Home Blog Page 2

কেমন হবে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নতুন দল

০

বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। এর মাধ্যমে শেষ হবে তাঁর ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। লিওনেল মেসির বিকল্প খুঁজে পাওয়া কি সম্ভব? আপাতত সে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মেসি ছাড়া কেমন হবে নতুন আর্জেন্টিনা?

বেনিনের বিপক্ষে মেসির বিদায়ী ম্যাচ খেলার জন্য রদ্রিগো ডি পল, নিকোলাস ওতামেন্দি, জিয়োভান্নি লে সোলেসোকেও ডাকা হয়েছে। তাদের জন্যও হয়তো জাতীয় দলে এটা শেষ ম্যাচ। যার মানে, মেসির সঙ্গে একটা প্রজন্মও বিদায় নিচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মেসির ১০ নম্বর জার্সিটা কে পরবেন? বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে গত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে এর খানিকটা আঁচ পাওয়া গেছে। নিকো পাজ ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি– এ দুজনের মধ্য থেকে একজন মেসির জায়গায় খেলবেন।

এর মধ্যে বলিভিয়ার বিপক্ষে একটি থ্রু পাস ধরে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে জালে পাঠানো নিকো পাজের গোলটি দেখে মেসি বলে ভ্রমও হয়েছিল। ২২ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রাইট উইঙ্গার হিসেবেও খেলতে অভ্যস্ত। প্রেস্তিয়ানির মধ্যে রয়েছে মেসির মতো বল দখলে রাখার দক্ষতা। ওয়ান টু ওয়ান পজিশনেও প্রেস্তিয়ানি অসাধারণ। ২০ বছর বয়সী এ তারকা বাঁ প্রান্ত দিয়ে কিংবা মাঝমাঠে ফলস নাইন হিসেবে খেলতে পারেন।

গোলরক্ষক পজিশনে মেসির দীর্ঘদিনের সঙ্গী এমিলিয়ানো মার্তিনেজ থাকছেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে নতুন নেতৃত্ব পাওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ নিশ্চিত। তবে দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বেশ ভালো বিকল্পও দেখা যাচ্ছে এ দুটি পজিশনে। চোটাক্রান্ত লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর জায়গায় বলিভিয়ার বিপক্ষে রোমান ভেগা ভালোই খেলেছেন। পরের ম্যাচে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে পরীক্ষিত সৈনিক ফাকুন্দো মেদিনাও খারাপ করেননি।

মাঝমাঠে অ্যালেক্সিস ম্যাক-এলিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ আরও অনেক দিন নির্ভরতা দিয়ে যাবেন। তাদের সঙ্গে এজিকুয়েল প্যালাসিওস ভালোই মানিয়ে নেবেন বলে প্রত্যাশা। মিডফিল্ডার ভ্যালেন্তিনো বারকোর মাঝেও অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। চেলসিতে অভিষেকেই নজর কেড়েছেন বোকা জুনিয়র্সের সাবেক এ তারকা। দুই স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজও প্রতিষ্ঠিত। মেসির অনুপস্থিতিতে তাদের দুজনকেই খেলিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। রাইট উইংয়ে আরেকটি সম্ভাবনা হলো লিওনেল ফ্লোরিস।

বোকা জুনিয়র্সের ১৯ বছরের এই তারকা গত দুটি ম্যাচে প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন। তাঁর রয়েছে দুর্দান্ত গতি ও অসাধারণ ড্রিবলিং ক্ষমতা। এই ফ্লোরিসকে নিয়ে আর্জেন্টাইনরা ভীষণ আশাবাদী। মাঝমাঠে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানোও ভীষণ সম্ভাবনাময়। নিকো পাজ ও মাস্তানতুয়ানোর জুটি ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে সম্পদ হবে বলেই অনেকের প্রত্যাশা। রিভার প্লেটের আরও একজনের মধ্যে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তিনি হলেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মাতিয়াস সুলে। ফরোয়ার্ড লাইনে রয়েছেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের গিলিয়ানো সিমোনে। আর্জেন্টিনা দলে প্রতিভার কমতি নেই। শুধু নেই মেসির মতো জাদুকর।

