Home Blog Page 163

অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘কোবরা’ বৈঠক ডাকলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তার দেশের অর্থনীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় আজ সোমবার ‘কোবরা’ নামে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ।

এ বৈঠকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার (অর্থমন্ত্রী) র‍্যাচেল রিভস এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন বলে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়,  ইরান যুদ্ধের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ উদ্বেগের সঙ্গে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাজ্য। আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা, টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি কোষাগারে টানাটানির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশটির সরকারি বন্ডের দর অনেক দ্রুত কমছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোবরা’ নামের এই জরুরি বৈঠকে যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও অংশ নেবেন। র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর এ যুদ্ধের প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও তিনি আপাতত তা নাকচ করে দিয়েছেন।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেওয়ার অজুহাতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস’ করার হুমকি কার্যকর করেন, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে। এই উত্তেজনা শুরুর পর আর্থিক বাজারগুলো আরও একটি অস্থির সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে।

কুমিল্লা-ফেনীতে নিহতের ঘটনায় জামায়াত আমিরের শোক

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং ফেনীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করে-দেশের পরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে।’

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন এবং ফেনীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারগুলোর শোক কখনোই পূরণ হবার নয়।’

তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ওই পোস্টে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, আমাদের পরিবহন ব্যবস্থা, সড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
শেষে আল্লাহর নিকট নিহতদের জন্য শহীদের মর্যাদা এবং তাদের পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেন শফিকুর রহমান।

লালবাগে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকার বাসা থেকে ফারহান রহমান জিহাদ নামের এক স্কুলছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেমঘটিত কারণে সে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়।

গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৭ বছর বয়সী ফারহান রহমান জিহাদ ইসলামবাগ আইডিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে জিহাদ সবার ছোট। তার বাবার নাম ফজলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচড় উপজেলায়। পরিবারটি লালবাগ এলাকায় ওই ভাড়া বাসায় থাকে।

জিহাদের বড় ভাই ফাহিম রহমান রুদ্র বলেন, ‘জিহাদের বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, একই স্কুলে একটি মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুপুরে তারা এক সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল। বাসায় ফিরে সন্ধ্যায় মোবাইলে কথা বলছিল জিহাদ। এর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করে সে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা খুলেনি। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায়- জিহাদ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জিহাদকে নামিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনরা আত্মহত্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি যাচাই করার পাশাপাশি আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন তারকারা, প্রচারে নেই ‘প্রিন্স’-এর কেউ

সারা বছর দর্শকখরা গেলেও ঈদে সিনেমা হলে থাকে উপচে পড়া ভিড়। এবার ঈদের দিন থেকে প্রেক্ষাগৃহে পাঁচটি সিনেমার প্রদর্শনী হচ্ছে। সিনেমাগুলো হলো- ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’। ঈদের দিন থেকেই নিজেদের সিনেমার প্রচারে হল থেকে হল ঘুরছেন তারকারা। তবে নির্মাতা-প্রযোজক ছাড়া প্রচারে পাওয়া যায়নি ‘প্রিন্স’ সিনেমার কোনো তারকাশিল্পীকে।

রোববার স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধারা শাখায় দেখা যায় অভিনেতা আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ পূজা চরি, আজমেরী হক বাঁধন, অভিনেত্রী নাজিফা টুষি, নির্মাতা রেদওয়ান রনি, আবু হায়াত মাহমুদ, মেহেদি হাসান হৃদয়সহ অনেক তারকাকে।

এদিন মেয়েকে নিয়ে সিনেমা দেখেতে এসেছিলেন হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’এর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। কিন্তু সিনেমার টিকিট না পেয়ে সেটা আর হয়নি।

আজমেরী হক বাঁধন, “আজ মেয়েকে নিয়ে নিজের সিনেমা দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু টিকিট পাইনি। তাই এখান থেকে নিজের সিনেমাসহ ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর দর্শক প্রতিক্রিয়া জানছি। খুশির খবর হল- আমাদের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়ে আমি আপ্লুত। সেই সঙ্গে অন্য সিনেমাগুলোর প্রতিক্রিয়াও দারুণ।”

এবার ঈদে তিনটি সিনেমা দেখা যাচ্ছে চঞ্চল চৌধুরীকে। ‘দম’ ‘প্রেসার কুকার ও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এই তিন সিনেমার প্রচারণায় ঈদের দিন থেকেই তিনিও ছুটছেন বিভিন্ন হলে।

চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘এবার ঈদে আমার তিনটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে।  এজন্য চাপটা একটু বেশি। প্রতিদিন দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য হলে হলে যাচ্ছি। ভালো লাগার বিষয় হল অডিয়েন্সে (দর্শক) ভর্তি ছিল। হাউসফুল হলে যে কারও ভালো লাগে। দর্শকের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস দেখলাম, সেটাই আমাদের ভালো লাগা।’

ঈদের আরেক সিনেমা ‘দম’–এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। সিনেমাটি নিয়ে নিশোও হলে হলে ছুটছেন। রোববার স্টার সিনেপ্লেক্সে হাজির হন নিশো, সঙ্গে সিনেমার পূজা চেরী, প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। নির্মাতা রেদওয়ান রনিকেও দেখা গেছে।

নিশো বলেন, ‘দর্শকের এক্সপ্রেশন ও রিঅ্যাকশন খুবই ভালো। আমরা খুবই আনন্দিত। গোয়িং গ্রেট সো ফার। এটা তো আজকে শুরু। আমি যত দিন বেঁচে আছি, হলে অডিয়েন্সের রিঅ্যাকশন ফিজিক্যালি এক্সপেরিয়েন্স করতে চাই। এর থেকে সুন্দর আর কিছু হয় না।’

মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, সুস্মিতা চ্যাটার্জি। হল থেকে হলে ঘুরেছেন সিয়াম। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ‘রাক্ষস’ যেটা ভেবে বানিয়েছিলাম, অডিয়েন্সরা সেটার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারছেন। বারবার বলছিলাম, দিস ইজ নট জাস্ট অ্যানাদার কমার্শিয়াল ফিল্ম। আজকে থেকে ‘রাক্ষস’ আপনাদের হয়ে গেছে।”

স্টার সিনেপ্লেক্সে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার প্রচারে গিয়েছিলেন নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত, রায়হান রাফীসহ আরও কয়েকজন।

রায়হান রাফী বলেন, ‘‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার দারুণ সারা পাচ্ছি। দর্শক সিনেমাটি নিয়ে তৃপ্তি নিয়ে হলে থেকে বের হচ্ছে। একজন নির্মাতা হিসেবে এটাই বড় পাওয়া।”

আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান। বরাবরের মতো এবারও তাঁকে সিনেমার প্রচারে দেখা যায়নি। কোনো হলে যাওয়ার খবরও মেলেনি।

মব তৈরি করতে দেব না, কঠোর হস্তে দমন করা হবে: মির্জা ফখরুল

সামনে কঠিন সময় আসছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এই যুদ্ধটা আমাদের খুব ক্ষতি করছে। তেলের দাম বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে এগুলোকে সয়ে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা দেশে কোনো মব তৈরি হতে দেব না, মবকে কঠোর হস্তে দমন করব।’

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় ‘নেহা নদী’ খননকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে তেলের সাপ্লাই কম। এর মধ্যেই হঠাৎ দেখা গেল ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পেট্রোল পাম্প ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তা দায়িত্বশীলদের জানাতে হবে। সবাই সাবধান থাকবেন, গায়ের জোরে আইনের বাইরে কেউ কোনো কাজ করার চেষ্টা করবেন না।’ তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল পাম্পে হামলাকারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করায় ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

কৃষি, কৃষকের উন্নয়ন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মাছ চাষ ও হাঁস পালনের উদ্দেশ্যে সরকারের এই খাল খননকাজে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই খাল খননের কাজ যেন সুন্দরভাবে হয় এবং মানুষ যেন খুশি হয়। কেউ যেন কোনো অভিযোগ করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। মানুষ যেন বলতে না পারে যে শুধু কাজের উদ্বোধনই হয়েছে, পরে আর কোনো কাজ হয়নি। এমনটা যেন না হয়।’

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা কাজের মাধ্যমে, ইবাদতের মাধ্যমে, হালাল উপার্জনের মাধ্যমে এবং সৎ থেকে বেহেশতে যাব। আমরা অন্যদের মতো ধর্মকে ব্যবহার করে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করি না।’

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননের পাশাপাশি কৃষি কার্ডও দেওয়া হবে। কারণ কৃষকের উন্নয়ন হলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে।’

জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফায়েল হোসেন। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের তৃতীয় দিনেও ফাঁকা ঢাকা, ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা

ঈদের তৃতীয় দিন সোমবারও রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে। চিরাচরিত যানজট নেই। মহানগরীর রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলোতে ভিড় নেই। অধিকাংশ দোকানপাটও এখনও খোলেনি। সর্বত্র এখনও ছুটির আমেজ বইছে। এরই মধ্যে ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি যাওয়া অনেকেই ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। তাদের বেশিরভাগ অবশ্য কর্মজীবী।

মঙ্গলবার থেকে যার যার কর্মস্থলে যোগ দিতে ফিরছেন তারা। অবশ্য বেশিরভাগের পরিবার-পরিজনের ঢাকায় ফিরবেন আরও কয়েক দিন পর।
এবার ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি ছিল এক সপ্তাহ। ১৭ মার্চ শুরু হয়ে আজ সোমবার ছুটি শেষ হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক মানুষ ঈদ কাটাতে ঢাকা ছাড়েন। ঘরমুখী মানুষ ঢাকা ছাড়ায় ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানী। ঈদের তৃতীয় দিন সোমবারও সেটা বহাল রয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানজনটবিহীন ফাঁকা রাজধানীতে কিছু মানুষ ঈদের ঘোরাঘুরিতে সময় পার করছেন। সব বয়সের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরণীরা দল বেঁধে ঘুরতে বেরিয়েছেন। বিশেষ করে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বেশ ভিড়। তবে রাস্তাঘাট এখনও প্রায় জনশূন্য। নগর পরিবহন ও মেট্রোরেলেও ভিড় নেই তেমন একটা।

মিরপুর থেকে সদরঘাটগামী বিহঙ্গ পরিবহনের চালক ইব্রাহিম শেখ জানালেন, গত তিনদিন ধরেই তাদের বাসগুলোতে যাত্রীর ভিড় নেই তেমন একটা। তারপরও সকাল থেকে রাত অবধি বাসগুলোর চলাচল অব্যাহত রেখেছেন। অবশ্য ট্রিপ সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছে কিছুটা। এই রুটে চলাচলকারী অন্য পরিবহনের বাসগুলোসহ যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, রামপুরা, মৌচাক, মালিবাগ, ফার্মগেট, ধানমন্ডি এবং মোহাম্মদপুরসহ সব জায়গার বাস, সিএনজি ও লেগুনাসহ অন্য পরিবহনগুলোতেও একই চিত্র দেথা গেছে। অবশ্য তেল সংকটে ঢাকার অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে দেখা গেছ।

অবশ্য ফাঁকা রাস্তায় ব্যাটারিচালিত ও সাধারণ রিকশা স্বাভাবিক সময়ের বেশি দেখা গেছে। সাধারণ ও দরিদ্র রিকশা চালকরা জীবিকার টানে ঈদের ছুটিতেই রাস্তায় বেরিয়েছেন। ঈদের উৎসব উপভোগে বের হওয়া মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া ও বখশিস পাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিক ও রিক্সাচালকরা।

এদিকে, রাজধানীর মিরপুর, পল্টন, গুলিস্তান, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, মতিঝিল ও যাত্রাবাড়ীসহ সব এলাকার বড়-ছোট শপিং মল ও দোকানপাটের বেশিরভাগ বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এসব এলাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুমের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বড় শপিংমল থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার অনেক দোকানেই তালা ঝুলতে দেখা গেছে। গুলিস্তান ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাতের দোকানগুলোর বেশিরভাগ বন্ধ রয়েছে।

অবশ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বিক্রেতা স্বপ্ন ও আগোরাসহ বড় কয়েকটি ব্রান্ডের বেশ কিছু শোরুম খোলা দেখা গেছে। ঈদের পরের প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় এসে অনেকেই বিকল্প হিসেবে এসব শোরুমের ওপর নির্ভর করছেন।

একই দৃশ্য মহল্লার দোকানপাটগুলোতে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিসরে দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা উপস্থিতি তেমন একটা নেই। কাচাবাজারগুলোর বেশিরভাগ খোলেনি। রাস্তাঘাটে ভ্রাম্যমাণ সবজির দোকানগুলো অবশ্য খোলা দেখা গেছে। সব দোকানপাট স্বাভাবিক পর্যায়ে খুলতে আরও দুই-একদিন সময় লাগবে বলে জানান বিক্রেতারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগের টানা কয়েকদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্রি-বাট্টা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়েছে। এই কারণে দোকানকর্মীদের ঈদের দিন থেকে ছয়-সাতদিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার নিজ নিজ এলাকায় চলে যাওয়ায় কর্মী সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়া ঈদের আগের ব্যস্ততা পার করে অধিকাংশ ব্যবসায়ীও এখনও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ছেড়েছেন। এই কারণে বেশিরভাগ শপিং মল ও দোকানপাট আরও কয়েক দিন বন্ধ থাকতে পারে।

শেওড়াপাড়া মধ্য পীরেরবাগ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে বিক্রি ভালো হলেও এখন দোকান প্রায় ফাঁকাই থাকে। তার তিনজন কর্মী ছুটিতে রয়েছেন। তিনি ও তার ছোট ভাই মিলে সীমিত সময় দোকান চালাচ্ছেন।

ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা
ঈদ উৎসব শেষে আবারও ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। ঈদের তৃতীয় দিন থেকে লঞ্চ, বাস ও ট্রেনে করে রাজধানীতে ফিরছেন এসব কর্মজীবী মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। তবে এখনও সিংহভাগ মানুষ ছুটি কাটাচ্ছেন যার যার বাড়িতে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় ফিরে সরাসরি অফিস করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এছাড়া ঈদের পর বাড়তি ছুটি নিয়ে ঢাকা ছাড়া মানুষ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি কাটিয়ে আগামী সপ্তায় কর্মস্থলে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন।

এবারের ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় এবারের ফেরা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। লম্বা সময় স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পেরে খুশি সবাই। জীবিকার তাগিদে আবারও নগরীতে ফিরতে হলেও কোনো ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা।

অন্যদিকে, ঈদের তৃতীয় দিনেও থেমে নেই ঘরমুখো মানুষের যাত্রা। ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেও এখন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাচ্ছেন কিছু মানুষ। ঈদের সময় যানজট ও নৌযান ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে তারা ঈদের পর গ্রামের পথে রওনা দিয়েছেন বলে জানান।

সোমবার সকাল থেকে গাবতলী, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান ও মহাখালী বাস টার্মিনালসহ ঢাকার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ভিড়তে শুরু করে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের চাপ ছিল তুলানামূলক বেশি।

মহাখালী বাস টার্মিনালে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী সোলায়মান আহমেদ জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ফিরতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে আসতেই হয়। মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে হবে। পথে যানজট কম থাকায় ফিরতি যাত্রা বেশ আরামদায়ক ছিল।

কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে ধীরে ধীরে রাজধানীতে মানুষের ফেরা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন যাত্রীচাপ আরও বাড়বে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে ঢাকায় ফেরা কর্মজীবী মানুষের কিছুটা ভিড় দেখা গেল। তবে এখনও তেমন একটা উপস্থিতি নেই। কর্মজীবীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে লঞ্চ থেকে নামছেন টার্মিনালের বিভিন্ন পয়েন্টে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, মূলত লঞ্চগুলোর ফিরতি যাত্রা শুরু হবে স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে ২৮ মার্চ থেকে। সেদিন থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের ফিরতি যাত্রাও শুরু হবে। তবে এখনও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌপথের কিছু যাত্রী ফিরছেন। ঈদযাত্রার মতো ফিরতি যাত্রাও স্বাচ্ছন্দ্যের করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ভোলা থেকে ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল হক জানান, মঙ্গলবার থেকে তাদের অফিস খুলছে। এজন্য ভিড় এড়াতে একদিন আগেই ঢাকায় ফিরেছেন তিনি। তার অফিসের বাকিরা সোমবার রাতে রওয়ানা হয়ে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ ঢাকায় আসতে পারেন।

 

ইরানে সরকারবিরোধী ৩ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত তিন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী ওই আন্দোলন হয়।

ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা মিজানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওই তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ‘খোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ছিল।

গত জানুয়ারিতে ইরানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ক্রমেই তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সময়ে প্রায় ৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’।

কাতারে আরেকবার হামলা হলে ইরানের গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প

ইরান যদি কাতারে আবার কোনো হামলা চালায়, তবে দেশটির প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বড় মাপের চালানোর হুশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ বৃহস্পতিবার এক পোস্টে এই হুমকি দেন তিনি। খবর বিবিসির

কাতারের রাস লাফ্ফান এনার্জি কমপ্লেক্সে ইরান হামলা চালানোর পর ট্রাম্প এই হুশিয়ারি দিলেন।

বুধবার রাতে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় ইসরায়েল। এটি বিশ্বে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র বলে বিবেচিত।

