Home Blog Page 226

ঢাকাকে মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর জামায়াতে ইসলামী

০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, প্রকৌশল বিভাগের এক ঝাঁক তরুণ ও মেধাবীদের উদ্যোগে আজ ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে “বসবাসযোগ্য ও মানবিক শহর” শীর্ষক একটি ব্যতিক্রমী পলিসি ডায়ালগের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের সকল শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষকে সৃষ্টি করাই হয়েছে কল্যাণের জন্য। সে কারণে জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ঢাকা শহর ও বাংলাদেশকে নিরাপদ, আধুনিক ও বসবাসের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ, আমরা ঢাকাকে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য শহরে পরিণত করতে চাই। আল্লাহ তাআলা সুযোগ প্রদান করলে আমরা জাতিকে এমন একটি শহর ও দেশ উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।”

তিন পর্বের বিস্তারিত আলোচনা

১ম পর্ব: সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এই পর্বে “Let Us Build Together Livable, Caring, Governable, Functional Cities and Towns” শীর্ষক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ব্রি. জে. (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান। তিনি তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য করার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। একই সাথে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ৬৪ জেলাকে সমৃদ্ধ করার রূপরেখা তুলে ধরেন। মানবিক শহরের ৭টি পিলারের কথা উল্লেখ করা হয়:

সকলের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি (পাওয়ার ও এনার্জি) নিশ্চিত করা।

আধুনিক ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ।

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হাতের নাগালে কর্মসংস্থান।

উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পিত উন্নয়ন।

গৃহায়ণ, আবাসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা।

অর্থনীতির চাকাকে সচল ও পুনর্গঠন।

২য় পর্ব: জাতীয় লক্ষ্য ও নীতিমালা “A National Vision for Livable & Human City” শীর্ষক এই সেশনটি পরিচালনা করেন এক্সিস ট্রায়াঙ্গেল গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান আলম। তিনি জানান, বিশ্বের ১৭৩টি সবচেয়ে খারাপ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। তথ্য দেওয়া হয় যে, এই শহরে বছরে ৩০০০ কোটি টাকা হকারদের থেকে এবং ১০৫৯ কোটি টাকা বাস ও বেসরকারি গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি হয়। এছাড়াও ৮২ ভাগ নারী হয়রানির শিকার হন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে এই চাঁদাবাজি ও হয়রানির অবসান হবে। আধুনিক ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, গ্রিন পার্ক এবং ঢাকার চতুর্দিকে ‘ওয়াটার ব্লু জোন’ (Water Blue Zones) তৈরির মাধ্যমে ট্রাফিক জ্যামমুক্ত শহর গড়া হবে।

৩য় পর্ব: অবকাঠামো ও পরিবেশ “Building Together” শীর্ষক এই সেশনটি পরিচালনা করেন পরিকল্পনাবিদ খন্দকার মো. আনসার হোসাইন (সাবেক সচিব, বিআইপি)। তিনি বর্তমান এক্সপ্রেসওয়েগুলোর অপরিকল্পিত নির্মাণের সমালোচনা করে বলেন, এতে অর্থ অপচয় ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। জামায়াত ক্ষমতায় আসলে প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রাস্তাঘাট, জলাশয়, পুকুর ও নদ-নদীকে কাজে লাগিয়ে একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলবে, যেখানে নারী ও শিশুর জীবন নিরাপদ থাকবে।

প্যানেল আলোচকবৃন্দ আলোচনায় অংশ নেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম জিয়াউল হাসান, দেওয়ান এ. এইচ. আলমগীর, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব, প্ল্যানার মেহেদী আহসান, ড. আদিল মোহাম্মদ খান, ড. ফজলে এলাহী, প্রকৌশলী শাহজাহান আলম, খন্দকার মো. আনসার হোসেন, মারদিয়া মমতাজ, ড. মাহবুবুল বারী এবং ড. মোশলেহ উদ্দিন।

উদ্বোধন ও সমাপ্তি ক্বারি হাফেজ বেলাল হোসাইনের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শাসন করার সুযোগ পেলে ঢাকাসহ বাংলাদেশকে বসবাসের উপযোগী করা আর স্বপ্ন থাকবে না, বাস্তবে রূপ নেবে। সমাপনী বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান (সাবেক নির্বাহী পরিচালক, ইয়ুথ গ্রুপ) উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক শহর গড়া আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বয়স ১৫ হোক বা ২৫, এই ৫ ফেসপ্যাক মাখলে ৭ দিনে ব্রণ দূর হতে বাধ্য

