Home Blog Page 125

সংরক্ষিত নারী আসন সংগ্রামের মূল্যায়ন চান বিএনপি প্রার্থীরা

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে দলীয় ফরম সংগ্রহ করতে আসা নারী নেতাকর্মীরা এ সময়ে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকা ত্যাগীরা দলের মূল্যায়নে এগিয়ে থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫৭৮টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানান দলের সহদপ্তর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিং। ফরম কিনতে এসেছেন তৃণমূলের নেত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরা। তাদের মধ্যে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, বেবী নাজনীন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, সুরাইয়া বেগম, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজীদা ইসলাম তুলি, আরিফা সুলতানা রুমাসহ সাবেক সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।

বেলা ১১টায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী দলীয় ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম ফরমটি রিজভী তুলে দেন জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে। দ্বিতীয় ফরমটি নেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদ।

মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম ওঠানো এবং জমা দেওয়া যাবে। জমা দেওয়ার সময়ে প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে।

সংরক্ষিত আসনে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আন্দোলনের ভূমিকা, দক্ষতা এবং সংসদে কথা বলার দক্ষতাসহ অন্যান্য যোগ্যতা থাকা দরকার সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. খোন্দকার আকতারা খাতুন লুনা বলেন, আমি বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোটবেলা থেকে বিএনপি করি। আমরা মনেপ্রাণে এই দলটিকে ভালোবাসি, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসি এবং খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি। তারেক রহমান আমাদের পথ প্রদর্শক, তাঁর দর্শনেই আমরা সামনে এগিয়ে যাব।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করায় আমার পুরো পরিবারকে আওয়ামী আমলে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। বড় ভাই নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুকে হত্যা করা হয়েছে।

মহানগর বিএনপি নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, আসলে আমি একজন নির্যাতিত নারী। কারণ এক-এগারো থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমি আন্দোলন-সংগ্রামে পুরো সময়টা মাঠে ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় তাহলে আমি তৃণমূলের জন্য কাজ করতে পারব।

কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভিন নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বলেন, প্রত্যাশার তো কোনো শেষ নেই, প্রত্যাশা করে আছি। দল যদি মনে করে তাহলে কাজ করে যাব। যদি নাও মনে করে তাও কাজ করব। আমি সারাটা জীবন এই দলের সঙ্গেই আছি, এই দলের সঙ্গে থেকেই মরে যেতে চাই।

গত বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। আগামী ১২ মে ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে একটি আসন পাবে। সাধারণত দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান হওয়ায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরাসরি ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হন।

গণভোট, গুম, দুদকসহ ১৩ অধ্যাদেশ অকার্যকর

সংসদে অনুমোদিত না হওয়ায় গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশনসহ ১৩টি অধ্যাদেশ শুক্রবার রাত ১২টার পর কার্যকারিতা হারিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে সংসদে অনুমোদিত চারটি বিলে। জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্তসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিলের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়া-সংক্রান্ত কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদ। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি গতকাল রাত থেকে আর কার্যকর নয়।
টানা ছয় দিনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়। জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিল পাসের নজির নেই। গতকাল শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়।

রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনসহ সাতটি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোটসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি। ফলে এসব অধ্যাদেশের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা কী হবে, তা অস্পষ্ট। গণভোট অধ্যাদেশের অধীনে ‘গণভোট ২০২৬’সহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হলো।
অধ্যাদেশ পাস না করায় দুদক আইনের সংশোধনী বাতিল হয়েছে। ফলে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান সরকারের অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না। মানবাধিকার কমিশন চলবে ২০০৯ সালের আইনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না।
অধ্যাদেশ রহিত হওয়ায় উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ আবারও প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফিরবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ও বিলুপ্ত হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা, পদোন্নতি, বদলির ক্ষমতা ফিরেছে সরকারের কাছে।

সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন, তা সংসদের বৈঠকে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গতকালই ছিল সংসদে নিষ্পত্তির শেষ সময়। গত ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন।
অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। গত ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু ও ১৫টি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া চারটি বাতিল ও ১৬টি পরে যাচাই-বাছাইসহ অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। কমিটি সংশোধন করে পুলিশ কমিশন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তা শেষ দিনেও উত্থাপন না করায়, বিলুপ্ত হয়েছে জুলাই সনদে প্রস্তাবিত পুলিশ কমিশন।
বিশেষ কমিটির সুপারিশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ থাকলেও সুপারিশের বাইরে গিয়ে সংসদে বিল তুলে অধ্যাদেশটি রহিত করে আগের মানবাধিকার কমিশন আইনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপন হলেও আইনি সুরক্ষা না দেওয়ার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে কার্যকারিতা হারাচ্ছে, সেগুলো হলো– গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ।
রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশ উত্থাপন না হওয়ায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আবারও একীভূত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরকে ভাগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন কর্মচারীরা।

শেষ দিনে ২৪ বিল পাস
গতকাল শেষ দিনে পাস হওয়া ২৪টি বিলের মধ্যে আছে– সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উত্থাপিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত আমানত সুরক্ষা বিল; দ্য এক্সসাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) বিল; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল; গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; ব্যাংক রেজল্যুশন বিল এবং অর্থ (২০২৫-২৫) অর্থবছর বিল, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল এবং সাইবার সুরক্ষা বিল;  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উত্থাপিত মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের উত্থাপিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল।

পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানি প্রতিনিধিদল

যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেবেন।

আজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক, কঠোর নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা। বর্তমানে বিশ্ব গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে এই সংলাপ। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল না পৌঁছালেও ইরানের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে রয়েছে। গতকাল রাতে তারা পাকিস্তানে পৌঁছে।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন আইনপ্রণেতা।

তবে প্রতিনিধিদলে কে বা কারা থাকবেন, কিংবা কীভাবে আলোচনা হবে—এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ইসলামাবাদে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দূতাবাস থাকা রাজধানীর ‘রেড জোন’ এলাকা সাংবাদিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন তা সব ধরনের মানুষ ও যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি বন্ধ।

রেড জোনের আশপাশের এলাকাগুলোতে ক্যামেরা হাতে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।পাকিস্তান সরকার সাংবাদিকদের জন্য জিন্নাহ কনভেনশন সেন্টার বরাদ্দ দিয়েছে।

এদিকে এরইমধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এয়ার ফোর্স টু-তে করে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির অভিযোগ তুলেছে ইরান।

অন্যদিকে যুদ্ধ বিরতির চুক্তিতে লেবানন না থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ নিয়ে কোনো মন্তব্যই করেনি ইসরায়েল।

এদিকে চুক্তিভঙ্গের বিষয়ে পরস্পরের দিকে আঙ্গুল তুললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আলোচনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে শর্ত পূরণ না হলে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারিও এসেছে উভয় পক্ষ থেকেই।

ইসলামাবাদে কড়া নিরাপত্তা

বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায়ই এ ধরনের ছুটি বা বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়ে থাকে। জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের জন্য পাকিস্তান ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সামাজিক মাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) জানান, আলোচনায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। তবে পরে তিনি পোস্টটি ডিলিট করেছেন। এ নিয়ে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই পোস্টটি করা হয়েছিল।

পোস্টে রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম লিখেছিলেন, ‘ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে ইরানি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।’ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু সমস্যার কারণে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি দলটি বৃহস্পতিবারই পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডলের অকাল মৃত্য’র জন্যে দায়ী কে?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক,
৭ই মার্চ ২০২৬

আলোচিত বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় মন্ডল মারা গেছেন (শনিবার ৪ঠা মার্চ ২০২৬)। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। তিনি স্বাভাবিক মৃত্যু-বরন করেছেন, কেউ তাঁকে খুন করেনি। আসলে কি তাই? ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০২২ সালের ২২শে মার্চ হৃদয় মন্ডল গ্রেফতার হ’ন, ১৯দিন কারাগারে থেকে তিনি ১০ই এপ্রিল মুক্তি পান। ১৬ই আগষ্ট ২০২২ তাঁকে ধর্ম অবমাননা মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু ঘটে। ভাল শিক্ষক হিসাবে তাঁর সুনাম ছিলো। বিনোদপুর রাজকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি সিঁকি শতাব্দী বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫৮, তিনি স্ত্রী, পুত্র ১৪, কন্যা ১০ রেখে যান। এ মৃত্যুকে কি অকাল মৃত্যু বলা যায়?

