Home Blog Page 146

‘আমার সাড়ে ৩ বছরের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেল’

আমার সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাটা এতিম হয়ে গেল। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই। নির্দোষ মানুষটাকে কেন হত্যা করল? যারা মারিছে, তাদের ফাঁসি চাই। কেন আমার ছোট সন্তানডারে এতিম করল? এখন কাকে আব্বা বলে ডাকবে।’

কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন আফিয়া খাতুন (২৭)। তিনি নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় পাম্পের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করা নাহিদ সরদারের (৩৩) স্ত্রী। তাদের বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লি গ্রামে। পাশের তুলারামপুর গ্রামে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক ছিলেন নাহিদ। গতকাল রোববার সকালে নিহত নাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, হত্যার খবর পেয়ে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। স্ত্রী আফিয়া খাতুন, মা শিউলি বেগমসহ কয়েকজন আহাজারি করছেন। সাড়ে তিন বছর বয়সী নাহিদের মেয়েটি ঘুমিয়ে আছে। তাদের চারপাশ ঘিরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বজন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে তেল নিতে আসেন ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে না থাকায় তেল দিতে অস্বীকৃতি জানান পাম্প ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন। পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লি যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পেছন দিয়ে এসে ট্রাকচালক সুজাত তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাহিদের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাতে ফিলিং স্টেশনে থাকা কর্মী সোহান হোসেন বলেন, ‘ম্যানেজার নাহিদ কাকাকে সুজাত বলেছিল, তুই তেল না দিলে তোকে আজকে গাড়িচাপা দিয়ে মেরে দেব। তেল না থাকায় তাকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু ট্রাক নিয়ে তিনি পাম্পেই বসে ছিলেন। রাত ২টার দিকে ম্যানেজার বাসায় রওনা দিলে সুজাতও ট্রাক নিয়ে পেছনে যায়। তখন আমাদের কাছে খটকা লাগে। এগিয়ে যায়ে দেখি, সুজাত আমাদের ম্যানেজারের গাড়ির ওপর দিয়ে গাড়ি চালায় দিয়ে চলে গেছে। আমরা যেতে যেতে নাহিদ কাকা মারা যায়। আরেকজন ছিল, তার অবস্থা গুরুতর।’

ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বিকেল ৩টার দিকে নিহত নাহিদের চাচা রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলার পর বিকেলেই অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত আলীকে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৬-এর একটি দল।

বকেয়া পরিশোধে ভাঙা হবে ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাংক জামানত

বিপিএলের দল ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ব্যাংক জামানত নগদায়ন করে এ বকেয়া পরিশোধ করা হবে। ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস খেলোয়াড়দের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংক জামানত নগদায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। গতকাল তিনি জানান, আজ দুপুরের মধ্যে ব্যাংক জামানত নগদায়ন করা হবে।

২০২৬ সালের বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালস ব্যর্থ হয়েছে। রোববার পর্যন্ত এ ফ্র্যাঞ্চাইজির বকেয়া ছিল তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। ক্রিকেটারদের কেউ কেউ চুক্তির মাত্র ২৫ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। বিপিএলের দ্বাদশ আসরের খেলা শেষ হওয়ার ৬৩ দিন পার হয়ে গেলেও বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টস। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক মিজানুর রহমান। বিসিবি ব্যাংক জামানত থেকে ক্রিকেটারদের সম্মানী পরিশোধ করতে গেলে রিমার্কের ওই কর্মকর্তা বিসিবির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে লবিং করে বাধা হয়ে দাঁড়ান।

মিঠু বলেন, ‘ঢাকার ক্রিকেটারদের বকেয়া পরিশোধ করতে একটু দেরি হয়ে গেল। কারণ হলো নিয়মের ভেতরে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছি। লিগ শেষ হওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব টাকা দেওয়ার কথা ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়মের ভেতরে থেকে সেটা করতে পারলেও ঢাকা ব্যর্থ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের থেকেও ১৫ দিন বেশি দেওয়া হয়েছিল তাদের। তারা পরিশোধ না করায় আমরা ব্যাংক জামানতের টাকায় খেলোয়াড়দের সম্মানী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী লিগের খেলা শুরুর আগে ২৫ শতাংশ, ১০ জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির ৫০ শতাংশ আর বাকি ২৫ শতাংশ খেলা শেষের ৪৫ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হতো। ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্রিকেটার ও বিসিবির তথ্য অনুযায়ী ২৩ জানুয়ারি বিপিএল শেষ হওয়ার পর বেশির ভাগ ক্রিকেটারের ৭৫ শতাংশ বকেয়া রেখেছিল ঢাকা।

