Home Blog Page 21

কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল, সবজির দরও চড়া

কাঁচামরিচের দাম বাড়ছেই। গত এক সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। একই সময়ে কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। এছাড়া গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের ডজনেও ৫ টাকা বেড়েছে। আগের মতোই চড়াভাব দেখা গেছে মাছ-মাংসের বাজারে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে বেশির ভাগ এলাকায় মরিচ ও নানা সবজির গাছ মরে গেছে। এদিকে অতিরিক্ত গরমে মরিচ গাছের পাতা নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় ক্ষেতে পানি জমে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে কৃষকরা ক্ষেত থেকে চাহিদা অনুযায়ী মরিচ ও সবজি পাচ্ছেন না। ফলে ঢাকায় তুলনামূলক কম সবজি এসেছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজকুনিপাড়া, আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহ দুয়েক আগে মানভেদে এক কেজি কাঁচামরিচ কেনা গেছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। গতকাল আরও বেড়ে বিক্রি হয়েছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়। এই হিসাব অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে কেজিতে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১৪০ টাকা বেড়েছে।

এদিকে বেশির ভাগ সবজির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে। কোনোটির দাম শতক পার হয়েছে। গেল সপ্তাহে এক কেজি মুলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙে ও ধুন্দুল বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। উচ্ছে, বেগুন ও বরবটির কেজি গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৯০ টাকা ছিল। তবে গতকাল কেজিতে খরচ করতে হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে শসা ও টমেটোর দাম। প্রতি কেজি টমেটো ১৩০ থেকে ১৪০ এবং শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। গেল সপ্তাহে শসার কেজি ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা।

সবজির মধ্যে কিছুটা কম দর দেখা গেছে পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও পেঁপের। এগুলোর মধ্যে প্রতিকেজি পটোল ও ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। গত সপ্তাহে সবজি দুটি কেনা গেছে যথাক্রমে ৪০ ও ৬০ টাকায়।

আগারগাঁও কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শ্রাবণ হোসেন সমকালকে বলেন, পাইকারিতে কাঁচামরিচের কেজিতে ৫০ টাকার বেশি বেড়েছে। এ কারণে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। কৃষকরা সবজি তুলতে পারেন না। কোনো কোনো এলাকায় জমিতে পানি জমে সবজি গাছ মরে গেছে। অনেকের ক্ষেতে পানি জমে সবজি পচে গেছে। এসব কারণে ঢাকায় সবজি কম আসছে। যেসব ব্যাপারি সবজি নিয়ে আসেন তারা দাম কমাতে চান না।

ডিম-মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। গত সপ্তাহের মতোই ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১১৫ থেকে ১২০ এবং বাদামি রঙের ডিম ১২৫ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮৫ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মুদিপণ্যের বাজারে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

আমলাদের পদক নিয়ে বিপাকে জনপ্রশাসন

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সালে চালু করা হয়েছিল জনপ্রশাসন পদক। ২০২২ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জনপ্রশাসন পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পদকপ্রাপ্তরা বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় আমলাদের নতুন করে পদক প্রদান নিয়ে বিপাকে পড়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে রয়েছে অস্বস্তি।

বর্তমান বাস্তবতায় এই নাম বহাল রেখে পদক দিলে অথবা পদক বাতিল করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে– এমন আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য গত দুই বছর ধরে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে না। এখন এই পদকের নাম পরিবর্তন করে আবার চালু, পদকপ্রাপ্তদের পদক বাতিল কিংবা নীতিমালা সংশোধন হলে নতুন কী যুক্ত হবে– এসব নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন জনপ্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, যতক্ষণ নীতিমালা বাতিল বা পরিবর্তন হচ্ছে না, সে পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। তবে দিবসটি কীভাবে পালন করা হবে, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে।

দিবস আছে, অনুষ্ঠান নেই
প্রতিবছর ২৩ জুলাই জাতিসংঘ ঘোষিত জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো অনুষ্ঠান করছে না।

এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদকের নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা। নাম পরিবর্তন না করে পদক দিলে সমালোচনা হতে পারে, আবার নাম পরিবর্তন করলেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হবে। তাই আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

২০১৭ সালে জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন,  প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে এমন পদক প্রদান ব্যবস্থা থাকা উচিত। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উন্নতর জনসেবা দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তাই নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা দরকার।