০

ত্বকের অন্যতম বড় সমস্যা ব্রণ। বয়স কম হোক বা বেশি—তৈলাক্ত ত্বক, হরমোনজনিত পরিবর্তন, ধুলোবালি কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই ব্রণ সমস্যায় ভোগেন। দুই গাল, কপাল, থুতনি—কোনো জায়গাই যেন বাদ যায় না। বাজারচলতি প্রসাধনী ব্যবহার করেও যখন কাজ হয় না, তখন ভরসা হতে পারে কিছু পরিচিত ঘরোয়া ফেসপ্যাক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক উপাদান ত্বককে শান্ত রাখতে সাহায্য করে এবং ব্রণজনিত জ্বালা কমাতে পারে।

তুলসী-নিম ফেসপ্যাক: তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কার্যকর
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে তুলসী ও নিমপাতা একসঙ্গে বেটে নিন। পরিষ্কার মুখে এই প্যাক লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও কোমল থাকতে পারে।

তুলসী, ওটস ও দুধের প্যাক: জেল্লা ফেরাতে সহায়ক
তুলসী পাতার গুঁড়োর সঙ্গে
🔹 ১ চামচ ওটস গুঁড়ো
🔹 ১ চামচ কাঁচা দুধ
ভালভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়তে পারে।

শীতকালীন ব্রণের জন্য বিশেষ প্যাক
শীতকালে অনেকেরই হঠাৎ ব্রণ বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে
তুলসী গুঁড়ো, নিমপাতা বাটা, হলুদ গুঁড়ো ও চন্দন গুঁড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। কয়েক মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

হলুদ ও মধু: প্রদাহ কমাতে সহায়ক
আধ চা-চামচ হলুদ ও ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন।
হলুদ প্রাকৃতিক প্রদাহবিরোধী উপাদান, আর মধু ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে। ১০–১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।

রসুন-দুধ প্যাক: সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার
একটি রসুনের কোয়া থেঁতো করে অ্যালোভেরা বা জোজোবা তেলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ২ টেবিল চামচ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। সংবেদনশীল ত্বকে আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
🔹 যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করুন
🔹 অতিরিক্ত ব্রণ বা ব্যথা থাকলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
🔹 পরিষ্কার মুখে ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘরোয়া এই ফেসপ্যাকগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রণ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সমাধান।

প্রোপোজ ডে-তে সঙ্গীকে বলতেই পারেন এই ১০টা কথা

০

ভালোবাসার মাস শুরু হয়ে গিয়েছে। গতকাল ছিল রোজ ডে বা গোলাপ দিবস। আজ সারা বিশ্বে প্রোপোজ ডে পালন করা হচ্ছে।

বন্ধুত্ব হোক কিংবা ভালোবাসার মানুষটাকে মনের কথা জানাতে পারেন আজকের দিনে। প্রোপোজ ডে-তে কীভাবে বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে বার্তা পাঠাবেন, রইল কিছু উদাহরণ-

১. তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি, যাকে ছাড়া আমি নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করি।
২. তোমার হাসিটাই আমার দিনের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।
৩. তুমি ভালো থাকলেই আমার মন শান্ত থাকে—এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।
৪. তোমার প্রতিটা ছোট অনুভূতিই আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
৫. আমি সবসময় তোমার পাশে আছি, সুখে হোক বা দুঃখে।
৬. তোমার যত্ন নেওয়াটাই আমার কাছে ভালোবাসার সবচেয়ে সহজ ভাষা।
৭. তুমি কেমন আছো—এই প্রশ্নটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।
৮. তোমার কষ্ট আমার মনেও ব্যথা হয়ে বাজে।
৯. আমার ভালোবাসা হয়তো শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমার আচরণ তা জানান দেয়।
১০. যতদিন থাকব, ততদিন তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখব।

একদিনেই উত্থান-পতন, স্বর্ণের ভরিতে কমল ৩ হাজারের বেশি

০

দেশের স্বর্ণবাজারে একই দিনে বড় উত্থান ও পতনের ঘটনা ঘটেছে। সকালে দাম বাড়ানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন এই দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ভরিতে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

বাজুস আরও জানায়, নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার সকালেই স্বর্ণের দাম বড় ধরনের সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছিল।

সকালবেলার ঘোষণায় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এদিকে, স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ভরিতে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়।

চায়ের কাপে ভোটের আলোড়ন—বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ

০

নির্বাচনী মৌসুম এলেই চায়ের কাপে জমে ওঠে রাজনৈতিক আড্ডা। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—দিন কিংবা রাত, সর্বত্র গমগম করছে চায়ের দোকান। ভোটের উত্তাপে চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে চলছে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা আর মতবিনিময়। এর প্রভাব পড়েছে চায়ের বাজারে—বিক্রি বেড়েছে চা, চিনি, রুটি, কেক ও বিস্কুটেরও।

চায়ের দোকানিরা বলছেন, শীত মৌসুমে এমনিতেই চায়ের চাহিদা বেশি থাকে। তার ওপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক দোকানে আগে যেখানে দিনে ১৫০ কাপ চা বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ কাপ পর্যন্ত।

নির্বাচনী প্রচারণায় সারা দেশ এখন মুখর। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই চায়ের দোকান হয়ে উঠেছে আলোচনা কেন্দ্র। চায়ের কাপে চুমুকের ফাঁকে চলছে প্রার্থী, দল ও নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে আলোচনা। দোকানিরা জানান, চায়ের পাশাপাশি রুটি, কেক ও বিস্কুটের বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক দোকানি নতুন কাপ-কেটলি কিনেছেন, কেউ কেউ আবার মৌসুমি চায়ের দোকানও খুলেছেন।

এক চা-দোকানি জানান, নির্বাচনের আগে যে পরিমাণ চা বিক্রি হতো, এখন তার তুলনায় বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দোকানে ভিড়ও তত বাড়ছে।

এদিকে চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে চায়ের দামে প্রভাব পড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চা ও চিনির দাম বাড়িয়েছে। খোলা ও প্যাকেট চায়ের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে যে চায়ের প্যাকেটের দাম ছিল ৩৬০ টাকা, তা এখন বেড়ে হয়েছে ৪২০ টাকা।

বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, দেশের চায়ের বাজার বর্তমানে চার হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্বাচনী আমেজ এ বাজারে বাড়তি গতি এনেছে বলে তারা মনে করছেন।

টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, ভালো মানের চায়ের দাম সব সময়ই তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে এবার নিম্নমানের চায়ের দামও বেড়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর মতে, নির্বাচনী মৌসুমের কারণেই চায়ের দামে এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চায়ের বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঙ্গা হয়েছে চিনির বাজারও। সব মিলিয়ে ভোটের উত্তাপে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি জমে উঠেছে চায়ের ব্যবসাও।

আমরা এই বাংলাদেশ চাই না—যেখানে চাঁদাবাজে অতিষ্ঠ দেশ

০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের জন্মস্থান মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুলাউড়া নবীনচন্দ্র (এনসি) উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এই বাংলাদেশ চাই না—যেখানে চাঁদাবাজে অতিষ্ঠ দেশ। যেখানে আমার মায়ের ইজ্জত নেই, যেখানে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ। যেখানে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা হয়। এই বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশকে তাড়িয়ে দিতে চাই। মনে করতে পারেন তাহলে কেমন বাংলাদেশ হবে? বলতে চাই এই বাংলাদেশই থাকবে, মানচিত্র ঠিক থাকবে শুধু চেহারা পাল্টে দিতে চাই।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করে বলেন, দেশ আজ তাঁদের ঋণে ঋণী এবং যুবকদের হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

বিদেশের মাটিতে মৃত্যু ও প্রবাসীদের সুরক্ষা প্রবাসীদের কল্যাণে একটি অনন্য ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, কোনো প্রবাসী যদি বিদেশে যাওয়ার খরচ তোলার আগেই সেখানে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর পরিবারকে সেই সমপরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ওই প্রবাসীর পরিবারের পূর্ণ দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র।

সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়ন সিলেটের প্রবাসীদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় গেলে সিলেট বিমানবন্দরকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বিশ্বমানের আধুনিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে।

চা শ্রমিকদের সন্তানের জন্য উচ্চাশা চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাগানের মালিক নয়, বরং রাষ্ট্রই চা শ্রমিকদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেবে। তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে শ্রমিকের সন্তান মেধার জোরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিজের জন্মমাটির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, কুলাউড়ায় হিন্দু, মুসলিম, খাসিয়াসহ সকল ধর্মের মানুষ অতীতে যেমন ভ্রাতৃত্বের সাথে বসবাস করেছেন, ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজহীন এবং মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনী সমীকরণ নির্বাচনী প্রার্থীতা নিয়ে তিনি জানান, অনেকেই তাঁকে ঢাকা বা কুলাউড়া থেকে নির্বাচন করতে অনুরোধ করেছিলেন। বর্তমানে কুলাউড়া আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করার মাধ্যমে আগামীর গতিপথ নির্ধারণে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টা যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

০

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিধিনিষেধের বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত—অর্থাৎ টানা ২৪ ঘণ্টা।

এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণের সময় যানবাহন চলাচলের ওপর এ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে জরুরি প্রয়োজন এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একইভাবে জরুরি সেবা, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন, প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি পাবে।

বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। পাসপোর্ট ও টিকিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দর যাতায়াতে কোনো বাধা থাকবে না। পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চলাচলেও শিথিলতা রাখা হবে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদের জন্যও আলাদা সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি এবং নির্ধারিত স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে প্রার্থী ও এজেন্টরা একটি করে ছোট যানবাহন—জিপ, কার বা মাইক্রোবাস—ব্যবহার করতে পারবেন।

সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন বা মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যানবাহন এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত থাকবে। এ ছাড়া টেলিযোগাযোগ সেবা স্বাভাবিক রাখতে বিটিআরসি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে চলাচল করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়।

এদিকে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন অনুযায়ী এ বিধিনিষেধ আরও কঠোর বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন।

আজ থেকে ভোটের মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

০

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে মাঠ পর্যায়ে আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া নির্বাচনের আগের দিন (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন। পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর এক লাখ এবং বিজিবির প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। বিজিবি, র‍্যাব, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়ন জেলা, উপজেলা ও থানা ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় মোতায়েন থাকবে কোস্টগার্ড। সব বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করবে এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।

সূত্র জানায়, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭–১৮ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ১৬–১৮ জন করে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এসব সদস্য ভোটগ্রহণের দুই দিন আগে থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

ঢাকায় আজ ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা

০

আর মাত্র চারদিন বাদেই দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো। বিশেষ করে সারা দেশে গণসংযোগ শেষে এবার ঢাকায় বড় ধরনের গণসংযোগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপি। টানা দুই দিনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৪টি জনসভায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর মধ্যে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর উত্তরের ৬টি নির্বাচনি আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের জনসভা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।

সূচি অনুযায়ী, রোববার দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ আসনের ইসিবি চত্বর থেকে জনসভা শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর ধারাবাহিকভাবে পল্লবী, মিরপুর-১০, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, শ্যামলী ক্লাব মাঠ এবং সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় বাড্ডার সাতারকুল সানভ্যালী মাঠে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

প্রতিটি জনসভাই নির্বাচনি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে আয়োজন করা হয়েছে যাতে সাধারণ ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানো সহজ হয়।

পরদিন সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের নির্বাচনি এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৭টি সহ মোট ৮টি নির্বাচনি জনসভায় যোগদান করবেন তারেক রহমান। এই দিন বেলা ১১টায় বনানী থেকে প্রচারণা শুরু করে কলাবাগান, পীর জঙ্গি মাজার রোড, বাসাবো, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন এবং ধূপখোলা মাঠ হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় লালবাগ বালুর মাঠে তিনি তার নির্বাচনি সফর শেষ করবেন।

মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই জনসভাগুলো সফল হবে এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পুনরদ্ধার হবে।

স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ

০

রাজধানীর আজিমপুরের এক তরুণী স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, ভরণপোষণ না দেওয়া, গোপনে তোলা ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ইতোমধ্যে কিছু ছবি প্রকাশের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ভুক্তভোগী জানান, ২০২২ সালে তিনি কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ রকি হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার শুরু করলেও কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আচরণে অস্থিরতা দেখা দেয়। তার অভিযোগ, রকি দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন, নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো যোগাযোগ করেন।

সোনিয়ার দাবি, স্বামী কখনও তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেন, আবার কখনও অস্বীকার করেন। কাবিননামার কপি চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরই মধ্যে রকির মায়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি হলো—দাম্পত্য জীবনের একান্ত মুহূর্তের কিছু ছবি গোপনে ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দেওয়া। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তার অজ্ঞাতে ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আরও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে এসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সোনিয়া আক্তার খুশি বলেন, “বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে বিশ্বাস করে সংসার করেছি। এখন আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমি এই প্রতারণার প্রতিবাদ জানাই এবং ন্যায়বিচার চাই।”

আইনজীবীদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে গোপনে ব্যক্তিগত ছবি ধারণ ও প্রচার, ব্ল্যাকমেইল এবং আর্থিক প্রতারণা—এসবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।