Home Blog Page 14

দুই জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান দল যাতে সরকারের ভেতর হারিয়ে না যায় সরকারের উন্নয়ন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিন

সরকারের সঙ্গে যাতে কোনোভাবে দল হারিয়ে না যায়, এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল শনিবার জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

তারেক রহমান দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে সরকারকে সহায়তা করা; সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেই দল যদি সরকারের সঙ্গে মিলে একাকার হয়ে যায়, তাহলে সরকারেরও ক্ষতি, আবার দলেরও ক্ষতি। এটি হলে একসময়ে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, কোন্দল, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, শুরুতে স্থানীয় নেতাদের কাছে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান তারেক রহমান। এরপর তিনি বলেন, তাদের সরকারে দলের অস্তিত্ব যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র রক্ষা, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং ভুল রাজনীতি থেকে দূরে থাকা জরুরি। ক্ষমতা পাওয়ার মোহে নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিলে দল তার ভিত্তি হারাতে পারে।

তারেক রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্রে একটি রাজনৈতিক দল যখন দল ও সরকারকে আলাদা করতে পারবে, তখনই তারা সফল হবে। দল যদি সরকারকে গিলে খায়, তাহলে দল যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সরকারও সফল হয় না।

বৈঠকে নেতারা বলেন, দল ক্ষমতায়, তাই সবকিছুতে খবরদারি করা, থানায় গিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আসামিদের ছাড়িয়ে আনা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় বাধা কিংবা হস্তক্ষেপ করা, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য ইত্যাদি কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে, আবার সংগঠনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান তাদের উদ্দেশে বলেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের মধ্যে সম্পর্ক হওয়া উচিত রেললাইনের মতো। দুটো লাইন পাশাপাশি চলবে। কিন্তু একটা আরেকটাকে স্পর্শ করতে পারবে না। ক্ষমতাসীন দল যদি এই চর্চাগুলো করতে পারে, তাহলেই গণতন্ত্র বিকশিত হয়, দলও শক্তিশালী হয়।

নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার গঠন করার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু সুযোগসন্ধানী দলের পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সঙ্গে মৌসুমি কিছু মতলববাজ ক্ষমতার চারপাশে মৌমাছির মতো ভিড় করছেন। অনেক নেতাকর্মী সাংগঠনিক কাজের চেয়ে হাটবাজার, বাসস্ট্যান্ড, ঘাট দখলে বেশি মনোযোগী। কিছু বিভ্রান্ত কর্মী শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার জন্য তদবির, টেন্ডার আর নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য শুরু করছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন তারেক রহমান। নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম আর অনেক ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন কোনো নেতা বা কর্মী অপকর্ম করলে এর দায় যেমন দল নেবে না, তেমনি ওই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতেও কোনো কার্পণ্য করবে না। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে তারেক রহমান নানা দিকনির্দেশনা দেন। এর মধ্যে সবার আগে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সেখানে জনপ্রিয়তাকেই প্রধান মাপকাঠি করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে থানা-উপজেলা নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে সমস্যা হলে জেলা পর্যায়ের নেতারা সমাধানের চেষ্টা করবেন। তারা ব্যর্থ হলে বিভাগীয় নেতারা চেষ্টা করবেন। তারাও ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। তবে একক প্রার্থী বাছাইয়ে কিংবা সমর্থন জানাতে এখন থেকেই সবাইকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান।
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্কতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, তারা কোনোভাবেই আওয়ামী আমলের নির্বাচন ব্যবস্থায় ফিরবেন না, যেখানে জনগণের জনমতের প্রতিফলন ছিল না। ভবিষ্যতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকার কঠোর থাকবে। কোনো কারচুপি হবে না সামনের নির্বাচনে। তাই কেউ যদি মনে করেন, দল থেকে সমর্থন পেলেই জনপ্রতিনিধি হবেন, তাহলে সেটি ভুল হবে। জনগণের মতামতের প্রতি এই সরকার সবসময় সম্মান জানাবে।

