ভালো চাকরি, নিয়মিত আয়, সময়মতো ঋণের কিস্তি সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও কেন বহু মধ্যবিত্ত পরিবার বছরের পর বছর একই আর্থিক বৃত্তে ঘুরপাক খায়? কেন বাড়ে না প্রকৃত সম্পদ, কেন ধনী হওয়ার স্বপ্নটা কেবল স্বপ্নই থেকে যায়? অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পেছনে কাজ করে কিছু নীরব কিন্তু ভয়ংকর আর্থিক ফাঁদ, যা বুঝে ওঠার আগেই ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আটকে দেয়।
দেখনদারির খরচে সম্পদের মৃত্যু
আয় বাড়লেই জীবনযাত্রার মান হঠাৎ লাফিয়ে বাড়ানো মধ্যবিত্তদের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। নতুন গাড়ি, বড় বাসা কিংবা দামি গ্যাজেট সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু এই তথাকথিত ‘লাইফস্টাইল আপগ্রেড’ ধীরে ধীরে গ্রাস করে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সক্ষমতা। ফলাফল, মাস শেষে হাতে কিছুই থাকে না থাকে শুধু বিল আর দায়।
একটি আয়ের ওপর অন্ধ নির্ভরতা
একটি চাকরি মানেই নিরাপত্তা এই ধারণা এখন আর বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। চাকরি হারানো, বাজার মন্দা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি এক মুহূর্তেই আয় থামিয়ে দিতে পারে। যাঁরা আর্থিকভাবে এগিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই একাধিক আয়ের উৎস রয়েছে। সাইড ইনকাম শুরুতে ছোট হলেও সময়ের সঙ্গে সেটিই হয়ে উঠতে পারে মূল ভরসা।
বিনিয়োগভীতি ও সুযোগ হারানো
অনিশ্চয়তার ভয় দেখিয়ে বহু মধ্যবিত্তকে বিনিয়োগ থেকে দূরে রাখে। ফলে টাকা পড়ে থাকে সঞ্চয় হিসাবে বা স্বল্প মুনাফার স্কিমে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি নীরবে তার মূল্য কমিয়ে দেয়। বাস্তবতা হলো ঝুঁকি না নিলে বড় লাভও আসে না। সঠিক জ্ঞান ও পরিকল্পনা ছাড়া বিনিয়োগ নয় ঠিকই, কিন্তু ভয় পেয়ে পুরোপুরি দূরে থাকাও সমান ক্ষতিকর।
ভোক্তা ঋণের ফাঁদে আটকে যাওয়া
ক্রেডিট কার্ড বা উচ্চ সুদের ভোক্তা ঋণ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা আর্থিক স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শত্রু। সুদের চাপ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সব পথ বন্ধ করে দেয়। ঋণ নিতেই হলে সেটি হওয়া উচিত এমন খাতে, যেখানে ভবিষ্যতে মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ফেরত দেওয়ার স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।
দক্ষতা উন্নয়নে অনীহা
দ্রুত বদলে যাওয়া অর্থনীতিতে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বহু মানুষ বছরের পর বছর একই দক্ষতা নিয়ে কাজ করে যান, অথচ বাজার চায় নতুন স্কিল। ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স, কোডিং বা ফ্রিল্যান্সিং এ ধরনের দক্ষতা আয় বাড়ানোর বড় হাতিয়ার হয়ে উঠছে। নিজেকে আপডেট না করলে ক্যারিয়ারও থেমে যায়।
এই পাঁচটি ফাঁদ আলাদা করে খুব ভয়ংকর মনে নাও হতে পারে, কিন্তু একসঙ্গে এগুলোই মধ্যবিত্তদের ধনী হওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়। ধনী হওয়া মানে শুধু আয় বাড়ানো নয়; বরং প্রতিদিনের সিদ্ধান্তে ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আজ একটি অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, নতুন একটি দক্ষতা শেখা কিংবা বিনিয়োগ পরিকল্পনা শুরু করাই হতে পারে আগামীর বড় সাফল্যের ভিত্তি। কারণ প্রকৃত সম্পদ গড়ে ওঠে সাহসী সিদ্ধান্ত আর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়েই।
ধনী হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় কেন? মধ্যবিত্তদের অর্থনৈতিক উন্নতি আটকে রাখা সেই ৫ ভয়ংকর অর্থনৈতিক ফাঁদ
