Home Blog Page 148

আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান, সব শর্তে একমত নাও হতে পারে সরকার: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে হওয়া চুক্তির সব শর্তে বর্তমান সরকার একমত নাও হতে পারে। তিনি জানান, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। শুধুমাত্র তাদের সিদ্ধান্তে সবকিছু হবে না, আমাদেরও সিদ্ধান্ত আছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন, এমনকি এক মাস পর্যন্ত আলোচনা চলতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সঙ্গে আলোচনায় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তা মাথায় রেখে কাজ করছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দাতা সংস্থাগুলোর কাছেও উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অতিরিক্ত বাড়ানো হয়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আমেরিকায় তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়তেও পারে, আবার নাও বাড়তে পারে, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি আরও জানান, সব দাতা সংস্থাই বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। শিগগিরই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ, দেশে খুব সামান্য বাড়ানো হয়েছে: মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। তবে, বৈশ্বিক এই চাপের মধ্যেও সরকার ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে দেশে তেলের দাম খুব সামান্য বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আজ রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ‘যুদ্ধ শুরুর আগে যে দামে তেল পাওয়া যেত, এখন সেই দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। এতে করে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে আমাদের ওপর সরাসরি চাপ পড়ছে।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, এই পরিস্থিতির কারণে ইতোমধ্যে জ্বালানি আমদানিতে সরকারের ব্যয় অন্তত দুই বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করলেও সরকার পুরোটা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি। বরং বড় একটি অংশ ভর্তুকি হিসেবে নিজেই বহন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যদি বিশ্ববাজারের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করতাম, তাহলে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আরও অনেক বেশি বাড়ত। কিন্তু জনগণের কথা চিন্তা করে আমরা সেই পথে যাইনি। সীমিত আকারে দাম সমন্বয় করেছি, যাতে চাপটা সহনীয় থাকে।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোগান্তি কমানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

আজ রোববার থেকে সারাদেশে নতুন দামে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী—ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন—সব ধরনের জ্বালানির দামই বেড়েছে। ফলে পরিবহন ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ডিজেলে ১৫ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা, পেট্রোলে ১৯ টাকা এবং কেরোসিনে ১৮ টাকা করে বাড়তি দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হোস্টেলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) বাঘমারা ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই ছাত্র গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় কলেজে ৭ দিনের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস ও হোস্টেল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মমেকের এম-৬১ ব্যাচের ছাত্র হামিদুর রহমান (২২) ও তার সহপাঠী আসাদুল্লাহ মোয়াজের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিতণ্ডা হয়। হামিদুর রহমান ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী এবং আসাদুল্লাহ মোয়াজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে হামিদুর তার রুমে নিয়ে মোয়াজকে জুনিয়রদের সামনে চড়-থাপ্পড় মারেন। এর কিছুক্ষণ পর মোয়াজ রড নিয়ে এসে চা দোকানের সামনে হামিদুরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে হামিদুরের মাথা ফেটে যায়। সহপাঠীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

পুলিশ হেফাজতে ফের হামলা
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম ও পুলিশ সদস্যরা বাঘমারা হোস্টেলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ অভিযুক্ত মোয়াজকে আটক করে হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার সময় হোস্টেল গেটেই পুনরায় হামলার শিকার হন তিনি।

হামিদুরের পক্ষের নাফিউল নামের এক জুনিয়র ছাত্র পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই মোয়াজের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মোয়াজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, মোয়াজের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর।

ঘটনার পর হামলাকারী নাফিউলকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মতিউর রহমান এবং ড্যাব-এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা. ইসহাকসহ ছাত্রদল ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. মতিউর রহমান বলেন, ছাত্রদের গন্ডগোলের মধ্যে আছি। কিছুক্ষণ পর পর হামলা পাল্টা হামলা হচ্ছে। পুলিশ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আপাতত ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।

mmc 1776494982

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শিবিরুল ইসলাম জানিয়েছে, বর্তমানে হোস্টেল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্র হোস্টেলের আতঙ্কিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, হোস্টেলে দুই গ্রুপের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছি।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান বলেন, আগামী ৭ দিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। কলেজের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২৫ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরল কভেন্ট্রি সিটি

