Home Blog Page 149

বৈশাখের গরমে ত্বক ঠান্ডা রাখবে যেসব অভ্যাস

বৈশাখের দিনে বা গরমে ঘোরাঘুরি মানেই ত্বকে রোদ, ঘাম আর ধুলাবালির প্রভাব। প্রকৃতির এই রুক্ষ সময়টায় ত্বকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়- ‘ডিহাইড্রেইশন’ বা পানিশূন্যতা, র‌্যাশ, ব্রণ, রোদে পোড়া ভাব- সব মিলিয়ে ত্বক যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শুধু সুন্দর মেকআপ করলেই হবে না, বরং ঠান্ডা ও স্বস্তিতে রাখাও জরুরি।

তবে প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ত্বককে রাখা যায় সুস্থ ও সতেজ। এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন বিউটি বিশেষজ্ঞ ড. ব্লসম কোচার।

গ্রীষ্মকালীন ত্বকের যত্নের ৭টি জরুরি অভ্যাস

১. সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
রোদ থেকে ত্বক রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সানস্ক্রিন। বাইরে যাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে ব্যবহার করুন। তারপর ২-৩ ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগান। সেক্ষেত্রে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন বেছে নিন।

২. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
গরমে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে ত্বকে। তাই প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এছাড়া তরমুজ, শসা, কমলার মতো জলসমৃদ্ধ ফল খান।

৩. হালকা ক্লিনজার ব্যবহার করুন
গরমে ঘাম ও তেল বেশি জমে, তাই পরিষ্কার রাখা জরুরি। দিনে ২–৩ বার মুখ ধুতে পারেন। তবে সেক্ষত্রে হার্শ সাবান এড়িয়ে চলুন।

৪. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই-এটা ভুল। হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৫. ঠান্ডা উপাদান ব্যবহার করুন
গরমে ত্বক জ্বালা বা লালচে হয়ে যেতে পারে। তাই অ্যালোভেরা, শসার নির্যাস ও হালকা এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বককে ঠান্ডা ও আরাম দেয়।

৬. রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন
শুধু ক্রিম নয়, অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। রোদ থেকে বাঁচতে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন। বাইরে গেলে সানগ্লাস পরুন। সম্ভব হলে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে রোদ এড়িয়ে চলুন।

৭. ত্বকবান্ধব খাবার খান
ত্বকের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ভর করে খাদ্যের ওপর। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বীজ খেতে পারেন।

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে।

শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় উপস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকলেও সাধারণ বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা হতো।

জৈব পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, খরচ কম, স্বাদ বেশি

‘আগে তরমুজ চাষ করে লাভ হতো না, এবার নতুন পদ্ধতিতে চাষ করেছি। এতে খরচ কমেছে। ফলনও বেশি হয়েছে।’

কথাগুলো বলছিলেন ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার চাষি ইসমাইল মাঝি। কখনও নিজের জমিতে, কখনও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করেন আবুবকরপুর ইউনিয়নের এই কৃষক।

তিনি জানান, গত বছর বাজারের কেনা বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনিসহ অনেক চাষি। এ বছর কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারে তরমুজ আবাদ করে ফলন ভালো হওয়ায় তিনি লাভবান হয়েছেন। এ বছর তিনি আড়াই একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। জমি বর্গার টাকা ও আবাদ খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা পেয়েছেন।

শুধু ইসমাইল মাঝি নন; চরফ্যাসনের অনেকেই জৈব সার ব্যবহারে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে কীটনাশকের খরচ কম এবং রাসায়নিক সার ব্যবহার না করার কারণে তরমুজের আকার বড় হয়েছে। এগুলো বেশ মিষ্টি। দামও পাওয়া যায় বেশি।

