Home Blog Page 20

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ডাচ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইউরিস ভ্যান বোমেল। মঙ্গলবার রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় নেদারল্যান্ডস সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিভিন্ন গঠনমূলক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকের একপর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গ্রাফিতি ঘুরে দেখান।

বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি, উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর এবং নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জাওয়াদ আজাউইসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রীপুরে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) ও একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা দুজনই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী, মুত্তাসীনসহ কয়েকজন সহপাঠী বাড়ির পাশের সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। নদীতে নামার পর একপর্যায়ে একজন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে অপরজনও পানিতে নামে। পরে দুজনই পানিতে তলিয়ে যায়।

এ সময় সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে খোঁজাখুঁজি করে রাব্বী ও মুত্তাসীনকে উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুই শিশুর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যেও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীুনুর আলম সমকালকে বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে দুই শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সুতিয়া নদীতে পানির গভীরতা ও স্রোত বেড়ে যায়। নদীর পাড়ের শিশুরা প্রায়ই সেখানে সাঁতার কাটে। এ ঘটনায় নদীতে শিশুদের সাঁতার কাটার বিষয়ে সতর্কতা ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রামগামী বিমানে অসুস্থ হয়ে নারী যাত্রীর মৃত্যু, মাসকটে জরুরি অবতরণ

সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অসুস্থ হয়ে ছানোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ফ্লাইটটি ওমানের মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বুধবার শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ছানোয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফ্লাইটটি মাসকট বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে বিমানবন্দরের চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই যাত্রীর মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মৃত‍্যুবরণ করা ছানোয়ারা বেগমের বাড়ি চট্টগ্রামে বলে জেনেছি। বিস্তারিত ঠিকানা এখনো পাইনি। মরদেহ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অন‍্য যাত্রীদের নিয়ে ইতোমধ্যে ফ্লাইটটি মাস্কাট থেকে যাত্রা করেছে। আজ বিকেলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।’

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে ফরাজী ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেড ও মাদানী হসপিটাল লিমিটেড। বুধবার পৃথক সময়ে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরামর্শ দেন।

ফরাজী হাসপাতাল বারিধারা ও মাদানী হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত এসব ক্যাম্পে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ও বয়সের পাঁচ শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা নেন। ক্যাম্পে আসা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফিজিওথেরাপি সেবায় বিশেষ ছাড়েরও ব্যবস্থা রাখা হয়।

ফরাজী হাসপাতাল বারিধারার সিইও মুহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা এবং চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

মাদানী হসপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. ইব্রাহিম মাসুম বিল্লাহ বলেন, মহানবী (সা.)-এর অনুপম জীবনাচারের অন্যতম দিক মানবসেবা। তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এমন মানবিক আয়োজনকে স্বাগত জানান।

আয়োজকেরা জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে দুই হাসপাতাল প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন করে। পাশাপাশি বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে কাল ১৩ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ হারাচ্ছে বিরোধী দল পদ পেতে সরকারের শর্ত মানতে রাজি নয় বিরোধী দল

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বর্জনের কারণে সংসদের ১৩ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ হারাচ্ছে বিরোধী দল। এ জন্য বিরোধী দলের অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। আগের সংসদের রেওয়াজ মেনে এবারের কমিটিও গঠন করা হবে।

যদিও জুলাই সনদ অনুযায়ী, ১৪টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। ত্রয়োদশ সংসদের শুরু থেকেই গণভোটের রায় নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব করলেও এর জের ধরে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গত রাতে সমকালকে জানান, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যদের সভাপতির পদ পেতে সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক এই প্রস্তাবে সরকারের তরফে বিরোধী দলকে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলেই এই পদ পাওয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুই অধিবেশন শেষে মাত্র ১৫টি কমিটি গঠন হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়বিষয়ক ৯টি এবং বিষয়ভিত্তিক কমিটি ছয়টি। বাকি ৩৫টি কমিটি এ অধিবেশনেই গঠন করতে হবে। ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি আছে ৩৯টি। বিষয়ভিত্তিক কমিটি রয়েছে ১১টি।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ২৪ নম্বর সুপারিশে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদের বিষয়ে বলা আছে, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদের আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ, বিষয়ভিত্তিক চার কমিটি ছাড়াও সংখ্যানুপাতে বিরোধীদের ৯০ সদস্যের বিপরীতে আরও ১০টি সভাপতির পদ বিরোধী দল পাওয়ার কথা। গত দুই অধিবেশনে গঠিত ১৫ স্থায়ী কমিটির মধ্যে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির একটি পদ দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলকে।

