Home Blog Page 139

চঞ্চল-নিশো মুগ্ধ করলেও ‘দম’ লম্বা লেগেছে শাওনের কাছে

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও দিচ্ছেন নিজেদের প্রতিক্রিয়া। এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচ ছবির দৌড়ে যেমন আছেন শাকিব খান, তেমনি আলোচনায় আছেন আফরান নিশো ও সিয়াম আহমেদও। সিনেমাগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া—কোথাও প্রশংসা, কোথাও সমালোচনা।

এই তালিকায় যোগ দিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। তিনি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেছেন রেদওয়ান রনি পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘দম’। সিনেমা দেখার পরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সংক্ষিপ্ত এক প্রতিক্রিয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে দেওয়া পোস্টে শাওন লিখেছেন, দম দেখে আসলাম। সারাক্ষণ উত্তেজনা আর দুঃখের আবহে ডুবে থাকতে থাকতে সিনেমাটির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি লম্বা মনে হয়েছে।

সিনেমাটিতে বিনোদন বা হালকা মুহূর্তের অভাবও অনুভব করেছেন তিনি। শাওনের ভাষায়, রিলিফ স্পেস খুব কম ছিল। তবে চঞ্চল চৌধুরী যতবার পর্দায় এসেছেন, দর্শক ততবারই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আফরান নিশোর অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, তার উৎসর্গ পর্দায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

‘দম’ সিনেমায় শাহজাহান ইসলাম নূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। তার মায়ের চরিত্রে দেখা গেছে বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুরকে। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই ডলি জহুরের অভিনয় মুগ্ধ করেছে শাওনকে। তিনি লেখেন, কয়েকটি দৃশ্যেই ডলি জহুর যে অভিব্যক্তি দেখিয়েছেন, তা থেকে বারবার অভিনয় শিখতে ইচ্ছে করে।

উল্লেখ্য, ‘দম’ সিনেমার চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর ও মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ। ছবিটিতে আফরান নিশোর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি।

স্বাধীনতার দাবিতে পথে পথে মানুষের স্রোত

আজ ২৪ মার্চ। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের এই দিনটিতেও স্বাধীনতার দাবিতে গোটা দেশের পথে পথে মানুষের স্রোত নামে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সব সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হয়। সারাদেশের ঘরে ঘরে স্বাধীন  বাংলা ও শোকের কালো পতাকা উড়েছে।

অন্য দিনগুলোর মতো রাজধানী ঢাকা এদিনও রূপ নেয় মিছিলের নগরীতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয় মিছিল। দুপুরের আগেই জনারণ্যে পরিণত হয় নগরী। ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে পাহারারত সৈন্যদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কুচকাওয়াজ।

অদম্য বাঙালিকে প্রতিহত করতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পথে নামে পাকিস্তানি সেনারা। ঢাকার মিরপুর, রংপুর, সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামে পাকসেনাদের ছত্রছায়ায় অবাঙালি বিহারীরা সাধারণ বাঙালির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরে সামরিক সরকারের এজেন্টরা বোমাবাজি করে। চট্টগ্রাম ও রংপুরে জনতা-সেনাবাহিনী সংঘর্ষ হয়।

ঢাকার মিরপুরে অবাঙালিরা সাদা পোশাকধারী সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বাঙালির বাড়িঘর থেকে জোরপূর্বক স্বাধীন বাংলার পতাকা নামিয়ে অগ্নিসংযোগ ও পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করে। রাতে বিহারীরা এখানে বোমাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি কিছু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত হন অনেকেই।

সৈয়দপুরে নিরীহ জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে শতাধিক মুক্তিকামী মানুষ শহীদ ও কয়েক হাজার আহত হন। সেখানকার সেনানিবাস সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম ঘেরাও করে এই গণহত্যা চালানো হয়। শহরে কারফিউ দিয়ে সেনাবাহিনী-অবাঙালি সম্মিলিতভাবে মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। রংপুর হাসপাতালের সামনে জনতা-সেনাবাহিনীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সেনানিবাস এলাকায় সেনারা নিরস্ত্র মানুষের ওপর বেপরোয়া গুলি চালালে প্রায় অর্ধশত শহীদ ও বহু আহত হন।