তৃণমূল পর্যায়ে কোন্দল নিরসনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজেদের মধ্যে কোন্দল থাকলে কোথাও জয়লাভ করতে পারবেন না; সেটি নির্বাচন হোক কিংবা রাজনীতি হোক। নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করে ঐক্য গড়তে হবে।
জনগণের দোরগোড়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। সেখানে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন আর রাষ্ট্র সংস্কারে নেওয়া পদক্ষেপকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষত, সরকারের নেওয়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন কর্মসূচির মতো ভালো কাজগুলোর উদ্দেশ্য ও এর সুফল নিয়ে জনগণের কাছে যেতে বলেছেন তারেক রহমান।
জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান সমকালকে বলেন, এটি মূলত সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। সেখানে দলের সাংগঠনিক অবস্থানসহ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মধ্যরাতে রান্না, বাড়তি খরচে নাভিশ্বাস গ্যাস সংকটে পাল্টে গেছে অনেক গৃহিণীর রুটিন

রাজধানীর জিগাতলায় ট্যানারি মোড়ের সন্দীপন স্কুলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা ও দিবাযত্নের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে ৪ বছর বয়সী শিশুরাও পড়ে। অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয় বিদ্যালয় থেকেই।

গ্যাস সংকটের আগে খাবার রান্না করা হতো সকাল ১০টার পর থেকে। চুলায় গ্যাসের চাপ না থাকায় নিভু নিভু আগুনে এখন আর দিনের বেলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক দিন বিদ্যালয়ের সামনের ভবনের পার্কিংয়ের স্থানে লাকড়ির চুলায় রান্না করা হয়। তবে বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে রান্না করা হচ্ছে। কারণ, তখন গ্যাসের চাহিদা কম থাকায় চুলায় কিছুটা চাপ বাড়ে।

বিদ্যালয়ের বাবুর্চি রহিমা বেগম জানান, রাত ২টার দিকে রান্না শুরু হয় এবং ভোরের আগেই তা সম্পন্ন করতে হয়। এরপর আর গ্যাস থাকে না। এই খাবারই শিশুদের দুপুরে ‘মিড-ডে মিল’ হিসেবে দেওয়া হয়। সারারাত জেগে রান্না করার কারণে শরীরের ওপর চরম ধকল যাচ্ছে বলে জানান এ বৃদ্ধা।

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গৃহিণীদের প্রাত্যহিক রুটিন আগের মতো নেই। পারিবারিক বাজেটেও চাপ পড়েছে। দিনের বেলা একদম গ্যাস না থাকায় অধিকাংশ গৃহিণীকে বাধ্য হয়ে মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে রান্না সেরে রাখতে হচ্ছে। অনিদ্রার কারণে অনেকের শারীরিক অসুস্থতা বাড়ছে। অনেক সময় সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবার অর্ধেক রান্না হতেই গ্যাসের চাপ মিলিয়ে যাওয়ায় থমকে যাচ্ছে পুরো সংসারের কাজ।

কেউ কেউ হোটেল থেকে খাবার কিনে কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় রান্না করে কোনো রকমে দিন কাটাচ্ছেন। বহুতল ভবনের বারান্দা কিংবা ছাদে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ ঝুঁকছেন এলপিজি সিলিন্ডার কিংবা ইনডাকশন চুলার মতো বিকল্প পদ্ধতিতে। বাজারে সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট এবং বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহারে খরচের বোঝা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

একদিকে মাসের শেষে লাইনের গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার, বিদ্যুৎ ও হোটেল থেকে কেনা খাবারের পেছনে চলে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট এখন আরও তীব্র হয়েছে। ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বিজৎ পাল শনিবার সমকালকে জানান, সম্প্রতি গ্যাসের যে সংকট শুরু হয়েছে তা সামলাতে তিনি স্ত্রীকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে হোটেলে খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু হোটেলের খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকায় পেটের পীড়ায় ভুগছেন। আদাবরের বাসিন্দা অরুণিমা জানান, গ্যাস না থাকায় শ্যামলীতে ভাইয়ের বাসা থেকে রান্না করে এনে ফ্রিজে রেখে খেতে হচ্ছে। তাঁর ভাইয়ের বাসায় এলপি গ্যাসের চুলা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এই দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সমকালকে বলেন, ‘প্রকৌশলীরা দিন-রাত কাজ করছেন টার্মিনাল মেরামতে। বিশেষভাবে প্রস্তুত যন্ত্রপাতি হাতে এসেছে। আশা করছি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে।’

