Home Blog Page 187

অচিরেই শুটিংয়ে ফিরছেন না তানিয়া

অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ডাক্তারদের ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরতে পেরেছেন। ৫দিন আগে প্রায় চার ঘণ্টার সফল অপারেশনে ব্রেন টিউমার অপসারণ করা হয় তার। গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা সকাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর চিকিৎসকরা তানিয়াকে পর্যবেক্ষণে রাখেন। এখন তিনি আগের চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল এবং ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সফল অস্ত্রোপচারের পর ৭২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে ধীরে ধীরে অভিনেত্রীর শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে এগোতে থাকে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন। বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন তানিয়া বৃষ্টি। আরও জানা যায়, বাড়ি ফিরলেও কিছু দিন বিশ্রামে থাকতে হবে তানিয়াকে।

পাশাপাশি মেনে চলতে হবে চিকিৎসকের দেওয়া প্রয়োজনীয় পরামর্শ। অভিনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের শুটিং বা নতুন কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। এই সময়ে পেশাগত কোনো প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবং শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পেলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম শেষে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন এই দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী।

ব্রেন টিউমার অপারেশনের জন্য গেল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন তানিয়া বৃষ্টি। সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থতার বিষয়টি জানান। ১৫ ফেব্রুয়ারি তার মাথায় চিকিৎসকরা সফল অস্ত্রোপচার করেন।

ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে দর্শকের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তানিয়া বৃষ্টি। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন। ২০১৯ সালে ‘গোয়েন্দাগিরি’ সিনেমায় তাকে দেখা যায়। এরপর আর অভিনেত্রীকে বড়পর্দায় দেখা যায়নি। তবে দীর্ঘ বিরতি ভেঙে রায়হান খানের পরিচালনায় ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দার অভিনয়ে ফিরছেন তানিয়া বৃষ্টি।

স্যালাইন, ইনজেকশন নিলে কি রোজা নষ্ট হবে?

আত্মসংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান। সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকার এ সাধনায় কখনও কখনও অসুস্থতা বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশন বা অন্যান্য জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন, ভিটামিন ইনজেকশন কিংবা শিরায় ওষুধ নিতে হতে পারে অনেকের।

এক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এ ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করলে কি রোজা ভেঙে যাবে? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর সঠিক বিধান কী?

রোজা ভঙ্গের মূলনীতি
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, সাধারণত মুখ বা নাক দিয়ে খাদ্য, পানীয় বা পুষ্টিদায়ক কোনো বস্তু পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে নতুন নতুন পদ্ধতি চালু হওয়ায় এ বিষয়ে ফিকহবিদদের বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমদের মতে, রোজা ভঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো ইচ্ছাকৃত পানাহার এবং যা কিছু পানাহারের বিকল্প। অর্থাৎ যে কোনো খাদ্য বা পানীয় পেটে প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায় তা মুখ দিয়ে হোক বা নাকের নল (টিউব) মাধ্যমে হোক। একইভাবে খাদ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত পুষ্টিদায়ক ইনজেকশনও রোজা ভঙ্গকারী। (ফাতওয়াল লাজনা আদ-দায়িমা, ৯/১৭৮)

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর মধ্যে খাওয়া ও পান করা অন্তর্ভুক্ত খাদ্য বা পানীয় যে ধরনেরই হোক না কেন। তাঁর মতে, যে ইনজেকশন শরীরে পুষ্টি যোগায় বা খাবারের মাধ্যমে যে শক্তি পাওয়া যায় তার বিকল্প হিসেবে কাজ করে, সেগুলোও খাওয়া-পান করার অন্তর্ভুক্ত; তাই এ ধরনের ইনজেকশন রোজা ভঙ্গ করবে। (মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/২১)

