লিভার ও কিডনি আমাদের দেহের প্রাকৃতিক ডিটক্স মেশিন। প্রতিদিন তারা টক্সিন বের করে, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করে এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, পানিশূন্যতা ও অনিয়মিত জীবনযাপন এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। ভালো খবর হলো, প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করেই এই অঙ্গগুলোকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
পেট ম্যাসাজ করুন, রক্তসঞ্চালন ও ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। ডান পাশে লিভারের অংশে হাত রেখে দুই মিনিট হালকা বৃত্তাকার ম্যাসাজ করুন। এরপর কিডনি অঞ্চলে ধীরে ধীরে হাত নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করুন। ধীরে নিঃশ্বাস নিতে করতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। এটি রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে।
হালকা গরম পানিতে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে গার্গল করুন। হলুদে থাকা কারকিউমিন উপাদান প্রদাহ কমায়, লিভার রক্ষা করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।
লিভারের ওপর ক্যাস্টর অয়েল প্যাক দিন। একটি তুলো বা নরম কাপড়ে ঠান্ডা প্রেসড ক্যাস্টর অয়েল ভিজিয়ে ডান পাশে পেটের ওপর রাখুন। তার ওপর গরম তোয়ালে বা হিটিং প্যাড দিন। পাঁচ মিনিটেই এটি লিভারের পিত্ত প্রবাহ বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং সেল রিজেনারেশন সহায়ক।
অ্যাকুপ্রেশার পয়েন্টে হালকা চাপ দিন। পায়ের বড় আঙুল ও পাশের আঙুলের মধ্যে LV3 পয়েন্টে চাপ দিয়ে লিভারের শক্তি প্রবাহ সচল করুন। KD1 পয়েন্টে পায়ের তলার নিচের দিকে চাপ দিয়ে কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ান ও ক্লান্তি কমান।
মৌরি চিবিয়ে খাওয়াও লিভার ও কিডনি ডিটক্সে কার্যকর। অর্ধ চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খেলে লিভারের পিত্ত নিঃসরণ বৃদ্ধি পায় এবং কিডনির মাধ্যমে টক্সিন বের হয়। আরও ভালো ফলের জন্য রাতে মৌরি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করতে পারেন।
শরীরকে সুস্থ রাখতে বড় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন মাত্র পাঁচ মিনিট নিয়মিত এই ছোট ছোট ঘরোয়া অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে লিভার ও কিডনিকে সুস্থ রাখা সম্ভব এবং বড় অসুস্থতা প্রতিরোধ করা যায়।
মাত্র ৫ মিনিটে লিভার ও কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করুন এই সহজ ঘরোয়া উপায়ে!
শীতে হিটার ছাড়াও ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব, জানুন কীভাবে
শীত বাড়লে বাড়ির বয়স্কদের জন্য ঘর গরম রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। যদিও অনেকেই বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করেন, তবে হিটার ব্যবহার না করে ও ঘর উষ্ণ রাখা সম্ভব। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খরচ বা স্বাস্থ্যজনিত কারণে হিটার ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক পরিবারগুলোর জন্য কিছু সহজ কৌশল রয়েছে।
ঘর উষ্ণ রাখার পাঁচটি কার্যকর কৌশল:
রোদের ব্যবহার: সকালে সূর্যের আলো সরাসরি ঘরে ঢুকলে দেয়াল ও মেঝে ধীরে ধীরে গরম হয়। দুপুরে রোদের তেজ কমলে জানালা ও পর্দা বন্ধ রাখলে উষ্ণতা ঘরে ধরে থাকে।
ঘরে ছোট ফাঁক বন্ধ করা: দরজা ও জানালার নিচে ছোট ফাঁক থাকলে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করে। পুরোনো তোয়ালে বা মোটা কাপড় দিয়ে ফাঁকগুলো বন্ধ করলে ঘরের তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়।
গালিচা ব্যবহার: খালি মেঝে থেকে ঠান্ডা উঠে আসে। কার্পেট, মোটা গালিচা বা পাটের দড়ি দিয়ে তৈরি মাদুর বিছিয়ে রাখলে পায়ের তলায় ঠান্ডা কম লাগে এবং ঘর উষ্ণ থাকে।
রান্নাঘর উষ্ণ রাখা: রান্নার সময় গ্যাসের আগুন ও গরম পানি থেকে তাপ সৃষ্টি হয়। রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখলে উষ্ণতা ঘরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। হেঁশেলের জানালা বন্ধ রাখলে তাপ বাইরে বের হয় না।
বিছানা উষ্ণ রাখা: মোটা কম্বল ও স্তরযুক্ত চাদর ব্যবহার করলে বিছানা গরম থাকে। ভেতরের উষ্ণতা বাইরে চলে যায় না এবং বাইরের ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করতে পারে না।
এমএস রডের দাম বাড়ছে
বিশ্ববাজারে লোহার স্ক্র্যাপের (কাঁচামাল) দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করায় বাংলাদেশে মাইল্ড স্টিল (এমএস) রডের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় রি-রোলিং মিলগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, যা আবাসন নির্মাতা ও ঠিকাদারদের মধ্যে নির্মাণ ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, গত এক সপ্তাহে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ডলার বেড়েছে। এর মাধ্যমে গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার যে দীর্ঘ প্রবণতা ছিল, তাতে পরিবর্তন এলো। আমদানিতে অতিরিক্ত এই ব্যয় এখন স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশকিছু ছোট ও মাঝারি মিল ইতোমধ্যে রডের দাম টনপ্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারদর পর্যালোচনাকারী সংস্থা আর্গাস-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন মন্দার সময় তুরস্কে হেভি মেল্টিং স্টিল (এইচএমএস) ১/২ (৮০:২০) স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩৩৬ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে তা আবার ৩৬০-৩৭০ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। সমুদ্রপথে স্ক্র্যাপ আমদানিতে তুরস্ক বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হওয়ায় তারাই মূলত বিশ্ববাজারের দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের নতুন করে কেনাকাটা শুরু করা এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শীতকালীন সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার কারণে বাজারে স্ক্র্যাপের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দাম বেড়ে গেছে। করোনাকালে বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপের সংকটের সময় বাংলাদেশে প্রিমিয়াম গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
যে হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
নতুন পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়লেও বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়েও সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়ার ভরসা হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে।
আর্থিক সংকট ও ঘনিয়ে আসা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে স্কেল ঘোষণার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও এ উদ্দেশ্যে গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। বরং কমিশনকে কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা সম্ভব না হলেও কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে, যা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সময়ের স্বল্পতা ও ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কারণে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে নতুন পে স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পে কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে এবং সেখানে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সময় উপযোগী একটি বেতন কাঠামো প্রণয়নই সরকারের লক্ষ্য, তবে নির্বাচন প্রস্তুতির কারণে সময় পাওয়া গেলে তবেই তা ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে নতুন সরকারের ওপর।
পে কমিশনের প্রতিবেদনে শুধু বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামোই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন নির্ধারণের মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।
ঢাবি শিক্ষক লাঞ্ছিত সংস্কারের নমুনা এটাই কি?
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ওই জনপ্রতিনিধিকে এখন জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে। তিনি উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত অংশ নিতেন দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে। তবে দলীয় কমিটিতে, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য ছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে তাকে সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে বর্তমান জামায়েত ইসলামী নেতা ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমি আগে মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। যখন যে সরকার থাকে, আমাদেরকে সাধারণত তার সাথেই থাকতে হয়। কে কখন নাম বসিয়েছে, এ বিষয়ে আমি জানি না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। অনেকের অভিযোগ, অতীতের কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক এড়াতেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এতে ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী জানান, মিজান মেম্বার যে আওয়ামী লীগের সদস্য—এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। যদি এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শের রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে আস্থার সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কী সিদ্ধান্ত নেয়।
মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেহজাবীন
হুমকি-ধমকি-ভয় দেখানোর অভিযোগে করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী। সোমবার সকালে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার শুনানি শেষে মামলা থেকে অব্যাহতির এই আদেশ দেন।
মামলার বিষয়ে মেহজাবীন ও আলিসানের জবাব দাখিলের জন্য সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিন ধার্য ছিল। জবাব দাখিলের পর শুনানি শেষে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন আদালত। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার।
জানা যায়, বাদী তার ঠিকানা নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি নিজের ঠিকানায় থানা ‘ফেনী সদর’ আর জেলা ঢাকা দেখিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা জেলায় ‘ফেনী সদর’ নামের কোনো থানা নাই। এছাড়া তিনি যে মোবাইল নম্বরটি উল্লেখ করেছেন সেটি ১২ সংখ্যার ভুল মোবাইল নম্বর, যেটি অকার্যকর। একইসঙ্গে বাদী তার আর্জিতে বিবাদির ঠিকানা উল্লেখ করেছেন সেটিও অস্পষ্ট। মামলায় একজন স্বাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার কোনো পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা নেই।
শুনানিতে নিজের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি বাদী, যৌক্তিক কোনো বক্তব্যও আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।
পরে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
যে ভুল করলে বাতিল হবে পোস্টাল ব্যালট: ভোটারদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রবাসী, সরকারি কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কয়েদিরা এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভোট প্রেরণের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে পোস্টাল ব্যালট বাতিল হয়ে যাবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যারা পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করবেন, তাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভোট ফেরত পাঠাতে হবে। অন্য কোনো চ্যানেল বা ব্যক্তিগত মাধ্যমে পাঠানো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রত্যেকটি পোস্টাল ব্যালটে ইউনিক কিউআর কোড এবং ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবার ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে বসবাসরত ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ জানুয়ারি। তবে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে।
নির্বাচন কমিশনের এই সতর্কবার্তা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশনা না মানলে ভোট বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে, তাই নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি অনুসরণ করাই নিরাপদ।
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে সম্মেলনটি আজ শুরু হয়ে চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।
দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন, বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান।
সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক উপস্থিত থাকবেন।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন ও গুণগতমান এবং অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক দু’টি সেশন থাকবে।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম’, ‘গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা : সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেটওয়ার্কিং’, ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ : সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের শেষ দিনে ‘উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।
বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের পার্থক্য এখন ১.১ শতাংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত সামনে আসছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ততটাই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। নির্বচানকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তিÑ বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৪.৭ শতাংশ, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩.৬ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। এ নির্বাচনে আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার থাকতে পারে ১৭.০ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রাক-নির্বাচনী জরিপ প্রকাশ করা হয়। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই হাজার ছাব্বিশ’ শীর্ষক এ জরিপটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি। জরিপটি পরিচালনায় যৌথভাবে কাজ করেছে প্রজেকশন বিডি, জাগরণ ফাউন্ডেশন ও ন্যারেটিভ।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, মোট ভোটারের প্রায় ছিয়াশি শতাংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের সম্ভাব্য অবস্থান যুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন দাঁড়াতে পারে প্রায় তেতাল্লিশ শতাংশের কাছাকাছি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পৌঁছাতে পারে প্রায় একচল্লিশ শতাংশের মতো।
জরিপের পরিসর ও পদ্ধতি ॥ এই জনমত জরিপটি ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত মোট ২২ হাজার ১৭৪ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন। শহর-গ্রাম, অঞ্চল ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে স্তরভিত্তিক নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং জাতীয় আদম শুমারির তথ্যের আলোকে পরবর্তী ওজন প্রয়োগ করা হয়েছে।