২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০৪ জন ব্যক্তি ও ১৫টি প্রতিষ্ঠান জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন ৫৬ ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত অবদানের জন্য পেয়েছেন দুই লাখ টাকা এবং দলগত অবদানে পাঁচ লাখ টাকা। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট।

বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, নামের কারণে এ পদক আমার চাকরিজীবনে একটি কলঙ্কের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। অথচ আগের নাম থাকলে এই পদকের জন্য আজ সম্মানের স্থানে থাকতাম।

বিপিএএ ব্যবহার করছেন অনেকে 
নীতিমালা বদল না হওয়ায় পদকের উপাধি বিপিএএ (বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক) ব্যবহার করছেন অনেক কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোলাম রাব্বী নামের সঙ্গে লিখেছেন বিপিএএ। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ হাসান এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ লিখেছেন। এভাবে অনেক কর্মকর্তা উপাধি ব্যবহার করছেন।

গোলাম রাব্বী বলেন, সরকার নীতিমালা সংশোধন করেনি। নীতিমালা যতক্ষণ বাতিল না হচ্ছে, ততক্ষণ উপাধি থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, নামের সঙ্গে কেউ কেউ বিপিএএ ব্যবহার করছেন– এটা আমি লক্ষ্য করিনি। শিগগিরই আমরা এই বিষয়টা দেখব।

মহেশখালীর টার্মিনালে ত্রুটি এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, বেড়েছে গ্যাস সংকট আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। তার ওপর সরবরাহের নতুন এই বিঘ্নে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস মিলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্প চাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়েও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, প্রতিদিনই ১০০ কোটির বেশি ঘনফুটের ঘাটতি থাকে। জাতীয় গ্রিডে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এ দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ত্রুটি সারিয়ে তোলার পর এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এ জন্য কারিগরি টিমের সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসায় চুলায় পর্যাপ্ত আগুন মিলছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও স্বল্প চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এলএনজি ও এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন করে চাপে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কারিগরি ত্রুটির কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে একটি পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট। আরেকটি পরিচালনা করে দেশীয় কোম্পানি সামিট গ্রুপ। গতকাল দুপুর থেকে এক্সিলারেটের চালানো টার্মিনালে ত্রুটি দেখা দিলে এলএনজি সরবরাহ কমে আসে। সামিটের চালানো টার্মিনাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
কাতার ও ওমান ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে সরকারিভাবে এলএনজি সংগ্রহের পর তা জাহাজে করে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালে রাখা হয়। টার্মিনাল থেকে সাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস প্রথমে মহেশখালীর ল্যান্ডিং স্টেশনে আসে। সেখান থেকে স্থলভাগের পাইপলাইন দিয়ে পেকুয়া, চকরিয়া, বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মিত গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইনে পৌঁছায়। আনোয়ারা থেকে এই গ্যাস একটি লাইনে সরাসরি সিইউএফএল এবং কাফকো সার কারখানায় যায়। অন্য লাইনটি শিকলবাহা হয়ে চট্টগ্রামের প্রধান বিতরণ লাইন এবং জাতীয় গ্রিডের ফেনী-আশুগঞ্জ লাইনে যুক্ত রয়েছে।

সাতক্ষীরা পেঁয়াজ-রসুনের দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা

সাতক্ষীরার কলারোয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে গত তিন দিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে রসুনের দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। অল্প সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ দুই পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

কলারোয়া বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মনিরুজ্জামান বলেন, কয়েক মাস ধরেই পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে ছিল। হঠাৎ কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ বেড়ে গেছে। বাজারে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলার সরসকাটি বাজারের ক্রেতা আব্দুল মাজেদ বলেন, তিন দিন আগে দুই কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকায় কিনেছেন, এখন একই পরিমাণ পেঁয়াজ কিনতে ১০০ টাকা লাগছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা, আলুসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে।

ছলিমপুর গ্রামের ভ্যানচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে।

বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন মোকামে পেঁয়াজ ও রসুনের পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন বলেন, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুমগত কারণেও এ সময়ে দাম কিছুটা বাড়ে।

পেঁয়াজ-রসুন বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সম্প্রতি মোকামগুলোতে দাম বেড়েছে। তবে ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।

কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে সংগ্রহ করা পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কয়েক দিন ধরে বেড়েছে। পাশাপাশি বর্ষাকালের প্রভাবেও দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ষা শেষ হলে বাজারে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, পৌর এলাকার তুলনায় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ বাজারগুলোতে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম আরও বেশি রাখা হচ্ছে। নিয়মিত বাজার তদারকির অভাবে অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

এদিকে, সাধারণ ক্রেতারা পেঁয়াজ-রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ক্যামেরার সামনে কেন গম্ভীর থাকেন আরিয়ান, জানালেন বন্ধু

রূপালি পর্দার বাইরে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান যখন জনসমক্ষে আসেন তখন তাকে সবসময় হাস্যেজ্জল দেখা যায়। কিন্তু তার ছেলের ক্ষেত্রে সেটা উল্টো। আরিয়ান খানকে জনসমক্ষে হাসতে দেখা যায় না বললেই চলে। ক্যামেরার সামনে তার গম্ভীর মুখভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। এবার সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিলেন বন্ধু অভিনেতা রাঘব জুয়াল।

সম্প্রতি পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাঘব বলেন, আরিয়ান ইচ্ছাকৃতভাবে ক্যামেরার সামনে হাসেন না। কারণ, তিনি কোনো কৃত্রিম অভিব্যক্তি দেখাতে চান না।

রাঘবের ভাষায়, ‘সে ভান করতে চায় না। আমার মনে হয়, অভিনয় করে কিছু দেখানোরও প্রয়োজন সে অনুভব করে না। সে যেমন, ঠিক তেমনভাবেই থাকতে চায়। আর সেটার স্বাধীনতা তার থাকা উচিত। সে খুবই সৃজনশীল, প্রাণবন্ত ও দয়ালু একজন মানুষ। এটাই তার স্বভাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি সে হাসতে না চায়, সেটি পুরোপুরি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে বাড়িতে সে অনেক হাসে, মজা করে, আড্ডা দেয়।’

আরিয়ান খান ও রাঘব জুয়াল

আরিয়ান খান ও রাঘব জুয়াল

সম্প্রতি রাঘব জুয়ালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে খুব কম সময়ের জন্য প্রকাশ্যে দেখা যায় আরিয়ান খানকে। সেখানে ভক্ত ও আলোকচিত্রীদের ভিড়ে প্রায় আটকে পড়েন তিনি। সেই উপস্থিতির পর থেকেই আবারও তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এর আগে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও আরিয়ানের প্রশংসা করেছিলেন রাঘব। তিনি বলেন, ‘তিনি শাহরুখ খান ও গৌরী খানের ছেলে—এটা সত্যি। কিন্তু তার নিজেরও আলাদা পরিচয় আছে। তিনি নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মানুষ। আমার কাছে তিনি একজন প্রতিভাবান নির্মাতা। না হলে এমন একটি সিরিজ তৈরি করা সম্ভব হতো না, যেখানে বলিউডকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমন সাহসী কাজ সবাই করতে পারে না।’

আরিয়ান খানের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস*** অব বলিউড’ সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে গৌরী খান প্রযোজিত এই ব্যঙ্গাত্মক কমেডি-ড্রামায় অভিনয় করেছেন লক্ষ্য, ববি দেওল, রাঘব জুয়াল, সাহের বাম্বা, আনিয়া সিং, মোনা সিং, মনোজ পাহওয়া ও মনীশ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

সাত পর্বের এই সিরিজে বলিউডে নিজের জায়গা করে নেওয়ার সংগ্রামে নামা এক তরুণের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের সংস্কৃতি, তারকাদের জনমুখী ভাবমূর্তি এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা বাস্তবতাকেও ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তরুণদের দখলে যন্তর মন্তর, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

ভারতে তরুণদের আন্দোলনের মধ্যেই পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস। সংসদের প্রধান বিরোধী দলটির নেতারা গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর সেখান থেকে পুলিশ বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করে।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, আটক করার পর রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবকে উত্তর দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকে রাখা হয় মন্দির মার্গ থানায়, যেখানে পরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। দীর্ঘ সময় চত্বরে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতে একে একে সবাইকে ছেড়ে দেয় দিল্লি পুলিশ। মুক্তি পাওয়ার পরপরই ছত্রশাল স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদব। অন্যদিকে, মন্দির মার্গ থানা থেকে বেরিয়ে যান সোনিয়া ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও।

গত সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে তরুণদের মিছিল ও পুলিশের লাঠিপেটার পর গতকালের ঘটনাটি ভারতের রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলল। শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক মঞ্চ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বিপরীতে সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া সবার বিরুদ্ধে এফআইআর (লিখিত অভিযোগ) দায়েরের ঘোষণা দিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকালে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের এমপিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন। বৈঠক সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কঠোর শাস্তি এবং বিরোধীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সচেতন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মোদির পদত্যাগ দাবি 
আগের দিনের লাঠিপেটা ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। বিকেলে হঠাৎ করেই লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে একাধিক দাবি জানাতে শুরু করেন কংগ্রেসের নেতারা।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোক কল্যাণ মার্গে জড়ো হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল। তিনি লেখেন, সোমবার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করছেন। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, আর সংসদে এ নিয়ে আলোচনাও করতে চায় না। ভারতের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, কংগ্রেসের ওই কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে কোনো ঘোষণা ছিল না। বিকেলে রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ শীর্ষ নেতারা দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন রাজাজি মার্গে যান। এদিন ছিল খাড়গের ৮৪তম জন্মদিন। কিন্তু এর পর সবাই রাজাজি মার্গ থেকে দুই কিলোমিটার দূরের লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে যান। সেখানে কংগ্রেস নেতারা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং ছাত্রদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে মোদি ও অমিতের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দেন।

কয়েক ঘণ্টা ধরে অবস্থান চলার পর দিল্লি পুলিশ কংগ্রেস এমপিদের আটক করতে শুরু করে। শুরুতে আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে। এর পর আটক হন এমপি সুখজিন্দর সিং। একাধিক এমপি আটক হলেও রাহুল, প্রিয়াঙ্কাসহ আরও কয়েকজন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে তাদেরও আটক করা হয়।

দিল্লি পুলিশ রাহুলকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যায়। তবে তাঁকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলে গতকাল সন্ধ্যায় অভিযোগ করে কংগ্রেস। দলের সংসদ সদস্য পবন খেরা বলেছিলেন, রাহুল গান্ধীকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশ আমাদের জানাতে রাজি নয়।

যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীরা
দিল্লির আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত যন্তর-মন্তর থেকে প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কংগ্রেস মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে যন্তর-মন্তরেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে গতকাল যন্তর-মন্তরে গিয়েছিল পার্লামেন্টের বাম ধারার এমপিদের একটি প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে তারা সোমবারের ঘটনা নিয়ে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানান।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (শিক্ষামন্ত্রী) বাঁচাতে সরকার আরও অনেক তরুণের রক্ত ঝরাতেও রাজি …। আমরা আপনাদের সবার জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

সিজেপি এদিন আবারও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সরকার নিজেরাই নিজেদের লজ্জায় ফেলছে। তারা চাইলে অনেক আগেই পদত্যাগের (শিক্ষামন্ত্রীর) ঘটনা ঘটত। কিন্তু বিজেপি নেতারা অহঙ্কারে ডুবে আছেন।

‘দেশটা মোদির বাপের নয়’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। গতকাল তিনি বলেন, ভারতের মানুষ স্বৈরশাসকদের ঐতিহাসিক শিক্ষা দিতে পারে।

কেজরিওয়াল বলেন, ‘একটু আগে মোদি সরকারের পুলিশ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, সোমবারের প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, ‘মোদিজি, এই দেশ আপনার বাপের নয়; এটি ১৪০ কোটি মানুষের। হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, অন্যথায় এ দেশের মানুষ আপনাকে এমন শিক্ষা দেবে যে, একনায়কের শোচনীয় পরিণতির কথা ইতিহাস মনে রাখবে।’

উল্লেখ্য, সোমবার দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সিজেপি। এতে প্রায় ৫০ হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে আগ্রহী বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে সম্মানিত একজন ব্যক্তি এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনো চলতি বছরের বিশ্বকাপ চলাকালে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওই সময় তিনি ট্রাম্পকে ফিফার উদ্বোধনী ‘পিস প্রাইজ’ও প্রদান করেন।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মহাসচিব পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জাতিসংঘ সনদের ৯৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ মহাসচিব নিয়োগ দেয়। এ পদে নির্বাচিত হতে হলে প্রথমে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পেতে হয়। তবে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমেই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

নিউইয়র্ক পোস্ট আরও জানায়, আন্তর্জাতিক বড় বড় সংঘাত মোকাবিলায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনামুখর। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে তিনি জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থা থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন।

ইসির আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সেনা মোতায়েনের পথ খুলছে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপির জামিনদার, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে পারবে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১২তম কমিশন সভা শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব আকারে পাঠাব। তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে একাধিক নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগামী আগস্টে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ-বিষয়ক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ বা তপশিল বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তপশিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে তা ৫ মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি জানান, সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দিনব্যাপী চলা কমিশন সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ আইন সংশোধনে ইসির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজীকরণ ও নবায়ন, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন প্রস্তাবগুলো কবে নাগাদ সরকারের কাছে পাঠানো হবে– এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পারি প্রস্তাবগুলো পাঠাব। কাল-পরশু তৈরি হয়ে গেলেই পাঠিয়ে দেব।’
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা আইনের কিছু সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’

যেসব সংশোধনী আনছে ইসি 
ইসি সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনে সেভাবে নেই। আমরা মনে করি, সব আইনেই এটা যুক্ত করা উচিত। এই কারণে সব আইনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা– এ বিষয়ে কমিশন মনে করে; না, তারা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন। ঋণখেলাপির বিষয়ে দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং অন্যটি জামিনদার। যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার একটি প্রস্তাবে ইসি নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, পাশাপাশি ইউটিলিটি বিলখেলাপি, যেমন– বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসার বিল– এ ধরনের সেবা প্রদানকারী সংস্থার কোনো বিলখেলাপি থাকলে সেটা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। লাভজনক পদে থেকেও নির্বাচন করা যাবে না।
তিনি জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানেও এ বিষয়ে একটি সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।

এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক
সভায় ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়নের বিষয়টি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ফরমে কী কী তথ্য থাকতে হবে, সে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। নবায়নের ক্ষেত্রে পরিবারের সবার এনআইডির তথ্যও দিতে হবে। এ ছাড়া এনআইডি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কী কী তথ্য দিতে হবে, সেটাও ঠিক করা হয়। উভয় সেবার ক্ষেত্রেই ইসি আবেদন ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সভায় প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধন প্রক্রিয়া দুই স্তর থেকে এক স্তরে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। বিদ্যমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অনলাইন আবেদনে প্রবাসী ভোটাররা তথ্য দেওয়ার পর তদন্ত করা হয়। এর পর বায়োমেট্রিক দিতে হয় তাদের। এখন থেকে তথ্য এবং বায়োমেট্রিক একসঙ্গে নেওয়ার পর তদন্ত করে পদক্ষেপ নেবে ইসি। সভায় এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, এখন আমরা এনআইডি বা ভোটার তালিকার জন্য ১৬ বছর ও তদূর্ধ্বদের তথ্য সংগ্রহ করি। যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। সভায় এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কোন পর্যায় পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটা এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি নাকি প্রাথমিক যেটাই হোক না কেন– একটা তুলনামূলক বিবরণী অনুযায়ী পরবর্তী সময় সিদ্ধান্তে আসবে ইসি।

একা ফিরলেন মেসি, মার্তিনেজদের বরণ

বিশ্বকাপ এখন ভাঙা হাট। খেলা শেষ করে যে যার ঘরে ফিরে গেছে। রোববারের ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন স্পেন মাদ্রিদে পৌঁছায় সোমবার। লামিনে ইয়ামালদের রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয় দেশে। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরেছে বিশেষ বিমানে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজরাও পেয়েছেন জমকালো সংবর্ধনা। এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লালগালিচা পাতা হয়েছিল খেলোয়াড়দের বরণ করে নিতে। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণ শেষে নেওয়া হয় দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে। রাজপথের দুপাশে দাঁড়িয়ে স্লোগান আর করতালিতে লাউতারো মার্তিনেজদের স্বাগত জানায় লাখ লাখ মানুষ। জাতীয় দলের দেশে ফেরা ও সমর্থকদের উদযাপনের সুযোগ করে দিতে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।
লিওনেল মেসির বীরের সম্মান পাওয়ারই কথা। ফুটবলপাগল আর্জেন্টাইনরা ভালো করেই জানেন, ২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পরের বিশ্বকাপে (২০২৬) রানার্সআপ হওয়া কম পাওয়া নয়। দিয়েগো ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসির হাতে লেখা হলো টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার বীরত্বগাথা। যদিও স্পেনের কাছে ফাইনাল ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরে যাওয়া আর্জেন্টাইনদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ। খেলা শেষে হতাশায় বিমর্ষ ছিলেন মেসি। বিবাদ এড়িয়ে মাঠের এক কোণে ঠায় বসেছিলেন কিংবদন্তি। লামিনে ইয়ামাল কাছে গেলে উঠে দাঁড়িয়ে টেনে নিয়েছিলেন বুকে। সৌজন্যটুকু শেষ করে আবার বসে পড়েন মাটিতে। কতটা হতাশ হলে একজন মানুষ এভাবে বসে থাকতে পারেন! জাতিকে চতুর্থ বিশ্বকাপ উপহার দিতে না পারার কষ্ট লুকাতে ১০ জন খেলোয়াড় দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। তাদেরই একজন হলেন মেসি। দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই দেওয়া হয় সংবর্ধনা। মেসির শূন্যতায় অপূর্ণই থেকে গেছে অনুষ্ঠান।

