Home Blog Page 150

ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভুল’: ব্রিটিশ চ্যান্সেলর

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে একটি ‘ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্রিটিশ চ্যান্সেলর রাচেল রিভস। তিনি বলেছেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আগের চেয়ে নিরাপদ করেছে কিনা, সে বিষয়ে তিনি মোটেও নিশ্চিত নন।

বুধবার ওয়াশিংটনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাচেল রিভস বলেন, ‘বর্তমান সংকট নিরসনে একটি কূটনৈতিক পথ খোলা ছিল, আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই আলোচনার পথ বন্ধ করে যুদ্ধে জড়ানো একটি বড় ভুল।’

তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটি ইরান সরকারকে পছন্দ বা অপছন্দ করার নয়, প্রশ্ন হলো- আপনি যে পরিবর্তন চাইছেন, সেটি অর্জনের উপায় কী?’ তবে ইরান সরকারকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করেন বলে এ সময় উল্লেখ করেন রিভস।

ব্রিটিশ চ্যান্সেলর জানান, বিশ্ব আগে যে অবস্থায় ছিল, যুদ্ধের পর পরিস্থিতি তার চেয়ে নিরাপদ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, তার সামরিক অভিযানে ইরান প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পর দেশটির চ্যান্সেলর রাচেল রিভসের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত নিয়ে যুক্তরাজ্যের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি ও দ্বিমত কাজ করছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনে মাটিতে ব্রিটিশ চ্যান্সেলরের এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে নতুন টানাপড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বদহজমের সমস্যা দূর করতে ঘরেই বানান পানীয়

গরমে পেটের সংক্রমণ বাড়ে। এর মধ্যে বিভিন্ন দাওয়াত, অনুষ্ঠান তো লেগেই থাকে। সব মিলিয়ে এ সময় ভারী খাবার খেলে বদহজমের ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই বদহজম এড়াতে দোকানের কেনা কোমল পানীয় খান। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যারা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন তারা আরাম পেতে বাড়িতেই বানানাতে পারেন বিশেষ পানীয়।  এতে পেট ঠান্ডা হবে, খাবার হজম হবে। এর পাশাপাশি শরীরও ভাল থাকবে৷

যা যা প্রয়োজন
১০০ গ্রাম মৌরি , ১০ গ্রাম গোটা গোলমরিচ , ৩০-৪০ গ্রাম মিছরি ,একটা লেবু , পানি ,সামান্য বিট লবণ

যেভাবে বানাবেন : মৌরি, গোলমরিচ আর মিছরি ভাল করে ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নিতে হবে৷ এবার এক গ্লাস পানি নিতে হবে৷ পানির মধ্যে এই গুঁড়ো মিশ্রণটি ২ চা চামচ মিশিয়ে নিন৷ একটা পাতিলেবুর রস আর স্বাদমতো লবণ দিন৷ এবার ভাল করে সবটা মিশিয়ে নিন৷ ঠান্ডা খেতে চাইলে অল্প বরফ দিতে পারেন৷ এই পানীয় খেলে গ্যাস, পেটফাঁপা, বদহজমের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

আজ স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন— মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

বৈশাখের গরমে অস্বস্তি নিউজিল্যান্ডের

০

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের কাছে মনে হতে পারে মেরু থেকে মরুতে এসেছেন। এই তো কয়েক দিন আগেও ঠান্ডা ফুরফুরে হাওয়ায় অনুশীলন করেছেন দেশে। ৭ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে ওঠানামা করেছে তাপমাত্রা।  সে রকম একটি সহনশীল আবহাওয়া থেকে ঢাকার ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস টম ল্যাথামদের জন্য মরুর উত্তাপের মতোই। দেশটির কোচ পল ওয়াইজম্যান গতকাল মিরপুরে অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সে ধারণাই দিলেন। তাঁর মতে, ঢাকায় বৈশাখের গরমও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারদের জন্য প্রতিপক্ষ। প্রখর রোদে ক্লান্ত হয়ে পড়ার একটা ভয় কাজ করছে কিউইদের মধ্যে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় দলটি। পেশাদার ক্রিকেট দল হিসেবে সেভাবে মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা।

ল্যাথামরা সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান। এক দিন বিশ্রাম নিয়ে গতকাল বুধবার প্রথম অনুশীলন করেন তারা। মূল মাঠে ফিল্ডিং সেশন ছিল লম্বা সময়। এরপর আউটার নেটে ব্যাটিং সেশন হয়েছে পালা করে। পেস এবং স্পিন বোলারদের নেট ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এই সেশনগুলো করার সময় একেকজন ব্যাটার ও বোলার যে কত বোতল পানি আর শক্তিবর্ধক পানি পান করেছেন, তার ইয়াত্তা নেই। এই এক দিনের অনুশীলনেই কিউই কোচ বুঝে গেছেন বৈশাখের গরম ভোগাবে। তাঁর মতে, ‘প্রস্তুতির দিক থেকে দেখলে দুয়েক দিনে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। আমাদের শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, গরম মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গরম একটি চ্যালেঞ্জ। অন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রতিপক্ষ। আমাদের বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে– গরম তার মধ্যে অন্যতম। গরম পিচের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। উইকেট কিছুটা ধীরগতির হতে পারে।’

ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে। সেদিক থেকে দেখলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন একটি সিরিজ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, কিউইরা সেরা দল নিয়ে খেলছে না। কোচ পল জানান, এ মুহূর্তে বিশ্বে তাদের ৫৪ জন ক্রিকেটার খেলছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ, ‘এ’ দল ও জাতীয় দলের সিরিজ মিলে এই বিশাল সংখ্যক ক্রিকেটার তাও উপমহাদেশে খেলছে। শ্রীলঙ্কায় খেলছে দেশটির এ দল। যেখান থেকে তিন ক্রিকেটার বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছেন। আইপিএল ও পিএসএল টি২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন সবচেয়ে বেশি এবং দেশটির তারকা ক্রিকেটারা। এ কারণেই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে বাংলাদেশে খেলতে এসেছে টম ল্যাথামের নেতৃত্বে। এই দল নিয়েই লড়াই গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন পল ওয়াইজম্যান, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। খেলাটা কেমন হবে, তা আমরা আগে থেকে ঠিক করে ফেলি না। কারণ, ক্রিকেট সব সময় বদলায় এবং খেলার মাঝেই তা বদলে যায়।’ ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে বোলিং লাইনআপকে কাজে লাগাতে চান কোচ, ‘খেলার মাঝের পর্যায়ে প্রভাব ফেলার জন্য যদি আমাদের স্পিনারদের ব্যবহার করার সুযোগ থাকে, আমরা তা করব। আমাদের কিছু ভালো ফাস্ট বোলারও আছে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নিয়ে খেলার চেষ্টা করব। আর সেটাই খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যানের নাম ও ছবি দিয়ে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ খুলে প্রতারণা, সতর্ক থাকার আহ্বান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। সম্প্রতি তার নম্বরটি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার এনবিআরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সুকৌশলে এনবিআর চেয়ারম্যানের পরিচয় ধারণ করে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করছে। তারা ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মেসেজ পাঠাচ্ছে এবং নানা অজুহাতে অবৈধভাবে টাকা দাবি করছে। এই চক্রটি এর আগেও এনবিআরের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর হ্যাক করে একইভাবে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়েছিল। এ বিষয়ে তখন শের-এ বাংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনবিআর কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এনবিআরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও এই চক্রের বিষয়ে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, এই প্রতারক চক্রের কার্যক্রম তাদের নজরে আসার পরপরই আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জনগণকে এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পা না বাড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় ইরানি পরিচালক জাফর পানাহি

০

চলতি বছর টাইম ম্যাগাজিনের শীর্ষ প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি। রাষ্ট্রীয় চাপ ও সেন্সরশিপ জটিলতার মুখেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় অবিচল এই নির্মাতার অদম্য স্পৃহাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে টাইম ম্যাগাজিনে।

