Home Blog Page 200

এবার সব রেকর্ড ভাঙল সোনা, ভরি কত?

দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বেড়েছে। এবার ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে সোনার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। নতুন মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে দাম বেড়ে সোনার সঙ্গে রেকর্ড করলো রুপাও। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি ছয় হাজার ২৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি পাঁচ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ভরি পাঁচ হাজার ১৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম তিন হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভাড়াটিয়াদের জন্য বড় সুখবর

বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যে কোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত গ্রহণ করবেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গুলশান-২ এর নগর ভবনে ‘ঢাকার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশবিষয়ক’ সংবাদ সম্মেলন এ ঘোষণা দেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কয়েকটি নির্দেশিকা দিয়েছে।

১. বাড়ির মালিক অবশ্যই তার বাড়িটি বসবাসের উপযোগী করে রাখবেন।

২. বাড়িতে ইউটিলিটি সার্ভিসেস (গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি) এর নিরবিচ্ছিন্ন কানেকশন, দৈনিক গৃহস্থালি বর্জ্যকালেকশন সহ অনন্যা সকল সুবিধাসমুহ নিশ্চিত করতে হবে। এর কোন ব্যত্যয় বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ভাড়াটিয়া সংশ্লিষ্ট বাড়িওয়ালাকে অবগত করবেন এবং বাড়িওয়ালা অতিসত্ত্বর সেই সমস্যা সমাধান করবেন।

৩. বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (বাড়িওয়ালার প্রাক অনুমোদন সাপেক্ষে) বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং বাড়ির সামনের উন্মুক্ত স্থানে সবুজায়ন (ফুল/ফল/সবজি) করবেন।

৪. সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প, ইত্যাদি নানা ধরণের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারনে দূর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানীসহ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায়, নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেইটের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করবেন।

৫. ভাড়াটিয়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটিয়াকে প্রতিমাসে মাসিক ভাড়ার লিখিত রশিদ প্রদান করতে হবে এবং প্রতি মাসের ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়া প্রাপ্তির স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রশিদ সংগ্রহ করবেন।

৬. বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যে কোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোন পদক্ষেপ নিলে অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের পূর্বে মতামত গ্রহণ করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি/ন্যায় সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭. মানসম্মত ভাড়া কার্যকরী হবার তারিখ হতে দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই।

৮. দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই বাড়ির ভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা স্বাপেক্ষে ভাড়ার পরিবর্তন করা যাবে।

৯. নির্দিষ্ট সময় ভাড়াটিয়া ভাড়া প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে মৌখিক ভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা দিবেন। তাতে ও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে ২ মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতা মূলক নোটিশ প্রদান করবেন এবং ভাড়াটিয়ার সাথে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

১০. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে, বাড়ি ভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে দুই মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

১১. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করা ও ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ি ভাড়ার বাজার মূল্যের শতকরা ১৫ ভাগের বেশি হবে না।

১২. বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেয়া হলো এবং করণীয় কী, সে সব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

১৩. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে না।

১৪. সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার বিবাদের সালিশে থাকবেন।

১৫. যে কোনো সমস্যা ওয়ার্ড/ জোন ভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটিয়াদের সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তীতে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর জানাতে হবে।

১৬. ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিতে বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত নির্দেশিকা ভাড়াটিয়া এবং বাড়িওয়ালাদের মেনে চলার জন্য সচেতন করা, এ ব্যাপারে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে সিটি কর্পোরেশন এর জোন ভিত্তিক মত বিনিময় ও আলোচনা সভা করা।

হালুয়াঘাটে গণভোটের পক্ষে চলছে জোর প্রচারণা

গণভোট কী? কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে তা নিয়ে জোর প্রচারণা শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষকে গণভোট সম্পর্কে ধারণা দিতে চলছে এই প্রচারাভিযান। প্রচারণা চালাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় থাকা গ্রাম পুলিশরাও। ময়মনসিংহ-১ আসনের হালুয়াঘাটের তৃণমূলে গণভোটের পক্ষে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে প্রতিদিন।

নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে এই আসনের কেন্দ্রগুলো ভোটগ্রহণের উপযুক্ত করা হয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত ভোট গ্রহণে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরাও। গণভোট কী-তা সাধারণ মানুষকে বোঝাতে এখন চলছে জোর প্রচারণা।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও  উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীনূর খান জনকণ্ঠকে বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম এবং হাটবাজারে গিয়ে ভোটারদের গণভোট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে। গণভোটে অংশ নিতে ভোটারদের উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া চলমান রাখার পাশপাশি শিক্ষক-সাংবাদিক, ইমাম ও খতিব,সুধিজনদের নিয়ে এরই মধ্যে গণভোট সম্পকে সেমিনার করা হয়েছে।

ভোটাররা যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি গণভোটেও নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে জন্য কাজ করছেন তিনি।

১৯৯১ সালে বিএনপির ’বিস্ময়কর’ জয় এসেছিল যেভাবে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ সামরিক শাসনের পর সব দলের অংশগ্রহণে এবং একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ ছিল অনেকের কাছেই এক বিরাট বিস্ময়। নির্বাচনের আগে জনমনে প্রবল ধারণা ছিল যে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ফিরছে, কিন্তু ভোটের ফলাফল দেশের রাজনীতির গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

নির্বাচনের আগে অনেক হেভিওয়েট নেতার দলত্যাগের কারণে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা আওয়ামী লীগের তুলনায় দুর্বল মনে করা হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে, যেখানে আওয়ামী লীগকে ৮৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে কার্যত দ্বি-দলীয় রাজনীতির মেরুকরণ শুরু হয় এবং ওই সংসদের মাধ্যমেই দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল সাত দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে ফুটে ওঠা দম্ভ সাধারণ ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বিএনপি নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া দুই নেত্রীর ভাষণের পর থেকেই জনমত ধীরে ধীরে বিএনপির অনুকূলে আসতে শুরু করেছিল।

১৯৯১ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একটি সফল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনটি স্বচ্ছতার দিক থেকে এখনো একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপি কেবল ক্ষমতায় ফেরেনি, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক শক্তিশালী ও অনিবার্য শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছিল।

থাইল্যান্ড যেতে চান আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশে চিকিৎসার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি আবেদন করেছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

শুনানিতে মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেল ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সাথে যুক্ত নন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, মোয়াজ্জেম হোসেন পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং সেখান থেকে তরল নির্গত হচ্ছে। এই জরুরি চিকিৎসার জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টও নির্ধারিত ছিল। তবে আদালত এসব যুক্তি আমলে না নিয়ে তার আবেদনটি নাকচ করে দেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিলে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিজের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগের কিছুদিনের মধ্যেই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এই বিতর্কের জেরে গত বছরের ২১ এপ্রিল তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অব্যাহতির পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের মে মাসে মোয়াজ্জেমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই সময় আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন ভিসা পেতে বন্ড লাগবে না যাদের

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ভিসা বন্ড বা জামানত প্রযোজ্য নয় বলে স্পষ্ট করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস জানায়, যারা এফ (F) বা এম (M) ক্যাটাগরির ভিসায় পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন, তাদের এই বন্ড পরিশোধ করতে হবে না।

তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কেবল ব্যবসা বা পর্যটন (B1/B2) ভিসার আবেদনকারীদের এই জামানত জমা দিতে হতে পারে।

এর আগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ভিসা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা ঠেকাতে বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।

২১ জানুয়ারি থেকে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক নতুন করে বি১/বি২ ভিসার জন্য অনুমোদিত হবেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই এই শর্ত প্রযোজ্য হবে।  তবে যাদের কাছে ইতোমধ্যে ২১ জানুয়ারির আগের ইস্যু করা বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে না।

