Home Blog Page 165

‘প্রিন্স’-এর জন্য শাকিবের দুঃখ প্রকাশ, দায়ী করলেন সময়-পরিস্থিতিকে

ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের সিনেমা নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা একটু বেশিই থাকে। কিন্তু এবার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রিন্স’ সেভাবে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কারণ সাউন্ড, কালারসহ বেশকিছু টেকনিকেল জটিলাতার মুখে পড়ে সিনেমাটি। অবশেষে মুক্তির ১০ দিন পর সবকিছুর জন্য সময় ও পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন সিনেমায় নায়ক শাকিব খান।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ, প্রযোজক শিরিন সুলতানা, অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, অভিনেতা ডা. এজাজ, ইন্তেখাব দিনারসহ অনেকে।

এসময় শাকিব খান বলেন, “আমি যখন প্রিন্স সিনেমার গল্প শুনেছি তখন মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হতে যাচ্ছে। হয়তো সময় স্বল্পতার কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি। এজন্য নির্মাতাসহ সবার পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকার করছি। আমরা কিছু চেষ্টা করেছি। আমি আমার পরবর্তী সিনেমাতে ত্রুটিগুলো খেয়াল করবো।”

শাকিব খান ভাষ্য, ‘আমি ৩০টির বেশি গল্প শুনে একটি গল্প পছন্দ করি। বলতে গেলে, সারা বছরই গল্প শুনি। এরপর একটি গল্প পছন্দ করি। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে সেটা সেটা ভিন্ন। আমরা তিন মাস ভারতে কাজের অনুমতি পাইনি। এরপর যা হয়েছে সেটা আরও ভয়াবহ। যেখানে আমাদের সিনেমার সেট ফেলা হয়েছিল সেটা ভেঙে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেও অনেক সময় চলে গেছে। ফলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়েছে। যার কারণে সময়ের অভাবে অনেক ত্রুটি থেকে গেছে। হায়াত মাহমুদ অনেক ভালো ও মেধাবী একজন নির্মাতা। আমরা যদি উপযুক্ত সময় পেতাম তাহলে ভালো কিছু হতো।”

শাকিব বলেন, ‘আমার জীবনের এইটা কোনো সিনেমা যেটার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত করেছি। তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে আইটেম গানের শুটিং ঈদের আগেই করেছি। এছাড়া পরী গানের শুটিং একদিনে শেষ করেছি। এগুলো হয়েছে শুধু সময়ের কারণে।’

প্রযুক্তিগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমাটি চলেনি, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর পাঁচদিন আমরা মাল্টিপ্লেক্সে ঢুকতে পারিনি। এটা কষ্টের। কিন্তু এই পাঁচদিন সবচেয়ে ভালো কোন সিনেমা ছিল। বলতে গেলে প্রায় কোনোটাই ছিল না। তার মানে, আমাদের বড় সিনেমা দরকার।’

নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘দেশের নতুন সরকার এসেছে। তাদের বলতে চাই- বিগত সরকারের কথা ভুলে যান। আপনাদের কাছে আমাদের আশা-প্রত্যাশা অনেক। আপনারা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে শুধু নাচে-গানে ভরপুর একটা জায়গা ভাববেন না। একটি সিনেমা সমাজ ও সংস্কৃতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন যথাযথ সহযোগিতা।”

এসময় তাসনিয়া ফারিণ বলেন, ‘এই সিনেমায় যুক্ত হওয়ার পর আমার প্রত্যাশার জায়গাটা অনেক বেশি ছিল। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে সময় বা সবকিছু মিলে প্রত্যাশাটা সেরকমভাবে পূরণ হয়নি। তবে আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি। আশাকরি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে ভালো করে করে দেখাতে পারবো।’

নির্মাতা হায়াত মাহমুদ বলেন, “প্রিন্স যথা সময়ে এসেছে। নানা জটিলতায় হয়তো পাঁচদিন সিনেপ্লেক্সে চলেনি। কিন্তু যেদিন থেকে সিনেপ্লেক্সে প্রিন্স এসেছে সেদিন খেকেই সর্বোচ্চ শো নিয়ে চলছে। সিনেমাটি দেখার পর থেকেই দর্শক বলেছে ‘প্রিন্স ২’ চাই। সময় হলে আমরা এটির ঘোষণা দেবো।”

ডিজেল সংকটে উপকূলের লাখো জেলে কর্মহীন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার জেলে রণজিৎ চন্দ্র দাস সাত দিন ধরে নৌকা ঘাটে বেঁধে বসে আছেন। নদী আছে, জাল আছে, ইঞ্জিনও আছে; কিন্তু নেই ডিজেল। এই অভাবই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।

নিজের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে রণজিৎ বলেন, ‘নদীতীরের হাটবাজারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে লিটারপ্রতি ৬০-৭০ টাকা বেশি দামে কিনে নদীতে যাচ্ছে। কিন্তু সেই খরচ তোলা সম্ভব না।

রণজিৎ বলেন, ‘সাত দিন ধরে নৌকা বন্ধ। পরিবার আর শ্রমিকদের নিয়ে খুব বিপদে আছি। ছেলেমেয়ের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে গেছে।’ রণজিৎ একা নন; একই চিত্র দেশের প্রায় সব নদী ও উপকূলীয় এলাকায়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে। ডিজেলের সংকটে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নদী কিংবা সাগরে যেতে পারছে না।

মৎস্যজীবীদের ভাষ্য, এ অবস্থা চলতে থাকলে মাছ ধরা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

জেলে ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইতোমধ্যে নদনদীতে মাছ আহরণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে উপকূলীয় মৎস্যবন্দর ও মোকামগুলোতে। অনেক জায়গায় কার্যক্রম প্রায় স্থবির। ফলে শুধু জেলে নয়; আড়তদার, পাইকার, শ্রমিক, বরফকল মালিক, পরিবহনকর্মীসহ পুরো মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো মানুষের কর্মসংস্থান এখন ঝুঁকির মুখে।
এই সংকটের মধ্যেই সামনে আসছে আরেক বড় চাপ। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে টানা ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। এর লক্ষ্য– মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও প্রজনন নিশ্চিত করা। জেলেরা বলছেন, জ্বালানি সংকটে কাজ বন্ধ, তার ওপর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা; সব মিলিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায়।

সামনে নিষেধাজ্ঞা, জীবিকা হুমকিতে
খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হিসাব বলছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সমুদ্রগামী ট্রলার পরিচালনার ব্যয় প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি, জেলেদের খাবার, বরফ, মজুরি– সব মিলিয়ে খরচ এত বেড়েছে যে মাছ বিক্রি করে সেই টাকা তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একাধিক নিষেধাজ্ঞা; ৬৫ দিনের সমুদ্র নিষেধাজ্ঞা, ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি, অভয়ারণ্যে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ, আট মাস জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ১৪৮ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ তিন হাজার। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি। পরিবারসহ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ লাখেরও বেশি। প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নদী ও সাগরে যায়। ছোট নৌকায় দৈনিক ৫-২০ লিটার, মাঝারি নৌকায় ২০-৫০ লিটার এবং বড় ট্রলারে প্রতিদিন ১০০-৩০০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল লাগে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২৫ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে ২১৫টি শিল্প ট্রলার রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৮০টি নিয়মিত সাগরে মাছ ধরে। এসব ট্রলারকে একটানা ২২ থেকে ২৫ দিন সাগরে থাকতে হয়। কিন্তু জ্বালানি সংকটে এখন অনেক ট্রলারই ঘাটে পড়ে আছে।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, আগে ১২ মাস মাছ ধরতাম। এখন নানা নিষেধাজ্ঞায় বছরে প্রায় ছয় মাস কাজ বন্ধ থাকে। কিন্তু ব্যাংকের সুদ তো থামে না। এ পরিস্থিতিতে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। সরকার সমুদ্র অর্থনীতির কথা বলছে; কিন্তু জ্বালানি সংকটে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সহজ শর্তে ঋণ, জ্বালানিতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা না দিলে আমরা টিকে থাকতে পারব না।

উপকূলজুড়ে স্থবিরতা
উপকূলজুড়ে নদীর ঘাটে সারি সারি নৌকা, খালে নোঙর করে থাকা ট্রলা, আর তীরে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। খুলনা অঞ্চলের সমুদ্রগামী জেলেদের অবস্থা সবচেয়ে সংকটজনক। জাল, নৌকা, ট্রলার– সব প্রস্তুত থাকলেও জ্বালানির অভাবে সমুদ্রে যেতে পারছেন না তারা। কয়রা উপজেলার কালনা গ্রামের জেলে সাইদুল শেখ বলেন, ‘সংকটের শুরুতে বেশি দামে হলেও তেল পাওয়া যেত। এখন দুই-তিন গুণ দাম দিলেও তেল নেই। এক সপ্তাহ ধরে ঘরে বসে আছি।’

