Home Blog Page 152

বৈশাখের গরমে তৃষ্ণা মেটাবে পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত

সূর্য চোখ রাঙাচ্ছে। বাড়ছে তাপপ্রবাহ। আগামীকাল পহেলা বৈশাখে যারা দিনভর স্বস্তিতে থাকতে চান, তারা বাসায় বানিয়ে নিন পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত। এতে পানিশূন্যতা পূরণ হবে, সেইসঙ্গে আপনার প্রাণও জুড়াবে। সহজ উপায়ে পুদিনা-কাঁচা আমের শরবতের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী মিতা আজহার। 

উপকরণ: কাঁচা আম ২টি, পুদিনা পাতা ১ মুঠো, চিনি ৩/৪ টেবিল চামচ, বিট লবণ আধা চা চামচ, পানি পরিমাণমতো, বরফ কুচি আধা কাপ, কাঁচামরিচ ২টি

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে কাঁচা আম পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার বরফ কুচি বাদে একে একে সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। বরফ কুচি দিয়ে মাটির গ্লাসে সাজিয়ে পরিবেশন করুন পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত।

প্রিন্সেস রোজি হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাবনা

০

বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার মঞ্চ যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্কদের নৃত্য-আসরে। বাস্তব জীবনের এমন অভিজ্ঞতা থেকেই নির্মাতা আসিফ ইসলাম নির্মাণ করেছেন ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ চলচ্চিত্রটি। এতে ‘প্রিন্সেস রোজি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।

এই সিনেমা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাজির হচ্ছেন ভাবনা। চলচ্চিত্রটি ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্টকোর বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে।

পরিচালক আসিফ ইসলাম জানান, ‘আমার নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্টকোর বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ, উচ্ছ্বসিত এবং এই যাত্রা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।’

আশনা হাবিব ভাবনা। ছবি: ফেসবুক

আশনা হাবিব ভাবনা। ছবি: ফেসবুক

প্রিন্সেস চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে প্রায় ৯ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়ের ধরনও রপ্ত করতে হয়েছে তাঁকে।

তিনি বলেন, ‘প্রিন্সেস রোজি চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক, দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। আমি চরিত্রটিকে ভালোবেসে ফেলেছি।’

মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের কাজ প্রদর্শিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভাবনা জানান, ‘আমি আমার শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে আমার সিনেমা নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি সত্যিই ভীষণ আনন্দের।’

পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্রটি যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প তুলে ধরে। এখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামে এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকেই এই সিনেমার মূল উপজীব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ -এর অন্যতম পোস্টার

‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ -এর অন্যতম পোস্টার

পরিচালক আসিফ ইসলাম জানান, শৈশব থেকেই যাত্রার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। সেই অভিজ্ঞতা এবং সময়ের পরিবর্তনে যাত্রার রূপান্তরই তাঁকে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুরে যাত্রার সেট নির্মাণ করে সিনেমাটির শুটিং সম্পন্ন হয়। এতে ভাবনা ছাড়া অধিকাংশ অভিনয়শিল্পীই ছিলেন প্রকৃত যাত্রাশিল্পী।

উল্লেখ্য, আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিল। এবার ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ নিয়ে আবারও সেই মঞ্চে ফিরছেন তিনি– আর সঙ্গে থাকছেন ‘প্রিন্সেস’ ভাবনা।

রমনা বটমূলে বোমা হামলা ২৫ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার হত্যা মামলায় দুই ধাপ অতিক্রম

পঁচিশ বছর আগে রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটির দুই ধাপ পার হয়েছে। এখন এটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত বছর মে মাসে হাইকোর্টে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্যদিকে, ওই ঘটনায় ঢাকার আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের আরেক মামলার বিচার চলছে অত্যন্ত ঢিমেতালে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে হুজি জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে আঘাত হানতে জঙ্গিগোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে।
এ ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। এর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দুই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন হত্যা মামলায় রায় দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন। রায়ে বিচারিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মুফতি হান্নান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যেরা হলেন– মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা আকবর হোসেন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মাওলানা আরিফ হাসান সুমন। এর মধ্যে মুফতি আব্দুল হান্নানের সিলেটের এক মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আসামিরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানির পর গত বছর ১৩ মে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. তাজউদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাতউল্লাহ জুয়েলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ, যা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
এদিকে, হত্যা মামলার রায় বিচারিক আদালত ও উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হলেও বিস্ফোরক মামলাটি ঢাকা মহানগর ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এখনও বিচারাধীন। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিস্ফোরক আইনে করা মামলার বিচার শুরুর
আদেশ দেন।

