Home Blog Page 2

কীভাবে গ্রিন টি খেলে বিস্বাদ লাগবে না

স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখছেন গ্রিন টি রাখেন। কিন্তু নিয়মিত চিনি ছাড়া গ্রিন টি খেতে কারই বা ভাল লাগে? তবে অনেকের হয়তো জানা নেই, রান্নাঘরে থাকা বেশ কিছু ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই একঘেয়ে গ্রিন টি-র স্বাদে পরিবর্তন আনা যায়। তখন খেতেও ততটা বিস্বাদ লাগে না। গ্রিন টি’য়ের স্বাদ বদলাতে যা যোগ করতে পারেন-

লেবু মেশানো গ্রিন টি

স্বাদ বদল করতে গ্রিন টি-র সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। চিনি ছাড়া গ্রিন টি খেতে ভাল না লাগলে এটি ভাল বিকল্প হতে পারে। লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। সেই সঙ্গে মেদ ঝরাতে সাহায্য করে ।

মধু মেশানো গ্রিন টি

চিনি ছাড়া, গ্রিন টি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন না। তাঁদের জন্য, মধু হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। গ্রিন টি বানানোর পর তার সঙ্গে মধু যোগ করলে তা স্বাদে আলাদা মাত্রা যোগ করে। মধু এমন একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি যা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি জোগায়।

আদাযুক্ত গ্রিন টি

গ্রিন টি-র মধ্যে আদা মেশালে স্বাদ বেড়ে যায় । আদা শরীরের ক্যালোরি পোড়াতেও সাহায্য করে। গ্রিন-টির সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতেও সাহায্য করে ।

দারুচিনি দেওয়া গ্রিন টি

গ্রিন টি-র সঙ্গে দারুচিনি মেশানো হলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে। সেই সঙ্গে চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর জন্য দারুচিনি মেশানো গ্রিন টি খুবই উপকারী।

তুলসী পাতাযুক্ত গ্রিন টি

তুলসী পাতা শরীরকে ভিতর থেকে ডিটক্সিফাই করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তাই গ্রিন টি-র সঙ্গে চার-পাঁচটি পরিষ্কার তুলসী পাতা যোগ করলে তা চায়ের স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হবে।

পুদিনা পাতা মেশানো গ্রিন টি

পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গে পাশা পেট ঠান্ডা করে। গ্রিন টি তৈরির সময় কয়েকটি সতেজ পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন। তাহলে সেই চায়ের স্বাদ অন্যরকম লাগবে। সূত্র: আজকাল

নতুন সায়েন্স ফিকশনে জেন্ডায়া

০

হলিউডে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেন্ডায়া। একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমা, নতুন নতুন চরিত্র আর পুরস্কারের দৌড়–সব মিলিয়ে আলোচনায় এই অভিনেত্রী। এবার সেই ব্যস্ততার তালিকায় যুক্ত হলো নতুন একটি সায়েন্স ফিকশন সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করবেন ‘সিভিল ওয়ার’ ও ‘টোয়েন্টি এইট ইয়ারস লেটার’-এর চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা অ্যালেক্স গারল্যান্ড। নতুন এই সিনেমার গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে জেন্ডায়ার যুক্ত হওয়ার খবরে ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

জানা গেছে, নতুন সিনেমার গল্প নিজের লেখা মৌলিক চিত্রনাট্য থেকে তৈরি করছেন গারল্যান্ড। এতে জেন্ডায়াকে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে। তবে ছবির নাম, কাহিনির প্রেক্ষাপট, তার চরিত্রের ধরন কিংবা অন্য অভিনয়শিল্পীদের বিষয়ে এখনও জানাননি নির্মাতা। সায়েন্স ফিকশন ঘরানায় গারল্যান্ডের নির্মাণশৈলী এবং জেন্ডায়ার অভিনয়–দুইয়ের সমন্বয়ে নতুন কী তৈরি হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

এদিকে জেন্ডায়ার আরেক আলোচিত সিনেমা ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’ নিয়েও চলছে দারুণ আলোচনা। ডেনিস ভিলনেভ পরিচালিত এই সিনেমায় চানি চরিত্রে ফিরছেন তিনি। পল অ্যাট্রেইডিসের ভূমিকায় থাকছেন টিমোথি