র্যাবের অভিযানে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ১
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইল এলাকা থেকে অপহৃত ৮ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এসময় অপহরনকারীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র্রী খুলনার খানজাহান আলী থানাধীন একটি স্কুলের ছাত্রী।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে র্যাবের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
গ্রেফতারকৃত সোহাগ মিয়া (২৯) সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানাধীন ছনখাইর এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে র্যাব এসব তথ্য নিশ্চিত করে।
র্যাব জানায়, গত ১ জানুয়ারি ভিকটিম স্কুলের যাওয়ার পর সে আর বাড়ি ফিরেনি। অনেক খোঁজাখুজির পর ভিকটিমের পরিবার জানতে পারে অজ্ঞতনামা ৩/৪ জন যুবক তাকে খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়ীগেইট বাস স্ট্যান্ড থেকে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশা করে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী খুলনার খানজাহান আলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দায়ের করেন।
পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখম, বাবা মাকেও মারধরের অভিযোগ
পটুয়াখালীর বাউফলে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হাসান মৃধা (২০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে বাঁচাতে গেলে তার বাবা–মাকেও মারধর করে আহত করা হয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শানেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ধান কাটার মজুরি বাবদ বাচ্চু হাওলাদারের কাছে এক হাজার টাকা পাওনা চাইতে যান হাসান মৃধা।
এ নিয়ে বাচ্চু হাওলাদার ও হাসানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাচ্চু হাওলাদার ও তার ভাই মনির হাসানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন ।
এ সময় হাসানের বাবা সোহাগ মৃধা ও মা ফাতেমা বেগম বাধা দিলে তাদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরজাহান বেগম জানান, রাত ৯টার দিকে তিনজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। হাসানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনির বলেন, হাসানের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টি ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। হাসান একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। আমার বড় ভাইয়ের কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান গালিগালাজ শুরু করলে তাকে মারধর করা হয়।
বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি এখনো কেউ আমাকে জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজধানীর তিন স্থানে শিক্ষার্থীদের অবরোধ
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ফের রাজধানীর তিন স্থান অবরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের ব্যানারে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়, টেকনিক্যাল মোড় ও তাঁতীবাজার মোড়ে অবরোধ করেন।
এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অধ্যাদেশ অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়ে এদিন অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে লাগাতার কর্মসূচি চলবে।
উল্লেখ্য, বুধবার একই দাবিতে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ সময় অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তিতুমীর কলেজের কিছু শিক্ষার্থী মহাখালী এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
নেতাকর্মীদের প্রতি জামায়াত আমিরের জরুরি নির্দেশনা!
আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেরিয়ে যাওয়ার খবরের মধ্যেই এক বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য বা লেখালেখি না করার কঠোর আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি জামায়াতের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তারা যেন এ ধরনের বিতর্কিত কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা দফায় দফায় বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় জোট ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের দাবি ছিল কমপক্ষে ৮০টি আসন, যা জামায়াতের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব হয়নি। মাওলানা মামুনুল হক মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেলেও মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসসহ অন্য ৯টি শরিক দল জামায়াতের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, জোটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ায় বেশ কিছু আসনে নতুন করে প্রার্থী বিন্যাস করা হতে পারে। তবে অন্য শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় নির্বাচনে এর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন জোটের নেতারা। আজ বিকেলেই স্থগিত হওয়া সেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সাত দিনে নৌ পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও মাছ জব্দ, গ্রেপ্তার ২৫৪
দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশের চলমান অভিযানে গত সাত দিনে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ঘোষিত অবৈধ জাল, মাছ ও জেলীযুক্ত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অভিযানে ২৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, গত সাত দিনব্যাপী দেশব্যাপী পরিচালিত অভিযানে মোট ৩ কোটি ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩৯৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৭৪ কেজি মাছ, ২০ কেজি কাঁকড়া ও ৮০ কেজি জেলীযুক্ত চিংড়ি। অভিযানের সময় নদী থেকে ২৬০টি ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হয়।
নৌ পুলিশের অভিযানে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ৮৯টি বাল্কহেডের বিরুদ্ধে নৌ আদালতে প্রসিকিউশন দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়।
সাত দিনব্যাপী এই অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৭০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৩টি মৎস্য আইন, ১১টি বেপরোয়া গতি আইন, একটি অপমৃত্যু, একটি বালুমহাল, একটি অপহরণ, দুটি মাদক এবং একটি হত্যা মামলা। একই সময়ে চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
নৌ পুলিশ আরও জানায়, জব্দকৃত অবৈধ জাল ও জেলীযুক্ত চিংড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কাঁকড়া পানিতে অবমুক্ত করা হয় এবং অবশিষ্ট মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
হত্যার বিচার কি আদৌ হবে, প্রশ্ন ওসমান হাদির স্ত্রীর
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা। সেখানে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক দিচ্ছে না।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি এক দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন।
ওসমান হাদিকে নিয়ে দেওয়া রাবেয়া ইসলাম সম্পার পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে! ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক কেন দিচ্ছে না!
প্রথমত, বিচার হবে না এই শব্দটাকেই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে সেটা যে কোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এদেশে আর জন্মাবে না।
তবে এত দেরি বা সময় কেনো লাগছে?
ওসমান হাদি একটা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথের দুটি লাইন বলেছিলেন, সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।
তাই যুক্তি, তর্ক, ব্যাখ্যা কিছুই টানছি না শুধু এতটুকুই বলা আপনি বা আপনারাও জানেন কেন সব সহজে হচ্ছে না! জাস্ট মনে রাখবেন ওসমান হাদি বলে গিয়েছেন- আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই সংগ্রাম। তাই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহিদ ওসমান হাদির নিজের বলা কয়েকটা কথা আপনাদের জানাতে ইচ্ছে হলো- আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপান গুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থ ভাবে আমার সঙ্গে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নাই। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে ডিয়ার।
আপনারা যারা ওসমান হাদিরে শুধু তার কথা শুনে, ভিডিও দেখে তাকে এত ভালোবাসেন, দোয়া করেন, কান্না করেন। তাহলে ভাবেন, ওসমান হাদির এই ভাই-বোন গুলোর মনের অবস্থা কি এখন!
যাদের কাছে ভাই ছিল ২৪ ঘণ্টা ছায়ার মত তারা কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে !
ওসমান হাদি এখন বেঁচে থাকলে হয়তো বলতো আমারে বলেন ঠিক আছে, কিন্তু আমার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোন গুলোরে নিয়ে কথা বলবেন না। তাহলে আমি সহ্য করব না।
দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত—শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি’
গ্যাস বিল নিয়ে তিতাসের নতুন নির্দেশনা
গ্যাস বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতারক চক্র থেকে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি কিছু প্রতারক চক্র নিজেদেরকে ‘তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি পিএলসি’র কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের মোবাইল ফোনে কল করছে।
তারা গ্রাহকদেরকে ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে বকেয়া গ্যাস বিল পরিশোধ করার জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছে।
তিতাস গ্যাসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদেরকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, শুধু কোম্পানির নির্ধারিত ব্যাংকে এবং অনলাইন ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস’ অ্যাপের মাধ্যমে (বিকাশ, রকেট, উপায় ও ট্যাপ) গ্যাস বিল পরিশোধ করুন। কারও ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে গ্যাস বিল পরিশোধ করবেন না।
প্রতারক চক্র থেকে রক্ষা পেতে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিতাস আরও জানায়, প্রয়োজনে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট রাজস্ব অফিসে উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনে যোগাযোগ করে পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করুন।
ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট!
আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভেঙেই গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। আসন নিয়ে অনড় অবস্থানের কারণে জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।
জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলন জানিয়ে দিয়েছে যে, কমপক্ষে ৮০টি আসন না দেওয়া হলে তারা জোটে থাকবে না। জামায়াত প্রথমে ৪০টি এবং পরে ৪৫টি আসন ছাড়ার পাশাপাশি কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই পীর তাতে সন্তুষ্ট হননি। খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক মধ্যস্থতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, তারা আর জোটে থাকছে না। এখন দলটির ২৬৬ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়বেন।
জোটের শরিকদের মতে, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এই জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। তারা ১৪৩টি আসনে নিজেদের জয়ের সম্ভাবনা দাবি করে এবং জামায়াত ও এনসিপির প্রভাবশালী নেতাদের আসনগুলোও দাবি করে বসে। জামায়াতের পক্ষে এতো বিপুল সংখ্যক আসন ছাড়া সম্ভব ছিল না, কারণ এতে জোটের অন্য শরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এই অনড় অবস্থানের কারণে বুধবারের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও পণ্ড হয়ে যায়।
ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে গেলেও মাওলানা মামুনুল হকের খেলাফত মজলিসসহ অন্য ৯টি শরিক দল জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। জোটের অন্য নেতারা মনে করছেন, বড় শরিক চলে যাওয়ায় কিছু আসনে নতুন করে বিন্যাস প্রয়োজন হলেও তা জোটের মূল ঐক্যে ফাটল ধরাবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের এই প্রস্থান ইসলামি দলগুলোর ভোটব্যাংকে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা একে অপরের মুখোমুখি হবেন, সেখানে নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।
সূত্র: আমার দেশ
সাকিবকে নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপে দলটির নেতৃত্ব দেবেন নিয়মিত অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। ঘোষিত দলে জায়গা পেয়েছেন সাকিব জুলফিকারও।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ফিরিয়েছে নেদারল্যান্ডস। তাদের মধ্যে রয়েছেন কলিন অ্যাকারম্যান, রোয়েলফ ফন ডার মারউই, বাস ডি লিডে, টিম ফন ডার গুগটেন, লোগান ফন বিক, মাইকেল লেভিট ও জ্যাক লায়ন-ক্যাশেট। এদের মধ্যে মারউই, ডি লিডে, মাইকেল লেভিট ও লায়ন-ক্যাশেট সর্বশেষ ইউরোপ অঞ্চলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ফাইনালে অংশ নিয়েছিলেন।
অলরাউন্ডার কলিন অ্যাকারম্যান ২০২৪ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। ইংল্যান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্টে ডারহামের হয়ে ১৪ ম্যাচে ৩০৪ রান করেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৫টি টি-টোয়েন্টিতে তার সংগ্রহ ৫১৫ রান ও ১১ উইকেট।
পেসার টিম ফন ডার গুগটেনও ২০২৪ সালে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। নেদারল্যান্ডসের জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে তার শিকার ৫২ উইকেট, পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ১৬৮ রান। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর খেলেননি পেসার লোগান ফন বিক।
অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ছাড়াও দলে রাখা হয়েছে আরও দুই উইকেটরক্ষক কাইল ক্লেইন ও নোয়া ক্রোস। তবে এখনো পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা নেই তাদের কারও।
এদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে থাকা সেড্রিক ডি ল্যাঙ্গে, সিকান্দার জুলফিকার, সেবাস্তিয়ান ব্র্যাট, ড্যানিয়েল ডোরাম, শারিজ আহমেদ ও রায়ান ক্লেইন বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি।
বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এ’-তে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত, পাকিস্তান, নামিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
নেদারল্যান্ডস টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল : স্কট এডওয়ার্ডস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), নোয়া ক্রোস (উইকেটরক্ষক), ম্যাক্স ও’ডাউড, সাকিব জুলফিকার, আরিয়ান দত্ত, কাইল ক্লেইন, পল ফন মিকেরেন, ফ্রেড ক্লাসেন, কলিন অ্যাকারম্যান, বাস ডি লিড, মাইকেল লেভিট, জ্যাক লায়ন-ক্যাশেট, লোগান ফন বিক, রোয়েলফ ফন ডার মার্ভে ও টিম ফন ডার গুগটেন।