এই সনদের বেশ কয়েকটি বিষয় ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ৩০টি দল ঐকমত্য পোষণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, শর্তারোপের অভিযোগ সঠিক নয়, সংসদীয় কার্যক্রম চলে রেওয়াজ অনুযায়ী। অতীতে সংসদীয় কমিটি গঠনে যে প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে, এবারও তাই অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ পাস হওয়ার পরে সেটা মেনে কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে। এখন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনই হয়নি।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দিতে সংবিধান সংশোধন বাধ্যতামূলক কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, একজনে হ্যান্ডশেক হয় না। সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দল আন্তরিকতা দেখিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলে সরকারি দলও হাত বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশনে কমিটি গঠন বা পরিবর্তন যে কোনো সময়েই সম্ভব। তবে এ বিষয়ে তারা প্রথম থেকেই নেতিবাচক আচরণ করছে।

সংক্ষিপ্ত হবে এবারের অধিবেশন
আগামীকাল বিকেল ৩টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে বলে আভাস দিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য বসা এই অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যাবলি চূড়ান্ত করা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হতে পারে এই অধিবেশনের মেয়াদ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ১১ আগস্ট সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হবে না। গত ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। এ হিসাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সম্মেলন থাকায় কিছুটা আগে অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনের পর ২১ সেপ্টেম্বর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।

জাতীয় ইস্যুতে সরব থাকতে প্রস্তুত বিরোধী দল 
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে তারা সংসদে সরব থাকার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কার্যপ্রণালি বিধি মেনে এসব ইস্যুতে সংসদে নোটিশ দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। কে, কোন ইস্যুতে নোটিশ দেবেন, তা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল এই অধিবেশনে উঠবে। বিলগুলো নিয়ে বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। সংসদের বৈঠকেও তা যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

যদিও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি জানান, এ অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও এবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হবে। বিরোধী দল হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আসতে পারে। এ ধরনের কোনো ইস্যু এলে নিশ্চয়ই এর ওপর আলোচনা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে জমা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন এবং র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনও বিল আকারে তোলার জন্য শিগগিরই জমা হবে। এসব বিল তোলার পর চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে।

এদিকে, অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপিদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর বন্যা নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত বেড়ে ৩১

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ৩১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নেন উদ্ধারকারীরা। বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ছবি: এএফপি

এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নেন উদ্ধারকারীরা। বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ছবি: এএফপি

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

নুয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে প্লাবিত এলাকা। ছবি: এএফপি

নুয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে প্লাবিত এলাকা। ছবি: এএফপি

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

নিরলস গান করে যাচ্ছি, আমৃত্যু গানই করে যেতে চাই: বাপ্পা মজুমদার

বাপ্পা মজুমদার। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে নতুন একক গান ‘গলে যাওয়া সময়’। সদ্য প্রকাশিত ও গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

‘বুড়ো নাবিকের গল্প’র পর এলো আপনার লেখা আরেকটি গান ‘গলে যাওয়া সময়’। নিজ ভাবনার জগতকে চিনিয়ে দিতেই কি শিল্পী ও সংগীত পরিচালকের পাশাপাশি গীতিকার হিসেবে কাজ করা? 
শিল্পী হিসেবে প্রতিটি কাজেই নিজস্ব একটা ছাপ রেখে দেওয়ার চেষ্টা করি। সংগীত পরিচালক হিসেবে যখন কোনো গান তৈরি করি, তখনও বিষয় বৈচিত্র্য নিয়ে ভাবতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটা তো নিজ ভাবনাকে কেন্দ্র করে এগোতে থাকে। বাকি থাকে কেবল গানের কথা লেখার বিষয়টি। নিজের লেখা বা অন্য কোনো গীতিকারের লেখা নিয়ে গান তৈরি করতে গেলেও একান্ত নিজের পরিকল্পনা প্রাধান্য পায়। হ্যাঁ, এটি বলা যায়, গীতিকার একেকটি বিষয় তুলে আনা বা দৃশ্যপট তৈরিতে গীতিকারদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে। সে হিসাবে এটি বললে ভুল হবে না, যে ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ কিংবা ‘গলে যাওয়া সময়’ গান দুটিতে আমার যা ভাষ্য, তা আমার মতো করে উঠে এসেছে। গীতিকথা কিন্তু আমি আগেও লিখেছি। হয়তো এভাবে এক এক করে প্রকাশ পায়নি।