দূতাবাস আরও সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভিসা সাক্ষাৎকারের আগেই যেন কেউ কোনো অর্থ বা বন্ড পরিশোধ না করেন।  কারণ আগাম অর্থ পরিশোধ ভিসার নিশ্চয়তা দেয় না এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে করা লেনদেন প্রতারণামূলক হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারের আগে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হলে তা ফেরতযোগ্য নয়।

তবে যারা ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করে সময়মতো নিজ দেশে ফিরে আসবেন, তারা বন্ডের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন।

গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই ১৫ হাজার ডলারের ভিসা বন্ড প্রথা চালুর ঘোষণা দিয়েছিল।  মূলত ভিসা জালিয়াতি কমানো এবং নিজ দেশে ফিরে আসার প্রবণতা উৎসাহিত করতেই এই পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটি। শিক্ষার্থীদের এই নিয়মের বাইরে রাখায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বা যাত্রার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখ উদযাপন আরও আনন্দময় করতে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে পে কমিশন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে-স্কেলের আওতায় এই ভাতা মূল বেতনের বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। এটি বাড়িয়ে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হবে। এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বুধবার এটি অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হবে।

পে কমিশনের একজন সদস্য জানিয়েছেন, বৈশাখী ভাতার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এলেও পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বোনাস আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। অর্থাৎ ঈদ বোনাসে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

এদিকে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হচ্ছে। নবম পে স্কেলে চিকিৎসা ভাতা বর্তমান ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। বয়সভিত্তিক দুই ক্যাটাগরিতে এই ভাতা নির্ধারণের সুপারিশ করা হবে। ৪০ বছর বা কম বয়সিদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা, ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা।

পে কমিশনের আরেক সদস্য জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বয়স্কদের ভাতা কিছুটা বেশি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অবসরের পরও একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

বর্তমানে ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা, নবম গ্রেডে বিসিএস কর্মকর্তাদের ২২ হাজার টাকা, আর সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা রেখেছে যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জানুয়ারি থেকে মূল বেতন বা ভাতার যে কোনো একটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