হঠাৎ করেই বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে পাকসেনাদের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ঢাকায় দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। বিক্ষুব্ধ মানুষের মিছিলের ঢল নামে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে। এসব মিছিল থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের আনুষ্ঠানিক ডাকের দাবি আসে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনের সামনে আগত মিছিলের উদ্দেশ্যে অসংখ্যবার বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা আদায়ে যে কোনো পরিণতির জন্য জনসাধারণকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলার জনগণের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা বরদাশত করা হবে না।’

চট্টগ্রাম, রংপুর, সৈয়দপুর ও মিরপুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গভীর রাতে আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।’ এর আগে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতারা আরেক বিবৃতিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে সশস্ত্র গণবিপ্লব আরও জোরদার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিন পাকিস্তানি সেনারা চট্টগ্রাম নৌবন্দরের ১৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করা এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে সমরাস্ত্র খালাস করতে গেলে বীর চট্টলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘিরে ফেলে। বিকেলে সেনাবাহিনী অস্ত্র খালাসের জন্য বন্দর শ্রমিকদের নিয়োগ করতে চাইলে তারাও অস্বীকৃতি জানান। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বন্দরের জেটি থেকে কদমতলী পর্যন্ত প্রায় চার মাইল পথের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে খালাস করা কিছু অস্ত্র ১২টি ট্রাকে করে নতুনপাড়া আনার চেষ্টা করলে ডবলমুরিং রোডে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকের পথরোধ করে দাঁড়ায় জনতা। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার পর জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে পাকসেনারা। লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে জনতাও। রাতভর এই সংঘর্ষে সেনা সদস্যদের গুলিতে শহীদ হন দুইশত শ্রমিক-জনতা।

সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট হাউসে আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তান সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ে দু’ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগ থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ড. কামাল হোসেন অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বক্তব্য শেষ হয়েছে। এখন প্রেসিডেন্টের উচিত তার ঘোষণা দেওয়া। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত নয়।’

পশ্চিম পাকিস্তানি নেতারা বিকেলে পিআইএ’র একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। করাচি রওয়ানা হওয়ার আগে ন্যাপ নেতা ওয়ালী খান ও গাউস বক্স বেজেঞ্জো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। পিপলস পার্টি প্রধান জুলিফিকার আলী ভূট্টো দুপুরে প্রেসিডেন্ট হাউসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো বৈঠক শেষেই উপস্থিত সাংবাদিকদের কিছুই বলা হয়নি।

‘ক্রিকেট হলে তুই সেরাদের সেরা’, জন্মদিনে সাকিবকে মাশরাফি

মাগুরার ছোট্ট ফয়সাল থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের মহাতারকা হয়ে ওঠা সাকিব আল হাসানের আজ জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার আজ ৩৯ বছরে পা দিলেন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি সতীর্থ ক্রিকেটারদের ভালোবাসায় ভাসছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবকে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাশরাফী বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেনরা।

সাকিবের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মর্তুজা তার দীর্ঘদিনের সতীর্থকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘যদি বিষয় হয় ক্রিকেট, তাহলে সেখানে তুই সেরাদের সেরা। শুভ জন্মদিন মিস্টার ৭৫- সাকিব আল হাসান।’

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের জার্সিতেও আর দেখা যায়নি তাকে। তবে দেশের মাটিতে খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা একাধিকবার প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সাকিবের সেই ইচ্ছা পূরণ হোক, এমনটাই চান দীর্ঘদিনের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম।

সাকিবের সঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করে মুশফিক লিখেছেন, ‘দেশের মানুষের মতো ভাই হিসেবে আমিও চাই খেলার ইতি দেশের মাটিতে হোক। শুভ জন্মদিন, সাকিব… বাংলাদেশের সাকিব। সব সময় দোয়া থাকবে ভাই।’

সাকিবের সঙ্গে উইকেট উদ্‌যাপনের পুরোনো একটি ছবি শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নাসির হোসেনও। বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিবের অবদানকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ‘অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনার উৎসর্গ, আবেগ এবং অবদান লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে আপনার সঙ্গে কাটানো দারুণ মুহূর্তগুলো সব সময় আনন্দের। এই বছর আপনার জন্য আরও সাফল্য, সুখ এবং অবিস্মরণীয় অর্জন বয়ে আনুক! সব সময় শুভকামনা।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ পরিচালকের সাক্ষাৎ, ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।

মঙ্গলবার ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

সাক্ষাতে আইএমএফের স্থগিত থাকা ঋণ কর্মসূচির দুটি কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশ শিগগিরই প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার পেতে পারে।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি আমদানির চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানিয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, রাজস্ব আহরণ, এনবিআর পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে; বাকি রয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত ডিসেম্বরে একটি কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয় আইএমএফ।

লিটারপ্রতি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ৯০ টাকা

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম হঠাৎ করে বড় পরিমাণে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়, যা একই দিন মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে এক লাফে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এ দর আগামী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেট ফুয়েলের এই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বিমান ভাড়ায় পড়তে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, যা যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে।

ছুটি শেষে দরপতনে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার প্রথম কর্মদিবসে ফের লেনদেন শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারে। তবে শুরুতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে সূচকেও বড় পতন হয়েছে।

আজ বেলা ১১টার দিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে ২৫৫ কোম্পানির শেয়ার যেখানে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, তখন দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায় ৭৭ কোম্পানির শেয়ার। এ পর্যায়ে দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৮ শেয়ার।

অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোয় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

একাধিক বড় ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, আজকের দরপতন তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তারা জানান- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৫ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ এবং তেল ক্ষেত্রে আক্রমণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই এ ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন- ইরান যুদ্ধ চূড়ান্ত অবসানের জন্য ইরানের সাথে আলোচনা চলছে, যাতে অগ্রগতি আছে। অবশ্য ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে- কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ এ বিষয়ে কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতার দাবি অস্বীকার করা হলেও ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণাতে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম ১৩ শতাংশ কমেছে।

এর ইতিবাচক প্রভাব ছিল বিশ্বের বড় সব শেয়ারবাজারে। ইউরোপ থেকে এশিয়ার সব বড় শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান- ঈদের ছুটির শেষ হওয়ার আগে এ খবর ছিল নতুন খুশির বার্তা। তবে লেনদেন শুরু হতে দেখা গেল উল্টো চিত্র।

দেশের শেয়ারবাজারের এমন উল্টো যাত্রার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন কেউ কেউ। ঈদের ছুটির আগের কয়েকদিন দেশের শেয়ারবাজারে যে দর বেড়েছিল, ছুটি শেষে কেউ কেউ মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় শেয়ার বিক্রি করলে তাতে বিক্রি চাপ বেড়ে গেছে। এতে দর পতন হচ্ছে।

কয়েকজন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান- বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আস্থা এখনও তৈরি হয়নি। ফলে কিছুটা দর বৃদ্ধি পেলে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। আজকের দর পতনের নেপথ্যে এটি একটি কারণ হতে পারে।

আজ প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে ১৪০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যা ঈদের ছুটির আগের কর্মদিবসের প্রথম ঘণ্টার লেনদেনের তুলনায় ১৩ কোটি টাকা বেশি।

প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে এগিয়ে ছিল- মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবির শেয়ার। এর পরের অবস্থানে আছে সী পার্ল হোটেল এন্ড রিসোর্ট। এ দুই কোম্পানির সাত কোটি টাকা করে ১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা ইনটেক অনলাইন, শাইনপুকুর সিরামিক, এক্মি পেসটিসাইডস, সিটি ব্যাংকের ৩ থেকে ৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। আস্তে আস্তে কথা বলতে পারছেন তিনি। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

আজ সোমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাসের শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো পজিটিভ সাইন দিচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

তিনি আরও বলেন, তবে ব্রেইনের বিষয় তো, পুরোপুরি সুস্থ হতে একটু সময় নেবে। তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী মির্জা আব্বাসের একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বলেন, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে বেড থেকে চেয়ারে বসিয়েছেন চিকিৎসকরা। এটা পজিটিভ সাইন। তিনি আস্তে আস্তে কথা বলতে পারেন। ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, দোয়া করবেন তার জন্য। দেশবাসীর কাছে তার পরিবারও দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে, গত ১১ মার্চ ইফতারির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে গত ১৩ মার্চ তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পৌর ৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে ছিলেন দুই দিন। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ১৫ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে ইয়াসীর আব্বাস সার্বক্ষণিক পাশে থাকছেন।

কলম্বিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৬৬ জন নিহত

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্সকে দুই সামরিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র আরও জানায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর একটি।

গতকাল সোমবার কলম্বিয়ার পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, লকহিড মার্টিন নির্মিত হারকিউলিস সি-১৩০ পরিবহন বিমানটি পেরুর সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লেগুইসামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

