Home Blog Page 206

চিয়া সিডস নিঃসন্দেহে উপকারী, তবু কাদের খাওয়া চলবে না এই সুপারফুড?

চিয়া সিডস নিঃসন্দেহে উপকারী। প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর চিয়া। ওজন কমানো থেকে শুরু করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে চিয়া সিডস। রোজ ১-২ চামচ চিয়া সিডস খেলে একাধিক রোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়। এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সবার স্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী নয় চিয়া সিডস। চাইলেই যে কেউ খেতে পারেন না এই বীজ।

কারা চিয়া সিডস এড়িয়ে চলবেন?

নিম্ন রক্তচাপের রোগীরা
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য চিয়া সিডস ভীষণ উপযোগী। কিন্তু ব্লাড প্রেশার যদি সবসময়ে কম থাকে, তা হলে এই বীজ না খাওয়াই ভালো। চিয়া সিডসের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই নিম্ন রক্তচাপে এই বীজ খেলে প্রেশার আরও কমে গিয়ে বিপদ ঘটতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে
অনেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান। সে ক্ষেত্রে আর চিয়া সিডস খাওয়ার দরকার নেই। চিয়া সিডস রক্তকে পাতলা করে এবং রক্তকে জমাট বাঁধতে দেয় না। অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে চিয়া সিডস খেলে রক্ত ক্ষরণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তখন ছোটখাটো কাটাছেঁড়াতেও রক্ত থামার নাম নেবে না।

কিডনির রোগীরা
চিয়া সিডের মধ্যে পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং অক্সালেটের মতো উপাদান রয়েছে। এগুলো কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে। তার উপর যদি পর্যাপ্ত জল পান না করেন, তখন কিডনির সমস্যা আরও বাড়ে। তাই কিডনির রোগীদের চিয়া সিডস খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে
চিয়া সিডস প্রচুর পরিমাণে জল শোষণ করে। আপনার শরীর যদি ডিহাইড্রেটেড থাকে, তারপরেও চিয়া সিডস খান, তখন সমস্যা বাড়বে। চিয়া সিডসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা গ্যাস, পেটফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই চিয়া সিডস খাওয়ার আগে ও পরে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।

টানা ৮ দিন ধরে কথা বলতে পারছেন না শবনম ফারিয়া, উদ্বিগ্ন ভক্তরা

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গলার গুরুতর সংক্রমণ ও টনসিলের প্রদাহে ভুগছেন তিনি। এ কারণে কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছে এই অভিনেত্রীর।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নিজেই অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন।

পোস্টে শবনম ফারিয়া লেখেন, ‘গলায় গুরুতর সংক্রমণ ও টনসিলের প্রদাহে ভুগছি, ৮ দিন ধরে আমার কণ্ঠস্বর বন্ধ হয়ে আছে।’

৫ জানুয়ারি থেকে অসুস্থতা শুরু জানিয়ে ফারিয়া লেখেন, ‘সেদিনই কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। পরে কথা বলার জন্য নিজেকে জোর করে, অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। দুঃখজনকভাবে কয়েকটি নির্ধারিত কাজ ও শুটিং বাতিল করতে হয়েছে।’

বর্তমানে শারীরিক অবস্থার কারণে কারও সঙ্গে ফোনকলে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করে অভিনেত্রী লেখেন, ‘অনেক ফোন আসছে, কিন্তু ধরতে পারছি না। খুব জরুরি হলে দয়া করে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) পাঠান।’

অভিনেত্রীর এই পোস্টের পর মন্তব্যের ঘরে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।

২০১৮ সালে ‘দেবী’ চলচ্চিত্র দিয়ে সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন শবনম ফারিয়া। যে কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে বাচসাস পুরস্কার এবং শ্রেষ্ঠ নবীন অভিনয়শিল্পী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন।

আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও নগদ ১৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার ৭

নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে গোয়েন্দা  তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মদিনা জুট মিলস সংলগ্ন কারারচর ও জাঙ্গাইলা এলাকায় যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গডফাদার হিসেবে পরিচিত একাধিক মামলার আসামি জামাল উদ্দিন খোকাসহ ০৭ জনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, শিবপুর থানার কারারচর গ্রামের মো. মিজান মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন খোকা (৭০), তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (৫০), শাহাপুর গ্রামের শাহজালাল আহমেদ সানির স্ত্রী সম্পা আক্তার (২৪), জাঙ্গাইলা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৭), আওয়ালের স্ত্রী শামসুন নাহার (৫০), মৃত শুকুর আলীর ছেলে আজিজুল মিয়া (৩২) ও ফরিদ মিয়ার ছেলে ফয়সাল মিয়া (২০)

এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা, একটি একনলা বন্দুক, একটি স্টিলের পিস্তল, একটি প্লাস্টিকের রিভলভার, তিনটি ম্যাগজিন, দুটি শটগানের কার্তুজ, ফেন্সিডিলসহ দেশীয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।  গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

শিবপুর মডেল থানা প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী  ক্যাম্পের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীমুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন  পুলিশ সুপার, নরসিংদী মো: আবদুল্লাহ্‌-আল-ফারুক ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

যে কারণে সব সময় নিজের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়

ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি—সবক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, অন্ধভাবে কাউকে অনুসরণ না করে বা আবেগের বশবর্তী না হয়ে সর্বদা নিজের পরিস্থিতি ও সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠন কিংবা সাধারণ মানুষের পেশাগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি মানুষের বা প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা ও শক্তি ভিন্ন থাকে। অন্যের সাফল্যে প্রলুব্ধ হয়ে বা পরিস্থিতির চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘমেয়াদে তা বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রতিকূল সময়ে নিজের ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি’ বা টিকে থাকার কৌশল নির্ধারণের জন্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দলগুলোর আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, যারা নিজ নিজ ভোটব্যাংক ও তৃণমূলের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এগোচ্ছে, তারাই দরকষাকষিতে এগিয়ে থাকছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তগুলো আসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বা সামাজিক চাপের মুখে। কিন্তু যারা নিজের সম্পদ, সময় এবং পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া সিদ্ধান্ত মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যর্থতার দায়ভার কমানো সহজ করে। জীবন যুদ্ধে যারা নিজেদের মেধা ও বাস্তব পরিস্থিতিকে সমন্বয় করে পা বাড়ায়, তারাই টেকসই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

সমাজে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে হলে হুজুগে গা ভাসানো বন্ধ করা জরুরি। রাষ্ট্র সংস্কার বা ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার—সব জায়গাতেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথে সিদ্ধান্তের খোলস পাল্টানোর মানসিকতা থাকতে হবে। মূলত ‘একই সূত্র সবার জন্য প্রযোজ্য নয়’—এই সত্যটি মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজালে যেকোনো বড় সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক পরিবারের মায়েরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন : শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রত্যেকটি পরিবারের মায়েরা ও নারীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবে। আর প্রত্যেকটি গ্রামের কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ড করে দেওয়া হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে মায়েরা ও কৃষকরা সেবা এবং সুবিধা পাবেন। যদি আমরা নির্বাচিত হয়ে সংসদে যেতে পারি তাহলে অনেক উন্নয়ন করা হবে।

বুধবার বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া কাজী বাড়ি চত্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারাটা জীবন দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করেছেন। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করার কারণে তিনি শুধু বিএনপির নয়, সারা বাংলাদেশের অভিভাবক হয়েছিলেন। আমরা তার আদর্শ ও কর্মের মাঝে তাকে খুঁজে পাবো।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, নির্বাচিত হলে আমি শুধু একা সংসদে যাবো না। আমি সালথা-নগরকান্দার সকলকে নিয়ে সংসদে যাবো না। আমার বাবা মরহুম কে এম ওবায়দুর রহমান সালথা ও নগরকান্দার সকল মানুষকে ভালোবেসেছেন। দলমত নির্বিশেষে সকলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমিও বাবার মতো সকলকে ভালোবাসি এবং বাকি জীবন সকলের পাঁশে থেকে যাবো।