ভালো ঘুম চান? রাতে এই ১০টি ভুল এড়ালে অন্যদের চেয়ে ৯৮ শতাংশ ভালো ঘুম হবে

একটা ভালো ঘুমের পর সকালের অনুভূতিটা আলাদা। শরীর হালকা লাগে, মাথা পরিষ্কার থাকে, মনও থাকে ভালো। অথচ বাস্তবতা হলো, অনেকেই রাতের পর রাত ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। ঘুম না হলে আমরা দোষ দিই চাপ, কাজের ব্যস্ততা বা বয়সকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যার শিকড় অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ঘুমানোর ঠিক আগের কিছু অভ্যাসে।
ঘুমের ওষুধ খাওয়া হোক বা বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করা, আমরা নিজের অজান্তেই এমন কিছু করি, যা ঘুমকে দূরে ঠেলে দেয়। সুখবর হলো, এগুলোর বেশির ভাগই সহজে বদলানো যায়। সামান্য সচেতনতাই রাতের ঘুমকে করতে পারে গভীর ও প্রশান্ত।
ঘুমের আগে ক্যাফেইন নেওয়া অনেকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু কফি বা চা শরীরে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে চোখ বন্ধ করলেও মস্তিষ্ক বিশ্রামে যেতে চায় না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে অন্তত দুই ঘণ্টা পর ক্যাফেইন গ্রহণ করা ভালো। আর যাদের দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা, তাদের কিছুদিন ক্যাফেইন একেবারে বাদ দিয়ে শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করা উচিত।
অনেকেই রাতে ক্ষুধা লাগলে মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের দিকে হাত বাড়ান। কিন্তু এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে আবার দ্রুত নামিয়ে আনে। তখন শরীর সতর্ক হয়ে যায়, অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ বাড়ে, ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমের আগে ক্ষুধা পেলে সামান্য প্রোটিনভিত্তিক খাবার শরীরকে বেশি আরাম দেয়।
অগোছালো শোবার ঘরও ঘুম নষ্টের বড় কারণ হতে পারে। ছড়িয়ে থাকা কাপড়, এলোমেলো জুতা কিংবা ভিড়ে ঠাসা পরিবেশ মনের ওপর অজান্তেই চাপ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শোবার ঘর হওয়া উচিত শান্তির জায়গা। সেখানে শুধু ঘুম আর বিশ্রামের অনুভূতি থাকলেই মস্তিষ্ক দ্রুত শান্ত হয়।
অনেকেই অস্বস্তিকর বিছানায় ঘুমিয়ে অভ্যস্ত হয়ে যান। কিন্তু ভালো ম্যাট্রেস আর বালিশ ছাড়া গভীর ঘুম সম্ভব নয়। স্লিপ কোচ লরেন ফাউন্টেইনের মতে, খারাপ ম্যাট্রেসে ঘুমালে মাঝরাতে বারবার ঘুম ভাঙে এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের ওপর প্রভাব পড়ে। নতুন ম্যাট্রেস কেনা সম্ভব না হলে অন্তত ভালো মানের টপার বা আরামদায়ক বালিশ ব্যবহার করাই ভালো।
ঘুমের আগে আলো কমানো ভীষণ জরুরি। মোবাইল, টিভি বা কম্পিউটার থেকে আসা নীল আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনকে দমন করে। ফলে শরীর বুঝতেই পারে না যে এখন বিশ্রামের সময়। তাই শোবার ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার ও শান্ত রাখা ভালো।
ঘুমানোর আগে স্ক্রিনে সময় কাটানো আমাদের প্রায় সবারই অভ্যাস। কিন্তু গবেষণা বলছে, এই অভ্যাস অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ায় এবং দিনের বেলায় ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়। স্ক্রিন মস্তিষ্ককে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে, ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই শোবার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ফোন বা টিভি থেকে দূরে থাকাই ভালো।
অনেক সময় ঘুম ভাঙে আশপাশের শব্দে। ঘড়ির টিকটিক, পাশের ঘরের টিভির আওয়াজ, পোষা প্রাণীর নড়াচড়া বা সঙ্গীর নাক ডাকা সব মিলিয়ে মস্তিষ্ক বিশ্রাম নিতে পারে না। শোবার আগে চারপাশের শব্দ কমানোর চেষ্টা করলে ঘুম অনেক গভীর হয়।
ঘুমের জন্য ঘরের তাপমাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ। তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশে শরীর দ্রুত বিশ্রামে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। নিজের আর সঙ্গীর পছন্দ আলাদা হলে আলাদা ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
অনেকে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম করেন, ভাবেন এতে ক্লান্তি আসবে। কিন্তু ভারী ব্যায়াম শরীরে অ্যাড্রেনালিন বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুম আসতে বাধা দেয়। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত চার ঘণ্টা আগে ব্যায়াম শেষ করার পরামর্শ দেন।
শেষত, ঘুমের জন্য ওষুধের ওপর নির্ভরতা অনেক সময় সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত ওষুধ খেলে শরীর সেটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। স্লিপ বিশেষজ্ঞ ড. লরেন্স এপস্টেইনের মতে, ওষুধ ছাড়া তখন ঘুম আসতে কষ্ট হয়। এর বদলে প্রাকৃতিক উপায় ও নিয়মিত রুটিন ঘুমকে স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে।
সব মিলিয়ে, ভালো ঘুম কোনো বিলাসিতা নয়, এটি শরীর ও মনের প্রয়োজন। ঘুমের আগে এই ছোট ছোট বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে পারলে রাতের ঘুম হবে গভীর, আর সকাল শুরু হবে সতেজ ও প্রাণবন্ত অনুভূতি নিয়ে।

খেজুরের গুড় আসল নাকি ভেজাল? কেনার আগে যেভাবে বুঝবেন

শীত এলেই গ্রামবাংলার বাতাসে ভেসে আসে খেজুরের গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণ। পিঠা, পায়েস থেকে শুরু করে নানান ঐতিহ্যবাহী খাবারে গুড় যেন বাঙালির শীতকালীন আবেগেরই অংশ। স্বাদের পাশাপাশি খেজুরের গুড় শরীরের জন্যও উপকারী। এতে রয়েছে লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
সাধারণত খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে বড় পাত্রে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ভেজাল গুড়ের দাপট বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিনি, ফিটকিরি এমনকি রাসায়নিক রং মিশিয়ে কৃত্রিম গুড় তৈরি করছেন। এসব গুড়ে স্বাভাবিক গন্ধ ও স্বাদ থাকে না, বরং তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আসল খেজুরের গুড় সাধারণত গাঢ় বাদামি বা কালচে লালচে রঙের হয়। পাটালি নরম, ভাঙলে ভেতরে হালকা রসাল ভাব দেখা যায় এবং হাতে নিলে অতিরিক্ত চকচকে লাগে না। এর স্বাদ হয় স্বাভাবিক মিষ্টি, মুখে দিলে একধরনের উষ্ণতা অনুভূত হয়।
অন্যদিকে ভেজাল বা মিশ্রিত গুড় বেশ চকচকে হয় এবং পাটালি অস্বাভাবিকভাবে শক্ত থাকে। অনেক সময় রঙ হয় ফ্যাকাশে বা সাদা আভাযুক্ত। গুড়ের স্বাদ যদি নোনতা বা তিতা লাগে, তাহলে সেটি ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবার গুড়ের ভেতরে যদি স্ফটিকের মতো দানা দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে মিষ্টতা বাড়াতে চিনি বা অন্য কিছু মেশানো হয়েছে।
শীতের দিনে সুস্থ থাকতে এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের আসল স্বাদ পেতে খাঁটি খেজুরের গুড় চেনা খুবই জরুরি। তাই বাজার থেকে গুড় কেনার সময় শুধু দাম বা রঙ দেখে নয়, গন্ধ, স্বাদ ও গঠন ভালোভাবে যাচাই করুন। সচেতন থাকলেই ভেজাল এড়িয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর গুড় ব্যবহার করা সম্ভব।

পদবী বদলে সব জল্পনার অবসান ঘটালেন রোজা

ঠিক এক বছর আগে আকস্মিকভাবে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে তার বিয়ে সে সময় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে ট্রেন্ডিংয়ে ছিল তাহসানের বিয়ের খবর। তবে এক বছর পেরোতেই সেই সম্পর্কে ভাঙনের খবর সামনে এলো।

সম্প্রতি তাহসান নিজেই নিশ্চিত করেছেন, তিনি ও রোজা এখন আর একসঙ্গে নেই। দুজন আলাদা থাকছেন। এই খবরে ভক্তদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও অনেকেই মনে করছিলেন, হয়তো সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। কারণ বিচ্ছেদের খবর প্রকাশের পরও রোজার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে তাহসানের সঙ্গে তোলা একাধিক ছবি ছিল এবং নিজের নামের সঙ্গে ‘খান’ পদবিও ব্যবহার করছিলেন তিনি।

তবে এবার সেই আশার জায়গাটিও আর থাকল না। ইনস্টাগ্রাম থেকে তাহসানের সব ছবি মুছে ফেলেছেন রোজা। একই সঙ্গে নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করা ‘খান’ পদবিও সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। রোজার ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, সেখানে এখন আর তাহসানের কোনো উপস্থিতি নেই। ফলে দুজনের বিচ্ছেদ যে চূড়ান্ত, সেটিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগে তার ইনস্টাগ্রাম নাম ছিল ‘রোজা আহমেদ খান’।

২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ের পর রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন তাহসান খান। রোজা একজন পেশাদার রূপসজ্জাশিল্পী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং নিউইয়র্কে তার নিজস্ব একটি মেকআপ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর আগে, ২০০৬ সালের ৩ আগস্ট অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাহসান। দীর্ঘ ১১ বছরের সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে ২০১৭ সালে। এরও প্রায় দুই বছর আগে থেকেই তারা আলাদা থাকছিলেন। সেই সংসারে তাহসানের একমাত্র কন্যাসন্তান রয়েছে— আইরা তাহরিম খান।