ওই হামলার জবাবে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে হামলা চালিয়েছে ইরান।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাউথ পার্সে ইসরায়েলি হামলার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কিছু জানতো না।

  • বি

শিরোপা কেড়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ সেনেগাল

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে টাইটেল স্ট্রিপিং বা শিরোপা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। টানা সাত বার ট্যুর ডি ফ্রান্স সাইক্লিংজয়ী তারকা ল্যান্স আর্মস্টংয়ের সব ট্রফি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যে তিনি শক্তিবর্ধক ওষুধ খেয়ে সেগুলো জিতেছিলেন। অলিম্পিকেও রাশিয়ান অ্যাথলেটদের ডোপ টেস্টের পর পদক কেড়ে নেওয়ার ঘটনা আছে। তবে ফুটবলে এমনটা ঘটেনি কখনও। এবার তেমন কিছুই ঘটল সেনেগালের সঙ্গে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা কেড়ে নিয়ে তা মরক্কোকে দেওয়ার ঘোষণা দিল কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (কাফ)।

ট্রফি জয়ের প্রায় দুই মাস পর মঙ্গলবার রাতে সংস্থাটি জানিয়েছে মরক্কোর আবেদন পর্যালোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সেই ফাইনালটি ‘পরিত্যাগ’ করেছে সেনেগাল। রেফারির অনুমতি ছাড়াই সেদিন মরোক্কোর বিপক্ষে ফাইনালে মাঠ ছেড়ে যায় সেনেগাল। ম্যাচে সেনেগালকে পরাজিত ধরে নেওয়া হবে এবং প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে ফাইনালের ফল ধরা হবে ৩-০। কাফের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সেনেগাল। ‘এটা অন্যায়, অভূতপূর্ব এবং অগ্রহণযোগ্য। কাফ-এর এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলকে কলঙ্কিত করেছে।’

সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন তাদের এক্স হ্যান্ডলে এক বিবৃতিতে এভাবেই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়েছে শিরোপা কেড়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাবে।

আসলে কি হয়েছিল ১৮ জানুয়ারির সেই ফাইনাল ম্যাচে? প্রায় দুই মাস পর ফের সেই ফাইনালের ঘটনাটি জানার কৌতূহল এখন বিশ্বফুটবলে। সেদিন ম্যাচের দ্বিতিয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে স্বাগতিক মরক্কো একটি পেনাল্টি পায়। কিন্তু রেফারির সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সেনেগালের কোচ তাঁর দলের সবাইকে নিয়ে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে যান। প্রায় পনেরো মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। এরপর সেনেগালের অধিনায়ক সাদিও মানে দলের সব খেলোয়াড়কে বুঝিয়ে মাঠে ফিরিয়ে আনেন। সেই পেনাল্টি শুটটি নেন মরক্কোর তারকা ফুটবলার ব্রাহিম দিয়াজ। সেই পেনাল্টি তিনি মিস করেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেইয়ের গোলে ১-০ তে ফাইনাল জিতে নেয় সেনেগাল।

এরপর অনেক কিছু হয়ে গেছে আফ্রিকান ফুটবলে। চাকরি হারিয়েছেন মরক্কোর কোচ, দেশের মানুষের কাছে ভিলেন হয়েছেন দিয়াজ। আজ এতদিন পরে এসে আফ্রিকান ফুটবল সংস্থা বলছে ম্যাচটি পরিত্যাগ করেছিল সেনেগাল! যা কিনা মেনে নিতে পারছেন না তাদের ফুটবলাররা। ‘ওরা পাগল হয়ে গেছে’ কাফ-এর উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে ধিক্কার জানিয়েছেন ফরাসি ক্লাব লিঁওর ডিফেন্ডার মুসা নিয়াখাত।

ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার আশপাশের যেসব জায়গায়

ঈদুল ফিতর বাঙালির জীবনে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এক পুনর্মিলনের উপলক্ষ। যা পরিবার, প্রকৃতি ও নিজস্ব সত্তার সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপনের সময়। রোজার একমাস সংযমের পর এই উৎসব যেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসার এক উজ্জ্বল ঘোষণা। আর সেই আনন্দকে পূর্ণতা দিতে ঢাকার আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা বিনোদন কেন্দ্র, রিসোর্ট, ঐতিহাসিক স্থান ও নান্দনিক পার্কগুলো হয়ে ওঠে মানুষের স্বস্তির আশ্রয়।

