Home Blog Page 157

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন রেজাল্ট শিটে আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে কেন্দ্রের এজেন্টদের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান। আজ বৃস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে তিনি ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার এজেন্টরা ফলাফল শিটে আগাম স্বাক্ষর দিলেও পরে তা ছিঁড়ে ফেলা হয়।

ফলাফল শিটে আগাম স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর যাতে তাড়াতাড়ি কার্যক্রম শেষ করা যায় সেজন্যই তারা আগাম স্বাক্ষর করেছিলেন। তাদের জোরজবরদস্তি করা হয়নি।’

একই কথা বলেছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট জাহিদুল ইসলাম ও ধানের শীষের এজেন্ট তরিকুল ইসলাম। তারা বলেন, ‘কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এ কাজ করিনি।’

এছাড়া মাজবাড়িয়া কেন্দ্র থেকে জামায়াতের ভোটার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হলেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

আসনটি শূন্য হওয়ায় এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত রয়েছেন ২ হাজার ৬৫৫ জন কর্মকর্তা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ২ হাজার আনসার সদস্য, আট প্লাটুন বিজিবি ও ১০ প্লাটুন র‍্যাব। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ডগ স্কোয়াড রয়েছে। মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন।

২১টি পৌর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে কেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি, বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি। এর মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী ও ৪৮টি অস্থায়ী বুথ।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, ভোটের দিন ও পরে বিজিবি সদস্যরা মাঠে টহলে থাকবেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কীভাবে আখরোট খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে

অনেকেই শরীরের নানা উপকারিতার জন্য নিয়মিত ড্রাই ফ্রুট খান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্র শক্তিশালী করতে এসব ফলের তুলনা নেই।
পুষ্টিগুণের কারণে বিশেষজ্ঞরাও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট, পেস্তাবাদাম অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলেন। এসব বাদামের মধ্যে আখরোট অত্যন্ত পুষ্টিকর শুকনো ফল। তবে আখরোট খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে।

‘হিন্দুস্তান টাইমসে’র এক প্রতিবেদনে আখরোটের নিউট্রিশানাল ভ্যালু বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৩০ গ্রাম আখরোটে ৩.৮৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটস, ১ গ্রাম শর্করা, ২ গ্রাম ফাইবার, ০.৭২ মিলিগ্রাম আয়রন ,৫ গ্রাম প্রোটিন, ২০ গ্রাম ফ্যাট থাকে। এ ছাড়াও আখরোটে ফসফরাস, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল পাওয়া যায়। মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে আখরোট হৃৎপিণ্ডের জন্য খুবই উপকারী। এ কারণে ভেজানো আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ভেজানো আখরোট খেলে যেসব উপকারিতা মেলে–
১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে
২. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে হজমে সাহায্য করে
৩. হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে
৪. হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
৫. ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৭. অবসাদ কম করতে সহায়তা করে
৮. আখরোট খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়
দিনে কত পরিমাণ আখরোট খাওয়া উচিত
এক দিনে ১ থেকে ২টি আখরোট খাওয়া উপকারী। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমক্ষমতা দুর্বল তাদের দিনে শুধুমাত্র একটা আখরোট খাওয়া উচিত। খাওয়ার আগে রাতে আখরোট ভিজিয়ে রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজানো আখরোট ও অন্যান্য ড্রাইফ্রুট শরীরের সম্পূর্ণ কোলেস্টেরল স্তর কম করতে সাহায্য করে। গর্ভবতী নারীদেরও ভেজানো আখরোট খাওয়া উচিত। সকালে আখরোট খেলে ক্লান্তি দূর হয় । সেই সঙ্গে শরীরে রক্তচাপের স্তর নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গরমে হজমশক্তি বাড়ায় সজনে ডাঁটা