০

দীর্ঘ আড়াই দশকের অপেক্ষার অবসান হলো। পুরো ২৫ বছর পর আবারও ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) ফিরল কভেন্ট্রি সিটি। শুক্রবার ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তিন ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে দলটি।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ যখন শুরু হয়, তখন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল কভেন্ট্রি সিটি। কিন্তু ২০০০-০১ মৌসুমে অবনমনের পর দীর্ঘ সময় আর শীর্ষ লিগে ফেরা হয়নি তাদের। তবে চলতি মৌসুমে দলের দায়িত্ব নেন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। তার অধীনে শুরু থেকেই ধারাবাহিক ফুটবল উপহার দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের টিকিট নিশ্চিত করেছে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের এই ক্লাবটি।

কভেন্ট্রির শীর্ষ লিগে ফিরে আসার পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বছর কয়েক আগেও ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে ভুগেছে ‘স্কাই ব্লুজ’রা। ২০১৭ সালে তো ইংলিশ ফুটবলের চতুর্থ স্তরে নেমে গিয়েছিল ক্লাবটি। তবে সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য এক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখেছে তারা।

এর আগে ২০২৩ সালেও একবার প্রিমিয়ার লিগে ওঠার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল দলটি। কিন্তু সেবার প্লে-অফ ফাইনালে লুটন টাউনের কাছে হেরে হৃদয় ভাঙে তাদের। তবে এবার আর কোনো ভুল করেনি ল্যাম্পার্ডের শিষ্যরা। সরাসরিই প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেছে তারা।

রোদে ঘুরলেও পানির বোতল ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে

বাড়তে শুরু করেছে দিনের তাপমাত্রা। তীব্র গরমে অনেকেই নাজেহাল হয়ে পড়েছেন। গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খান। অতিরিক্ত গরমে ঠান্ডা পানি শরীরে স্বস্তি এনে দেয়। কিন্তু রাস্তায় বেরোলে হুট করে ঠান্ডা পানি পাওয়া যায় না। ফ্রিজের পানি নিয়ে বেরোলেও তা দ্রুত গরম হয়ে যায়। রোদে ঘুরলেও পানির বোতল ঠান্ডা রাখতে কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন। যেমন-

বরফভর্তি বোতল

রাস্তায় বের হওয়ার আগে পানিভর্তি বোতল ফ্রিজ়ারে রেখে দিন। বোতলের পানি বরফ হয়ে যায়। অর্ধেক বরফ জমাট বাঁধলেও হবে। তার পরে ওই বোতল ভিজে রুমালে মুড়ে এবং প্লাস্টিকে ভরে ব্যাগে ঢুকিয়ে নিন। বরফ জমে থাকলে পানি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে কিছুটা সময় নেবে। তাহলে রাস্তায় বেরিয়েও ঠান্ডা পানি দিয়ে গলা ভেজাতে পারবেন।

ভিজে কাপড়ে মুড়ে নিন

অনেকেসময় ফ্রিজের ঠান্ডা পানি নিয়ে বেরোনোর আধ ঘণ্টা যেতে না যেতেই তা গরম হয়ে যায়। এই সমস্যা এড়াতে ভিজে কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। ভিজে রুমাল বা কাপড় বোতলের গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিন। এতে তাপ সরাসরি বোতলের গায়ে আসবে না।

মাটির বোতল ব্যবহার করুন 

বাড়িতে মাটির কলসি ব্যবহার করতে পারেন। আর রাস্তায় বেরোলে সঙ্গে নিতে পারেন মাটির বোতল। পরিবেশবান্ধব এই বোতলে পানি ভরে রাখলে ঠান্ডা থাকে। এই পানি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। এই গরমে মাটির বোতল থেকে পানি খেলে শরীর হাইড্রেটেডও থাকবে।

বেছে নিতে পারেন ইনসুলেটেড বোতল

ডাবল-ওয়াল বা ভ্যাকুয়াম ইনসুলেটেড বোতল গরমকালের জন্য বেশ ভালো। এতে পানি প্রায় ১৮-২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা থাকে। ইনসুলেটেড বোতলে পানি ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। বেরোনোর আগে ফ্রিজ থেকে বের করে ব্যাগ ঢুকিয়ে নিন। সারাদিন রাস্তায় ঘুরে কাজ করলে এই বোতল আপনার সঙ্গী হতে পারে।