হৃদয় মন্ডল ইসলাম ধর্ম অবমাননা করেননি। বিনা অপরাধে তিনি জেল খেটেছেন। অপদস্থ হয়েছেন। লাঞ্ছিত হয়েছেন। তাঁর ছাত্ররা তাঁকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আসলে ছাত্ররা বয়স্কদের পরামর্শে শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এর পেছনে সেই পুরানো ধর্মান্ধ গোষ্ঠী। হৃদয় মন্ডল স্কুলে পড়াচ্ছিলেন। গুটিকয় ছাত্র তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু প্রশ্ন করছিলো, যেমন ডারউইনের জন্ম-বিবর্তনবাদ। তিনি শংকিত ছিলেন, প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু শিক্ষক হিসাবে ছাত্রের প্রশ্নের উত্তর দেয়া তাঁর দায়িত্ব। তিনি জানতেন না তার বক্তব্য রেকর্ড হচ্ছে। ডারউইনের জন্মতত্ব যেকোন ধর্মীয়তত্বের বিরুদ্ধ মতবাদ। তিনি ধরা খেলেন। ছাত্র-জনতা তাকে মারধর করলো, পুলিশে দিলো। এ অপমান কি তিনি কখনো ভুলতে পেরেছিলেন? এ অপমানের জ্বালায় কি তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ?

এমন ঘটনা বাংলাদেশে প্রথম নয়, শেষও নয়, ইসলাম ও নবীর অবমাননার ভুয়া অজুহাতে হিন্দুরা প্রতিনিয়ত অত্যাচারিত হচ্ছে। রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও নেতা, জনগণ প্রায় সবাই হিন্দুদের বিপক্ষে। হিন্দু নির্যাতনের এটি একটি নুতন কৌশল। ২০১২ সালে রামু’র ঘটনা দিয়ে এর শুরু, আজো চলছে। ঐসময় জনৈক উত্তম বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ইসলাম ও নবীর অবমাননার অভিযোগে ১০হাজার মুসলমান রামুর বৌদ্ধপল্লিতে ঝাঁপিয়ে পরে, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মুর্ক্তি ভাঙ্গচুর, মারধর, বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস করে দেয়। গত ১৪ বছরে এর বিচার হয়নি। উত্তম বড়ুয়ার খোঁজ মেলেনি। মিলবে কি করে, উত্তম বড়ুয়া নামে ভুয়া ফেইসবুক একাউন্ট খুলে তৌহিদী জনতা এ অপকর্ম করে। এরপর ছোটবড় অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, বিচার হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল ভক্তের ঘটনা সবার মনে থাকা কথা? তাকেও ইসলাম ধর্ম অবমাননার ভুয়া অভিযোগে নাজেহাল করা হয়। এক্ষত্রে একজন এমপি সেলিম ওসমান জড়িত ছিলেন। তিনি শিক্ষক শ্যামল ভক্তকে প্রকাশ্য জনারণ্যে ‘কান ধরে ওঠ-বস’ করান। পরে অবশ্য তিনি সাফাই গেয়ে বলেন, শ্যামল ভক্তকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে তিনি ঐকাজ ক্যরেছেন? পরে প্রমান হলো শ্যামল ভক্ত ইসলাম অবমাননা করেননি। তার ছাত্ররা সাক্ষী দিলো। কিন্তু যা হবার তা তো হয়ে গেছে। আরো পরে এই শিক্ষক বাধ্য হয়েছেন ওই অত্যাচারী এমপি’র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। এমপি সেলিম ওসমানের কিছুই হয়নি। ওসমান পরিবার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ঘনিষ্ঠ ছিলো, কিছু হবার প্রশ্নই ওঠেনা। নাসিরনগর ঘটনায় এমপি হিন্দুদের ‘মালাউন’ বললেন, তারও কিচ্ছু হয়নি।