খরা আর লবণাক্ততার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দক্ষিণাঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন তরমুজের সমারোহ। সবুজ লতাপাতার মধ্যে পরিপুষ্ট তরমুজ যেন হাসিমুখে উঁকি দিচ্ছে চারদিকে। রাসায়নিক নির্ভরতা থেকে সরে এসে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। সেই সিদ্ধান্তই এনে দিয়েছে বাম্পার ফলন, কম খরচ আর নতুন আশা। ভোর থেকে শুরু হয় তরমুজ তোলার কাজ। শ্রমিকরা দলবেঁধে মাঠে যান। কেউ বাছাই করেন, কেউ আবার ট্রাকে তোলেন। গ্রামের ভেতরের কাঁচা রাস্তা দিয়ে একের পর এক ট্রাক ঢুকছে। অনেক জায়গায় রাস্তা এতটাই সরু যে ট্রাক যাওয়া কঠিন। তবু থেমে নেই গতি। নদীর ঘাটে গেলে দেখা যায় আরও বড় আয়োজন– কার্গো জলযান আর লঞ্চ ভিড়ছে, তরমুজ বোঝাই হচ্ছে। এগুলো যাচ্ছে বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা পাইকাররা এখন সরাসরি মাঠে হাজির। আগের মতো আড়তে অপেক্ষা নয়; এখন ক্ষেতেই লেনদেন। এই মৌসুমে চরফ্যাসনের গ্রামগুলোতে একটা ভিন্ন রকম প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। দিনমজুররা কাজ পান, নারীরা বাছাই ও পরিবহনে যুক্ত হন, কিশোররা ছোটখাটো কাজ করে আয় করে। এমনকি শিশুরাও আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে– তরমুজ কাটার সময় তাদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসে। কেউ তরমুজ কেটে বিক্রি করছে, কেউ পাইকারি দামে বিক্রি করছে। হাটবাজারে ভিড় বাড়ে। গ্রামের অর্থনীতি যেন হঠাৎ করেই গতি পায়। এই পুরো চিত্র দেখলে বোঝা যায়, একটা ফসল পুরো সমাজকে আলোড়িত করতে পারে।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক বিস্তৃতি রয়েছে চরকলমী, মুজিবনগর, নজরুলনগর, নীলকমল, নুরাবাদ, আবুবকরপুর, আহম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। চাষ হয়েছে গ্লোরি, হাইব্রিড, ড্রাগন, থাই সুপার, সাইকিং, বেঙ্গল কিং, গ্রেড ওয়ান, বিগ ফ্যামিলি, আনন্দসহ বিভিন্ন জাতের তরমুজ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪০ একর জমিতে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষকরা হঠাৎ করে জৈব পদ্ধতিতে আসেননি। এর পেছনে আছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। গত বছর বাজার থেকে কেনা রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার করে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েন। ফলন কমে যায়, রোগবালাই বাড়ে, খরচ বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠে আসেনি। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর অনেকে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার শুরু করেন। এতে তারা দেখেন, মাটির গুণাগুণ ভালো থাকে, রোগ কম হয়, খরচও কমে। সবচেয়ে বড় কথা, ফলন ভালো হয়।

তরমুজচাষি আজিজুর রহমান বলেন, ‘আগে বুঝতাম, বেশি ওষুধ মানে ভালো ফলন। এখন বুঝি, কম খরচে ঠিকমতো চাষ করলে ফলন ভালো হয়, লাভও হয়।’ চরফ্যাসন উপজেলার আবুবকরপুর ইউনিয়নের কৃষক শাকিল ফরাজী তিন একর জমিতে প্রথমবারের মতো জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেছেন। তাঁর ক্ষেতের ফলন অন্যদের তুলনায় বেশি হয়েছে। শাকিল বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কখন চারা রোপণ করতে হবে, কীভাবে সুষম সার ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে– এসব শেখানো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট করা হয়েছে, যাতে কৃষকরা দেখে শিখতে পারেন।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, তরমুজ চাষে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে অনেক কৃষক ধান চাষ ছেড়ে তরমুজের দিকে ঝুঁকছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষ বেশি হয়েছে। ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক সহজলভ্য হওয়ায় এসব ব্যবহারে প্রায় ৪০ একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন চাষিরা। আশা করি, আগামী বছর এই পদ্ধতির প্রতি কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করে তরমুজের আবাদ সম্ভব। টিস্যু কালচার প্রকল্পের আওতায় জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা প্রতিটি তরমুজ তিন থেকে পাঁচ কেজি ওজনের হয়। এ তরমুজের খাদ্যগুণ ও নান্দনিকতায় ক্রেতারা মুগ্ধ। এ জন্য দাম ভালো। অল্প খরচে কৃষকরা এ ফলের আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে কৃষকরা যাতে আরও ব্যাপক পরিসরে জৈব পদ্ধতিতে তরমুজের আবাদে উদ্বুদ্ধ হন, সেই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, ভোলা জেলার চরফ্যাসনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি উত্তম চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত জাতের চারা রোপণের বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রদর্শনী উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চরফ্যাসনে কোনো হর্টিকালচার সেন্টার নেই। প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি হর্টিকালচার সেন্টার ও টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের উন্নতমানের চারাপ্রাপ্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জৈব পদ্ধতি, আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক প্রশিক্ষণ মিললে উপকূলীয় এলাকাও কৃষিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। কিন্তু এই ধারা ধরে রাখতে হলে জৈব সার ও বালাইনাশকের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।

ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে তিন পেসার

০

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম। মিরাজের নেতৃত্বাধীন স্বাগতিক বাংলাদেশ দল আগে ফিল্ডিংয়ে নামছে।

মিরপুরে দিবারাত্রির এই ম্যাচটি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টায়। বাংলাদেশে এমন সময়ে ওয়ানডে ম্যাচ শুরু হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। মূলত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েই ম্যাচের সময় এগিয়ে এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সরাসরি ২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততার কারণে নিউজিল্যান্ড এই সিরিজে তাদের নিয়মিত তারকাদের কাউকেই পাচ্ছে না। ফলে একেবারেই নতুন চেহারার অনভিজ্ঞ এক দল নিয়ে খেলতে এসেছে তারা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে কিউইদের বিপক্ষে পরিসংখ্যানও স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ২০০৪ সালের পর বাংলাদেশ সফরে এসে কোনো সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৩ সালের সফরে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে হেরেছিল তারা। আর সবশেষ ২০২৩ সালে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল।

পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা তৃতীয় ওয়ানডের একাদশ থেকে একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের জায়গায় দলে এসেছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

উচ্চাভিলাষী সংস্কার শুরুর এখনই সময় বাংলাদেশের

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা একটি নতুন সরকারের জন্য উচ্চাভিলাষী সংস্কার শুরু করার এখনই সঠিক সময়। বাংলাদেশে রাজস্ব ও আর্থিক খাত সংস্কার এবং আর্থিক খাত পুনর্গঠন ও বিনিময় হার সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেক কাজ করা প্রয়োজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন মত দেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। আইএমএফের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ‘এশীয় ও প্যাসিফিক আউটলুক’-এর সারমর্ম উপস্থাপনায় কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীলতা এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ অঞ্চলে নতুন জ্বালানি ধাক্কার নেতিবাচক প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলছে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে আইএমএফের পরিচালক বলেন, দুটি দেশেই আইএমএফ-সমর্থিত প্রোগ্রাম রয়েছে। শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে গত তিন বছরে তারা জিডিপির অংশ হিসেবে কর রাজস্ব বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তারা ধীরে ধীরে ‘আর্থিক বাফার’ তৈরি করেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তারা এখন ভালো অবস্থানে আছে। শ্রীলঙ্কার জন্য মূল নীতি হলো, এই সহায়তাকে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং সাময়িক করা, যাতে হাতের সম্পদগুলো দক্ষভাবে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশের রাজস্বের ভিত্তি এবং রাজস্ব আদায় উভয়ই বেশ কম। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিতে তারা অনেক বেশি হিমশিম খাচ্ছে।

তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, তাই যে সম্পদই থাকুক না কেন, তা যতটা সম্ভব সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবহার করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তাদের রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে, যা বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো করেনি। এটি বেশ কম এবং গত তিন বছরে জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় আরও কমেছে। এ ছাড়া আর্থিক খাতের অন্যান্য বাধাও তাদের বিবেচনায় নিতে হবে, যাতে নিকটবর্তী ও দীর্ঘ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা যায়।
বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানিতে আইএমএফ ঋণ দেবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রীনিবাসন বলেন, এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জ্বালানি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ তারা প্রচুর জ্বালানি আমদানি করে। নীতি সহায়তা ও প্রোগ্রামগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কাজ করছেন। আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
জ্বালানির মজুত কম থাকলে ঝুঁকি বেশি

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি অত্যন্ত জ্বালানিনির্ভর। তেল ও গ্যাসের ব্যবহার অঞ্চলটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশ, যা ইউরোপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কিছু দেশে, যেমন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে, এই হার ১০ শতাংশেরও বেশি। এর ফলে জ্বালানির দামের সামান্য পরিবর্তনও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
এতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সীমিত হওয়ায় এই অঞ্চলের দেশগুলোকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয়। সামগ্রিকভাবে এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস আমদানি জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ। আইএমএফ মনে করে, এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ঝুঁকি মূলত নিম্নমুখী। যদি জ্বালানির দাম আরও বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ থাকে, তাহলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা উচ্চ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া যেসব দেশে জ্বালানির মজুত কম, আর্থিক সক্ষমতা সীমিত কিংবা রেমিট্যান্স, পর্যটন বা সার আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেসব দেশে ঝুঁকি আরও বেশি।

বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী আইএমএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে ২০২৭ সালের মধ্যে বড় এশীয় অর্থনীতিগুলোর উৎপাদন প্রায় ০.৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। আরও গুরুতর পরিস্থিতিতে এই ক্ষতি প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সুতরাং নীতিনির্ধারকদের জন্য স্বল্প মেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এই জ্বালানি ধাক্কা সামাল দেওয়া, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাজারের সঠিক মূল্য সংকেত নিশ্চিত করা।
শ্রীনিবাসন বলেন, জ্বালানি ধাক্কার নেতিবাচক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবণতা এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে। ফলে জানুয়ারির পূর্বাভাসের তুলনায় এশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এশিয়া এখনও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫ সালে যেখানে প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ ছিল, তা ২০২৬ সালে কমে ৪.৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.২ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

এনসিপির নিশানায় বিএনপির বিদ্রোহীরা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির যেসব নেতা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদের দলে টানার চেষ্টা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে এই নেতাদের সমর্থন করায় যেসব নেতাকর্মী বিএনপি-ছাড়া হয়েছেন, এনসিপিতে এলে তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিএনপির দিক থেকে এনসিপিকে পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর জোট ছাড়লে সহযোগিতা করা হবে। একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করে বলেছেন, বিএনপির প্রস্তাব এনসিপি গ্রহণ করেনি।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ঢাকার একটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া এক নেতার সঙ্গে এনসিপির আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে মামলা ও কারাবাসের জন্য আলোচিত এই নেতা বিএনপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছেন। এনসিপি তাঁকে দলে ভিড়িয়ে রাজধানীতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে চাচ্ছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ৭৮টি আসনে বিএনপির ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের সবাই বহিষ্কৃত হন দল থেকে। এর মধ্যে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করে নির্বাচিত হয়েছেন। বহিষ্কৃত নেতাদের কয়েকজন বিএনপিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে এরই মধ্যে এনসিপি যোগাযোগ করেছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব আলোচনায় অংশ নিতে ওই এমপি সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। জামায়াত তাঁকে সুযোগ দেয়নি। তবে এনসিপি তাঁকে নিজেদের কোটা থেকে সময় দিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী সবার জন্য এনসিপির দরজা খোলা। যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসের কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন, তাদের এনসিপিতে নেওয়া হবে না। যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসমুক্ত রাজনীতি করতে বিএনপি ছাড়তে চান, তাদের এনসিপিতে স্বাগত জানানো হবে। স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া হবে কিনা, তা জোট, দলে যোগ দেওয়া এবং তখনকার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দখল, চাঁদাবাজি, সহিংসতা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা অভিযোগে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বহিষ্কার হন এক হাজারের বেশি নেতা। এনসিপি দল বড় করতে গণহারে সবাইকে নেবে কিনা– এ প্রশ্নে আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, আদর্শিক অবস্থানের কারণে যারা পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি করতে চান না, সংস্কার চান, গণভোটকে সম্মান করেন, তাদের জন্য এনসিপির দুয়ার খোলা।