২০২৭ সালের হজে ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ চালু সৌদির, কী আছে এতে

বিদেশ থেকে হজে আসা মুসল্লিদের জন্য ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজ চালু করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। নতুন এই ব্যবস্থায় হজ এজেন্সিগুলো একটি মাত্র চুক্তির মাধ্যমে হাজিদের আবাসন, যাতায়াত, খাবার এবং পবিত্র স্থানগুলোর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই প্যাকেজের ফলে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাদা আলাদা চুক্তি করার প্রয়োজন হবে না। বিদেশি হজ এজেন্সি ও হাজিদের বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একটি মাত্র ইলেকট্রনিক আবেদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব সেবা নিতে পারবে। হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা এই চুক্তির আওতায় থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় হজের আনুষ্ঠানিকতা আরও সহজ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং হজ এজেন্সি, হাজিদের বিষয় দেখভালকারী দপ্তর ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক আরও স্পষ্ট হবে।

‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে চারটি প্রধান সেবা রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—পবিত্র স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় সেবা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, পরিবহন এবং খাবার। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের হাজিদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী অতিরিক্ত কিছু সেবা যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এর আগে হজের আয়োজকদের প্রতিটি সেবার জন্য আলাদা আলাদা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় পুরো হজযাত্রার প্রয়োজনীয় সেবাগুলো একটি আবেদনের মাধ্যমে একত্রে নেওয়া যাবে। এতে প্রতিটি চুক্তির আওতায় কোন কোন সেবা থাকবে এবং সেগুলো কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

২০২৭ সালের হজ মৌসুমের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

নতুন ব্যবস্থাটি ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে চালু হওয়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজি, হজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের হাজিদের বিষয় দেখভালকারী দপ্তরগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্ল্যাটফর্মটিতে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ তৈরি এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে আগে পৃথক পৃথক মাধ্যমে পরিচালিত অনেক কার্যক্রম একটি ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

হজে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের বড় অংশই সৌদি আরবের বাইরে থেকে যান। সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হজ মৌসুমে মোট ১৭ লাখ ৭ হাজার ৩০১ জন হজ পালন করেন। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৫৫ জনই ছিলেন বিদেশি। সৌদি আরবের অভ্যন্তর থেকে হজ পালন করেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৬ জন।

সৌদি আরবের ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩ কোটি ওমরাহ পালনকারীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন এবং ওই বছর হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশে উন্নীত করা। হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দেশটিতে অবস্থানকালীন অভিজ্ঞতা উন্নত করার বিষয়টিকে এ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ওমরাহ মৌসুমের সময়সূচি ঘোষণা করে এবং ‘নুসুক মাসার’-এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ এজেন্টদের যোগ্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত চুক্তির কার্যক্রম শুরু করে। সাধারণত সৌদি কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে হজের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার তথ্য প্রকাশ করে। প্রথম দিকে চুক্তি ও এজেন্টদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত জানানো হয়। এরপর হজের সময় ঘনিয়ে এলে পবিত্র স্থানগুলোতে সেবা ও অন্যান্য কার্যক্রমের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইসরায়েলের আগ্রাসনে তিন বছরে গাজায় ৮০০ শিক্ষক নিহত

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর থেকে ৮০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার পালিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আগ্রাসন ও পদ্ধতিগত লক্ষ্যবস্তুকরণের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি শিক্ষকরা শিক্ষার অধিকার রক্ষায় প্রকৃত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৭০ জনের বেশি শিক্ষক এখনও কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের ক্লিয়ারেন্স রাজস্ব ইসরায়েল অব্যাহতভাবে আটকে রাখায় গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষকদের আর্থিক ও মানসিক সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।

ধ্বংস করা হয়েছে ২ লাখের বেশি ভবন
ইসরায়েলের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিসিবিএস)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ফিলিস্তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনের কারণে গাজা উপত্যকার প্রায় ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৬ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গাজায় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ২৯০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি উপত্যকার মোট ভবনের প্রায় ৮২ শতাংশ।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এর মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৮৪৮টি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬২৭টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।