বোতল ঠান্ডা রাখার টিপস

ফ্রিজ ছাড়াও পানির বোতল ঠান্ডা করা যায়। একটি পাত্রে বরফ কুচি নিন। তার মধ্যে পানি বোতল বসিয়ে রাখুন। উপর লবণ ছড়িয়ে দিন। দেখবেন, ফ্রিজ ছাড়াই পানির বোতল ঠান্ডা হয়ে গেছে। বাড়িতে থাকার সময়ে এই টিপস কাজে লাগাতে পারেন।

জৈব পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, খরচ কম, স্বাদ বেশি

আগে তরমুজ চাষ করে লাভ হতো না, এবার নতুন পদ্ধতিতে চাষ করেছি। এতে খরচ কমেছে। ফলনও বেশি হয়েছে।’

কথাগুলো বলছিলেন ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার চাষি ইসমাইল মাঝি। কখনও নিজের জমিতে, কখনও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করেন আবুবকরপুর ইউনিয়নের এই কৃষক।

তিনি জানান, গত বছর বাজারের কেনা বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনিসহ অনেক চাষি। এ বছর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ আবাদ করে ফলন ভালো হওয়ায় তিনি লাভবান হয়েছেন। এ বছর তিনি আড়াই একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। জমি বর্গার টাকা ও আবাদ খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা পেয়েছেন।

শুধু ইসমাইল মাঝি নন; চরফ্যাসনের অনেকেই জৈব সার ব্যবহারে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে কীটনাশকের খরচ কম এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার কারণে তরমুজের আকার বড় হয়েছে। এগুলো বেশ মিষ্টি। দামও পাওয়া যায় বেশি।

খরা আর লবণাক্ততার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দক্ষিণাঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন তরমুজের সমারোহ। সবুজ লতাপাতার মধ্যে পরিপুষ্ট তরমুজ যেন হাসিমুখে উঁকি দিচ্ছে চারদিকে। রাসায়নিক নির্ভরতা থেকে সরে এসে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। সেই সিদ্ধান্তই এনে দিয়েছে বাম্পার ফলন, কম খরচ আর নতুন আশা। ভোর থেকে শুরু হয় তরমুজ তোলার কাজ। শ্রমিকরা দলবেঁধে মাঠে যান। কেউ বাছাই করেন, কেউ আবার ট্রাকে তোলেন। গ্রামের ভেতরের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একের পর এক ট্রাক ঢুকছে। অনেক জায়গায় রাস্তা এতটাই সরু যে ট্রাক যাওয়া কঠিন। তবু থেমে নেই গতি। নদীর ঘাটে গেলে দেখা যায় আরও বড় আয়োজন– কার্গো জলযান আর লঞ্চ ভিড়ছে, তরমুজ বোঝাই হচ্ছে। এগুলো যাচ্ছে বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা এখন সরাসরি মাঠে হাজির। আগের মতো আড়তে অপেক্ষা নয়; এখন ক্ষেতেই লেনদেন। এই মৌসুমে চরফ্যাসনের গ্রামগুলোতে একটা ভিন্ন রকম প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। দিনমজুররা কাজ পান, নারীরা বাছাই ও পরিবহনে যুক্ত হন, কিশোররা ছোটখাটো কাজ করে আয় করে। এমনকি শিশুরাও আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে– তরমুজ কাটার সময় তাদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসে। কেউ তরমুজ কেটে বিক্রি করছে, কেউ পাইকারি দামে বিক্রি করছে। হাটবাজারে ভিড় বাড়ে। গ্রামের অর্থনীতি যেন হঠাৎ করেই গতি পায়। এই পুরো চিত্র দেখলে বোঝা যায়, একটা ফসল পুরো সমাজকে আলোড়িত করতে পারে।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক বিস্তৃতি রয়েছে চরকলমী, মুজিবনগর, নজরুলনগর, নীলকমল, নুরাবাদ, আবুবকরপুর, আহম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। চাষ হয়েছে গ্লোরি, হাইব্রিড, ড্রাগন, থাই সুপার, সাইকিং, বেঙ্গল কিং, গ্রেড ওয়ান, বিগ ফ্যামিলি, আনন্দসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ একর জমিতে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষকরা হঠাৎ করে জৈব পদ্ধতিতে আসেননি। এর পেছনে আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। গত বছর বাজার থেকে কেনা রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েন। ফলন কমে যায়, রোগবালাই বাড়ে, খরচ বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসেনি। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর অনেকে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেন। এতে তারা দেখেন, মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে, রোগ কম হয়, খরচও কমে। সবচেয়ে বড় কথা, ফলন ভালো হয়।