তিনি আরও বলেন, আলেমগণ রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন কেবল সেসব বিষয়কে, যা পানাহারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে যেমন পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন। তবে যে ইনজেকশন শুধু শরীর চাঙ্গা করা বা রোগ নিরাময়ের জন্য দেওয়া হয় এবং খাদ্য–পানীয়ের বিকল্প নয়, তা রোজা ভঙ্গ করবে না। ইনজেকশন রগে, পেশীতে বা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে দেওয়া হোক যদি তা পানাহারের স্থলাভিষিক্ত না হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না। (মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উছাইমীন, ১৯/১৯৯)।

কিছু কিছু রোগীকে রগ দিয়ে যে স্যালাইন পুশ করা হয় এটি রোজা ভঙ্গ করবে। কেননা এটি খাদ্য দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত। (কারণ এর মধ্যে লবণ ও তরল রয়েছে), যা পেটে প্রবেশ করবে এবং এর দ্বারা শরীর উপকৃত হবে।

ভিটামিন ইনজেকশন ও রগে পুশ করা ইনজেকশন
যদি এ সব ইনজেকশন শরীরকে চাঙ্গা করার জন্য, ব্যথ্যা দূর করার জন্য, কিংবা লাঘব করার জন্য, জ্বর কমানোর জন্য গ্রহণ করা হয় এবং এটি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে এসব ইনজেকশনের কারণে রোজা ভঙ্গ হবে না। পক্ষান্তরে, যদি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হয় তাহলে এটি রোজা নষ্ট করবে। কারণ এটি খাবার ও পানীয়ের স্থলাভিষিক্ত; তাই এটাকে খাবার ও পানীয়ের হুকুম দেয়া হবে।

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মতে, রমজানে রোযাদার ব্যক্তি চিকিৎসার প্রয়োজনে দিনের বেলায় পেশীতে (আইএম) ইনজেকশন নিতে পারেন; এতে রোজা নষ্ট হয় না। তবে খাদ্য বা পুষ্টিদায়ক ইনজেকশন গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ তা খাবার-দাবারের বিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং রোজা ভঙ্গের শামিল। সম্ভব হলে পেশী বা রগে ইনজেকশন রাতের বেলায় নেওয়াই উত্তম। (ফতোয়াসমগ্র, ১০/২৫২)

সাপোজিটরিতে রোযা ভাঙে কী?
সাপোজিটরিতে রোজা ভাঙে না। কারণ এটি চিকিৎসার জন্য গ্রহণ করা হয়। এটি খাবার ও পানীয় এর মধ্যে পড়ে না। শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন, রোযাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে গুহ্যদ্বার দিয়ে প্রবেশকৃত সাপোজিটরি ব্যবহারে কোন গুনাহ্‌ নেই। কেননা এটি পানাহার নয় এবং পানাহারের স্থলাভিষিক্তও নয়। শরিয়ত প্রণেতা আমাদের ওপর শুধু পানাহার করা হারাম করেছেন। অতএব, যা কিছু পানাহারের স্থলাভিষিক্ত সেটাকে পানাহারের হুকুম দেয়া হবে। আর যা কিছু এরকম নয় সেগুলো শব্দগত কিংবা অর্থগতভাবে পানাহারের অধীনে পড়বে না। (ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব)

মাতৃভাষা দিবসের স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস শুরু করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মদিবসের শুরুতে তিনি একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। অনেককে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে উপস্থিত অনেক কর্মচারীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে

দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি ক্রমেই গভীর হচ্ছে। একদিকে রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও অন্যদিকে আমদানির ব্যয় দ্রুতগতিতে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এই চাপ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বাড়তি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি-সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৯৭৬ কোটি (৯.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বাড়ায় সাময়িকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই ধারাবাহিক ঘাটতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি (৩৩.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি (২২.১২ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২ হাজার ২৩২ কোটি (২২.৩২ বিলিয়ন) ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানই মূলত বাণিজ্য ঘাটতিকে উসকে দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫২ কোটি ডলার। সাধারণত চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে দেশকে নিয়মিত লেনদেনের জন্য ঋণ করতে হয় না।
সামগ্রিক লেনদেনে (ওভারঅল ব্যালেন্স) বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ডিসেম্বর শেষে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৯৪ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে এই সূচকে ৪৬ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। অর্থনীতির অন্যতম স্বস্তির জায়গা হলো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এফডিআই ছিল ৫৫ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ডলারে। তবে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ চলে গেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৫ কোটি ডলার।

কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই অবস্থান করছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী আরও তিন মাস যমুনায় থাকার সুযোগ থাকলেও সেটি ছেড়ে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যমুনা পরিদর্শন করেছে।

অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে  যাবেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথের পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছেন।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী গণমাধ্যমে জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

জামায়াতের নারী এমপি কারা হচ্ছেন?

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়লাভের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচনে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ।

বর্তমান সংসদীয় কাঠামো অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত ১১ থেকে ১২টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই আসনগুলোতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনে শীর্ষ অগ্রাধিকার পেতে পারেন আমিরের স্ত্রী আমেনা বেগম, যিনি আগেও সংসদে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সম্ভাব্য তালিকায় আরও রয়েছেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী। শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের পাশাপাশি দলের দক্ষ নারী নেত্রীদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাংগঠনিক নেত্রীদের মধ্যে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের নাম শোনা যাচ্ছে। তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেকুন্নাহার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ। জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যোগ্য নারী নেত্রীদের পাশাপাশি যেসব এলাকা থেকে দলটির কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি, সেসব অঞ্চলের নেতৃত্বদানে সক্ষম নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যে দলের আমিরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পাশাপাশি ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সংরক্ষিত আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। যদি আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে জামায়াত ২৪টি আসন পেতে পারে, যা দলটির প্রার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করবে। তবে বর্তমান কাঠামো বজায় থাকলে প্রাপ্ত ১১-১২টি আসনের ভিত্তিতেই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

এবার জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস ভাইরাল

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় চলে এসেছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি। এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও একই সুরেই একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনিও বলেছেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।

রোববার ভোর ৬টা নাগাদ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ডা. শফিকুর রহমান একটি পোস্ট দেন। নাতিদীর্ঘ সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

পোস্টটি কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাইরাল হয়। ৪ ঘণ্টায় রিঅ্যাকশন পড়েছে ২.২৫ লাখ। মন্তব্য পড়েছে প্রায় ২৬ হাজারেরও বেশি। পোস্টটি শেয়ার হয়েছে অন্তত ৩.২ হাজার বার।

গতকাল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এক বক্তব্যের জেরেই এমন পোস্টটি দিয়েছেন জামায়াত আমির। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে, তারপরও আমি বলব। কারণ, আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।’

মন্ত্রীর সে বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সৃষ্টি হয়। একই সুরে এর আগে পোস্ট করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। এরপর এবার জামায়াত আমিরও এই মর্মে স্ট্যাটাস দিলেন।

ফেসবুকে কেন ট্রেন্ডিং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ কাঁপানো স্লোগান ছিল ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। দীর্ঘ সময় পর আবারও ফেসবুকে এই শব্দবন্ধটি ব্যাপকভাবে ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ নেটিজেনদের ওয়ালে ওয়ালে এখন ঘুরছে এই স্লোগান। হঠাৎ এই ট্রেন্ডের মূলে রয়েছে ভাষা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া একটি সাম্প্রতিক বিতর্ক।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলাকে যদি আমার মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব আমাদের ভাষা না।’ তার এই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ ও সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং শুরু হয় নতুন বিতর্ক।

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি মূলত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক কালজয়ী গর্জন। প্রখ্যাত ভারতীয় ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের মতে, ১৯২১ সালে উর্দু কবি ও কমিউনিস্ট নেতা মাওলানা হাসরাত মোহানি (১৮৭৫-১৯৫১) প্রথম এই স্লোগানটি ব্যবহার করেন। হাসরাত মোহানি ছিলেন একাধারে শ্রমিক নেতা এবং ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি উত্তর প্রদেশের উন্নাও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কবি হিসেবে ‘হাসরাত’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।