মেসি দেশে ফিরেছেন এক দিন দেরিতে। তিনি গেছেন জন্মস্থান রোজারিওতে অসুস্থ বাবার কাছে। আর্জেন্টাইন স্পোর্টস পোর্টাল টিওয়াইসি জানায়, কয়েকটা দিন পরিবারের সঙ্গে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন মেসি। নিজের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবেন। মেসির জীবনে তাঁর বাবাই সব। যিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের খেলা দেখতে আসতে পারেননি অসুস্থতার কারণে। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পর বাবার জন্য কেঁদেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা দল বিশ্বকাপ ভেন্যুতে এসেছিল ১ জুন। ১ মাস ২০ দিন পর দেশে ফেরার ফুরসত মিলেছে ফুটবলারদের। বাবাকে না দেখার কষ্টে কত দিন যে কেঁদেছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা, তা জানেন তিনি আর তাঁর ঈশ্বর। লিও চেয়েছিলেন, সোনালি ট্রফি জিতে বাবাকে উপহার দেবেন। বুয়েন্স আয়ার্স থেকে রোজারিওর রাস্তায় কোটি মানুষকে বিজয়ের আনন্দে ভাসাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধাতা যে চিত্রনাট্য লিখে রেখেছেন অন্যভাবে! শিরোপা জিততে না পারার হতাশা থেকেই হয়তো দলের সঙ্গে দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত লিওর। বিশ্বকাপ শেষে এক্সে আবেগঘন পোস্ট দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। রানার্সআপ পদকের ছবি জুড়ে দেন সঙ্গে। মেসির পোস্টে লেখা ছিল, ‘ব্যথাটা অনেক তীব্র। এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে। তবে আমি সব ভালো জিনিসও সঙ্গে নিচ্ছি। যে ম্যাচগুলোতে আমরা নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা স্মৃতিতে চিরকাল থেকে যাবে। পুরো দেশের সমর্থন আর প্রচেষ্টা আরও একবার বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছে আমাদের।’ তাঁর পোস্টের পরের লাইনগুলো বেশি আবেগঘন, ‘আজ আমরা যা করেছি, তার কদর করা কঠিন; কিন্তু এই দলটি টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে।’ মেসি যেন আর্জেন্টাইন ভক্তদের মনে করিয়ে দিতে চাইলেন চার বছর আগের উদযাপনের কথা।

মেসির মতো দুঃখের দহনে কাতর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তিনিও সামাজিক মাধ্যমে কষ্টের কথা লিখেছেন, ‘আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম যে আমরা আবার জিতব। আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম এটাকে (সোনালি ট্রফি) আর্জেন্টিনায় নিয়ে এসে আরও একবার ইতিহাস গড়ব। সত্যি বলতে, এই কষ্টটা বোঝানো কঠিন।’ পরের লাইনেই দুঃখ প্রকাশ করেন সমর্থকদের কাছে, ‘অনেক কিছু নিয়ে ভাবার আছে এবং দেখতে হবে কীভাবে সামনে এগোনো যায় আর সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে কিনা। আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি আমার দেশ এবং সতীর্থদের সাহায্য করার জন্য আমার সেরাটা দিয়েছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, আমি কী করতে চাই, সে সম্পর্কে আমার একটা ধারণা আছে। আমি আমার চুক্তি পূরণ করব, তারপর দেখা যাবে। সত্যি বলতে, আমি ভাবার প্রয়োজন বোধ করছি। কারণ জানি না, আমি এত বড় (বিশ্বকাপ জয়) কিছু করতে পারব কিনা। হয়তো আমাদের কথা বলতে হবে।’ সিলভার মেডেলের একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনিও।

মেসি, এমিলিয়ানোদের চার বছর আগের অর্জনকে ভুলে যায়নি আর্জেন্টিনার মানুষ। সে প্রমাণ মিলেছে জাতীয় দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। তীব্র শীত আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে লাখো মানুষ যেভাবে রাস্তায় নেমে এসেছিল, এই ভালোবাসা অকৃত্রিম।

বনের বুক চিরে সড়ক, ঝুঁকিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত বনে ৩০টি সড়ক নির্মাণ চেয়ে এমপির ডিও লেটার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া মধুশিয়া বন। বনে উঁচু গর্জন গাছ, নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে খুঁটাখালী খাল। বনের ভেতরে রাতে হেঁটে বেড়ায় হাতির পাল। এখানেই আছে মহাবিপন্ন এশীয় হাতির গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ (করিডোর)।

অন্যদিকে, মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সরু পথ চলে গেছে পাহাড়ি বনের বুক চিরে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বনেই রয়েছে মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, বানর, মুখপোড়া হনুমান, বিপন্নপ্রায় পাহাড়ি কচ্ছপ ও অজগরের আবাসস্থল।

এ দুই সংরক্ষিত পাহাড়ি বনের ভেতর দিয়েই দুটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতরে সড়কটির দৈর্ঘ্য হবে পাঁচ কিলোমিটার, আর মহেশখালীর বনের সড়কটি হবে প্রায় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। দুটি প্রকল্পেই অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণ ঘিরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও বন বিভাগের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক নির্মাণে সহযোগিতার জন্য বন বিভাগকে ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তাতেও দমে যায়নি বন বিভাগ। দিয়েছে পাল্টা জবাব। বন বিভাগের দাবি, সংরক্ষিত বনে পাকা সড়ক নির্মাণ আইনবিরোধী এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজের সুযোগ নেই। বন বিভাগের তীব্র আপত্তি, পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদ এবং আইনি জটিলতার মধ্যেও প্রকল্প দুটির কাজ এগিয়ে চলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সড়কের কারণে বনের ভেতরে মানুষের অবাধ প্রবেশ, দখল, অবৈধ বসতি, বন্যপ্রাণী শিকার এবং বনভূমি ধ্বংসের নতুন পথও তৈরি করবে। জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রায়হান কাউছার বলেন, বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের জন্য অনাপত্তি চেয়ে আবেদন এসেছে। এখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।

সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক
কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চকরিয়ার খুঁটাখালী থেকে রামুর ঈদগড় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৯ কোটি টাকার বেশি। কাজ শুরু হয় গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি। আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের আওতায় খুঁটাখালী বাজার থেকে মধুশিয়া এবং ঈদগড় থেকে কালাপাড়া পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে মধুশিয়া গর্জন বনের ভেতর দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ।

বন বিভাগের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ করার পর তাদের কাছে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) চাওয়া হয়েছে। অথচ বনভূমির ভেতরে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন বলেন, মধুশিয়া গর্জন বন হাতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। এখানে রাস্তা নির্মাণ করা হলে হাতির স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে মানুষ ও হাতিতে সংঘাত বাড়বে এবং প্রাচীন এই গর্জন বন ঝুঁকিতে পড়বে।

চকরিয়া উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল আলম বলেন, প্রকল্পের দুটি প্যাকেজে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে উভয় প্রান্তে কাজ চলছে। বন বিভাগ যে অংশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে, সেখানে এখনও নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি। তিনি বলেন, যেসব অংশে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, সেখানে বন বিভাগের জমি বা বনাঞ্চল নেই। রয়েছে বাজার, বসতি ও কৃষিজমি। তাই ওই অংশে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন হয়নি। এখন যে অংশ বন রয়েছে, সেই অংশের জন্য অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়েছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হাতির করিডোর চিহ্নিত করতে একটি সমীক্ষা চালায়। ‘অ্যাটলাস: এলিফ্যান্ট রুটস অ্যান্ড করিডোরস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই সমীক্ষায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১২টি হাতির করিডোর চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে আটটি করিডোর রয়েছে কক্সবাজার অঞ্চলে। সেগুলোর অন্যতম হলো খুঁটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া করিডোর, যার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মধুশিয়া গর্জন বন।

এমপির ডিও লেটার
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনের বুক চিরে পাহাড়ের ওপর দিয়ে চলে গেছে পথটি। মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএম ঘাট থেকে শুরু হয়ে রাস্তাটি গেছে কালারমারছড়ায়। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বনের এই রাস্তাটি পাকা করতে চায় এলজিইডি। জাইকার অর্থায়নে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে জেএম ঘাট থেকে কালারমারছড়া পর্যন্ত সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু অংশে ঢালাইয়ের পাশাপাশি কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলছে।

তবে বন বিভাগ বলেছে, যে বনভূমির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি ১৯৫৭ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সরকারের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের ভেতর পাকা রাস্তা করার সুযোগ নেই। এতে বন এবং বন্যপ্রাণী উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে। তাদের দাবি, এটি নানা প্রজাতির গাছপালার পাশাপাশি হরিণ, বানর, অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এখানে বন বিভাগের বনায়ন কর্মসূচিও চলমান।

এদিকে মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণে অনাপত্তিপত্র চেয়ে বন অধিদপ্তরে ডিও লেটার দিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ। তিনি সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে ৩০টি সড়ক নির্মাণ করতে চান। গত ২০ মে দেওয়া ওই চিঠিতে এসব সড়ক বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ বলেন, মানুষের যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য রাস্তা প্রয়োজন। সড়ক না করলে মানুষ চলাচল করবে কীভাবে? দরপত্র হয়ে গেছে, কিন্তু বন বিভাগের কারণে কাজ আটকে আছে।

তবে বন বিভাগ তাঁর এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে, সংরক্ষিত বনের মধ্যে পাকা রাস্তা নির্মাণ আইনবিরোধী এবং সরকারপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের কাজের সুযোগ নেই।
মহেশখালী উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, জনগণের প্রয়োজনেই সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন বিভাগের আপত্তির কারণে কাজ এগোতে পারছে না।

কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শেখ আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাঁটার পথ থাকলেও সংরক্ষিত বনের ভেতর পাকা রাস্তা করার সুযোগ নেই। পাকা রাস্তা হলে পাচারকারীরা বন উজাড় করে ফেলবে; দখল হয়ে যাবে বনভূমি। তিনি দাবি করেন, এলজিইডি রাস্তার কাজ বন্ধ না করলে তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

প্রকৃতি সংরক্ষণকর্মী রাসেল মাহফুজ বলেন, মধুশিয়া গর্জন বনটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। আইন অনুযায়ী, বনভূমিকে বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যায় না। দেশের সংবিধানেও বলা আছে, বর্তমান ও পরবর্তী সময়ে প্রজন্মের জন্য বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করবে সরকার। দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এ ধরনের প্রকল্প থেকে সরে আসা উচিত।

আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন ২০২৬-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, বনবহির্ভূত কাজে কোনো প্রাকৃতিক বন ব্যবহার করা যাবে না। অন্য কোনো বিকল্প না থাকলে মন্ত্রিসভার সম্মতি ও সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে তা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকি বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। জাতীয় বননীতি ২০২৫-এ বনভূমিকে বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ২০০১ সালের জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিতেও বনভূমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবাদীদের প্রতিবাদ
গত ১ জুলাই বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ (বেলা) কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়ে খুঁটাখালী-ঈদগড় সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানায়। তাদের মতে, মধুশিয়া গর্জন বন শুধু হাতির করিডোর নয়; এটি বনশূকর, শিয়াল, বানর, বনমোরগ, নানা প্রজাতির পাখি, সরীসৃপেরও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। পরিবেশবাদীর শঙ্কা, নতুন সড়ক চালু হলে বনাঞ্চলে মানুষের অবাধ যাতায়াত বাড়বে। ফলে বন উজাড়, অবৈধ দখল, বন্যপ্রাণী শিকার এবং কাঠ পাচারের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

বেলার প্রধান নির্বাহী ও সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রচলিত আইনে ওই দুটি বনে সড়ক করার সুযোগ নেই। সড়ক প্রকল্প দুটির না আছে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি, না আছে বন বিভাগের অনুমতি। বন বিভাগ সুস্পষ্টভাবে আপত্তি তোলার পরও অন্য মন্ত্রণালয়গুলো বন বিভাগের কর্তৃত্ব মানছে না। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটাচ্ছে।