২০২২ সালের ২১ মার্চ বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ওই বছরের ৩ এপ্রিল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১১ আগস্ট দিন ধার্য করেন বিচারক। কিন্তু ২০২২ সালের ২৮ জুলাই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠান। এরপর পাঠানো হয় ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। মামলার বিচার একই স্থানে রয়েছে।
বিস্ফোরক আইনের মামলার বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ২০০১ সালে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। হত্যা মামলা বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ৫৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন আসামি হাইকোর্টে বিভিন্ন ধরনের আবেদন করার কারণে মামলার কার্যক্রম কিছুদিন স্থগিত ছিল। বর্তমানে স্থগিতাদেশ আর নেই। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ল

কোম্পানি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত কোম্পানি করদাতারা রিটার্ন দিতে পারবে। গতকাল সোমবার এ সম্পর্কিত আদেশ জারি করেছে এনবিআর।

এর আগে কোম্পানির আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় একাধিকবার বাড়ানো হয়। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, রিটার্ন জমার সময়সীমা ছিল ১৫ এপ্রিল।
গতকাল কোম্পানির করদাতাদের জন্য জারি করা এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্বাভাবিক করদাতা এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্য সব করদাতা যাদের অর্থবছর ২০২৫ সালের ৩০ জুন তারিখে সমাপ্ত হয়েছে, তাদের ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পুনরায় এক মাস বৃদ্ধি করে ১৫ মে নির্ধারণ করল।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয়েছে গত ৩১ মার্চ। এর বেশ কয়েক দফায় এ সময়ও বাড়ানো হয়েছিল। তবে ব্যক্তি করদাতাদের মধ্যে যারা ৩১ মার্চ রাত ১২টার আগে সময় বাড়ানোর আবেদন করার সুযোগ ছিল।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ পোশাকশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০% কমেছে

জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। অন্যদিকে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের দাম ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে গড়ে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছেন তারা। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সংগঠনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান ও সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্রেতার আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামালের দাম ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের অবদানের কথা বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ করার জন্য বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দেওয়া ফরম্যাট অনুমোদন করা হয়।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এর একটি হচ্ছে জরুরি জ্বালানি সরবরাহ করা। এ ব্যবস্থায় তৈরি পোশাক কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আরেকটি প্রস্তাব হচ্ছে গ্যাস সংযোগ ও সমবণ্টন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প যেগুলোর বয়লার সক্ষমতা ৩০০-৫০০ কেজির মধ্যে সেগুলোতে জরুরি গ্যাস সংযোগ দেওয়া ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী সব শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও অটোমেশনের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে অন্তত দুটি অতিরিক্ত ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাজিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং শিল্প খাতে ইলেক্ট্রনিক ভলিউম কারেক্টর (ইভিসি) মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করা হয় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।

আমদানি করা জ্বালানির ওপর আমদানি ও ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর অনুরোধ করা হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাকশিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জাম আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি কেবলের মতো অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন বিজিএমইএর নেতারা। বর্তমানে এ সব যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, পোশাক কারখানার নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ করে সে ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। পোশাক শিল্পের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত টানা আট মাস রপ্তানি কমছে। খুব শিগগিরই এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসারও সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন পাল্টা শুল্ক আরোপের পর প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি এবং দেশে উৎপাদন ব্যয় বাড়া, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং সর্বশেষ সমস্যা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব রয়েছে রপ্তানি খাতে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুমান ছিল, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার পর অনেক অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। এপ্রিল কিংবা মে মাস থেকে সন্তোষজনক রপ্তানি আদেশ আমরা পাব, যা আগস্ট মাস নাগাদ রপ্তানি চিত্রে দেখা যাবে। কিন্তু এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আবার সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ রপ্তানি খাতে সুখবর আসবে সেটি বলা যাচ্ছে না।

