Home Blog Page 161

ভাগে জমি কম পাওয়ায় বাবার কবর ভাঙচুর

গাইবান্ধায় অন্য ভাইদের চেয়ে জমি নিজ ভাগে কম পাওয়ায় ক্ষোভে বাবার কবর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, প্যান্ট ও গেঞ্জি পরা এক যুবক কবরের চারপাশে আঘাত করছেন এবং গালি দিচ্ছেন। কবরের চারপাশ ঘেরা খুঁটি ও জালে লাথিও মারছেন তিনি। এ সময় বহু মানুষ দাঁড়িয়ে তা দেখছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতাড়ি গ্রামের ঘটনা। কবরটি মৃত আব্দুল মান্না মিয়ার। কবর ভাঙচুর করা ব্যক্তির নাম শাহ আলম। তিনি আব্দুল মান্নান মিয়ার ছোট ছেলে ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বাবার কবর ভাঙচুর করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন খোলাহাটি ইউপি সদস্য আব্দুল হাই মিয়া। তিনি স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, আনালেরতাড়ি গ্রামের আব্দুল মান্নানের পাঁচ ছেলে। ৩-৪ বছর আগে মান্নান মিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি তার জমি পাঁচ ছেলের মাঝে ভাগ করে দেন। তবে আব্দুল মান্নান মিয়া গোপনে তার দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল মিয়াকে অতিরিক্ত কিছু জমি লিখে দেন। লিখে দেওয়া সেই জমি কয়েক বছর পর গোপনে ছোট ছেলে শাহ আলমকেও লিখে দেন। সম্প্রতি জমি ভাগ করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। একই জমি দুই ছেলেকে লিখে দেওয়ায় ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলে শাহ আলম বাবার কবর ভাঙচুর করেন।

ইউপি সদস্য আরও বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বড় ছেলে ইকবাল মিয়ার দখলের জমিতে তার বাবার কবর। কবরের জায়গাটা ছোট ছেলে শাহ আলম নিজের বলে দাবি করেন এবং বাবার কবর ভাঙচুর করে। জমির জন্য নিজের বাবার কবরে অসম্মানজনক আচরণ করা খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহ আলম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের দাবি আলোচনা চলছে, ইরান বলছে হচ্ছে না- সত্য কোনটা

প্রায় এক মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, এ আলোচনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও যুক্ত ছিলেন। তবে ট্রাম্পের এমন বয়ানের প্রধান সমস্যা হলো- ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এটি বারবার অস্বীকার করছেন।

যুদ্ধের ডামাডোল এবং সব পক্ষের প্রোপাগান্ডার মাঝে কাকে বিশ্বাস করা যাবে তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি থেকে উভয় পক্ষ কী পেতে পারে- সেটি বিশ্লেষণ করা গেলে কিছু বিষয় স্পষ্ট হতে পারে।

শুরুতেই ট্রাম্পের মন্তব্যের ওপর নজর দেওয়া যাক। ইরানের একজন শীর্ষ নেতার (নাম উল্লেখ করেননি) সঙ্গে তিনি ‘খুব ভালো’ আলোচনার দাবি করেছেন। ওই আলোচনায় ঐকমত্যের মূল বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- যে সময়ে মার্কিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়; ট্রাম্প ঠিক সে মুহূর্তে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ কথা বলেছেন। ইরানের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্য তিনি যে পাঁচদিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন সেটিও কাকতালীয়ভাবে শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনের সঙ্গে মিলে যায়।

অনেকে এই ‘টাইমিং’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। কারণ, যুদ্ধের পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের সঙ্গে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

শেয়ারবাজার ও তেলের দামের ওপর যুদ্ধের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ট্রাম্পের জন্যই নয়, ইরানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধ মার্কিন এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে তা দীর্ঘমেয়াদে পর্যবেক্ষণ করাটাও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তেহরানের চাওয়া- যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হোক, যাতে ভবিষ্যতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে হামলা করার আগে দশবার ভাবে।

সুতরাং, বাজার শান্ত করার জন্য আলোচনার কথা বাড়িয়ে বলা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ তেমনি বাজারকে অস্থির রাখতে এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে স্বস্তি না দিতে আলোচনার কথা অস্বীকার করাটাও ইরানের কৌশলের অংশ।

ইরানের শীর্ষ যেসব নেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। কিন্তু তিনিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে আর্থিক ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যে চোরাবালিতে আটকে গেছে তা থেকে বাঁচতে এখন ‘ফেক নিউজ’ ব্যবহার করছে।