জাফর পানাহিকে নিয়ে টাইমের ফিচারে বলা হয়, ‘বহু বছর ধরেই সিনেমার সেন্সরশিপ নিয়ে জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে তিনি সিনেমা নির্মাণ করে চলেছেন। নিজের দেশেই তিনি সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। সিনেমা বানানোর জন্য বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন এই নির্মাতা।’

আরও বলা হয়, ‌‌‘এমন এক সময়ে, যুদ্ধের ভয়াবহতার আগেও, স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার ইরানিকে যখন হত্যা করা হয়েছিল, তখন তাঁর শিল্পকর্ম সততার সঙ্গে জরুরি অবস্থার সেসব মুহূর্ত তুলে ধরেছিল। শিল্পের জন্য বারবার কারারুদ্ধ হলেও তিনি থেমে থাকেননি।’

সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে, এক সাক্ষাৎকারে মাতৃভূমি ইরানে ফেরার ব্যকুলতা প্রকাশ করেন পানাহি। তখন তিনি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও আঁচ করেছিলেন। এক প্রশ্নে তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘একবছরের জন্য জেলে যাব, বেরিয়ে আসব একটি নতুন চিত্রনাট্য নিয়ে!’

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মধ্যে থাকা একটি জাতির ন্যায়বিচারের সীমিত প্রত্যাশা ও মানসিক ক্ষতের চিত্র তুলে ধরেন।এই পরিপ্রেক্ষিতে পানাহিকে আবারও একবছরের কারাদণ্ড এবং তাঁর শিল্পকর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ইরানের আদালত।

বিষয়টি উল্লেখ করে টাইম লিখেছে, ‘প্রত্যাশিতভাবেই শাসকগোষ্ঠী তাঁর অনুপস্থিতিতে একবছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় এবং সেইসঙ্গে তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবুও তিনি অবিচল। অকপট ও গভীর মানবিক গল্প বলার মাধ্যমে জাফর আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, শিল্প তাঁর সর্বোচ্চ শক্তিশালীরূপে স্বাধীনতারই এক প্রকাশ।’

১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম ফিচার ফিল্ম ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’। ছবিটি কান চলচ্চিত্র স্বর্ণপাম পুরস্কার জিতেছিল। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার ‘দ্য মিরর’ দর্শকরা খুব পছন্দ করেন। ২০০০ সালে দর্শককে তিনি উপহার দেন আরেক মাস্টারপিস ‘দ্য সার্কেল’। সব ক’টি সিনেমায় রূপক হিসেবে প্রতিবাদী গল্প উঠে আসে।

সংসদ অধিবেশন বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতে আখতার হোসেনের ক্ষোভ, আইনমন্ত্রীর জবাব

জ্বালানি সংকটের কারণ দেখিয়ে বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির এমপি আখতার হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই। আবার জ্বালানি সংকট দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আইন ও জ্বালানি মন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের অন্য কারণের কথা উল্লেখ করলেও জ্বালানি সংকট নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