হাওরাঞ্চলের বৃহত্তম জেলা সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন এই জেলার বাসিন্দারা। গতকাল সোমবার শহরের বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পুরাতন বাসস্টেশন থেকে থানামুখী ফিডারে ঘণ্টায় কমপক্ষে পাঁচবার আসা-যাওয়া করেছে বিদ্যুৎ। এতে বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মহাসংকটে।
পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সুমন বললেন, ‘যেভাবে কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, তাতে যন্ত্রপাতি সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। এর চেয়ে বিদ্যুৎ না থাকাই ভালো।’ তিনি বলেন, সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একই এলাকার ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার গোলাম আজাদ বললেন, মাত্রাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।

শহরের মুক্তারপাড়া এলাকার মিতালি ওয়ার্কশপের মালিক উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাদের দুই দোকানে ২০ জন স্টাফ। বিদ্যুতের এই অবস্থা চলতে থাকলে কর্মচারীই রাখা যাবে না।’
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, ‘সোমবার চাহিদা ছিল ১২ মেগাওয়াট। পেয়েছি তিন মেঘাওয়াট। এ জন্য  শহরের সব ফিডারেই লোডশেডিং করতে হয়েছে।
কেবল জেলা শহরের অবস্থা এমন নয়, উপজেলা সদরে আরও করুণ অবস্থা। শান্তিগঞ্জের পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল ও কলেজের প্রভাষক ইয়াকুব শাহরিয়ার বলেন, এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে। একঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।

যিশুর আদলে ছবি পোস্ট, সমালোচনার মুখে মুছে ফেললেন ট্রাম্প

নিজেকে যিশুর মতো দেখানো একটি ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে পড়ার পর তা মুছে ফেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা ওই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরা ট্রাম্প এক অসুস্থ ব্যক্তির কপালে হাত রেখে তাকে সুস্থ করে তুলছেন- যা অনেকের কাছে যিশুর অলৌকিক নিরাময়ের চিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়েছে।

ছবিটি প্রকাশের পরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকরাও সমালোচনা করেন।

খ্রিষ্টান কর্মী শন ফিউচট বলেন, ‘এটি অবিলম্বে মুছে ফেলা উচিত, কোনো প্রেক্ষাপটেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ একইভাবে রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনস মন্তব্য করেন, ‘ঈশ্বরকে উপহাস করা উচিত নয়।’

খ্রিষ্টান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ডেভিড ব্রোডি বলেন, ‘এটি সীমা অতিক্রম করেছে।’

তবে সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্প কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছবিটি আসলে তাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ‘আমি মানুষকে ভালো করি, অনেক ভালো করি’, মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই ছবি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প পোপ লিও এর সমালোচনা করেন। পোপ লিও সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে এটিকে ‘অমানবিক সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শুরু

সূর্যোদয়ের পর রাজধানীর রমনার বটমূলে শুরু হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে আজকের আয়োজন। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়ার প্রভাতি এই অনুষ্ঠানের এবারের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে। আরও রয়েছে লোকগান।

%E0%A7%A7%E0%A7%AA 1776127533

ছায়ানট থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, আজকের আয়োজনে মোট ২২টি গান থাকছে। এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান, একক কণ্ঠের গান ১৪টি। পাঠ থাকছে দুটি।

ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

ডুমুরিয়ায় ঘেরের আইলে লাউ চাষাবাদে ঝুঁকছেন চাষি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঘেরের আইলে লাউ আবাদে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষক। বর্তমানে এ উপজেলায় মৌসুমে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার লাউ বিক্রি করছেন চাষিরা। মাছের পাশাপাশি লাউ আবাদে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে সচ্ছল হয়েছে অনেক পরিবার। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের।

ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের সাজিয়াড়া গ্রামের যুবক রকিবুল ইসলাম। তিনি সাজিয়াড়া বিলে এক বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেন। গত বছর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ওই ঘেরের আইলে ২১০টি লাউয়ের মাদা তৈরি করে বীজ বপন করেন এবং  ঘেরের পানির ওপর বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বীজ বপনের ৫০ দিনের মধ্যে গাছে লাউ আসতে শুরু করে। রকিবুল ইসলাম জানান, ঘেরের আইলে লাউ আবাদ ও বাঁশের মাচা তৈরি করতে তাঁর ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি ৫৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তিনি জানান, লাউ বিক্রি করতে কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না। ফড়িয়ারা সরাসরি ঘের থেকে নগদ টাকায় লাউ কিনে নিয়ে যায়। এ জন্য বাড়তি কোনো খরচ হয় না তাঁর।

কুলবাড়িয়া গ্রামের প্রসেনজিৎ মণ্ডল বিলে ছয় বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছেন। ওই ঘেরের বেড়িবাঁধের আইলে ৩০০ লাউয়ের মাদা তৈরি করে সেখানে বীজ বপন করেছিলেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা। লাউ বিক্রি করেছেন দুই লাখ ১৫ হাজার টাকার। এতে তিনি খুব খুশি।

খর্নিয়া গ্রামের কৃষক আবু হানিফ বলেন, মাছের ঘেরের আইলে ১৫০টি মাচা তৈরি করে সেখানে লাউ চাষ করেন। সব মিলে তাঁর ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ করেছেন।

গুটুদিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষি আতাবুর রহমান জানান, চিংড়িঘেরের বাঁধে লাউয়ের পাশাপাশি টমেটো, ঝাল (মরিচ) চাষ করা হয়। এতে তারা পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান জানান, ডুমুরিয়ায় ১৮ হাজার ৭১২টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। অধিকাংশ চিংড়ি বেড়িবাঁধের ওপর মাছ চাষিরা লাউয়ের আবাদ করে থাকেন। মাছের পাশাপাশি সবজি চাষে তারা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (সদ্য বদলি হওয়া)  ইনছাদ ইবনে আমিন বলেন, ডুমুরিয়ায় গত শতকের ৯০-এর দশক থেকে বাণিজ্যিকভাবে বেড়িবাঁধের আইলে লাউ চাষ শুরু করা হয়।  উপজেলার ডুমুরিয়া সদর, রংপুর, খর্নিয়া, ভান্ডারপাড়া, আটলিয়া, শরাফপুর, গুটুদিয়া ও শোভনা ইউনিয়নে বেশি লাউ চাষ হয়ে থাকে। মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে লাউ চাষ করে বহু কৃষক লাভবান হচ্ছেন। লাউ চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সারসহ নানামুখী উপকরণ বিতরণ করা হয়।

আটলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না জানান, মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধের পরিত্যক্ত জায়গায় লাউ চাষ করে হাজারও কৃষকের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদল হয়েছে।

শরাফপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ভ্যানচালক প্রশান্ত কুমার রায় ও নৌকার মাঝি আমির হোসেন গাজী জানান, বিল ও ঘেরে লাউ আবাদের কারণে অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। তারা কৃষকের ক্ষেত থেকে বাজারে লাউ পরিবহন করে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করতে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লাউয়ের বাজার গড়ে উঠেছে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ঘেঁষে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে চারটি বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লাউ বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া মহাসড়কসহ গ্রামীণ সড়ক ঘেঁষে ১৬টি বাজার গড়ে উঠেছে।

ডুমুরিয়ার ‘আল্লাহর দান’ কাঁচা বাজারের আড়ত মালিক মো. মিজান সরদার, মতিউর রহমান শেখ ও মামুন জোয়ার্দার বলেন, ডুমুরিয়ায় প্রায় বার মাসই লাউ চাষ হয়ে থাকে। প্রতিদিন তাদের আড়তে দুই থেকে তিন লাখ টাকার লাউ বেচাকেনা হয়ে থাকে। প্রতি মৌসুমে আড়ত মালিকরা কয়েক কোটি টাকার লাউ বেচাকেনা করে থাকেন।

কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিনের দেওয়া তথ্যমতে, ডুমুরিয়ার ২২৬ গ্রামে লাউ উৎপাদন হয়। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার লাউ বেচাকেনা হয়। গত বছর ৩০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছিল। এতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা আয় হয়। এ বছর প্রায় ৩২০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪৬ কোটি টাকার লাউ বিক্রি হবে।

‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে ভর্তুকি, ঋণ, সেচসহ ১০ সুবিধা

দেশের কৃষি খাতকে ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষি উপকরণসহ অন্তত ১০ ধরনের সেবা পাবেন। পাশাপাশি তৈরি হবে একটি সমন্বিত কৃষক ডেটাবেজ, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।

এ ছাড়া প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। মোট ২২ হাজার ৬৫ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন এই সহায়তা পাবেন। সরকার বলছে, এটি সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। এই অর্থ শুধু কৃষি কাজে ব্যয় করা যাবে এবং এতে অন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

আগামীকাল পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।

তিন ধাপের রোডম্যাপ

কৃষিমন্ত্রী জানান, ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে– প্রাক-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। প্রথম ধাপে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম চালু হচ্ছে ১০ জেলার ১১টি উপজেলায়, ১১টি কৃষি ব্লকে। এই পর্যায়ে সীমিত আকারে প্রকল্পটি চালিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়া হবে। এখানে শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যচাষি, আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কৃষিকে একটি সমন্বিত খাত হিসেবে বিবেচনা করে কার্ড ব্যবস্থাটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রাক-পাইলটিং শেষে আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। এরপর পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষক তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে ২২ হাজার কৃষক

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ইতোমধ্যে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তালিকায় ভূমির পরিমাণ অনুযায়ী পাঁচটি শ্রেণিতে কৃষকদের ভাগ করা হয়েছে। ভূমিহীন কৃষক (৫ শতকের কম জমির মালিক) আছেন দুই হাজার ২৪৬ জন। প্রান্তিক কৃষক (৫ থেকে ৪৯ শতক) ৯ হাজার ৪৫৮ জন। ক্ষুদ্র কৃষক (৫০ থেকে ২৪৯ শতক) আট হাজার ৯৬৭ জন। মাঝারি কৃষক (২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক) এক হাজার ৩০৩ জন এবং বড় কৃষক (৭৫০
শতকের বেশি জমির মালিক) মাত্র ৯১ জন। পেশাভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, মোট তালিকাভুক্তদের মধ্যে ২১ হাজার ১৪১ জনই ফসল উৎপাদনকারী কৃষক। এ ছাড়া ৮৫৫ জন প্রাণিসম্পদ খামারি, ৬৬ জন মৎস্যজীবী এবং অল্পসংখ্যক লবণচাষি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

নগদ সহায়তা, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রান্তিকদের

এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই তিন শ্রেণির মোট কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোট তালিকাভুক্ত কৃষকের বড় অংশ।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নগদ সহায়তা একটি সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করবে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের উৎপাদন চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। তবে মাঝারি ও বড় কৃষকরা এই নগদ সহায়তার আওতায় থাকবেন না, যদিও অন্যান্য সুবিধা তারা পাবেন।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মতো, যে কৃষকদের নগদ সহায়তা দেওয়া হবে তারা সে অর্থ শুধু কৃষিকাজে খরচ করতে পারবেন। এই সহায়তার কারণে অন্য সামাজিক সুরক্ষার সহায়তা পেতে অসুবিধা হবে না।

এক কার্ডে ১০ সুবিধা

কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যেসব সুবিধা পাবেন, তা কৃষি খাতকে সমন্বিত সেবা ব্যবস্থায় নিয়ে যাবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ পাবেন। সেচ সুবিধা নিতে পারবেন ভর্তুকি মূল্যে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ পাওয়া যাবে, যা উৎপাদন ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাবে, যা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার বিস্তারে ভূমিকা রাখবে। সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে। মোবাইল ফোনে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজারদর সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে যাবে কৃষকের হাতে। কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনের পরামর্শ এবং কৃষি বীমা সুবিধাও এই কার্ডের আওতায় থাকবে।

প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে কার্ড ইস্যু, তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংকিং সংযোগ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম ধাপে পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর জেলার নির্দিষ্ট ব্লকে এই কার্যক্রম চালু হচ্ছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি

‘কৃষক কার্ড’ মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

স্থানীয় ডিলারের কাছে থাকা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, প্রাণিখাদ্য, মৎস্য খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমবে এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।