পিসিবিএস জানিয়েছে, এই ধ্বংসযজ্ঞ পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থার অবকাঠামোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পানি ও বর্জ্যপানি অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু মাত্র প্রায় ৬ লিটার বা ১.৬ গ্যালন পানি পাচ্ছেন।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৭২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয়, সৌদিতে সেনা মোতায়েন করতে সম্মত তুরস্ক ও পাকিস্তান

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাল্টা অভিযান শুরুর মধ্যেই দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোট ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েন করবে দেশ দুটি।

সোমবার সৌদি রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানানো হয়। তবে যৌথ বিবৃতিতে হুতিদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হামলা বা হুমকির সুস্পষ্ট বিরোধিতা’ করে। পাশাপাশি সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়ে একমত হয়েছে তারা।

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, ১২ বছরের যুদ্ধে হুতিরা যে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে, সেগুলো পুনরুদ্ধার করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।

তবে সৌদি আরবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা মোতায়েন হুতিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের সামরিক প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানের সেনারা আগে থেকেই সৌদি আরবে রয়েছে। দেশটিতে পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনা অবস্থান করছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের পাশে দাঁড়াতে পাকিস্তান চারটি উড়োজাহাজে করে অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পাঠিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এক পশ্চিমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সদস্যরা ইতিমধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলেও মোতায়েন রয়েছেন। তবে তারা সৌদি সামরিক বাহিনীর হয়ে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন, নাকি সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদস্য-তা স্পষ্ট নয়।

এদিকে সোমবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফির সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। ইয়েমেন যুদ্ধের অন্যতম কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন মারফি। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে তিনি ইয়েমেনে যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন।

তবে ওই যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করে। দুই মাস পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে নতুন করে অভিযান চালায় তারা।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী সোমবার দাবি করেছে, হুতিদের দখলে থাকা উপকূলীয় এলাকার বেশির ভাগই তারা পুনর্দখল করেছে।

একযোগে ৩০ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা ব্যাহত

দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম পেমেন্ট গেটওয়ে ‘কিউক্যাশ’ এর সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে একযোগে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও অনলাইন লেনদেন সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে টানা প্রায় ছয় দিনের জন্য এই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

কিউক্যাশের মূল কােম্পানি আইটি কনসালট্যান্সের (আইটিসি) ওয়েবসাইটে যে নোটিশ প্রচার করা হয়েছে, তাতে সিস্টেম মাইগ্রেশনকে কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশে প্রদত্ত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান– ‘এটা সিস্টেম আপগ্রেডেশন’। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়ে এবং গ্রাহকদের কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দিয়ে এভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা। কিছু ব্যাংকের গ্রাহকের দাবি,  সমস্যা তৈরি হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পরও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহকদের এ বিষয়ে নোটিশ করেনি। ব্যাংকগুলো  বলছে, কিউক্যাশের পক্ষ থেকে আগাম ঘোষণা না পাওয়ায় তারা গ্রাহকদের জানাতে পারেননি।

কিউক্যাশের সেবা গ্রহণকারী  ব্যাংকগুলো হলো– অগ্রণী, বাংলাদেশ কমার্স, কৃষি, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক, আলফালাহ, কমিউনিটি, আইসিবি ইসলামিক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আইএফআইসি, যমুনা, জনতা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, মিডল্যান্ড, মধুমতি, ন্যাশনাল, এনসিসি, এনআরবি কমার্শিয়াল, এনআরবি গ্লোবাল, রূপালী, শাহ্জালাল ইসলামী, সীমান্ত, এসআইবিএল, সোনালী, সাউথ বাংলা, ট্রাস্ট, ইউনিয়ন, উত্তরা এবং উরি ব্যাংক।

আইটিসির নোটিশ অনুযায়ী, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ নির্ধারিত রয়েছে। এই সময়সীমায় কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) সেবা ব্যাহত হবে বলা হয়েছে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের সিএফও মাহফুজুর রহমান বলেন, কিউক্যাশ বা আইটিসি আমাদের না জানিয়ে হঠাৎ করে সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখের দিকে ‘ডাউনটাইম’ নেওয়ার। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হুট করে বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নেটওয়ার্ক বন্ধ করার দিন রোববার সন্ধ্যায় আমাদের নোটিশ দিয়েছে। আমরা গ্রাহকদের নোটিশ দেওয়ার মতো এক দিন সময়ও পাইনি। এটি একটি চরম অপেশাদার কাজ হয়েছে। তারা নিজেদের সুনাম তো নষ্ট করলই, সেই সঙ্গে মেম্বার ব্যাংকগুলোর সুনামও কাস্টমারের কাছে নষ্ট করল।’
মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রায় ছয় লাখ ডেবিট কার্ড দেশের ভেতরে ও বাইরে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। কারণ আমাদের ডেবিট কার্ড এনপিএসবি ও ভিসা নেটওয়ার্ক এবং আমাদের নিজস্ব সিস্টেমে চলে। তবে আমাদের ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড ও কিউক্যাশ এটিএম বুথ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, যে কোনো কারণেই হোক, এটা যে প্রযুক্তিগত সমস্যা, তা পরিষ্কার। ফলে তাৎক্ষণিক সমাধান নেই, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে– এ ধরনের কোনো মেনটেইনেন্স করার অনেক আগে থেকেই পত্রিকা, টিভি এবং গ্রাহকদের মেসেজ পাঠিয়ে আগাম বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। কারণ গ্রাহকদের এভাবে বিড়ম্বনায় ফেলার অধিকার কোনো ব্যাংকের নেই।
তিনি আরও জানান, কিউক্যাশ বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এই সিস্টেম মাইগ্রেশনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। গ্রাহকদেরও আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খুব শিগগির সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাইবে, কেন তারা গ্রাহকদের আগে না জানিয়ে এককভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখল।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্টসের (আইটিসি) পেমেন্ট গেটওয়ে কিউক্যাশ হলো ব্যাংকগুলোর কার্ডভিত্তিক লেনদেনের একটি যৌথ পেমেন্ট সুইচ ও এটিএম/পিওএস নেটওয়ার্ক। আইটিসির হেড অব প্লানিং ফাইজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আমাদের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ২৮ অক্টোবর থেকে সেবা বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ তারিখে এগিয়ে আনা হয়েছে। আগে থেকে কেন নোটিশ করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দেয়নি।

গ্রাহকদের ভোগান্তি
কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা না থাকায় রেস্তোরাঁয় বিল দেওয়া, কেনাকাটা করা কিংবা জরুরি ক্যাশ টাকা তোলার ক্ষেত্রে তীব্র বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক গ্রাহক এটিএম বুথে গিয়ে হঠাৎ জানতে পারছেন যে সেবা বন্ধ। এমনকি ডিপোজিট বা মেয়াদি আমানতের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কিনা, তাও অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারছেন না অনেকে। কিউক্যাশের দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেও গ্রাহকরা কোনো স্পষ্ট তথ্য বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নারী উদ্যোক্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির দাবি

নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি তাদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গতকাল সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে তথ্যের ঘাটতি, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের জটিলতা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন বিডব্লিউসিসিআই প্রতিনিধিরা। এসব বাধা দূর করতে তারা পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ডেস্ক স্থাপন এবং নিয়মিত কেন্দ্র-জেলা সমন্বয় সভার প্রস্তাব দেন।

প্রতিনিধিরা জানান, দেশে কোন খাতে ও কোন পর্যায়ে কতজন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। ফলে তাদের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তারা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের উইমেন চেম্বারগুলোর জন্য উদ্যোক্তাদের তথ্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেন।

আট হাজার শিক্ষক শাস্তির মুখে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগে দেশের ১১ শিক্ষা বোর্ডের প্রায় আট হাজার শিক্ষক শাস্তির মুখে পড়ছেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে নানা অসংগতি ধরা পড়ার পর শিক্ষকদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আমলে নেওয়া হচ্ছে এই দুই পরীক্ষার গতবছরের গাফিলতির বিষয়টিও। তাদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে দুই বছর পর্যন্ত খাতা দেখার দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা, আবার গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে খাতা মূল্যায়নে কোন পর্যায়ের নম্বরকে ‘অনুচিত’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নির্ধারণ করে একটি ‘পুনর্মূল্যায়ন নীতিমালা’ করতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। নীতিমালায় ওভার মার্কিং (অতিরিক্ত নম্বর) ও আন্ডার মার্কিংয়ের (কম নম্বর) গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ করা হবে। ওই সীমার বাইরে গিয়ে নম্বর দেওয়া পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সমকালকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বোর্ডগুলোতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হবে।

সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ওভার নাম্বারিং-আন্ডার নাম্বারিংয়ের বিষয়ে যেসব শিক্ষকের ত্রুটি রয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নীতিমালা কমিটি যাচাই-বাছাই করে কত নম্বরকে অনুচিত নম্বর হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নির্ধারণ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে অসংগতি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে বিপুলসংখ্যক উত্তরপত্রে অসংগতি ধরা পড়ে। গত ১০ আগস্ট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।

ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়। মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ শিক্ষার্থী আবেদন করে। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করায় মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র ছিল।

পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪ হাজার ৫৮৫ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। আর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯টি উত্তরপত্রে।

যশোর বোর্ডে শাস্তির তালিকায় ১,৬৮৪
খাতা মূল্যায়নে ভুলের কারণে পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে ১ হাজার ৬৮৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষককে আগামী দুই বছর কোনো পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী বলেন, নির্ভুল ফল প্রকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা ভুল করা পরীক্ষকদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।

বোর্ড সূত্র জানায়, পুনর্নিরীক্ষণের পর যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৪৩৬ পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। ফেল করা ৩৮০ জন পাস করেছে। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ জনের। নতুন করে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৫২ জন। এই ফল বিশ্লেষণ করে খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি বা ভুল করা পরীক্ষকদের শনাক্ত করা হয়।

পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান
খাতা মূল্যায়নে ইচ্ছাকৃত অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত পাবলিক পরীক্ষা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। গত ৭ জুলাই জাতীয় সংসদে অনুমোদিত সংশোধিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধ পরিবর্তনকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ওভার মার্কিং ও আন্ডার মার্কিংয়ের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশোধিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সমকালকে বলেছেন, খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাধারণ ভুল, অসাবধানতা ও ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর বাড়ানো-কমানোর ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি। এজন্যই ‘অনুচিত নম্বর’-এর সীমা নির্ধারণ করে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারিগরি বোর্ডের ৩৪ কেন্দ্র সচিবকে শোকজ
পরীক্ষা পরিচালনায় গাফিলতির অভিযোগে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ৩৪টি কেন্দ্রের সচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। গত রোববার জারি করা নোটিশে ৭ অক্টোবরের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনার বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই ঘটনায় সংগঠনের আরও ৬ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাত ৯টার দিকে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে সাংগঠনিক পদ এবং ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

একই অভিযোগে রাবি শাখা ছাত্রদলের ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি ফারুক হোসেন, সহদপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রনেতা সাজু।

নোটিশে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁদের ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা বলা হয়।

এর আগে গত রোববার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্রদল। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নোটিশ ও বহিষ্কারাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা বহাল চায় পরিবার বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার সাত বছর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারের দুই ধাপ শেষ হয়েছে। চুড়ান্তভাবে দণ্ড কার্যকর করতে আরও এক ধাপ বাকি রয়েছে। এদিকে আবরারের পরিবারের দাবি, হত্যা মামলাটি যেন আপিল বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শুনানি হয় এবং আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের কতিপয় বিপথগামী শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আসামিদের পক্ষে আপিল করা হলে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) শুনানির পর নিম্ন আদালতের দেওয়া সম্পূর্ণ সাজা ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ওই রায় বাতিল এবং আসামিদের খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়েছে, যা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে আবরার হত্যা ঘটনার সাত বছর আজ। গতকাল সোমবার আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ সমকালকে জানিয়েছেন, এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চার আসামি এখনও পলাতক। ২১ জন কারাগারে আছে। তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে আবেদন জানিয়েছি, যেন মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বাস দেন, যত দ্রুত সম্ভব আপিল শুনানির জন্য তিনি আদালতের কাছে বলবেন।’ পাশাপাশি ছেলে হত্যার দায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রেখে সাজা কার্যকরের দাবি জানান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাসিন্দা বরকতউল্লাহ।

আবরার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামি মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম ও মেফতাউল ইসলাম জিওনের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দাখিল করা হয়েছে। তাঁর মক্কেলরা হাইকোর্টে ন্যায়বিচার পাননি।
আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবী এস এম শাহজাহান সমকালকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমার চেম্বার থেকে ৪-৫ জন আসামির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা হয়েছে। শুনানি হলে আসামিরা সর্বোচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।

ফেসবুকে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন আবরারের বাবা বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই বছরের ১৩ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে ছাত্রশিবিরের কর্মী সন্দেহে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।’ ওই মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার এই রায় হাইকোর্টও বহাল রাখেন।

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মাজেদুর রহমান মাজেদ, মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল জেমি, শামসুল আরেফিন রাফাত, মিজানুর রহমান, মাহমুদ সেতু, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মুজতবা রাফিদ। শেষের তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক। ফাঁসির আসামিদের মধ্যে মুনতাসির আল জেমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়েছেন বলে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞপ্তিতে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

নির্দেশিকা উপেক্ষিত, ভয়ংকর রূপে ডেঙ্গু

কীটতত্ত্ববিদদের বারবার সতর্কতা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নির্দেশিকা থাকার পরও কার্যকর হচ্ছে না ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। রাজধানীসহ দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দেশিকা অনুযায়ী মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। ফলে সেপ্টেম্বর পেরিয়ে অক্টোবরেও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা গেছেন আরও ৯ জন। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৯০২ জন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে প্রায় ৩০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কোনো হাসপাতালে শয্যা না থাকলে রোগীকে নির্ধারিত অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মানা হচ্ছে না জাতীয় নির্দেশিকা
মশক নিয়ন্ত্রণে ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়। এরপর রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের জন্য প্রণয়ন করা হয় ‘মশক নিধন স্থায়ী নির্দেশিকা’। দুই নির্দেশিকাতেই মশক নিয়ন্ত্রণে করণীয়, মশককর্মী, তদারককারীসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ছয় মাসের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করার কথা। কিন্তু স্থানীয় সরকারের একাধিক স্তরে কথা বলে জানা গেছে, এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা কোনো পর্যায় থেকেই স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়নি।

নির্দেশিকায় ইউনিয়ন থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনকে প্রতি মাসে মশার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের কথাও রয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমিটি আছে বা থাকার কথা এমন তথ্যই অনেকে জানেন না।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে মশার বিস্তার সম্পর্কে প্রতি মাসে চেয়ারম্যানকে জানানোর কথা রয়েছে। বিভিন্ন এলাকার বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাদের কেউই এ কাজ করেননি। এমনকি জাতীয় নির্দেশিকার বিষয়েও তাদের অনেকের জানা নেই।

সিটি করপোরেশনও মানছে না নির্দেশিকা
জাতীয় ও স্থানীয় নির্দেশিকার শুরুতেই বছরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ময়লা, পচা পানি, নালা-নর্দমা, ড্রেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক, জলাভূমি, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত পাত্রে সকাল-বিকেল ওষুধ প্রয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া লার্ভা ধ্বংসে সকালে এবং উড়ন্ত মশা নিধনে বিকেলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কীটনাশক প্রয়োগের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।
কোনো বাসাবাড়ির ভেতরে এডিস মশার প্রজননস্থলের তথ্য পাওয়া গেলে সেখানে ওষুধ প্রয়োগ বা ফগিং করে উৎসস্থল ধ্বংস করার কথা। এ ক্ষেত্রে ভবন বা অবকাঠামোর মালিকের কাছ থেকে নির্ধারিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিধান রয়েছে।

কিউলেক্স মশার ক্ষেত্রে কোনো ভবন মালিক তার ভবনের বেজমেন্ট বা অভ্যন্তরে ওষুধ ছিটাতে চাইলে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আবেদন করার কথা। বাস্তবে এমন আবেদন খুব একটা হয় না। কেউ কেউ মৌখিকভাবে স্থানীয় কাউন্সিলরকে ফোন করে বাসার নিচে ওষুধ ছিটানোর অনুরোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রে মশককর্মীদের দেখলে বাসিন্দারা তাদের অনুরোধ করে বাসার ভেতরে ওষুধ ছিটিয়ে নেন। আবার অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে মশককর্মীরা বাড়ির ভেতরে ওষুধ ছিটান না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, গত তিন বছর তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে মশা নিধনে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে এটি কার্যকর পদ্ধতি নয়। তাই তারা নিজেরাই মশার উৎপত্তিস্থল শনাক্ত করছেন। ঢাকার বড় ১০ হাসপাতাল থেকে এক হাজার ৬৭২টি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে একশটি এলাকা শনাক্ত করা হয়েছে। সেই জায়গাগুলোতে দৈনিক ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারাদেশে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিধনে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এখন তাদের পরিকল্পনা হলো হাসপাতাল, স্কুল ও মন্দিরে কীটনাশক ছাড়াই এডিসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মশা ধরতে আধুনিক ফাঁদ ‘বিজি সেন্টিনেল ট্র্যাপ’ বসানো। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ প্রয়োগ এবং পূর্ণবয়স্ক মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সারাদেশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে।

ইমরুল কায়েস বলেন, বাসাবাড়ি, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি এবং পরিত্যক্ত পাত্রে এডিস মশার প্রজনন হয়। তাই সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণে সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি।

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১৯০২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবারের বুলেটিন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২০৬ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০১ জন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ২১৬, চট্টগ্রামে ২৭২, খুলনায় ৩০৬, ময়মনসিংহে ৯৮, রাজশাহীতে ১০৫, রংপুরে ৬৬ এবং সিলেটে ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে এক হাজার ৯৮৮ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৩ হাজার ৭৭৪। এ মাসে মৃত্যু হয়েছে ১৪৮ জনের। সব মিলিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় এক লাখ দুই হাজার রোগী শনাক্ত হন।

শুধু প্লাটিলেট নয়, গুরুত্ব তরল ব্যবস্থাপনায়
ডেঙ্গু চিকিৎসায় দায়িত্ব পালন করা ঢাকার ১০টি বড় হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়ে গত রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক করা বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। তবে কিছু রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসকরা বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় শুধু প্লাটিলেট কমে যাওয়াকে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে দেখার ধারণা বদলেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্লাজমা লিকেজসহ রোগীর শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখা এবং জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করাই চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা প্রটোকল নিয়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। তবে কিছু রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। তাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। তবে অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

যা বললেন বিশেষজ্ঞরা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবীরুল বাশার বলেন, আমরা আগেই ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কা করেছিলাম। বারবার মশা নিধনের পরামর্শ দিয়েছি। তারপরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এক ধরনের অবহেলা দেখা গেছে।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি মাসে ডেঙ্গুতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি আগামী মাস পর্যন্ত চলার আশঙ্কা রয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানান এ কীটতত্ত্ববিদ।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই মানুষ ডেঙ্গুর নতুন ধরনে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে যাদের শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে, তাদের কেউ কেউ দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। শুধু ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়া শিশু নয়, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলেও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ, শিশুরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

সরকারি হাসপাতালে বাড়ছে শয্যা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৩০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিভিন্ন ওয়ার্ডের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে অতিরিক্ত রোগী রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে একটি মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি হাসপাতাল ডেঙ্গু রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কোনো হাসপাতালে শয্যা না থাকলে নির্ধারিত অন্য হাসপাতালে রোগী পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এসব শয্যাও পূর্ণ হয়ে গেলে আরও জায়গা প্রস্তুত করার নির্দেশনা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করছে কিনা, তা যাচাই করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো হাসপাতাল রোগী নিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।