Home Blog Page 2

ইউএস ওপেনের ফাইনালে জেরেভ

ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে রাশিয়ার কারেন খাচানভকে সরাসরি সেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন জার্মানির আলেকজান্ডার জেরেভ। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ১৫ মিনিটে শুরু হয়। দারুণ এই জয়ের মাধ্যমে জেরেভ তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং এই বছরের টানা তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পা রাখলেন জেরেভ।

বাংলাদেশ সময় সোমবার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে দুই মার্কিনি বেন শেলটন অথবা ফ্রান্সেস টিয়াফোর মধ্যকার যেকোনো একজনের মুখোমুখি হবেন তিনি। বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৫টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বেন শেলটন এবং টিয়াফো।

এ দিন ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখানো জেরেভ ৬-৩, ৭-৬ (৯-৭), ৭-৬ (৮-৬) গেমে খাচানভকে পরাজিত করেন। পুরো ম্যাচে জেরেভ যেখানে ১৫টি অ্যাস করেছেন, সেখানে খাচানভের অ্যাস ছিল ৬টি। প্রথম সার্ভের ক্ষেত্রে খাচানভ ৭৪ শতাংশ সাফল্য দেখালেও জেরেভের ছিল ৬৮ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় সার্ভে পয়েন্ট জয়ের ক্ষেত্রে ৭২ শতাংশ সাফল্য দেখিয়ে এগিয়ে ছিলেন জেরেভ, বিপরীতে খাচানভের এই হার ছিল ৫৭ শতাংশ।

ব্রেক পয়েন্টের ক্ষেত্রে জেরেভ ৩টি সুযোগ পেয়ে ২টিতে সফল হয়েছেন, আর খাচানভ ২টির মধ্যে মাত্র ১টি কাজে লাগাতে পেরেছেন। এছাড়া ডাবল ফল্টের ক্ষেত্রে জেরেভ ৬টি এবং খাচানভ ৩টি ভুল করেছেন।

এর আগে, ২০২০ সালে ইউএস ওপেনের ফাইনালে স্থান করে নিয়েছিলেন জেরেভ। তবে ফাইনালে অস্ট্রিয়ার ডমিনিক থিমের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হন তিনি।

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ

ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে শুক্রবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি বন্ধের ঘোষণা দেয় রিয়াদ।

ইরাক স্বীকার করেছে, প্রতিবেশী সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে চালানো ড্রোন হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশ থেকে শুরু হয়েছিল। এ ঘটনায় ইরাকের একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দিয়ে আসছিল। জাহাজ ট্র্যাকিংকারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবাহিত হতো।

ঘটনার আগে ওই পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকায় পুড়ে যাওয়া মাটি ও ধোঁয়ার উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ পায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হামলা প্রতিরোধে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকেও সৌদি আরব সমর্থন করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান-সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশের অপারেশনস কমান্ডারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকেই ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, ‘এই হামলা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করেছে; পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন।’

এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অগ্রগতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সপ্তম মাসে গড়ানোর সময় এ হামলা বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের রুটগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এই সপ্তাহে ইয়েমেনে দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির উপকূলরেখার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ‘বাব আল-মানদাব প্রণালী’ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, ‘সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য’ সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদ।

আরব উপদ্বীপের উভয় প্রান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির চাপে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

দুই কিলোমিটারে তিন বাজার, দামের ফারাক ৩০ টাকা

রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ৮০ থেকে ৯০ টাকা; উচ্ছে ও ঝিঙা ৯০ আর পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠালবাগান কাঁচাবাজারেও প্রায় একই দামে বিক্রি হয় সবজিগুলো।

এই দুই বাজার থেকে দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দূরে কারওয়ান বাজার। সেখানে এসব সবজি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজার তিনটি ঘুরে দামের এমন ফারাক দেখা গেল।

ব্যবসায়ীরা জানান, কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে কিনে তার সঙ্গে পরিবহন, দোকান ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ যোগ করে অন্য বাজারে দাম নির্ধারণ করেন বিক্রেতা। হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানের বিক্রেতারা জানান, তারা কারওয়ান বাজার থেকে বাছাই করা সবজি কিনে নিয়ে আসেন। সে জন্যও দাম বেশি দিতে হয়।

হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানে সবজির দর
গত বুধবার হাতিরপুল বাজারে প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০, বরবটি ১০০ থেকে ১২০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, আলু ৩০ এবং কাঁচামরিচ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও দর মোটামুটি একই ছিল।

গত দুদিন কাঁঠালবাগানেও সবজির দাম প্রায় অভিন্ন ছিল। যদিও দু-একটির দামে পাঁচ-দশ টাকা তারতম্য ছিল। যেমন– কাঁঠালবাগানে ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও ১০ টাকা বেশি হাতিরপুলে।

একই সবজি কারওয়ান বাজারে কত
গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁকরোল ৫৫ থেকে ৬০, উচ্ছে ও ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ এবং পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ৯০, গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০, ঢ্যাঁড়শ ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ৮০ থেকে ৯০, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২৫ এবং কাঁচামরিচ মানভেদে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ কারওয়ান বাজারের চেয়ে হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানে প্রতি কেজি সবজির দর সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি।

দামের ফারাক এত বেশি কেন 
কারওয়ান বাজার থেকে কাঁঠালবাগান বাজারের দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার আর হাতিরপুল দুই কিলোমিটার। এই স্বল্প দূরত্বে দামে ফারাক এত বেশি কেন– এ প্রশ্নের জবাবে হাতিরপুল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, কারওয়ান বাজার থেকে হাতিরপুলে সবজি আনতে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলে তাঁর অতিরিক্ত খরচ এক থেকে দেড় হাজার টাকা। এক কেজির কচুরলতির আঁটি দেখিয়ে তিনি বলেন, এই লতি কিনতে হয়েছে কেজি ৮০ টাকা দরে। রং নষ্ট ও কিছুটা পচে যাওয়ার কারণে এখন কেউ ৪০ টাকায়ও নিতে চায় না। এভাবে প্রতিদিনই অবিক্রীত সবজি পচে যায়। সেগুলোর ফেলে দিতে হয়। তাঁর দাবি, ওই এলাকার প্রায় সব ক্রেতা তরতাজা ও ভালো মানের সবজি কিনতে চান।

দোকান ভাড়াও সবজির দামে প্রভাব রাখে উল্লেখ করে হেলাল উদ্দিন বলেন, তাঁর তিন বাই পাঁচ ফুটের দোকানের ভাড়া প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা। ছেলেকে নিয়ে দোকান চালান। তাদের খরচ হিসাব করলে খুব বেশি লাভ থাকে না।

কাঁঠালবাগানের সবজি ব্যবসায়ী মো. সজীব জানান, কারওয়ান বাজার থেকে সবজি নিতে হলে ভ্যান ভাড়া, সবজি কেনার পর যেখানে রাখায় হয় সেই ফুটপাতের ভাড়া, কুলি খরচ ইত্যাদি মিলিয়ে তাঁর এক হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। এই টাকা সবজি বিক্রি করে তুলতে হয়।

একই বাজারের মো. রকির দাবি, কারওয়ান বাজার থেকে বেশি দরে কিনে কমে বিক্রির সুযোগ নেই। তাঁর মতে, কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে পাইকারি দরে কিনে একই বাজারে খুচরায় বিক্রি করেন। তাদের পরিবহন খরচ নেই। তাই তারা কিছুটা কম দামে বেচতে পারেন।
তবে চাঁদাবাজির প্রতি ইঙ্গিত করে কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, তারা কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনলেও তাদের অঘোষিত কিছু খরচ আছে। তার পরও তারা কম দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন।

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে ট্রাকে সবজি এনে ঢাকায় পাইকারি বিক্রি করেন ব্যাপারী নুর হোসেন। তিনি সমকালকে বলেন, সাধারণত দূরের বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা রাতের প্রথম ভাগে সবজি কেনেন। তখন সবজিগুলো তাজা থাকে। দামও কিছুটা বেশি থাকে। কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা সকালের দিকে সবজি কেনেন। এ কারণে কিছুটা কম দামে কিনতে পারেন। তবে কারওয়ান বাজারের সঙ্গে হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগানের সবজির দামে ২০-৩০ টাকা ব্যবধান অনেক বেশি বলে মনে করেন তিনি।

ডিম ও মুরগির দাম বাড়তি
এক-দেড় মাস সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উল্লিখিত তিন বাজারেই প্রোটিনজাতীয় খাদ্যপণ্য দুটির দাম প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। পাশাপাশি মাছের বাজারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। রুই-কাতলা, পাঙাশ ও চাষের কই কেজিতে এক মাসের ব্যবধানে ২০ টাকার মতো দর বেড়েছে।

রুটি-বিস্কুটের দাম বাড়ছে ২০ শতাংশ
মাসখানেক ধরে আটা-ময়দা ও তেল-চিনির দাম বাড়তি। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাসে ময়দার ১১ ও চিনির ৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দর বেড়েছে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ। এসব পণ্যের দাম বাড়ার কারণে বেকারি পণ্যের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হস্তচালিত বেকারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।

বেকারি মালিকরা জানান, আগামীকাল শনিবার থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়বে। কিছু ক্ষেত্রে দাম না বাড়িয়ে পণ্যের ওজন কমিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ ১০ টাকার রুটি বা বিস্কুটের দাম ১০ টাকাই থাকবে। কিন্তু যেটা আগে ৩০০ গ্রাম ছিল, সেটা হয়তো ২৫০ গ্রাম বা ২২০ গ্রাম হতে পারে।

সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, গত ছয় মাসে আড়াই হাজার টাকার ময়দার বস্তা তিন হাজার ২০০ টাকা, ২৫-২৬ হাজার টাকার তেলের ড্রাম ৩৫-৩৬ হাজার হয়ে গেছে। চিনির বস্তা পাঁচ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এই তিন কাঁচামাল দিয়েই বেকারির বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি তৈরি হয়। বেকারি মালিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দাম সমন্বয় না করে উপায় নেই।
তিনি বলেন, কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে ১০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। এভাবে চলতে থাকলে ছয় মাসের মধ্যে বেকারি খাত ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি: জামায়াত আমির

জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।

শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকালে ডা. শফিকুর রহমান মানিকপোটল গ্রামের আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, জলাবদ্ধ অর্ধলাখ মানুষ দৌলতপুরে দুর্ভোগে ৫০ হাজার মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এর ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলাখ মানুষ। এর মধ্যে নদীভাঙনের খবর আসছে। ফলে একদিকে পানি বাড়ার আতঙ্ক, অন্যদিকে বসতভিটা হারানোর ভয়– দুদিক থেকেই চাপে তীরবর্তী বাসিন্দারা।

দৌলতপুর উপজেলার কোথাও হাঁটু, কোথাও তারও বেশি পানি। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে হলে ভরসা নৌকা। ঘরের গৃহপালিত পশুগুলোকে নিয়ে কেউ উঠেছেন উঁচু জায়গায়, কেউবা ঘরের বারান্দা কিংবা মাচায় আশ্রয় দিয়েছেন। বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষ। দুই ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। রোগী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পড়তে হচ্ছে বেশি বিপাকে। ঘর থেকে বের হওয়া, বাজার করা কিংবা প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সংগ্রহ– সবকিছুতেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠও। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকার ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। উপজেলা কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ২ মিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। উপজেলার ভাগজত পয়েন্টেও দ্রুত বাড়ছে পানি। পানি বাড়লে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ইউএনও অনিন্দ্য গুহ জানান, ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শিবগঞ্জে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের দুই হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীতীরবর্তী সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও নারায়ণপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায় পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ধানের জমি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির ধান, পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, পানি ঢুকে পড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ।
মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। তবে পাউবো বলছে, জেলার তিন নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম বলেন, শনিবার (আজ) পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এর পর পানি নামার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৭৯ মিটার নিচ দিয়ে বইছে পদ্মার পানি। মিডিলচর, চরক্ষিদিরপুর, খানপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পানি উঠছে।

ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরের ১১ দিনে আগস্টের চেয়ে বেশি মৃত্যু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। আগস্টে এডিস মশাবাহিত এই রোগে মারা গিয়েছিল ৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গুতে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৭৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দুই সিটি করপোরেশনসহ এ বিভাগে মারা গেছেন ৭২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ২৪৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনায় ৬০, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ ও বরিশালে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ২২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৮৮ জন। এ নিয়ে এ বছর মোট ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ফরিদপুরে প্রকোপ বাড়ছে
সমকালের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাবে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ বছর ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় জেলার প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

