কথা যদি বলেন, তবে সেটা আমাদের।’ তবে এই ভাগবাটোয়ারার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের কোনো মতামত বা অংশগ্রহণ ছিল না।

১৯৫৬: সুয়েজ খাল সংকট
১৯৫০-এর দশকে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্য তখন তাদের নিজস্ব শক্তির জায়গা বুঝতে পারে। সুয়েজ সংকটের সময় ব্রিটেনের কাছে এই পরিবর্তনটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটেন তখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল আমদানির জন্য রুট হিসেবে সুয়েজ খাল ব্যবহার করত। মিশর যখন খালের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে, তখন ব্রিটেনে তেলের দাম বেড়ে যায়। অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। মুনাফা বাড়াতে আগের চুক্তিগুলো সংশোধন করা হয়।

১৯৭৩: বিশ্বের প্রথম তেল সংকট
উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো এ সময় তেলকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালে মিসর ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল। যা ‘ইয়ম কিপুর’ যুদ্ধ নামে পরিচিত। ওই ‍যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়। এর প্রতিবাদে আরব পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘ওএপিইসি’ পশ্চিমাদের ওপর তেল অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম প্রায় চার গুণ বাড়ে। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পশ্চিমা সরকারগুলো মধ্যপ্রাচ্যের একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে তেলের বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করে।

১৯৯০: উপসাগরীয় যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর পশ্চিমাদের নির্ভরশীলতা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। ১৯৯০ সালে ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করে এবং দেশটির তেল ক্ষেত্রগুলো দখল করে নেয়, তখন এই নির্ভরশীলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। দখলদার ইরাকি বাহিনী কুয়েতের ৭০০-এরও বেশি তেলক্ষেত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক সংলাপও হয়েছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী কুয়েতকে উদ্ধারের অভিযানে নামে। তারা ইরাক দখল করে নেয়। তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা ছিল এই যুদ্ধের একটি অন্যতম প্রধান কৌশলগত উদ্দেশ্য।

১৯৯৮: আমেরিকার ফ্র্যাকিং বিপ্লব
পশ্চিমা দেশগুলো তখনো তেল উত্তোলনের নতুন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ‘ফ্র্যাকিং’ পদ্ধতি উদ্ভাবনের পর তেল শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ফ্র্যাকিং হলো শিলাস্তর বা শেল রক থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেল উত্তোলনের একটি প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে মাটির গভীরে উচ্চ চাপে তরল পদার্থ পাম্প করা হয়। যা তেলবাহী শিলাগুলোতে ফাটল ধরায় বা ‘ফ্র্যাক’ করে। ফলে সেখান থেকে তেল আহরণ করা সম্ভব হয়। সরকারি অনুদান এবং তেলের উচ্চমূল্যে উৎসাহিত হয়ে ফ্র্যাকিং একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে।

২০১৫: তেলের বাজারে ধস
এই বছর আগে তেলের দাম অনেকটা কমে গিয়েছিল। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তখন তেলকে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। বৈশ্বিক মন্দার কারণে তেলের চাহিদা তখন এমনিতেও কম ছিল। কিন্তু উৎপাদনকারী আরব দেশগুলো সরবরাহ কমানোর পরিবর্তে উৎপাদনের মাত্রা আগের মতোই বজায় রাখে। ফলে দাম কমে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী তেল উৎপাদনকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা। বিশেষ করে আমেরিকার ফ্র্যাকিং শিল্প, রাশিয়া এবং উত্তর সাগরের তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো ছিল তাদের লক্ষ্যবস্তু। আয়কে লাভজনক পর্যায়ে রাখতে এসব কোম্পানির জন্য তেলের উচ্চমূল্য ধরে রাখা জরুরি। কিন্তু ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি কমে যায়। ফলাফল পশ্চিমা কোম্পানিগুলো নতুন তেল প্রকল্পে বিনিয়োগের মাত্রা কমিয়ে দেয়।