মাওলানা হাসরাত মোহানি স্লোগানটি তৈরি করলেও এটিকে রাজপথে জনপ্রিয় করে তোলেন বিপ্লবী নেতা ভগত সিং। ১৯২৯ সালে দিল্লির কেন্দ্রীয় আইনসভায় বোমা নিক্ষেপের সময় তিনি এই স্লোগান দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে ভগত সিং বলেছিলেন, ‘ইনকিলাব বা বিপ্লব মানে কেবল বোমা বা পিস্তলের সংস্কৃতি নয়। আমাদের বিপ্লবের অর্থ হলো—অন্যায় ও শোষণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এই স্লোগানের অর্থ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দের অর্থ বিপ্লব এবং ‘জিন্দাবাদ’ অর্থ অভিনন্দন জানানো বা দীর্ঘজীবী হওয়া। অর্থাৎ এর সামগ্রিক অর্থ দাঁড়ায় ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ বা ‘বিপ্লবকে অভিনন্দন’। মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেই এটি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বক্তব্যের পর এক পক্ষ মনে করছে, বাংলা ভাষার বিশুদ্ধতা রক্ষায় বিদেশি শব্দের স্লোগান পরিহার করা উচিত। তবে বড় একটি অংশ দাবি করছে, বিপ্লবের কোনো ভাষা হয় না। তাদের মতে, কোনো শব্দ বা স্লোগান যখন লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে মিশে যায়, তখন সেটি ভাষার গণ্ডি ছাড়িয়ে জনগণের সম্পদে পরিণত হয়। এই পাল্টাপাল্টি যুক্তিতেই এখন সরগরম ফেসবুকের নিউজফিড।

ময়মনসিংহ নিখোঁজে দুদিন পর শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওনের (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জয়নুল আবেদিন পার্কের পূর্ব দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে আটকে থাকা অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ  । এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টাউন হল চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা কর্মকর্তাদের গাড়ি আটক দেয় শিক্ষার্থীরা।

খুঁজ নিয়ে জানা যায় , গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বন্ধু রিফাতের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন শাওন। ছিনতাইকারীরা তাঁদের মারধর করলে জীবন বাঁচাতে দুই বন্ধু দুই দিকে দৌড় দেন। রিফাত প্রাণে বাঁচে গেলেও  শাওন নিখোঁজ হয় । এর পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান পায়নি। অবশেষে শুক্রবার  রাতে স্থানীয় লোকজন ব্রন্মপুত্র নদের চরে তাঁর লাশ দেখতে পেয়ে পুলিকে খবর দেয় ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাইকারীদের ধাওয়ায় পানিতে ডুবেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।

শাওনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে রাত ১২টার দিকে আনন্দ মোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ শতাধিক  শিক্ষার্থী ময়মনসিংহ টাউন হল চত্বর অবরোধ করে রাখেন। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে আসা বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলা পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনের সব গাড়ি আটকা পড়ে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের দাবি, শাওনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তা ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

আনন্দ মোহন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হাসান বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা শহরে বেপরোয়া হয়ে উঠলেও নির্বিকার প্রশাসন। এমন প্রশাসন আগে কখনো দেখিনি,  আমরা ছিনতাই-মাদকমুক্ত নগরী চাই।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অপরাধীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে এবং দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

রোজায় লাগামহীন নিত্য পণ্যের বাজার

পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্যের মজুত থাকার পরও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে রমজানে লাগামহীন হয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজার। তদারকি সংস্থাগুলো বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেও তারা ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ছেন। এতে করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকারি সংস্থাগুলো। তবে ভোক্তাদের স্বার্থে নিয়মিত বাজারে অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিম। এর পাশাপাশি সরকারি অন্য সংস্থাগুলোও বাজার তদারকি করবে।  এদিকে, রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শুক্রবার বিকেলে চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে কোনো ধরনের ভেজাল মেশানো যাবে না। সবাইকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজারে অভিযান পরিচালনা করবেন, তখন পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে।  ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন ডিএমপি কমিশনার। এদিকে রাজধানীর অন্যতম প্রধান পাইকারি ও খুচরা বাজার কাওরান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

