Home Blog Page 228

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতেই দোসররা সক্রিয়: রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি গভীর ও ভয়ংকর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও তাঁর দোসররা এখনো প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সক্রিয় থেকে পরিকল্পিতভাবে দেশে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

গতকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দোসররা বিভিন্ন জায়গায় আছে, প্রশাসনে আছে, পুলিশে আছে, সরকারি দপ্তরে আছে। প্রতিটি জায়গা থেকেই তারা নীলনকশা আঁকছে, কীভাবে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নস্যাৎ করা যায়, কীভাবে দেশকে অশান্ত দেখানো যায়। বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ছে, এই বার্তাই তারা ছড়িয়ে দিতে চায়।

তিনি ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীকে গুলি করা এবং লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এই তিন ঘটনাকে একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন।

রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা নিজের জীবন দিয়ে শেখ হাসিনার মতো ভয়ংকর দানবীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু তারা থেমে নেই। যেসব জায়গায় তারা আশ্রয় পেয়েছে, যেখান থেকে দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে, সেখান থেকেই সুতো টানছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার নামে প্রকাশিত বিভিন্ন অডিওতে ‘ধর, মার, মেরে ফেলে দে। দেশে যেন শান্তিতে কেউ না থাকতে পারে’। এ ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তারা বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেখতে চায় না।

বাংলাদেশকে নিয়ে ভয়ংকর চক্রান্তের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “তারা আর পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা পাচার করতে, পারছে না সোনালী বা বেসিক ব্যাংক লুট করতে, পারছে না সরকারি প্লট আত্মসাৎ করতে। এই লুটপাট বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই তারা বাংলাদেশকে অশান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”

গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বেলাল হোসেনের আট বছর বয়সী কন্যা আয়েশা আক্তার ঘরের ভেতর আটকা পড়ে পুড়ে মারা যায়। গুরুতর দগ্ধ হয় তার আরও দুই কন্যা স্মৃতি আক্তার (১৭) ও বীথি আক্তার (১৪)। তারা বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। বেলাল হোসেন নিজেও দগ্ধ হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বেলাল হোসেন জানান, ঘরের দুই দরজাই বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। আগুনের ধোঁয়া আর তাপে আমি ছোট মেয়েকে আর উদ্ধার করতে পারিনি।

এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি। ফায়ার সার্ভিসও দরজা তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত নয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেলাল হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল রোববার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে যান।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীবসহ অনেকে।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সদর (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

রিজভীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নিহত আয়েশা আক্তারের কবর জিয়ারত করেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বেলালের স্ত্রী নাজমা বেগমের হাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন। এর আগে তিনি সদর হাসপাতালে গিয়ে বেলাল হোসেনকে ব্যক্তিগতভাবে ৪ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন।

খালাস চেয়ে সাবেক আইজিপি মামুনের আপিল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে আপিল করেছেন। আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তাঁর পরিবার। এই আপিলের ক্ষেত্রে ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মধুমালতি চৌধুরী বড়ুয়া।

এর আগে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণা করে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। ওই মামলায় এক অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে তাদেরকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সাজা আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তরের জন্য আপিল করেন।

এবার সাবেক আইজিপির পক্ষ থেকে নিজের সাজা বাতিল ও খালাস চেয়ে আপিল দায়ের হওয়ায় মামলার বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।

তারেক রহমানের সংবর্ধনা আয়োজনের অনুমতি পেলো বিএনপি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পেয়েছে দলটি।

রোববার (২১ ডিসেম্বর রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।

শায়রুল কবির খান বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে।

গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে এ-সংক্রান্ত অনুমতিপত্র পাঠিয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

শায়রুল কবির আরও বলেন, চিঠিটি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্টাফ জাহিদ হোসেন রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে পৌঁছে দেন। সেটি গ্রহণ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দপ্তর দায়িত্বে) সাত্তার পাটোয়ারী।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বৈঠক

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও চলমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের কথা সোমবার (২২ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আসন্ন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা প্রস্তুতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়, সম্প্রতি দুটি জাতীয় দৈনিক ও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্তত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা ও মো. শফিকুল ইসলাম। শনাক্ত হওয়া বাকি সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় জড়িত তিনজনকেও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
রোববার বিকেলের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট নির্দেশনা দেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতসহ যেকোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোনো মূল্যে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নাগরিকের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস দুর্ঘটনায় ১১ আনসার সদস্য আহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনসার সদস্যদের বহনকারী একটি বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ১১ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা যায়, জেলা শহরের আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে ফায়ারিং ক্যাম্প শেষে আনসার সদস্যদের একটি দল দিগন্ত পরিবহনের একটি বাসে করে সদর উপজেলার সুহিলপুর ক্যাম্পে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে পৈরতলা এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলমান ফোর লেন মহাসড়কের নির্মাণাধীন একটি ফ্লাইওভারের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় ১১ জন আনসার সদস্য আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আনসার ও ভিডিপি সার্কেল এর অ্যাডজুট্যান্ট মোহাম্মদ হারুন রশীদ জানান, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কিংবদন্তির অপেক্ষায় রোমাঞ্চিত তাসকিন

রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন ওয়ারলেস মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে দুই শিশুর (ভাইবোন) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের নাম আফরিদা চৌধুরী (১০) ও তার ছোট ভাই এক বছর বয়সী ইলহাম চৌধুরী। ফুডপয়জনিংয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করছে পুলিশের।

শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ওয়ারলেস মোড় ৯১ নং এসএইচএস টাওয়ার এর নিচে গ্যারেজে ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্স থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।

হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া জানান, খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাসার নিচে ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্সে রাখা শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তবে তাদের শরীরে কোন রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, শিশুদের বাবা মোসলে উদ্দিন চৌধুরী গার্মেন্টসের জিএম আর মা সাইদা জাকাওয়াত আরা গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায়। বর্তমানে ওয়ারলেস মোড়ের ওই বাসায় থাকেন। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয়দের এবং পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ২ শিশু সন্তানসহ তাদের বাবা মা খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে মেয়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় রাসমুন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শনিবার ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পরিবার যখন তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসে এরপর ছেলেটিও বমি করা শুরু করে। অসুস্থ হয়ে পড়া দেখে পরবর্তীতে তাকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছেলে শিশুটি।

শিশুদের চাচা তৌহিদ আলম চৌধুরী বলেন, আফরিদা বেইলি রোডের ভিকারুন্নেসা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ ডিসেম্বর আফরিদার জন্মদিন ছিল। বাবা মা দুই বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে কোন এক রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছিল। ৪ দিন পরে তারা অসুস্থ হয়। ওই খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হযেছিল! নাকি অন্য কোন খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে জানতে পারব।

এসআই বলেন, একই খাবার খেয়ে তাদের বাবা মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তারা চিকিৎসা শেষে সুস্থ আছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে শিশু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।তবে ওই খাবার তারা বাসায় রান্না করেছিলেন নাকি বাইরে থেকে কিনে এনেছিলেন তা এখনো জানতে পারিনি। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চশমা ছাড়াই দৃষ্টি তীক্ষ্ণ রাখতে চান? চোখের শক্তি বাড়াতে কাজে দেবে এই ১০টি প্রাকৃতিক ব্যায়াম

দিনের বেশিরভাগ সময় কম্পিউটার, স্মার্টফোন কিংবা টিভির পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে এটাই এখন আধুনিক জীবনের বাস্তবতা। কিন্তু এই অভ্যাসের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে আমাদের চোখ। চোখ জ্বালা, ঝাপসা দেখা, মাথাব্যথা কিংবা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া এসব সমস্যাকে আমরা অনেক সময় স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই কিছু সহজ ব্যায়ামের মাধ্যমে চোখের দৃষ্টিশক্তি ও ফোকাস ক্ষমতা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব।
চোখের পেশি সক্রিয় রাখা, রক্তসঞ্চালন বাড়ানো এবং মানসিক চাপ কমাতে প্রাকৃতিক চোখের ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত চর্চায় চোখ দীর্ঘদিন সুস্থ ও সতেজ থাকে। জেনে নিন এমনই ১০টি সহজ কিন্তু শক্তিশালী চোখের ব্যায়াম, যেগুলো আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন।
১. আই পালমিং
চোখ বন্ধ করে উষ্ণ হাতের তালু দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে রাখুন। গভীর শ্বাস নিতে নিতে কয়েক মিনিট এভাবে থাকুন। এতে চোখ ও মস্তিষ্ক দুটোই আরাম পায়, কমে ক্লান্তি।
২. নিকট-দূর ফোকাস অনুশীলন
চোখের সামনে একটি বস্তুতে তাকান, তারপর দৃষ্টি সরান দূরের কোনো স্থানে। বারবার দৃষ্টি পরিবর্তন চোখের ফোকাস ক্ষমতা ও পেশির নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করে।
৩. ঘড়ির কাটার মতো চোখ ঘোরানো
চোখের মণি দিয়ে ঘড়ির কাঁটার মতো ধীরে ধীরে বৃত্ত আঁকুন, তারপর উল্টো দিকে। এতে চোখের নমনীয়তা বাড়ে এবং পেশির জড়তা কমে।
৪. পেনসিল পুশ-আপ
একটি পেনসিল চোখের সামনে ধরে ধীরে ধীরে নাকের দিকে আনুন এবং ফোকাস বজায় রাখার চেষ্টা করুন। দৃষ্টি ঝাপসা হলে আবার দূরে সরান। এটি চোখের কনভারজেন্স শক্তিশালী করে।
৫. সচেতনভাবে পলক ফেলা
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যায়। প্রতি ২০ মিনিট পরপর কয়েক সেকেন্ড দ্রুত পলক ফেললে চোখ আর্দ্র থাকে ও জ্বালা কমে।
৬. চোখ চেপে ধরা ও ছেড়ে দেওয়া
চোখ শক্ত করে বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড রাখুন, তারপর হঠাৎ খুলে দিন। এতে চোখের পেশিতে রক্ত চলাচল বাড়ে।
৭. ফিগার ‘৮’ অনুশীলন
কল্পনায় চোখের সামনে একটি বড় ‘৮’ অঙ্ক আঁকুন। একদিকে ও অন্যদিকে ঘোরান। এটি চোখের সমন্বয় ও ফোকাস উন্নত করে।
৮. ঠান্ডা চামচ থেরাপি
ফ্রিজে রাখা স্টিলের চামচ চোখের নিচে হালকা করে ঘোরান। চোখের ফোলাভাব ও ক্লান্ত ভাব দ্রুত কমে।
৯. শ্বাসের সঙ্গে দৃষ্টি বদলানো
শ্বাস নিতে নিতে দৃষ্টি একদিকে নিন, শ্বাস ছাড়ার সময় অন্যদিকে সরান। এতে চোখের সঙ্গে মানসিক প্রশান্তিও বাড়ে।
১০. মোমবাতির শিখায় দৃষ্টি স্থির রাখা
একটি মোমবাতির শিখার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকুন, এরপর চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নিন। যোগশাস্ত্রে এটি ‘ত্রাটক’ নামে পরিচিত, যা মনোযোগ ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়ক।
চোখের যত্ন মানেই শুধু চশমা বা ওষুধের ওপর নির্ভর করা নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই পারে চোখকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে। নিয়মিত এই ব্যায়ামগুলো করলে চোখের ক্লান্তি কমবে, দৃষ্টি হবে পরিষ্কার এবং ফোকাস ক্ষমতা বাড়বে। তাই এখন থেকেই সময় বের করে চোখের যত্ন নিন কারণ সুস্থ চোখ মানেই সুস্থ জীবন।

এক মাস আদা খেলে আপনার শরীরে যা ঘটে তা জানলে অবাক হবেন!

আমরা প্রায়ই ফল ও সবজির উপকারিতা নিয়ে শুনে থাকি, কিন্তু রান্নার স্বাদ বাড়ানো একটি সাধারণ মসলা আদা ওয়াকিবহাল স্বাস্থ্য উপকারের দুনিয়া লুকিয়ে রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন এক মাস আদা খেলে শরীরে ঘটে এমন পরিবর্তন যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

আদা: প্রাকৃতিক ঔষধের শক্তিশালী উৎস

আদা শুধু ঝাঁঝালো স্বাদের জন্য নয়, বরং এটি দেহের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ। আদায় থাকে জিঞ্জেরল, শোগাওল, জিঞ্জিবারিনের মতো শক্তিশালী বায়ো-অ্যাকটিভ যৌগ, যা হজম শক্তি বৃদ্ধি, প্রদাহ কমানো, ব্যথা উপশম এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলোও শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
প্রতিদিন আদা খাওয়ার চমকপ্রদ উপকারিতা
বমি ও ক্লান্তি দূর করে: জিঞ্জেরল বমিভাব কমাতে কার্যকর।
শারীরিক ব্যথা ও জোড়া সমস্যা কমায়: শোগাওল প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।
হজম শক্তি বৃদ্ধি: জিঞ্জিবারিন হজমে সাহায্য করে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কমায়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে: নিয়মিত আদা রক্তে সুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়: মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে: ঠান্ডা, সর্দি ও সংক্রমণ থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
এক মাসে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন
যারা এক মাস নিয়মিত আদা খেয়েছেন, তারা জানিয়েছে হজমের উন্নতি, শক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ বাড়া এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধির মতো ফল। এটি প্রমাণ করে যে, একটি সাধারণ মসলাও আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পরামর্শ:

যদিও আদা একটি প্রাকৃতিক উপাদান, তবে নিয়মিত ব্যবহারের আগে নিজের স্বাস্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন বছরে স্বর্ণ আর তেলের দামে কোনটা উঠবে, কোনটা নামবে?