ঢাকার উত্তরে গাজীপুর অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতির সঙ্গে অবকাশ যাপনের জন্য অন্যতম নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। শহরের কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে এখানে পাওয়া যায় গাছপালায় ঘেরা এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ। এই অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত স্থানগুলোর একটি ‘নুহাশ পল্লী’। যা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সৃজনশীল ভাবনার প্রতিফলন। এখানে কৃত্রিমতা নেই, বরং রয়েছে গ্রামীণ বাংলার সরলতা ও নান্দনিকতা। একইভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক’ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সাফারি পার্ক হিসেবে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। এখানে উন্মুক্ত পরিবেশে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ, যা শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে শিক্ষণীয়।

গাজীপুরেই আরও কিছু নান্দনিক রিসোর্ট রয়েছে, যেগুলো ঈদের ছুটিতে স্বল্প সময়ের বিলাসবহুল অবকাশের সুযোগ দেয়। ‘সারাহ রিসোর্ট’ তার সবুজ বাগান, সুইমিং পুল ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ‘ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট’ প্রকৃতি ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে, যেখানে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। এছাড়া ‘জল ও জঙ্গলের কাব্য’ একটি ভিন্নধর্মী অবকাশ কেন্দ্র। যেখানে জলাশয়, কাঠের স্থাপনা ও নীরবতা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক কাব্যিক পরিবেশ।

ঢাকার পূর্বদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত ‘জিন্দা পার্ক’ একটি অনন্য উদাহরণ, যেখানে স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একটি সুপরিকল্পিত সবুজ পার্ক। প্রায় শতাধিক প্রজাতির গাছ, পরিচ্ছন্ন লেক এবং সুশৃঙ্খল পথঘাট,সব মিলিয়ে এটি একটি পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র। ঈদের সময় এখানে মানুষের ভিড় থাকলেও, এর প্রাকৃতিক ভারসাম্য দর্শনার্থীদের মনকে প্রশান্ত করে।

ঐতিহ্য প্রেমীদের জন্য সোনারগাঁও অঞ্চলটি এক গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। ‘পানাম সিটি’ মধ্যযুগীয় বাংলার বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, যেখানে সারি সারি প্রাচীন ভবন অতীতের গল্প বলে। এর পাশেই অবস্থিত ‘ বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর’। যেখানে বাংলার লোকজ শিল্প, কারুশিল্প ও ঐতিহ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ঈদের ছুটিতে এখানে ভ্রমণ শিক্ষামূলক ও আনন্দদায়ক দুটোই।

ঢাকার পশ্চিমে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে বালিয়াটি জমিদার বাড়ি পর্যটকদের জন্য অন্যতম নিদর্শন। এখানে ইতিহাসে ঘেরা স্মৃতিময় বিশাল দালান ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও কিছু মনোরম রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, যা নদী ও গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যদিও এই অঞ্চলের অনেক রিসোর্ট ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট বুকিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবুও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা এখানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

অন্যদিকে, যারা দূরে যেতে চান না, তাদের জন্য ঢাকার ভেতরেও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্র। ‘রমনা পার্ক’ দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর প্রাতঃভ্রমণ ও অবকাশের স্থান হিসেবে পরিচিত। ঈদের সকালে এখানে এক ধরনের শান্ত আবহ বিরাজ করে। একইভাবে ‘হাতিরঝিল’ আধুনিক নগর উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত, যেখানে জলাধার, সেতু ও আলোকসজ্জা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি আকর্ষণীয় পরিবেশ। সন্ধ্যায় এখানে মানুষের সমাগম উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এর বাইরে বর্তমানে ‘বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক’ তরুণদের নানা আয়োজন ও সমাগমের অন্যতম স্থান হয়ে উঠেছে।

রসনাবিলাসের ক্ষেত্রেও ঢাকার বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্য। ঈদ তাতে যেন নতুন মাত্রা যোগ করে। পুরান ঢাকার ‘হাজীর বিরিয়ানি’ বহু দশক ধরে তার স্বাদ ও ঐতিহ্যের জন্য জনপ্রিয়।

অন্যদিকে, আধুনিক পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানের খাবার ও নান্দনিক পরিবেশের জন্য ঈদের সময় তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশানের বিভিন্ন রেস্তোরা। এর মধ্যে বনানীর ‘যাত্রা বিরতি’, ‘টাগোর টেরেস’, ‘ টেরাকোটা টেইলস’, অন্যতম।