‘গলে যাওয়া সময়’কে কি অতীত রোমন্থনের গান বলা যায়?   
বলা যেতে পারে, কারণ এই গানে আমি ফেলে আসা সময়ের শূন্যতা পরিমাপের কথা বলেছি। বালু, নদী স্রোতের মতো সময় বয়ে যায়, ঘড়ির কাঁটার মতো সরে গিয়ে অনন্তে হারায়। এভাবে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে আর দৃশ্যের মতো জমা হচ্ছে স্মৃতিকোষে। এই চিরন্তন সত্যিটাই গানে তুলে আনা হয়েছে। ভালো লাগার বিষয় হলো, এই গানের ভিডিওটি নির্মাণ করে দিয়েছেন আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।

একক গানের আগে প্রকাশ পেয়েছে নতুন সংগীতায়োজনে গাওয়া এলআরবির কালজয়ী গান ‘রূপালি গিটার’। এ আয়োজন নিয়ে জানতে চাই। 
এই বিষয়টা তো মোটামুটি সবার জানা যে, ‘রক আইকন’ আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে একটি ডাবল অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত ‘উত্তরাধিকার’ নামে সেই অ্যালবামের জন্যই দলছুটের সদস্যদের নিয়ে ‘রূপালি গিটার’ গানটি নতুন সংগীতায়োজেন গাওয়া। এ আয়োজন কেবলই একজন কিংবদন্তি শিল্পী ও সংগীত পরিচালক শ্রদ্ধা জানানোর। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, সংগীতসহ সৃষ্টিশীল প্রতিটি মাধ্যমে গুণীজন যারা আছেন, জীবদ্দশাতেই তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো উচিত। যদিও বাচ্চু ভাই [আইয়ুব বাচ্চু] আর আমাদের মাঝে নেই, তবু আজ যে শ্রদ্ধা ও সম্মান তাঁকে জানানো হচ্ছে, সেটি তাঁর জীবদ্দশাতেই দেওয়া উচিত ছিল।

কদিন আগে এ প্রজন্মের কয়েকজন শিল্পী গানে গানে আপনাকে শ্রদ্ধা জানাল, শ্রোতা আসনে বসিয়ে শোনাল আপনার জনপ্রিয় কিছু গান। ‘সেলিব্রিটিং বাপ্পা মজুমদার’ নামে সেই অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতাটা জানতে চাই? 
প্রিয় অনুজ শিল্পীদের কণ্ঠে নিজের গান শুনতে পাওয়া– ভীষণ ভালো লাগার। যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে ‘সেলিব্রিটিং বাপ্পা মজুমদার’ সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন, তা আমৃত্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এলিটা, শুভ, জয়িতা, জয়, সন্ধি, ইউসুফ, সভ্যতা ও সৌরভ ভালোবেসে আমার গানগুলো যেভাবে গেয়েছে, তাঁর অনুরণন এখনও রয়ে গেছে। এটি শিল্পীজীবনের অন্যরকম এক পাওয়া; যার অনুভূতি কথা বলে বোঝানো যাবে না। সত্যিই আমি সৌভাগ্যবান, এমন কিছুর সাক্ষী হতে পেরে।

গানের ভুবনে পথচলার তিন যুগ পূর্ণ হতে চলেছে। পেছন ফিরে তাকালে, এই দীর্ঘ সফরটা মনের পর্দায় ধরা দেয়? 
পেছনের পুরো সময়টা চলচ্চিত্রের মতোই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর অধ্যবসায়ের দৃশ্যগুলো বাদ দিলে বাকি সব প্রায় একই রকম। গান গাওয়া, সুর বাধার চেষ্টা; নয়তো বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে চালিয়ে সংগীত নিরীক্ষা চালিয়া যাওয়া– এমনই সব দৃশ্যের ঘোরাফেরা। গানের মানুষ বলেই হয়তো অতীত দৃশ্যের খুব একটা বদল হয় না। তবু অবাক লাগে, সুরের অতলে ডুব দিয়ে এতটা পথ কীভাবে পাড়ি দিয়েছি ভেবে। সময় হয়তো এমনি করেই জলের মতো আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। তা যাক, এখন কথা হলো– সংগীতের এই দীর্ঘ সফরে আমি বেশি কিছু করতে পেরেছি কী? হয়তো পারিনি। আর পারিনি বলেই এখনও সৃষ্টির নেশা এতটুকু কমেনি। আসলে শিল্পীমনের তৃষ্ণা ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। তাই তো নিরলস গান করে যাচ্ছি, আমৃত্যু গানই করে যেতে চাই।

রুনা লায়লার সঙ্গে দ্বৈত গান গাইলেন। এরপর কী আপনাদের গানের কোনো অ্যালবামের আশা করা যায়? 
এ নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আমি এই প্রাপ্তিতে খুশি যে, রুনা লায়লার মতো জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে দ্বৈত গান গাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। শিল্পীজীবনে এটি ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে সংগীত ক্যারিয়ারের এক পরম প্রাপ্তি। রুনা লায়লার কণ্ঠ ও গায়কি নিয়ে কিছু বলার সাহস নেই। তাঁর জন্য গানের সুর করতে পারাই ছিল আমার অন্যরকম আনন্দের। ‘অনায়াসে’ গানটি মূলত রুনা লায়লার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গানের সুর শুনে তিনি নিজ থেকেই বলেছিলেন, ‘তুমি বরং আমার সাথে গাও, গানটি ডুয়েট হোক!’ এই প্রস্তাব সংগীত জীবনের অনন্য উপহার হিসেবেই গ্রহণ করেছি।

এ মুহূর্তে নতুন কী করছেন?
ব্যান্ড দলছুট আর নিজের একক গানের কাজ করছি। এর বাইরেও কিছু কাজ আগে থেকেই ঠিক করা থাকে, যেমন সিনেমার নিজের বা অন্য কোনো শিল্পীর প্লেব্যাকের কম্পোজিশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল এসব। এমন কিছু কাজও হাতে আছে।

রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে সকালের যে ৫ ভুল

ঘুম ওঠার পর কারও কারও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। খাবার না খেতেই কেন রক্তে শর্করার মাত্রা এভাবে বেড়ে যায় তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। ‘নিউজ এইট্টিনে’র এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে নানা তথ্য। যেমন-

চিনিযুক্ত চা দিয়ে দিন শুরু করা
প্রথম যে জিনিসটি নীরবে আমাদের ক্ষতি করে তা হলো কড়া, চিনিযুক্ত চা, যা আমরা অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই পান করি। খালি পেটে যখন হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করার জন্য কোনো প্রোটিন বা ফাইবার থাকে না, সেই চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। যার ইনসুলিন ইতিমধ্যেই ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, তার ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা দিনের অন্য সময়ের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে এবং বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর সক্রিয় না থাকা
দ্বিতীয় ভুলটি হলো ঘুম থেকে ওঠার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পুরোপুরি সক্রিয় না থাকা। পেশি হলো শরীরের গ্লুকোজের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। যারা একটুও না হাঁটাহাটি করে ঘর থেকে সোজা গিয়ে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ শুরু করে তারা গ্লুকোজের এই উৎসটিকে নিস্ক্রিয় করে রাখে। ঠিক সেই সময়েই কর্টিসল, যা সকালে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তাই, ঘুম থেকে ওঠার পর অল্প একটু হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করা শরীরকে নিষ্ক্রিয় না রেখে গ্লুকোজ ব্যবহারে উৎসাহিত করার  সহজ উপায় হতে পারে।

ভুল নাশতা দিয়ে দিন শুরু
পরিশোধিত ময়দা বা চিনিযুক্ত সিরিয়াল দিয়ে তৈরি সকালের নাশতা, যাতে প্রোটিন খুব কম থাকে, তা রক্তে শর্করার দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দিতে পারে।  এর ফলে একজন ব্যক্তি আরও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাশতার একটি ভালো বিকল্প হতে পারে প্রোটিন। ডিম, পনির বা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত অন্য কোনো সুষম নাশতা সকালের খাবারকে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তুলতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আগের রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম
চতুর্থ ভুলটি হলো আগের রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম। এতে একজনকে শুধু ক্লান্তই করে না, পরের দিন সকালে ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুমের পর রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

মানসিক চাপ নিয়ে দিন শুরু করা
পঞ্চমটি, যেটিকে মানুষ সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেয়, তা হলো আগে থেকেই মানসিক চাপ নিয়ে দিন শুরু করা। যেমন—মেসেজ স্ক্রল করা, কাজের নোটিফিকেশন দেখা অথবা দিন শুরু হওয়ার আগেই শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স পুরোপুরি সক্রিয় থাকা অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া।

এই স্ট্রেস রেসপন্সের কারণে শরীর কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসরণ করতে পারে, যা কোনো খাবার গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের প্রথম এক ঘণ্টা শান্ত থাকা, অল্প হাঁটা, প্রোটিন-সমৃদ্ধ সকালের নাশতা এবং নিয়মিত ঘুম বজায় রাখার চেষ্টা —এই সবই সকালে রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যে কারণে বাংলাদেশে ম্যাচ খেলতে চায় ব্রাজিল

বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। বাংলাদেশের ব্রাজিল-ভক্তদের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাই মূলত ব্রাজিলকে ঢাকায় ম্যাচ খেলার ব্যাপারে আগ্রহী করেছে।

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার পর ব্রাজিল এশিয়া সফরে আসবে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের।

শুরুতে ভারতের ম্যাচের পর বাংলাদেশে এসে অনুশীলন করার পরিকল্পনা ছিল ব্রাজিলের। সে জন্যই গতকাল ব্রাজিলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে ভেন্যু ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে। কিন্তু ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার সুযোগ-সুবিধা দেখে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ধারণায় পরিবর্তন আসে। অনুশীলনের পাশাপাশি এখানে একটি ম্যাচ আয়োজন করাও সম্ভব বলে মনে হয়েছে তাদের।

এর সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বিশাল ব্রাজিল-সমর্থক গোষ্ঠী। বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমর্থকদের উন্মাদনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাংলাদেশের ব্রাজিল-ভক্তদের কর্মকাণ্ড ব্রাজিলিয়ানদের নজর কেড়েছে। এই বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ করতে চায় ব্রাজিল। দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড ও সমর্থন আরও শক্তিশালী করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ।

বলা যায়, বাংলাদেশে ম্যাচ খেলার প্রস্তাবটি মূলত দুই পক্ষেরই স্বার্থের সঙ্গে মিলে গেছে। বাংলাদেশ পাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলকে নিজেদের মাঠে আনার সুযোগ, আর ব্রাজিল পাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্ত করার সুযোগ।

গাজায় নেই দাফনের জায়গা কবরস্থানও ধ্বংস করে ফেলেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। কাগজে-কলমে ‘যুদ্ধবিরতি’ চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ গাজাবাসীর ওপর হামলা চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী। পরিস্থিতি এখন এমন, মৃতদের দাফনের জায়গা খুঁজে পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন গাজাবাসী। অনেক কবরস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে।

গত শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মৃতদের অনেককে বাগানে দাফন করা হয়েছে। অনেককে আবার তাঁবুর ভেতরে, শরণার্থী শিবিরে, স্কুল ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া এখনও প্রচুর ফিলিস্তিনি নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। তাদেরও মৃত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার ধ্বংসস্তূপে স্বজনের মরদেহ খুঁজে পেতে শুরু করেছেন ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে। সব মিলিয়ে এত মরদেহ ঠাঁই দেওয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না গাজায়।

গাজার ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়াবলিসম্পর্কিত মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০টিরও বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী যেসব এলাকায় এখনও রয়ে গেছে, সেখানে কবরস্থানগুলোতে তারা কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। এতে করে কবরস্থানের সংখ্যা আরও কমে গেছে।

বহু ফিলিস্তিনি বর্তমানে বাস্তুচ্যুত থাকায় আগে যেসব জায়গাকে দাফনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেগুলোও ফাঁকা থাকছে না। এসবের বাইরেও দাফনের সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। একেকটি দাফনের জন্য খরচ হচ্ছে ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার।

আবারও ইসরায়েলি হামলা
এদিকে, এ রকম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেও চলছে ইসরায়েলি হামলা। মধ্য গাজার মাঘাঝি শরণার্থী শিবিরে গতকাল রোববার ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এদিন সকালে সালাহ আল-দিন সড়কের কাছে হামলাটি হয়।

বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে প্রথম উঠে আসে বিষয়টি। পাশাপাশি আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার শহর দেইর এল-বালাহতে আল-হাসানাত পরিবারকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার এক দিন পর এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। আগের দিনের হামলায়ও এক ব্যক্তি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত এক হাজার ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

পশ্চিম তীরে শিশুসহ গ্রেপ্তার ১৩
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত রোববার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক শিশুসহ ১৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো কাণ্ডের মাঝেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আলজাজিরার খবর বলছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গাছ কেটে ফেলা, শস্য নষ্ট করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এমনকি কৃষিকাজের জন্য বসানো সেচের পাইপও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায়। এসবের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিবৃত্ত না করে পশ্চিম তীরের বেথলেহাম, কালকিলা, রামাল্লার মতো জায়গাগুলো থেকে ফিলিস্তিনিদের আটক করেছে।