এরপর কত ঘটনা ঘটলো। রংপুর, কুমিল্লায় আগুন জ্বললো, হিন্দুর বাড়ীঘর পুড়লো, মন্দির ভাঙ্গলো, মানুষ মরলো, লুটপাট, নারী ধর্ষণ কিছুই বাকি থাকলো না? শুধু হিন্দু বিচার পেলোনা। প্রধানমন্ত্রী ‘কওমী মাতা’ হলেন, দেশ চালালেন ‘মদিনা সনদে’, জঙ্গী-মৌলবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলেন, একদিন এঁরা সবাই মিলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশত্যাগে বাধ্য করলেন। কুমিল্লায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচারকারী বাহার এমপি বা এমপি সেলিম ওসমান এখন ভারতে। পাপ বাপকেও ছাড়েনা। ড. ইউনূসের আমলে হাজারো শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, এখন রাজনৈতিক সরকার আমলেও কেউ এদের কথা বলছে না? বলার কোন কারণ নেই, হিন্দু বলে শ্যামল ভক্ত বা হৃদয় মন্ডলের জন্যে কিন্তু শিক্ষক সমাজ তখন মাঠে নামেনি, তাই এখনও কেউ নামবে না। বিচারপতি সিন্হাকে বিদায় করার সময় অন্য বিচারপতিরা চুপ ছিলেন, মব ভায়োলেন্স একসাথে তাঁদের ১২জনকে বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছে। এটাই প্রকৃতি’র নিয়ম।

২০২৫ সালে সিটি ব্যাংকের রেকর্ড ১,৩২৪ কোটি টাকা মুনাফা

২০২৫ সালে সিটি ব্যাংক তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। ব্যাংকটি সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের ১ হাজার ১৪ কোটি টাকার তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। শুক্রবার সিটি ব্যাংক এক সংবাদ বিজপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২৫ সালে এককভাবে সিটি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এবং এর চার সহযোগী প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে আরও ১৮ কোটি টাকা নিট মুনাফা যোগ করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য এই প্রবৃদ্ধি এসেছে শক্তিশালী আয় বৃদ্ধি, শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত ফল হিসেবে।

গত বছর ঋণ থেকে সুদ আয় ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বেড়েছে ২৪ শতাংশ। পাশাপাশি ব্যাংকটি তাদের সম্পদের গুণগত মানও উন্নত করেছে। শ্রেণিকৃত ঋণের (এনপিএল) অনুপাত ২০২৫ সালের শেষে ২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছর ছিল ৩.৭ শতাংশ। গত বছর গ্রাহক আমানত ও তহবিল ব্যয় খরচ বেড়েছে, ব্যাংক সেই ব্যয় বৃদ্ধি সামলেছে সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে। ফলে ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট পরিচালন আয়ের মধ্যে এই বিনিয়োগের অবদান ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তহবিল ব্যয় সমন্বয়ের পর নিট বিনিয়োগ আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।

বিজপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ব্যাংকটি দেশীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ৮.০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ট্রেড ব্যবসা করেছিল। ট্রেড সার্ভিস থেকে কমিশন ও ফি আয় হয়েছে ৫২৬ কোটি টাকা। আর রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা থেকে এসেছে ৪৭১ কোটি টাকা। ফলে মোট ফি ও কমিশন আয় দাঁড়িয়েছে ৯৯৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের মোট পরিচালন আয়ের ২১ শতাংশ।

ব্যয় দক্ষতা এ ব্যাংকের অন্যতম শক্তি। মুদ্রাস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব সত্ত্বেও ব্যাংকটি তাদের আয়-ব্যয় অনুপাত ৪৪ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার মোট আয়ের বিপরীতে গত বছর মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।

গত বছর ব্যাংকটি তাদের লোনের বিপরীতে প্রভিশন ব্যয় বাড়িয়ে ৮১৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে, যা আগের বছর ছিল ৬২৮ কোটি টাকা। এই পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সাল শেষে প্রভিশন কভারেজ অনুপাত ১২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ বছরের চাইতে বেশি প্রভিশন ব্যয় করার কারণে নিট মুনাফা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘ভালো ব্যাপার হচ্ছে, সিটি ব্যাংকে সব কোর ব্যাংকিং সেগমেন্ট থেকেই শক্তিশালী আয় আসছে। রিটেইল ব্যাংকিং ও কার্ড ব্যবসা ইতোমধ্যেই কর্পোরেট ব্যাংকিং আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। তাদের আয় গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। ঋণের গুণগত মানের দিক থেকে আমাদের স্মল বিজনেস লোন, ন্যানো লোন, রিটেইল লোন এবং ক্রেডিট কার্ড পোর্টফোলিওর পারফরম্যান্স অত্যন্ত চমৎকার। এলসি ব্যবসায় আমাদের নেতৃত্ব এবং আমানতের খরচ ৫.৫ শতাংশ পর্যায়ে ধরে রাখার সক্ষমতা- আমাদের বড় দুই শক্তি। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে কর্পোরেট ও মাঝারি ব্যবসার ঋণ পোর্টফোলিও নিয়ে আমাদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ৮ হাজার কর্মীর একটি বড় ব্যাংকের ক্ষেত্রে কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৫ শতাংশের নিচে ধরে রাখতে পারাটা আমার দৃষ্টিতে আমাদের অন্যতম বড় সাফল্য।