প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও বিতর্ক ঘিরে নারীর সংবাদ সম্মেলন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিক্ষোভ

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘ভাইরাল ভিডিও’ নিয়ে পঞ্চগড় শহরে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এআই দিয়ে বানানো ভিডিওতে সনাতনী নারীকে জড়িয়ে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট দল-মতের লোকজন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এই ফেক ভিডিও প্রচার করছে।

দ্য ডিসেন্ট বলছে, ভিডিওটি এআই সৃষ্ট নয়। এ ছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নারী অমুসলিম। অবশ্য শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এক নারী নিজের মুসলিম পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ভিডিওতে হিন্দু তরুণীর কথা বলা হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

পঞ্চগড় শহরের কর্মসূচিতে গতকাল দুপুরে জেলার পাঁচ শতাধিক সনাতনী নারী-পুরুষ অংশ নেন। এতে দেবীগঞ্জ উপজেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়, বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় কুমার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অজয় কুমার রায় বলেন, ‘এআইর মাধ্যমে যে ছবি-ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে সনাতনীদের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তার প্রতিবাদের জন্য আমরা আজকে এসেছি।’

দীপ্তি রানী নামে এক নারী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এক সনাতনী নারীকে জড়িয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে এআই দিয়ে। যারা এসব করছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

নারীর সংবাদ সম্মেলন, মানহানির অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যমে ওই ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে ভুল পরিচয় দিয়ে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চগড়ের এক নারী। এ ঘটনায় বিচার দাবি করে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে কলেজছাত্রী পরিচয় দিয়ে ওই নারী জানান, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্টে তাঁর পুরোনো ছবি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে তাঁকে ভুলভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ওই নারী বলেন, ভিডিওতে হিন্দু তরুণীর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও শিক্ষাজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছেন।

ওই নারী বলেন, ‘আমার ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাকে বাঁচতে দিন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচনের আগে একটি ছবি তুলেছিলাম। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার তিন দিন আগে আমি ছবিটি পোস্ট করি। এর দুই ঘণ্টা পর ডিলিট করে দিই। অথচ সেই ছবি সেভ করে রাখা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আমার ওই ছবি জুড়ে দিয়ে পোস্ট করা হচ্ছে। এখন আমি কারও সামনে মুখ দেখাতে পারছি না।’

অবিলম্বে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান তিনি।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের দাবি
প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে একটি দল এআই ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার প্রতিবাদ করেছে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি। ওই দিন রাতে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব হলরুমে জেলা ও পৌর বিএনপি এবং সব সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তৃণমূল থেকে উঠে আসা জনবান্ধব রাজনীতিবিদ। কয়েক দিন আগে তেল সংকট নিয়ে একটি দলের ব্যাপারে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য তাঁর মানহানি করতেই এআই দিয়ে মুখের ছবি পরিবর্তন করে ‘শিবির মিডিয়া সেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব ছড়ানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউনুস আলী, আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, পঞ্চগড় পৌর বিএনপির সদস্য আব্দুল বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গ্যাস পরিস্থিতি নদীর তলদেশে পাইপ কেটে গ্যাস চুরির চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে ৮ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস সঞ্চালন লাইন কেটে একটি চুনের কারখানায় গ্যাস নেওয়ার চেষ্টা চালানোয় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। এই অবৈধ তৎপরতার কারণে দেড় মাস ধরে গ্যাস উদগিরণ হচ্ছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে তিতাসের লোকজন মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে পানি বেশি থাকায় তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না।

ঘটনাটি ঘটেছে কটিয়াদী উপজেলার কাজীরচর বাজারের কাছে। গতকাল শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, তিতাসের ময়মনসিংহের ভালুকা জোনের ডিজিএম (উপমহাব্যবস্থাপক) সুমেধ মনি চাকমার তত্ত্বাবধানে গ্যাস কোম্পানির কর্মীরা যন্ত্র বসিয়ে মেরামতের চেষ্টা করছেন।

ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ দিয়ে প্রায় চার দশক আগে নরসিংদীর মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে গেছে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপ। কাজীরচর এলাকায় সম্প্রতি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাজনা মহল এলাকার দেলোয়ার হোসেন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি ১৭ শতাংশ জায়গা তিন বছরের চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছেন চুনের কারখানা করার কথা বলে। এলাকার এখলাছ উদ্দিন বাবু জানান, চুনের কারখানার জন্য চোরাই গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এখন পাইপ থেকে গ্যাস বের হচ্ছে।

এলাকার অনেকে জানান, রাতের আঁধারে প্রায়ই একের পর এক গাড়ি আসত। তারা ধারণা করছেন, চুনের কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন কারিগর এনে প্রায় দেড় মাস আগে পাইপলাইন কেটে চোরাই গ্যাসলাইন নেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন এলাকাবাসী বিষয়টি টের পাননি। কিন্তু টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে জায়গাটি ডুবে যায়। এ কারণে কাজ করতে না পেরে ওরা চলে যায়। কিন্তু পাইপের কাটা অংশ দিয়ে অবিরাম গ্যাস বের হতে থাকে। গ্যাসের চাপে নদীর পানি ছিটকে ছিটকে ওপরে উঠে যাচ্ছিল। পুরো এলাকায় গ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন, চুনের কারখানার আড়ালে চোরাই পথে গ্যাস পাচারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পাইপলাইনের গ্যাস সুরক্ষিত ব্যারেলে ভরে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল। এর পেছনে এলাকার প্রভাবশালী চক্রও জড়িত।

তিতাসের ডিজিএম সুমেধ মনি চাকমা জানিয়েছেন, বর্ষার পানি ছাড়াও নদীর তলদেশে বালু থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। একদিকে সেচ করা হচ্ছে, অন্যদিকে বালু চুয়ে পানি ঢুকে যাচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন, শিগগির মেরামত করা যাবে। মেরামত হওয়ার পর অফিসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা করা হবে।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাহিদ হাসান খানও এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেরামতের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিতাস কোম্পানির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হলে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। তবে কথিত অভিযুক্তরা কেউ এলাকায় নেই। তিতাসের পক্ষ থেকেও নিয়মিত মামলা করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইউএনও বলেন, এতদিন ধরে পাইপলাইন কাটার মতো বড় একটা অপরাধ হচ্ছে। কিন্তু এলাকাবাসী কেউ টের পেল না, প্রশাসনকেও জানাল না; এটি বিস্ময়কর।

চুন কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেন এলাকায় নেই। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীর চারঘাটে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়। দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে জনগণের আস্থা অর্জন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার সকালে অনুষ্ঠিত এ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ছয় মাসব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজে অংশ নেন ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ ধারণ করে নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ১৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনা কাটিয়ে নতুন বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করা এসব কর্মকর্তাকে চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।

কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা উষ্টায়। তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পুরস্কার অর্জন করেন। ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম। আর ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন।

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রশিক্ষণ শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন করা হবে।

যন্তর-মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান, শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করতে চান মোদি

দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিতে চান বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি সমাজের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, শাস্তির বদলে ‘পথভ্রষ্ট’ তরুণদের সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করতে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘যন্তর-মন্তরে যা ঘটেছে, তা দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখেছে। কিছু পথভ্রষ্ট তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। তারা আমাকে গালি দিয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও অপমান করেছে।’

সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় মোদিকে উদ্দেশ করে অশালীন স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক ২৫ বছর বয়সী নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই যন্তর-মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।

