Home Blog Page 204

চাপে আছে ভারত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’।

মুম্বাই  থেকে এএফপি জানায়, চলতি মাসে ঘোষিত চুক্তিটি বিশেষ করে ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, সস্তা মার্কিন পণ্য আমদানি হলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভারতে ৭০ কোটির বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত।

চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি, শুধু একটি যৌথ বিবৃতি ও হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্পের যুগে নিশ্চিত বলে কিছু নেই।’ তার মতে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা টিকবে কি না, তা নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি হলো- সভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, বছরে আমদানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা ‘অবাস্তব’।

তিনি জানান, এ অঙ্গীকারের বড় অংশ বিমান কেনার সঙ্গে যুক্ত। তবে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তও মোট লক্ষ্যপূরণে যথেষ্ট হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২০০টি বোয়িং বিমান কিনলেও (প্রতি বিমানের আনুমানিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার) মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘অঙ্গীকার’ নয় বরং ‘ইচ্ছা’ হিসেবে লক্ষ্য নির্ধারণ করায় নয়াদিল্লির ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের শিভান ট্যান্ডন বলেন, লক্ষ্যকে বাধ্যবাধকতা না বানানোয় চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে।

আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো- ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই এবং ভারত সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

ভারত বলছে, তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থনির্ভর এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি রুশ তেল আমদানি করলেও জানুয়ারিতে তা কমে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো এপ্রিলের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল কেনা শুরু করেছে।

তবে রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আংশিকভাবে রাশিয়ার রোজনেফটের  মালিকানাধীন মুম্বাইভিত্তিক নায়ারা এনার্জি প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল কেনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।

বিএমআই (ফিচ সলিউশনসের একটি ইউনিট)-এর ড্যারেন টে বলেন, ‘নয়াদিল্লি প্রকাশ্যে পুরোপুরি বন্ধের কথা বলছে না এবং মূল্য ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের কথা উল্লেখ করছে—এতে তেল ইস্যুতে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।’

তার মতে, ভারতীয় রিফাইনারিগুলো স্পট মার্কেটে রুশ তেল কেনা কমাচ্ছে, যা আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতির বদলে আংশিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়।

চুক্তিটি এখনো ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। এ কারণে ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার মতো স্থিতিশীলতা এখনো তৈরি হয়নি ব্বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

রমজান সামনে রেখে খেজুর বাজার জমজমাট

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের বাজার এখন জমজমাট। পাইকারি ও খুচরা বাজারের পাশাপাশি ফুটপাতে বসেছে খেজুরের মৌসুমি বাজার। দাম অনেকটা গত বছরের মতোই। ফলে বেচাকেনাও বেশ ভালো। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ পচা খেজুর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। যদিও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি খেজুর ব্যবসায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার সদরঘাট-বাদামতলী ফল বিক্রয় এলাকায় বেড়েছে খেজুরের বেচাকেনা। দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ও খুচরা ফলের বাজার হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় আমদানিকারকদের বেশিরভাগ আড়ত অবস্থিত। তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন জাতের খেজুর পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ভিড় করছেন এখানে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আড়ত এলাকায় প্রতি ৫ কেজি প্যাকেটের খেজুরের দাম ধরা হয়েছে মরিয়ম ভিআইপি ৫ হাজার টাকা, কালনি ২ হাজার ৯০০, ফরিদা ১ হাজার ৭৫০, সুক্কারি ১ হাজার ৮৫০, সুফরি ২ হাজার, ছড়া ২ হাজার ২০০, মেভজুল ৫ হাজার ৭০০, মিনিফি ১ হাজার ৮০০, রাবেয়া ২ হাজার ৫০, কালমী ২ হাজার ৬০০, খুরমা ১ হাজার, মরিয়ম জমজম ৪ হাজার ৭০০, মাসরুক ২ হাজার ৩০০, মেভজুল বড় ৭ হাজার ২০০, মেভজুল মাঝারি ৬ হাজার ১০০, মাবরুম ৫ হাজার, সুল্যাস ২ হাজার ৩০০, দুখানী মরিয়া ৪ হাজার এবং মালমী (ভিআইপি) ৩ হাজার ৪০০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, ৩ কেজি প্যাকেটের মধ্যে আজোয়া ২ হাজার ৭০০, কালমী ২ হাজার ২০০ এবং মাবরুম ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ১ কেজি প্যাকেটের ক্ষেত্রে মেভজুল বড় ১ হাজার ৫৫০, মেভজুল মাঝারি ১ হাজার ৪০০, মেভজুল ছোট ১ হাজার ৩০০ এবং মাবরুম মাঝারি ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে এ দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি।
এদিকে খেজুর ব্যবসায় অসাধু উপায় অবলম্বনকারিদের নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ, পঁচা বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরাসরি মেঝেতে পণ্য রাখা যাবে না; কাঠের তক্তা বা চাটাইয়ের ওপর রাখতে হবে এবং বস্তাবন্দি খেজুর স্বচ্ছ পিপি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যেন মশা-মাছি না বসে। মেয়াদোত্তীর্ণ কোল্ড স্টোরেজে রাখা মাল্টা বা ম্যান্ডারিন বিক্রির আগে সমিতির পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং কোনোভাবেই খাদ্য-অযোগ্য পণ্য বাদামতলী মন্ডিতে বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া খেজুর পরিমাপের স্কেল বা পাল্লা পরীক্ষা করে ব্যবহার, মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং বিক্রির মেমো বা রশিদ কার্বন কপিসহ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে কোনো সময় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর বা বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এ কারণে সব ব্যবসায়ীকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্যের বার্তা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে গণরায়ের ভিত্তিতে গঠিত এ সরকারকে ঘিরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আঞ্চলিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করছে।

শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ—উভয়ের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকায় ব্যক্তিগতভাবে শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও দুই দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও প্রতিনিধিত্বের স্তর ও বার্তাই এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্বকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ধারাবাহিক বন্ধুত্বের পুনর্ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন।

ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিস্ত্রি। ভারতের কূটনৈতিক সূত্র জনকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস নোটে ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধনের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক বহুমাত্রিক। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পৃক্ততা ক্রমবর্ধমান। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সংযোগ অবকাঠামো, জ্বালানি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—এসব ক্ষেত্রে উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে আসছে। ফলে শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্বকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই মূল্যায়ন করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তানের পক্ষে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী এহসান ইকবাল অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তন এসেছে, তার আলোকে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্কেও বাস্তববাদী যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ অস্ট্রিয়ার ফেডারেল চ্যান্সেলর ক্রিস্টিয়ান স্টোকারের আমন্ত্রণে ১৫–১৬ ফেব্রুয়ারি ভিয়েনা সফরে রয়েছেন। সফরকালে তিনি পাকিস্তান–অস্ট্রিয়া বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে একাধিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমমন্ত্রী নালিন্দা জয়তিস্সা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন। একইভাবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল (অব.) বালা নন্দ শর্মার উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো—বিশেষত আঞ্চলিক বাণিজ্য, জলবায়ু সহনশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনগণ-জনগণ যোগাযোগ—এগুলোতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকে আঞ্চলিক সংহতির ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে, ১৭–১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতে সরকারি সফরে রয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরে ‘হরিজন ২০৪৭’ রোডম্যাপের আলোকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জ্বালানি রূপান্তর ও ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। মুম্বাইয়ে ‘ইন্ডিয়া–ফ্রান্স ইয়ার অব ইনোভেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধন এবং নয়াদিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশগ্রহণ—এসব কর্মসূচি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের বহিঃপ্রকাশ। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে সমান্তরাল কূটনৈতিক তৎপরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সময়রেখাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্য

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথকে কেন্দ্র করে যে বহুপাক্ষিক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা দেশের কৌশলগত অবস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার স্বীকৃতি বহন করে। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে সংযোগ, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস—এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে।

নবনির্বাচিত সরকারের জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সক্রিয় ভূমিকাই হবে অগ্রাধিকার। কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক জোরদার, বহুপাক্ষিক মঞ্চে সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততা—এই তিন অক্ষে আগামী দিনের কৌশল নির্ধারিত হতে পারে।

আজকের শপথ অনুষ্ঠান কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী মুহূর্ত। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিত্বমূলক উপস্থিতি পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও সহযোগিতার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশের নতুন সরকার আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পক্ষে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে—এ প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এ শপথ অনুষ্ঠান ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি সুদৃঢ় করার এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাকিব-মাশরাফির বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা বিশ্বাসযোগ্য নয়: ইশরাক

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতীয় দলের সাবেক দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তাজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণহত্যার মামলা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, দেশের ‘অ্যাসেট’ হিসেবে দেখা উচিত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে নেই। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাকিব আল হাসানের নামেও একাধিক মামলা হয়েছে একই কারণে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, তারা ক্রিকেটার এবং শুধু কোনো যেন-তেন ক্রিকেটার না, তারা আমাদের দেশের অ্যাসেট। আমি তাদের ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করছি। জনগণ ইতোমধ্যে একপ্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা হয়েছে, সেটি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়নি, তারা গিয়ে কোনো অর্ডার ক্যারি আউট করেছে বা নিজের হাতে বন্দুক নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিসিবির কাউন্সিলর কেমন করে হয় সেখানে জেলা প্রশাসক কাউন্সিলর নিয়োগ দেন। এটা মহাদুর্নীতি, বাণিজ্য ও পক্ষপাতিত্বমূলক প্রক্রিয়া। নিজেদের সিন্ডিকেট বোর্ডে বসানোর চেষ্টা হলে আমরা তো বসে থাকতে পারি না।

তবে নিজে বোর্ড রাজনীতিতে আসার আগ্রহ নেই বলেও জানান তিনি। আমি একজন কাউন্সিলর হলেও কখনো বোর্ডে আসব না। আমার বোর্ডে আসার সময় নেই। আমি ফুলটাইম রাজনীতি করব। আমি চাই, যারা ফুলটাইম ক্রীড়া সংগঠক, তারা আসুক। আমরা তাদের সহায়তা করব, যোগ করেন ইশরাক।

ড. ইউনূস একটি জালেমকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন

জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেছেন, ‘ড. ইউনূস একজন জালেম ব্যক্তিকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন এবং আমরা দেখছি, তাদের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের কার্যালয় উদ্বোধন করা হচ্ছে।’ আজ রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনি যেভাবে এ দেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সহায়তা করেছেন, তা জাতি মনে রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যখন লন্ডনে গিয়েছিলেন, তখন আমরা বলেছিলাম আপনি সেখানে সিজদা দিয়ে এসেছেন। এরই ফল হিসেবে এবারের নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্যবহার করে কারচুপি করা হয়েছে।’

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের বোনদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, এর দায় আপনাকেই নিতে হবে। আমরা কাউকে ক্ষমা করার পক্ষপাতী নই।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করায় আপনি ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছেন।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা যখন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়েছি, তখন তা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলার মাটিতে ওসমান হাদি হত্যার বিচার হতেই হবে। যদি এ হত্যার বিচার হতো, তাহলে আমাদের বোন আজ গণধর্ষণের শিকার হতো না। বিএনপির নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে, তারা সেই সাহস পেত না।’

মন্ত্রিসভায় থাকছে চমক

আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও চলছে ত্বরিতগতিতে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এমনটা এক প্রকার নিশ্চিত।

আগামীকাল মঙ্গলবার হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। কারা থাকবেন সেখানে, কাদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা- সেটাই এখন সকলের আগ্রহের বিষয়, ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ও। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে এ প্রশ্নে জবাবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, নবীন-প্রবীণের মিশেলে হবে এবারের চমকের মন্ত্রিসভা। যেভাবে সারাদেশে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই ছাপ দেখা যাবে মন্ত্রিসভাতেও।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের ঠাঁই হবে মন্ত্রিসভায়। ‘চমক’ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও বিএনপির জোটসঙ্গী কয়েকজনও স্থান পাবে মন্ত্রিসভায়। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে যারা হাল ধরে ছিলেন তাদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে, সেটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিএনপির বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতাই এবার নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন, সেই ধারণাই পাওয়া গেছে দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও ডা. এ জেড এম জাহিদের মতো পরীক্ষিতরা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

এ ছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লুৎফুজ্জামান বাবর, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, ওসমান ফারুক, আলী আজগর লবি, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মো. বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নওশাদ জমির, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, নিতাই রায় চৌধুরী, আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওশাদ জমির, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও এসএম জিলানীর নাম নিয়েও চলছে আলোচনা।

জোটসঙ্গীদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নূর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জোর আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার জোর গুঞ্জন রয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস কনফারেন্সে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের সময় এ বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, তিনি ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ওই সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নকল দমনে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, জোর গুঞ্জন রয়েছে, বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ হতে পারেন রাষ্ট্রপতি। তেমনি হলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে দেখা যেতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার। আইএমএফে কাজ করা এ অর্থনীতিবিদ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর আগেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে তথ্য অথবা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় জোর গুঞ্জন চলছে- দলটির সিনিয়র নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বস্ত্র ও পাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু (সমাজকল্যাণ), আবদুস সালাম পিন্টু (শিল্প), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (স্বরাষ্ট্র), মাহবুব উদ্দিন খোকন কিংবা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (আইন ও বিচার),  ইকবাল মাহমুদ টুকু (কৃষি), আমান উল্যাহ আমান (ডাক, টেলিযোগাযোগ), ব্যারিস্টার নওশাদ জামির (খাদ্য), শামা ওবায়েদ (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), নিতাই রায় চৌধুরী (যুব ও ক্রীড়া), সানজিদা ইসলাম তুলি (মহিলা ও শিশু), মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম), লুৎফুজ্জামান বাবর (পানি সম্পদ), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক), জয়নুল আবেদীন ফারুক (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), হাবিবুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা), আজিজুল বারি হেলাল (পরিবেশ ও বন), শিমুল বিশ্বাস (সংস্কৃতি), ববি হাজ্জাজ (পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী), হুম্মাম কাদের চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান) এবং জোট সঙ্গী আন্দালিব পার্থ (রেলপথ), নুরুল ইসলাম নুরু (নৌ পরিবহন) এবং জোনায়েদ সাকি (ভূমি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় যারা আলোচনায় রয়েছেন ॥
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে বলে দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকেও এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলও আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাককেও যে কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জনকণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কে কোন মন্ত্রণালয় ভালো করবেন তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যান পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তবে, এ মুহূর্তে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।’

ত্বক দীর্ঘসময় কোমল রাখতে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়

০

শীতকালে ত্বক দীর্ঘসময় কোমল রাখতে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়

শীত এলেই আমাদের ত্বক সবার আগে পরিবর্তনটা টের পায়। বাতাস ঠান্ডা হয়ে যায়, আর্দ্রতা কমে যায়, আর হঠাৎ করেই দেখা যায়- যে লোশনটি সারা বছর ভালো কাজ করত, সেটি আর আগের মতো কার্যকর মনে হচ্ছে না। যতবারই লাগান না কেন, কিছুক্ষণ পর আবার ত্বক শুষ্ক, টানটান আর রুক্ষ লাগে।

কিন্তু এর কারণ সব সময় লোশন নয়। অনেক সময় কখন লোশন লাগাচ্ছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক সময়ে লোশন ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে এবং নরম-মসৃণ থাকে দীর্ঘসময়।