একই উপজেলার আটরা গ্রামের ট্রলার মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ট্রলারে ১০ জন জেলে। তেল না পেলে আমরা কীভাবে চলব? এভাবে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।’

কয়রা মৎস্য আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী জানান, এক সপ্তাহ ধরে আড়তে মাছ আসছে না বললেই চলে। জেলেরা যেতে পারছে না, আবার গভীর সুন্দরবন থেকে মাছ আনাও বন্ধ।
বঙ্গোপসাগরের দুবলার চর, আলোর কোল, শ্যালার চর, নারকেলবাড়িয়া– এসব শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এখন। নভেম্বর থেকে এপ্রিল– এই পাঁচ মাসেই পুরো মৌসুমের আয় নির্ভর করে। কিন্তু মৌসুমের শেষ মুহূর্তে এসে তেল সংকটে ভেঙে পড়েছে পুরো কার্যক্রম। দুবলার চর ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একটি ট্রলারে ৩০ লিটার ডিজেল লাগে, সেখানে পাচ্ছি দুই-তিন লিটার। ৪৫০-৫০০ ট্রলার বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। দূরে পাঠানো যাচ্ছে না, খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে গেছে।’

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ডিজেল সংকট যেন দীর্ঘ হচ্ছে। পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন। অনেক জায়গায় ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড সাঁটানো। কোথাও সীমিত রেশনিং। এই উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার জেলের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে। প্রতিদিন এসব নৌকায় ৩০-৪০ হাজার লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু এখন মাত্র ১০ শতাংশ জেলে কোনোভাবে তেল জোগাড় করে নদীতে নামছেন। দক্ষিণ তারাবুনিয়া, কাচিকাটা, দুলার চর ঘুরে দেখা যায়, নৌকায় বসে জেলেরা জাল বুনছেন, কেউ লুডু খেলছেন, কেউবা চায়ের দোকানে সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার কাচিকাটার জেলে করিম হাওলাদার বলেন, ‘এক লিটার ডিজেল ১৭০ টাকা দিয়ে কিনেছি। কিন্তু সেই তেলে নদীতে নামার সাহস পাইনি। আমার নৌকা ১০ মিনিটও চলবে না।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই অভিযোগ– পাম্পে তেল নেই, কিন্তু খোলাবাজারে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে আগে লিটারপ্রতি ১০০-১০৫ টাকা ছিল, এখন ১৫০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। জেলেরা বলছেন, টাকা দিলেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বেশি দিলেই পাওয়া যায়।

পটুয়াখালী ও আশপাশের উপকূলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। জেলেদের দাবি, মাছ আহরণ ৭০-৮০ শতাংশ কমে গেছে। মহিপুর-আলীপুর মৎস্যবন্দরে শত শত ট্রলার ঘাটে বাঁধা। প্রতিদিন ৩০-৩৫ হাজার লিটার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র চার-পাঁচ হাজার লিটার। ট্রলার মালিক মনু খান বলেন, ‘এক সপ্তাহের জন্য ১ হাজার ২০০ লিটার তেল লাগে। কিন্তু ৩০০ লিটার নিয়ে গিয়ে দুদিনেই ফিরে আসতে হয়েছে।’

বরগুনার বদরখালী এলাকায় জেলেরা গতকাল মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছেন। তাদের অভিযোগ, বোতলে তেল বিক্রি বন্ধ থাকায় ছোট নৌকার জেলেরা তেল পাচ্ছেন না। জেলে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমরা নৌকা নিয়ে পাম্পে যেতে পারি না। বোতলে তেল না দিলে আমরা কীভাবে নেব?’

পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্যবন্দরের এফভি ‘মা-বাবার দোয়া’ ট্রলারের মালিক মো. মনু খান জানান, এক সপ্তাহ সাগরে থাকতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু তিনি মাত্র ৩০০ লিটার নিয়ে গিয়ে দুই দিনের মধ্যেই ফিরে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে ডিজেল না পেয়ে ট্রলার, ১৮ জন মাঝিমাল্লাসহ বন্দরে নোঙর করে আছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের ভরণপোষণ তাঁকেই করতে হচ্ছে। মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, এ দুটি বন্দরে ১২০টি আড়তে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। এসব আড়তের মাধ্যমে সারাদেশে মাছ সরবরাহে প্রায় ৩০০ পাইকার যুক্ত। পাশাপাশি বরফকল, হোটেল, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পুরো অর্থনৈতিক চক্র এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ডিজেল সংকটে সবখানেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মহিপুর ও আলীপুর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার সরদার জানান, তাঁর সংগঠনের প্রায় ৭৫০ শ্রমিক এখন কর্মহীন। ঈদের আগ থেকেই কাজ বন্ধ। সামনে আবার নিষেধাজ্ঞা, তাতে সংকট আরও বাড়বে। মহিপুর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, ট্রলার চলাচল ৭০-৮০ শতাংশ কমে যাওয়ায় আড়তের শ্রমিকদের কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আগে প্রতিদিন কোটি টাকার মাছ সরবরাহ হলেও এখন তা প্রায় বন্ধ। মহিপুরের একটি ফিলিং স্টেশনের ডিলার মো. রাজু আহমেদ জানান, প্রতিদিন ট্রলারের চাহিদা ৩০-৩৫ হাজার লিটার হলেও তিনি পাচ্ছেন মাত্র চার-পাঁচ হাজার লিটার। ফলে সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, ঈদের আগ পর্যন্ত জেলেদের জ্বালানি পেতে সমস্যা হয়নি। তবে ঈদের পর নদীতীরবর্তী হাটবাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু এলাকায় জেলেরা তেল পাচ্ছেন না– এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই সংকট কেটে যাবে।

চিলমারীতে জেলেদের অবস্থান কর্মসূচি
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ডিজেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন নদীনির্ভর জেলে পরিবারগুলো। জ্বালানি না পেয়ে ও অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় সোমবার ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অর্ধশতাধিক জেলে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দিলেই কেবল ডিজেল মিলছে। ফলে অনেক জেলে নদীতে নামতে পারছেন না; বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের পথ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, শতাধিক পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষতিপূরণ নিয়েও ভূমি না ছাড়ায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অর্ধশত স্থাপনা

জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মাণাধীন নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা জমি থেকে অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা অপসারণে অভিযান চালিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন কাওছারের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
দিনভর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ভেকু ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় অর্ধশতাধিক দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও অবৈধ স্থাপনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহামেদ, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী আকরাম হোসেন তালুকদার ও সেতুর প্রকল্প কর্মকর্তা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে জামালপুরের নান্দিনা-লক্ষ্মীরচর সড়কে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৬০৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সেতু নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সেতুর দুই প্রান্তের ৩ একর ৬০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ। ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটির অর্ধেক কাজও শেষ না হওয়ায় চলতি বছরের ৮ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ৭-৮ মাস বন্ধ থাকার পর কাজ শুরু হলে দেখা দেয় আরেক বিপত্তি। সেতুর উভয় প্রান্তে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকাও পরিশোধ করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের নান্দিনা বাজার অংশে টাকা নিয়েও প্রকল্প স্থান থেকে অনেকেই স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় থমকে যায় সেতুর কাজ; যা নিয়ে গত ১৪ মার্চ সমকালে ‘ক্ষতিপূরণ নিয়েও সরছে না ভূমির মালিকরা, বাধাগ্রস্ত সেতুর কাজ’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক ইউসুফ আলী সেতুর জন্য অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে সব ধরনের স্থাপনা অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহামেদ জানান, ক্ষতিপূরণ নিয়েও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় সেতুর কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় সেতু নির্মাণের কাজে আর প্রতিবন্ধকতা থাকল না।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ঈদের আগে জমির মালিকদের স্থাপনা সরাতে ৭ দিনের সময় দিয়েছিলেন। এরপরও স্থাপনা না সরানোয় উচ্ছেদ অভিযান চালান তারা।

জাইকার সহায়তায় ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকার) সহায়তায় বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শতকরা ৯ ভাগ সুদে ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং বিআইএফএফএলের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. আনিসুজ্জামান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যা জানানো হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, চুক্তির আওতায় বিআইএফএফএলের ফুড ভ্যালু চেইন ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের তহবিল থেকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে।