মিঠু বলেন, ‘ওয়ান ব্যাংকে দুই কোটি ও মিউচুয়াল ট্র্যাস্ট ব্যাংকে তিন কোটি টাকার জামানত আছে। সেগুলো কাল (আজ) নগদায়ন করে বকেয়া পরিশোধ করার পরও টাকা থাকবে। বেচে যাওয়া টাকা ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি চ্যাম্পিয়ন স্পোর্টসকে ফেরত দেওয়া হবে।’

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পদ ছাড়লেন আওয়ামী লীগ নেতা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী ছাবের আহমদ পত্রিকায় বিজ্ঞাপ্তি দিলে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, জীবনে কখনো সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

রোববার সকাল থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হাজী ছাবের আহমদের বিজ্ঞাপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা তাকে “সুবিধাবাদী” হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

অনেকেই বলছেন, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন বিএনপির ছায়াতলে ঢুকার কৌশল অবলম্বন করছেন তিনি।

চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দীন বলেন, ‘২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে আমার নেতাকর্মীদের চরম দমন পীড়ন করে ছাবের আহমদ। পুলিশ প্রশাসন ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত হয়রানি ও হামলা করেছিল। নির্বাচনের দিন অবৈধ ব্যালট মেরেছিল বিভিন্ন কেন্দ্রে। একপর্যায়ে বিজিসির হাতে হাতেনাতে শৌচাগার থেকে ব্যালট সহ ধরা পড়ে। কিন্তু দলীয় প্রভাব বিস্তার করে সেদিন আমাকে হারিয়ে দিয়েছিল। গত এক দশক আমাদের নিপীড়ন করে এখন দলের পদ ছেড়েছে বিএনপির নেতাদের সমর্থন নিয়ে আবারও নির্বাচনে আসার জন্য। এসব সুবিধাবাদীদের দল প্রতিহত করবে।’

গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেন। নোটারী পাবলিকটি স্থানীয় একটি পত্রিকায় রোববার প্রকাশিত হলে তাকে নিয়ে উঠে আলোচনা সমলোচনার ঝড়। এরআগে ৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার জুলধা এলাকার তেল শুক্কুর (আবদুল শুক্কুর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে।

অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত হাজী ছাবের আহমদ আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালিন চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলেও নিয়মিত করতেন না পরিষদ। স্থানীয় বাজারে মাছের ব্যবসাই প্রধান। এছাড়া তার একাধিক মাছ শিকারের জাহাজ রয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবসায় সময় দেওয়া ও নানা ব্যস্ততার কারণে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আসার সুযোগ কম পেতেন বলে স্থানীয়রা জানান। নিজ বাড়ি চরপাথরঘাটা গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর অভিজাত এলাকা খুলশীর নিজস্ব ফ্ল্যাটে।

২০১৬ সালে পশ্চিম চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাবের আহমদ চরপাথরঘাটার ইছানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের শৌচাগারে ঢুকে নৌকা প্রতীকে সিল মারার অভিযোগে আটকও হয়েছিলেন। এসময় শৌচাগার থেকে ৪০০ ব্যালট পেপার এবং তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আরও ২০০ ব্যালট পেপার জব্দ করে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম।

হলফনামায় হাজী ছাবের আহমদ উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একই সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। তবে এই পদটি তিনি নিজের উদ্যোগে নেননি, বরং জেলা পর্যায়ের নেতারা তাকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি কখনো মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেননি এবং সক্রিয় রাজনীতিও করেননি বলেও দাবী করেন হলফনামায়।

অভিযোগের বিষয়ে হাজী ছাবের আহমদ বলেন, শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তির কারণে দলীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই স্বেচ্ছায় ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদত্যাগ করেছি। এখন এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সময় দিব। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না বলেও জানান তিনি।