তবে এ ঘটনার পরও প্রতিশোধ বা কঠোর শাস্তির পক্ষে নন বলে জানিয়েছেন মোদি। তার ভাষায়, ‘গালি দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের সঠিক পথ দেখাতে হবে। আসুন, আমরা একসঙ্গে ভারতের জন্য কাজ করি।’

ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় মানুষ ভুল করে, আবার সেই সময়ই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকে। তরুণদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। সমাজে ক্ষোভ রয়েছে, আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এসেছে এসব সন্তানকে আপন করে নিয়ে তাদের সঠিক পথ দেখানোর। আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানি করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজের কাছেও আমার আহ্বান, আপনারাও তাদের ক্ষমা করুন।’

এদিকে এ ঘটনায় প্রথমে উত্তর প্রদেশের নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়। পরে তদন্তের জন্য মামলাটি দিল্লার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার শান্তিভঙ্গে উসকানি, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং মানহানিসংক্রান্ত ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির মামলা করতে পারেন। তবে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। তার মতে, কেবল আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।

হবিগঞ্জে হামলার অভিযোগ নাসীর-সারজিসসহ ৬০ জনের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের মামলা

হবিগঞ্জে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার নামীয় আসামিরা হলেন এনসিপি হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক, নুর আলম চৌধুরী, ফকরুদ্দিন জাকি, মো. আব্দুল হাই কামাল, রুহাম গাজী ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।

অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জুলাই আন্দোলনে শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা বাদীসহ ছাত্রদল নেতাদের চারটি আইফোন ও অর্থকড়ি ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর এনসিপির নেতারা হামলা করেছেন এবং কয়েকটি আইফোনসহ অর্থকড়ি ছিনিয়ে নেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, গভীর রাতে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে।

জ্বালানি খাতে সমন্বয় নেই, সিস্টেম লসের নামে চুরি চলছে: মীর নাসির হোসেন

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, জ্বালানি খাতে সমন্বয় নেই। সিস্টেম লসের নামে চুরি চলছে। খুব সহজেই এই চুরি ঠেকানো যায়। বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

মীর নাসির জানান, তাদের কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে অথচ স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা গ্যাসসহ অবকাঠামো সুবিধা না পেয়ে বিপদে আছেন।

এফবিসিসিআই- এর সাবেক সভাপতি বলেন, সার কারখানায় গ্যাস না দিয়ে তা যদি টেক্সটাইল বা অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে দেওয়া যায়, তবে অর্থনীতির জন্য তা বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে। এটি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

১৫ বছর খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে: আইসিসিবি সভাপতি

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশীয় খনি থেকে সম্পদ আহরণ না করার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে। বর্তমানে একটি বিতর্ক চলছে–গ্যাস কোথায় অগ্রাধিকার পাবে। গ্যাস কি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাবে, শিল্পে যাবে, নাকি সার কারখানায়। তিন সেক্টরেই যেতে হবে। কারণ সবগুলোতেই এটি দরকার এবং একটির সঙ্গে অন্যটি যুক্ত।

বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র দুটি ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি চলছে। বাকিগুলো বন্ধ, সেগুলো গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। দেশে সার যদি উৎপাদন না হয় তাহলে আমদানি করতে হবে। বিদেশ থেকে ফার্টিলাইজার পাওয়াও যাচ্ছে না। এ কারণে ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস দিতে হবে। শিল্প খাতে গ্যাস দিতে হবে। সার উৎপাদন না করলে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। আবার শিল্পে গ্যাস না দিলে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়বে। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুন কোনো শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না।

আইসিসিবি সভাপতি বলেন, শিল্প খাতে যদি প্রয়োজনীয় জ্বালানি দেওয়া না হয় তাহলে শিল্প মালিকরা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারবেন না। ফলে দেশে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমবে। এলএনজি আমদানির জন্য স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে গ্যাস কেনা সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকার বলছে যে, দেশে বিনিয়োগ আসুক, এফডিআই (প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ) আসুক। যেখানে অফিসিয়ালি বলা হচ্ছে, নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়া যাবে না সেখানে কীভাবে বিনিয়োগ আসবে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