‘জিয়া, খালেদার অনুসারীদের’ স্বাগত
গত শুক্রবার এক বৈঠকে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেন। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহকে। এর অংশ হিসেবেই পহেলা বৈশাখ বিকেলে চট্টগ্রামে বিএনপির সাবেক মেয়র মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

এ সাক্ষাতের খবর জানাজানি হওয়ার পর কয়েক যুবক মনজুর আলমের বাসার ফটকে অবস্থান নেন। তারা মনজুর আলমকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে হাসনাতকে প্রশ্ন করেন, একজন জুলাইযোদ্ধা হয়ে কেন তিনি আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় এসেছেন? মনজুর ও হাসনাত– উভয়ের ভাষ্য, সাক্ষাৎটি ছিল  সৌজন্যমূলক।

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর আলম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর ছিলেন। আওয়ামী লীগের সমর্থন না পেলেও ২০১০ সালে মেয়র পদে প্রার্থী হন তাঁর এক সময়ের রাজনৈতিক গুরু ও দলের নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সেই সময় মনজুর আলমকে মেয়র পদে সমর্থন দেন। নির্বাচনে জয়ী মনজুর আলম পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ পান। ২০১৫ সালের নির্বাচনেও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ছিলেন মনজুর আলম। ভোটের দিন কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান মনজুর আলম। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তবে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালান। বিএনপির মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের জনসভার দিন তিনি সক্রিয় ছিলেন।

এর পরও বিএনপিতে ফিরতে না পারায় মনজুরকে দলে টানার চেষ্টা করছে এনসিপি। যদিও তিনি নিশ্চিত করেননি– চট্টগ্রামে মেয়র পদে এনসিপি সমর্থিত প্রার্থী হবেন কিনা। হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, এনসিপির সাংগঠনিক বিস্তারের জন্য অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার একজন সাবেক উপদেষ্টা মনজুর আলমের সঙ্গে কথা হয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শের রাজনীতি যারা করেন, তাদের সঙ্গে এনসিপি কথা বলছে, বলবে। তারা কেউ এনসিপিতে এলে স্বাগত জানানো হবে।

বিদ্রোহীদের সমর্থকদের বিষয়েও আগ্রহ
গত সংসদ নির্বাচনের আগে ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হন তিন শতাধিক নেতা। এর মধ্যে উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও রয়েছেন। তারা নির্বাচনের পর পদ হারিয়ে বিজয়ী এমপির সমর্থকদের চাপে রয়েছেন। কয়েক জায়গায় এমন বহিষ্কৃত নেতারা নির্বাচনকালীন সহিংসতার মামলায় আসামি হয়েছেন।

ময়মনসিংহের একটি উপজেলার বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক সমকালকে বলেন, পদ গেছে, তাঁর সমর্থিত প্রার্থীও হেরেছেন। এ কারণে নির্বাচনের পর এলাকায় থাকতে পারছেন না। নতুন এমপি ও সমর্থকদের মামলায় জড়িয়ে সব কূল হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলের সাড়ে ১৫ বছরেও এমন কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন না। এনসিপির নেতারা যোগাযোগ করে এলাকায় ফেরার জন্য সাহস দিয়েছেন। উপজেলা বা পৌর নির্বাচনে অংশ নিলে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিএনপি ছাড়তে চান না– জানিয়ে এ নেতা সমকালকে বলেন, পরিস্থিতি বিষয়ে উঠেছে নিজ দলের এমপির কারণেই। যাঁর পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন, তিনি আর সেভাবে খবর রাখছেন না। সর্বমুখী চাপের কারণেই এনসিপির প্রস্তাব বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে।

এনসিপির কয়েক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেন, স্থানীয় নির্বাচনও তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে করতে চান। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সংসদ নির্বাচনে পুরোপুরি জামায়াত-নির্ভর হতে হয়েছিল। এখন তারা সেই নির্ভরতা দূর করে নিজস্ব অবস্থান তৈরির জন্য তৃণমূলের অভিজ্ঞ, সাহসী নেতাকর্মী খুঁজছেন। শুধু তরুণদের দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জীবিকার অনিশ্চয়তার কারণে তরুণরা সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে থাকতে চান না। তাই অন্য দলের পুরোনো নেতাকর্মীদের দিকে হাত বাড়াতে হচ্ছে।

এই নেতারা আরও বলেন, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হতে চান এমন অসংখ্য নেতা আছেন। নির্বাচন নির্দলীয় হলেও যারা দল এবং স্থানীয় এমপির সমর্থন পাবেন, তারাই এগিয়ে থাকবেন। বিএনপির বহু ত্যাগী নেতাকর্মী বঞ্চিত হতে পারেন। তাদের নির্বাচনে জোটের সমর্থন পাইয়ে দিয়ে এনসিপিতে টানা সম্ভব। আবার যোগদানের পদ্ধতির কারণে তারা জামায়াতেও যেতে পারবেন না।

এনসিপিও ‘প্রস্তাব’ পেয়েছিল
এনসিপির এক এমপি সমকালকে জানান, সরকারের দিক থেকে তাদের কাছেও প্রস্তাব এসেছিল। গত সপ্তাহে বিএনপির এক এমপি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রস্তাব করেন, জামায়াত জোট ছাড়লে সহযোগিতা পাবে এনসিপি। সরকারের সঙ্গে থেকে দল বিস্তারের সুযোগ পাবে।

এনসিপির একাধিক নেতা সমকালকে বলেন, এনসিপি নিজেদের গড়ে তুলতে বিরোধী দলের রাজনীতিই করতে চায়। সরকারের সঙ্গে থেকে অতীতে কোনো দলের রাজনীতি দাঁড়ায়নি। এনসিপি জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য এবং সংস্কারের দাবি পূরণে আগামী পাঁচ বছর সরকারের বিরোধিতায় উচ্চকিত থাকবে। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের সম্পর্ক রাখা হবে; তা আদর্শিক পর্যায়ে নেওয়া হবে না। এ কারণে জামায়াত বিরোধিতা করলেও এনসিপি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞাকে সমর্থন করেছে।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুবই কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন যে, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ ‘প্রায় সব কিছুতেই রাজি হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এমন অনেক কিছুই ইরান এখন করতে রাজি, যেগুলো তারা এতদিন করতে রাজি ছিল না।

যদি ইরানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং ইসলামাবাদে তা স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তানে যেতে পারেন বলেও জানান ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে; কারণ ওই তারিখের আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকটি এই সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

যদি ইরানের সাথে কোনো চুক্তি না হয়, তবে যুদ্ধ আবারও শুরু হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ ‘বেশ কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে’।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে প্রায় তিন হাজার মানুষের। নিহতের তালিকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও আছেন।

এদিকে পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে নিশানা বানিয়েছে ইরান।

জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় এক ডজন দেশে হামলা চালিয়েছে তারা।

প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এ যুদ্ধে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা; অস্থিরতা তৈরি হয়েছে জ্বালানি পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে।

শুভ নববর্ষ

০

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩, পহেলা বৈশাখ। বাংলাদেশে নববর্ষ ১৪ই এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গে ১৫ই এপ্রিল। এরশাদ সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে এ ঘাপলা লাগিয়ে দিয়েছেন। আর একদল ভন্ড যারা চিৎকার করে বলেন, আকবর নাকি বাংলাবর্ষের প্রবক্তা। এটি বাংলা ১৪৩৩, আকবর ভারত শাসন করেছেন হাজার খানেক বছর আগে (১৫৪২-১৬০৫), অর্থাৎ আকবরের প্রায় ৫শ’ বছর আগেই বাংলা সন চালু ছিলো। আর অবাঙ্গালী আকবরের বাংলা সনের প্রতি কি প্রেম ছিলো কেজানে? রাজা শশাঙ্ক প্রণীত বাংলা সনের পহেলা বৈশাখ ১৫ই এপ্রিল।

তারেক রহমান বেইলি রোডে স্ত্রীকন্যাকে নিয়ে নাটক দেখেছেন। এরআগে তিনি ম্যুভি দেখতে গিয়েছিলেন, এনিয়ে অযথা ট্রল হয়েছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক সুফী পীরকে তৌহিদী জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননা নামক যন্ত্রনা কবে শেষ হবে কেজানে? বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার যত নাটক হয় পৃথিবীর অন্যদেশে তা দেখা যায়না। অনেক মুসলিম দেশে ধর্ম রক্ষায় ‘ব্লাসফেমী’ আইন রয়েছে, বাংলাদেশ তা নেই কিন্তু সিএসএ (সাইবার সিকিউরিটি এক্ট) এজন্যে ব্যবহার করা হয়।

বাগেরহাটে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করতে কুমিরের টোপ হিসাবে একটি কুকুরকে বেঁধে রাখা হয়েছিলো, কুমির কুকুরটি খেয়ে ফেলেছে। আমাদের দেশে পশুকে ‘ইতর’ প্রাণী বলা হয়, এঘটনায় কুকুরটি ইতর না কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইতর তা বলা ততটা কঠিন নয়? দেশে হামে শিশুরা ভুগছে ও মরছে, প্রথম আলোর একটি হেডিং, ‘মেয়ের শেষ আবদার, বাবা আমাকে বুকে নাও, পানি দাও’ হৃদয় বিদারক। ইউনুস শাসনামলের এটি আর একটি অপকর্ম, এজন্যে কি মামলা বা কারো শাস্তি হবে? কুকুরকে টোপ হিসাবে ব্যবহার করা এবং শিশুদের হামের টিকা বন্ধের মধ্যে নিষ্ঠূরতা স্পষ্ট।

ছাত্রদল নেতা আবিদ বলেছেন, বেগম রোকেয়ার চেয়ে জাইমা রহমান নারীদের অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এই হলো দেশের ছাত্রনেতা, এই চামচারাই নাকি দেশের ভবিষ্যৎ? ইউনুস আমলে দেশবাসী বেগম রোকেয়ার ছবির ওপর ‘মাগী’ লেখা পোষ্টার দেখেছে। হয়তো একই কারণে কবি নজরুল ইসলামের পাশে সন্ত্রাসী হাদী ঘুমিয়ে আছে! এটি ভন্ড রাজনীতি। কোথাকার এক কবি ও ভাষাশিল্পী কাজী জহিরুল ইসলাম বলেছেন, হাদির আদর্শেই আগামীর বাংলাদেশ নির্মিত হবে। মনে হয়, এই ভাষাশিল্পীর ভাষাও হাদির মতই? দেশটা চামচা ও জঙ্গীতে ভরে গেছে।

ট্রাম্প নিশ্চিত ছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ভেঙ্গে যাবে, তাই হয়তো তিনি ঐসময়ে মায়ামীতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে ফাইটিং দেখছিলেন। নিকট ভবিষ্যৎ বলবে, ইরানী নেতাদের গর্ত থেকে বের করে নিয়ে আসা কি এ বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিলো কিনা? ইউএসনেভি হরমুজে মাইন্ পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে হরমুজে টোল নিতে দেয়া হবেনা। মিডিয়া জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ শুরু করেছে। অনেক দিন আগে জহুর হোসেন চৌধুরী লিখেছিলেন যে, ‘কার্টারের বিচি ফাঁটা বাঁশে আটকে গেছে, ট্রাম্পের অবস্থা কি তাই? ট্রাম্প আজ বলেছেন, ইরান নুতন আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানও চায় আলোচনা নুতন করে শুরু হোক। তবে এটি স্পষ্ট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়? ইসরাইল যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র মধ্যস্থতায় আজ মঙ্গলবার ওয়াশিন্টনে ইসরাইল-লেবানন আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক
১৪ই এপ্রিল ২০২৫

ভূত বাংলো’ বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে কুসংস্কার-ভয়াবহ কিছু বিশ্বাস

০

প্রায় দেড় দশক পর বলিউডের বরেণ্য নির্মাতা প্রিয়দর্শন আর অভিনেতা অক্ষয় কুমার জুটির পুনর্মিলন। একসময় যাদের হাতে ‘হেরা ফেরি’, ‘গরম মসালা’, ‘ভুলভুলাইয়া’র মতো হাস্যরসের ক্লাসিক সিনেমা তৈরি হয়েছিল, সেই জুটি আবার ফিরছে ‘ভূত বাংলো’ নিয়ে। টিজার আর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের মনে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে– এটা কি শুধুই পুরোনো ফর্মুলার আধুনিক সংস্করণ, নাকি এই ঘরানাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার এক আন্তরিক চেষ্টা?

‘ভূত বাংলো’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মঙ্গলপুর নামে এক গ্রাম। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি সাধারণ কোনো গ্রাম নয়। এখানে বাস্তবতার সঙ্গে মিশে আছে লোককথা, কুসংস্কার এবং ভয়াবহ কিছু বিশ্বাস। গ্রামের সবচেয়ে ভয়ংকর গল্পগুলোর একটি হলো– বিয়ের সানাই বাজলেই নাকি জেগে ওঠে এক অশুভ শক্তি, ‘বধাসুর’। সেই শক্তির উপস্থিতি শুধু আতঙ্কই নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই যেন স্থবির করে দেয়। যার কারণে গ্রামের মানুষরা যেন এক অদৃশ্য কারাগারে বন্দি, যেখানে বিবাহ উৎসব মানেই মৃত্যুর অশনিসংকেত।

এ ধরনের গল্পের বড় শক্তি হলো এর ‘কালচারাল হরর’ টোন। অর্থাৎ এখানে ভূতের ভয় শুধু অতিপ্রাকৃত নয়; বরং সামাজিক বিশ্বাস ও যৌথ মানসিক আতঙ্কের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। প্রিয়দর্শন এই জায়গাটিতেই তাঁর পুরনো দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারেন। যেখানে ভয়কে অত্যন্ত সিরিয়াসলি না নিয়েও তার ভেতর থেকে স্বাভাবিকভাবে কমেডি বের করে আনা হয়। ‘ভুলভুলাইয়া’য় তিনি সেটা করেছিলেন; ‘ভূত বাংলো’য় তা আরেকবার দেখার অপেক্ষা।

সিনেমার টিজার ইঙ্গিত দিচ্ছে, একদল শহুরে মানুষ কোনো না কোনো কারণে এই ‘অভিশপ্ত’ গ্রামে এসে পড়ে এবং সেখান থেকেই গল্পের শুরু হয়। তাদের কাছে ‘বধাসুর’ একটি অবিশ্বাস্য কাহিনি মাত্র, গ্রামের মানুষের কুসংস্কারের আরেকটি নাম। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা বুঝতে শুরু করে যে, এখানকার প্রচলিত ভয়গুলো কেবল কল্পনা নয়; বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার সত্য। এই ‘আউটসাইডার ইন অ্যা কনফিউজিং সিস্টেম’ ফর্মুলা প্রিয়দর্শনের জন্য একেবারেই পরিচিত। এখানে কমেডি তৈরি হয় অজ্ঞতা, ভুল বোঝাবুঝি এবং পরিস্থিতির চাপ থেকে। শহুরে চরিত্ররা যখন গ্রামীণ রীতিনীতি ও কুসংস্কার বুঝতে ব্যর্থ হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হয় হাসির পরিস্থিতি। ফলে দর্শক একদিকে ভয় অনুভব করে, আবার অন্যদিকে চরিত্রগুলোর অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে হাসে। এই দ্বৈত অনুভূতিই সফল হরর-কমেডির প্রাণ।

এই সিনেমার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে অভিনেতা অক্ষয় কুমার। তাঁর কমেডি টাইমিং একসময় বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী ফর্মুলা ছিল। বিশেষ করে প্রিয়দর্শনের পরিচালনায় তিনি যে ধরনের ‘অ্যাবসার্ড সিচুয়েশনাল কমেডি’ তৈরি করেছেন। দ্রুত সংলাপ, শারীরিক কমেডি, ভুল বোঝাবুঝির ওপর ভিত্তি করে গড়া পরিস্থিতি। তা আজও দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত। ‘ভূত বাংলো’য় তাঁর চরিত্র ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা সম্ভবত একাধিক স্তরে কাজ করবে।

তবে বড় প্রশ্ন হলো– আজকের দর্শকের রুচি কি সেই পুরোনো স্টাইলকে আগের মতো উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করবে? ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক মানের কনটেন্টে অভ্যস্ত দর্শক এখন আর শুধু ‘অতিরঞ্জিত অভিনয়’ আর ‘চিৎকারে’ হাসেন না। তারা চান স্মার্ট কমেডি, প্রাসঙ্গিক সংলাপ এবং আপডেটেড হাস্যরস। প্রিয়দর্শন-অক্ষয়কে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এই ছবির আরেকটি বড় শক্তি হলো এর অভিনয়শিল্পীদের তালিকা। পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব এবং আসরানি। এই তিনজনই ভারতীয় সিনেমায় কমেডির ভিন্ন ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। পরেশ রাওয়াল সাধারণত ‘রিয়েলিস্টিক কমিক রিঅ্যাকশন’ দিয়ে দৃশ্যকে ভর ও বাস্তবতা দেন। তাঁর সংযত অভিনয় অক্ষয়ের উন্মাদনার সঙ্গে চমৎকার কনট্রাস্ট তৈরি করে। রাজপাল যাদব বিশৃঙ্খলা ও অতিরঞ্জনের মাধ্যমে হাস্যরস তৈরি করেন। তাঁর অপ্রেডিক্টেবল টাইমিং এবং অদ্ভুত শারীরিক ভঙ্গি প্রায়শই সিনেমার সবচেয়ে হাসির মুহূর্ত তৈরি করে।

আসরানি পুরোনো বলিউড কমেডির সেই আইকনিক রিদম বহন করেন, যেখানে অভিনয়ের চেয়ে উপস্থিতি ও ডায়লগ ডেলিভারি বেশি কাজ করে। এই তিনজন একসঙ্গে থাকলে কমেডির সম্ভাবনা প্রায় ‘এক্সপ্লোসিভ’। তবে সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও পর্দাভাগ না থাকলে সেটি আবার অতিরিক্ত কোলাহল ও অপ্রয়োজনীয় ‘ওভারঅ্যাক্টিংয়ে’ পরিণত হতে পারে। প্রিয়দর্শনের চ্যালেঞ্জ হলো এই তিনটি ভিন্ন কমিক স্টাইলকে একটি সুসংহত সুরে বাঁধা।

রোম্যান্স ও রহস্যের জন্য এই সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ওয়ামিকা গাব্বি। অক্ষয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গল্পে একটি হালকা আবেগের স্তর যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিয়দর্শনের সিনেমায় রোম্যান্স সাধারণত খুব বেশি থাকে না; বরং এটি কমেডির মধ্যে মানবিকতা ও আবেগের ভারসাম্য তৈরি করতে আসে। খুব বেশি প্রেমের সাব প্লট কমেডির গতিকে ধীর করে দিতে পারে।

এই সিনেমায় টাবুর উপস্থিতি আরও জটিল ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। কারণ ‘ভুলভুলাইয়া’য় তিনি যেমন রহস্যময়ী মনজুলিকার চরিত্রে দর্শকের প্রত্যাশা ভেঙেছিলেন, এখানেও তাঁর চরিত্র ঘিরে রয়েছে রহস্য ও আবেগের এক চমৎকার মিশ্রণ। তিনি কি এই গ্রামের কোনো আত্মা? নাকি বধাসুরের গল্পের চাবিকাঠি?

অন্যদিকে পশ্চিমবাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত এখানে পারিবারিক বা সামাজিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছেন। বাংলার স্থানীয় অভিনেতার উপস্থিতি গল্পের লোকাল রিয়েলিজমকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

প্রিয়দর্শন বরাবরই একটি নির্দিষ্ট সিনেম্যাটিক ভাষার জন্য পরিচিত। তাঁর সিনেমায় ক্যামেরা সাধারণত চরিত্রের গতি অনুসরণ করে, খুব বেশি ভিজ্যুয়াল এক্সপেরিমেন্ট নয়। দ্রুত কাট, ক্লোজআপে চরিত্রের রিঅ্যাকশন এবং লং টেক যেখানে কমেডিক টাইমিং কাজ করে, এটাই তাঁর স্বাক্ষর। তিনি চাকচিক্যের চেয়ে কাহিনি ও অভিনয়ের ছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই সিনেমায় তিনি তাই করেছেন বলে ধারণা করছেন সিনেমাবোদ্ধারা।

‘ভূত বাংলো’য় প্রশ্ন হলো– তিনি কি সেই পুরোনো ভাষাতেই থাকছেন, নাকি নতুন প্রজন্মের দর্শকের জন্য কিছু আধুনিক ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং যোগ করেছেন? প্রিয়দর্শন যদি অতিরিক্ত পুরোনো ঢঙে ‘কমেডি’ করেন, তবে তা হয়তো যুব দর্শকের কাছে ‘ব্যাকডেটেড’ মনে হতে পারে। অন্যদিকে, তিনি যদি নিজের মৌলিক শক্তিকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন, তবে তা হয়তো পুরোনো ভক্তদের মন ভাঙাবে। উত্তর জানা যাবে আগামীকাল। কারণ সেদিনই ভারতজুড়ে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

মেয়েকে মানবিক মানুষ বানাতে চান ঝিনাইদহের মীম

পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে চারপাশে যখন আনন্দধ্বনি বইছে, ঠিক তখনই ঝিনাইদহের মীম খাতুনের ঘর আলো করে এলো ফুটফুটে কন্যা সন্তান। মুহূর্তেই নববর্ষের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল। বছরের প্রথম দিনে জন্ম নেওয়া কন্যাকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান মা।
মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারিতে জন্ম নেয় শিশুটি। সন্তানের মুখ দেখে খুশিতে আত্মহারা পেশায় গ্যারেজ শ্রমিক বাবা ইয়াসিন আহমেদ।
মীমের পরিবারের সদস্যরা জানায়, ২৫ এপ্রিল সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা থাকলেও, আগেই প্রসব বেদনা ওঠে তার। সন্তানের মুখ দেখে সব ব্যথা-দুঃখ যেন মুহূর্তেই উবে গেল তার। শিশুকে কোলে নিয়ে আদর করেন স্বজনরা। নানি কিনে দেন লাল রঙের জামা।
জানা যায়, ঝিনাইদহ সদরের পাগলাকানাই ইউনিয়নের ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে বেড়ে ওঠেন মীম। ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ১৮ বছর বয়সে বিয়ে হয় যশোর জেলার পশ্চিম বারান্দি গ্রামের ইয়াসিন আহমেদের সঙ্গে।
মীম জানান, সন্তান সম্ভবা অবস্থায় কয়েকমাস আগে স্বামীর বাড়ি থেকে আবাসন প্রকল্পে মা’র কাছে আসেন মীম। রবিবার রাত ১২ টার দিকে প্রসব বেদনা উঠলে পরদিন সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে সন্তান হবে এমন ধারণাই ছিল না। বাংলা বছরের প্রথম দিন একমাত্র কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে ভেবে ভালো লাগছে।’
তিনি আরো জানান, চিকিৎসকেরা নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভর্তি হওয়ার পর থেকে সবসময় খোঁজ-খবর রেখেছেন।
‘ব্যাথা ওঠার পর প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শারীরিক দুর্বলতা বেশি ছিল, খাবার রুচিও ছিল কম। অনেক শঙ্কা ছিল, তবে স্বামীর যত্ন দেখে সেসব শঙ্কাকে পাত্তা দিইনি।’- বলেন মীম
শিশুর নানি আফরোজা বেগম বলেন, ‘নাতনি হওয়ায় মনে হচ্ছে স্বর্গ পেয়েছি। সব সময়ই ওকে কোলে নিয়ে আদর করি।’
শিশুর বড় বাবা-মা আব্দুল মান্নান ও সাজেদা বেগম জানান, এই শিশু তাদের কলিজার টুকরা। তারা চান লেখাপড়া শিখে শিশুটি যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মার্ফিয়া খাতুন জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় থেকে মীমের শরীরে ওয়াটার লিকেজ ছাড়া তেমন কোন জটিলতা ছিল না। সব পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মনে হয়েছে তিনি নরমাল ডেলিভারির উপযুক্ত। চিকিৎসক-নার্সদের চেষ্টায় তার সুস্থ কন্যা সন্তান হয়েছে।
জানা যায়, সন্তান জন্মের পর মীম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে মামা মাসুদ শেখের বাড়িতে আছেন। এখনো শিশুটির নাম রাখা হয়নি।