তরমুজচাষি আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগে বুঝতাম, বেশি ওষুধ মানে ভালো ফলন। এখন বুঝি, কম খরচে ঠিকমতো চাষ করলে ফলন ভালো হয়, লাভও হয়।’ চরফ্যাসন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের কৃষক শাকিল ফরাজী তিন একর জমিতে প্রথমবারের মতো জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতের ফলন অন্যদের তুলনায় বেশি হয়েছে। শাকিল বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কখন চারা রোপণ করতে হবে, কীভাবে সুষম সার ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে– এসব শেখানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা দেখে শিখতে পারেন।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, তরমুজ চাষে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষ বেশি হয়েছে। ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক সহজলভ্য হওয়ায় এসব ব্যবহারে প্রায় ৪০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন চাষিরা। আশা করি, আগামী বছর এই পদ্ধতির প্রতি কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করে তরমুজের আবাদ সম্ভব। টিস্যু কালচার প্রকল্পের আওতায় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা প্রতিটি তরমুজ তিন থেকে পাঁচ কেজি ওজনের হয়। এ তরমুজের খাদ্যগুণ ও নান্দনিকতায় ক্রেতারা মুগ্ধ। এ জন্য দাম ভালো। অল্প খরচে কৃষকরা এ ফলের আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে কৃষকরা যাতে আরও ব্যাপক পরিসরে জৈব পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদে উদ্বুদ্ধ হন, সেই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, ভোলা জেলার চরফ্যাসনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি উত্তম চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত জাতের চারা রোপণের বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রদর্শনী উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চরফ্যাসনে কোনো হর্টিকালচার সেন্টার নেই। প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি হর্টিকালচার সেন্টার ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের উন্নতমানের চারাপ্রাপ্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জৈব পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক প্রশিক্ষণ মিললে উপকূলীয় এলাকাও কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কিন্তু এই ধারা ধরে রাখতে হলে জৈব সার ও বালাইনাশকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

অভিনয় ছাড়াও নিজেকে আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে: ববি

০

নতুন একটি সিনেমায় আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘তছনছ’ সিনেমার এই গানে পর্দায় পারফর্ম করেছেন চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি। প্রাণবন্ত নৃত্য ও গ্ল্যামারাস উপস্থিতিতে গানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন তিনি।

‘নো চিন্তা ডু ফুর্তি/এনজয় কর নাইট/ ডিজে পার্টির ড্যান্স ফ্লোরে লাল নীল লাইট’– এমন কথার পার্টি ঘরানার গানটি লিখেছেন সুদীপ কুমার দ্বীপ। এর সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন আহমেদ সজীব। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে ফোকাস স্টুডিওতে গানটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গানটি সিনেমার একটি বিশেষ মুহূর্তে ব্যবহার করা হবে, যা দর্শকদের জন্য বাড়তি বিনোদন যোগ করবে।

গানটি প্রসঙ্গে কোনাল বলেন, দীর্ঘদিন পর আইটেম গান গাওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। আগে বেশ কিছু প্রস্তাব পেলেও গানের কথা পছন্দ না হওয়ায় সেগুলোতে কণ্ঠ দেননি। তবে ‘তছনছ’-এর এই গানটির কথা, সুর ও উপস্থাপনা তাঁর কাছে ভিন্নমাত্রা তৈরি করেছে। তিনি আশা করছেন, গানটি মুক্তির পর শ্রোতাদের মাঝে ভালো সাড়া ফেলবে।

এদিকে ববি বলেন, ‘এই গানের জন্য নিজেকে আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে। নাচের রিহার্সাল থেকে শুরু করে লুক– সবকিছুতেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছি। দর্শকরা আমাকে ভিন্ন রূপে দেখবেন।’

বর্তমানে স্টেজ শো ও নতুন গানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কোনাল। ‘কসম’ নাটকে তাঁর গাওয়া গান ‘বন্ধু তোরে দেখতে মন চায়’ শ্রোতারা বেশ গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে এক সময় অভিনয়ে নিয়মিত থাকলেও এখন অনিয়মিত কাজ করছেন চিত্রনায়িকা ববি। কাজ করেন খুব বুঝেশুনে। আর মুক্তির অপেক্ষায় আছে তাঁর বেশ কটি সিনেমা। তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ সিনেমা ছিল ‘ময়ুরাক্ষী’। অনেক দিন হলো তাঁর নতুন সিনেমা মুক্তি পায়নি। পর্দায় না থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে সরব তিনি। জানা গেছে, তাঁর হাতে রয়েছে একাধিক সিনেমার কাজ।

জ্বালানি সংকট রাতভর লাইনে থেকেও তেল মিলছে না ছুটির দিনেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন

দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকটে ছুটির দিনেও স্বস্তি মেলেনি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কোথাও পাম্প বন্ধ, আবার কোথাও সীমিত বিক্রিতে দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল মিলছে না। তেলের জন্য রাতভর পাম্পেই অবস্থান করছেন অনেকে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশজুড়ে এখন অধিকাংশ পাম্পে ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে তেল বিক্রি হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি দেওয়া হচ্ছে না। তবুও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আবার নতুন করে লাইন তৈরি হচ্ছে। এক ধরনের চক্রে আটকে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা।

রাজধানীর মহাখালী, খিলক্ষেত, বাংলামটর, রমনা, আসাদগেটসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই পেট্রোল পাম্পের সামনে সকাল থেকেই ছিল যানবাহনের দীর্ঘ সারি। বেশ কয়েকজন চালক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তারা। কেউ কেউ রাত কাটিয়েছেন গাড়িতে বসেই, কেউ রাস্তার পাশে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তেলের নিশ্চয়তা পাননি অনেকেই। অনেক পাম্পের সামনে অপেক্ষার প্রহর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তবুও তেল মেলেনি।

গতকাল বিকেল ৪টায় মৎস্য ভবন এলাকার রমনা পাম্পে তেল নিতে অপেক্ষমাণ নাজমুল সাদাতের সঙ্গে কথা হয় সমকালের। তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে শিল্পকলার গেটের বিপরীতে লাইনে ছিলেন। নাজমুল বলেন, সকাল ৬টায় এসে এই সিরিয়াল পেয়েছেন। ১০ ঘণ্টা হয়ে গেছে লাইন আগায়নি। তাঁর সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন এই পাম্পের লাইন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আবার পাম্পে গিয়ে শেষ হয়েছে।

সন্ধ্যায় তেজগাঁও এলাকার সিটি ফিলিং স্টেশনেও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা বলেন কারচালক মকবুল হোসেন। তিনি ১১ ঘণ্টা ধরে লাইনে রয়েছেন বলে জানান।

পাম্পকর্মীরা বলছেন, ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিলম্বই এই সংকটের মূল কারণ। অনেক পাম্পে সকালে তেল না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। পরে যখন তেল আসে, তখন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ভিড় করে। ফলে রেশনিং করে সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হচ্ছে। এতে একদিকে লাইন কমছে না, অন্যদিকে অসন্তোষ বাড়ছে।
এ সংকটকে ঘিরে ভিআইপি সুবিধা নিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে। সাধারণ চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও তারা তেল পাচ্ছেন না। অথচ প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ লাইনের বাইরে গিয়ে মুহূর্তেই তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পাম্পে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনাও ঘটছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। মৎস্য ভবন এলাকার রমনা পাম্পে মোটরসাইকেলের চালকদের বিশৃঙ্খলার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে পরিস্থিতি আরও জটিল। নগরে ৪৬টি পেট্রোল পাম্প থাকলেও অধিকাংশ পাম্পে অকটেন ও পেট্রোল মিলছে না। কাতালগঞ্জের খান ব্রাদার্স, নতুনপাড়ার বিআরটিসি পাম্প, বালুছড়ার শিউলি পেট্রোল পাম্প, অক্সিজেন এলাকার ওয়াজেদ আলী সন্সসহ বেশ কয়েকটি পাম্প শুক্রবার সকাল থেকেই বন্ধ ছিল।