এদিকে ট্রাম্পের আলোচনার বার্তা দেওয়ার পেছনে ‘যথেষ্ট সময় অর্জন’ করাটাও অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে। কারণ, ওয়াশিংটন ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের স্থল অভিযানের সিদ্ধান্ত নিলে, সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে আরও মার্কিন সেনা পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট সময় প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের লাভ
যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে উভয়পক্ষের নিজস্ব বয়ান আছে। এ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্যও করছে। কিন্তু সেগুলো থেকে আলোচনা আদৌ হচ্ছে কি না সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। তবে কোনো বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে একটি না একটি দিক অবশ্যই পাওয়া যায়।

যেমন- গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকে তাদের (ইরান) লক্ষ্যবস্তু বানানোটা কেউ আশা করেনি। বড় বড় বিশেষজ্ঞরাও এটি বিশ্বাস করেননি।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ইঙ্গিত দেয়, তিনি আসলে ইরানের সক্ষমতার অবমূল্যায়ন করেছিলেন। যা এখন উপলব্ধি করতে পারছেন। তাই এখন তাঁর পক্ষে যুদ্ধের অবসান সংক্রান্ত চুক্তি করতে চাওয়া অবাস্তব কিছু নয়।

তেলের বাজার শান্ত রাখতে ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ইরানের কিছু তেলের ওপর থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম কোনো ইরানি তেলের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। ইরান এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছে, তাদের যুদ্ধ বিস্তৃত করার কৌশল কাজে দিয়েছে।

যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এমনিতেও অজনপ্রিয় ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর তা আরও প্রকট হয়েছে। কারণ, মার্কিন ভোক্তারা ইতোমধ্যে পেট্রলের দাম ও অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রে যুদ্ধের প্রভাব টের পাচ্ছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোক্তা পর্যায়ে তৈরি হওয়া এই অসন্তোষ ট্রাম্প ও তাঁর রাজনৈতিক দলের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ।

তাই ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা- যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দেওয়া অথবা দ্রুত অবসান ঘটানো।

ইরানের সম্ভাব্য দৃষ্টিভঙ্গি
ট্রাম্প যা-ই করতে চান না কেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এককভাবে তাঁর হাতে নেই। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে ইরান দুই দফায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তেহরান এখন ভবিষ্যতে এ ধরনের আরেকটি হামলা ঠেকানোর মতো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাবে না।

তাত্ত্বিকভাবে দেখলে, বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় ইরানের জন্য সংঘাত দীর্ঘ করাটা সুবিধাজনক হতে পারে। কারণ, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের শাসকরা হয়তো ধারণা করছেন, ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধ করলে প্রতিপক্ষ ফের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মজুতের সুযোগ পাবে।

তবে ইরানকেও একটা না একটা সময় যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রায় এক মাসের যুদ্ধে তারাও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। অন্তত দেড় হাজার মানুষ নিহত ও বহু অবকাঠামো ধসে গেছে। আগামীতে বিদ্যুতের গ্রিড লক্ষ্য করে হামলার হুমকি আছে। উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। যুদ্ধ শেষে এই সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনাটাও ক্ষীণ।

ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকাটা স্বাভাবিক। তাই ইরানের তুলনামূলক মধ্যপন্থী নেতারা যুক্তি দিতে পারেন- প্রতিরোধ সক্ষমতার যথেষ্ট প্রদর্শন হয়েছে, আলোচনার জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। এ ছাড়া, ভবিষ্যতে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি বা হরমুজ প্রণালিতে বৃহত্তর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ইরান ট্রাম্পের সঙ্গে চুক্তিতে গেলেও যেতে পারে।

যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায়, নিখোঁজ ৪৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছে। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত অবস্থায় সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে ৪৫ জন।

এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজীব নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। বাকিরা নিখোঁজ।

দৌলতদিয়া ঘাট সূত্র জানায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩নং ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়েছে সেখানে গভীরতা বেশ। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ডুবন্ত বাস বা কোনো যাত্রীকে উদ্ধার করা যায়নি।

জানা গেছে, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসটিতে ৫৬ জন যাত্রী ছিল। যাদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

উদ্ধারকাজে ব্যস্ত থাকায় বিআইডব্লিউটিসি, গোয়ালন্দ ঘাট থানা, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চঞ্চল-নিশো মুগ্ধ করলেও ‘দম’ লম্বা লেগেছে শাওনের কাছে

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকদের পাশাপাশি শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও দিচ্ছেন নিজেদের প্রতিক্রিয়া। এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচ ছবির দৌড়ে যেমন আছেন শাকিব খান, তেমনি আলোচনায় আছেন আফরান নিশো ও সিয়াম আহমেদও। সিনেমাগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া—কোথাও প্রশংসা, কোথাও সমালোচনা।

এই তালিকায় যোগ দিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। তিনি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখেছেন রেদওয়ান রনি পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘দম’। সিনেমা দেখার পরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সংক্ষিপ্ত এক প্রতিক্রিয়ায় অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে দেওয়া পোস্টে শাওন লিখেছেন, দম দেখে আসলাম। সারাক্ষণ উত্তেজনা আর দুঃখের আবহে ডুবে থাকতে থাকতে সিনেমাটির দৈর্ঘ্য অনেক বেশি লম্বা মনে হয়েছে।

সিনেমাটিতে বিনোদন বা হালকা মুহূর্তের অভাবও অনুভব করেছেন তিনি। শাওনের ভাষায়, রিলিফ স্পেস খুব কম ছিল। তবে চঞ্চল চৌধুরী যতবার পর্দায় এসেছেন, দর্শক ততবারই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আফরান নিশোর অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, তার উৎসর্গ পর্দায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

‘দম’ সিনেমায় শাহজাহান ইসলাম নূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। তার মায়ের চরিত্রে দেখা গেছে বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুরকে। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেই ডলি জহুরের অভিনয় মুগ্ধ করেছে শাওনকে। তিনি লেখেন, কয়েকটি দৃশ্যেই ডলি জহুর যে অভিব্যক্তি দেখিয়েছেন, তা থেকে বারবার অভিনয় শিখতে ইচ্ছে করে।

উল্লেখ্য, ‘দম’ সিনেমার চিত্রনাট্য যৌথভাবে লিখেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান নির্ঝর ও মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ। ছবিটিতে আফরান নিশোর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা চেরি।

স্বাধীনতার দাবিতে পথে পথে মানুষের স্রোত

আজ ২৪ মার্চ। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চের এই দিনটিতেও স্বাধীনতার দাবিতে গোটা দেশের পথে পথে মানুষের স্রোত নামে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সব সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণদিবস হরতাল পালিত হয়। সারাদেশের ঘরে ঘরে স্বাধীন  বাংলা ও শোকের কালো পতাকা উড়েছে।

অন্য দিনগুলোর মতো রাজধানী ঢাকা এদিনও রূপ নেয় মিছিলের নগরীতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয় মিছিল। দুপুরের আগেই জনারণ্যে পরিণত হয় নগরী। ঢাকা টেলিভিশন কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে পাহারারত সৈন্যদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে সন্ধ্যা থেকে টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর কুচকাওয়াজ।

অদম্য বাঙালিকে প্রতিহত করতে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পথে নামে পাকিস্তানি সেনারা। ঢাকার মিরপুর, রংপুর, সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামে পাকসেনাদের ছত্রছায়ায় অবাঙালি বিহারীরা সাধারণ বাঙালির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরে সামরিক সরকারের এজেন্টরা বোমাবাজি করে। চট্টগ্রাম ও রংপুরে জনতা-সেনাবাহিনী সংঘর্ষ হয়।

ঢাকার মিরপুরে অবাঙালিরা সাদা পোশাকধারী সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বাঙালির বাড়িঘর থেকে জোরপূর্বক স্বাধীন বাংলার পতাকা নামিয়ে অগ্নিসংযোগ ও পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করে। রাতে বিহারীরা এখানে বোমাবাজির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি কিছু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত হন অনেকেই।

সৈয়দপুরে নিরীহ জনগণের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণে শতাধিক মুক্তিকামী মানুষ শহীদ ও কয়েক হাজার আহত হন। সেখানকার সেনানিবাস সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম ঘেরাও করে এই গণহত্যা চালানো হয়। শহরে কারফিউ দিয়ে সেনাবাহিনী-অবাঙালি সম্মিলিতভাবে মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে। রংপুর হাসপাতালের সামনে জনতা-সেনাবাহিনীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সেনানিবাস এলাকায় সেনারা নিরস্ত্র মানুষের ওপর বেপরোয়া গুলি চালালে প্রায় অর্ধশত শহীদ ও বহু আহত হন।

হঠাৎ করেই বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত জনতার সঙ্গে পাকসেনাদের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ঢাকায় দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। বিক্ষুব্ধ মানুষের মিছিলের ঢল নামে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে। এসব মিছিল থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের আনুষ্ঠানিক ডাকের দাবি আসে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনের সামনে আগত মিছিলের উদ্দেশ্যে অসংখ্যবার বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা আদায়ে যে কোনো পরিণতির জন্য জনসাধারণকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলার জনগণের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা বরদাশত করা হবে না।’