আজ আমরা জানব শীতে কেন ত্বক বেশি শুকিয়ে যায়, লোশন কীভাবে কাজ করে, এবং শীতকালে দীর্ঘস্থায়ী ময়েশ্চারের জন্য লোশন ব্যবহারের সেরা সময় কোনগুলো।

শীতকালে ত্বক কেন বেশি শুষ্ক হয়ে যায়
ঠান্ডা বাতাসে আর্দ্রতা খুব কম থাকে, ফলে ত্বক খুব দ্রুত নিজের ভেতরের পানি হারায়। এর ওপর ঘরের ভেতরের হিটার বা গরম বাতাস ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে।

শীতকালে ত্বক দীর্ঘসময় কোমল রাখতে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়
যে ৫ খাবার ফ্রিজে রাখবেন না
শীতকালে সাধারণত যা ঘটে :

– ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে যায়

– ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়, ফলে খোসা ওঠা ও জ্বালা দেখা দেয়

– মোটা কাপড় ও গরম পানিতে গোসল ত্বক আরও শুষ্ক করে, এর ফল হলো—হাত, পা, কনুই ও হাঁটুতে রুক্ষতা, চুলকানি ও টান ধরা ভাব। তাই শীতে সঠিক লোশন নির্বাচন এবং সঠিক সময়ে ব্যবহার করা খুবই জরুরি।

শীতকালে লোশন ব্যবহারের সেরা সময়

গোসলের পরপরই (৩ মিনিটের মধ্যে)

এটাই লোশন লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময়। গোসলের পর ত্বক যখন হালকা ভেজা থাকে, তখন লোশন খুব সহজে শোষিত হয় এবং ত্বকের ভেতরের পানি আটকে রাখতে সাহায্য করে।

টিপস: তোয়ালে দিয়ে ত্বক ঘষে না শুকিয়ে হালকা চাপ দিয়ে পানি মুছে নিন, তারপর লোশন লাগান।

ঘুমানোর আগে

রাতে আমাদের ত্বক নিজে নিজে ঠিক হওয়ার কাজ করে। ঘুমানোর আগে লোশন লাগালে ত্বক সারা রাত পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

বিশেষ করে পা, কনুই ও হাঁটুতে ভালো করে লাগান—সকালে ত্বক হবে অনেক নরম।

টিপস: গভীর ময়েশ্চারের জন্য লোশন লাগানোর পরে হালকা petroleum jelly বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন, যাতে আর্দ্রতা আরও দীর্ঘসময় ধরে থাকে।

হাত ধোয়ার পর বা ঠান্ডা বাতাসে বের হলে

বারবার হাত ধোয়া ও ঠান্ডা বাতাস ত্বকের প্রাকৃতিক তেল তুলে নেয়। তাই ব্যাগে ছোট একটি লোশন রাখুন এবং প্রয়োজনমতো লাগান।

এই অভ্যাস শীতেও হাতকে নরম ও মসৃণ রাখবে।

লোশনের ধরন কেন গুরুত্বপূর্ণ
শীতকালে হালকা লোশন অনেক সময় কাজ করে না। এই সময় দরকার এমন লোশন, যা গভীরভাবে ত্বককে পুষ্টি দেয় এবং দীর্ঘসময় আর্দ্রতা ধরে রাখে।

যেসব উপাদান খুঁজবেন—

– শিয়া বাটার বা গ্লিসারিন (গভীর ময়েশ্চারের জন্য)

– ভিটামিন ই (ত্বক রক্ষা ও মেরামতের জন্য)

– অ্যালোভেরা বা গোলাপ নির্যাস (ত্বক শান্ত করতে)

– ২৪ ঘণ্টা ময়েশ্চারের জন্য সহজ রুটিন

– কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন

– গোসলের পরপরই লোশন লাগান

– রাতে ঘুমানোর আগে আবার লাগান

– ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন

– পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতকালে সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য শুধু ভালো লোশনই যথেষ্ট নয়—সঠিক সময়ে লোশন ব্যবহার করাই আসল চাবিকাঠি। গোসলের পর এবং ঘুমানোর আগে নিয়মিত লোশন লাগালে ত্বক থাকবে নরম, মসৃণ ও সুরক্ষিত।

এই শীতে আপনার ত্বককে দিন বাড়তি যত্ন। নিয়মিত লোশন ব্যবহার করুন, আর উপভোগ করুন সারাদিনের ময়েশ্চার ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি জোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন। ওই দিন সকালে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দামে উত্থান

দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর প্রত্যাশা জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃহস্পতিবারের পতনের পর উল্লম্ফিত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫,০২২.০৬ ডলারে পৌঁছায়। সপ্তাহের হিসেবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.২ শতাংশ বাড়ার দিকে রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এক দিনের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ পতন ঘটে, যা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ছিল।

এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্সও প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ৫,০৪৬.৩০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জানুয়ারির ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) প্রত্যাশার তুলনায় কম আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং মন্তব্য করেছেন, “শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের পর যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, নরম CPI তা প্রশমিত করেছে। এর ফলে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।”

মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ভোক্তা মূল্যসূচক ০.২ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে অর্থনীতিবিদরা ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ডিসেম্বরেও মূল্যসূচক ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

তথ্যসংগ্রাহক সংস্থা এলএসইজি জানিয়েছে, চলতি বছরে বাজারে মোট ৬৩ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যার প্রথম ধাপ হতে পারে জুলাই মাসে। সাধারণভাবে, সুদহার কম থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও, রুপার দাম ৩.৪ শতাংশ বাড়ে আউন্সপ্রতি ৭৭.৭০ ডলারে। যদিও এর আগের সেশনে রুপার দাম ১১ শতাংশ কমেছিল, সাপ্তাহিক হিসাবে সামান্য ০.৩ শতাংশ হ্রাসের পথে রয়েছে।

প্লাটিনামের দাম ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২,৭৫.৯৩ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ১,৬৭৪.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই দুটি ধাতুই সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ক্ষতির মুখে রয়েছে।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো…

সেদিনও বইছিল বসন্ত বাতাস। তবে  ফাগুনরাঙা সেই বাতাসে মিশেছিল দ্রোহের উত্তাপ। ইতিহাসের বাঁক ফেরানো দিনটিতে বারুদের গন্ধ ছড়িয়েছিল শহর ঢাকায়। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে জ্বলে উঠেছিল তরুণ হৃদয়ের বহ্নিশিখা। শোষকের বিনাশী তৎপরতার মাঝে অবিনাশী হয়ে উঠেছিল সেসব তরুণ প্রাণ। বুকের রক্তে ছিঁড়ে দিয়েছিল শাসকের ষড়যন্ত্রের সবক’টা জাল। রচিত হয়েছিল বাঙালি জাতিসত্তার  নতুন ইতিহাস।
মাতৃভাষার দাবিতে জ্বলে ওঠা সেই দিনটি ছিল ১৯৫২ সালে একুশে ফেব্রুয়ারি। এদিন বেলা ১১টায় আমতলার সভায় এসেছিল ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত। সভাপতির ভাষণে ছাত্রদের মাঝে সংগ্রামী চেতনা ছড়িয়ে দিয়ে ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক বলেন, ‘নুরুল আমিন সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পুলিশ মোতায়েন করেছে। ১৪৪ ধারা ভাঙা হলে নাকি গুলি করা হবে, ছাত্রদের হত্যা করা হবে। আমরা সরকারের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। ১৪৪ ধারা আমরা ভাঙব। আমরা দেখতে চাই নুরুল আমিন সরকারের অস্ত্রাগারে কত বুলেট জমা আছে।’
সেই উদ্দীপ্ত বক্তৃতা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্লোগান ওঠে, ১৪৪ ধারা মানি নাÑমানি না। গগণবিদারী স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। সত্যাগ্রহ করতে দশজনের দল করে দল বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। তবে কে প্রথম ভাঙাবে ১৪৪ ধারা, তা নিয়ে ছিল দ্বিধাদ্বন্দ্ব ।
মোহাম্মদ সুলতানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যারা সত্যাগ্রহ করতে বাইরে যাবেন তাদের নাম, ঠিকানা লিখে রাখার। তাকে সাহায্য করেন আজহার ও হাসান হাফিজুর রহমান। নাম-ধাম লিখে নেওয়ার জন্য মোহাম্মদ সুলতান এগিয়ে আসতেই মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান শেলী (পরবর্তীকালে প্রধান বিচারপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) বলে ওঠেন, ‘তুই আমার পঙ্খীরাজটা (সাইকেল) দেখিস, আমি চললাম।’ অতঃপর গলা ফাটিয়ে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যান কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে। ১৪৪ ধারা ভাঙার প্রথম দলের নেতৃত্ব দিয়ে প্রথম দলের সঙ্গে এগিয়ে যান মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
১৪৪ ধারার ভাঙ্গার ঘটনা প্রসঙ্গে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, ‘তখন বেলা সোয়া একটা। উত্তেজনায় সারা গা থেকে তখন আগুনের ভাপ বের হচ্ছে। প্রথমে পুলিশ আমাদের ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে এবং পরে রাস্তার একধারে ঘেরাও করে রাখে। আমরা এগিয়ে যাওয়ার পর যখন অন্য ছাত্ররা গেট পার হয়ে রাস্তায় নামতে শুরু করল তখন আমাদের কয়েকজনকে পুলিশ একটা ট্রাকে তুলে নিল। ট্রাকটা যখন তেজগাঁওয়ের দিকে চলতে শুরু করল তখন মনের অবস্থা হাল্কা করার জন্য আমি বললাম, দূরে কোথাও কোন মজা পুকুরে আমাদের চ্যাংদোলা করে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ট্রাকটা চলার সঙ্গে সঙ্গে ঠা-া হাওয়ায় মানসিক উত্তেজনা কিছু কমল, কিন্তু দুর্ভাবনা বাড়তে থাকল।’
এরপর দলে দলে মানুষ বের হতে শুরু করে। ১৪৪ ধারা ভাঙা ও গ্রেপ্তার বরণের এক প্রতিবাদী প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে গাজীউল হক বলেন, ‘দ্বিতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়ে ইব্রাহীম তাহা ও আবদুস সামাদ বাইরে বের হলেন। তৃতীয় দল নিয়ে বের হলেন আনোয়ারুল হক খান এবং আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। তিনটি সত্যাগ্রহী দলকেই পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং ট্রাকে তুলে নেয়।
এ সময় পুলিশের তরফ থেকে গেটে একটি হামলা ও লাঠিচার্জ হয়। এর ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম চতুর্থ দলটি যাবে সাফিয়ার নেতৃত্বে। এই দলে বেশ কয়েকজন ছাত্রী ছিলেন। রওশন আরা বাচ্চু, ডা. সাফিয়া, সুফিয়া ইব্রাহিম, শামসুন নাহার প্রমুখ। পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছাত্রদের রক্তে তখন বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। মোহাম্মদ সুলতানের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সত্যাগ্রহীদের নাম লেখার সময় পাওয়া যাচ্ছিল না। এসময় কাঁদানে গ্যাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ অন্ধকার হয়ে পড়ে। কাঁদানে গ্যাসের একটি শেল এসে সরাসরি আমার বুকে লাগে এবং আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি।’
পুলিশ এরপর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়-চত্বরে প্রবেশ করে। এ সময় কিছুক্ষণের জন্য ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের মাঝখানের প্রাচীর টপকে মেডিক্যাল হোস্টেলের প্রধান ফটকের কাছে আবার জমায়েত হন। গ্রেপ্তারবরণ চলতে থাকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত।