Home Blog Page 203

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করছে আজ মঙ্গলবার। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গে এবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে সকালে দলীয় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভায় দলের নেতা নির্বাচন করা হচ্ছে।
জানা যায়, বিএনপি তারেক রহমানকেই সংসদ নেতা নির্বাচন করতে যাচ্ছে এবং তিনিই হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে স্ব স্ব সেক্টরে অভিজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গ ভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। শপথের আগে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।

সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি-বিদেশি ১ হাজার ২০০ অতিথি।  আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা,  ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান বিন জসিম বিন জাবের আল থানিস, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসার প্রমুখ। এছাড়া নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের অন্যান্য প্রতিনিধি।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের মধ্যে থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাগণ, তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, বুদ্ধিজীবীগণসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ।
উল্লেখ্য, সরকার গঠন করতে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫১ আসন লাগে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ২৯৭টিতে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করে ১৩ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়লাভ করে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পায় জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি। ৭ আসনে বিজয়ী হয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা (বিএনপির বিদ্রোহী)। এনসিপি ৬টি,  বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, বিজেপি ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, এনডিএম ১টি ও ইসলামী আন্দোল ১টি আসন পেয়েছে।
এছাড়া ২ টি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়। আর ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসন নির্বাচনের আগেই স্থগিত করা হয়। এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে বিএনপি ও সমমনা দলের অর্ধশতাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও কারা থাকছেন সেখানে তা আজ মঙ্গলবার দুপুরের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। শেষ মুহূর্তেও চমক থাকতে পারে।  তবে নবীন-প্রবীণ, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের সমন্বয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আগের তিনবারের মতো এবারও মন্ত্রিসভায় থাকছেন। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ,  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমানও থাকতে পারেন নতুন মন্ত্রিসভায়।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. বরকতউল্লাহ বুলু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জয়নাল আবদিন ফারুক, ফজলুর রহমান, ড. মাহাদী আমিন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার  মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, দলের নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ড. ওসমান ফারুক, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নওশাদ জমির, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু থাকতে পারেন নতুন মন্ত্রিসভায়। বিএনপির সমমনা দলগুলো থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নূর ও ববি হাজ্জাজ।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে দফায় দফায় সিনিয়র নেতাদের মতামত নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে আজ সংসদীয় দলের সভা শেষে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা যায়। দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় ফোরামে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার তারেক রহমানকেই দিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।
এছাড়া, সংসদের উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপসহ বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ রয়েছে। সেখানেও বিএনপির অনেক নির্বাচিত এমপি দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবে। এরমধ্যে উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ পদগুলো মন্ত্রি, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন। এসব পদে কারা নির্বাচিত হন সেগুলোও থাকবে আজ দৃষ্টিতে।

সেই জার্সি গায়ে দিয়েই হাসনাত আব্দুল্লাহর শপথগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সংসদে শপথ নিলেন ‘আইকনিক’ সবুজ জার্সি গায়ে।

মঙ্গলবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এর শপথকক্ষে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ যে জার্সি পরে শপথ গ্রহণ করেছেন, তা সবুজ রঙের, সামনে লেখা তার বিভাগের নাম এবং বাম দিকের ওপরের অংশে ফুটে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো। পেছনে লেখা ছিল তার নাম ‘হাসনাত’ ও নম্বর ১০।

এর আগে তিনি একই জার্সি পরে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র অনুযায়ী, শপথগ্রহণের পর তিনি বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে অংশ নিয়ে সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করতে সহায়তা করবেন।

আজ বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তরবণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মন্ত্রিসভায় সুনামগঞ্জের প্রতিনিধি থাকলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে দাবি নুরুল হক আফিন্দীর

নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে সুনামগঞ্জের উন্নয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির দাবি উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান। তিনি মনে করেন, হাওরবেষ্টিত এই জনপদের টেকসই উন্নয়নের জন্য মন্ত্রিসভায় জেলার প্রতিনিধি থাকা জরুরি।

​নুরুল হক আফিন্দী বলেন, নতুন সরকার গঠনের শুরুতেই জনমনে স্বস্তি ফেরাতে চাঁদাবাজ ও লুটপাটকারীদের দৌরাত্ম্য কঠোর হাতে বন্ধ করতে হবে।সুনামগঞ্জের বিশেষ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি মন্ত্রিসভায় স্থান পান তবে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে নদী খনন এবং বাঁধের নামে লুটপাট বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। প্রতি বছর বাঁধ সংস্কারের নামে যে মাটি কাটা হয়, তা জমির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। তাই অস্থায়ী বাঁধের বদলে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে।

​বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক সময়ের সমৃদ্ধ টাঙ্গুয়া ও খরচার জলাভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। অনেক প্রজাতির মাছ ও ঝোপঝাড় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সুনামগঞ্জ থেকে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার সময় এখনও হয়নি: মির্জা আব্বাস

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে এখনও সময় হয়নি, সময় আছে তো বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথগ্রহণ শেষে সংসদ ভবন থেকে বের হওয়ার পথে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা আব্বাস বলেন, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাতে পেরেছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হয়ে অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বিত বোধ করছি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ আপনারা না নিলে জামায়াত কোনো শপথই নেবে না, এ প্রসঙ্গ মির্জা আব্বাস বলেন আমাদের গণতান্ত্রিক ধারা মেনে চলা উচিত, যা হবে সংসদে হবে।

দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন আপনারা পেয়েছেন। কীভাবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সংসদ কার্যকর করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করব।

এর আগে, কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিরা বেতনসহ যেসব সুবিধা পান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শিগগিরই বাংলাদেশের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে অন্যতম জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক দলটি।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় নতুন প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-এমপিরা কত টাকা বেতন পেয়ে থাকেন এ নিয়েই বরাবরই আগ্রহী দেশের সাধারণ মানুষ। এছাড়া বেতনের বাইরে তারা আর কী কী সুবিধাদি পান তা নিয়েও যেন জনসাধারণের কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচনের সময়টায় এইসব প্রশ্ন অনেকের মনেই উঁকি দেয়।

জানা যায়, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বেতন পান রাষ্ট্রপতি। তিনি মূল বেতন হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। আর প্রধানমন্ত্রীর মাসিক বেতন হয়ে থাকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এই দুই ব্যক্তির সব খরচ রাষ্ট্র বহন করে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া হিসেবে ১ লাখ টাকা পেয়ে থাকেন। এছাড়া দৈনিক ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের জন্য বিমা কভারেজ ২৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিল দেড় কোটি টাকা পেয়ে থাকেন তিনি। অবশ্য সরকারি বাসভবনে থাকলে তিনি বাড়ি ভাড়া বাবদ ১ লাখ টাকা পাবেন না।

জাতীয় সংসদের স্পিকার বেতন পান ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। বেতন পাওয়ার দিক দিয়ে তার পরের অবস্থানে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি মাসিক বেতন পান ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীরা বেতন পান মাসিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর প্রতিমন্ত্রীদের বেতন ৯২ হাজার টাকা। একই পরিমাণ বেতন পান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিপ হুইপ এবং বিরোধী দলীয় নেতা। এছাড়া উপমন্ত্রীদের মাসিক বেতন হয়ে থাকে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা।

একজন সংসদ সদস্য বেতন পান ৫৫ হাজার টাকা করে। এছাড়া বিভিন্ন ভাতা বাবদ পান আরও টাকা। এর মধ্যে রয়েছে- আপ্যায়ন, চিকিৎসা, পরিবহন, ভ্রমণ, অফিস পরিচালনা ও টেলিফোন বিল। এছাড়া বিমার আওতায় থাকেন সংসদ সদস্যরা।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পান। এই গাড়ি পরিবহন পুল থেকে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সরকারি প্রয়োজনে ভ্রমণের সময় তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ গাড়ি পান।

জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ পান। একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পান ২ হাজার টাকা। উপমন্ত্রী পান দেড় হাজার টাকা।

আইন অনুযায়ী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস) পাবেন। এছাড়া একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তার বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। এছাড়া দুইজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুইজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পেয়ে থাকেন।

প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পেয়ে থাকেন। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একটি করে মুঠোফোনের সুবিধাও পেয়ে থাকেন।

শপথ নিলো জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে জয়ী প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এ সময় তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের শপথও গ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে  জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে তারা শপথ নিয়েছেন।

শপথের আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

এর আগে, সকাল পৌনে ১১টার দিকে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা। তাদেরও শপথ পাঠ করান সিইসি।

নতুন মন্ত্রিসভা হতে পারে ৫০ সদস্যের, ফোন পেয়েছেন যারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলেই শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন মন্ত্রিপরিষদ। এবারের মন্ত্রিসভা ৫০ সদস্যের হতে পারে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা সমান সমান হতে পারে।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে আনা–নেওয়ার জন্য ৪৯টি গাড়ি পাঠাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে ২৫ পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন দিতে শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অনেকে ফোন পেয়েছেন এবং গণমাধ্যমকে সেই খবর নিজেরাই নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ফোন পেয়েছেন।

সিলেট থেকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। ডাক পেয়েছেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনও ফোন পেয়েছেন। তিনিও পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন।

বগুড়া -২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত নুরুল হক (নুর) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ডাক পেয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ–৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় ২ জনের নাম

নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন-এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন মহলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও চলছে নানা জল্পনা।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভা গঠনকে ঘিরে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়েও মতবিনিময় হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পদত্যাগ করতে পারেন- এমন ইঙ্গিত তিনি গত ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও দায়িত্বে অব্যাহত থাকা নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি পদে আসতে পারেন-এমন আলোচনা আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল। তিনি কুমিল্লা–১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং অতীতে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় থাকলেও দলীয়ভাবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন- সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালানন্দ শর্মা। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও (এমপি) শপথ গ্রহণ করবেন। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

অস্ত্রোপচারের পর কেমন আছেন তানিয়া বৃষ্টি?

অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টির ব্রেন টিউমারের খবর প্রকাশ হতেই ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চার ঘণ্টাব্যাপী জটিল সার্জারির পর বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, জানিয়েছেন নির্মাতা ইমরাউল রাফাত।

তানিয়াকে অন্তত ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পোস্ট-অপারেটিভ জটিলতার সম্ভাবনা থাকায় এখনই তাকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। এই সময়টিতে পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করা জরুরি।

ইমরাউল রাফাত বলেন, অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং টিউমার অপসারণ করা গেছে। তবে এখনই আউট অব ডেঞ্জার বলা যাচ্ছে না। তানিয়া ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেই দিন নিজের ফেসবুক পোস্টে অসুস্থতার খবর জানান। পোস্টে তিনি ভালোবাসা দিবসে পরিবারের দেওয়া ফুল হাতে হাসপাতালে বসে থাকা একটি ছবি শেয়ার করে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।