দমকলকর্মী এদুয়ার্দো সান হুয়ান কায়েহাস জানিয়েছেন, উড্ডয়নের সময় রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমানটি কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে নিচে পড়ে যাওয়ার সময় ডানার এক অংশ একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে থাকা কোনো বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরিত হয়।

এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহত সেনাদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সামরিক যানবাহন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

কলম্বিয়ার বিমান বাহিনী প্রথমে জানায়, বিমানে মোট ১২১ জন ছিলেন-যার মধ্যে ১১০ জন সেনা এবং ১১ জন ক্রু সদস্য। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এই সংখ্যার পার্থক্যের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো তার মেয়াদের শেষ সময়ে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আর কোনো বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না; আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনের কেউ যদি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম না হন, তবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।’

লকহিড মার্টিনের এক মুখপাত্র জানান, তদন্তে সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ার পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান প্রথম ১৯৫০-এর দশকে চালু হয়। কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে প্রথম এই মডেল সংগ্রহ করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নতুন মডেলের মাধ্যমে পুরোনো কিছু সি-১৩০ আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

ঈদ কাটল হাসপাতালের বিছানায়, চেন্নাইতে অস্ত্রোপচার তানিয়া বৃষ্টির

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ভারতের চেন্নাইতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

অভিনেত্রীর অস্ত্রোপচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা রায়হান খান। সর্বশেষ এই নির্মাতার ট্রাইব্যুনাল সিনেমায় অভিনয় করছিলেন তিনি। রায়হান খান জানান, দ্বিতীয় দফায় ভারতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে তানিয়া বৃষ্টির। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও বিশেষ সতর্কতার মধ্যে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রথম দফায় ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার করা হয় তানিয়া বৃষ্টির। তবে পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয়।

চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে গত ৯ মার্চ তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। টানা চিকিৎসার পর গত ২১ মার্চ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় এবং ২২ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। মোট ১৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তানিয়া বৃষ্টিকে মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে হবে এবং সুস্থতার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ১০ এপ্রিল ফলোআপের জন্য তাকে আবারও চেন্নাই যেতে হবে।

জ্বালানি আমদানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানী আমদানির জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইএমএফের সফররত এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আইএমএফের কাছ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে সংস্থাটির বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। তার প্রেক্ষিতে আগামী জুলাই মাসে ঋণের কিস্তি পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, আইএমএফের ঋণ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ১.৩ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জুলাই মাসে রিভিউ হবে। এর মধ্যে আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নিবো। ওয়াশিংটনে এপ্রিলে স্প্রিং মিটিং আছে, সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

আমির খসরু বলেন, জ্বালানি আমদানির জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েক বছর ধরে প্রোগ্রাম চলছে। প্রোগ্রামটি আবার রি-ভিজিট হবে, এতে কোনো সমস্যা নেই। আইএমএফের যে রিকোয়ারমেন্ট সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, আইএমএফের সব শর্ত এখনই পূরণ করা যাবে না। এখন কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো এখন সম্ভব না, সেগুলো ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সব কিছু আমাদের মতো করে করতে হবে।

এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি রিভিউ হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরণের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি-ব্যাংকিংখাত খুবই খারাপ অবস্থায় পেয়েছি। এই সংকট থেকে উত্তরণে বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারে যে কথাগুলো বলা আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের অনেক রিফর্ম দরকার, অনেক ডিরেগুলেশন দরকার।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর খুবই খারাপ অবস্থায় আছে, শেয়ারবাজার খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। ট্যাক্স-জিডিপির অবস্থা খুবই কম। এগুলো দূর করতে ম্যানুফেসটো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব এবং একটার পর একটা পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি। সোশ্যাল সেফটি নেটের আওতা সম্প্রসারণে আমরা অলরেডি কাজ শুরু করেছি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক উন্নয়ন প্রকল্প থমকে গেছে। এগুলো আবার সচল করতে হবে। এ জন্য আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ, ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ, ক্যাপিটাল মার্কেটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ট্যাক্স-জিডিপিতে আমরা একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। এটা ইম্প্রুভমেন্টের ব্যাপার আছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে দেশবাসীকে সহানুভূতিশীল ও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। এর মধ্যে রমজান গেল, যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট সত্বেও দেশের পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই বাড়ি যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি। গার্মেন্টসে কোনো অস্থিরতা হয়নি। তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একা এই সংকট সামাল দিতে পারবে না, দেশবাসীকে সহানুভূতিশীল হতে হবে, সংযমের দিকে যেতে হবে।