Home Blog Page 20

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আলোচনার অর্থ নেই: সিজেপি

ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করা হলে সরকারের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় কোনো অর্থ নেই।

শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনো আপস হবে না। সরকার যদি এ বিষয়ে রাজি না হয়, তাহলে আর আলোচনার কোনো অর্থ নেই।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফা আলোচনা হবে। এর আগে সরকার সিজেপির উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবে।

সিজেপির পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

শুক্রবারের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের দুটি দাবির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এগুলো হলো, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।

বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তিনটি মূল দাবি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারসংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে শনিবারের বৈঠকে তাদের অবস্থান জানাবে।

তবে সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের সম্ভাবনা নেই। সরকারের অবস্থান হলো, পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত হতে পারে, কিন্তু তারা শিক্ষামন্ত্রীর পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে গত দুই দিনে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত আইনে সংশোধন এনে আরও কঠোর শাস্তি ও বেশি জরিমানার বিধান যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা সচিবকে পরিবর্তন করেছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-এর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে। সংস্থাটির কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তাকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হলেও অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেছেন সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। তবে মূল দায় শিক্ষামন্ত্রীরই, কারণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর জেরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনিই দায়ী। তাই তাঁর পদত্যাগ করতেই হবে।

মধ্যরাতে মোদির ভিডিও বার্তা, কী বললেন বিক্ষোভকারীদের আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে দুপুরে

প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের পর শুক্রবার মধ্যরাতে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও বার্তায় সাড়া দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলার আশ্বাসও দিয়েছেন।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, তার বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইতিবাচক সাড়া তাকে আনন্দিত করেছে। মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।

ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ।’ এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাসের চেষ্টা করা হবে।

এর আগে একই দিন প্রকাশিত আরেক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’

তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এ দিন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলটির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকার আমাদের কাছে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করি, শিগগির শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হবে অথবা তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন।’

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ দমনে পুলিশের অভিযানের কয়েক দিন পর কেন্দ্র সরকার বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশিকে বদলি এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা থেকে ৪৭ জন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা। এসব পদক্ষেপের পরও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রশ্নে অনড় রয়েছেন। শুক্রবার সিজেপি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে একটি দাবিদাওয়া তুলে ধরে, যার মধ্যে ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন থাকায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

গোলাম পরওয়ার বললেন জুলাই আদেশ না মানলে সরকার সংসদ অবৈধ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটের রায় মানছেন না। কারণ গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ মানলে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট বাতিল হবে। এই আদেশ না মানলে সরকার ও সংসদ অবৈধ।

গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ: উত্তরণে আইনজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বলেছেন গোলাম পরওয়ার। আইনজীবী ঐক্য পরিষদ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির নোট অব ডিসেন্টের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রধান সংস্কারগুলোই হবে না। তাই বিএনপি ধোঁকা দিচ্ছে।
ল ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল জেল-জুলুমের শিকার ছিলেন। সংস্কার ছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের তৈরি সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, যারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছে, তাদের কাউকে গণঅভ্যুত্থানের সময় খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি অবৈধ বললেও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তপশিল ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রান্তিকাল।
সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন।

জামায়াত থেকে বহিষ্কার গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কিনা এই প্রশ্ন উঠেছে। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় অতীতে কারো এমপি পদ বাতিলের নজির নেই। তবে গণপ্রতিনিধি আদেশ-১৯৭২ এর ১২(খ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমপি নির্বাচিত হতে বা পদে থাকতে পারবেন না, যদি তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত না হন অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।

২০০৮ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে গণপ্রতিনিধি আদেশে। তবে এই বিধান কার্যকরের পর ২০১২ সালে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হলেও বিষয়টি নিষ্পত্তিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি না দেওয়ায় তার পদ বাতিল হয়নি।

তবে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলে এই আইনে ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে গেলে, শুনানির আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(খ) অনুযায়ী, কোনো এমপি দল থেকে বহিষ্কার হলে পদ বাতিল হবে কিনা এ সংক্রান্ত নজির নেই।

২০১৪ সালে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিক এমপি পদ বাতিলে ওই বছরই স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। শুনানি করে নিষ্পত্তি করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন তৎকালীন স্পিকার ডা. শিরীন শারমিন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ হাইকোর্টে যান লতিফ সিদ্দিকী। তবে হাইকোর্টের পর আপিল বিভাগও রিট খারিজ করেন।

২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে শুনানি শুরু হয়। ওই শুনানিতে আওয়ামী লীগকে প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার। তিনি সমকালকে বলেন, দলের মনোনীত প্রার্থী বহিষ্কার হলে এমপি পদে থাকতে পারেন না। কারণ আইন অনুযায়ী এমপি দুইরকম- দলীয় এবং স্বতন্ত্র। দল বহিষ্কার করলেও সেই এমপি স্বতন্ত্র হয়ে যান না। ফলে দলে না থাকলে এমপি পদ থাকবে না।

রিয়াজুল কবীর সমকালকে জানান, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট প্রথম দিনের শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকী সময় প্রার্থনা করেন। পরে তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন। ফলে কোনো রায় বা আদেশ আসেনি।

সংবিধান কী বলে
দল কোনো এমপিকে বহিষ্কার করলে কী হবে তা সংবিধানে বলা নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো এমপি যে দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে এমপি পদ বাতিল হবে। ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপির নৈতিক স্খলনের কারণে দুই বছরের বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ড হলে এমপি পদ বাতিল হবে। সাজার মেয়াদ শেষে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত এমপি হতে পারবেন না।

জামায়াত নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করেছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কোনো আদালতের নয় বা গাজী নজরুলের জেল হয়নি। ফলে ৬৬ অনুচ্ছেদ তার জন্য প্রযোজ্য নয়। তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেননি বা দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। ফলে এই অনুচ্ছেদেও প্রযোজ্য নয়।

আগের কী নজির
২০২১ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হলেও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ ছিল সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের। তার পদ বাতিলে স্পিকারকে চিঠি দেয়নি আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো এমপির আসন শূন্য হবে কিনা, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

সংসদ সদস্য আইন-১৯৮০ এর ৩ ধার অনুযায়ী, বিরোধ সৃষ্টির ৩০ দিনের মধ্যে স্পিকার বিরোধের বিবরণ প্রস্তুত করে শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনকে পাঠাবেন। জামায়াত নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

কীভাবে নির্বাচন কমিশন শুনানি করবে তা বলা রয়েছে আইনে। কমিশনকে এই আইনে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

১৯৯৮ সালে বিএনপির দুই এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন এবং আলাউদ্দিন আহমদ নিজ দলে থেকে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। স্পিকার একে ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে গণ্য না করলেও, আদালত একে দল ত্যাগ হিসেবে গণ্য করে ওই দুই এমপির পদ বাতিল করেন। বিএনপির এমপি আবু হেনা ২০০৪ সালে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তৎকালীন স্পিকার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার তার পদ বহাল রাখেন। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের আগে এই ঘটনা ঘটেছিল।

জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় এমপি পদ থাকবে না গাজী নজরুলের।

বর্ষায় পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপকারী ৬ পানীয়

বর্ষাকালে অনেকেই নানারকম পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ সময় পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। এমন কিছু পানীয় আছে যা এ সময়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেমন-

ঘোল : ঘোলে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকায় অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হজমে সাহায্য করে।

বিটের রস : বিটে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
ধনে ভেজানো পানি :প্রতিদিন ধনে ভেজানো পানি পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয়। এই পানি পানে পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

আদা চা : প্রতিদিন আদা চা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত এই চা খেলে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমে। এই চা অন্ত্র সুস্থ রাখে।

হলুদ মেশানো দুধ : হলুদে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ খেলে হজমশক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

মজুরি বৃদ্ধি ও নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, কুরমা চা বাগানের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চা শ্রমিকরা।

গতকাল বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে সাধারণ চা শ্রমিক, ছাত্র ও যুবকদের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও তা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করা হয়, যা চা শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাই অবিলম্বে দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের টানা চার সপ্তাহের মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা অবিলম্বে চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও শ্রমিকদের সব আইনসিদ্ধ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে দাবি জানানো হয়, শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এতে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক এবং শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর, সুজিত পাশা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, চা শিল্পের মূল চালিকা শক্তি চা শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর ও সব পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আবার ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালালে সেটির জবাবে ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, এখন থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো উপায়ে হামলা চালালে, দেশটির সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এগুলোর মধ্যে রাজধানী তেহরানের কাছাকাছি বা তেহরানের ভেতরে অবস্থিত স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’ গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের সেতু এবং বিদ্যুৎকন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এছাড়া, এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি শুরুর আগেও তিনি একাধিকবার বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন।

ইরান ইতোমধ্যেই তাদের সেতু, রেল সংযোগ, পানি পরিশোধন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার অভিযোগ তুলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ভারতে ছড়িয়ে পড়ছে তরুণদের আন্দোলন, চাপে মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের আশ্বাস দিলে অনশন ভাঙবেন ওয়াংচুক

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলন এবার দিল্লি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে চলমান এই বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট কোনো পরিচয়ের গণ্ডিতে আটকে না থেকে, শ্রেণি-ধর্ম-অঞ্চল নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আন্দোলন এক সর্বভারতীয় রূপ নিচ্ছে।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির পাশাপাশি গতকাল বুধবার মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু, বিহারের পাটনা এবং মিজোরামেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। পাটনায় শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করেছে। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা দিল্লির যন্তর মন্তর আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের সমর্থনে মাঠে নেমেছে। গত মঙ্গলবার রাতে আটক এবং পরে ছাড়া পাওয়ার পর গতকাল সংসদে কালো পোশাক পরে আসেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।

সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে রাহুল বলেন, ‘বিগত এক দশকে ১৫৪টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটিতেও শাস্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’ তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে গড়ে ওঠা দলটি কোনো মন্ত্রীর কার্যালয়ে বা বাসভবনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা কোনো মন্ত্রীর কার্যালয় বা বাসভবনে যাব না। যন্তর মন্তরের মতো কোনো নিরপেক্ষ স্থানে এই আলোচনা হতে হবে।’

এদিকে, আন্দোলনকারী অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক চিঠিতে জানান, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতির মুচলেকা দিলে তিনি অনশন ভাঙবেন।

পুলিশের মারধরের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছে। আদালত কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের জবাব চেয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

রাজনৈতিক চাপে মোদি 
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটিই তাঁর প্রশাসনের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় ও ব্যতিক্রমী যুব আন্দোলন। মোদি সরকার এর আগে যেসব বড় আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছিল, সেগুলোকে নির্দিষ্ট একটি পরিচয়ে চিহ্নিত করা গেছে।

কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বকেন্দ্রিক এই লড়াই দেশের দুই কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের অস্তিত্বের সঙ্গে যুক্ত। এ আন্দোলন জাত, ধর্ম, অঞ্চল বা ভাষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলঞ্জন মুখোপাধ্যায় এএফপিকে বলেন, ‘সরকার এই আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর আন্দোলন বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। আবার শিক্ষামন্ত্রীকে এখনই সরিয়ে দিলে সরকার নতিস্বীকার করেছে বলে মনে হবে, যা মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’

যন্তর মন্তরে ‘ককরোচদের’ লড়াই
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আটক ও নির্যাতনের পরও শিক্ষার্থীরা ভয় না পেয়ে যন্তর মন্তরে ফিরে আসছেন। ১৯ বছর বয়সী আন্দোলনকারী পূজা কুশি বলেন, ‘সরকার আমাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।’

আরেক আন্দোলনকারী সীমা যাদব জানান, ২০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে আলাদা করে এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তবুও কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে তারা সরাসরি আবার আন্দোলনের ময়দানে ফিরে এসেছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যের পর রূপক হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেছিলেন। এই তেলাপোকা রূপকটি ভারতীয় যুবসমাজের টিকে থাকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ঘোষণা ছাড়া ২০ হাজার ডলার আনতে পারবেন ফ্রিল্যান্সাররা

ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেশে আনা যাবে। প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারবেন ফ্রিল্যান্সাররা। দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা খাতকে সহায়তা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ইমেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেন সহজ করতে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। একই সঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের (ওপিজিএসপি) মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড ইস্যুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ব্যবহার সম্প্রসারণ করেছে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআকিউ) হিসাবে বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারেন। এখান থেকে দেশের বাইরে পরিশোধ করতে পারেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অধিক নমনীয়তা প্রদান করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এই পদক্ষেপটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী। এটি ডিজিটাল বাণিজ্য ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিটিএমএ নেতাদের বৈঠক গ্যাস-বিদ্যুতে বিশেষ ব্যবস্থা চায় বস্ত্র ও পোশাক খাত দুই খাতের সমস্যা সমাধানে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের সুরক্ষা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ ব্যবস্থা চেয়েছেন এ দুই খাতের উদ্যোক্তারা। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা এ দাবি তুলে ধরেন। বস্ত্র ও পোশাক খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে পোশাকশিল্পের স্বার্থে কাস্টমস বন্ড সুবিধা সহজ করা, বিমানবন্দরে স্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণসহ আরও বেশ কিছু দাবি জানান বিজিএমইএ নেতারা। রপ্তানিমুখী শিল্পের যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে দ্রুত একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর অনুরোধও করেন তারা।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। উপস্থিত ছিলেন প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী প্রমুখ।

বৈঠকে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানান বিজিএমইএ নেতারা। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তারা। বিজিএমইএ নেতারা রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর জোর দাবি জানান।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজ করা, বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

তৈরি পোশাকশিল্পের সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

বস্ত্র খাতের সংকট নিরসনে পৃথক কমিটি 
গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর নেতারা। তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কাস্টমসসহ অন্যান্য সরকারি সেবা দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস ম্যাকানিজম’ চালুর দাবি তুলে ধরেন।

সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বিটিএমএ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, বর্তমান সহসভাপতি শামীম ইসলাম, পরিচালক বাদশা মিয়া, চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব, সৈয়দ এনায়েত কবীর, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার ও হেলাল মিয়া প্রমুখ। বিটিএমএর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের জন্য সমন্বিত শুল্ক-কর কাঠামো, আর্থিক সহায়তা এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। তারা রপ্তানিমুখী প্রাথমিক বস্ত্রশিল্পের বিদ্যমান ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ, সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নে সহজ প্রক্রিয়া গ্রহণ, বন্ধ বা আংশিক বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি-সংক্রান্ত শিথিলতা প্রদান এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে মূলধনি সহায়তা ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র খাতের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। কমিটিতে বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থাকবেন। কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সভা করবে।

আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধি দল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উলম্ব নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, সহসভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ ও ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার।