Home Blog Page 19

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুকূলে বিক্রয় অনুমোদনের আলোকে চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ফৌজদারহাটস্থ জলিল টেক্সটাইল মিলসে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর উপস্থিত থাকবেন বলে পত্রে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী একান্ত সচিব (উপসচিব) ফখরুদ্দিন আহমেদ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি ও স্থাপনার এ মিলে একসময় যেখানে সুতা ও কাপড় তৈরি হতো এখন ব্যবহার হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত মিলটির সব সম্পদ প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) মিল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাটির জমিতে বিওএফের নতুন প্ল্যান্ট ও কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রতিরক্ষা খাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো ও সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই ফৌজদারহাটের এই জমি ব্যবহার করা হবে।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ফৌজদারহাটের এই জমিতে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো ও বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইল মিলের জমি ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধান একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে মিলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর জায়গাটিকে বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য কৌশলগতভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে মিলটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে সরকারের পটপরিবর্তনের পর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে, এই হস্তান্তর ঘিরে অসন্তোষ রয়েছে জলিল টেক্সটাইলের সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। ২০০৪ সালে মিলটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের অডিট অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, আমাদের পাওনা টাকা এখনো বুঝে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আমরা একাধিক মন্ত্রণালয়ে ও বিটিএমসিতে বৈঠক ও যোগাযোগ করেছি। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের পাওনা টাকার কোনো সমাধান না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। অতীতে আমরা পাওনা টাকার জন্য কর্মসূচি পালন করেছি। আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি থাকবে। আমরা প্রোগ্রাম স্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকব। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব।

পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত মিলটি ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করে বিটিএমসির অধীনে নেওয়া হয়। মিলটিতে ১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের আধুনিক স্পিনিং ইউনিট ছিল। জাতীয়করণের পর উৎপাদন বাড়াতে উইভিং ও ডাইং ভাগও চালু করা হয়। মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময় দেশীয় বাজারে মিলটির সুনাম ছিল এবং তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। লাভজনক এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনায় ২০০৪ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ছয় জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির রামদাসপুর বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৬/এমপি দিয়ে এ চেষ্টা করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর ক্যাম্পের সদস্যরা ছয় জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রামদাসপুর বিওপির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে। এ সময় ওই ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেন। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।

১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

নেপালে বন্যা ও ভূমিধস ‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে’

‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে।’ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে এমনই হৃদয়বিদারক কথা বলেছেন ৬৮ বছর বয়সী কেশভ প্রসাদ বারাল। খবর বিবিসির

বন্যায় আহত হয়ে একটি ছোট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার আগে তা ক্রমেই ওপরে উঠছিল। একপর্যায়ে কাদার বিশাল স্রোত তাঁদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে।

কেশভ প্রসাদ বলেন, তিনি স্ত্রীকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল স্রোতে তাঁর হাত থেকে স্ত্রী ভেসে যান। পরে কাদা তাঁর বাড়ির ওপরের তলা পর্যন্ত উঠে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর কাদার স্রোত নেমে যায়।

তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার আমাকে উদ্ধার করতে আসে। আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন। তিনি আর নেই।’

বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন। তাঁদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে।

নেপাল পুলিশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১, ধাদিংয়ে ১৮, চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, তানাহুঁতে সাত এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুর্যোগের পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

নেপালে দ্বিতীয় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কবার্তা

নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার আঘাত হানা এক শক্তিশালী আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনও একটি বিশাল বাধা আটকে আছে। এর ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় একটি জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসতে পারে।

হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশ— ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তান নিয়ে কাজ করে ইসিমোড। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসিমোড হিমালয় জুড়ে পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করা শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি।

গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি অববাহিকায় হঠাৎ করেই এই বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেলে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলী নদী দিয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছছিতে ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এত অল্প সময়ে পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নির্গত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় ভাটির দিকের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোও বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইসিমোডের সবচেয়ে জোরালো সতর্কতাটি এসেছে সংস্থাটির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং-এর কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের রাসুয়ার বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একই স্থান আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় একটি বরফধস এর কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনও একটি বাধা আটকে থাকায়, দ্বিতীয় একটি বন্যা আশঙ্কা রয়েছে। জিলং বন্দর এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই মানুষ সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) নির্দেশ জারি করা হয়েছে।’

পার্বত্য অঞ্চলের ক্রায়োস্ফিয়ার অর্থাৎ হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র থেকে উদ্ভূত বিপদগুলোর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই ঘটনা।

ইসিমোডের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল জানান, লেন্দে খোলায় গত চৌদ্দ মাসে দুবার বন্যা হলো। ক্রায়োস্ফিয়ারের সামান্য একটি পরিবর্তন বা বিপদ কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লোকালয়ে ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হতে পারে, এটি তারই উদাহরণ।

সংস্থাটির সিনিয়র ক্রায়োস্ফিয়ার স্পেশালিস্ট মো. ফারুক আজম এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত চরম বিপদ মোকাবিলায় হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।

আজম বলেন, ‘ক্রায়োস্ফিয়ার বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান মাত্রা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান। এর গতি এত দ্রুত যে আমাদের চলমান প্রচেষ্টাগুলো এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে না। সরকারগুলোর উচিত এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত বিপদ মোকাবিলায় কিছু যৌথ, সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’

এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন ইসিমোডের মহাপরিচালক পেমা গ্যাম্তশো।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট, সিসমিক ও হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করে উজানের সন্দেহভাজন বাধার স্থিতিশীলতা নির্ধারণে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার তীরের বাসিন্দাদের জন্য বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছে ইসিমোড।

উল্লেখ্য, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালি পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং ২৬ জনের মরদেহ নাওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সমাধিতে ঢাবি ছাত্রদলের শ্রদ্ধা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। কবি নজরুলের সাম্য, মানবতা, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের আদর্শকে ধারণ করে একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ই হোক তাঁর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।’

গাজীপুরে ১২ ঝুটের গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ১২টি ঝুটের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার পলি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরে সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। মোট পাঁচটি ইউনিট প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল।

তিনি জানান, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

রেকর্ড দামে ম্যানচেস্টার সিটিতে বুয়াদ্দি

অবশেষে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলেন লিলের তরুণ মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। ১৮ বছর বয়সী মরক্কোর এই ফুটবলারের সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করেছে ইংলিশ জায়ান্টরা। বুয়াদ্দিকে দলে ভেড়াতে শুরুতেই ৮ কোটি ১৪ লাখ পাউন্ড খরচ করছে ম্যানচেস্টার সিটি। পারফরম্যান্সভিত্তিক বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে ট্রান্সফার ফিতে আরও ৪২ লাখ পাউন্ড যোগ হতে পারে।

এই দলবদলের মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন বুয়াদ্দি। ইংলিশ শীর্ষ লিগের কোনো ক্লাবের ২০ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়কে কেনার ক্ষেত্রে এটিই এখন সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল রোমিও লাভিয়ার দখলে। ২০২৩ সালে সাউদাম্পটন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার সময় তার জন্য ৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড খরচ হয়েছিল।

সিটিতে ৩২ নম্বর জার্সি পরবেন বুয়াদ্দি। নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য সত্যিই বিশেষ। আমার কাছে ম্যানচেস্টার সিটিই বিশ্বের সেরা ক্লাব। এখানে আসতে পারা এবং নিজেকে সিটির খেলোয়াড় বলতে পারা আমার স্বপ্ন ছিল।’

সিটির খেলার ধরনও বুয়াদ্দিকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে সিটির খেলা দেখেছি। তাদের খেলার ধরন আমার ভীষণ ভালো লাগে। সিটি সবসময় মানসম্পন্ন ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের বিজয়ী দল হিসেবেও প্রমাণ করেছে।’

মরক্কোর হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন বুয়াদ্দি। দলটির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে মূল একাদশে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স নজর কাড়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর।

