Home Blog Page 2

আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ, তদন্ত প্রতিবেদন

নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। কেন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলেনি, তা অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি এ সিদ্ধান্তের জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে দায়ী করেছে।

মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্চে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত সচিব কে এম অলিউল্ল্যাকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন ও আইনজীবী ফয়সাল দস্তগীর।

দীর্ঘ কয়েক মাসের তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফয়সাল বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তারা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না যাওয়ার জন্য তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং সে সময়ের সরকারকে দায়ী করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত ছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে ক্রিকেটার, বিসিবি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজনের সাক্ষাৎকার যুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস, টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল এবং বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।

যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেদুয়ানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।

তবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সেই সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাক্ষাৎকার নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

কোন আকৃতির ইলিশ বেশি স্বাদের হয়

অনন্য স্বাদ ও গন্ধের কারণে ইলিশের আলাদা ক্যাতি রয়েছে । ভাজি, ঝোল, সিদ্ধ- সব রকমভাবেই এ মাছটি খেতে ভালো লাগে। তবে সাগরের লোনাপানির চেয়ে মিঠাপানির ইলিশ বেশি সুস্বাদু। অনেক সময় বেশি টাকা দিয়ে বাজার থেকে বড় ইলিশ আনার পর মাছের স্বাদ বা গন্ধ পাওয়া যায় না। তখন হতাশ হতে হয়। শুধুমাত্র‘পদ্মার ইলিশ’ কিংবা বেশি দাম কিনলেই ইলিশের স্বাদ ভালো হবে- এমন কোনো কথা নেই। বরং ইলিশ কেনার গোপন কৌশল লুকিয়ে রয়েছে মাছটির ওজন এবং শারীরিক গড়নে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ছোট কিংবা অতিমাত্রায় বিশাল আকৃতির ইলিশ কখনওই স্বাদের বিচারে সেরা হয় না। বরং ভালো স্বাদে-গন্ধের ইলিশ চাইলে ১ কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ কেনাই সবচেয়ে আদর্শ। গবেষকদের মতে, এই আকৃতির মাছের শরীরে প্রাকৃতিক চর্বি ও তেলের ভারসাম্য একদম নিখুঁত থাকে। রান্নার সময় এই চর্বি গলেই মাছটা অত্যন্ত তুলতুলে, নরম ও সুস্বাদু করে তোলে। অন্যদিকে আড়াই-তিন কেজি বা তারও বেশি ওজনের বড় ইলিশে অনেক সময় আঁশটে বা অতিরিক্ত শক্ত হয়ে পড়ে, এর ফলে ইলিশের আসল স্বাদ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

হরমুজে ইরান, বাব আল-মান্দেবে হুতি যুদ্ধের জের দুই প্রণালিতে, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বে

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ও হামলা, অন্যদিকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বাব আল-মান্দেব হুতি গোষ্ঠীর দখলে থাকাকে ঘিরে বিশ্বে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কী হবে– তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও আরেকটি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হুতিদের উত্থান। বিশ্লেষকরা বলছেন, অনুমিত সবচেয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে গোটা বিষয়টি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবর বলছে, ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের কারণে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী গত শনিবার এই তথ্য জানান।

হুতি যোদ্ধারা বর্তমানে উত্তর ইয়েমেনের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের এই নিয়ন্ত্রণাধীন অংশের মধ্যে রয়েছে রাজধানী সানা ও পশ্চিমের হোদেইদা। উপকূলীয় এলাকাও মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দখলে নিয়েছে তারা। গত বৃহস্পতিবার বন্দর শহর মোখা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোষ্ঠীটি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, হুতিরা যদি বাব আল-মান্দেব বন্ধ করে দেয়, তাহলে আরেকটি অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে এবং বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহের আরও ৭ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের আরও ১২ শতাংশ চাপের মুখে পড়বে।

এএফপির খবরে আরও বলা হচ্ছে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া গত শুক্রবার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরালো হয়েছে হুতিদের। বাব আল-মান্দেব প্রণালির অবস্থান অ্যাডেন উপসাগর থেকে লোহিত সাগরে প্রবেশের মুখে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নারী ও শিশুরা ওবুক উপকূলে গিয়ে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যানুসারে, অন্তত ৭৬ হাজার ব্যক্তি গত জুলাইয়ের পর ইয়েমেনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। সর্বশেষ হামলার পর এই সংখ্যা চার গুণ হয়েছে।

গত সপ্তাহে হুতি যোদ্ধারা সৌদি আরবসমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযান শুরু করে। তারা সেই সময় বাব আল-মান্দেব প্রণালি-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রাখার পরিপ্রেক্ষিতে বাব আল-মান্দেব নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য ওই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।

বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং অনেক কমে এসেছে। মূলত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া ও ইরান যুদ্ধের জেরেই ওই ঘটনা ঘটেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার রাস্তাও খুঁজছে।