শ্যালামে। ছবিটি ১৮ ডিসেম্বর মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে চানির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে জেন্ডায়াকে নিয়ে অস্কার প্রচারণার সম্ভাবনা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি অস্কারের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন কিংবা চূড়ান্ত প্রতিযোগী তালিকা নয়। সিনেমাটি মুক্তির পর তার অভিনয় পুরস্কারের আলোচনায় কতটা জায়গা করে নেয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। চলতি বছর একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে কাজ করেছেন জেন্ডায়া। ‘দ্য ড্রামা’, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘দি ওডিসি’র মতো সিনেমা ঘিরে তার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার এসব কাজের মধ্য দিয়ে নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত জগৎ থেকে শুরু করে নির্মাতানির্ভর চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান ধরে রাখছেন এই অভিনেত্রী।

বড়পর্দার বাইরেও নতুন অভিজ্ঞতার অপেক্ষায় রয়েছেন জেন্ডায়া। এ বছরেই অ্যানিমেশন সিনেমা ‘শ্রেক ৫’-এ শ্রেক ও ফিওনার মেয়ে ফেলিসিয়া চরিত্রে কণ্ঠ দেবেন তিনি। ছবিটি আগামী বছর মুক্তির কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি সংগীতশিল্পী রনি স্পেক্টরের জীবনভিত্তিক ‘বি মাই বেবি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

‘সাদ্দামের রেস্তোরাঁ’ খোঁচায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, জবাব দিলেন ৩ মিনিট ধরে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস দেখে মনে হয়, এটি যেন চিজকেক রেস্তোরাঁ। যেটি চালায় সাদ্দাম হোসেন।’ স্থানীয় সময় সোমবার পূর্বসূরির এমন খোঁচার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

ওবামা ও ট্রাম্পের বিরোধ দীর্ঘদিনের। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। সেগুলোতে তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা করে নানা মন্তব্য করেন। এর মধ্যে ‘সাদ্দামের চিজকেক রেস্তোরাঁ’ সংক্রান্ত খোঁচাটি সম্ভবত ট্রাম্পকে বেশি আঘাত করেছে।

সাংবাদিকরা খোঁচার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প প্রায় তিন মিনিট ধরে এ নিয়ে কথা বলেন। ওবামাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসকে আপনার চিজকেক ফ্যাক্টরি মনে হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে, আপনি কত বাজে প্রেসিডেন্ট ছিলেন।’

মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামার মতো লোকেরা সামনের দরজা (হোয়াইট হাউসের) দিয়ে হেঁটে চলে যেতেন। তারা ভাঙা ইটের গাঁথুনি দেখতেন। দেয়ালগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার করা হয়নি। সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। সেগুলো চোখে পড়েনি।’

চিজকেক ফ্যাক্টরি একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন। খাবারের তালিকা ও বৈচিত্র্যময় অন্দরসজ্জার জন্য এটি পরিচিত। ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউস সংস্কার করেছেন। এর মধ্যে আছে বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ এবং ওভাল অফিসজুড়ে সোনার পাতের অলংকার যোগ করা।

গত শনিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে ওবামা বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) হোয়াইট হাউসের এমন অবস্থা করেছেন, যেন সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।’ এখানে সাদ্দাম হোসেন বলতে ইরাকের সাবেক স্বৈরশাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয়- নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের ধৈর্যও তত কমে যাচ্ছে। গত রোববার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০ শব্দের একটি পোস্ট দেন। সেটি ইরান যুদ্ধ কিংবা মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ছিল না। বরং বিল মাহের নামে এক কৌতুকশিল্পীকে আক্রমণ করে ওই দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছিলেন।

গত কয়েকদিনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময়ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। ওই প্রশ্নগুলো ছিল, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন আয়কর নথিতে অসংগতি, একের পর এক জমি, সঞ্চয়পত্র কিনেছেন

০

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের অন্যতম কাজ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন তদারক করে ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ এই বিভাগের একজন যুগ্ম পরিচালক নিজেই জড়িয়েছেন সন্দেহজনক লেনদেনে। তাঁর আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। বেতন-ভাতার পুরো টাকা ঋণ ও বাসা ভাড়ার জন্য কেটে নেওয়ার পরও তিনি একের পর এক জমি কিনেছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে বড় অংকের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর খুলেছেন। শেয়ারবাজারেও করেছেন বিনিয়োগ। নিজের তথ্য গোপন করে মুদি দোকানদার পরিচয়ে খুলেছেন ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ওই কর্মকর্তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। এখন পঞ্চম গ্রেডে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। মূল বেতন ৫৬ হাজার ৩০ টাকা এবং অন্যান্য ভাতাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে চাকরি বাবদ পান ৯০ হাজার টাকার মতো। মোশাররফের গৃহনির্মাণ ও গাড়ির ঋণ বাবদ কর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কোয়ার্টারে থাকার বাসা ভাড়ার টাকা কেটে নেওয়ার পর বেতন-ভাতার এক টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্টে যায় না।

মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে অপেশাদার আচরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তদন্তাধীন। প্রথম ঘটনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারির; নতুন গভর্নর নিয়োগের দিন। ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে জোরপূর্বক কিছু আদেশে সই করতে বাধ্য করেন মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।

দ্বিতীয় ঘটনা তদবিরের। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সে জন্য একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির নিয়ে যান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

মোশাররফ হোসেনকে প্রায়ই নিজ দপ্তরের কাজ বাদ দিয়ে উচ্চপদস্থ নির্বাহীদের ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তদবির নিয়ে অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রুমে সরাসরি ঢুকে যান। গত মাসে তিনি বিতর্কিত এক ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে বিএফআইইউ প্রধানের রুমে ঢুকে পড়েন। গত বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত বিশেষ ঋণ পুনঃতপশিলের আওতায় কিছু গ্রাহকের সুবিধা আদায় করে দিতে তিনি তৎপর ছিলেন। তাঁর বেপরোয়া আচরণ নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে গভর্নরের হস্তক্ষেপ চেয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

সমকালের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১৯ সালে গৃহনির্মাণের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নেন। এখন যার বকেয়া স্থিতি এক কোটি ২ লাখ ২৯ হাজার  টাকা। এর বাইরে গাড়ি কিনতে ঋণ নিয়েছেন ৩০ লাখ টাকা। এখন যার বকেয়া ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তাঁর আয়কর নথিতে কৃষি সম্পত্তি ক্রয় দেখানো হয়েছে ৭৯ লাখ টাকার। অকৃষি জমি বা ভবন নির্মাণ ব্যয়ের ঘর দেখানো হয়েছে শূন্য। এর মানে, তিনি ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী সমবায় সমিতিতে মোশাররফের হিসাবের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ মাসের লেনদেনের তথ্য রয়েছে সমকালের হাতে। এতে দেখা যাচ্ছে, সব কর্তনের পর প্রতি মাসে বেতন বাবদ প্রতীকী ৫ পয়সা জমা হয়েছে তাঁর হিসাবে। বেতনের বাইরে তাঁর হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, উৎসাহ বোনাস জমা হয়। এর বাইরে দুপুরের খাবারের বিল, ইন্টারনেট ও মোবাইল ভাতা যায়। এসব ভাতা বাবদ প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার টাকার মতো পান তিনি।

বিভিন্ন ভাতা ও বিলের বাইরে গত ২২ মাসে মোশাররফের হিসাবে ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ভাউচারে নগদ জমা করেছেন ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিং হয়ে ঢুকেছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। হিসাব বিবরণীতে এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।

মোশাররফের সমিতির হিসাবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ৮৫ হাজার টাকা জমা হয়। একই মাসের ২৬ তারিখ অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিং হয়ে ঢুকেছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চলতি বছরের মার্চে পাঁচ দফায় নগদ ভাউচারে ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে গত ১২ জুলাই নগদ ভাউচারে ৫ লাখ টাকা জমা করেন তিনি। সবশেষ গত ৪ আগস্ট নগদ জমা হয় আরও ৫ লাখ টাকা। গত বছরের ১ জানুয়ারি নগদ ভাউচারে তাঁর হিসাবে জমা হয় এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকা। এভাবে ধারাবাহিক তিনি নগদ অর্থ জমা করেছেন।

ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণদান সমিতির বাইরে মোশাররফ হোসেনের নামে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে সমকাল। ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ সঞ্চয়ী হিসাবটি খোলা হয়। এই হিসাবের তথ্য তাঁর আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ নেই। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয়েছে। প্রায় সমপরিমাণ উত্তোলন এবং সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য কর্তনের পর এখন স্থিতি মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ টাকা।

এই হিসাবে মোশাররফের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় বাবদ ৪০ লাখ টাকা জমার তথ্য রয়েছে। তাঁর আয়কর নথিতে এর উল্লেখ নেই। এই হিসাবে বিভিন্ন সময়ে তিনি নগদ জমা করেছেন ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৭ টাকা। আরটিজিএসসহ বিভিন্ন উপায়ে অন্য ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করে এনেছেন ২৪ লাখ ৮০ হাজার ৫০ টাকা। শেয়ার বেচাকেনা ও লভ্যাংশ হিসেবে জমা হয়েছে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮৮ টাকা। এর বাইরে মোবাইল ওয়ালেট, এটিএম রিভার্স ও সঞ্চয়ী হিসাবের মুনাফার বিপরীতে বাকি অর্থ জমা হয়েছে তাঁর এই হিসাবে।

মুদি দোকানদার পরিচয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট
মোশাররফ হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’-এ ২০২১ সালে অ্যাকাউন্ট খোলেন। যেখানে পেশার ঘরে লিখেছেন ‘মালিক, মুদি দোকান সবুজবাগ, ঢাকা’। ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তি হিসাবে বড় লেনদেন হলে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হিসেবে তা বিএফআইইউতে রিপোর্ট হয়। অ্যাকাউন্টে লেনদেনের তথ্য আড়াল করতে তিনি মুদি দোকানদার পরিচয়ে ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তথ্য গোপনের মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।

স্ত্রীর হিসাবে বিপুল লেনদেন
মোশাররফের স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির হিসাবেও বিপুল অংকের টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জনতা ব্যাংকে ২০২১ সালে ২৬ হাজার ৪০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করে এখন সাকল্যে বেতন-ভাতা বাবদ মাসে পান ৩০ হাজার টাকা। চাকরির শুরু থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতা হিসেবে তিনি মোট ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ বেতনের ১০ গুণ তথা এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা জমা হয়েছে ব্যাংকটির কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ শাখায় তাঁর হিসাবে। এর বাইরে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে তাঁর আরেকটি হিসাবে জমা হয় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। এসব অর্থের বড় অংশই মোশাররফের অ্যাকাউন্ট থেকে এসেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জনতা ব্যাংকে মোশাররফের স্ত্রীর হিসাবে শুধু বেতন-ভাতার টাকা জমা হয়। তবে ওই বছর নভেম্বরে হঠাৎ নগদ ৮ লাখ টাকা জমা হয়। এরপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ২২ লাখ টাকা নগদে জমা হয় তাঁর হিসাবে।

উম্মে হাসান ডলির নামে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয় ২০২০ সালে। এই হিসাবের বিপরীতে তাঁর সঞ্চয়পত্র রয়েছে আরও ৪৩ লাখ টাকার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কিনেছেন ২৩ লাখ টাকা; ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১০ লাখ; ২৮ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ এবং ২৬ নভেম্বর ২ লাখ টাকার। এই হিসাবে নগদ জমা হয়েছে ২৯ লাখ ৬৫ হাজার এবং অন্য হিসাব থেকে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই ধাপে এসেছে ১৯ লাখ টাকা।

আয়কর রিটার্নে অসংগতি
আয়কর রিটার্নে মোশাররফ হোসেন ভূরুলিয়া মৌজায় ৭৯ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের তিনটি জমির মালিকানা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে ২৭৪৩ নম্বর দলিলে ২০১৯ সালে মোছা. আছমা আক্তার ও জামান মোল্লার কাছ থেকে কিনেছেন ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি। যার মূল্য দেখানো হয় ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ১৪৫৮০ নম্বর দলিলে ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জমি। এর মধ্যে নিজ নামে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ কিনেছেন ২১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৬ টাকায়। আর নাবালক পুত্রের নামে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৪ টাকায়। এই দুটি জমি কিনেছেন স্থানীয় অপূর্ব চন্দ্র পাল, অমল চন্দ্র পাল ও মাধবী পালের কাছ থেকে।

গাজীপুরের ভূরুলিয়া মৌজায় মোশাররফ হোসেনের আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এ রকম ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমির সন্ধান মিলেছে। দুটি দলিলের বিপরীতে অন্য দুজনের সঙ্গে যৌথভাবে এই জমিও কিনেছেন অপূর্ব চন্দ্র পাল ও অমল চন্দ্র পালের কাছ থেকে। একই মৌজায় ২৬৬৬ নম্বর দলিল ও ৮১৪৪ নম্বর দলিলে কেনা উভয় জমির পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ করে। যৌথ মালিকানায় কেনা দুই ব্যক্তির বাড়ি মোশাররফের গ্রামের পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাওনাট এলাকায়।

মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য 
সমকালের কাছে মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, তাঁর সমস্ত লেনদেনের পেছনে ব্যাংকিং রেকর্ড রয়েছে এবং কোনো অনুপার্জিত বা অবৈধ অর্থ তাঁর হিসাবে ঢোকেনি। সমস্ত অর্থই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তাঁর গৃহনির্মাণ ও গাড়ি ঋণ, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো টাকা এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জমি বিক্রেতা অমল চন্দ্র পালকে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪৮ লাখ টাকা স্থানান্তর বিষয়ে মোশাররফ হোসেন জানান, এই অর্থ মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তাঁর গৃহনির্মাণ ঋণ এবং মেয়াদি সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর টাকা থেকে এসেছে। সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির পর জমি বায়নার টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তিন মাসের জন্য স্ত্রীর নামে একটি এফডিআর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষে জমি পেমেন্টে ব্যবহৃত হয়। এত অল্প মেয়াদের হওয়ায় এটি আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সমিতির হিসাব ছাড়াও নিজ ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্টভাবে বড় অঙ্কের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এগুলো সহকর্মীদের থেকে নেওয়া ঋণ। ক্যাশ ভাউচারে প্রচুর টাকা জমা ও উত্তোলনের কারণ হিসেবে তিনি জানান, এসব অর্থের বড় একটি অংশ সহকর্মীদের থেকে নেওয়া ধার। গত তিন-চার মাসে সহকর্মীদের থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পেশা ‘মুদি দোকানদার’ উল্লেখ করে বিকাশ নাম্বার খোলার কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বিকাশ এজেন্টের কাছে গিয়ে বিকাশ হিসাব খোলার সময় এজেন্টই ভুলবশত পেশা হিসেবে তা উল্লেখ করেছে। এমন ভুল তথ্যের বিষয়টি জানা ছিল না বলেও দাবি তাঁর।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্য

০

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দফার এ আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।

তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ যুবদলের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে কখনও পিছিয়ে যায়নি যুবদল: রিজভী

০

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘৮ বছর আগে এদেশের এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার হাত ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী যুবদল বাংলাদেশের তরুণদের এক বৃহত্তম যুব সংগঠন। যে সংগঠনটি সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য এবং দূরত্বের প্রতীক। এরা অনেকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে, এদেরকে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে, মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, এদের অনেকের যাবজ্জীবন জেলের সিদ্ধান্ত হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে।’

তারপরেও তারা তাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আজকে যে উৎপাদন, উন্নয়ন এবং জনগণের যে রাজনীতি তারেক রহমান শুরু করেছেন, সামাজিক নিরাপত্তার রাজনীতি শুরু করেছেন, বিভিন্ন সংস্কারমূলক যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই সমস্ত কর্মসূচিতেও যুবদল একটি অনবদ্য অবদান রাখবে।’

এ সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইজিপি: জাহেদ উর রহমান ‘আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত নয়’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্রসফায়ার নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বক্তব্যটা নিয়ে তিনি একটা ক্লারিফিকেশন দিয়েছেন। উনার এই বক্তব্য যে মিসকমিউনিকেট করেছে, তাতে (ব্যাখ্যায়) কিন্তু এটা ক্লিয়ার হয়েছে।’

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় আর খুব আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত না, কারণ পুলিশ সদরদপ্তর এর পরবর্তীতে একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে। সেই স্টেটমেন্টে আসলে তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

এ সময় সাংবাদিকদের বিষয়ে আইজিপির আরেক মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একই সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্কেও যে বক্তব্যটা জেনারেলাইজ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে, সেটার ব্যাপারেও তার বক্তব্য আছে। সেজন্য আমার মনে হয় এটার পর আমাদের এই কনফিউশনটা কেটে যাওয়া উচিত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইজিপির বিষয়ে সরকারের ফাইনাল অবস্থান কী হবে তা প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, ‘তবে আবারও বলি, যখন কেউ তার অবস্থানে অটল থাকছেন না, তখন তার প্রতি একটু বেশি আনকাইন্ড হচ্ছি কি না?’

গতকাল সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।’

এ সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করে আইজিপি বলেন, ‘এই মাদক হচ্ছে, এইগুলার বিরুদ্ধে আপনারা মুভ করতেছেন না। সেখান থেকে গোপনে টাকা নিতেছেন। সাংবাদিক সাহেবরা ওখান থেকে যখন পয়সা না পাইতেছেন, তখন লিখতেছেন—দেশে  পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠক জ্বালানি, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে অনুষ্ঠিত দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তারেক রহমান।

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তারেক রহমান।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

এসব বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন তারেক রহমান। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি প্রতিনিধিদল পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তার সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ ও অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।