Home Blog Page 22

সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করবেন মা-বাবা

০

দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।

বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’

আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।

পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’

বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।

শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’

ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’

মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’

ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে।

একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।

কমেছে বাংলাদেশি রোগী: ঢাকায় প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে কলকাতার হাসপাতালগুলো

০

ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে শহরটির বড় হাসপাতালগুলো। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীর জন্য নিজস্ব আবাসন, নিরাপদ হোটেলের সঙ্গে চুক্তি এবং বিশেষ সহায়তা ডেস্ক চালু করা হচ্ছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে এমন হোটেলে যাতে রোগীরা ওঠেন, তা নিশ্চিত করতেও সহায়তা করা হবে।

সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি অতিথিশালায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এর পরপরই কম খরচের অনিবন্ধিত হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করে। এতে বলা হয়, ভারতে আসার আগেই বৈধ ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র থাকা নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করতে হবে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য এই পরামর্শ মেনে চলা কঠিন হতে পারে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য সড়কপথে কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা ও এর আশপাশে কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। ফলে অনেক সময় তারা যথাযথ অনুমোদন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, এমন আবাসনেও উঠে পড়েন।

অতিথিশালা ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করছে হাসপাতালগুলো
বিপি পোদ্দার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত হাসপাতালটির কাছেই বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে হাসপাতালটি।

বিপি পোদ্দার হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাসপাতালের পাশেই নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেখানে পরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’

উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশি রোগীর জন্য তারা আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

উডল্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী ও অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘নিরাপদ হোটেলে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা তাদের সচেতন করতে চাই। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে আসবেন– এমন রোগীদের আলিপুর এলাকার গেস্টহাউস ও হোটেলগুলোর একটি তালিকা পাঠাচ্ছি।’

এর আগে বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিনিধি দল পাঠানো রুবি জেনারেল হাসপাতাল এবার রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ ডেস্ক চালু করছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালের প্রধান মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) সুভাষিস দত্ত বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি এবং হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছি। ভ্রমণের আগে রোগীরা যাতে কক্ষ বুক করতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও আমরা সহায়তা করছি।’

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসা

০

প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট মাস পাঁচ দিনে এই জেলার ছয়টি উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮৪৫ জন। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এক হাজার ৫১২ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন আরও ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২ জন। ছাড়পত্র নিয়েছেন ৫৬ জন। গত আগস্ট মাসে মুন্সীগঞ্জের ছয়টি উপজেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮১২ জন। এ ছাড়া চলতি মাসে গতকাল শনিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩০ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, আগস্ট মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮১২। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ৬৭২, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৭, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯, সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯, লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ এবং গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৩ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জেলায় প্রতিদিন বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের নতুন ছয়তলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার বারান্দায় নারী, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক। এ ছাড়া একাধিক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

একই পরিস্থিতি পাঁচটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও। সেখানেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। এখনও জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন রোগীরা।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫১২। প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় মুন্সীগঞ্জ জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিসংখ্যান বলছে, জুন মাস থেকে মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গত বছর ১২ মাসে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪১০। আর চলতি বছরে আট মাস পাঁচ দিনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৮৪৫ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে, দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৩৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকায় রেফার্ড করা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে এসব মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হচ্ছে না। ফলে জেলার ডেঙ্গু আক্রান্ত
ও মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। জুলাই ও আগস্ট মাসের ন্যায় চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন তিনি। সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পানির আধার নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য জেলার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রায়পুরে আগুনে পুড়ল ১১ ঘর ও ৬ দোকান

০

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন কয়েকটি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

রোববার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি বাজারের পাশের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশহক আলী ব্যাপারী বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিক উল্যার ছেলে সোহেল নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা ১১টি বসতঘর ও ছয়টি দোকানেও আগুন লাগে। অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সোহেল।

আগুনে ঘরবাড়ি ও দোকানের টিন, আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক মালামালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

ক্ষতিগ্রস্ত জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক হোসেন বলেন, আগুনে তার দোকানের বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানের পেছনের বসতঘরটিও পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তার দাবি, ওই ঘরের সোহেলই আগুন লাগিয়েছেন।

তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগের সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল মাদকাসক্ত এবং তার অগ্নিসংযোগের কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পরে স্থানীয়রা সোহেলকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

ফায়ার সার্ভিসের সরকারি পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে জানা যাবে।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাজানো সংসার ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকেই এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০

০

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সানান্দাজে জ্বালানি বহনকারী একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামাদান-সানান্দাজ মহাসড়কে যাওয়ার সময় ট্যাংকারটির ব্রেকিং সিস্টেমে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। পরে সেটি বিস্ফোরিত হয়।

সানান্দাজের গভর্নরের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে কিয়েভের পথে উইটকফ-কুশনার, মস্কো বৈঠকের নেপথ্যে কী

০

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তির পথ খুঁজতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। শনিবারের এ বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। তবে আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মস্কোর বৈঠক শেষে আজ রোববার কিয়েভের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে উইটকফ ও কুশনারের। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, মস্কোর মতো কিয়েভেও আলোচনাটি ফলপ্রসূ হবে।

ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বেশ কিছু ধারণা তুলে ধরেছেন। তবে সেসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি জানাননি।

উশাকভ বলেন, পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ‘বাস্তব অগ্রগতি’ অর্জন করছে এবং নিজেদের লক্ষ্য পূরণে তারা আত্মবিশ্বাসী। একই সঙ্গে সংঘাতের ‘সব মূল কারণ’ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই মস্কো যুদ্ধের মূল কারণগুলো সমাধানের কথা বলে আসছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই দূরপাল্লার বিমান হামলা জোরদার করেছে। তবে সম্মুখসারির অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বৈঠকটি ছিল ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

উশাকভ বলেন, বৈঠকে শুধু ইউক্রেন সংকট সমাধান নিয়ে মতবিনিময় হয়নি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বড় প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বৈঠকটি ছিল সময়োপযোগী এবং উভয় পক্ষের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, বৈঠকটি ছিল ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর’। বৈঠকে দিমিত্রিয়েভ ও উশাকভ উভয়েই উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেছেন পুতিন। বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেও ট্রাম্প সমঝোতা অর্জন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে অবদান রাখার চেষ্টা থেকে বিরত হননি।

শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন প্রস্তাব রয়েছে। তবে তিনি এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

পুতিন মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন দূতদের সফরকে কেন্দ্র করে পুতিন রুশ বাহিনীকে তিন দিন কিয়েভে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। গত ১০ দিন ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দিন-রাত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বাড়াতে ইউক্রেন গ্রীষ্মজুড়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, তেল টার্মিনাল এবং অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত মস্কোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে কিয়েভ প্রস্তুত রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বিশাল ব্যবধান রয়েছে।

ট্রাম্পের দূতদের সফরের খবর প্রকাশের আগেই ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, পুতিন আরও ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রয়টার্সকে ওই ব্যক্তি বলেন, দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশের পুরো নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত সম্মুখরেখা নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ওই সূত্র আরও জানান, কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রগতির কারণে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকেরা এমন সম্ভাবনাকে ক্ষীণ বলে মনে করেন।

ইউক্রেনও বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে রক্ষা করা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিয়েভ এ ধরনের শর্তকে আত্মসমর্পণের শামিল বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ক্রেমলিন শুক্রবার জানিয়েছে, দুই বছর আগে এক ভাষণে পুতিন যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, তা এখনো ‘অটল’ রয়েছে। ওই অবস্থানের মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি করা চারটি অঞ্চলের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।

সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ সেবা এনেছে ব্র্যাক ব্যাংক

০

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও উন্নত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের বিশেষ সেবা ‘দ্যুতি’-কে নতুনভাবে সাজিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এর আওতায় থাকছে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ‘দ্যুতি সেভিংস অ্যাকাউন্ট’ এবং সম্পূর্ণ নতুন ‘দ্যুতি স্যালারি অ্যাকাউন্ট’। ব্র্যাক ব্যাংক গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘দ্যুতি’ সেবা চালুর পর থেকেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুনভাবে ডিজাইন করা সেবার মূল আকর্ষণ হলো ‘দ্যুতি সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, যেখানে গ্রাহকরা উপভোগ করবেন আধুনিক ও আকর্ষণীয় ব্যাংকিং সুবিধা। এই অ্যাকাউন্টে গ্রাহকরা প্রথম বছর সম্পূর্ণ ফ্রিতে পাবেন একটি ভিসা মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট কার্ড। এর পাশাপাশি ইন্টারসিটি ট্রানজ্যাকশন এবং এসএমএস অ্যালার্ট চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টে মাসিক গড় ব্যালেন্স ৫০ হাজার টাকা বজায় রাখলে দিতে হবে না কোনো অ্যাকাউন্ট মেইনটেন্যান্স ফি। প্রতি মাসে আকর্ষণীয় ইন্টারেস্টের পাশাপাশি থাকছে ‘আস্থা’ অ্যাপ ব্যবহার এবং ২৪/৭ কাস্টমার সাপোর্টের সুবিধা।

নতুন পথচলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও যুক্ত হয়েছে ‘দ্যুতি স্যালারি অ্যাকাউন্ট’। যেসব কর্মকর্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন পেয়ে থাকেন, তাদের উন্নত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দিতে এই অ্যাকাউন্টে থাকছে বিশেষ সুবিধা। অন্য ব্যাংকের এটিএম থেকে প্রতি মাসে পাঁচবার ফ্রিতে টাকা তোলা যাবে। এ ছাড়া প্রথমবার থাকছে ১০ পাতার একটি ফ্রি চেকবই। পাশাপাশি পার্সোনাল লোন এবং ক্রেডিট কার্ডে থাকছে বিশেষ অফার।
ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি অ্যান্ড হেড অব ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক শেখ মোহাম্মদ আশফাক বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এমন ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন, যা আধুনিক, ব্যক্তি চাহিদাসম্পন্ন এবং তাদের পরিবর্তনশীল প্রয়োজনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়েছেন উদ্যোক্তারা

০

তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত ফেব্রিক্স বা কাপড় আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় রপ্তানি সক্ষমতা কমবে দেশের। বিদেশি ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী লিড টাইম বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য উৎপাদন ও জাহাজীকরণ বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ব্র্যান্ড-ক্রেতারা বাংলাদেশের বিকল্প উৎস দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ ও রপ্তানি কমবে।

সরকারের নতুন আমদানি নীতিতে নিট কাপড় আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত বিধান বাতিল করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে লেখা পৃথক চিঠিতে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ আগস্ট ২০২৬-২৯ সাল মেয়াদের আমদানি নীতি ঘোষণা করে। আমদানি নীতির ধারা-২৫-এ বলা হয়, ‘শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানির শর্তাবলির উপধারা-১২ নিট ফেব্রিক্স আমদানি যোগ্য হইবে না।’ এ নীতির কারণে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন উদ্যোক্তা রপ্তানিকারকরা। নতুন আমদানি নীতি ঘোষণার আগের এলসির ভিত্তিতে আমদানি করা অনেক নিট ফেব্রিক্স চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করতে সমস্যা হচ্ছে। আগে খোলা এলসির নিট ফেব্রিক্সও বন্দরে আসার পথে রয়েছে। ওইসব চালান খালাসেও সমস্যা হবে। এতে স্বাভাবিক রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো। নিট পোশাক উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ফেব্রিক্সের বড় একটা অংশ, প্রায় ৯০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ১০ শতাংশের মতো আমদানি করতে হয়। এ ছাড়া দেশে সহজলভ্য হলেও ব্র্যান্ড-ক্রেতারাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি ফেব্রিক্স ব্যবহারে শর্ত দিয়ে থাকে। তখন আমদানি করা ছাড়া উপায় থাকে না।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সমকালকে বলেন, এর আগে কখনও এ রকম নীতি সংকটের মুখে পড়তে হয়নি। নতুন আমদানি নীতির খসড়া নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। তখন প্রতিবাদ করলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিধানটি ভুলক্রমে নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চূড়ান্ত করার আগে এ ধারা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় চূড়ান্ত নীতিমালায় নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধের বিষয়টি বহাল রয়েছে। এটা কিছুতেই মানা যায় না। বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তারা। না হলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের চেয়েও এই সংকট আরও প্রকট হবে শিল্পের জন্য।

বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা বিকেএমইএর চিঠিতে বলা হয়, রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় ক্রেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয় তাদের। বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নিট পোশাকের ফেব্রিক্স উৎপাদন ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা, নির্ধারিত মান ও ডিজাইন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রয়োজনে বিদেশি ফেব্রিক্স বেশি আমদানি করতে হয়। এ বাস্তবতায় আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত বা প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিকেএমইএর মতো প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নয় তৈরি পোশাকের ওভেন পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যেক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য

কারখানাগুলো। তবে বিজিএমইএর
অনেক সদস্য একই সঙ্গে বিকেএমইএরও সদস্য। এ ছাড়া ফ্যাশনেবল সিনেথেটিক নিট পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকে অনেক ওভেন কারখানা। সে হিসেবে নতুন আমদানি নীতিতে নিট ফেব্রিক্স আমদানি নিষেধাজ্ঞায় বিজিএমইএ-ও ক্ষতিগ্রস্ত।
বাণিজ্যমন্ত্রীকে পাঠানো বিজিএমইএর চিঠিতে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হয়। নির্ধারিত মান, ডিজাইন বজায় রাখা ও দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজন হয়। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে নির্দিষ্ট ধরনের কাপড় সংগ্রহ করতে হয়। এ ধরনের আমদানির সুযোগ সীমিত হলে রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এ ছাড়া বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মান, সুনির্দিষ্ট ধরন, রং, ডিজাইন ও ধরনের কাপড় অনেক সময় স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় না। ফলে এসব ক্ষেত্রে বিদেশি উৎস থেকে ফেব্রিক আমদানি করতে হয়। নতুন নীতির সংশ্লিষ্ট বিধান বহাল থাকলে রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা সৃষ্টি হবে।
চিঠিতে বিজিএমইএ বলেছে, রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সমীচীন হবে না। এতে রপ্তানি সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। এই বাস্তবতায় দেশে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ আগের মতো বহাল থাকা জরুরি। ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে অথবা ফ্রি অব কস্ট (এফওসি) বা বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় নিট কাপড় আমদানির সুযোগ বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।

দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।

প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য

০

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। এ সময় তিনি দলের ‘ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বারবার তাঁর গলা ধরে আসছিল।
সাড়ে পাঁচ মাসের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, এ সময়ে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর খোঁজখবর রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘একজন কর্মী দলের কাছ থেকে কী আশা করে– নেতারা খোঁজখবর রাখবেন, নেতারা ভালোবাসবেন, বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়াবেন। অথবা সমবেদনা জানাবেন। সেটাই পেয়েছি।’ মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘আজকে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি দরকার হয় সাবধান থাকবেন এবং আপনি অনেক উদার আমি জানি, নিঃসন্দেহে। তবে সব সময় এমন হওয়া যাবে না। এটুকু আপনাকে আমি বলতে চাই। বহু কর্মী আছেন, নেতা আছেন, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, বাইরে এসে কিন্তু ভালো কথা বলেন না।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে বহুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ওনার মৃত্যু, নিঃসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, তা আমাদের কাম্য ছিল না।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনেক ভালো ভালো কাজ, খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে– তুলে ধরে সেদিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।

জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতির দীক্ষা পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার কাছে লালিত হওয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার সঙ্গে রাজনীতি করেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। এখানে আর কোনো কিছু সুযোগ নাই। … এখানে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করবে না।’
ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যেগুলো আমি জানব, দলের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর, সেগুলো আপনাকে জানাব ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

‘কিছু নেতাকর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন … কিছু মনে করবেন না, আমি খোলাখুলি বলি … কিছু নেতাকর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতে লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনাম আমাদের মাধ্যমে হয়নি।’

দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা, খালেদা জিয়ার কারাভোগ ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা জেল খেটেছি … দলটা এখনও ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দুই-একজন লোকের জন্য দলটার বদনাম হতে পারে না, এটা আপনারা খেয়াল রাখবেন।’
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, যুবদল সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।