সম্পদ ও উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে কর আরোপের পরিকল্পনা

দেশে রাজস্ব আয় বাড়াতে ও বৈষম্য কমাতে সারচার্জের পরিবর্তে ওয়েলথ ট্যাক্স বা সম্পদ কর এবং ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে অতি ধনীদের ওপর আয়করের হার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর আয়োজিত আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। গতকাল সকালে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন নোয়াব ও অ্যাটকো এবং বিকেলে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনার আয়োজন করা হয়। ইআরএফের সঙ্গে আলোচনায় সংগঠনের সভাপতি দৌলত আকতার মালা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াব ও অ্যাটকোর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ওয়েলথ ট্যাক্স (সম্পদ কর) আইনকে নিয়ে আসার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে সম্পদশালী করদাতাদের থেকে আয়করের বাইরে সারচার্জের পরিবর্তে আরও কিছু ওয়েলথ ট্যাক্স বা সম্পদ কর পাওয়া যাবে, যা রাজস্বকে সহায়তা করবে।

উত্তরধিকার সম্পত্তিতে কর
উত্তরধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে কর আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘কিছু ভাগ্যবান সন্তান তাদের পূর্বপুরুষদের থেকে অনেক প্রপার্টি ইনহেরিট করে। বিভিন্ন দেশে ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স আছে। বাংলাদেশেও এই উত্তরাধিকার কর বসানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। অত্যন্ত দামি প্রপার্টি অথবা সিটি করপোরেশন এলাকায় যেসব প্রপার্টি আছে, সেগুলো যখন মূল মালিকের থেকে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তার আগেই এই কর বসানো হবে।
অনুষ্ঠানে রাজস্ব আদায় বাড়াতে দুর্নীতির পথ বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে, প্রত্যেক জায়গায় সৎ, দক্ষ এবং পরিশ্রমী কর্মকর্তাদের নার্সিং করতে পারলে, তাদের সাহস জোগাতে পারলে অটোমেটিক্যালি কর ফাঁকি কমবে। রাজস্ব আদায় বাড়বে।

সারা বছর আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে
আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছরই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে জানিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, প্রতিবছর জুন শেষে পরবর্তী নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। চলতি বছর কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে একটা নিয়মের মধ্যে সারাবছর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ করবর্ষের প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধাও থাকবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দিলে কোনো জরিমানা লাগবে না। তৃতীয় প্রান্তিকে জমা দিলে জরিমানাসহ রিটার্ন জমা দিতে হবে।
ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে এনবিআরের উদ্যোগ তুলে ধরে আবদুর রহমান খান বলেন, কাস্টমসের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড ফ্যাসিলিটি বাড়াতে চায় সরকার। এ জন্য ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো শুধু চালু নয়, এটাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটা এখন খুব ভালোভাবে কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের আরেকটা সমস্যা ছিল তাদের বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে। গত জানুয়ারি থেকে টোটাল বন্ড ম্যানেজমেন্ট অটোমেটেড করা হয়েছে। এ ছাড়া অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করা হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের তথ্য তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত অর্থবছরের চেয়ে ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করতে আয়কর, শুল্ক এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আশা করা যায়, চলতি বছরে বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে।

কর বাড়তে পারে যেসব ক্ষেত্রে
ইআরএফের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অতি ধনী অর্থাৎ যাদের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকা, দেড় কোটি টাকা কিংবা পাঁচ কোটি টাকার বেশি– তাদের ওপর বর্ধিত কর হার চালু করার পরিকল্পনা আছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে এটি কার্যকর করার জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা দেওয়া হবে।
আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তামাকজাত পণ্যের দাম কম উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বাজেটে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানো হবে। তামাকজাত পণ্যে নতুন স্কিম প্রণয়ন ও কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস, চোরাচালান ও জাল স্ট্যাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে জব্দকৃত পণ্য জনসমক্ষে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চোরাই সিগারেট বন্ধে উন্নত বিশ্বের মতো সিগারেটে প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তামাকপণ্যে এখন পর্যন্ত চারটি লেয়ারে দাম আছে। এতে ৮৩ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স আছে। বিড়ি এবং গুলে ব্যাপক কর ফাঁকি হয়। নকল সিগারেট শনাক্ত করতে সিগারেটে এয়ার কোড এবং কিউআর কোড চালু করা হবে।