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রা বাজারের গতিপ্রকৃতিও বদলাচ্ছে প্রতিদিন। আমদানি–রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক পরিশোধ ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার এখন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ ইউএস ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ইউরোপীয় ইউরোর দর ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৪ টাকা ১৮ পয়সা।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ডলার লেনদেন হচ্ছে ৮২ টাকা ৭৩ পয়সায়, কানাডিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৬ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলার ৯৪ টাকা ৯৫ পয়সায়। জাপানি ইয়েনের বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে ৭৬ পয়সা এবং সুইডিশ ক্রোনা ১৩ টাকা ২৫ পয়সা।
এশীয় মুদ্রাগুলোর মধ্যে চীনা ইউয়ান রেনমিনবি আজ লেনদেন হচ্ছে ১৭ টাকা ৫৪ পয়সায়। ভারতীয় রুপির দর ১ টাকা ৩৫ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্য ২ টাকা ৫২ পয়সা।
মধ্যপ্রাচ্যের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ৩২ টাকা ৬৭ পয়সা, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০ টাকা ২১ পয়সা এবং কুয়েতি দিনারের মূল্য সবচেয়ে বেশি—৩৯৮ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিট্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ফলে প্রতিদিনের মুদ্রা দর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির গতিপথ বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

স্বামী এমপি প্রার্থী, স্ত্রী নির্বাচন পর্যবেক্ষক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে ব্যতিক্রমী ও আলোচনার জন্ম দেওয়া একটি ঘটনা সামনে এসেছে। একদিকে স্বামী সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করছেন, অন্যদিকে স্ত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে। স্বামী নির্বাচনী এলাকায় ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকবেন, আর স্ত্রী পর্যবেক্ষণ করবেন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া—এমন ঘটনাই এখন আলোচনায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাসরীন ফাতেমা আউয়াল নিবন্ধন নিয়েছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে।

নির্বাচনের আর ঠিক এক মাস বাকি। এরই মধ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো জোটগতভাবে প্রচারণা শুরু করেছে। বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচনে জয়ী হতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ৮১টি সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এসব নিবন্ধিত সংস্থার তালিকায় রয়েছে নাসরীন ফাতেমা আউয়ালের নাম।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে ৩৩টি সংস্থা। এর মধ্যে সর্বশেষ নিবন্ধন পাওয়া সংস্থাগুলোর একটি হলো উইমেন এন্টারপ্রিনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এই সংস্থার চেয়ারপার্সন নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। সংস্থাটির কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ঢাকার বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের অ্যাংকর টাওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু মূলত ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, জেনারেল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক এবং মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে তার স্ত্রী নাসরীন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে উইমেনস এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এমপি প্রার্থীর স্ত্রী নির্বাচন পর্যবেক্ষক হলে আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে বিষয়টি তার জানা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এনপিবি নিউজকে তিনি বলেন,
“নির্বাচন পর্যবেক্ষক হতে যে শর্তগুলো পূরণ করতে হয়, সেগুলো পূরণ করেই নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এমপি প্রার্থীর স্ত্রী পর্যবেক্ষক হতে আইনগত কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কে কোথায় নির্বাচন করছেন বা তার স্ত্রী কেন পর্যবেক্ষক হয়েছেন—তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ভালো বলতে পারবেন।”

তবে নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টিকে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে দেখা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এনপিবি নিউজকে বলেন,
“নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচনের মান ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয়। কোনো প্রার্থীর নিকটাত্মীয় যদি পর্যবেক্ষক হন এবং সেই প্রার্থী পরাজিত হন, তখন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বিরূপ মন্তব্য এলে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উইমেন এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হওয়ার সুবিধা ও বাস্তবতা নিয়ে এক কলামে বর্তমান নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেন লিখেছেন, বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক নতুন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচন থেকেই মূলত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ শুরু হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ফেমা, ব্রতী, অধিকার, জানিপপ ও ডেমক্রেসিওয়াচের মতো সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব সংস্থা এশিয়া ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এবং এনডিআই ও আইআরআইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কাজ করেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।

তবে ২০০৮ সালের পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি কমে আসে। কারণ হিসেবে প্রাক্‌-নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নেতিবাচক মূল্যায়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। আগামী নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলগুলোর অংশগ্রহণ নির্ভর করবে নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ মূল্যায়নের ওপর।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমিরের জরুরি নির্দেশনা

দেশ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সময় পার করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ও প্রজ্ঞা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ করার এই বিশেষ আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন যে, অনেক ত্যাগ, তিতিক্ষা ও কোরবানির বিনিময়ে মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে দেশ ও সংগঠন আজ এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। বর্তমান সময়কে তিনি জাতীয় জীবনের জন্য এক ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই সন্ধিক্ষণে আবেগের বশবর্তী না হয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

জামায়াত আমির তাঁর পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই সময়ে কারও প্রতি কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ বা প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে না। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে বা শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে যেন কেউ সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করে দেন।

এমন এক সময়ে ডা. শফিকুর রহমানের এই দিকনির্দেশনামূলক পোস্টটি এলো, যখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটের ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমিরের এই আহ্বান মূলত দলীয় কর্মীদের সংযত রাখা এবং যেকোনো উস্কানি মোকাবিলা করে শান্তিপূর্ণভাবে পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করার একটি কৌশলগত বার্তা। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জামায়াতের প্রতিটি স্তরের কর্মী এই নাজুক সময়ে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত: সেনাবাহিনী প্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। আমাদের প্রধান লক্ষ্য সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং জাতীয় সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ানো।

বুধবার দুপুরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ‘বিএনসিসি’ অধিদপ্তরের ট্রেনিং একাডেমিতে বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং-২০২৫/২৬ এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষা ও দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বিএনসিসি ক্যাডেটরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। একই সাথে তিনি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে বিএনসিসি ক্যাডেটদের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সংস্থার সকল সদস্যকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার উজ জামান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় বিভিন্ন কৃতি বিএনসিসি সদস্যদের পুরষ্কার তুলে দেন সেনা প্রধান। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে পরিবেশন করে বিএনসিসি ক্যাডেটরা।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিরতি কাটিয়ে আবারও এক হচ্ছেন রাজ-মিম

সরকারি অনুদানে নির্মিত আলভী আহমেদের ‘জীবন অপেরা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে আবারও বড় পর্দায় জুটি বাধছেন শরীফুল রাজ ও বিদ্যা সিনহা মিম। এর আগে রায়হান রাফির ব্যবসাসফল ছবি ‘পরাণ’-এ অভিনয় করে এই জুটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে একই নির্মাতার ‘দামাল’ সিনেমাতেও দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বাধেন তারা। কিন্তু এরপর আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যায়নি দুজনকে।

মাঝে কবছর বিরতির পর এই জুটির আবারও রুপালি পর্দায় ফেরা প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র সমালোচকদের একাংশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় উঠে আসছে একটি বিষয়- শরীফুল রাজের জীবনে এখন আর নেই পরীমনি। অনেকের মতে, রাজের ব্যক্তিগত জীবনে সেই অধ্যায় শেষ হওয়ার প্রেক্ষিতেই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিম।

এর আগে রাজ-মিম জুটির প্রথম দুই ছবি মুক্তির পর তাদের রসায়ন চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ‘পরাণ’ মুক্তির পর পর্দার বাইরেও রাজ ও মিমের বন্ধুত্ব নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। ‘দামাল’ সিনেমার স্বত্ব সিয়াম আহমেদের সঙ্গে যৌথভাবে কেনার পর সেই সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।

তখন রাজের সাবেক স্ত্রী চিত্রনায়িকা পরীমনি তখন প্রকাশ্যে দাবি করেন, রাজ ও মিমের ঘনিষ্ঠতা তার সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিমকে নিয়ে কটূক্তির ঘটনাও ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে সংসারে অশান্তি না চাওয়ায় এবং বিতর্ক এড়াতেই রাজের সঙ্গে আর সিনেমা না করার সিদ্ধান্ত নেন মিম। দুই সিনেমার পর সেখানেই থেমে যায় জনপ্রিয় এই জুটির পথচলা। পরবর্তী সময়ে রাজ ও পরীমনির সম্পর্কও টেকেনি। ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রেম করে বিয়ে করা এই দম্পতির বিচ্ছেদ কার্যকর হয় ২০২৩ সালের শেষ দিকে।

চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, রাজের জীবনে পরীমনির অধ্যায় শেষ হওয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নতুন বাস্তবতার কারণেই আবারও একসঙ্গে সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন পর্দার আলোচিত এই জুটি।

‘জীবন অপেরা’র নির্মাতা আলভী আহমেদ নিশ্চিত করেছেন, রাজ ও মিম- দুজনের সঙ্গেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ঈদুল ফিতরের পর ছবির শুটিং শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।