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরে তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সফরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধানকে একটি বিশেষ রেজ্যুলেশন প্রদান করা হয়।

এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিয়ে করতে বর গেল হাতির পিঠে চড়ে, কনেকে নিয়ে এলো ঘোড়ার গাড়িতে

এক সময় বিয়ে বাড়িতে যাতায়াতের প্রধান যানবাহন ছিল হাতি-ঘোড়ার বহরের সঙ্গে পালকি। বর্তমান সময়ে ইঞ্জিনচালিত যান্ত্রিক যানবাহনের কাছে হারিয়ে গেছে সেই সময়ের যানবাহন। তবে প্রথা হিসেবে গ্রাম-বাংলার কিছু এলাকায় আজও চোখে পড়ে কিছু দৃশ্য। এক যুবককে হাতির পিঠে ওঠে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। যথারীতি যুবক বিয়ের উদ্যোগে হাতির পিঠে ওঠে এসেছেন কনের বাড়িতে। এ এক চমৎকার দৃশ্য।

তবে মজার বিষয় হলো, বিয়ের কার্যক্রম শেষে ঘোড়ার গাড়িতে কনে এলেন শ্বশুর বাড়িতে। এমনই সব ঘটনা গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ঘটেছে। আলোচিত এই বিয়ের ঘটনা পুরো জেলায় সাড়া ফেলেছে। বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা বিরল বলে জানান স্থানীয়রা।

আলোচিত এই বিয়ের বর মো. ফারহান ফয়সাল (২৮)। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলা চকমোহন গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। ফারহান ফয়সাল বিমান বাহিনীতে কর্মরত। আর কনের মোসা. ফারহানা আক্তার (২৬)। সে সদর উপজেলার পশ্চিম পুরানাপৈল সোনার পাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের মেয়ে।

Joypurhat Hati Pic 4 (1) 1775817183

বর-কনের পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফারহান ফয়সালের শ্বশুর দুলাল হোসেনের শখ ছিল তার ছোট মেয়ে ফারহানা আক্তারের বিয়ের দিন জামাই যেন হাতির পিঠে ওঠে তার বাড়িতে আসেন। শুধু তাই নয়, মেয়ে যেন ঘোড়ার গাড়িতে ওঠে শ্বশুর বাড়িতে যান। সে মোতাবেক শ্বশুরের শখ পূরুন করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে যুবক ফারহান নিজ বাড়ি চকমোহন গ্রাম থেকে হাতির পিঠে ওঠে পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। মাঝে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরত্ব। এসময় রাস্তার দুই পাশে হাতির পিঠে মাথায় মুকুট পরা বরকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। পুরাতন দিনের রেওয়াজ অনুসারে হাতি নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে হাতির পিঠে ওঠে বর আসায় কনের এলাকাতেও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। হাতির পিঠে ওঠে বর আর অন্যান্য যানবাহন নিয়ে বরযাত্রীদের গাড়িবহর পশ্চিম পুরানাপৈল গ্রামে কনের বাড়িতে পৌঁছায় সন্ধ্যার কিছু আগে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে করে কনেকে নিয়ে নিজ বাড়িতে রওনা হন বর। এ এক ব্যতিক্রম আয়োজন। এসময় কনের নিজ গ্রামসহ আশপাশের গ্রামে উৎসুক নারী-পুরুষ ও লোকজন ভিড় জমান।

উৎসুক জনতারা জানান, বর্তমান সময়ে এ অঞ্চলে হাতিই দেখা যায় না। আশপাশে বড় ধরনের মেলা হলে দুই/একটা চোখে পরে। তাও কঠিন। কিন্তু হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার ঘটনা বিরল। আবার ঘোড়ার গাড়িতে করে কনে যায় শ্বশুর বাড়িতে। এমন ঘটনায় এলাকার লোকজন বেশ আনন্দ উপভোগ করেছে।