এ রকম একটি সময়ে হুতি গোষ্ঠীর বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেওয়া ও বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব ফেলার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য। তবে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াইয়েও যোগ দিতে পারছে না। কারণ, মার্কিন সামরিক বাহিনী এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যস্ত। ওই অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখেছে তারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের দমনে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে চেয়েছে। তিন সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে বিষয়টি।

ইরান পরিস্থিতি
এদিকে, ওমানে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আজ সোমবার বসার কথা রয়েছে ইরানের। সেখানে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ও আঞ্চলিক সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

কেশম দ্বীপের কাছে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা মার্কিন সন্ত্রাসী শত্রুদের দায়ী করছেন।

ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতলেন জেরেভ

ইউএস ওপেনের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জার্মানির অ্যালেক্সান্ডার জেরেভ। বাংলাদেশ সময় সোমবার আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে চার সেটের এই লড়াইয়ে শেলটনকে দাপটের সঙ্গে পরাজিত করেন জেরেভ। এটি জেরেভের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়।

এ জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতলেন জেরেভ। এর আগে ২০২২ সালে ফাইনালে গেলেও ডমিনিক থিয়েমের কাছে হেরে রানার আপ হন তিনি। এ বছরে রোল্যান্ড গ্যাঁরো (ফ্রেঞ্চ ওপেন) ও উইম্বলডনেও ফাইনালে পৌঁছেছিলেন জেরেভ। ফ্রেঞ্চ ওপেনে শিরোপা জিতলেও উইম্বলডন ফাইনালে সিনারের কাছে হেরে যান তিনি।

এ দিন প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে দাপুটে জয়ে ম্যাচ শুরু করেন জেরেভ। দ্বিতীয় সেটেও আধিপত্য ধরে রাখেন জেরেভ, টাইব্রেকে ৭-৬ (৭-২) ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। তৃতীয় সেটে শেলটন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭-৫ গেমে জয় পেলেও, চতুর্থ সেটে ৬-২ গেমের জয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেন জার্মান তারকা।

পুরো ম্যাচে জেরেভ মোট ১২৫টি পয়েন্ট এবং ২৪টি গেম জিতেছেন, যেখানে শেলটনের সংগ্রহে ছিল ১১৩টি পয়েন্ট ও ১৮টি গেম। সার্ভিসের ক্ষেত্রে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। পুরো ম্যাচে শেলটন ১০টি অ্যাস করেন, অন্যদিকে জেরেভের অ্যাস ছিল ৯টি। প্রথম সার্ভের ক্ষেত্রে শেলটন ৭৫ শতাংশ সাফল্য দেখিয়ে জেরেভের (৭০ শতাংশ) চেয়ে কিছুটা এগিয়ে ছিলেন।

ব্রেক পয়েন্ট কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে জেরেভের দক্ষতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে; তিনি ৬টি সুযোগ পেয়ে ৪টিতেই ব্রেক করেছেন, বিপরীতে শেলটন ৩টি সুযোগ পেয়ে মাত্র ১টিতে সফল হন। রিসিভিং পয়েন্টের ক্ষেত্রেও জেরেভ ৪০টি পয়েন্ট জিতেছেন, যেখানে শেলটনের অর্জন ৩১টি। সার্ভিস গেম জয়ের ক্ষেত্রে জেরেভ ১৯টি এবং শেলটন ১৭টি গেম নিজেদের করে নিয়েছেন।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৪ স্বতন্ত্র পরিচালকের পদত্যাগ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছেন চার স্বতন্ত্র পরিচালক। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের পর্ষদ বাতিল করে এই চার পরিচালকসহ পাঁচ সদস্যের পর্ষদ নিয়োগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের গত ১৫ জুলাই এই পরিচালকদের বহাল রেখেই পুরোনো মালিকদের ফেরানো হয়।

পদত্যাগ করা চার স্বতন্ত্র পরিচালক হলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান (এফসিএ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ। আগে নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে কেবল লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা শাহরিয়ার বহাল আছেন। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর খাজা শাহরিয়ারকে চেয়ারম্যান করে এই পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালকের সমন্বয়ে পর্ষদ গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই স্বতন্ত্র পরিচালকদের নিয়োগ করেছিল। যেহেতু পুরোনো মালিকদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে, সে কারণে আগের স্বতন্ত্র পরিচালকদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১৫ জুলাই পর্ষদে পুরোনো মালিকেরা ফেরার পর এই স্বতন্ত্র পরিচালকেরা বিভিন্ন ইস্যুতে একধরনের অস্বস্তিতে পড়েন।

বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের ১৫ জুলাই নতুন করে ১৩ জন পরিচালক নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে পাঁচজনই চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে আল-আরাফাহ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু। নতুনভাবে যাদের যুক্ত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই তখন পর্ষদে ছিলেন।

গত ১৫ জুলাই গঠিত পর্ষদে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বদিউর রহমান। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন লিয়াকত আলী চৌধুরী। আর পরিচালক হিসেবে আছেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তার ছেলে সেলিম রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, নাজমুল আহসান খালেদ, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়েত উল্লা, আহামেদুল হক, মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসাইন ও মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা উত্তরে এনসিপির প্রার্থী আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) প্রার্থী ঘোষণা করেছে গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।

রোববার বিকেলে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এনসিপি জানিয়েছে, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম।

সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কয়েক দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন তারা।

 বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। ছয় মাস পর দলটির এই অবস্থান বদলে যায়। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করা হলো।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।

সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। কয়েক দিন আগে দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।

জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।

উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।

জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।

জামায়াত জোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ১৯ সেপ্টেম্বর, পথে পাঁচ সভা মানিক মিয়ায় লাখ মানুষ সমাবেশের প্রস্তুতি

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ, শনিবার। সাত দফা দাবিতে ওইদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েত ও সমাবেশ হবে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে জনসভা। পথিমধ্যে গাজীপুরের ভোগরা, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হবে পথসভা হবে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভার পর ব্রিফিংয়ে তা সাংবাদিকদের জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

গণভোটের রায় কার্যকর, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সারের সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণসহ ছয় দফা দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করে ১১ দল। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। আগের ছয় দফার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি। এসব ক্ষেত্রে বিএনপি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলকে ছাড়িয়ে গেছে।

চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, বিরোধী সংকট নিরসনে যথাযথ উদ্যোগ নিতে বলেছিল। কিন্তু সরকার সমাধান দিতে পারেনি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে বলা হয়েছিল। বিরোধী দল ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকার এগুলো আমলে নেয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না। কিন্তু সরকার তাতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস–সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গার্মেন্টসের অর্ডার বাতিল হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চলে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে। সার সংকট নিরসনেও সরকার অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।

বিগত সরকারের ওপর দায় দিলেও বর্তমান সরকারের ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী পদক্ষেপ ছিল, এই প্রশ্ন রাখেন হামিদুর রহমান। বলেন, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। গ্যাসের পাশাপাশি এখন সারের সংকট দেখা দিচ্ছে। এ সংকট থাকলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে অভিযোগ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, একটার পর একটা রোমহর্ষক গুম-খুন হচ্ছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলের পাঁচজন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লংমার্চ সফলে সভা 

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলে আজ রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। এতে জামায়াতের বিভিন্ন শাখা, অঙ্গ সংগঠন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা ছিলেন। মানিক মিয়ায় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় আহত স্কুলছাত্রীর আইসিইউতে মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়ার পর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈশা দাশ (১২) নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরের রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ঈশা দাশ ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে ছদাহা ইউনিয়নের দাশপাড়া এলাকার সুনীল দাশের মেয়ে।

জানা যায়, গতকাল দুপুরে টিফিনের ছুটি হলে ঈশা তার সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মহাসড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম শহরের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত ঈশার জ্যাঠা ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর ঈশাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় পরে তাকে রয়েল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে বাসের ধাক্কায় ঈশা দাশ গুরুতর আহত হলেও এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে সে মারা গেছে। এরপরই ছদাহা কেফায়েত উল্লাহ কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে বাসের ভেতরের কয়েকটি সিট খুলে মহাসড়কের ওপর এনে আগুন ধরিয়ে দেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে ফুটওভারব্রিজ ও গতিরোধক স্থাপনের দাবি জানান। তাদের অবরোধের কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত প্রায় ছয় মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২২। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯২২ জনের।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

মৃত্যু বেশি ঢাকায় 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী বিভাগে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭০, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ এবং রংপুর বিভাগে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৯০৫ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ৮২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৭৩, চট্টগ্রামে ১৬৬, বরিশালে ৭৮, খুলনায় ৭৪, ময়মনসিংহে ৫৭, রাজশাহীতে ৩১, রংপুরে ২৭ এবং সিলেট বিভাগে ১৬ জন রয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ২৪। তাদের মধ্যে এক লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৬৯ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা সব রোগীর পরীক্ষা করা হয় না। একইভাবে হাসপাতালের বাইরে থাকা উপসর্গযুক্ত রোগীদেরও সবার হাম পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ফলে পরীক্ষায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত হাম আক্রান্তের সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারি হিসাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬৯ হলেও প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসন কোনোভাবেই শাসকের ভূমিকায় থাকবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তাকে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেছেন, এই সরকারের প্রশাসন কোনোভাবেই শাসকের ভূমিকায় থাকবে না, বরং জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করবে।

গতকাল রোববার ঢাকা সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনারদের সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও নির্বাচিত সরকার মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমন্বয় ও সম্পূরকের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, আমাদের মনস্তত্ত্বে যেন সব সময় থাকে যে আমরা জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।