ইআরএফের প্রস্তাবনা
প্রাক-বাজেট আলোচনায় আগামী বাজেটে নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা উপকরণে করহার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখা এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ কমাতে এমএফএসের মাধ্যমে অতিরিক্ত কর ফেরতসহ ৩২টি প্রস্তাবনা দিয়েছে ইআরএফ।
ইআরএফের প্রস্তাবনায় আরও রয়েছে– মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তি করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে পৃথক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং সহজে বন্ড সুবিধা প্রদান, বেসরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড করমুক্ত রাখা, কর-জিডিপি হার নিয়ে এনবিআর-ইআরএফ যৌথ জরিপ চালু করা, ব্যক্তি করদাতার সর্বোচ্চ করহার ৩০-৩৫ শতাংশ ও ভ্যাটের একক হার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা।

এ ছাড়া ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ও মুনাফার কর হ্রাস বা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রত্যাহার, ঋণ অনুমোদনের আগে এনবিআর ডাটাবেজ থেকে ব্যবসায়িক তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করা, বাজারমূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদ কর আদায়, এনবিআরের তিনটি বিভাগের জন্য পৃথক হেল্পলাইন চালু, করছাড় প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ক্ষতির প্রাক্কলন প্রকাশ, অনিবাসীদের সেবার ওপর উৎসে করহার পুনর্বিবেচনা ও এনবিআর ভবনে মিডিয়া সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে ইআরএফ।

শোবিজ ছাড়ার পর বিয়ের খবর জানালেন লুবাবা

গ্ল্যামার জগতকে বিদায় জানানোর পর নতুন জীবনে পা রাখার খবর দিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী সিমরিন লুবাবা। মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করে বিয়ে করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’ এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

লুবাবার পোস্টে একটি ছবি থাকলেও সেখানে বর–কনের চেহারা স্পষ্ট নয়। পাত্রের পরিচয় নিয়েও তিনি কিছু জানাননি। ফলে কে তার জীবনসঙ্গী-এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের দাবিকে ঘিরে চলছে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন। কেউ বলছেন, আগেই নীরবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, আবার কেউ বলছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন। তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরে জানান, তিনি আর প্রকাশ্যে আসবেন না।

সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিয়ে হয়েছে-এমনটি নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

হামে শিশুদের মৃত্যুতে দায়ী স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি: জামায়াতে ইসলামী

হামে আক্রান্ত ৩২ জন শিশুর মৃত্যুর জন্য স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতিকে দায়ী করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেছেন, মার্চে ৩২ জনসহ চলতি বছর হাম রোগে ৪৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে- যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতিতে বলেছেন, এই পরিস্থিতির জন্য দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাই প্রধানত দায়ী। ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে জনগণ তাদের সুচিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত।

তপশিলসহ ইসির সব সিদ্ধান্ত ৬ এপ্রিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তপশিলসহ সব সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ৬ এপ্রিল। এজন্য ওইদিন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ১১তম কমিশন সভা ডাকা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ইসির একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে এ তথ্য জানান। এর আগে ৬ এপ্রিলে এই নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
ওই কমিশন সভায় নির্বাচন কমিশনাররা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

ইসি সূত্র বলছে, এবারের কমিশন সভায় পাঁচটি আলোচ্যসূচি রাখা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে– সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি; ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদানের বিষয়ে অবহিতকরণ; ৯ এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন বিষয়ে অবহিতকরণ; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন পূর্ববর্তী কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দায়েরকৃত নির্বাচনী দরখাস্ত বিষয়ে কমিশনকে অবহিতকরণ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ বিষয়ে প্রণীত নীতিমালা বিষয়ে কমিশনকে অবহিতকরণ। এ ছাড়া বিবিধ বিষয় নিয়েও সভায় আলোচনা হবে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন (সংশোধন) আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে দলগুলো জোটগতভাবে নির্বাচন করবে নাকি করবে না, সে বিষয়ক কার্যক্রম শেষ করতে হয়। তার পরদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হয়। সেই হিসাবে ৫ এপ্রিল ৩০ কার্যদিবস শেষ হবে এবং ৬ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন করতে হয়। সেই হিসাবে ১৪ মে-র আগে যে কোনো দিন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এপ্রিল মাসেই এই নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন।