Joypurhat Hati Pic 3 1775817219

কনে ফারহানা আক্তার বলেন, ‘আমার বিয়েতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার সবকিছুতেই ছিল বাবার শখ। আমার জামাই হাতির পিঠে ওঠে এসে বিয়ের কার্যক্রম শেষে আবার আমাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমার জীবনের অন্যরকম এক অনুভূতি। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

বর ফারহান ফয়সাল বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই আমার বাবা হাতির হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাওয়ার গল্প শোনাতেন। আমিও স্বপ্ন দেখতাম হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার। সেই ইচ্ছে পূরণের জন্য আজ হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যাই। ইচ্ছে পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি।’

বরের বাবা ফজলুর রহমানের বলেন, ‘ফারহান তার শ্বশুরের শখ পুরুন করতেই হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যান। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে আজ এই আয়োজন। এমন আয়োজনে হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি বাবদ প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে অনেক আনন্দ উপভোগ করা হয়েছে।’

কনের বাবা দুলাল হোসেন বলেন, আমার ইচ্ছে ছিলো ছোট মেয়ের বিয়েতে ব্যতিক্রম আয়োজন করবো, সেই ইচ্ছে থেকেই আজকের এই আয়োজন। সংস্কৃতির সেই ঐতিহ্য আজ ধরে রাখতে পেরেছি। বিয়েতে দুই পরিবারে আত্মীয়-স্বজন সবাই অনেক মজা ও আনন্দ উপভোগ করেছেন। সবাই নব দম্পতিকে আশীর্বাদ করবেন, ওরা যেন সুখে-শান্তিতে থাকে।’

দিয়াবাতের জাদুতে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী

দেশের ফুটবলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল আবাহনী ও মোহামেডান। প্রায় এক মাসের বিরতি শেষে আজ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা মাঠে গড়ায়। কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় এই দুই দল।

খেলার তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় মোহামেডান। উজবেক মিডফিল্ডার মোজাফফরভ অসাধারণ এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন। চোখধাঁধানো এই গোলে উল্লাসে ভাসে মোহামেডান শিবির। তবে তাদের এই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই আবাহনীর হয়ে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান মিরাজুল। ১-১ গোলের এই সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে দেখা মেলে দিয়াবাতে জাদুর। মোহামেডানের সাবেক এই তারকা এখন খেলছেন আবাহনীর হয়ে। আজ পুরোনো দলের বিপক্ষেই তিনি জ্বলে ওঠেন। দ্বিতীয়ার্ধে তার পা থেকেই আসে আবাহনীর জয়সূচক গোলটি। এই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।

আরও ছড়িয়ে পড়ল ‘রাক্ষস’, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে ৫৫ প্রেক্ষাগৃহে

মাল্টিপ্লেক্সে সফলতার পরে ‘রাক্ষস’ মুক্তি পেয়েছে সিঙ্গেল স্ক্রিনে। মুক্তির দুই সপ্তাহ পর সেখানেও দারুণ সূচনা করেছে রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার ছবিটি।  গেল ৩ এপ্রিল একদিনেই ছবিটি আয় করেছে ৪১ লাখ টাকার অধিক। ছবিটির এ আয়ে দারুণ খুশির কথা জানিয়েছিলেন সিঙ্গেল স্ক্রিনের হল মালিকরা।

সিঙ্গেল স্ক্রিনে দর্শক ধরের রাখার বিষয়টি এখনও ধরে রেখেছে সিনেমাটি। ফলে মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহে এসে সিনেমাটির হল সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুন। প্রযোজনা সংস্থা রিয়েল অ্যানার্জি প্রডাকশনের তথ্যমতে এই আজ থেকে সারা দেশের ৫৫টি হলে চলছে রাক্ষস। একই সঙ্গে ইতালিও চলছে,  আগামী ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও  মুক্তি পাবে রাক্ষস।