পুরো একাদশ বদলেও কলম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

আসন্ন বিশ্বকাপের মহড়াটা দারুণভাবেই সেরে নিচ্ছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। দলের নিয়মিত তারকাদের বিশ্রাম দিয়ে একেবারে ভিন্ন একাদশ মাঠে নামিয়েও দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফরাসিরা।

আগের ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারানোর পর এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ১১টি পরিবর্তন আনেন ফরাসি কোচ দেশম। মূল লক্ষ্য ছিল দলের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি পরখ করে দেখা। আর কোচের সেই আস্থার দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন বেঞ্চের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ২৯ মিনিটে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের অভিষেক গোলের দেখা পান দেজিরে দুয়ে। এরপর ৪১ মিনিটে মার্কাস থুরামের একটি বুলেট গতির হেড কলম্বিয়ার জালে জড়ালে লিড দ্বিগুণ হয় ফরাসিদের। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ফ্রান্স। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে কলম্বিয়াকে ম্যাচ থেকেই কার্যত ছিটকে দেন তরুণ মিডফিল্ডার দুয়ে।

ফরাসিদের জমাট রক্ষণভাগের সামনে পুরো ম্যাচেই নিষ্প্রভ ছিলেন কলম্বিয়ার দুই মহাতারকা হামেস রদ্রিগেজ ও লুইস দিয়াজ। ৭৭ মিনিটে জন আরিয়াস কলম্বিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ দিলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ দিকে বদলি হিসেবে ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে মাঠে নামলেও অফসাইডের কারণে তার একটি গোল বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দেশমের দল।

তরমুজের উপর লবণ ছড়িয়ে খাওয়া কি ভালো?

গরম পুরোপুরি পড়ার আগেই বাজারে তরমুজ এসে গেছে। স্বাদের কারণে এই ফলটি সবার কাছে বেশ জনপ্রিয়। অনেকে আবার স্বাদ বাড়াতে মাঝেমধ্যে তরমুজের উপর নুন, চাটমসলা ছড়িয়ে খান। এ ভাবে তরমুজ খাওয়া কি ভালো? এ বিষয়ে নানা তথ্য জানানো হয়েছে ভারতীয় অনলাইন ‘এই সময়ে’’র এক প্রতিবেদনে।

 তরমুজের স্বাদ বাড়ায়

এক চিমটে লবণ দিলে তরমুজের স্বাদ আরও বেড়ে যায়। ২০২৩ সালে ইলাইফ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবণের মধ্যে থাকা ক্লোরাইড আয়ন মিষ্টি স্বাদের রিসেপ্টরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। এর ফলে মিষ্টি ভাব আরও বেশি অনুভূত হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে লবণ তরমুজের প্রাকৃতিক মিষ্টতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটায়

তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি থাকায় এটি শরীরকে ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে। এতে শরীরের জন্য উপকারী পটাশিয়াম, মিনারেলও পাওয়া যায়। কিন্তু এতে সোডিয়ামের মাত্রা কম থাকে। এই গরমে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তরমুজের উপর লবণ ছড়াতে পারেন। লবণে থাকা সোডিয়াম, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। লবণ ছড়িয়ে তরমুজ খেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটে।

হজমে সহায়তা করে

লবণ পাকস্থলীতে পাচক রস নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে তরমুজ দ্রুত হজম হয়ে যায়। যদিও তরমুজ সহজপাচ্য। তাও অনেকেরই তরমুজ খাওয়ার পর পেট ফাঁপে। তরমুজে লবণ ছড়িয়ে খেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে।

কতটা লবণ ব্যবহার করবেন?
বেশি লবণ দিলে তরমুজের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করে। এক বাটি তরমুজের উপর এক চিমটে লবণ বা চাটমশলাই যথেষ্ট। লবণ ছাড়াও বিট লবণ, চাটমশলা এবং লেবুর রস যোগ করতে পারেন। এতেও তরমুজের স্বাদ বাড়বে।