বিশেষত ইফতারের উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ছোলা, চিনি, খেজুর, শসা, লেবু ও ডালের দাম ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোলা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্যাকেটজাত চিনি ১০০-১০৫ টাকা এবং খোলা চিনি ১১০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ডালের দাম ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এক হালি করে লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকায়; বড় আকারের লেবুর দাম আরও বেশি। শসা কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা এবং বেগুন ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মসলা ও রান্নার উপকরণের দামও বেড়েছে। কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ২০০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে ৬০-৭০ টাকার মধ্যে।

ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা এবং ডিম ডজনপ্রতি ১৩০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা নজমুল হোসেন বলেন, রমজানের জন্য বেশি দামে ডিম কিনেছি, তবে অতিরিক্ত মুনাফার আশা করছি না। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের আগে ইফতারসামগ্রীর বাজারে চাহিদা বাড়ে। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য সমন্বয়, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মজুত প্রবণতার কারণে খুচরা দামে চাপ তৈরি হয়। পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের কাঁচা বাজারে দেখা গেছে, লেবুর হালি ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ টাকা, ধনে পাতা ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আলু ২৫, টমেটো ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। আর আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজিতে। কাঁচা বাজার ও ফুটপাতে লেবুর দামে ভিন্নতা দেখা গেছে। কাঁচা বাজারে যেই লেবুর হালি ১০০ টাকা, ফুটপাতে তা ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার সিএমএম কোর্ট সংলগ্ন ফুটপাতে লেবু ৪০ টাকা হালি বিক্রি করছেন এক নারী। তিনি বলেন, কাওরান বাজার থেকে লেবু কিনে আনি। মাঝে-মধ্যে শ্যামবাজারেও যাই। মুনাফা করি কম। নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা সালাম জানান, কয়েকটি সবজি ছাড়া তেমন কিছুর দাম বাড়েনি। তবে আশা করি, যেগুলোর দাম বেড়েছে, সেগুলোও কমে যাবে। রায়সাহেব বাজারে দেখা গেছে, কক মুরগি ৩৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৩৮০, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা খলিল বলেন, রোজার মাসে মুরগির দাম বেড়ে যায়। যে কক মুরগি ২৮০ টাকা করে বিক্রি করতাম তা এখন ৩৪০-৩৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের বেশি টাকায় কিনতে হয়, এ জন্য বেশি দামে বিক্রি করি। রায়সাহেব বাজারে মুরগি কিনতে আসা এক শিক্ষার্থী জানান, মুরগির দাম বৃদ্ধি হওয়ায় হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। মেসে থেকে পড়াশোনা করি। হিসাব করে চলতে হয়। এ জন্য দাম বেড়ে গেলে সমস্যায় পড়ি। রায়সাহেব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রায় সাহেব বাজারের খাসির মাংস বিক্রেতা জানান, দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে। রমজানের আগেও ১ হাজার ২০০ করে বিক্রি করতাম।
তবে বিভিন্ন বাজারে খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ করেও বিক্রি করতে দেখা গেছে। একই বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা জানান, রমজানের আগেও গরুর মাংস ৮৫০ করে বিক্রি করছি। এখন ৫০ টাকা কমে ৮০০ টাকায় দিতে পারছি। আমরা চাই কমেই বিক্রি করতে। কিন্তু মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কারণে দাম বেড়ে গেলে কিছু করার থাকে না। কয়েকটি মাছের বাজারে দেখা গেছে, ছোট ইলিশ ৬৫০, মাঝারি ৮৫০ এবং বড় ইলিশ ১ হাজার ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া ২২০ টাকা, ছোট রুই ২৮০ টাকা, বড় রুই ৩৫০ টাকা, ছোট পাঙাশ ২০০ টাকা, বড়টা ২৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমেছে ডিমের। ফার্মের লাল ডিমের হালি ৪০, সাদাটা ৩৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে; যা অন্য সময় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল। রমজানে প্রতিবছরই ডিমের দাম কম থাকে বলে জানান এই ডিম বিক্রেতা। ডিম কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, প্রায়ই রায়সাহেব বাজার থেকে ডিম কিনি। তবে আজকে দেখছি দাম কম।