রংপুর-৪ আসনের সদস্য আখতার হোসেন বলেন, মধ্যরাতে নোটিশ দিয়ে বার কাউন্সিল নির্বাচন পেছনো হয়েছে জ্বালানি সংকটের কারণে। অথচ আমরা যখন সংসদে জ্বালানি সংকটের কথা বলি তখন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, জ্বালানি সংকট নেই। আবার সরকারি একটা প্রতিষ্ঠান জ্বালানি সংকটের কথা বলে নির্বাচন স্থগিত করছে। মূল ইস্যুটা কী? এই জায়গাটাতে একটা সিদ্ধান্ত আসার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি জ্বালানি ও আইনমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এখানে দুই ধরনের বিষয় রয়েছে। এটা একটা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। যেটার সাথে আইন মন্ত্রণালয়ের একটা সংযোগ আছে। আবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় তাদের একটা কারণ দেখিয়ে নির্বাচনটাকে স্থগিত করা হয়েছে। বিধান অনুযায়ী, তিন বছর পরপর বার কাউন্সিলের নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে যদি নির্বাচন করার মত পরিবেশ না থাকে অর্থাৎ প্যান্ডেমিক বা অকওয়ার্ড- এমন কোন ধরনের দুর্যোগ ঘটে তাহলে- সেই সময়টাতে এক বছরের জন্য একটা অ্যাডহক কমিটির বিধান রয়েছে। করোনার সময়টাতে এটা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই ধরনের কোন পরিস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার পরে নির্বাচন না দিয়ে অ্যাডহক কমিটি করা হয়। সেই কমিটি এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। এই কমিটি থেকে একটা গণতান্ত্রিক যাত্রায় উত্তরণের জন্য একটা নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়েছিল। আগামী ১৯ মে নির্বাচনটা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গতকাল (বুধবার) মধ্যরাতে হঠাৎ করেই নির্বাচনকে স্থগিত ঘোষণা করা হলো।

জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আনা হয়েছে। দুইটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্যান্ডামিক অ্যান্ড অকওয়ার্ড। কিন্তু যুক্তিসংগত কারণ যেটা আইনের মধ্যে আছে, সেটা উল্লেখ করা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়ার জন্যই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরই বার কাউন্সিলের নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে। বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা স্বকীয়ভাবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে টেনে বলা হলো, শুধুমাত্র একটা কারণে। কিন্তু এখানে ঢাকা বারসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বার কাউন্সিললের কাছে অনুরোধ এসেছে। তাদের ওখানে এখন নির্বাচন চলছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া সমুন্নত ও নির্বিঘ্ন রাখার জন্য বা কাউন্সিলের নির্বাচনটা পেছানোর জন্য বলেছেন। বার আসোসিয়েশনের সেই অনুরোধটাও রক্ষা করেছে। ফলে এই পার্টটা কিন্তু উনি বলেননি। বার কাউন্সিল নিজস্ব মেধা প্রজ্ঞা স্বকীয়তা এবং স্বাধীনতা প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কারণে সেখানে আমরা কোন হস্তক্ষেপ করিনি। আমরা চাই, উনার (এমপি আখতার হোসেন) মতোই যে, বার কাউন্সিল স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাক। সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সেখানে হস্তক্ষেপের মধ্যে যাচ্ছি না।’

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা জাগাচ্ছে লেবানন-ইসরায়েল বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের পথে। কয়েকটি পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এমন আশা আরও জোরালো হয়েছে। তেহরানে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ এক মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিবাচক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধ কেটে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশাও করা হচ্ছে। সম্ভাবনার এই ক্ষেত্র তৈরি করেছে লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ। এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল লেবাননে ইসরায়েলি হামলা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় সপ্তাহ পর লেবাননে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে বুধবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসে। অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বৈরুত ও তেল আবিবের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হবে। আর লেবানিজ কর্মকর্তাদের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হতে পারে।

যদিও লেবাননের একটি সরকারি সূত্র এএফপিকে বলেছেন, তারা এ ধরনের (আলোচনা) কোনো যোগাযোগের বিষয়ে অবগত নন। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে পরিকল্পিত কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। এমনকি আনুষ্ঠানিক কোনো চ্যানেলের মাধ্যমেও কিছু জানানো হয়নি।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদী। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হচ্ছে।’ চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ করার খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেন লেভিট। তিনি জানান, নতুন করে সরাসরি বৈঠকের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সেটি হলে পাকিস্তানে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, সেনাপ্রধান জেনারেল অসিম মুনির তেহরানে পৌঁছেছেন। রয়টার্সকে ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছেন, গত দফার আলোচনার মধ্যস্থতাকারী মুনির এবার দুই পক্ষের মধ্যকার ‘দূরত্ব কমিয়ে আনার’ চেষ্টা করবেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অসিম মুনিরকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক্সে লিখেছেন, তেহরান এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে একদিকে যেমন হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হয়, তেমনি উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ইরান হামলা চালায়। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারী ও নীতি নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। বুধবার ওয়াল স্ট্রিটের সূচক রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায় এবং তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের ফুজিতোমি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক তোশিতাকা তাজাওয়া বলেন, উত্তেজনা প্রশমনের আশা থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনো সন্দিহান। কারণ এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা অগ্রগতির খুব কাছাকাছি গিয়েও ভেস্তে গেছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ পোশাকশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০% কমেছে

জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। অন্যদিকে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের দাম ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে গড়ে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছেন তারা। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সংগঠনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান ও সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্রেতার আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামালের দাম ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের অবদানের কথা বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ করার জন্য বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দেওয়া ফরম্যাট অনুমোদন করা হয়।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এর একটি হচ্ছে জরুরি জ্বালানি সরবরাহ করা। এ ব্যবস্থায় তৈরি পোশাক কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আরেকটি প্রস্তাব হচ্ছে গ্যাস সংযোগ ও সমবণ্টন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প যেগুলোর বয়লার সক্ষমতা ৩০০-৫০০ কেজির মধ্যে সেগুলোতে জরুরি গ্যাস সংযোগ দেওয়া ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী সব শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও অটোমেশনের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে অন্তত দুটি অতিরিক্ত ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাজিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং শিল্প খাতে ইলেক্ট্রনিক ভলিউম কারেক্টর (ইভিসি) মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করা হয় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।

আমদানি করা জ্বালানির ওপর আমদানি ও ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর অনুরোধ করা হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাকশিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জাম আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি কেবলের মতো অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন বিজিএমইএর নেতারা। বর্তমানে এ সব যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, পোশাক কারখানার নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ করে সে ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। পোশাক শিল্পের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত টানা আট মাস রপ্তানি কমছে। খুব শিগগিরই এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসারও সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন পাল্টা শুল্ক আরোপের পর প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি এবং দেশে উৎপাদন ব্যয় বাড়া, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং সর্বশেষ সমস্যা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব রয়েছে রপ্তানি খাতে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুমান ছিল, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার পর অনেক অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। এপ্রিল কিংবা মে মাস থেকে সন্তোষজনক রপ্তানি আদেশ আমরা পাব, যা আগস্ট মাস নাগাদ রপ্তানি চিত্রে দেখা যাবে। কিন্তু এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আবার সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ রপ্তানি খাতে সুখবর আসবে সেটি বলা যাচ্ছে না।

রাজধানীতে কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই-বোন

রাজধানীর  যাত্রাবাড়ীর ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দিয়া (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও আহত হয়েছেন তার মা ও ছোট দুই ভাইবোন।

আজ মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় নিহতের বাবা নবু উল্লাহ বাড়িতে ছিলেন না।

স্থানীয়রা জানায়, চাপাতি দিয়ে নিহত দিয়ার মা ও দুই ভাই বোনকে কোপানো হয়েছে। এতে তার মা নুসরাত জাহান মৌসুমীর (৪৫) বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহত অপর দুজন হল নুসরাতের ছোট মেয়ে জয়া (১২) ও ছেলে মুয়াজ আহমেদ (১৫)। তাদের ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত দিয়া শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত মুসা নামে একজন আটক করেছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু সমকালকে বলেন, আটক মুসা বাড়ি নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ করেন। নিহত দিয়াদের বাড়ি নির্মাণের ঠিকাদার ছিলেন। ওই বাড়ির নির্মাণ কাজের পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে মুসা এই হামলা চালিয়েছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার গভীররাতে মুসা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে চাপাতে নিয়ে ওই বাসায় যায়। বাসায় থাকা চারজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় হামলাকারী নিজেও আহত হয়। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে, আটক করে মুসাকে।