চট্টগ্রাম, রংপুর, সৈয়দপুর ও মিরপুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গভীর রাতে আওয়ামী লীগের প্রাদেশিক সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।’ এর আগে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ নেতারা আরেক বিবৃতিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে সশস্ত্র গণবিপ্লব আরও জোরদার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিন পাকিস্তানি সেনারা চট্টগ্রাম নৌবন্দরের ১৭ নম্বর জেটিতে নোঙর করা এমভি সোয়াত জাহাজ থেকে সমরাস্ত্র খালাস করতে গেলে বীর চট্টলার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘিরে ফেলে। বিকেলে সেনাবাহিনী অস্ত্র খালাসের জন্য বন্দর শ্রমিকদের নিয়োগ করতে চাইলে তারাও অস্বীকৃতি জানান। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বন্দরের জেটি থেকে কদমতলী পর্যন্ত প্রায় চার মাইল পথের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে খালাস করা কিছু অস্ত্র ১২টি ট্রাকে করে নতুনপাড়া আনার চেষ্টা করলে ডবলমুরিং রোডে ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাকের পথরোধ করে দাঁড়ায় জনতা। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার পর জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে পাকসেনারা। লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে জনতাও। রাতভর এই সংঘর্ষে সেনা সদস্যদের গুলিতে শহীদ হন দুইশত শ্রমিক-জনতা।

সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট হাউসে আওয়ামী লীগ ও পাকিস্তান সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ে দু’ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগ থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ড. কামাল হোসেন অংশ নেন। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বক্তব্য শেষ হয়েছে। এখন প্রেসিডেন্টের উচিত তার ঘোষণা দেওয়া। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আওয়ামী লীগ আলোচনা আর দীর্ঘায়িত করতে প্রস্তুত নয়।’

পশ্চিম পাকিস্তানি নেতারা বিকেলে পিআইএ’র একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন। করাচি রওয়ানা হওয়ার আগে ন্যাপ নেতা ওয়ালী খান ও গাউস বক্স বেজেঞ্জো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন। পিপলস পার্টি প্রধান জুলিফিকার আলী ভূট্টো দুপুরে প্রেসিডেন্ট হাউসে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু কোনো বৈঠক শেষেই উপস্থিত সাংবাদিকদের কিছুই বলা হয়নি।

‘ক্রিকেট হলে তুই সেরাদের সেরা’, জন্মদিনে সাকিবকে মাশরাফি

মাগুরার ছোট্ট ফয়সাল থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের মহাতারকা হয়ে ওঠা সাকিব আল হাসানের আজ জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের ২৪ মার্চ মাগুরায় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার আজ ৩৯ বছরে পা দিলেন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি সতীর্থ ক্রিকেটারদের ভালোবাসায় ভাসছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবকে আবেগঘন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাশরাফী বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেনরা।

সাকিবের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মর্তুজা তার দীর্ঘদিনের সতীর্থকে ভাসিয়েছেন প্রশংসায়। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘যদি বিষয় হয় ক্রিকেট, তাহলে সেখানে তুই সেরাদের সেরা। শুভ জন্মদিন মিস্টার ৭৫- সাকিব আল হাসান।’

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আর দেশে ফেরা হয়নি সাকিবের। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের জার্সিতেও আর দেখা যায়নি তাকে। তবে দেশের মাটিতে খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা একাধিকবার প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সাকিবের সেই ইচ্ছা পূরণ হোক, এমনটাই চান দীর্ঘদিনের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম।

সাকিবের সঙ্গে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি পোস্ট করে মুশফিক লিখেছেন, ‘দেশের মানুষের মতো ভাই হিসেবে আমিও চাই খেলার ইতি দেশের মাটিতে হোক। শুভ জন্মদিন, সাকিব… বাংলাদেশের সাকিব। সব সময় দোয়া থাকবে ভাই।’

সাকিবের সঙ্গে উইকেট উদ্‌যাপনের পুরোনো একটি ছবি শেয়ার করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নাসির হোসেনও। বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাকিবের অবদানকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ‘অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে আপনার উৎসর্গ, আবেগ এবং অবদান লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মাঠ এবং মাঠের বাইরে আপনার সঙ্গে কাটানো দারুণ মুহূর্তগুলো সব সময় আনন্দের। এই বছর আপনার জন্য আরও সাফল্য, সুখ এবং অবিস্মরণীয় অর্জন বয়ে আনুক! সব সময় শুভকামনা।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ পরিচালকের সাক্ষাৎ, ১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।