বসন্ত আগমনের সময় থেকেই বাজারে মিলছে সজনে ডাঁটা। মাছের তরকারি থেকে শুরু করে সরিষা দিয়ে সজনে ডাটা রান্না অনেকেরই পছন্দের। স্বাদের পাশাপাশি গরমের এই সবজিটি স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। সজনে ডাঁটায় প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, ক্যালশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, কপার, ফসফরাসের মতো নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এমনিতে বসন্ত আর গ্রীষ্মের মাঝখানের এই সময়টাতে সংক্রমণজনিত নানা সমস্যা বাড়ে। গ্রীষ্মে বিভিন্ন ধরনের অসুখের ঝুঁকি এড়াতে তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সজনে ডাঁটা রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। গরমে এই ডাঁটা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

পানিশূন্যতায় ঝুঁকি কমায়

সজনে ডাঁটায় পানির পরিমাণ বেশি। এর ফলে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে খেতে পারেন সজনে ডাঁটা। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সজনে ডাঁটার ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিদিন এই ডাঁটা খেলে গরমে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে।

রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে

গরমে পেট খারাপ থেকে শুরু করে গ্যাস, অ্যাসিডিটিসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। শরীর থেকে অত্যধিক ঘাম বেরিয়ে যায় বলে, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাও অনেকটা কমে যায়। সজনে ডাঁটায় থাকা পুষ্টি উপাদান বিভিন্ন রোগের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি জোগায়। সেই সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডাঁটায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে।

হজমের সমস্যা কমে

গরমে প্রায়ই হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সুস্থ থাকতে বাইরের খাবার খাওয়া এড়িয়ে জরুরি। সেই সঙ্গে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সজনে ডাঁটা ।  পেটের সমস্যা কমাতে এই সবজির জুড়ি নেই।

আরিফিন শুভ যেভাবে বলিউডে গেলেন, কাজের সুযোগ পেলেন

আরিফিন শুভ– নামটির সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে এক অপূর্ণ সম্ভাবনার গল্প। সুঠাম দেহ, নায়কোচিত উপস্থিতি, ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ অভিনয়– বড় পর্দার নায়ক হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই রয়েছে তাঁর মধ্যে। তবুও দর্শকদের মনে এক ধরনের আক্ষেপ থেকেই যায়। যেন ঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি এই শক্তিশালী সম্ভাবনাকে।

ঢালিউড বারবারই এমন একজন নায়ককে পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে– এমন অভিযোগ নতুন নয়। অথচ কল্পনা করা যায়, যদি এই মাপের একজন অভিনেতা বলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রির হাতে পড়তেন, তবে তাঁকে ঘিরে কত বৈচিত্র্যময়, শক্তিশালী আর আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা তৈরি হতে পারত! যার উজ্জ্বল উদাহরণ শুভর সদ্য মুক্তি পাওয়া বলিউড সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’। সিরিজটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন ঢাকাই সিনেমার এই শুভ। তাই বলা যায়, ২৫৭  টাকা নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসা আরিফিন শুভ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে। নিজের প্রথম বলিউড সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’ ১৯ মার্চ মুক্তির পর ভারতীয় শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোর পর্যালোচনায় বারবার উঠে আসছে তাঁর নাম। কখনও ‘স্ট্যান্ডআউট লিড’, কখনও বা সিরিজের সবচেয়ে ‘শক্তিশালী চরিত্র’ হিসেবে আরিফিন শুভকে মূল্যায়ন করছে।

ময়মনসিংহ টু মুম্বাই 

অনেকটা খালি হাতে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এসেছিলেন আরিফিন শুভ। পুঁজি হিসেবে ছিল উচ্চাশা, পরিশ্রম আর কিছু করে দেখানোর চেষ্টা। এই তিন পুঁজি তাঁকে বিফল করেনি। দুই হাত ভরে দিয়েছে সফলতা। আরিফিন শুভ বলছিলেন, আমার মনে হয় এই তো সেদিনই ময়মনসিংহ থেকে খালি হাতে ঢাকায় এসেছিলাম। পরিশ্রম করে গেছি দীর্ঘদিন, সেটা এখনও চলমান রেখেছি। এই শহর আমার পরিশ্রম ভালোবাসা হিসেবে ফেরত দিয়েছে। এরপর ভিন্ন দেশে (মুম্বাই) কাজের সুযোগ এসেছে, সেখানেও পরিশ্রম করে যাচ্ছি। প্রথম কাজে সেখানকার দর্শকদের ভালোবাসাও পাচ্ছি। আরও বড় স্বপ্ন দেখতে চাই এখন।’

660149372 1510428427116557 8205223252897670425 n 1775723333

ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রিতে আগেও কাজ করেছেন আরিফিন শুভ। সেখানকার ওটিটি জি-ফাইভে দেখা গেছে তাঁর কাজ। এরপর মুজিব সিনেমায় শ্যাম বেনেগালের নির্দেশনায় কাজের সূত্র ধরে বলিউডের নামি-দামি সব নির্মাতা ও হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক হয়। তবে সেটা কেবল সম্পর্কই। মাহেন্দ্রক্ষণটা আসে আরও পরে। সময়ের আলোচিত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া ‘জ্যাজ সিটি’র জন্য হঠাৎ করেই  যোগাযোগ করেছিলেন শুভর সঙ্গে। নায়কের ভাষ্যে এমন, ‘এই কাজের জন্য পরিচালক সৌমিকদা (সৌমিক সেন) নন, আমাকে প্রথম মেসেজ করেন কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া। আমি তখন নেপালে। আমাকে বলেন, অডিশন দিতে হবে একটি ওয়েব সিরিজের জন্য। আমি এককথাতেই রাজি হয়ে যাই।’

তবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই যে, এই এক অডিশনেই জ্যাজ সিটিতে সুযোগ মিলেছে শুভর। বলতে গেলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শুরু কেবল। শুভ বলেন, ‘এভাবে যুদ্ধের শুরুটা হয়েছে। বিদেশি যে কোনো প্রজেক্ট লম্বা প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত করা হয়। তেমনটাই হয়েছে; হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ও বাংলা চার ভাষায় অভিনয়ের জন্য আমাকে একাধিকবার অডিশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনটা না যে আমার একার অডিশন হয়েছে, ভারতের একাধিক অভিনেতা এই চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছেন। পরিচালক সৌমিক সেন লম্বা প্রক্রিয়া শেষে আমাকে চূড়ান্ত করেছেন।’
সিরিজটির পরিচালক সৌমিক সেন আরিফিন শুভর ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমি অনেকের অডিশন নিয়েছি, তারা সবাই খুব ভালো অভিনেতা। কিন্তু জিমি রায় চরিত্রের জন্য আমার কাছে (আরিফিন শুভ ছাড়া) দ্বিতীয় কোনো বিকল্প ছিল না।’

SRI7979.JPG 1775723405

শুভ বরাবরই দীর্ঘ সময় নিয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করার ইতিহাস দেখলে সেটা প্রতীয়মান। তাই কোনো ভালো প্রজেক্টের পেছনে শুভকে সময় দিতে বললে সেটা লুফে নেন তিনি। জ্যাজ সিটির সঙ্গেও ঘটেছে তেমনটি। শুভ এই প্রজেক্টটির জন্য প্রায় তিন বছর সময় দিয়েছেন। শুভ বলেন, ‘প্রায় ৩ বছর সিরিজের জন্য সময় দিয়েছি। শুটের সময় ভারতে ছিলাম প্রায় ৭ মাস। মুক্তির পর হলিউড রিপোর্টারসহ ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে আমার কাজের প্রশংসা দেখে সেটা আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে আরও পরিশ্রমী হওয়ার। ভারতসহ অনেক দেশ থেকে ফোন কলও পাচ্ছি। সূচনা ভালো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

জ্যাজ সিটি মোট ১০ পর্বের সিরিজ। প্রায় ৮ ঘণ্টার এই সিরিজে আরিফিন শুভর চরিত্রের নাম জিমি রায়। তাঁকে ঘিরেই এই সিরিজের গল্প। সে কাল্পনিক ক্লাব ‘জ্যা জ সিটি’র কর্ণধার। যে নিজের রিফিউজি পরিচয় মুছে এই এলিট ক্লাবের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন। এই ক্লাব গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া। হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু ও বাংলা চার ভাষায় সংলাপ বলেছেন শুভ।

সিরিজটি মুক্তির পর আরিফিন শুভর অভিনয়ের দারুণ প্রশংসা করছে ভারতীয় শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শীর্ষ বিনোদন ম্যাগাজিন হলিউড রিপোর্টার তাদের ইন্ডিয়ান সংস্করণে ‘জ্যাজ সিটি’ সিরিজের পর্যালোচনায় লিখেছে, এই সিরিজে সবচেয়ে কার্যকর দিক হলো বাংলাদেশি তারকা আরিফিন শুভর প্রধান চরিত্রে অভিনয়। তাদের ভাষায়, তাঁর পারফরম্যান্সই দর্শককে ধরে রাখার অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়া টাইমস অব ইন্ডিয়া, স্ক্রল, মানিকন্ট্রোল, এম৯ নিউজ, নিউজবাইটস, হিন্দি সংবাদপত্র অমর উজালাসহ অনেকেই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শুভকে। শুভকে ‘স্ট্যান্ডআউট লিড’, কখনও বা সিরিজের সবচেয়ে ‘শক্তিশালী চরিত্র’ বলছে গণমাধ্যমগুলো।

SRI0018.JPG 1775723461

হলিউডের প্রজেক্ট অপেক্ষায়

বলিউডে তো কাজ করা হচ্ছে। শুভর এবারের টার্গেট হতে পারে হলিউড। কয়েক বছর আগে এমন গুঞ্জন উঠেছিল। সে গুঞ্জন পানি পায় সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আসা দেখে। তাই অনেকটা আন্দাজে ডিল ছোড়ার মতো প্রশ্ন করা হয় এরপর কি হলিউডে কাজ করছেন? এমন প্রশ্নে নীরব আরিফিন শুভ। উত্তর দিলেন অল্পকথায়, ‘আমি বড় স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষায় অভিনয় করতে চাই। আল্লাহ যেন সেই সুযোগ দেন সেই দোয়া চাই আপাতত।’ শুভর এই উত্তরে বড় কিছুর ইঙ্গিত বিদ্যমান। তবে যদি এটা হয় তাহলে বিশাল কিছু ঘটে যাবে। বাংলাদেশের নায়কের হলিউড বিজয়ের ইতিহাসও রচিত হবে নতুন করে।

মালিক ও অন্যান্য কাজ

উপরে তো গেল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুভর কাজের বিস্তৃতির খবর। দেশেও সমান ব্যস্ততা বাড়ছে তাঁর। নায়কের শিডিউলের খাতার দিকে তাকালে দেখা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় আছে আরিফিন শুভর সিনেমা ‘মালিক’। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতি শেষ হচ্ছে চলতি মাসেই। কাজ শেষ করা অনম বিশ্বাসের ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ সিনেমাও মুক্তি পাচ্ছে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে। এ ছাড়া ‘লহু’ শিরোনামে কলকাতার ওয়েব সিরিজও মুক্তি পাবে এই বছরে। নতুন কাজের ব্যাপারে বরাবরই চুপচাপ আরিফন শুভ। তবুও জানতে চাওয়া। শুভর সেই কৌশলী উত্তর, ‘দেশে কাজের ব্যাপারে কথা চলছে। আর দেশের বাইরেও একাধিক প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলছে। আমি আসলে কাজ করেই কথা বলতে পছন্দ করি।’

হরমুজে জাহাজ চলাচলে বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা ইরানের