২০২৩ সালে লিলের মূল দলে অভিষেকের পর ফরাসি ক্লাবটির হয়ে ৯৬ ম্যাচ খেলেছেন বুয়াদ্দি। গত মৌসুমে লিগ ওয়ানে লিলের তৃতীয় হয়ে মৌসুম শেষ করার পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে বড় পরিবর্তন এসেছে। রদ্রিকে ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে বার্সেলোনায়, তিজ্জানি রেইন্ডার্সকে ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে আল-কাদসিয়াহতে এবং নিকো গনজালেজকে ৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের চুক্তিতে নিউক্যাসলে ছেড়ে দিয়েছে সিটি।

২৩ বছর পর দেখা দিলেন হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া সেই অভিনেত্রী

২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল বিক্রম ভাট পরিচালিত ভৌতিক সিনেমা ‘রাজ’। ডিনো মোরিয়া ও বিপাশা বসু অভিনীত সিনেমাটির গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল মালিনী শর্মার। পর্দায় তার রহস্যময় উপস্থিতি, মায়াবী চেহারা এবং পরবর্তী সময়ে ভয়ংকর আত্মার রূপ দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছিল আতঙ্ক। দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ‘রাজ’-এর সেই মালিনীকে এখনো মনে রেখেছেন দর্শকেরা।

মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মালিনী। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতেও দেখা গেছে তাকে। পাশাপাশি টেলিভিশনেও কাজ করেছেন। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন, বলিউডে সামনে আরও বড় পরিসরে দেখা যাবে তাকে। কিন্তু ‘রাজ’-এর পরই ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান মালিনী। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তেমন কোনো খবর সামনে আসেনি।

অভিনয়জীবন থেকে দূরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন বেছে নিয়েছেন মালিনী। শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে মহারাষ্ট্রের সহ্যাদ্রি পাহাড়ের কাছে প্রকৃতির মাঝে বসবাস করছেন তিনি। সেখানে গড়ে তুলেছেন নিজের একটি ফার্মস্টে।

41401 1787750450

এখন চাষাবাদ, রান্না, অতিথি আপ্যায়ন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন মালিনী। সেই জমিতে উৎপাদিত ফসল দিয়েই ফার্মস্টেতে অতিথিদের জন্য খাবার তৈরি করা হয়।

শুধু থাকার জায়গা হিসেবেই নয়, মালিনীর ফার্মস্টে হয়ে উঠেছে স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটি জায়গা। সেখানে স্থানীয় খাবার, হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং নানা ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মালিনী শুরু করেছেন ‘দ্য স্লো লোকাল’ নামে একটি উদ্যোগও। শহুরে জীবনের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে স্থানীয় খাবার, কৃষি, হস্তশিল্প ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পরবর্তী সময়ে তাঁর এই নতুন জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ‘দ্য স্লো লোকাল ডায়েরিজ’।

2852 1787750694

দীর্ঘ ২৩ বছর পর সম্প্রতি আবারও ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন মালিনী। তবে এবার কোনো সিনেমার চরিত্রে নয়; নিজের বর্তমান জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়েই ক্যামেরার সামনে কথা বলেছেন তিনি। সেখানে উঠে এসেছে বলিউডের ঝলমলে জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা তাঁর বর্তমান জীবনযাপন।

একসময় ‘রাজ’-এ ভয়ংকর আত্মার চরিত্রে দর্শকদের আতঙ্কিত করেছিলেন যে অভিনেত্রী, আজ তাকেই দেখা যাচ্ছে পাহাড়-ঘেরা সবুজ পরিবেশে শান্ত জীবন কাটাতে।

বলিউডের আলো থেকে অনেক দূরে গিয়ে চাষাবাদ, প্রকৃতি ও অতিথি আপ্যায়নকে জীবনের অংশ করে নিয়েছেন মালিনী শর্মা। তার এই বদলে যাওয়া জীবন তাই দর্শকদের কাছে বেশ কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে। 