২০২০ সালের পর থেকে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে একের পর এক অস্থিরতা দেখা গেছে। করোনা–পরবর্তী সরবরাহ সংকট, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে গত কয়েক বছর চাহিদা ও সরবরাহে বড় ওঠানামা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালে এই উত্তেজনা কিছুটা কমে এসে বাজারে তুলনামূলক স্থিতি ফিরতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে পণ্যবাজার মূলত তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। প্রথম ভাগে থাকবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে পড়তে পারে, পাশাপাশি চীনের ধীরগতির অর্থনীতি চাহিদা সীমিত রাখবে। বিপরীতে সরবরাহ থাকবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে নতুন প্রকল্প চালু হওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে তীব্র শীতের আশঙ্কাও কম। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের ভালো ফলনে বৈশ্বিক খাদ্যশস্যের মজুত বেড়েছে।

এই শ্রেণির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হলো অপরিশোধিত তেল। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। কারণ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইবেন। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো উৎপাদন বাড়ালে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে। তবে দাম কতটা কমলে আবার চাহিদা বাড়বে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য, যার শীর্ষে সোনা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংকট, বাণিজ্যিক ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে টানছে। ২০২৫ সালে সোনার দাম আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলার ছাড়ালেও, ২০২৬ সালে তা সাড়ে চার হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করতে পারে। ফলে খুচরা বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক—উভয়ই সোনা কেনা অব্যাহত রাখতে পারে। একই সঙ্গে রুপার চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয় ভাগে রয়েছে শিল্পধাতু, যাদের গতিপথ পুরো পণ্যবাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাতু হলো তামা, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তামা আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল। পরে শুল্ক কেবল তামাজাত পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে—এ ঘোষণায় দাম কিছুটা কমলেও অনিশ্চয়তার কারণে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ২০২৬ সালেও তামার বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কনীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপে রাখবে। একই সঙ্গে অনিশ্চয়তা বাড়লে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হতে পারে, যা অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী শিল্পকারখানার ক্রয়ক্ষমতা কমাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সুদের হার কমায়, তাহলে বাজারে ভিন্ন প্রভাবও দেখা যেতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির বৈশ্বিক বিক্রি দ্রুত বাড়লে ব্যাটারি, তার ও মোটরে ব্যবহৃত তামার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সরবরাহ বিঘ্ন, নতুন খনি প্রকল্পে বিলম্ব কিংবা চীনের কারখানাগুলো প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালে বাজারে নতুন গতি আসতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মত, ২০২৬ সালে পণ্যবাজারে বড় ধরনের উত্তেজনার চেয়ে বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে—তামাসহ শিল্পধাতু বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে পারে নাকি আবার দরপতনের দিকে ঠেলে দেয়, সেদিকেই।

উস্কানিমূলক কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মেটাকে চিঠি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি শুক্রবার মেটাকে এ চিঠি দেয়। একই সঙ্গে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টগুলোর ওপর বিশেষ নজরদারি জারি রাখতে মেটাকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে থাকা বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে সহিংসতা উসকে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এর ফলে উত্তেজনা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ফেসবুকে প্রকাশ্যে ওসমান হাদির মৃত্যুকে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যরা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য ছড়ানোর পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হয়। সরকার ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও সহিংসতা উসকে দেওয়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে মেটা সহযোগিতা করেনি বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে উসকে দেওয়া সহিংসতার সঙ্গে নাগরিকদের জীবন, গণতান্ত্রিক অধিকার, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা গভীরভাবে যুক্ত। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়ে মেটাকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে চিঠিতে। সেসবের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সংক্রান্ত কনটেন্টের ক্ষেত্রে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড আরও কঠোর, দ্রুত ও প্রেক্ষাপট সংবেদনশীলভাবে প্রয়োগ করা, বাংলা ভাষাভিত্তিক কনটেন্ট মডারেশন করা, অনুভূতি বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা জোরদার করা এবং সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ক্ষতির আহ্বান জানানো কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি শনিবার থেকে সন্ত্রাস ও সহিংসতার আহ্বান সংবলিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিষয়ে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইলে রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে ও ইমেইলে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর বিটিআরসির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে রিপোর্ট করবে।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, সরকার সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো পোস্ট ডাউন করতে পারে না। শুধু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত পোস্টগুলো সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কাছে রিপোর্ট করতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হেট স্পিচ, যা সরাসরি সহিংসতা ঘটায় কিংবা সহিংসতার ডাক দেয় সেটা জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ মতে দ-নীয় অপরাধ।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সোশ্যাল মিডিয়াকে সহিংসতা কিংবা ভায়োলেন্স তৈরির টুল হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি দেশ, নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সচেতন হতে জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছে।
ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ ॥ সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দিয়েছে মেটা। শুক্রবার রাত থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে না।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতে ইলিয়াসের ফেসবুক থেকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা চালাতে উসকানিমূলক একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠান দুটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ইলিয়াসের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ খুঁজে না পাওয়া নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হয়েছে। একটি টেলিভেশন চ্যানেলের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডাউন করে দিয়েছে মেটা। অ্যাকাউন্টটিতে ২ মিলিয়ন ফলোয়ার ছিল। অপর একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইলিয়াসের প্রায় ২২ লাখ অনুসারীর ফেসবুক পেজটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।