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বিকল্প রুট চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। জলপথটির মূল অংশে সামুদ্রিক মাইন থাকার ঝুঁকি বিবেচনায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক বিবৃতির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নীতি মেনে চলতে এবং সামুদ্রিক মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে বিকল্প রুট ব্যবহার করা উচিত।’

বিবৃতিতে প্রণালি দিয়ে প্রবেশ এবং বের হওয়ার বিকল্প রুটের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে এএফপি। তবে তারা এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু তুলে ধরেনি।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান সাময়িকভাবে এই প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

টাইব্রেকারে হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ

০

আগের ম্যাচে উজবেকিস্তানের সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় এশিয়ান গেমসে খেলা নিয়ে একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ সুযোগটা আর হাতছাড়া করেনি বাংলাদেশ। আজ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হংকং চায়নাকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে খেলা নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের হকি দল।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল চরম উত্তেজনা। নির্ধারিত ৬০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ৪-৪ গোলের সমতায়। ম্যাচের ৪ মিনিটেই রকিবুল হাসানের ফিল্ড গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ। ঠিক পরের মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন আমিরুল ইসলাম। তবে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি হংকং চায়না। পরের মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন পাক কো।

বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে সমতায় ফেরে হংকং। ৩২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন ইশতিয়াক আহমেদ। এরপর ৪২ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আশরাফুল ইসলামের দুর্দান্ত গোলে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু ৪৬ মিনিটে হংকংয়ের কুলদ্বীপ সিং ফিল্ড গোল করে স্কোর ৩-৩ করেন।

ম্যাচের ৪৮ মিনিটে রোমাঞ্চ আরও বাড়ে। ওই মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আশরাফুল। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ওই একই মিনিটে গোল শোধ করে আবারও ম্যাচে ৪-৪ সমতা ফেরায় হংকং।

নির্ধারিত সময়ের খেলা অমীমাংসিত থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। শেষ হিটে ফজলে রাব্বির দারুণ এক গোল লাল-সবুজদের জয় নিশ্চিত করে।

এই জয়ে বাছাইপর্বের সেরা ছয় দলের একটি হয়ে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার টিকিট পেয়ে গেল বাংলাদেশ। মূল মঞ্চে যাওয়ার আগে এখন এশিয়ান গেমস বাছাইয়ে ব্যাংককেই টুর্নামেন্টের পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।

অর্থনীতিকে সচল রাখতে ‘রক্তসঞ্চালনের’ মতো সংস্কার অব্যাহত জরুরি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সংস্কারকে মানবদেহের রক্তসঞ্চালনের সঙ্গে তুলনা করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও ইআরএফের সমঝোতা স্মারক সাক্ষর এবং বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন প্রমুখ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সংস্কার কোনো স্থির বা এককালীন প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি চলমান ও অব্যাহত প্রয়াস, যা ছাড়া অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, একটি অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে যেমন মানবদেহে রক্তসঞ্চালন অপরিহার্য, তেমনি সংস্কারও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উত্তরণে অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কারকে কখনোই সমাপ্ত বা চূড়ান্ত কোনো বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন বিগত সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার প্রক্রিয়াও শেষ হয়ে গেছে বা তা অসম্পূর্ণ থেকে গেছে—এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। বরং সংস্কারকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।

তার মতে, অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে। এই প্রক্রিয়া থেমে গেলে অর্থনীতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে এবং এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামগ্রিক কাঠামোগত উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। তাই আগামী দিনে সংস্কার কার্যক্রমকে আরও জোরদার ও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সংসদ অধিবেশন বিল পাস, নিষিদ্ধ থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে হুবহু বিল আকারে পাস হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটি সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তিযোগ্য বিধান যুক্ত করতে সুপারিশ করেছিল। তবে সংসদে উত্থাপিত বিলে তা করা হয়নি।

পাস হওয়া ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’টি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর আইনে পরিণত হবে। ফলে সরকার নির্বাহী আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