মঙ্গলবার ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

সাক্ষাতে আইএমএফের স্থগিত থাকা ঋণ কর্মসূচির দুটি কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রগতি হলে বাংলাদেশ শিগগিরই প্রায় ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার পেতে পারে।

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি আমদানির চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) জানিয়েছে, আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, রাজস্ব আহরণ, এনবিআর পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করে বাংলাদেশ। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এখন পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে; বাকি রয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

গত ডিসেম্বরে একটি কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয় আইএমএফ।

লিটারপ্রতি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ৯০ টাকা

দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম হঠাৎ করে বড় পরিমাণে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করা হয়, যা একই দিন মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে এক লাফে বেড়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন এ দর আগামী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেট ফুয়েলের এই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি বিমান ভাড়ায় পড়তে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা বেশি, যা যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে।

ছুটি শেষে দরপতনে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার প্রথম কর্মদিবসে ফের লেনদেন শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারে। তবে শুরুতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে সূচকেও বড় পতন হয়েছে।

আজ বেলা ১১টার দিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে ২৫৫ কোম্পানির শেয়ার যেখানে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, তখন দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায় ৭৭ কোম্পানির শেয়ার। এ পর্যায়ে দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৮ শেয়ার।

অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোয় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৫৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

একাধিক বড় ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, আজকের দরপতন তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তারা জানান- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ৫ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ এবং তেল ক্ষেত্রে আক্রমণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই এ ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন- ইরান যুদ্ধ চূড়ান্ত অবসানের জন্য ইরানের সাথে আলোচনা চলছে, যাতে অগ্রগতি আছে। অবশ্য ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে- কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশ এ বিষয়ে কথা বললেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে সমঝোতার দাবি অস্বীকার করা হলেও ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণাতে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম ১৩ শতাংশ কমেছে।

এর ইতিবাচক প্রভাব ছিল বিশ্বের বড় সব শেয়ারবাজারে। ইউরোপ থেকে এশিয়ার সব বড় শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান- ঈদের ছুটির শেষ হওয়ার আগে এ খবর ছিল নতুন খুশির বার্তা। তবে লেনদেন শুরু হতে দেখা গেল উল্টো চিত্র।

দেশের শেয়ারবাজারের এমন উল্টো যাত্রার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন কেউ কেউ। ঈদের ছুটির আগের কয়েকদিন দেশের শেয়ারবাজারে যে দর বেড়েছিল, ছুটি শেষে কেউ কেউ মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় শেয়ার বিক্রি করলে তাতে বিক্রি চাপ বেড়ে গেছে। এতে দর পতন হচ্ছে।

কয়েকজন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা জানান- বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আস্থা এখনও তৈরি হয়নি। ফলে কিছুটা দর বৃদ্ধি পেলে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। আজকের দর পতনের নেপথ্যে এটি একটি কারণ হতে পারে।

আজ প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে ১৪০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যা ঈদের ছুটির আগের কর্মদিবসের প্রথম ঘণ্টার লেনদেনের তুলনায় ১৩ কোটি টাকা বেশি।

প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে এগিয়ে ছিল- মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবির শেয়ার। এর পরের অবস্থানে আছে সী পার্ল হোটেল এন্ড রিসোর্ট। এ দুই কোম্পানির সাত কোটি টাকা করে ১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

তালিকায় এর পরের অবস্থানে থাকা ইনটেক অনলাইন, শাইনপুকুর সিরামিক, এক্মি পেসটিসাইডস, সিটি ব্যাংকের ৩ থেকে ৬ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। আস্তে আস্তে কথা বলতে পারছেন তিনি। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

আজ সোমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাসের শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটারগুলো পজিটিভ সাইন দিচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।

তিনি আরও বলেন, তবে ব্রেইনের বিষয় তো, পুরোপুরি সুস্থ হতে একটু সময় নেবে। তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী মির্জা আব্বাসের একান্ত সহকারী সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বলেন, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাকে বেড থেকে চেয়ারে বসিয়েছেন চিকিৎসকরা। এটা পজিটিভ সাইন। তিনি আস্তে আস্তে কথা বলতে পারেন। ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, দোয়া করবেন তার জন্য। দেশবাসীর কাছে তার পরিবারও দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে, গত ১১ মার্চ ইফতারির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে গত ১৩ মার্চ তার মস্তিস্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পৌর ৪ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে ছিলেন দুই দিন। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ১৫ মার্চ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং ছেলে ইয়াসীর আব্বাস সার্বক্ষণিক পাশে থাকছেন।