তিনি বলেন, এটার পেছনে সংকটটা যেটা হয়েছে, আমরা দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরে জলে-স্থলে কোথাও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করিনি। এখন যেটা হচ্ছে, সেটাও পুরোমাত্রায় হচ্ছে না। সিলেকটেড কিছু জায়গায় হচ্ছে। যেমন ভোলায় সেখানে গ্যাস শনাক্ত হয়েছে ২০১৮ সালে, আজকে ২০২৬ সাল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সেখানকার গ্যাস পাইপে করে নিয়ে আসতে পারবে কিনা, এলএনজি করবে কিনা, নাকি সেখানে কোনো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির মতো ইন্ডাস্ট্রি সেটআপ করবে। এভাবেও আসতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলো- এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো এবং এর বাস্তবায়ন খুবই ধীরগতিতে চলছে। এসব কারণে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধানও হচ্ছে না।

এই অবস্থায় সরকারের কী বিকল্প সেটিও তুলে ধরেন আইসিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এখন বিকল্প হলো- গ্যাস আমদানি করা। এলএনজি আমদানি করতে হলে এলএনজির কিউতে অনেক পেছনে থাকার কারণে সরকারকে অনেক সময় স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে কিনতে হয়। এতে দামও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, নতুন করে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের আগ পর্যন্ত দুটি চয়েজের বিকল্প নেই। একটি হলো নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সোলার এনার্জি যার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে, অন্যটি এলএনজি। সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আমরা সহজেই বিদ্যুতের উৎপাদনের বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারি।’

সরকারের বিনিয়োগ আহ্বানের বিষয়ে আইসিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আগে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এটা সাকসেসফুল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরাই এমনিতে চলে আসবে। আমি মনে করি, এসব ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাটে ও বলের কানেকশনটা ঠিকভাবে হচ্ছে না। আর নতুন করে গ্যাস কানেকশন দেওয়া হবে না এমন ঘোষণাও সঠিক নয়।’

তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য যে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুতে আমাদের ২৮ হাজার মেগাওয়াট ক্যাপাসিটি। শিল্প খাতে ১২-১৪ হাজার মেগাওয়াটও সাপ্লাই দিতে পারছে না সরকার। অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ ধরা হচ্ছে। এটা কোন ধরনের কথা।

সংকট নিরসনে কী করণীয় সে ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত না করে এবং স্টেকহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে কেবল আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত বসা এবং তাদের সমস্যা শোনা। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের  আমন্ত্রণ জানানো এবং জিজ্ঞেস করা যে, শিল্প রক্ষায় কোথায় তাদের সহায়তা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী না চাইলে সরকারের সবাই দুর্নীতিতে জড়ায় কীভাবে: বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি না চান, তাহলে সরকারের সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে- এই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির বলেন, যখন সরকার নিজেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে, তখন নৈতিক দিক থেকে তারা দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় আমি দেখছি যে, কিছুই বদলায়নি। যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটা কাজকে, আটকে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া পাঁচ মাসে আর কোনো বদল হয়নি।

এ বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা দেখি প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন। ব্যর্থতার দায় যখন নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটাই প্রশ্ন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁর (মির্জা ফখরুল) ভাষ্যমতে, একজন ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত, আর সেই একজন হলেন তারেক রহমান। বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। তারেক রহমান তো প্রধানমন্ত্রী। তিনি যদি দুর্নীতি না চান, তাহলে সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়ায়। আমরা তো দেখি, তার ইশারাতেই সবকিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় কি দুর্নীতি বন্ধ হয় না।

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্নস্থানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে যে অবৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটাকেই যেন চাকরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক। সেই শ্রমিকরা আজ চাঁদাবাজির শিকার। একজন হুইপ বলেছেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ চালালেও চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না। এই বক্তব্যই সত্য হয়, তবে তা চাঁদাবাজির একটি বৈধ কাঠামো দাঁড় করানোর শামিল।

সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ৫১ সদস্যের বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবিকে সমর্থন জানান জামায়াত আমির।