বিলটি পাস হওয়ার পর নতুন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আলোচনায় এসেছে। আওয়ামী লীগ এই বিল পাসের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘বিলের কপি মাত্র তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এটি পুরো পড়তে পারিনি। স্পর্শকাতর বিলটি পাসের আগে একটু সময় দেওয়া হোক।’

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিল উত্থাপনের পর্যায়ে আপত্তির সুযোগ নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল, মূলত তার সংশোধন প্রস্তাব করা হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনে বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনও স্থগিত হয়ে আছে। এ আইনে পরবর্তী সময়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সেই অধ্যাদেশের বিলও পাস হয়েছে।

গতকাল দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আওয়ামী লীগ বলেছে, অধ্যাদেশটি পাসের মাধ্যমে মহান সংসদ কলঙ্কিত হয়েছে। কারণ সংসদ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিল পাস করেছে। একে ন্যক্কারজনক ঘটনা অভিহিত করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

শাস্তির বিধান ছাড়াই পাস
বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরিবর্তন ছাড়াই পাসের সুপারিশ করে। আর ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে পাসের সুপারিশ করেছিল। সংশোধনের তালিকার ৪ নম্বরে ছিল ২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। তবে সরকারি দল এ অধ্যাদেশ সংশোধন ছাড়া পাসের জন্য গতকাল সংসদে উত্থাপন করে।

এ অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে। তবে সংশোধন ছাড়াই পাস করায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৯৯টি অধ্যাদেশকে হুবহু পাস করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো দল ও সংগঠনকে সন্ত্রাসী সত্তা হিসেবে গণ্য করে নিষিদ্ধের ক্ষমতা দেওয়া হয় সরকারকে। এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।

১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না; দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে; ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে; পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না; সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না; গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না। তবে এসব কার্যক্রম করলে কী শাস্তি হবে– বলা হয়নি এ অধ্যাদেশে।

জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা বাতিল
গতকাল সংসদে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বাতিল অধ্যাদেশও পরিবর্তন ছাড়া কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষ এ বিলে সমর্থন জানায়।

এ ছাড়া আরও ১০টি বিল পাস হয়েছে গতকাল। এগুলো হলো– সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, স্থানিক পরিকল্পনা বিল, পরিত্যক্ত বাড়ি সম্পূরক বিধানাবলি (সংশোধন) বিল, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) বিল, কোড অব সিভিল প্রসিডিওর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল এবং শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) বিল সংসদে পাস হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে (১৩ মার্চ) সংসদে উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকারিতা হারাবে।

সংসদে সড়কমন্ত্রী এসি বাসের ভাড়া তালিকা তৈরি করা হবে শিগগিরই

এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা শিগগিরই তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা তৈরি করা হবে। সেটি গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকার দলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাব সড়ক পরিবহন মন্ত্রী জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে দেশের সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলরত গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে সড়কে যত্রতত্র থামিয়ে ওঠানামা করা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া কোনো গণপরিবহন সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার রেকর্ড সংরক্ষণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে সড়কমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্রয় কার্যক্রমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ৮১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে ক্রয় কার্যক্রমে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন ও বিধির আলোকে কোনো ব্যক্তি বা ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারী পেশাগত অসদাচরণে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা চলমান প্রক্রিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলা রায়ে অসন্তুষ্ট পরিবারের সদস্যরা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
এছাড়া আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হান ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

তিনি জানান, এই রায়ে কাউকে মৃত্যুদণ্ড আবার কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেককে লঘুদণ্ড দেওয়ায় তারা রায় বিবেচনা করার মতামত দিয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি রংপুরে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম না। যার কারণে শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠী, ঘটনার সাক্ষী কিংবা যারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছে তাদের সন্তুষ্টি মানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি। আবার শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সন্তুষ্টি মানেও এই বিশ্ববিদ্যালয় তথা আমার সন্তুষ্টি।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় এই মামলায় গ্রেপ্তার ৬ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।