স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ‘নিখোঁজ’ স্বর্ণ ব্যবসায়ী

চাঁদপুর শহরের ‘এস কে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে হঠাৎ করে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধক রাখা স্বর্ণ নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে না পারার অভিযোগের মধ্যেই তাঁদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্বর্ণের মালিকদের মধ্যে। তবে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার পিন্টু দাসের নিকটাত্মীয় ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। পিন্টু দাস ছাড়াও তাঁর স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম ও ছোট ছেলে রুপম দাসকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বিভিন্ন কারণে ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার ব্যবসা করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে অনেকের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে পারেননি পিন্টু দাস। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একাধিকবার দোকান পরিবর্তনের পর প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় ‘এস কে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা শুরু করেন পিন্টু দাস। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্বর্ণের বাজারমূল্যের তুলনায় কম টাকা দিয়ে তা বন্ধক রাখা হতো। তাঁর মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়।

রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান বলেন, তিনি পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলেন। পরে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস তাঁকে পরদিন আসতে বলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, পিন্টু দাস পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে গেছেন।

রাসেল খান জানান, এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন।

দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁরাও বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

চাঁদপুর জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা (ফুল মিয়া) বলেন, ‘পিন্টু দাস আমাদের সমিতির সদস্য। তিনি বন্ধক রেখে স্বর্ণের ব্যবসা করতেন বলে আমরা জানি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তবে তাঁকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।’

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস স্বপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, বিষয়টি আজই জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে জানতে পেরেছি, তাঁর কাছে স্বর্ণ বন্ধক রেখে অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে এখনো কেউ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি।’

এদিকে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হঠাৎ করে খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ তাঁরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে ধারণা করলেও পুলিশ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি।

মন্ত্রিসভা কমিটির সভা ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর তাগিদ

ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমিয়ে আনার তাগিদ এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পাইলট কর্মসূচির অভিজ্ঞতা থেকে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন কোনো কোনো সদস্য। বড় পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, কার্ড তৈরি, অর্থ বিতরণ, জনবল, যানবাহনসহ পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।

ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল। এর আওতায় পরিবারের প্রধান নারী ব্যক্তির হাতে সরকার প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। চার বছরে দুই কোটি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাইলট কর্মসূচির পর গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই কমিটি বৈঠকে বসে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে পাইলট পর্যায়ে পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ৪০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে পাইলট কর্মসূচিতে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ভাতা দেওয়া হয়। বাকি প্রায় ১৪ কোটি টাকা খরচ হয় তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, কার্ড তৈরি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে। জাতীয় পর্যায়ে দুই কোটি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

সমন্বিত তথ্যভান্ডারের ওপর গুরুত্ব
বৈঠকে জানানো হয়, ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে একাধিক সংস্থার পৃথক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পরিবর্তে সমন্বিত তথ্যভান্ডার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, পরিবারভিত্তিক তথ্য এবং বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সমন্বয় করা গেলে একই পরিবারকে বারবার জরিপ করার প্রয়োজন কমবে। এতে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।

বৈঠকে কার্ড ব্যবস্থাপনাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। কেউ কেউ বলেন, প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নতুন করে কার্ড তৈরি না করে একটি কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যতে কার্ড তৈরি, বিতরণ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে মধ্যবর্তী ধাপ কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে অর্থ পাঠানো হলে অপচয়, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকায় নিরীক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই কোটি পরিবারকে মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হলে শুধু নগদ সহায়তা বাবদ বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ফলে কর্মসূচির পরিধি বাড়ার সঙ্গে শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়, অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে ভুল, একই পরিবারকে একাধিক সুবিধা দেওয়া কিংবা অযোগ্য ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটলে সরকারের আর্থিক দায় আরও বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ফ্যামিলি কার্ডকে দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর করতে হলে প্রশাসনিক ব্যয়ের চেয়ে সুবিধাভোগীর হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর অংশ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নিরীক্ষা, স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসূচিতে অপচয় কমিয়ে এর মূল লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।