কৃষিতে নারী মজুরি পান ২৬% কম

অন্যান্য পেশার মতোই কৃষিতেও নারী-পুরুষ মজুরি বৈষম্য বেশ প্রকট। কৃষি কাজে একজন নারী শ্রমিকের মজুরি পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম। এই প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের এ-সংক্রান্ত সর্বশেষ এক জরিপ বলছে, গত ডিসেম্বর মাসে যেখানে একজন পুরুষ কৃষি শ্রমিক দৈনিক ৬২৫ টাকা মজুরি পেয়েছেন, সেখানে একজন নারী কৃষি শ্রমিক মজুরি পেয়েছেন মাত্র ৪৬২ টাকা। কৃষি শ্রমে নিয়োজিত ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী শ্রমিকের মজুরির মাঠচিত্র জানতে এ-সংক্রান্ত জরিপ করে থাকে বিবিএস। ‘শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষি শ্রম মজুরি’ নামের এই জরিপ প্রতিবেদনটি গতকাল রোববার বিবিএসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

জানতে চাইলে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিআইএলএসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, মজুরির এই বৈষম্য মৌলিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃষিসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক সব খাতেই এরকম মজুরি বৈষম্য রয়েছে। কৃষি কাজে একে তো মজুরি কম, তার ওপর আবার বৈষম্য।

বরেন্দ্র অঞ্চলে ঘোষণা দিয়ে পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক মজুরি দেওয়া হয় নারী শ্রমিককে। নারীর এই মজুরি বৈষম্যের কারণে সে পারিবারিকভাবে নিগৃহীত হয়। পুরষের ক্ষেত্রে একাধিক বিয়ের এটা অন্যতম বড় কারণ। তিনি বলেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে একটা জাতীয় মজুরি কাঠামো গঠনের সুপারিশ করেছেন তারা। যাতে একজন শ্রমিক তার মজুরি দিয়ে পরিবার নিয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। এতে মজুরি বৈষম্য কমবে। এ ছাড়া শ্রমিকের একটা তথ্য ব্যাংক ও পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা এবং অন্তত জেলা পর্যায়ে শ্রম-সংক্রান্ত অভিযোগে প্রতিকার দেওয়ার জন্য সরকারি নির্দিষ্ট দপ্তর প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছেন তারা, যাতে শ্রমিক তার যে কোনো বঞ্চনা জানিয়ে সহজেই প্রতিকার পেতে পারেন। এর আগে জারি করা শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশটি এখন জাতীয় সংসদে রয়েছে– এটি আইন আকারে পাস হলে মজুরি বৈষম্য কমতে পারে।

বিবিএস মাসিক ভিত্তিতে কৃষি মজুরির হারের পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে। কৃষি মজুরির হার সংগ্রহের জন্য প্রতিটি উপজেলা থেকে নমুনা হিসেবে ১০ জন কৃষি দিনমজুরের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে উপজেলার কৃষি শ্রমের হার গণনা করা হয়। সব জেলার মজুরির হার পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি মজুরির হার গণনা করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের সর্বশেষ ২০২৪ সালে প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ কৃষি কাজে নিয়োজিত। দেশের মোট শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণকারী নারীর সংখ্যা দুই কোটি ৩৭ লাখ। এর মধ্যে কর্মে নিয়োজিত আছে দুই কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার। ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল লাইভলিহুডস-সিএসআরএলের উপাত্ত বলছে, বাংলাদেশে কৃষি খাতের ২১ ধরনের কাজের মধ্যে ১৭ ধরনের কাজেই গ্রামীণ নারীরা অংশগ্রহণ করে। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীরা পুরুষের তুলনায় তিন গুণ বেশি কাজ করে। তারপরও নারীদের শ্রম মূলত গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে পরিবারের আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

জরিপ বলছে, গত ডিসেম্বর মাসে তিন বেলা খোরাকির সঙ্গে একজন পুরুষ শ্রমিক মজুরি পেয়েছেন ৫২৩ টাকা, যা নারী শ্রমিকের জন্য ছিল ৩৮৫ টাকা। অন্যান্য মাসেও প্রায় অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অর্থাৎ, এখনও মজুরির সঙ্গে তিন বেলা খোরাকি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে কৃষি কাজে। এক বেলা ও দুই বেলার রেওয়াজ আছে কোথাও কোথাও। তবে জরিপে এ ধরনের এলাকাভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়নি। অবশ্য, জরিপ বলছে, খোরাকি এক বেলা হোক অথবা তিন বেলা যাই হোক না কেন, মজুরি বৈষম্য সব ক্ষেত্রেই খাড়া।