ভোটারদের ভাবনা ও দলভিত্তিক সমর্থনের কারণ ॥ বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, দলটির রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাই তাদের সমর্থনের প্রধান কারণ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩০ থেকে ৪৪ এবং ৩৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক বেশি। পেশাভিত্তিক হিসাবে কৃষক ও শ্রমজীবী শ্রেণির মধ্যেও দলটির অবস্থান শক্ত।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা দলটির প্রতি আস্থা রাখার পেছনে মূলত কম দুর্নীতির ভাবমূর্তি ও সততার পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি, বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে। উচ্চশিক্ষিত, বিশেষ করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যেও জামায়াতের সমর্থন অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে। ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের সম্পৃক্ত করায় দলটি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)কে সমর্থন দেওয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে দলটির ভূমিকা তাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের প্রায় ১৭ শতাংশ এখনো ভোটের সিদ্ধান্ত নেননি। এই অংশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। আবার একটি বড় অংশ মতামত দিতেও অনিচ্ছুক ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ’২৬ সালের নির্বাচন হবে একদিকে অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার রাজনীতি। অন্যদিকে সততা, ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধের রাজনীতির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ভোটারদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফল উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির কর্মকর্তা শফিউল আলম শাহীন। তিনি বলেছেন, জরিপকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, মেশিন লার্নিং প্রজেকশন অনুযায়ী সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ঝোঁক বিবেচনায় নিলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। জরিপের ফল অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের একটি বিশাল অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুল হক, সোয়াশ ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মুশতাক খান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এবং সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) আমসা আমিন প্রমুখ।
ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলেন রোজিনা
গণমাধ্যম দুনিয়ায় পডকাস্ট নতুন চমক সৃষ্টি করে চলেছে। রোজই নিত্যনতুন খবর মিলছে। তাতে নতুন সংযোজন হলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী রোজিনা। নতুন বছরে প্রথম বর্ষপূর্তির দিনেই আইজ অন ইউটিউব চ্যানেলে আসছেন সোনালি দিনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা। আজ সোমবার প্রথম বর্ষপূর্তির রাত ১০টায় উন্মুক্ত হবে রোজিনাকে নিয়ে তৈরি সেলিব্রিটি পডকাস্ট স্টার ডায়েরির প্রথম পর্ব।
এই বিশেষ পর্বটি উপস্থাপনা করেছেন আর্শিয়া। এই পর্বে একের পর এক সিনেমা থেকে বাদ পড়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলেছেন রোজিনা। সবাইকে আইজ অন স্টুডিওর ইউটিউব চ্যানেলে এই বিশেষ পর্ব দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে রোজিনা বলেছেন, নিজের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে নিজেকে আবার আবিষ্কারের আনন্দ পেলাম। নায়িকা হওয়ার অনুপ্রেরণা বলেছেন তিন কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী, শাবানা ও ববিতার কথা। অভিনয়ে এসে এক সময় যাদের সঙ্গে একই কাতারে উঠে এসেছিলেন রোজিনা।
২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আইজ অন স্টুডিও নামের ইউটিউব চ্যানেল। দুই ঈদসহ বছরজুড়ে এই চ্যানেলে রীতিমতো তারকার মেলা বসেছে নানাবিধ শোয়ের মাধ্যমে।
যাত্রার পর থেকে আইজ অন স্টুডিও ইউটিউব চ্যানেলে চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো সলো পডকাস্টে হাজির হন দেশীয় সিনেমার দুই দিকপাল আলমগীর ও সোহেল রানা। আমি আলমগীর নামের নয় পর্বের পডকাস্ট প্রচার হয়েছে প্রথম বছরের শুরু থেকেই। পডকাস্ট আমি সোহেল রানার প্রচার এখনো চলছে। পাঁচ পর্বে কিংবদন্তি পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘ঝন্টু টকস’ প্রচার হয়েছে এই চ্যানেলে।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসও প্রথমবারের মতো পডকাস্টে বসেন পাঁচ পর্বের ‘অপুর পাঁচালী’ শো নিয়ে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর ‘আঁখির গল্প’ পডকাস্টের সাত পর্বে জীবনের গল্পের ঝাঁপি খোলেন। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রচার হয়েছে পডকাস্ট উইথ সৈকত সালাহউদ্দিনের সতেরোটি পর্ব। ‘আঁখির গল্প সিজন টু’-এর প্রথম পর্বে আঁখি আলমগীরের অতিথি হয়ে আসেন বরেণ্য সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদী।
সেলিব্রেটি পডকাস্ট শো স্টার ডায়েরিতে তারকার মেলা বসেছে প্রথম বছরে। নানা শোতে অতিথি হয়ে এসেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস, বুবলী, তমা মির্জা, বাঁধন, রুনা খান, আঁখি আলমগীর, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ প্রমুখ। শোগুলো উপস্থাপনা করেন সৈকত সালাহউদ্দিন, সমৃদ্ধি ও আর্শিয়া।
সিনিয়র সাংবাদিক তুষার আদিত্যের উপস্থাপনায় ‘স্ট্রেইট কাট তুষার’ পডকাস্ট শোতে হাজির হন কুসুম সিকদার ও মন্দিরা চক্রবর্তী।