কোনো জোটেই যাবেন না রুমিন ফারহানা  
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে কোনো জোটে যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। গতকাল ইসি সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসি সূত্র আরও জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠির জবাবে রুমিন ফারহানা ইসিকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো জোটে থাকবেন না। এ নির্বাচনে তিনি একজন ভোটার হিসাবে অংশ নেবেন।

স্কুল-কলেজে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস, ৩ দিন অফলাইনে

বৈশ্বিক সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে আবারও মহানগরী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে করোনাকালের মতো পুরোপুরি অনলাইননির্ভর না হয়ে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে সমন্বিত বা ‘ব্লেন্ডেড’ শিক্ষা পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান এবং শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন অফলাইনে (সশরীরে) ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি বা মিশ্রণ শিক্ষণ বলতে প্রথাগত সশরীরে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ও ডিজিটাল বা অনলাইন প্রযুক্তির সমন্বয়কে বোঝায়। এতে শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠ গ্রহণ করবে এবং পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পাঠদান চলবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের মার্চে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয়।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান কেন সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকিতে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৯টি দেশে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা প্রতিদিন অর্থনীতিতে শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি করছে। বিশ্বের দেশগুলো একটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। কিন্তু এই যুদ্ধের মাত্রা আরও বেশি ভয়াবহ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি নানা কারণে যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান কয়েকটি কারণে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। প্রথমত, যুদ্ধ শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং তৃতীয়ত, মধ্যস্থতাকারী দেশের সঙ্গে অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা চুক্তি থাকলে অস্ত্র তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তা চুক্তি থাকায় এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরানের প্রক্সি গ্রুপগুলো যেহেতু ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে ইসরায়েলের পক্ষ গণ্য করে দেশটিতে হামলা হতে পারে। সৌদি আরবের পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঝাঁক নিক্ষেপ করছে ইরান। তবুও এখন পর্যন্ত এই দেশগুলোর কোনোটিই তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালায়নি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ সাঈদ ব্যাখ্যা দেন, সৌদি আরব খুবই ধৈর্যশীল। যদি সৌদিরা সামরিকভাবে পাল্টা হামলা চালায়, তবে তা শুধু সৌদিরাই করবে না। তাতে পুরো অঞ্চলটিই আগুনে জ্বলে উঠবে।

গত রোববার ইসলামাবাদে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে এক বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অসাধারণ সংযমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এও আশ্বাস দেন, পাকিস্তান সব সময় সৌদি আরবের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে। এর তাৎপর্য হলো, যদি ইরান সৌদি আরবকে খুব বেশি উত্ত্যক্ত করে, তবে রিয়াদের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে পাকিস্তান বাধ্য হতে পারে।

ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট পলিসি কাউন্সিলের সিনিয়র রেসিডেন্ট ফেলো কামরান বোখারি মনে করেন, ইরানের কৌশলগত পরিমণ্ডলে ইরানের সবচেয়ে কম সমস্যাযুক্ত সম্পর্ক হলো পাকিস্তানের সঙ্গে। তবে পাকিস্তানের সংকটকালীন কূটনীতি আরও গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

গত সপ্তাহান্তে ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতিরা এই সংঘাতে প্রবেশ করে এবং ইসরায়েলের দিকে তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যা আঞ্চলিক যুদ্ধকে আরও প্রসারিত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এটা আমাদের যুদ্ধ। আমরা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাব।’

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের আবির্ভাব 
বিবিসি লিখেছে, এই সংঘাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুনজরে আছেন। মার্কিন নেতা প্রায়ই তাঁকে তাঁর ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প আগেও বলেছেন, মুনির ইরানকে অধিকাংশের চেয়ে ভালো চেনেন। যদিও দেশটিতে কোনো মার্কিন বিমানঘাঁটি নেই।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘আমি বলব, মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের অনেক বেশি স্বার্থ জড়িত। দেশটি নিজ স্বার্থের কারণেই উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা করছে।’ তবে এই কাজটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আঞ্চলিক কূটনীতিতে উভয় সংকট মোকাবিলার কৌশলই সর্বোত্তম পন্থা বলে মনে করে পাকিস্তান। এই পন্থা সফল না হলে ইসলামাবাদের জন্য সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।