Home Blog Page 19

বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠন। আজ রোববার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

আবেদনে বলা হয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আয়াস জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানানো হয়।

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়েছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা যায়। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি দেখা গেছে। টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরে যাচ্ছেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

গত শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফোনে সমকালকে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্‌গির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্‌যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মামলাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সর্বোচ্চ ওই বাসভবনটিতে আজ শনিবারই তার শেষদিন। গত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।

ইলিশের বাজার খুলনায় ৫ বছরের মধ্যে সরবরাহ সবচেয়ে কম

বড় ঝুড়িতে কাচের টুকরোর মতো বিছানো রয়েছে বরফ। তার ওপর সাজিয়ে রাখা ইলিশ। লাইটের তীব্র আলোয় ইলিশের মোহনীয়তা আরও বাড়ছে। ঝকঝকে ইলিশ দেখে চোখ চকচক করছিল ব্যাংক কর্মকর্তা রায়হান হাসানের। কিন্তু দাম শুনে মুখটা মিলন হয়ে গেল তাঁর।
বললেন, ‘কয়েক দিন আগে মা বলছিল, এই সিজনে তো ইলিশ কিনলি না। ভেবেছিলাম জুলাইয়ের শেষে দাম কমলে তখন কিনব। বাজারে এসে দেখি দাম আরও বাড়তি। সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে এক কেজি ইলিশ কেনার মতো সামর্থ্য নেই, তাই ফিরে যাচ্ছি।’

গত রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের সান্ধ্য বাজারে কথা হচ্ছিল রায়হান হাসানের সঙ্গে। ইলিশের দোকানগুলোতে তখন ক্রেতাদের ভিড়। বেশির ভাগই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। ভরা মৌসুমেও চড়া দামের কারণে চোখে দেখেই সান্ত্বনা নিতে হচ্ছে মানুষকে।

খুচরা ইলিশ বিক্রেতা হাফিজুল ইসলাম জানালেন, এবার ইলিশ ধরা পড়ছে কম। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ চার হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং জাটকা  বা ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের সবচেয়ে ছোট ইলিশও এক হাজার ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, সরবরাহ না বাড়লে দাম কমবে না।

খুচরা বিক্রেতা হাফিজুলের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেল পাইকারি বাজারে। মঙ্গলবার সকালে নগরীর ৫ নম্বর ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ইলিশ এসেছে মাত্র ১৪৮ কেজি। এর মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ৯৪ হাজার টাকা। প্রতি কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার ৩৫০ টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই ইলিশের সরবরাহ সবচেয়ে কম। ভরা মৌসুমে ১৫ জুলাই পর্যন্ত খুলনায় এসেছে মাত্র ৫৪৪ কেজি ইলিশ। এর আগে ২০২২ সালে ৩৮ হাজার ৫৪৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯৭৬ কেজি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আট হাজার ৩৯১ কেজি এবং ২০২৫ সালে সাত হাজার ৫৩৯ কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে।

পাইকারি মাছের আড়তদার মুসা হোসেন বলেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন না। ইলিশ ধরা পড়ছে কম। তাই দাম বাড়তি। কবে কমবে বলা যাচ্ছে না।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আকবার হোসাইন বলেন, শুধু খুলনায় ইলিশ কম আসছে এমন নয়, পাথরঘাটায় অবস্থিত আমাদের অন্য অবতরণ কেন্দ্রেও ইলিশের আমদানি অনেক কম। এর প্রভাব পাইকারি ও খুচরা সব জায়গায় পড়ছে।

মঙ্গলবার সকালে পাইকারি বাজারেও ইলিশের দরদাম করতে দেখা গেল কয়েকজনকে। তাদেরই একজন টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম। বললেন, ‘প্রতিবছর কয়েকজন বন্ধু মিলে পাইকারি দরে মাছ কিনে নিজেরা ভাগ করে নিই। দাম অনেক কম পড়ে। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, চোখে দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে, স্বাদ নেওয়া হবে না।’

ফেনী সাহেবনগর সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি

ফেনীর পরশুরামের পশ্চিম সাহেবনগর সীমান্ত দিয়ে ৮ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। বিজিবির কড়া প্রতিবাদ ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ তাদের নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়। শনিবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ বাংলাদেশে পুশইনের উদ্দেশ্যে ৮ জনকে সীমান্তসংলগ্ন একটি বাগানে জড়ো করে। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিয়ে সীমান্ত থেকে সরে যায়।

ফেনী-৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, বিজিবির বাধা ও প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ পিছু হটে এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

সম্মেলনে শফিকুর রহমান জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

দলের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাঁকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াতের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।

নেতাদের সাবধান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ ভাসে বেশি। সাবধান, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।
প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশি সংবিধান কচলাবেন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।

ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

জুলাইয়ের চেতনা ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

‎জুলাই এর চেতনা ছাড়া সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই এর চেতনা মানে সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা ও সুশাসন প্রতিষ্টা করা। জুলাইয়ের চেতনা কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাতে ব্যবহার না করতে পারে সেই দিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

‎শনিবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের শিক্ষা হচ্ছে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জুলাইয়ের স্তম্ভ হল— বৈষম্যের অবসান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা বিজয়ীর বেশে থাকবো। আমরা বিজয়ী জাতি। আমরা কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবো না। যারা গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কোনভাবে প্রমোশন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মেজর সিনহা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করা হবে।

‎রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে।

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করল আকিজ এভিয়েশন

বাণিজ্যকভাবে হেলিকপ্টার সেবা চালু করেছে আকিজ এভিয়েশন। কর্পোরেট, ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন ও শিল্প খাত, ব্যক্তিগত যাত্রা এবং চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া দেবে কোম্পানিটি।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আকিজ এভিয়েশনের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা, আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞ পাইলট ও দক্ষ এভিয়েশন টিমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এ সেবা।

কোম্পানিটি আরও জানায়, খুলনা বিভাগের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিনামূল্যে ‘ফ্রি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা’ চালু রয়েছে। আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন তত্ত্বাবধানে এ হেলিকপ্টার সেবা পরিচালনা করছে আকিজ এভিয়েশন।

প্রাথমিকভাবে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে এই সেবা চালু করেছে আকিজ এভিয়েশন। রোগী পরিবহনের জন্য বেল-৫০৫ মডেলের একটি হেলিকপ্টার এবং যাত্রী পরিষেবার জন্য রবিনসন-৬৬ মডেলের ২টি হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে।

৬০ দেশে নতুন মার্কিন শুল্ক, বাংলাদেশের ওপর ১০% ১৪ মাসে ৫ বার শুল্কহার পরিবর্তন

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) নতুন এই শুল্ক আরোপ করেছে। গত বৃহস্পতিবার সে দেশের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক নোটিশে এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ নিয়ে ১৪ মাসে পাঁচবার শুল্কহার পরিবর্তন করল ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ঘোষণার দেশগুলোর ওপর শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের শুল্কহার ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, জর্ডান, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, তাইওয়ান, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর আগে আরোপ করা শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দেশগুলোর চীন ও ভিয়েতনাম রয়েছে।

চীন ও ভিয়েতনামের পণ্যে শুল্কহার বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাণিজ্যনীতি বিশ্লেষক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দেশ দুটি বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শুল্কে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবধানের ফলে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তরের সংস্থা অফিস অব দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ উপাত্ত অনুযায়ী, দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। চীনের অবস্থান তৃতীয়। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত। তবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার পণ্যেও বাংলাদেশের মতোই সমহার অর্থাৎ ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে নতুন শুল্কহার কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে বর্তমানে পণ্যভিত্তিক শুল্ককাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ যেসব পণ্য রপ্তানি করে, সেগুলোর শুল্ক রয়েছে গড়ে ১৬ শতাংশ। এর সঙ্গে দেশভিত্তিক শুল্ককাঠামোয় ১০ শতাংশ মিলে বাংলাদেশের পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ। নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে এই হারে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাক ৮৮ শতাংশ। এই খাতের রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গতকাল সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন শুল্ককাঠামোর কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তিনি প্রতিযোগী দেশের চেয়ে নতুন শুল্ককাঠামোয় আড়াই শতাংশ এগিয়ে থাকার যুক্তি তুলে ধরেন।

একই  রকম যুক্তি দেখিয়েছেন বাণিজ্য নীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান। গতকাল সমকালকে তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক ব্যবধান বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে সে দেশে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা কার্যকর হলে বাংলাদেশের জন্য আরও ভালো হবে। তবে মনে রাখতে হবে, তৈরি পোশাকে ভিয়েতনামের অবকাঠামো, নিজস্ব কাঁচামাল কিংবা চীন থেকে খুব সহজেই যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির সুযোগ রয়েছে– যা তাদের সব সময় বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য প্রবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জেরে গত বছরের এপ্রিল থেকে টালমাটাল হয়ে ওঠে রপ্তানি বাণিজ্য। দফায় দফায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্কহারে পরিবর্তন আনা হয়। এতে প্রধান বাজারে রপ্তানি ধরে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

গত বছরের ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশের পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়, যা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ৯ এপ্রিল। তখন মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫২ শতাংশে। পরে বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। স্থগিতের সময় শেষ হওয়ার আগে গত বছরের ৯ জুলাই বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের ওপর নতুন করে পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এতে শুল্ক কমে ১৯ শতাংশ হওয়ার কথা। তবে গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর সব দেশের পণ্যে আবার ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। দেশটির প্রচলিত আইন ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য শুল্ক আরোপ সুযোগ কাজে লাগানো হয়েছিল– যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত রাতে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কবিন্যাস সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এটি মূলত পুরোনো শুল্কেরই একটি রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন। নতুন কোনো অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়নি। গতকাল শুক্রবার সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

শনিবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনকে কেবল একটি সাধারণ আয়োজন নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম কারিগরদের মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদের অনেকেই নিজ উদ্যোগে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সামিটে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।’

চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সেমিকন্ডাক্টরকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।’

বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যেই গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য অপার সুযোগ বিদ্যমান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আমরা একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে এই খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’

এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন উদ্ভাবন বাস্তবায়নে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রেখেছে, যার বণ্টন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ টানতে শুল্কমুক্ত (বন্ডেড) সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।’

আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে তিনি সামিটে যোগ দিতে আসা দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির অংশীদারত্বে দুই দিনব্যাপী এ সামিটের আয়োজন করা হয়।

সামিটের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬। এতে মোট ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম এবং অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব স্টল ঘুরে দেখেন।

মেয়াদ শেষের আগে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, দেখালেন অসুস্থতা

মেয়াদ পূরণের এক বছর ৯ মাস আগে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন তিনি। তা গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন স্পিকার।

পরে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি (মোঃ সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সব সময়। আমি তাঁর মঙ্গল কামনা করি।’

পদত্যাগের মধ্য দিয়ে মেয়াদপূর্তির আগে দায়িত্ব ছাড়া অষ্টম রাষ্ট্রপতি হলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। এ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ, ভারপ্রাপ্ত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসীন হওয়া ১৮ ব্যক্তির মধ্যে ১০ জনই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। এর মধ্যে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দুজন রাষ্ট্রপতি নিহত হন। আর আটজন রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে পদত্যাগ করেন বা অপসারিত হন।
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামী একে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে যাওয়া বলে আখ্যা দিয়েছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ছাত্র নেতৃত্ব মোঃ সাহাবুদ্দিনের অপসারণ দাবি করেন। এতে সমর্থন দেয় জামায়াতসহ কয়েকটি দল। তবে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা দেখিয়ে বিএনপি এর বিরোধিতা করেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বিএনপি সরকারের প্রতি সমর্থন জানান মোঃ সাহাবুদ্দিন। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে পদে পদে অপমান করেছে। বিএনপির সরকারের সময় ভালো আছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রপতিকে বিদেশ যাওয়া এবং বঙ্গভবন থেকে খুব একটা বের হওয়ার সুযোগ না দিলেও, বিএনপির সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান মোঃ সাহাবুদ্দিন। গত ঈদুল আজহার নামাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল কোলাকুলির ছবিও দেখা যায়।

অবশ্য বিএনপি সূত্র আগেই নিশ্চিত করেছিল, জুলাই নাগাদ বিদায় নিতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় কে বঙ্গভবনে থাকবেন– এ হিসাব করেই সংসদ সংগঠনের পরও কয়েক মাস সময় দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতিকে।

এখন সংবিধান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার। এই সময়ে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

কে হবেন বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবারও দলটির মনোনীত ব্যক্তির পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়া নিশ্চিত।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, তারা তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিগগির এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মোঃ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি নিলেও রাজধানীর শাহবাগসহ কয়েকটি স্থানে গতকালও মিছিল-সমাবেশ হয়েছে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে এক প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা এটিকে (রাষ্ট্রপতি পদ) একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি। আমরা দেখেছি তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করেছেন।’

জুলাই অভ্যুত্থানের আগে সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তিনি যেহেতু স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু সমালোচনা ছিল।’ ‘তবে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংকটের সময়ে রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক পথে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার,’ উল্লেখ করেন তিনি।

সবকিছুই বিধি অনুযায়ী হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে যাতে চিকিৎসার নামে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাহাবুদ্দিনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনের আর আইনগত দায়মুক্তি নেই। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ব্যাংক লুটসহ সব অভিযোগ তদন্ত করে বিচার করতে হবে।

বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। গুলশানে তাঁর নিজ বাসায় প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতি আজীবন পেনশন, চিকিৎসা সুবিধা, প্রটোকল পাবেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মোঃ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

শারীরিক ও মানসিকভাবে অসমর্থ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, তিনি (সাহাবুদ্দিন) গুরুতর অসুস্থ। বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

স্পিকার আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যান। রোগগুলোর প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।

এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা। এর সঙ্গে দেশের ভালো-মন্দও জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ, তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগেরও নাম প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝেমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই পদত্যাগের ফলে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো।’

পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্রে বলেন, ‘আমি মোঃ সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।’

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’
পদত্যাগপত্রের বাকি অংশে নিজের অসুস্থতার বিবরণ তুলে ধরেন সাহাবুদ্দিন। যা পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সংবাদ সম্মেলনে জানান।

লালমোহনে আনন্দ মিছিল
দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নিজ সংসদীয় আসন ভোলার লালমোহনে আনন্দ মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।