সামনে আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথমদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ থেকে অভিযান
বাসস জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমির বললেন জাতির কাঁধে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে

জাতির কাঁধে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি জাতির নিজস্ব সক্রিয় সংস্কৃতি থাকে। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির লালন এবং ধারণ থেকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। সাংস্কৃতিক অধঃপতনে সমাজে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, যার কাছ থেকে শিখব, তাঁকে সম্মান করব। কিন্তু এখন আমাদের সংস্কৃতি কী শিক্ষা দিচ্ছে? কলেজের অধ্যক্ষ যিনি, তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলা! এই দৃশ্য অপসংস্কৃতির প্রভাব। সন্তানদের মানুষ বানাতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন– জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

শিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’
১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ-২০২৬’ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংগঠনটির আয়োজনে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। ছিলেন আল্লামা কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদিন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম প্রমুখ।

রাজনীতিতে ভালো ও সৎ মানুষের আসা প্রয়োজন সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যদি ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা যে স্বপ্নের কথাই বলি না কেন, তা টেকসই হবে না।

গতকাল শুক্রবার সংসদ ভবনে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখন আমরা এমন একটা জায়গায় চলে আসছি, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট যদি আনতে হয়, তাহলে ভালো মানুষদের নেতৃত্বে আসতে হবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে চায় না।
মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপাদান থাকলেও ভালো বাবুর্চি না থাকলে যেমন ভালো খাবার পাওয়া যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বরিশালের ঐতিহ্য অতুলনীয়। ফুটবল থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রেখেছেন।

গুদামে সার আছে, তবুও কৃষক পাচ্ছেন না

সরকারের দাবি, গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। যা দিয়ে আগামী কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব। একই সঙ্গে আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তারপরও প্রয়োজনের সময়ে সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও ডিলারের গুদামে সার না থাকার কথা বলা হলেও পরে সেই সার অন্যত্র বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন। কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছে, ডিলারের গুদামের দরজা ও বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারের দাবিতে অন্তত ১৫টি পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হয়ে সার উত্তোলন ও বিতরণে অসহযোগিতা করেছেন। আবার মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে, ডিলারদের একাংশের নিয়ন্ত্রণ, খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি এবং স্থানীয়ভাবে সার আটকে রাখার কারণে কৃষকের কাছে প্রয়োজনের সময় সার পৌঁছাচ্ছে না।

এক মাসে যত বিক্ষোভ
১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার কৃষক। ১২ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সার সংকটের প্রতিবাদে রহনপুর ইউনিয়নের শত শত কৃষক উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করেন।

২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও না পেয়ে কৃষকরা এক ডিলারের গুদামে ঢুকে সার নিয়ে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ওই ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল; এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

৩০ আগস্ট দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে সার নিয়ে সিন্ডিকেট দূর করা, প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ ও সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন হয়। ৩১ আগস্ট রংপুরের মিঠাপুকুরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সংকটের স্থায়ী সমাধান ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন হয়। একই দিন রংপুর নগরীর খামার মোড়েও সার নিয়ে কর্মসূচি হয়।
২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট বাজারে সার না পাওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। ৫ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জে রাসায়নিক সার না পেয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। পরদিন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে প্রায় ২০০ কৃষক সার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ডিলারের লোকজন সময়মতো না আসায় কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন।

৭ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীর বন্দবেড় বাজারে সার নিতে ভোর থেকে অপেক্ষা করেন কৃষকরা। বিতরণে দেরি হওয়ায় গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ডিলারের দাবি, প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই দিন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেন এবং এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই দিন রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে প্রায় ৩০০ কৃষক পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারের কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। লালমনিরহাটেও একই দিনে সার সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা।

কৃষকের হাতে নেই কেন
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১২ লাখ ২২ হাজার টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া চার লাখ ২৭ হাজার, ডিএপি তিন লাখ ৩২ হাজার, এমওপি এক লাখ ১৭ হাজার এবং টিএসপি তিন লাখ ৫২ হাজার টন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সারের চাহিদা ও সম্ভাব্য সরবরাহের হিসাবও করেছে মন্ত্রণালয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার ধরনের সারের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ২৯ হাজার টন। বিপরীতে সম্ভাব্য সরবরাহ ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৪২ হাজার টন বেশি সার সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে ইউরিয়ার চাহিদা ১৭ লাখ ২২ হাজার টন, বিপরীতে সরবরাহের সম্ভাবনা ২০ লাখ সাত হাজার টন। ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৩ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টন। এমওপির চাহিদা ছয় লাখ ৬৯ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১০ লাখ ৮২ হাজার এবং টিএসপির চাহিদা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ৯ লাখ ৩২ হাজার টন। বর্তমানে আমদানি করা প্রায় চার লাখ ৫৯ হাজার টন সার পরিবহনাধীন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে আমদানি ও বেসরকারি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আরও ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টন।
কৃষকরা বলছেন, সরকার সংকট নেই বলে জানালেও প্রয়োজনের সময় ডিলারের দোকানে সার পাওয়া যায় না।

সার বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আগের ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একজন প্রধান ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ হতো। সেই ডিলারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা সার নিয়ে কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ফলে একটি এলাকায় সার সরবরাহের ওপর অল্প কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।

বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সম্পর্কিত ডিলারদের নিয়েও একটি আলাদা কাঠামো ছিল। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।

বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নতুন ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা করেছে। নতুন ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একাধিক ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে আগের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে– এমনটাই সরকারের লক্ষ্য।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব। পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন ব্যবস্থায় তাদের একচেটিয়া ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাজারে ঢোকার সুযোগ পাওয়ায় পুরোনোদের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে দেরি হওয়া এবং পুরোনো ডিলারদের একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে কয়েকটি জেলায় বরাদ্দ করা সার পুরোপুরি উত্তোলন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে জুলাই ও আগস্টে কয়েকটি জেলার ডিলারদের বরাদ্দের তুলনায় কম সার উত্তোলনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সূত্রটির দাবি।
এই বিষয়ে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কুড়িগ্রাম অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার ডিলার বলেছেন, প্রভাবশালী একটি মহল সার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে। গুদামে সার আসার পর নির্দিষ্ট সংখ্যক বস্তা ওই মহলকে দিতে হয়। পরে তারা বেশি দামে সার বিক্রি করে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি সার দেওয়া হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তিনি জানান, নতুন বা যেসব খুচরা বিক্রেতা এখনও পুরোপুরি কার্যক্রমে আসেননি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদেরও কিছু পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সার আনার চেষ্টা চলছে। এর পরও স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা থেকে যাচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান মনে করেন, গুদামে সার থাকা আর কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো এক বিষয় নয়। সরকার যদি বলে মজুত আছে, তাহলে বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কোথায়– তা চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, সার বিতরণের প্রতিটি ধাপ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক যদি ডিলারের গুদাম থেকে সার না পেয়ে পরে খোলাবাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন, তাহলে শুধু জাতীয় মজুতের হিসাব দিয়ে সংকটের দায় এড়ানো যায় না।

২০৪ মোবাইল কোর্ট, উদ্ধার ১৭০০ বস্তা
সার নিয়ে চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে সারাদেশে ২০৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লুট হওয়া প্রায় এক হাজার ৭০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনকে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৬৪ জেলায় একজন করে মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণ ও উত্তরণের উপায় খতিয়ে দেখতে দুজন যুগ্ম সচিব ও দুজন উপসচিবের সমন্বয়ে চার সদস্যের তদারকি কমিটি করা হয়েছে। সব জেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও করা হয়েছে, যেখানে সারসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, অনিয়মে অভিযুক্ত ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে এবং নীতিমালা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি সচিব মো. সেলিম খান সমকালকে বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সম্প্রতি সারের সংকট নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসৎ ডিলারসহ একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে সরকার কৃষকদের চাহিদা নিরূপণ করে প্রতিটি জেলায় সার সরবরাহ করেছে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যাপ্ত সার থাকবে। মজুত ও আমদানি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই; সমস্যা তৈরি করছে পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ।