পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘ভাইরাল ভিডিও’ নিয়ে পঞ্চগড় শহরে গতকাল শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এআই দিয়ে বানানো ভিডিওতে সনাতনী নারীকে জড়িয়ে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট দল-মতের লোকজন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এই ফেক ভিডিও প্রচার করছে।
দ্য ডিসেন্ট বলছে, ভিডিওটি এআই সৃষ্ট নয়। এ ছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওর নারী অমুসলিম। অবশ্য শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এক নারী নিজের মুসলিম পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ভিডিওতে হিন্দু তরুণীর কথা বলা হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
পঞ্চগড় শহরের কর্মসূচিতে গতকাল দুপুরে জেলার পাঁচ শতাধিক সনাতনী নারী-পুরুষ অংশ নেন। এতে দেবীগঞ্জ উপজেলার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিশ চন্দ্র রায়, বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অজয় কুমার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অজয় কুমার রায় বলেন, ‘এআইর মাধ্যমে যে ছবি-ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে সনাতনীদের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তার প্রতিবাদের জন্য আমরা আজকে এসেছি।’
দীপ্তি রানী নামে এক নারী বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে এক সনাতনী নারীকে জড়িয়ে কুৎসা রটানো হচ্ছে এআই দিয়ে। যারা এসব করছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
নারীর সংবাদ সম্মেলন, মানহানির অভিযোগ
সামাজিক মাধ্যমে ওই ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে ভুল পরিচয় দিয়ে অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চগড়ের এক নারী। এ ঘটনায় বিচার দাবি করে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে কলেজছাত্রী পরিচয় দিয়ে ওই নারী জানান, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পোস্টে তাঁর পুরোনো ছবি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে তাঁকে ভুলভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
ওই নারী বলেন, ভিডিওতে হিন্দু তরুণীর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও শিক্ষাজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মানসিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছেন।
ওই নারী বলেন, ‘আমার ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাকে বাঁচতে দিন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচনের আগে একটি ছবি তুলেছিলাম। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার তিন দিন আগে আমি ছবিটি পোস্ট করি। এর দুই ঘণ্টা পর ডিলিট করে দিই। অথচ সেই ছবি সেভ করে রাখা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আমার ওই ছবি জুড়ে দিয়ে পোস্ট করা হচ্ছে। এখন আমি কারও সামনে মুখ দেখাতে পারছি না।’
অবিলম্বে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ছবি প্রচার না করার আহ্বান জানান তিনি। মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানান তিনি।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলন, অপপ্রচারের দাবি
প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে একটি দল এআই ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার প্রতিবাদ করেছে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি। ওই দিন রাতে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব হলরুমে জেলা ও পৌর বিএনপি এবং সব সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা বলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তৃণমূল থেকে উঠে আসা জনবান্ধব রাজনীতিবিদ। কয়েক দিন আগে তেল সংকট নিয়ে একটি দলের ব্যাপারে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য তাঁর মানহানি করতেই এআই দিয়ে মুখের ছবি পরিবর্তন করে ‘শিবির মিডিয়া সেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসব ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউনুস আলী, আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, পঞ্চগড় পৌর বিএনপির সদস্য আব্দুল বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