খুলশী এলাকার একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল হক জানান, ডিপো থেকে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ কম। শুধু সীমিত পরিমাণ ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে যেসব পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। গণি বেকারি এলাকার একটি পাম্পে দুপুর থেকে বিক্রি শুরু হলেও বিকেলের মধ্যেই শত শত মোটরসাইকেলের লাইন দেখা যায়।
সিলেটের চিত্র আরও হতাশাজনক। নগরের আম্বরখানা, পাঠানটুলা, চৌকিদেখিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাম্পগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা গেছে। অনেক চালক ১৫ থেকে ২০টি পাম্প ঘুরেও জ্বালানি পাননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পাম্পে দৈনিক মাত্র ২০০০ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। এতে পরিবহন খাতে কার্যত স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে বহু গুণ।

উত্তরের জেলা বগুড়ায় জ্বালানি সংকট সরাসরি আঘাত হেনেছে কৃষিতে। চলতি বোরো মৌসুমে যখন সেচের জন্য ডিজেলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই তা পাওয়া যাচ্ছে না। জেলায় প্রতিদিন ২৮০ থেকে ৩০০ টন ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২০ থেকে ২৪০ টন। ফলে প্রতিদিনই ৫০ থেকে ৬০ টনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। অনেক কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে জমিতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না, উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ছে।

নাটোরে এই সংকট ঘিরে উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বড়াইগ্রামে একটি পাম্পে ডিজেল দিতে দেরি হওয়ায় ট্রাকচালকের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই রাতে অন্য একটি পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে তেল সরবরাহের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনকালে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পূর্ণ মজুত আছে এবং জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত ক্রুড অয়েল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদনে। এক পর্যায়ে পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাকি ইউনিটগুলোতে ‘ডেড স্টক’ দিয়ে শোধন কার্যক্রম চালাতে হয়েছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে নতুন কার্গো আসার পর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, সরবরাহে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সরকার আগে থেকেই পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়িয়েছে। এই কৌশল কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানান, যাতে জনমনে অযথা আতঙ্ক না ছড়ায়।

বিশেষ সুবিধা চেয়েছে পুলিশ
এদিকে সংকটের মধ্যেই বিশেষ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, জ্বালানি নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, এতে জরুরি দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটছে। আসামি ধরতে অভিযান, টহল কিংবা দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো সব ক্ষেত্রেই সময় নষ্ট হচ্ছে। তাই দেশের সব পাম্পে পুলিশ সদস্যদের জন্য আলাদা লাইন বা বিশেষ বুথ চালুর দাবি জানিয়েছে তারা।
(তথ্য পাঠিয়ে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা)

পারমাণবিক সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড়?

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ছেড়ে দিলে বিনিময়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের স্থগিত সম্পদ ছাড় দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিন পাতার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চূড়ান্ত হলে চলমান যুদ্ধের ইতি ঘটতে পারে।

চুক্তির মূল বিষয় কী?
আলোচনায় থাকা প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু দুটি বিষয়—ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (প্রায় ২ হাজার কেজি) হস্তান্তর বা নিষ্ক্রিয় করবে। আরেকটি বিষয় হলো- যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সম্পদ অবমুক্ত করবে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

ইউরেনিয়াম নিয়ে সমঝোতার পথ
এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কয়েকটি বিকল্প আলোচনায় রয়েছে—ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো। ইরানের ভেতরেই ‘ডাউন-ব্লেন্ড’ (কম সমৃদ্ধ করা) অথবা আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় রাখা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে ইরান প্রস্তাব দিয়েছে ৫ বছরের জন্য। এই ব্যবধানই এখন আলোচনার অন্যতম বড় বাধা।

চুক্তির সম্ভাবনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
সূত্রগুলোর ভাষ্য, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে, যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতভেদ রয়ে গেছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছে।

আলোচনা সফল হলে ইসলামাবাদে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

দুই পক্ষের লক্ষ্য
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সরানো। অন্যদিকে ইরানের লক্ষ্য হলো- নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পুনঃপ্রবেশ এবং স্থগিত সম্পদ ফিরে পাওয়া।

তবে এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ, অতীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এর ইরান চুক্তির সময় অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প ও তার সমর্থকেরা। এবার একই ধরনের প্রস্তাব সামনে আসায় ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ প্রশ্ন উঠতে পারে।

এদিকে আলোচনার অগ্রগতির কথা স্বীকার করলেও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন- ‘কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।’ এতে আলোচনার বাস্তব অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

চুক্তি হলে কী হতে পারে?
এই চুক্তির ইতিবাচক দিক হলো- যুদ্ধের অবসান হবে। অন্যদিকে পারমাণবিক সংকট কমে আসবে এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে। তবে ঝুঁকি হচ্ছে- ইরান পুরোপুরি প্রতিশ্রুতি রাখবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের বিশেষ করে ইসরায়েল আপত্তি জানাতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে নতুন সংকটের সম্ভাবনাও রয়েছে।

‘ক্যাশ ফর ইউরেনিয়াম’
এই প্রস্তাব একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত, অন্যদিকে বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকি। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ দিয়ে নিরাপত্তা কিনতে চাইছে। অন্যদিকে ইরান অর্থের বিনিময়ে চাপ কমাতে চাইছে। সম্প্রতি ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা আলোচনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে- আর ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে।

হোতাসহ গ্রেপ্তার ৪ মারামারি ও আর্থিক বিরোধের জেরে আসাদুল হত্যা: পুলিশ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসাদুল ও আসামিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আসামি আকতার হোসেনকে একসময় মারধর করে গুরুতর আহত করেন আসাদুল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। এছাড়া আর্থিক লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান।

তিনি জানান, এই ঘটনায় জড়িত চারজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

তারা হলেন- মো. মুন্না, আকতার হোসেন, মিরাজ ফকির ও নয়ন ওরফে খোকন। তাদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ও একটি মোটর সাইকেল।

উপকমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করি। প্রথমে আমরা মোহাম্মদপুর ও আশাপাশের এলাকায় অভিযান চালাই। পরে কেরানীগঞ্জ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের হোতাসহ চারজনকে আটক করি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে আলামত হিসেবে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার জব্দ করা হয়।

police 1776500311

তিনি বলেন, নিহত আসাদুল ও গ্রেপ্তার আকতারের মধ্যে বেশ কিছুদিন আগে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। যার প্রেক্ষিতে আসাদুলকে আসামীকে করে একটি মামলা করে আকতার। সেই মামলার আসাদুল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় এবং জেলেও যায়। কিছুদিন আগে আসাদুল জামিনে বের হয়ে আসে। এছাড়া আকতার ও আসাদুলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত একটি বিরোধও আছে। এই দুটি কারণে আকতার প্রতিশোধ নিতে আসাদুলকে তারই বন্ধুদের সহায়তায় মধ্যরাতে ডেকে এনে ছুরিকাঘাতে এবং ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। গ্রেপ্তার চারজনের বাইরেও আমরা আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তাদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যহত রয়েছে।

তিনি জানান, এই ঘটনায় নিহতের চাচাতো বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদনও করবো।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত নিহত আসাদুলের নামে ৬টি মামলা পেয়েছি। এর মধ্যে ৪টি মাদক মামলা, একটি অন্য ধারার মামলা, অন্যটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা। গ্রেপ্তার মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের ৭টি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি ও নয়নের বিরুদ্ধে দুটি মামলা পেয়েছি। আকতারের বিরুদ্ধে আমরা এখনো কোনো মামলা পাইনি।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা বড়। এখানে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। রায়েরবাজার, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান—এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনায় দেখা গেছে, বাইরে থেকে কিছু সন্ত্রাসী এসে অপরাধ করে আবার চলে গেছে এবং অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এজন্যই আমরা ঢাকার বাইরে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আমরা চেকপোস্ট জোরদার করব এবং চলমান অভিযান আরও শক্তিশালী করব, যাতে বাইরে থেকে এসে কেউ অপরাধ করতে না পারে এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আকতারের রাজনৈতিক পরিচয় পেয়েছি। সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার সাদেক খানের ইটখোলা সংলগ্ন রাস্তায় আসাদুলকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। তিনি বরিশালের গৌরনদী থানার কালনা এলাকার জলিল সর্দারের ছেলে। পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের মেট্রো হাউজিংয়ের বি-ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।