Home Blog Page 225

বাংলাদেশের পাশে পাকিস্তান! আইসিসিকে ৩ শর্ত

০

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় নতুন মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বা পিসিবির অবস্থান। নিরাপত্তার কারণে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছিল আইসিসি। এর প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের যে ঘোষণা পাকিস্তান দিয়েছিল, তা থেকে সরে আসতে এখন তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে তারা।

পিসিবির তিন প্রধান দাবি রোববার লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে পিসিবি স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে হলে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও বাংলাদেশকে পূর্ণ ‘অংশগ্রহণ ফি’ প্রদান করতে হবে।

ভবিষ্যতে আইসিসির বড় কোনো ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বাংলাদেশকে দেওয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে।

প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয় এবং বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়। শুরু থেকেই পিসিবি এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। যদিও আইসিসি এই বয়কটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবুও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এখনো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ এই জটিলতা নিরসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মহসিন নাকভি। সরকারের সবুজ সংকেত পেলে এবং আইসিসি দাবিগুলো মেনে নিলে তবেই ভারত-পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতিতে পাকিস্তানের এই সাহসী অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের সংহতি এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি হওয়ায় রপ্তানি বাড়বে

০

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী-বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পরও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ায় রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের বড় উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছে। আবার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রাক্কালে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একদিকে চুক্তিটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য কিছু উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কথাও উঠে আসছে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চুক্তিতে বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ব্যবসার পরিবেশকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সরকারের জন্য বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে বিস্তারিত বিধানও রাখা হয়েছে। ইপিএ চুক্তির আওতায়, কোন ব্যবসায়ীর আমদানি করা পণ্যে মিস-ডিক্লারেশন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রমাণিত হলে এর ফলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়, সেই পরিমাণ জরিমানা করা যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানায়, এই ইপিএ বাংলাদেশের বাণিজ্য কূটনীতিতে একটি ‘ঐতিহাসিক ধাপ’। বিজিএমইএ বলেছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে এবং এক ধাপে উৎপাদনসহ অনুকূল রুলস অব অরিজিন কার্যকর থাকবে, যার ফলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও পোশাক পণ্য শুল্ক ছাড়াই জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ব্যাপক পরিসরের পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পোশাক, কাপড়, অ্যাকসেসরিজ, মোটর যন্ত্রাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক, কাচ, ধাতু, গয়না ও ওষুধ। এ ছাড়া ১২ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে জাপানি গাড়ি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক ও জাপানের সঙ্গে ইপিএ আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তির কপি বিশ্লেষণে দেশীয় কয়েকটি খাতের জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্লাস্টিক সেক্টর যথেষ্ঠ শক্তিশালী এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করলেও ইপিএ চুক্তির আওতায়, জাপানি প্লাস্টিক পণ্য শূন্য শুল্কে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে। এ ছাড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হালকা প্রকৌশল) পণ্য এবং সব ধরনের গ্লাস আমদানিতে জাপানকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ।

পুরোনো স্টাইলেই নির্বাচনি রাজনীতি চলছে: আসিফ আকবর

০

বরাবরের মতোই গানের পাশাপাশি দেশের চলমান নানা ইস্যুতে সরব কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংসদ নির্বাচনে জোটগত রাজনীতির প্রভাব এবং যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করলেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন গায়ক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্বরত পরিচালক আসিফ আকবর।

নির্বাচনি রাজনীতি এখনো সেই পুরোনো ধাঁচেই চলছে উল্লেখ করে এই কণ্ঠশিল্পী লেখেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত রাজনীতির প্রভাবে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন পরীক্ষিত এবং যোগ্য প্রার্থী। গুণগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোনো লক্ষণই দৃশ্যমান নয়। জুলাই বিপ্লবোত্তর তারুণ্যের রাজনীতিতেও ক্যারিশমা দেখা যায়নি। নির্বাচনি রাজনীতি চলছে সেই পুরোনো স্টাইলেই।’

তবে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক মূল্যবোধের সংস্কৃতি দেখে নিজের মুগ্ধতার কথাও প্রকাশ করেন আসিফ, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফসল ডাক্তার তাসনিম জারা ( ফুটবল) দলছুট হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন ঢাকা-৯ আসনে। জারার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক জনপ্রিয় সংগ্রামী ছাত্রনেতা হাবিবুর রশীদ হাবিব (ধানের শীষ)। এই দুজন নির্বাচনি কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে রাজনৈতিক মূল্যবোধের সর্বোচ্চ সংস্কৃতি প্রদর্শন করছেন। তাদের রাজনীতি ভবিষ্যতের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

এরপরও বেশ কজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেক মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীকে নমিনেশন দেয়নি দলগুলো। একটা টেস্ট কেস হিসেবে ঝালকাঠি- ১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মইন ফিরোজী (হাঁস) আলোচনায় আসতে পারেন। তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ব্যারিস্টার মইন একটি বড় দলের নমিনেশন চেয়ে পাননি, কারণ তিনি টিপিক্যাল রাজনীতিক নন। অথচ পার্লামেন্টে এ ধরনের আইন প্রণয়নকারী প্রয়োজন। তবুও তিনি দমে যাননি, যোগ্যদের অধিকার আদায়ের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে চান।’

সবশেষে যোগ্য প্রার্থীরা নিশ্চয়ই একদিন সফল হিসেবে উদাহরণ তৈরি করবেন এমন প্রত্যাশার কথা জানান আসিফ। নতুন দিনের আশায় গায়কের ভাষ্য, ‘বহুদিন পর একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের অপেক্ষায় জাতি। রাতারাতি কোনো কিছুর পরিবর্তন হবে না সেটা জানি, তবে নিশ্চয়ই একদিন ব্যারিস্টার মইন, ডাক্তার জারা, রাজনীতিক হাবিবুর রশীদরা উদাহরণ হিসেবে সফল হবেন।’

এছাড়াও পোস্টের শেষে দেশপ্রেমের শপথ, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা এবং দীর্ঘদিনের জং ধরা অচলায়তন ভেঙে দেশ নতুন দিনের অপেক্ষায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক

০

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই মুদ্রানীতি প্রকাশ করেন।

নতুন এই নীতিতে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ‘নীতি সুদের হার’ বা পলিসি রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সাধারণত নীতি সুদের হারের ওপর ভিত্তি করেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হয়, তাই এটি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক ও ব্যাংকিং খাতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

গভর্নর জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যত্যয় ঘটলে মানুষ বসে থাকবে না: আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম

০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে এবং লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে এই অঞ্চলের মানুষ বসে থাকবে না, এই অঞ্চলে আগুন জ্বলবে।”

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ীর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। প্রশাসনের কাছে আমাদের স্পষ্ট দাবি—একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি মহল টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জনসভার আগে ‘ভোট দেব কিসে—ধানের শীষে, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন—ধানের শীষে ভোট দিন’ স্লোগানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে সমবেত হন। পরে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নেতৃত্বে একটি গণমিছিল রেলওয়ে ময়দান থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।

জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নঈম আনসারী, সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম দুলাল এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে যা বললেন চরমোনাই পীর

০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কোনো স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয় না। বরং এর মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য না থাকলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করলেই নানা অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত করার চেষ্টা হয়েছিল, তবে সাধারণ মানুষের হাতে থাকা মোবাইল ফোনের কারণে অনেক ঘটনা নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এখন মোবাইল নিষিদ্ধ করে সেই সুযোগও বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ ও অনাস্থা তৈরি করছে। দ্রুত এই নির্দেশনা বাতিল না করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টিও তুলে ধরেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, পর্দানশীন ও নেকাব পরিহিত নারী ভোটারদের প্রয়োজনে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পুরুষ কর্মকর্তার সামনে তাদের নেকাব খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।

সংগ্রামের মাধ্যমে আদায় করা ভোটাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে প্রতিহত করা হবে: মির্জা আব্বাস

০

ঢাকা–৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন–সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটাধিকার আদায় করা হয়েছে। এই ভোট কেউ ষড়যন্ত্র করে নষ্ট করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

ভোটের দিন সবাইকে পোলিং সেন্টার পাহারা দিয়ে ভোটের ফল ঘরে আনার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার রাজধানীর পীর জঙ্গী মাজারের সামনে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি তারেক রহমান।

বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সারা দেশে ঘুরে ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে এই স্থান থেকেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর মনোনয়ন ঘোষণা করেছিলেন। একই স্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে আগে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে কিছু মহল ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি আসনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে, সরকারি বা বেসরকারি যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ঢাকায় এই এলাকায় গ্যাস, পানি ও জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তিনি জানান, এলাকায় খেলার মাঠ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একসময় মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টারের ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে তা টিকিয়ে রাখা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় কবরস্থানের জায়গা দখল করে সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই কবরস্থানের জায়গা এবং মাঠের জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি স্কুলিং এরিয়া হওয়ায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, যাতায়াত সুবিধা এবং পানির ব্যবস্থার অভাবের কথাও তুলে ধরেন।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতায় গেলে ইনোভেটিভ আইডিয়ার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে—এমন প্রত্যাশা তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের কাছে করেন।

তিনি বলেন, শত ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ইনশাল্লাহ বিএনপি ঢাকা–৮সহ সারা দেশের বেশিরভাগ আসনে জয় লাভ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জেন-জি দের ভোটই নির্বাচনে কে জিতবে তা নির্ধারণ করবে: রয়টার্স

০

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় প্রভাবক হতে যাচ্ছে জেনারেশন জেডের ভোট। বিশ্বে এটিই প্রথম দেশ হতে যাচ্ছে যেখানে সংসদে কারা যাবেন, তা নির্ধারণ করতে পারেন জেনজি ভোটাররা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকার উৎখাতে ভূমিকা রাখা অনেক তরুণ বলছেন, এই নির্বাচনই হবে ২০০৯ সালের পর প্রথম সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে জয়ের সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোটও শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জি কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত একটি নতুন দল (এনসিপি), যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, তারা রাজনীতিতে শক্ত ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের জন্য ‘যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিভক্ত ফলাফলের বদলে একটি স্পষ্ট রায় আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির এই খাতসহ বড় বড় শিল্প মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই নির্বাচনের রায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ ভূমিকাকেও প্রভাবিত করবে।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, জনমত জরিপগুলোতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও মনে রাখতে হবে, এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার সিদ্ধান্তহীন। ফলাফল নির্ধারণে অনেক বিষয় কাজ করবে, বিশেষ করে জেনারেশন জেড—যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ—তাদের ভোট বড় ভূমিকা রাখবে।’

সারাদেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানার বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ এবং দেয়ালে ঝুলছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়গুলো তাদের প্রতীক দিয়ে সাজানো, আর সেখানে জোরে জোরে বাজছে নির্বাচনি গান। অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও এর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের রায় বাংলাদেশে চীন ও ভারতের ভবিষ্যৎ প্রভাবও নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনাকে ভারতঘেঁষা নেতা হিসেবে দেখা হতো এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেওয়ায়। তার পর থেকে বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বেড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আগ্রহের বড় কারণ তাদের ‘পরিচ্ছন্ন’ ভাবমূর্তি। ইসলামী আদর্শের চেয়ে এই ভাবমূর্তিই বেশি প্রভাব ফেলছে।

জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা বিপুলভাবে ভোট দিতে আগ্রহী। তারা ধর্মীয় বা প্রতীকী বিষয় নয়, বরং দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা এমন নেতৃত্ব চান, যারা দায়িত্বশীল, দক্ষ এবং জনগণের প্রতি যত্নশীল।

ভোটের মাঠে বিএনপি এগিয়ে, তবে ইতিহাসের সেরা ফলের পথে জামায়াত: রয়টার্স

০

১৫ বছরের বেশি সময় পর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভোটের মাঠে বিএনপি এগিয়ে আছে বলে ধরা হচ্ছে, তবে ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট এবার ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও পলায়নের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যে এই ভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আসন্ন এই জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে প্রথমবারের মতো সক্রিয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে জেনারেশন জেড। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোট শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণেরও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, দীর্ঘ দেড় দশকের একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাবের পর এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনের সময় রাজপথে বিরোধীদের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। কখনও তারা নির্বাচন বর্জন করেছে, আবার কখনও শীর্ষ নেতাদের গণগ্রেপ্তারের কারণে তারা কার্যত মাঠের বাইরে ছিল। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সেই চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে।

পলাতক হাসিনার আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সরকার পতনে ভূমিকা রাখা অনেক তরুণ বলছেন, এই নির্বাচনই হতে যাচ্ছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ২০০৯ সালের পর প্রথম প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট, যেবছর শেখ হাসিনা টানা ১৫ বছরের শাসন শুরু করেছিলেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে জয়ী হবে বলে ‘ব্যাপকভাবে ধারণা’ করা হচ্ছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোট তাদেরকে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জেড কর্মীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি নতুন দলও জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকলেও তারা সেই জনসমর্থনকে স্বতন্ত্র নির্বাচনী শক্তিতে রূপ দিতে পারেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেন, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে যদি স্পষ্ট রায় আসে, তাহলে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে সহায়ক হবে। হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় তৈরি পোশাক খাতসহ বড় শিল্প খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের জন্য বড় ধাক্কা।

এই নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে আঞ্চলিক শক্তিধর চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপরও প্রভাব ফেলবে। ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি বলেন, ‘জনমত জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনও ভোটারদের বড় একটি অংশ কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ফলাফলের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’। তিনি বলেন, ‘ভোটের ফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে জেনারেশন জেডের ভোট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই প্রজন্মের।’

সারা দেশে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ এবং জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসংবলিত সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানার খুঁটি, গাছ এবং সড়কের দেয়ালে ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারসামগ্রী। সড়কের মোড়ে মোড়ে দলীয় প্রতীক লাগানো অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ভেসে আসছে প্রচারণার গান। আগের নির্বাচনের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য হলো— তখন সর্বত্রই আধিপত্য ছিল আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের।

জনমত জরিপে ধারণা করা হচ্ছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত এবার তাদের ইতিহাসের সেরা নির্বাচনী ফল করতে পারে, যদিও দলটি এককভাবে সরকার গঠন নাও করতে পারে। দলটি ১৯৭১ সালে ভারতের সমর্থনে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের রায় আগামী দিনে বাংলাদেশে ভারত ও চীনের ভূমিকাও নতুনভাবে নির্ধারণ করবে। শেখ হাসিনাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হতো। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপিকে তুলনামূলকভাবে দিল্লির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন কিছু বিশ্লেষক। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশটি পাকিস্তানের দিকে আরও ঝুঁকতে পারে বলে তাদের ধারণা। পাকিস্তান একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।

জামায়াতের জেন-জেড মিত্র দলটি বলেছে, বাংলাদেশে ‘নয়াদিল্লির আধিপত্য’ তাদের অন্যতম উদ্বেগ। দলটির নেতারা সম্প্রতি চীনা কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। তবে ইসলামি নীতিতে পরিচালিত সমাজের পক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াত অবশ্য বলেছে, তারা কোনও দেশের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নয়।

বিএনপির তারেক রহমান বলেছেন, তার দল সরকার গঠন করলে যে দেশ বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের প্রতি ভোটারদের আকর্ষণের বড় কারণ তাদের ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তি’, ধর্মীয় অবস্থান নয়। জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী, ধর্মীয় বা প্রতীকি ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দায়িত্বশীল, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন।

সব মিলিয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে পরবর্তী সরকারপ্রধান হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যায়, তাহলে তাদের চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমানও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন।

গল্প বানানো সহজ, সত্য জানা জরুরি

০

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও নাজমুল ইসলামের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে। তবে এই ছবিটির পেছনের আসল ঘটনা জানিয়ে গুজব নাকচ করে দিয়েছেন বিসিবি পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও আপলোড করে পাইলট লিখেছেন, ছবি দেখে গল্প বানানো সহজ, কিন্তু সত্যটা জানা জরুরি। একটি ছবি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নাজমুল ভাই, ফারুক ভাই ও আমি রংপুর স্টেডিয়ামের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করছিলাম, এর বাইরে কিছুই নয়।
ক্ষুব্ধ সাবেক অধিনায়কের মতে, স্রেফ কিছু ‘ভিউ’ পাওয়ার আশায় ফেসবুকে নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হচ্ছে। এ সময় তিনি গুজব এড়িয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানান। ভিডিও বার্তায় পাইলট বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,‘আপনারা ফেসবুকে যে ছবিটি ভাইরাল হতে দেখছেন, সেখানে ফারুক ভাই নাজমুল ভাইকে বাজেভাবে কিছু বলছেনÑএমন কোনো ঘটনাই আসলে ঘটেনি। আমরা তিনজন মিলে প্রেজেন্টেশন বক্সে বসেছিলাম। নাজমুল ভাই উপরে ছিলেন, আমি তার নিচের ধাপে ছিলাম।

আমাদের মধ্যে মূলত আগের দিনের রংপুর সফর, সেখানকার মাঠের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল।’ পাইলট আরও নিশ্চিত করেন যে, আলোচনার পুরো সময়টা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও ইতিবাচক। কোনো ধরনের উচ্চবাচ্য বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হয়নি। স্রেফ একটি মুহূর্তের ছবিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভাইরাল ওই ছবিতে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বক্সে তীব্র মুহূর্তে দেখা গেছে রাগান্বিত অবয়বে সহ-সভাপতি ফারুক ও পাইলট পরিচালক নাজমুল ইসলামকে কিছু বলছেন। ফারুক আহমেদের আঙুল সরাসরি নাজমুল ইসলামের দিকে, খালেদ মাসুদও আঙুলের ইশারায় কিছু বলছেন।