চতুর্থ সপ্তাহে যেসব হলে চলছে রাক্ষস

স্টার সিনেপ্লেক্স বসুন্ধরা সিটি-পান্থপথ, ঢাকা, স্টার সিনেপ্লেক্স সনি স্কয়ার-মিরপুর, ঢাকা, স্টার সিনেপ্লেক্স বালি আর্কেড-চট্টগ্রাম, স্টার সিনেপ্লেক্স সেন্টার পয়েন্ট-উত্তরা, স্টার সিনেপ্লেক্স সীমান্ত টাওয়ার-নারায়ণগঞ্জ, ব্লকবাস্টার সিনেমাস-যমুনা ফিউচার পার্ক, ঢাকা, লায়ন সিনেমাস-কেরানীগঞ্জ, ঢাকা, কে. স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স-কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট, সেনা অডিটোরিয়াম-সাভার, চন্দ্রিমা সিনেমা-শ্রীপুর, ছায়াবাণী সিনেমা-ময়মনসিংহ, শাপলা সিনেমা-রংপুর, নন্দিতা সিনেমা-সিলেট, পৃথিবী সিনেমা-জয়পুরহাট, ময়ূরী সিনেমা-বাগআঁচড়া, চলন্তিকা সিনেমা-গোপালদী, রাজমহল সিনেমা-নারায়ণগঞ্জ, রূপকথা সিনেমা-পাবনা, বিজিবি অডিটোরিয়াম-ঢাকা।

পূর্বাশা সিনেমা-সান্তাহার, নিউ মেট্রো সিনেমা-নারায়ণগঞ্জ, রাজিয়া সিনেমা-নাগরপুর, নবীন সিনেমা-মানিকগঞ্জ, প্রিয়া সিনেমা-মাগুরা, আজাদ সিনেমা-ঢাকা, চাঁদমহল সিনেমা-কাঁচপুর, গীত সিনেমা-ঢাকা, মধুছন্দা সিনেমা-মধুখালী, বনলতা সিনেমা-ফরিদপুর, বিজিবি অডিটোরিয়াম-সিলেট, অভিরুচি সিনেমা-বরিশাল, সৈনিক ক্লাব-ঢাকা, মডার্ন সিনেমা-দিনাজপুর, তামান্না সিনেমা-সৈয়দপুর, রূপান্তর সিনেমা-গফরগাঁও, বর্ষা সিনেমা-গাজীপুর, নিউ গুলশান-জিঞ্জিরা, কুইন সিনেমা-জামালপুর, বনরূপা সিনেমা-মাওনা, সোহাগ সিনেমা-ঘোড়াশাল, শাপলা সিনেমা-শ্রীপুর, মাধবী সিনেমা-মধুপুর, আনন্দ সিনেমা-ঢাকা, আনন্দ সিনেপ্লেক্স-কুলিয়ারচর, ম্যাজিক মুভি থিয়েটার-দিয়াবাড়ি, মধুবন সিনেপ্লেক্স-বগুড়া, মম ইন-বগুড়া, মনিহার সিনেমা-যশোর, মনিহার সিনেপ্লেক্স-যশোর, রাজতিলক সিনেমা-রাজশাহী, রূপকথা সিনেমা-শেরপুর, স্বপ্নীল সিনেপ্লেক্স-কুষ্টিয়া, সিনেস্কোপ-নারায়ণগঞ্জ, সুগন্ধা সিনেমা-চট্টগ্রাম, আশা সিনেমা-মেলান্দহ।

‘রাক্ষস’ মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এর অংশ হিসেবে নির্মিত। সিনেমাটিতে  মূখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার নায়িকা হিসেবে আছেন কলকাতার সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া রয়েছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। এটি প্রযোজনা করেছে রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন।

চতুর্থ সপ্তাহেও সিনেমাটির দর্শক রেসপন্স নিয়ে পরিচালক মেহেদি হাসান হৃদয় বলেন, ‘ভালো সিনেমা দর্শকদের কাছে ধীরে ধীরে হরেও স্থান পাবে। প্রথমে মাল্টিপ্লেক্সে আমাদের শো কম হওয়ায় দর্শকরা সিনেমাটি দেখতে এসেও দেখার সুযোগ পাননি অনেকেই। ফলে এখনও দর্শকদের চাপ রয়েছে। চতু্র্থ সপ্তাহে এসে সিনেমাটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আরও বেশি দর্শক রাক্ষস দেখার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মুম্বাইতে হয়েছে সিনেমাটির শুটিং। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি।