Home Blog Page 145

এবার বিশ্বভ্রমণে হুমায়ূন আহমেদের ট্রেনযাত্রার গল্প

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এবং সাড়া জাগানো সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করেছে। গত শুক্রবার থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে করে সিনেমাটি। অস্ট্রেলিয়ার পর এবার কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’।

হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত গল্পে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মাণ করেছেন তানিম নূর। একটি ট্রেনযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্তর উঠে এসেছে।

ফেসবুক পোস্টে সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশক স্বপ্ন স্কেয়ারক্রু জানিয়েছে, মুক্তির প্রথম সপ্তাহে কানাডার ১০টি, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮টি এবং যুক্তরাজ্যের ৪টি থিয়েটারে চলবে ছবিটি।

এরমধ্যে এএমসি (যুক্তরাষ্ট্র)-তে ২১ টি শো, রিগ্যাল (যুক্তরাষ্ট্র) ১৪টি, সিনেপ্লেক্স (কানাডা) ১৫টি, সিনেমার্ক (যুক্তরাষ্ট্র) ২টি, শোকেস (যুক্তরাষ্ট্র) ১টি এবং সিনে ওয়ার্ল্ড (যুক্তরাজ্য)-তে ৪টি শো চলবে।

এর আগে একই নির্মাতার ‘উৎসব’ এর চেয়েও ১৫টি থিয়েটার বেশি পেল ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। এর সাথে আগামী ১০ এপ্রিল এলএ, কানেক্টিকাট, অস্টিনসহ আরো ৪টি থিয়েটার যোগ হবার কথা আছে।

পরিচালক তানিম নূর বলেন, ‘দর্শকের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছি সেটা অভাবনীয়। এবার দেশের বাইরের দর্শকদের ছবিটি দেখাতে পারছি। এটা তো আমাদের জন্য অবশ্যই আনন্দের।’

চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, শরিফুল রাজ, ইন্তেখাব দিনার, সাবিলা নূর, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শ্যামল মওলাসহ আরো অনেকে।

রাহুলকে পানি থেকে তোলার পর কী ঘটেছিল, বর্ণনা দিলেন উদ্ধারকারী

টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। তালসারির মোহনায় ঠিক কী ঘটেছিল, কীভাবে এত লোকের সামনে কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন অভিনেতা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এখন নানা বয়ান সামনে আসছে। আরও অবাক করা বিষয়, অনেক তথ্যই একে অন্যের সঙ্গে মিলছে না।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে কলকাতার সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, অভিনেতা রাহুল দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবে ছিলেন, সে কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার ফুসফুস, শ্বাসনালি, খাদ্যনালি ও পাকস্থলির ভেতরে বালি ও নোনাজলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এতে ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ আকার ধারণ করে।

ঘটনার সময় সমুদ্রে শুটিং চলছিল। নিরাপত্তার জন্য উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নুলিয়া (লাইফগার্ড) ভগীরথ জানা। তিনিই প্রথম উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

এক সাক্ষাৎকারে ভগীরথ জানান, দুপুর থেকেই তিনি শুটিং স্পটে ছিলেন। অভিনেতা-অভিনেত্রী যখন সমুদ্রের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বিকেলের দিকে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়, জোয়ার দ্রুত বাড়তে থাকে—ফলে সতর্কবার্তা তাদের কানে পৌঁছায়নি বলে দাবি তার।

ভগীরথের ভাষায়, “ওরা যখন জলে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন, আমি দৌড়ে গিয়ে প্রথমে অভিনেত্রী শ্বেতাকে উদ্ধার করি। পরে রাহুলদাকে তুলি। তাকে কাঁধে করে উপরে এনে গাড়িতে তোলা হয়।”

তিনি আরও জানান, রাহুল সাঁতার জানতেন না। ফলে অনেক পানি শরীরের ভেতরে ঢুকে যায়। তবে উদ্ধার করার সময় তিনি অজ্ঞান ছিলেন না—শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, হাঁসফাঁস করছিলেন। পেটে চাপ দিলে মুখ দিয়ে কিছু পানি বের হয়, এমনকি বমিও করেন।

ভগীরথের দাবি, “আমি ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। ওই জায়গায় জলের টান খুব বেশি ছিল। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও একই ঘটনা ঘটত।”

এই ঘটনায় টালিউডজুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীর এই বয়ান নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—শেষ মুহূর্তে ঠিক কী হয়েছিল অভিনেতার সঙ্গে?

প্রাকৃতিক উপাদানে রূপচর্চা কি সত্যিই নিরাপদ?

বাজারের চলতি পণ্যের পাশাপাশি অধিকাংশরা ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপাদানে ত্বকের যত্ন নেন। যুগ যুগ ধরে ত্বকচর্চায় ব্যবহৃত হওয়া সব উপাদান কি সবার জন্য নিরাপদ? না। সবার ত্বক সমান নয়। ত্বকের সমস্যাও সমান নয়। তাই ঘরোয়া টোটকা যে সব সময়ে ভালো ফল দেবে, এমনটা না-ও হতে পারে। যতই প্রাকৃতিক টোটকা হোক, তার মধ্যে কিছু যৌগ থাকে, যা ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। তাই ত্বকের ধরন, সমস্যা না বুঝে ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলে আদতে ত্বকেরই ক্ষতি।

কোন প্রাকৃতিক পণ্য ত্বকে মাখা যায় না

ব্রণ তাড়াতে অনেকেই মুখে লেবুর রস, টুথপেস্ট ব্যবহার করেন। এগুলো ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। লেবুর রস ত্বকের পিএইচ স্তরের মাত্রা নষ্ট করে। এই উপাদানগুলো ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

বেকিং সোডা, চিনি ইত্যাদি ত্বকে মাখা ঠিক নয়। এগুলোও ত্বককে রুক্ষ করে। নষ্ট করে দেয় ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের পরত। একই ভাবে ত্বকে মাখা যায় না ডিমের সাদা অংশ। চামড়া টান টান রাখতে অনেকেই এটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়।

কোন উপাদান ত্বকের জন্য নিরাপদ?

ত্বকের যত্নে দই, হলুদ, বেসন, ওটমিল, মধু, অ্যালোভেরার মতো পণ্য ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। হলুদ যৎসামান্য পরিমাণে ব্যবহার করতে পারেন। এটি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সংবেদনশীল ত্বকে আরাম এনে দেয় ওটস। ত্বকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জোগায় মধু। ত্বক এক্সফোলিয়েশনে সাহায্য করে দই। ত্বকের খেয়াল রাখে অ্যালোভেরা জেল। তাই এ উপাদানগুলো ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায়।

বসনিয়ার অনুশীলনে ‘ইতালিয়ান গুপ্তচর’!

আজ রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার মহাগুরুত্বপূর্ণ প্লে-অফ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইতালি এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। কিন্তু মাঠে বল গড়ানোর আগেই অদ্ভুত এক বিতর্কে জড়িয়েছে দুই দেশ। অনুশীলনে ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ অভিযোগ তুলে ইতালির দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছে বসনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

বসনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ক্লিক্সবা’ দাবি করেছে, তাদের দলের অনুশীলন সেশনে এক ইতালীয় ব্যক্তিকে ‘গুপ্তচর’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ দর্শকদের জন্য নির্ধারিত ১৫ মিনিট শেষ হওয়ার পরও ওই ব্যক্তি মাঠের আশপাশে লুকিয়ে ছিলেন। এবং গোপনে বসনিয়ার খেলোয়াড়দের অনুশীলন রেকর্ড করছিলেন।

বসনিয়ার এই অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ইতালির গণমাধ্যম। ‘স্পোর্টমিডিয়াসেট’-এর দাবি, ওই ব্যক্তি মোটেও কোনো গুপ্তচর নন। বরং তিনি একজন ইতালীয় সেনাসদস্য। তার সামরিক ঘাঁটি অনুশীলন মাঠের ঠিক কাছেই অবস্থিত। নিছক কৌতূহলবশত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো কিংবা দলের সঙ্গে ওই সেনাসদস্যের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও নিশ্চিত করেছে গণমাধ্যমটি। বসনিয়ার কৌশল বা পরিকল্পনা সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য তিনি ইতালি শিবিরে পাচার করেছেন, এমন কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার প্লে-অফের সেমিফাইনালে নিজ নিজ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছে ইতালি ও বসনিয়া। আজ জেনিৎসার বিলিনো পোলিয়ে স্টেডিয়ামে যে দল জিতবে, তারাই পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট। তবে চেনা দর্শকের সামনে বসনিয়া বাড়তি সুবিধা পেলেও, জেনিৎসার কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেশ কঠিন এক পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে গাত্তুসোর ইতালিকে।

নতুন পে স্কেলের জন্য সরকারকে নিজস্ব কমিশন গঠনের পরামর্শ দিলেন ড. দেবপ্রিয়

নাগরিক প্ল্যাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, নতুন পে স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, আগের সরকারের প্রস্তাবিত পে কমিশনের রিপোর্টকে সরাসরি গ্রহণ না করে তা একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে পে স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এক ধরনের ‘প্রলম্বিত দায়’ তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘এই সরকারের নিজের মতো কমিশন গঠন করে এটাকে বিবেচনা করা উচিত। যেখানে আগের সরকারের পে কমিশনের রিপোর্টটি একটা উপাদান হিসাবে বিবেচনা করতে পারে। প্রশ্নহীনভাবে এটাকে বিবেচনা করার সুযোগ উনাদের নেই।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘চুরি করা টাকা ফেরত আনতে হবে। দেশের ভেতরে ও বাইরে যেসব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বিক্রি করে অর্থ দেশে আনতে হবে।’

সম্প্রতি বিদেশ থেকে ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘ছোট অঙ্কের টাকা ফিরছে, কিন্তু বড় অঙ্কের টাকা কেন আসছে না?’

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে পারলে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাজনৈতিক শক্তি না থাকায় এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জন্য প্রথম বছরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রথম বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে শেষ বছরে তা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সরকারি ব্যয় ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাহিদা বাড়বে। তাই ভর্তুকির মধ্যে অদক্ষ ও অন্যায্য খাতগুলো চিহ্নিত করে তা পুনর্বিন্যাস করা জরুরি। পাশাপাশি ধাপে ধাপে নগদ প্রণোদনা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। আসন্ন বাজেটে অর্থসংস্থান বাড়াতে কর ছাড় কমানো, করের আওতা বৃদ্ধি এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এই অর্থনীতিবিদ।

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। এটি এই ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরে আসা চতুর্থ চালান। এই চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশে পৌঁছে। এপ্রিল মাসে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আনার প্রক্রিয়া চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এই কার্যক্রমে নিয়োজিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় চতুর্থ চালানের সম্পূর্ণ তেল এসে পৌঁছায়। এসব ডিজেল পর্যায়ক্রমে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। এপ্রিল মাসে ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি আনার চাহিদা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ৩ থেকে ৪টি চালানের মাধ্যমে এসব তেল আসবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে তেল সরবরাহ করতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড কেন্দ্র থেকে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু করে ভারত। ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল তেল পৌঁছায়। এরপর সেখান থেকে রিসিপ্ট টার্মিনাল থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এসব তেল সরবরাহ করা হয়। এর আগে তিন দফায় এই ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ১৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সারা বছর ডিজেল সরবরাহ রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ এই পাইপ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদাদি কার্যক্রম শুরু হয়।

দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদাদি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে। এই পাইপ লাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল ভারত থেকে আমদাদি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।

আর কত লোক মরলে মন্ত্রী অস্বস্তি বোধ করবেন

এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিমূলক ছিল– সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতদলীয় এমপি সাইফুল আলম মিলন। ঈদযাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিরোধী দলের এই এমপি বলেন, ‘আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক পরিবহনমন্ত্রী) অস্বস্তি বোধ করবেন?’

সোমবার সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এই মন্তব্য করেন। সাইফুল আলম বলেন, রোববার সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ঈদযাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঈদযাত্রা স্বস্তি ছিল বলে দাবি করেছেন। কিন্তু ঈদযাত্রার ‌‘স্বস্তিটা’ আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঈদযাত্রায় ১৭০ জন মারা গেছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর দৌলতদিয়ায় একটা বাস পানির নিচে চলে গেল। অথচ সড়কমন্ত্রী বললেন, স্বস্তির যাত্রা ছিল।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এমপি বলেন, দৌলতদিয়ায় এত মারা গেল, কিন্তু সড়ক পরিবহনমন্ত্রী গেলেন না। ওখানে যারা মারা গেছেন, তাদের মাত্র ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বিবৃতি দিলেন। আমরা তো ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় কার্যক্রম ফলো করি। ব্রিটেন হলে তো তিনি এতক্ষণে পদত্যাগ করতেন। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিনা? তিনি পদত্যাগের চিন্তা করবেন কিনা?

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতের এমপি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা অনেক বিজ্ঞ! আইনমন্ত্রী এক ধরনের বক্তব্য দেন, কিন্তু তাঁর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বৈপরীত্য দেখা গেছে। যেটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন, সেটা আইনমন্ত্রী দিলেই ভালো হয়।

লেবাননের অন্তত ছয়টি গ্রাম খালি করার নির্দেশ ইসরায়েলি বাহিনীর

লেবাননের বেকা উপত্যকা অঞ্চলের অন্তত ছয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত গ্রামগুলো খালি করে দিতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

গ্রামগুলো হলো- বেকা উপত্যকা অঞ্চলের জালায়া, লবায়া, ইয়াহমুর, সাহমের, কালায়া এবং দালাফি।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই বলেন, এসব গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে কারাউন শহরের আরও উত্তরে সরে যাওয়া উচিত। কেননা, দক্ষিণে যেকোনো পদক্ষেপ জীবনকে ‘ঝুঁকিতে ফেলতে’ পারে।

২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ভর্তুকি চায় বিদ্যুৎ বিভাগ

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযুক্ত হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। আরও ২ হাজার কোটি টাকা করে অতিরিক্ত চাওয়া হয়েছে।
নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখা, সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মকালীন চাহিদা মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ অর্থ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন উৎপাদন ইউনিটগুলোর বকেয়া পরিশোধ এবং প্রাথমিক জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়াসহ ভর্তুকি বাবদ মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে ইতোমধ্যে ২৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী অতিরিক্ত ভর্তুকি অনুমোদিত হলে মাসিক ব্যয় দাঁড়াবে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এতে পুরো অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি জোগান দেওয়া কঠিন। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়ায় বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন বাড়ছে ভর্তুকির চাপ
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০-এর আওতায় প্রতিযোগিতাহীনভাবে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় এবং উৎপাদন না থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার মতো শর্ত যুক্ত হওয়ায় ভর্তুকির চাপ দ্রুত বেড়ে যায়। এ কারণে এক পর্যায়ে বাজেট থেকে শুধু বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপরীতে ভর্তুকি দেয় অর্থ বিভাগ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে। ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানই ভর্তুকি হিসেবে সরকারকে বহন করতে হয়। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে বেসরকারি খাত থেকে। বাকি ৬০ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কেন্দ্রগুলোর

বিপরীতে ভর্তুকি না দেওয়ায় এ খাতে বকেয়া দায় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন এ অধ্যাদেশের নাম ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী আগের আইনের অধীনে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারবে সরকার। তবে কোনো কেন্দ্র থেকে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে বলে মনে হলে, সেই দাম পুনর্বিবেচনা করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

তারা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে কয়েকটি বড় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের কারণে সে উদ্যোগ অগ্রসর হয়নি। তবে কর্মকর্তাদের মতে, নির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি আনতে পারলে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব হবে।

নিজস্ব কেন্দ্র ভর্তুকির আওতায় আনার প্রস্তাব
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আইপিপি, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি করে কম দামে বিক্রি করায় বিপিডিবি ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। একইভাবে জিটুজি ভিত্তিতে যৌথ বিনিয়োগে স্থাপিত শ্রীপুর ১৬০ মেগাওয়াট এইচএফওভিত্তিক কেন্দ্র, পটুয়াখালীর ১,৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, মাতারবাড়ীর আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কেন্দ্রসহ সরকারি ও বিপিডিবির নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় ক্ষতি বাড়ছে।

এ ছাড়া গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসের দাম ২০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ঘনমিটার ৫ টাকা ২ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় আরও বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ভারতের আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নেপাল থেকে আমদানির ক্ষেত্রে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য মোট ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন, যা নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিদ্যুৎ আমদানি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কেন্দ্রে ব্যয় হবে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ‘পিক ডিমান্ড’ মোকাবিলায় ২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো অর্থ ছাড় না হলে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে এবং আইপিপি ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধে বিলম্ব হবে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে গ্রীষ্মকালে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবটি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে বর্তমান আর্থিক সংকোচন নীতির মধ্যে এত বড় অঙ্কের ভর্তুকি জাতীয় বাজেটের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম সমকালকে বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো বা সরকার থেকে ভর্তুকি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। গত ১৫ বছর ধরে এই খাতে যে ব্যাপক লুণ্ঠন হয়েছে, তা বন্ধ করতে পারলেই বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, অতীতে সরকার লুণ্ঠনকারী ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করেছে বলেই তারা সুবিধাভোগী হয়েছে। বর্তমান সরকারের একই পথে হাঁটার কোনো কারণ নেই।
সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে গিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে পড়ছে এবং বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। প্রতিদিন জনগণের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে। এই প্রবণতা বন্ধ করা এখন সরকারের জন্য সময়ের দাবি।

সংকট মোকাবিলায় ৩০০ কোটি ডলার ঋণের চিন্তা
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। এলএনজির বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধের আগের ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ১০০ ডলারে উঠেছে। আর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১২ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি না করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জুন পর্যন্ত সরকারের প্রয়োজন হবে বাড়তি ৩০০ কোটি ডলার। এ অর্থ জোগাড় করতে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ সংগ্রহের চেষ্টা শুরু করেছে।
জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে অর্থাৎ আগামী জুন পর্যন্ত ৩০০ কোটি ডলারের মতো অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়ে গেছে। অপ্রতুল রাজস্ব আয়ের কারণে সরকারের পক্ষে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ সীমিত।

তারা জানান, জ্বালানি কেনার অর্থ পরিশোধ করতে হয় বৈদেশিক মুদ্রায়। নিজেদের অর্থে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গেলে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। এ কারণে সরকার আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও এআইআইবির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে চাইছে। আইএমএফের কাছ থেকে দেড় বিলিয়ন ডলারের মতো সহায়তা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এডিবির কাছ থেকে বাড়তি ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছেও বাজেট সহায়তা চাওয়া হবে। সামনের মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন অধিবেশনে এ বিষয়ে সংস্থা দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

‘তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা-বাবারে কী জবাব দেব!’

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করে প্রাণ হারানো ১৮ বাংলাদেশির একজন শহীদুল ইসলামের খালাতো ভাই আলী আহমদ (২২)। ভয়াবহ এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন রোহান আহমেদ। ২৫ বছরের এই যুবকের মাধ্যমে শহীদুল জেনেছেন সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর বর্ণনা।

তিনি বলেন, ‘কাতার থেকে আমার এক ভাই গ্রিসে ফোন দিয়ে ঘটনার সব তথ্য সংগ্রহ করে। দিরাই উপজেলার রোহান নামের যে ছেলেটি জীবিত ফিরেছে, সে জানিয়েছে, গেমের (ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা) বোট ছাড়ার পর পথ হারিয়ে ফেলে। বোটে এক দালাল জসিমের শ্যালক ছিলেন। দুই দিনে পৌঁছানোর কথা; কিন্তু এর মধ্যে তিন দিন তিন রাত সাগরে ভাসতে ভাসতে না খেয়ে প্রথমে মারা যায় জসিমের শ্যালক। বোটের চালক লাশ সাগরে ফেলতে দেননি। পরে একে একে আরও কয়েকজন মারা যায়। এবার তাদের সবার লাশ সাগরে ফেলে দেয় অন্যরা।’

শহীদুল বলেন, ‘ক্ষুধার যন্ত্রণায় এবং বোটে থাকা জসিমের মরদেহের গন্ধে একসময় আমার খালাতো ভাই আলী মারা যায়। তখনও বোটে ছিল আমার এক ভাগনির জামাই নাঈম। সে আলীর মরদেহ ফেলার সময় কাঁদতে কাঁদতে বলে– আমি তোর লাশ ফেলে যাচ্ছি, তোর মা-বাবারে কী জবাব দেব রে! বোট তীরে পৌঁছানোর ঘণ্টা দুয়েক আগে নাঈমও মারা যায়। অথচ দালাল আজিজুল ফোন দিয়ে বলেছিল, সবাই পৌঁছে গেছে।’

এই বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদুল ইসলাম। প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন দিরাই উপজেলার, পাঁচজন জগন্নাথপুর উপজেলার এবং একজন দোয়ারাবাজার উপজেলার। প্রথমে জানা গিয়েছিল, নিহতদের মধ্যে ১০ জন রয়েছেন। পরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়। তারা হলেন– করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েক মিয়া ও বাসুরি গ্রামের সোহাস।

শহীদুল ছাড়াও নিহত অন্যদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভেসে থেকে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দালাল আজিজুল ইসলাম এবং দুলাল মিয়ার কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

দালাল বলেছিল ‘গেম সাকসেস’

আজিজুলের বাড়ি জগ্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইছগাঁও গ্রামে। তিনি লিবিয়ায় থাকেন। এলাকার যুবকদের লিবিয়া থেকে গ্রিসে পাঠান আজিজুল। তার খপ্পরে পড়ে ভাইকে হারিয়েছেন ইছগাঁওয়ের শহীদুল। তিনি বলেন, ‘আজিজুলের মাধ্যমে অনেকে সাগরপথে গ্রিস-ইতালি গেছে। আমার আরেক ভাই তিন মাস আগে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে গ্রিসে পৌঁছায়। গেম দেওয়ার আগে যাদের পাঠানো হবে, তাদের মধ্য থেকেই দুই-একজনকে বোট চালানো শেখানো হয় এবং ম্যাপ অনুসরণ করে বোট চালিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ানো হয়। এই যাত্রায় আজিজুল বলেছিল, সবাইকে বড় বোটে ছাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ফোন দিয়ে জানায়, বড় বোট হচ্ছে না, ছোট বোটে গেলেও সমস্যা হয় না। এরপর গেম দেওয়ায়। পরে আজিজুল ফোন দিয়ে জানায়, গেম সাকসেস হয়েছে।’

প্রাণহানির খবর জানাজানি হওয়ার পর গত শনিবার বিকেলে শহীদুলকে ফোন করেন আজিজুল। এ ঘটনায় তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘যা হওয়ার হয়েছে, সবই তকদিরে ছিল। আমারে মাফ করে দিও। যাদের দুর্ঘটনা ঘটছে, আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেব।’ শহীদুল বলেন, ‘এখন আর আজিজুলকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না।’

আখলুছের স্বপ্ন ডুবল সাগরে

আজিজুলের পাল্লায় পড়ে ছেলে শায়েক আহমদ জনিকে (২৫) হারিয়েছেন জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়া। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন, ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে সংসারের অভাব দূর করবেন, একটু সচ্ছলতার মুখ দেখবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে এসেছে। মাত্র চার মাস আগে উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছাড়েন শায়েক। দালালের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে কয়েকটি দেশ মাড়িয়ে পৌঁছান লিবিয়ায়। সৌদি আরব, কুয়েত, দুবাই ও মিসর পাড়ি দিয়ে তার এই যাত্রায় ছিল অনিশ্চয়তা। তবুও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় সব কষ্ট সহ্য করছিলেন। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর শুরু হয় অবর্ণনীয় কষ্ট। সেখান থেকে ইউরোপ যেতে অবৈধ সাগরপথে পাড়ি দেওয়ার জন্য আবারও সাড়ে সাত লাখ টাকা দাবি করে দালালরা। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেন আখলুছ মিয়া।

গত ২০ মার্চ ছিল পরিবারের সঙ্গে শায়েকের শেষ কথা। ফোনের ওপারে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি গেম ঘরে (যেসব জায়গায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের রাখা হয়) অবর্ণনীয় নির্যাতনের কথা। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, মারধর আর অমানবিক পরিবেশে দিন কাটছে তাঁর। অসহায় কণ্ঠে বাবাকে অনুরোধ করেন, ২৩ মার্চের মধ্যে যদি গেম না হয়, তাহলে যেন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। না হলে তিনি আর বাঁচতে চান না।

শায়েকের স্বজন এবং পাশের ইছগাঁওয়ের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইছগাঁওয়ের মন্তাজ মিয়ার ছেলে আজিজুল প্রায় ১০ ধরে লিবিয়ায় আছেন। জগন্নাথপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকে দেশে থাকা আরও কিছু দালালের মাধ্যমে মানব পাচার করেন তিনি। গ্রিস, ইতালি ও লিবিয়ায় যাওয়ার লোভে অনেকেই তাকে টাকা দিয়েছেন। কেউ যেতে পেরেছেন, কেউবা টাকা খুইয়েছেন। জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, আজিজুলের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

‘তোমরা আমার ইমনকে আইনা দাও’

আলী ছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার নিহত অন্য যুবকরা হলেন– চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চিলাউড়া মাঝপাড়া গ্রামের দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২২), একই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক রেজা (২৩), ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২২) ও পাইলগাঁও (হাড়গ্রাম) গ্রামের সাবেক শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (২৬)।

গতকাল দুপুরে ইমনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মা আকি বেগম আহাজারি করছেন। তাঁর আহাজারি দেখে কাঁদছেন অন্য স্বজনরাও। আকি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে দালাল মেরে ফেলেছে, তোমরা আমার ইমনকে আইনা দাও।’

নাঈমের বাবা দুলন মিয়া বলেন, ‘আজিজুল ইসলামের সঙ্গে গ্রিসে পাঠানোর জন্য ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে জানুয়ারি মাসে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর গেম দেওয়ার কথা বলে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে দালাল। দাবির টাকা পরিশোধ করার পরও গ্রিসে পাঠাতে টালবাহানা করে। অবশেষে ২১ মার্চ গেম দেওয়া হয়। কথা ছিল গেম দেওয়ার আগে আমাদের জানানো হবে। কিন্তু আমাদের জানানো হয়নি। শনিবার জানতে পারি, আমার ছেলে মারা গেছে।’

ইজাজুল জানিয়েছিলেন দালাল খাবার দিচ্ছে না

ইজাজুল হক রেজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এলাকার লোকজনের ভিড়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ইজাজুলের পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। ইজাজুলের বাবা সামছুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছাতকের শক্তিগাঁও গ্রামের দুলাল মিয়ার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তিন মাস আগে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখান থেকে গ্রিসে পাঠানোর কথা ছিল। সব টাকা পরিশোধ করা হলেও গ্রিসে পাঠানোতে কালক্ষেপণ করতে থাকে দালাল। আমার ছেলে ঈদের আগে ভয়েস কলে জানায়, দালাল খাবার দিচ্ছে না। বড় কষ্টে আছে। দোয়া করতে বলেছে। এরপর আমার ছেলের সঙ্গে কথা হয়নি। আমরা দালালের সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। এখন শুনি আমার ছেলে মারা গেছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমার ইউনিয়নের একই গ্রামের দুই যুবক সাগরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মারা গেছে। তাদের মৃত্যুতে পুরো গ্রামের মানুষ শোকাহত। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে দালাল চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দিচ্ছে। তাদের ফাঁদে দেশের হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। দ্রুত সব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বাবার নিষেধ অমান্য করে মৃত্যুপুরীতে ময়না

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২)। ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্নে বিপদসংকুল পথে পাড়ি জমিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবার জানায়, উন্নত জীবনের আশায় পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন ময়না। তবে সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের করুণ পরিণতি ডেকে আনে।

আবু সর্দার বলেন, ‘লিবিয়া যাওয়ার পর আমি তাকে দুইবার নিষেধ করেছিলাম যেন এভাবে ঝুঁকি না নেয়। কিন্তু সে আমার কথা শোনেনি। তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেই সে এই পথে গেছে।’

নুরুজ্জামানের বড় ভাই হেলাল সর্দার বলেন, ‘গত ২২ মার্চ আমার ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়। সে জানায়, তারা সেদিনই নৌকায় উঠবে। পরে আমাদের গ্রামের একই নৌকার এক যাত্রী রোহান জানায়, আমার ভাই মারা গেছে।’

ফাহিম ছিলেন মা-বাবার একমাত্র সন্তান

দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিমের (২০) স্বপ্ন ছিল পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাবেন। বুকভরা আশা নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দূর পরবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডুবেছে সাগরে। ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাহিম। তাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা-বাবা। হেলেনা বেগম বারবার বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার বুকের ধনকে আমি আর ফিরে পাব না, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।’

কাউকে না জানিয়ে লিবিয়া চলে যান আমিনুর

পাইলগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান তাঁর ছোট ভাই আমিনুর রহমানের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সে আমার ছোট। দালালের মাধ্যমে বিদেশ যেতে আমাদের পরিবারের কেউ রাজি হবে না বুঝতে পেরে কাউকে না জানিয়ে লিবিয়ায় চলে যায়। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক মাস আগে জানতে পারি সে লিবিয়ায়। সর্বশেষ ঈদের দিন আমার ভাই আব্বা-আম্মার সঙ্গে কথা বলেছে। এরপর আর কথা হয়নি। শনিবার আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারি।’

আব্দুল কাদির প্রাণে বাঁচলেও দুশ্চিন্তায় পরিবার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন প্রতিনিধি জানান, সাগরপথে গ্রিসে যাত্রা করেছিলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের যুবক আব্দুল কাদির (২৬)। তিনি উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাবিয়ানগর গ্ৰামের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে থাকা ২২ জন প্রাণ হারালেও ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেছেন। বাড়িতে তাঁর মা, স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।

আব্দুল কাদিরের মা আম্বিয়া বেগম জানান, বাড়ির জমি ও বাসস্থানের জায়গা বিক্রি করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ টাকা খরচ করে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তাঁকেসহ জীবিত কয়েকজনকে গ্রিসের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে আব্দুল কাদির প্রাণে বেঁচে ফিরলেও দুশ্চিন্তায় তাঁর পরিবার। জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে সংগ্রহ করা এত টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, সেই চিন্তায় আম্বিয়া বেগম। অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, কাদিরের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি।

দায়ীদের তথ্যানুসন্ধান করছে প্রশাসন

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিহতদের বাড়ি যাচ্ছেন তারা। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাওয়া হবে– কবে, কার প্ররোচনায় কত টাকার বিনিময়ে তারা গিয়েছিলেন। এই চক্রে কারা কারা জড়িত, এসব জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ‘কেউ বৈধ পথে যায়নি। এ কারণে তাদের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কোনো তথ্য পাওয়া গেলে আমরা তা প্রকাশ করব। হতাহতের বাড়ি বাড়ি আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা যাচ্ছেন। আমরা জানতে চাইব, কাদের কাছে তারা টাকা দিয়েছেন, কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, লেনদেন করেছেন, দালাল কী আশা দিয়েছে। তাদের ঠিকানা জানতে পারলে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব।’