কয়েকদিন আগেও একই ডিম হালিতে ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনছি। দাম কম থাকলে ভালো লাগে। এদিকে, দেশের বাজারে শুধু রোজায় ছোলার চাহিদা থাকে প্রায় এক লাখ টন। তাই রোজার চাহিদাকে সামনে রেখে প্রায় দুই মাস আগেই ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বাজারের সরবরাহ মিলিয়ে এবার রোজার বাজারে ছোলার সরবরাহ ভালো। সরবরাহ বেশি থাকায় ছোলার দাম কম থাকবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রোজার বাজার ধরতে গত নভেম্বরে ছোলা আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার টন। গত বছর রোজার আগে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার টন। সেই হিসাবে গতবারের তুলনায় ২২ শতাংশ বা ৩৬ হাজার টন বেশি ছোলা আমদানি হয়েছে এবার।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ছোলার আমদানি হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে বাজারে সরবরাহে ঘাটতি নেই। সরবরাহ ভালো থাকায় মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম। ডলার সংকট না থাকায় ছোলার আমদানি আগের চেয়ে বেড়েছে। ক্রেতারাও বলছেন, এবার নির্বাচনের প্রভাবে বাজারে ছোলার দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল তাদের। তবে আপাতত সেটি হয়নি। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে এখন পুরোদমে চলছে রোজার পণ্যের বেচাকেনা। বাজারটি ঘুরে ও সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের এ সময়ে পাইকারিতে প্রতিকেজি ছোলার দাম ছিল ৯২ থেকে ১০৫ টাকা। এবার সেই দাম ৭৫ থেকে ৮২ টাকার মধ্যে রয়েছে।

রোজার প্রথম সপ্তাহের পর দাম আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া রমজানের প্রথমদিন রাজধানীর শাহজাদপুরে ইফতারের জন্য ফল কিনতে আসেন মহিউদ্দিন। দাম শুনে প্রথমে আঁতকে ওঠেন। পরে মাত্র দুটি মাল্টা, চারটি কমলা, চারটি আপেল ও অল্প কিছু আঙুর কিনেছেন তিনি। এতেই তার গুনতে হয়েছে ৭৯০ টাকা। আমদানি করা ফলের দাম গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাশাপাশি বরই, পেঁপে, কলা ও পেয়ারার মতো দেশি ফলের দামও ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইফতারে বাচ্চারা ফল খেতে চায়। আগে অন্তত এক কেজি বা দুই কেজি করে কেনার সাহস করতাম। কিন্তু এখন যা দাম, তাতে খুচরা কয়েক পিস করে কিনতে হলো। দেশি ফলের দামও অনেক বেশি।

