Home Blog Page 162

কলম্বিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৬৬ জন নিহত

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন।

রয়টার্সকে দুই সামরিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র আরও জানায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে কলম্বিয়ার বিমান বাহিনীর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর একটি।

গতকাল সোমবার কলম্বিয়ার পুতোমায়ো বিভাগের পুয়ের্তো লেগুইজামো শহরের কাছে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, লকহিড মার্টিন নির্মিত হারকিউলিস সি-১৩০ পরিবহন বিমানটি পেরুর সীমান্তবর্তী পুয়ের্তো লেগুইসামো এলাকা থেকে উড্ডয়নের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

দমকলকর্মী এদুয়ার্দো সান হুয়ান কায়েহাস জানিয়েছেন, উড্ডয়নের সময় রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমানটি কোনো কিছুর সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে নিচে পড়ে যাওয়ার সময় ডানার এক অংশ একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং এতে থাকা কোনো বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরিত হয়।

এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পেছনে আহত সেনাদের দ্রুত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সামরিক যানবাহন ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

কলম্বিয়ার বিমান বাহিনী প্রথমে জানায়, বিমানে মোট ১২১ জন ছিলেন-যার মধ্যে ১১০ জন সেনা এবং ১১ জন ক্রু সদস্য। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এই সংখ্যার পার্থক্যের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো তার মেয়াদের শেষ সময়ে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমালোচনা করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আর কোনো বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না; আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বেসামরিক বা সামরিক প্রশাসনের কেউ যদি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম না হন, তবে তাদের সরিয়ে দিতে হবে।’

লকহিড মার্টিনের এক মুখপাত্র জানান, তদন্তে সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ার পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান প্রথম ১৯৫০-এর দশকে চালু হয়। কলম্বিয়া ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে প্রথম এই মডেল সংগ্রহ করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নতুন মডেলের মাধ্যমে পুরোনো কিছু সি-১৩০ আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

ঈদ কাটল হাসপাতালের বিছানায়, চেন্নাইতে অস্ত্রোপচার তানিয়া বৃষ্টির

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ভারতের চেন্নাইতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

অভিনেত্রীর অস্ত্রোপচারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা রায়হান খান। সর্বশেষ এই নির্মাতার ট্রাইব্যুনাল সিনেমায় অভিনয় করছিলেন তিনি। রায়হান খান জানান, দ্বিতীয় দফায় ভারতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে তানিয়া বৃষ্টির। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও বিশেষ সতর্কতার মধ্যে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রথম দফায় ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার করা হয় তানিয়া বৃষ্টির। তবে পরবর্তীতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয়।

চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালে গত ৯ মার্চ তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকদিন আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। টানা চিকিৎসার পর গত ২১ মার্চ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় এবং ২২ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। মোট ১৪ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তানিয়া বৃষ্টিকে মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে হবে এবং সুস্থতার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ১০ এপ্রিল ফলোআপের জন্য তাকে আবারও চেন্নাই যেতে হবে।

জ্বালানি আমদানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানী আমদানির জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইএমএফের সফররত এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আইএমএফের কাছ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে সংস্থাটির বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। তার প্রেক্ষিতে আগামী জুলাই মাসে ঋণের কিস্তি পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, আইএমএফের ঋণ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ১.৩ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জুলাই মাসে রিভিউ হবে। এর মধ্যে আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নিবো। ওয়াশিংটনে এপ্রিলে স্প্রিং মিটিং আছে, সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

আমির খসরু বলেন, জ্বালানি আমদানির জন্য যে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন, সে বিষয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমাদের বেশ কয়েক বছর ধরে প্রোগ্রাম চলছে। প্রোগ্রামটি আবার রি-ভিজিট হবে, এতে কোনো সমস্যা নেই। আইএমএফের যে রিকোয়ারমেন্ট সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, আইএমএফের সব শর্ত এখনই পূরণ করা যাবে না। এখন কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো এখন সম্ভব না, সেগুলো ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, অর্থনীতি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সব কিছু আমাদের মতো করে করতে হবে।

এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি রিভিউ হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরণের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি-ব্যাংকিংখাত খুবই খারাপ অবস্থায় পেয়েছি। এই সংকট থেকে উত্তরণে বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারে যে কথাগুলো বলা আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের অনেক রিফর্ম দরকার, অনেক ডিরেগুলেশন দরকার।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর খুবই খারাপ অবস্থায় আছে, শেয়ারবাজার খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। ট্যাক্স-জিডিপির অবস্থা খুবই কম। এগুলো দূর করতে ম্যানুফেসটো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভব এবং একটার পর একটা পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি। সোশ্যাল সেফটি নেটের আওতা সম্প্রসারণে আমরা অলরেডি কাজ শুরু করেছি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক উন্নয়ন প্রকল্প থমকে গেছে। এগুলো আবার সচল করতে হবে। এ জন্য আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটি জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ, ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ, ক্যাপিটাল মার্কেটের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ট্যাক্স-জিডিপিতে আমরা একেবারে নিম্ন পর্যায়ে। এটা ইম্প্রুভমেন্টের ব্যাপার আছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে দেশবাসীকে সহানুভূতিশীল ও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এক মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। এর মধ্যে রমজান গেল, যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট সত্বেও দেশের পরিবহনে কোনো সমস্যা হয়নি। সবাই বাড়ি যেতে পেরেছে, ভাড়া বাড়েনি। গার্মেন্টসে কোনো অস্থিরতা হয়নি। তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ ছিল না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার একা এই সংকট সামাল দিতে পারবে না, দেশবাসীকে সহানুভূতিশীল হতে হবে, সংযমের দিকে যেতে হবে।

ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হচ্ছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য থমথমে

ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা আজ সোমবার রাতে শেষ হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪৪ মিনিটে এই আলটিমেটাম পার হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিমুক্তভাবে সম্পূর্ণরূপে খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।

গত শনিবার নিজের সামাজিকমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে  দেওয়া হবে। আর ওই হামলা শুরু হবে ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে।’ খবর বিবিসির

এর জবাবে ইরান যেকোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ-বাঘের গালিবাফ রোববার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে হামলা করে, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘চিরতরে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।

গালিবাফ তার পোস্টে বলেন, ‘ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো আঘাত এলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও তেল স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই পাল্টা আঘাত এমনভাবে করা হবে, যা কোনোভাবেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

ট্রাম্পের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগে থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এরইমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, এই সংকটের প্রভাব সত্তরের দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে গেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। এই জলপথ দিয়ে চলাচলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর খাগড়াছড়ি

ঈদের ছুটিতে সবুজ পাহাড়, নির্মল বাতাস আর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ঈদের টানা ছুটিতে খাগড়াছড়িতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই পাহাড়ি জনপদে।

জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, আলুটিলা গুহা, তেরাং তৈকালাই ঝর্ণা, জেলা পরিষদ পার্ক, চেঙ্গী নদীর পাড়সহ বিভিন্ন স্পট এখন মুখরিত পর্যটকদের পদচারণায়। প্রতিটি স্থান যেন নিজস্ব সৌন্দর্যে হাতছানি দিয়ে ডাকছে দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে রহস্য আর রোমাঞ্চে ঘেরা আলুটিলা গুহা ঈদ ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ফেনী থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আল আমিন বলেন, ঈদের ছুটিতে সপরিবারে একটু ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্য এখানে এসেছি। আমার ছেলেমেয়েরা খুব আনন্দ পাচ্ছে। গুহার ভেতরে গিয়ে একেবারে অন্যরকম অনুভূতি হয়েছে—অন্ধকার, ঠাণ্ডা আর নীরবতা মিলিয়ে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।

অন্যদিকে তেরাং তৈকালাই ঝর্ণার স্বচ্ছ ঠাণ্ডা পানি, ঝুলন্ত সেতুর দোল আর পাহাড়ি পথের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। ঝর্ণার কলকল শব্দ আর শীতল স্পর্শ যেন ক্লান্ত মনকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে।

নোয়াখালী থেকে আসা পর্যটক সুমন সাহা জানান, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, এখানকার পরিবেশ—সবকিছু এক কথায় অসাধারণ। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এমন শান্ত পরিবেশ সত্যিই প্রশান্তি দেয়।

পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও। খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের উপ-সহকারী হর্টিকালচার কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রচুর পর্যটক আসছে। আমরা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছি। পার্কের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর নিশাত রায় বলেন, এবার ঈদে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পর্যটক এসেছে। প্রতিটি পর্যটন স্পটে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

শুধু পর্যটন স্পটই নয়, জমজমাট হয়ে উঠেছে পাহাড়ি হস্তশিল্পের দোকানগুলোও। বাঁশ, বেত, কাঠ ও কাপড়ে তৈরি নান্দনিক পণ্যগুলো পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্থানীয় এক বিক্রেতা বলেন, ঈদের এই সময়টাতে আমাদের বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। পর্যটকরা এখানকার ঐতিহ্যবাহী জিনিস খুব পছন্দ করে, তাই ভালো ব্যবসা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ঈদের এই ছুটিতে খাগড়াছড়ি যেন রূপ নিয়েছে এক প্রাণবন্ত উৎসবের নগরীতে। প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর মানুষের আন্তরিকতায় ভরপুর এই পাহাড়ি জেলা পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে এক স্বপ্নপুরী।

প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই সময়গুলোই হয়ে উঠছে অমূল্য স্মৃতি—যা বারবার ডেকে নিয়ে যাবে মানুষকে পাহাড়ের এই অপার সৌন্দর্যের কাছে।

নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলে পিএসএলে খেলবেন না মুস্তাফিজরা: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলে আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) অংশ নেবেন না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

উপমহাদেশে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এবারের পিএসএল শুধু লাহোর ও করাচিতে দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্থিতি সরকারকে জানালে এবং জাতীয় সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সন্তোষজনক প্রতিবেদন পেলেই কেবল ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মতে বিসিবি নিশ্চয়তা দিলে সরকারের কোনো আপত্তি থাকবে না, ‘যদি বিসিবি আমাদের নিশ্চিত করে যে সেখানে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারা(বিসিবি) খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকেও গুরুত্ব দেবে, কারণ আমরা খেলাধুলাকে নিরুৎসাহিত করতে চাই না এবং আমরা চাই সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে খেলা চালিয়ে যাক।’

বিসিবির দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিষয়ে বিসিবি আমাদের সঙ্গে পরামর্শ করবে এবং যদি সবকিছু ঠিক আছে বলে তারা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আমরা এগোতে(পাকিস্তানে যাওয়ার ক্ষেত্রে) পারি।’

আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পিএসএলের জন্য ইতোমধ্যে বিসিবির অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পেয়েছেন ৬ বাংলাদেশি ক্রিকেটার। আজ পিএসএলে অংশ নিতে প্রথম ধাপে পাকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমানসহ চারজন। আজ সকালে ঢাকা ত্যাগ করা চার ক্রিকেটার হলেন- মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা এবং পারভেজ হোসেন ইমন। দল পাওয়া অপর দুই ক্রিকেটার লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম পরবর্তীতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

এদিকে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। একই সময়ে দেশে আইপিএল সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, ‘খেলাধুলাকে রাজনৈতিক করা উচিত নয়। ঈদের ছুটির পর ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রকৃত কারণ জেনে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতায় পাম্প বন্ধের শঙ্কা পাম্প মালিকদের

জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার সংগঠনটির এক ফেসবুক পোস্টে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।

পোস্টে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। তেল কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে বর্তমান ক্রেতা চাহিদা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশে কোটি কোটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এতে তারা ক্লান্ত, বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই এই ক্ষোভ পাম্পে কর্মরত নজেলম্যানদের ওপর গিয়ে পড়ছে।

পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাদিন বিরামহীনভাবে কাজ করতে গিয়ে কর্মীরা চরম চাপে রয়েছেন। বিরক্ত ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও ছোটখাটো ঝামেলার ঘটনা ঘটছে। এক কর্মী বলেন, “মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে এসে রাগান্বিত থাকেন। আমরা চেষ্টা করি সামাল দিতে, কিন্তু সবসময় সম্ভব হয় না।”

সংগঠনটির ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে পাম্প পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একদিকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নেই, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে অনেক পাম্পে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পোস্টে সতর্ক করে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পগুলো নিরাপত্তাজনিত কারণ ও সরবরাহ সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘কোবরা’ বৈঠক ডাকলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার দেশের অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় আজ সোমবার ‘কোবরা’ নামে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ।

এ বৈঠকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার (অর্থমন্ত্রী) র‍্যাচেল রিভস এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন বলে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়,  ইরান যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ উদ্বেগের সঙ্গে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাজ্য। আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা, টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কোষাগারে টানাটানির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশটির সরকারি বন্ডের দর অনেক দ্রুত কমছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোবরা’ নামের এই জরুরি বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও অংশ নেবেন। র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর এ যুদ্ধের প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও তিনি আপাতত তা নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেওয়ার অজুহাতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার হুমকি কার্যকর করেন, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে। এই উত্তেজনা শুরুর পর আর্থিক বাজারগুলো আরও একটি অস্থির সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে।

কুমিল্লা-ফেনীতে নিহতের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং ফেনীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে-দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।’

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং ফেনীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারগুলোর শোক কখনোই পূরণ হবার নয়।’

তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ওই পোস্টে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
শেষে আল্লাহর নিকট নিহতদের জন্য শহীদের মর্যাদা এবং তাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেন শফিকুর রহমান।

লালবাগে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকার বাসা থেকে ফারহান রহমান জিহাদ নামের এক স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেমঘটিত কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়।

গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৭ বছর বয়সী ফারহান রহমান জিহাদ ইসলামবাগ আইডিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে জিহাদ সবার ছোট। তার বাবার নাম ফজলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচড় উপজেলায়। পরিবারটি লালবাগ এলাকায় ওই ভাড়া বাসায় থাকে।

জিহাদের বড় ভাই ফাহিম রহমান রুদ্র বলেন, ‘জিহাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, একই স্কুলে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুপুরে তারা এক সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল। বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় মোবাইলে কথা বলছিল জিহাদ। এর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা খুলেনি। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়- জিহাদ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জিহাদকে নামিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনরা আত্মহত্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি যাচাই করার পাশাপাশি আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।