জরিপে খোরাকিসহ মজুরি এবং খোরাকি ছাড়া মজুরির চিত্র আলাদা দেখানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, খোরাকিবিহীন একজন কৃষি শ্রমিক গত ডিসেম্বর মাসে দৈনিক মজুরি পেয়েছেন গড়ে ৬২৫ টাকা, যা একজন নারী শ্রমিক পেয়েছেন ৪৬২ টাকা।

আগামী বাজেট হতে হবে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ

বৈশ্বিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার— এই তিনের সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে আগামী বাজেটের রূপরেখা। এ ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। বাজেট পরিকল্পনায় অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই। বরং রাজস্ব আদায়ের বাস্তব সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম বিবেচনায় রেখে ব্যয় কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। গত শনিবার প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অর্থ মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কর-রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণ ও প্রাক্কলন প্রক্রিয়া উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার এখনও উন্নত নয় উল্লেখ করে একে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও পরামর্শ চান তিনি।

বৈঠকে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয়ের প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত আশাবাদিতা পরিহার করে বাস্তব সক্ষমতার ভিত্তিতে রাজস্ব ও ব্যয়ের কাঠামো নির্ধারণের পরামর্শ দেন তারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, আলোচনায় সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আলোচনায় অংশ নেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমকালকে তিনি বলেন, আগামী বাজেটে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সামাজিক খাতে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে উন্নয়ন ব্যয়ও বাড়াতে হবে। কিন্তু এর বিপরীতে পর্যাপ্ত রাজস্ব থাকবে কিনা, সেটিই মূল প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কমছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ নিম্নমুখী থাকায় কর আহরণে চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সঠিক রাজস্ব কাঠামো ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়ন পরিকল্পনা জরুরি। নতুন বড় মেগা প্রকল্প নেওয়ার সময় এখন নয়, যেসব প্রকল্পের অগ্রগতি ৮০ শতাংশের বেশি, সেগুলো দ্রুত শেষ করতে হবে। আর কম অগ্রগতির প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজন হলে স্থগিত রাখা উচিত।

বাজেটের আকার নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বাজেট খুব বড় বা খুব ছোট— কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। অতিরিক্ত সংকোচন হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে না, আবার বড় বাজেটের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদও নেই। তাই বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট প্রণয়ন জরুরি।

তিনি বলেন, ব্যাংকনির্ভর ঋণ বাড়ালে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহারে সতর্কতা এবং জ্বালানি আমদানির মতো খাতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অর্থায়ন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও বেকারত্ব বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

এলডিসি উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ, পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমানো, কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন তিনি। সরকারি ও বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির ফলে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন। সুদের হার কমানো নিয়ে ভিন্ন মত থাকলেও বর্তমান অনিশ্চয়তায় সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদও প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন। জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত অস্থির ও অনিশ্চিত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাজেট প্রণয়নে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ প্রাক্কলন যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাস্তবতা ভিন্ন হয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এখন স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

বাজেটের আকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বছরের বাজেট খুব বড় করা উচিত নয়, কারণ বড় বাজেটে অপচয়ের ঝুঁকি থাকে। তাই সংকোচনমূলক বাজেট ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ জরুরি।  মূল্যস্ফীতি ৬-৭ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। রাজস্ব আহরণ, বরাদ্দ ও ব্যয় সক্ষমতা— সবখানেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহবুব আহমেদ বরাদ্দের ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, জ্বালানি (নবায়নযোগ্যসহ), শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। আর ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সময়মতো অর্থছাড়, দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো ঝুঁকিমুক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বেশি বিনিয়োগ করায় বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কর রাজস্ব বৃদ্ধি ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ঈদযাত্রায় ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৫১, আহত ১০৪৬ জন

এবারের ঈদযাত্রার ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০৪৬ জন। বিগত সময়ের তুলনায় এবার ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ ও প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহত ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

‎আজ সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

‎ঈদযাত্রার সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তুলে ধরে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ নিহত ও ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ফলে সব পথ মিলে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন।

খেলোয়াড় জীবনে রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন না, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

খেলোয়াড় থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পেশাদার খেলোয়াড়রা কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয়—তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে।

আজ সোমবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই নিজ যোগ্যতায় বিজয়ী হয়ে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছেন। খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় যারা ইতোমধ্যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিজয়ের পেছনে প্রতিপক্ষ থাকে। প্রতিপক্ষ আছে বলেই বিজয়ের আনন্দ পাওয়া যায়। খেলাধুলায় পরাজয় মানে হেরে যাওয়া নয়, বরং জয়েরই একটি অংশ।
আলবার্ট আইনস্টাইনের উদ্ধৃতি টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে কখনো কিছুই করেনি। পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়া আর শুধু শখ বা বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি স্বীকৃত পেশা। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে—এ প্রতিশ্রুতি বিএনপি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দিয়েছিল, যার বাস্তবায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান জানান, খেলোয়াড়দের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার প্রথমবারের মতো তাদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনছে এবং ক্রীড়া ভাতা প্রদান শুরু করেছে। এতে খেলোয়াড়রা নিজেদের পছন্দের খেলাকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে নিতে পারবেন।

সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে। এর ধারাবাহিকতায় চালু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’। শারীরিক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদরাও এর আওতায় আসবেন।

‘সবার জন্য ক্রীড়া’ প্রতিপাদ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দেশ-বিদেশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ক্রিকেট ও ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও আর্চারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল ও ব্যাডমিন্টনের মতো খেলাগুলোও যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ান হয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোটোবেলা থেকেই খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা কারিকুলামেও পরিবর্তনের কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ নতুনভাবে চালু হয়েছে। এবার ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে শুরু হয়ে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্যের পথে কোনো বাধা টিকবে না।

খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নন—আপনারা দেশের প্রতিনিধি। দেশের হয়ে খেলুন, বিজয় অর্জন করুন এবং বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যান।

হজমের সমস্যা কমাতে কোন ডাল কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখা জরুরি

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, সবজি যা-ই থাকুক না কেন ডাল না হলে চলে না। ভাত-রুটি সব কিছুর সঙ্গে ডাল খাওয়া যায়। আগের দিনে রান্না করার আগে কমবেশি সব বাড়িতেই ডাল ভিজিয়ে রাখার চল ছিল। তবে আজকাল অনেকেই দ্রুত রান্না সারতে ডাল ভিজিয়ে রাখার সময় পান না। সরাসরি রান্না করে ফেলেন। এতে হজমের সমস্যা বাড়ে। ফোলেট, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ভরপুর ডাল রান্নার আগে ‌অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় ধরে ভিজিয়ে রাখা জরুরি।

ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোন ডাল কতক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবুজ মুগডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, হলুদ মুগ ডাল অন্তত ৩০ মিনিট, ছোলার ডাল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, অড়হড় ডাল ২ থেকে ৩ ঘণ্টা,রাজমা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা,
মুসুর ডাল ১ থেকে ২ ঘণ্টা, কালো ছোলা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, মটর ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, কাবলি ছোলা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোলার ডাল, মটর ডাল বেশ ভারী খাবার। হজম করা সহজ নয়। রান্নার আগে এই সব ডাল ভিজিয়ে রাখলে অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টের মাত্রা কমে। এ ছাড়াও, ডালের উপরের অংশে ফাইটিক অ্যাসিড থাকায় পেটে গেলে বদহজম হতে পারে। ডাল কিছু ক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেই অ্যাসিড ধুয়ে যায়। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ডালে থাকা পলিফেনল এবং ট্যানিনও অনেকটা চলে যায়। এর ফলে ডালে উপস্থিত বাকি সব উপাদান, যেমন ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ক্যালশিয়াম, আয়রন— সব ভাল ভাবে শরীরে প্রবেশ করে ।