শাহজাদপুর, কাওরান বাজার ও ইস্কাটন ঘুরে দেখা যায়, রমজান উপলক্ষে খেজুর, মাল্টা, আঙুর ও আপেলের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি মাল্টা ও কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৬০ টাকায়। এছাড়া লাল আপেল ৩৬০-৪০০ টাকা, সবুজ আপেল ৪৩০-৪৫০ টাকা, সবুজ আঙ্গুর ৪৩০-৪৫০ টাকা, লাল আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা ও নাশপাতি ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি ডালিম বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইফতারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর স্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই দাম এভাবে বাড়ছে। ইস্কাটনের ফল বিক্রেতা রেজাউল করিম টিবিএসকে বলেন, ‘রোজার কারণে ফলের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে। এবার দেশি ফলের দামও আকাশছোঁয়া। ক্রেতারা জানান, পেয়ারা, বরই, তরমুজ ও পেঁপের দাম অনেকটা বেড়েছে। কলার দামও আকাশছোঁয়া। ফলে, অনেক ক্রেতাই বাধ্য হয়ে নিয়মিত কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম আরও বেশি হারে বাড়ছে। নি¤œ-আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় তুলনামূলক কম দামের ‘জাহিদি’ খেজুরের দাম মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই সঙ্গে দাব্বাস, কালমি এবং মেদজুলের মতো আমদানি করা ও উন্নত মানের খেজুরের দামও ক্রমাগত বাড়ছে।
মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতাকেও দায়ী করছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, আমদানি করা ফল, বিশেষ করে দাব্বাস খেজুরের চালান বন্দরে আটকা পড়ে আছে। এই সরবরাহ ঘাটতি ও রমজানের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘চাহিদা অনেক, কিন্তু সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষের চাহিদার তুলনায় পণ্যের জোগান যখন অনেক কমে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়।’ বর্তমানে ফলের ওপর সামগ্রিক আমদানি শুল্কের হার প্রায় ৯০ শতাংশ, যা সরাসরি খুচরা বাজারে ফলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মাহবুব কবির মিলন এই ৯০ শতাংশ শুল্ককে ‘জনস্বাস্থ্যের অন্তরায়’ বলে অভিহিত করেছেন।
সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ॥ ফলের দাম পকেটে টান ফেললেও রমজানের প্রথম দিনে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচসহ কিছু সবজির দাম সামান্য কমেছে। তবু মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই দাম এখনো বেশ চড়া। বিক্রেতারা বলেন, সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম সামান্য কমেছে। কাওরান বাজার, শাহজাদপুর, বাড্ডা ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়, যা মাত্র দুদিন আগেও ১২০-১৪০ টাকা ছিল। অন্যান্য সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

বাজারে প্রতিকেজি শসা ১০০ টাকা, আলু ২০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৮০-১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও দেশি টমেটো ৪০-৬০ টাকা, ওলকপি ৫০-৮০ টাকা ও লাউ প্রতি পিস ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৬০ টাকায়, দেশি গাজর ৪০-৬০ টাকায়। ধরনভেদে শিমের দাম কেজিপ্রতি ৪০-৭০ টাকা। প্রতিটি ফুলকপি ৪৫-৫০ টাকা ও বাঁধাকপি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকায়।
লেবু-শশা-বেগুনে সেঞ্চুরি ॥ রোজা শুরুর আগেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল লেবু, শশা ও বেগুনের দাম। এসব পণ্যের দাম দুই থেকে পাঁচগুণ বেড়েছিল। বাজারে যেসব লেবু সাধারণত ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে পাওয়া যেত, সেই লেবুর দাম উঠেছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা হালিতে। এখনো সেই দামেই বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, রোজার মধ্যে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রোজার তিন চারদিন আগে এ পণ্যের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। যা এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের মতো শশার কেজিও উঠেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। যা ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল।

সাইদুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, রোজায় যে হারে এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই হারে আমদানি হয় না। যে কারণে প্রত্যন্ত এলাকার মোকামগুলোতেই এসব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রোজার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই লাভ রেখে পাইকারি দাম থেকে কেজিতে ১০-২০ টাকা লাভে বিক্রি করছি।
এদিকে, রোজার মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে এ দুই পণ্যের দাম রোজার আগে নির্বাচনের সময় যানবাহন বন্ধ থাকার সময় থেকেই বেড়েছে। আবু আলী নামের একজন ক্রেতা বলেন, ইফতারের সময় বেগুন, লেবুর প্রয়োজন হয়। এ রকম কিছু কিছু পণ্যের দাম এখনো অনেক বেশি। ক্রেতাদের আশা, তদারকি সংস্থার অভিযান ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে বাজারে পণ্যের দামে ভোগান্তি আরও কমবে।