Home Blog Page 229

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা জাতির জন্য লজ্জার

দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে হামলা জাতির জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ দৃশ্য সারাবিশ্ব দেখেছে। সেটা আমাদের জন্য লজ্জার। এটা কোনোভাবে আমরা শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক রেডিও, টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সালাহউদ্দিন বলেন, এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচাইতে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন— এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলার পরও শুনেছি এক দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেবো? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, কিছুদিন যাবত গণমাধ্যমকে চিহ্নিত করে, টার্গেট করে হামলা করতে দেখছি। কিছু স্থাপনায়, ঠিকানায় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করছি। এগুলো আরও কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশ নিয়ে গণপ্রত্যাশা, গণ-আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। পূর্ণগণতন্ত্রণ চায় বাংলাদেশের সব মানুষ। গণতন্ত্রকে সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানিকীকরণ করতে চায়। গণতন্ত্র বিনির্মাণের জন্য সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। নিরপেক্ষ না থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ বিএনপিকে দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই, তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কী করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।

তারেক রহমানের ফ্লাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো দুই কেবিন ক্রু

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যেই ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন সেটির দায়িত্বে থাকা দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—জুনিয়র পার্সার মো. সওগাতুল আলম সওগাত ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস জিনিয়া ইসলাম।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, তারেক রহমানের লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের নিরাপত্তা ও ভিআইপি ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিমান সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লিখিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতেই ওই দুই কেবিন ক্রুকে ফ্লাইটের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিয়মিতভাবে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিমের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি–২০২ ফ্লাইটটি বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই ফ্লাইটে তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাও থাকার কথা।

বিমান সূত্র আরও জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ওই দুই কেবিন ক্রুর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় তাদের ফ্লাইট দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই ফ্লাইটে জুনিয়র পার্সার মোস্তফা এবং ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস আয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ।

এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে। গত ২ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ফ্লাইট থেকেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আল কুবরুন নাহার কসমিক ও মো. কামরুল ইসলাম রিপন নামের দুই কেবিন ক্রুকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সে সময়ও ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

আগুনে পুড়িয়ে মারা ও প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়া বরদাস্ত করবে না সরকার

আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা ও প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়ার মতো কাজকে সরকার বরদাস্ত করবে না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক ইস্যুতে করা সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা এবং প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দেয়া গর্হিত কাজ। সরকার এসব বরদাস্ত করবে না।’

সব স্থাপনায় সরকারের নিরাপত্তা দেয়া কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

ময়মনসিংহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় উল্লেখ করে খালিদ হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মবকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ময়মনসিংহের ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানান ধর্ম উপদেষ্টা।

আবরার–আবু সাঈদের কাতারে ওসমান হাদি: মিজানুর রহমান আজহারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইসলামী চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ওসমান হাদির শাহাদাতকে স্মরণ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে আজহারি লেখেন, “ওসমান হাদি এখন আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের কাতারে শামিল হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুরবানি কবুল করুন, তাঁকে শহীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং জান্নাতে তাঁর মেহমানি কবুল করুন।”

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার ডিএমপি-৮ আসনে সংসদীয় প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে গুলি চালালে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুলিটি তাঁর মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তবে মস্তিষ্কে গুলির কিছু অংশ রয়ে যায়—যা তাঁর অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করে তোলে।

পরিবারের অনুরোধে তাঁকে পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। কিন্তু সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সারাদেশে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সরকার তাঁর মৃত্যুর দিনে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ভারতীয় আধিপত্যের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদির শাহাদাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ওসমান হাদির এই অকাল প্রস্থান জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি—এমনটাই মনে করছেন তাঁর অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

কিছুদিন আগেই ক্লাবের হয়ে ‘এত কিছু করার পরও’ প্রাপ্য সম্মান না পাওয়া ও তাকে বলির পাঁঠা বানানোর অভিযোগ করেছিলেন মোহামেদ সালাহ। বিস্ফোরক সেই মন্তব্যের জন্য সতীর্থদের কাছে সালাহ ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানালেন কার্টিস জোন্স। লিভারপুলের এই মিডফিল্ডারের দাবি, ওই ঘটনার কোনো প্রভাব লিভারপুলের ড্রেসিং রুমে পড়েনি এবং ফুটবলারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বন্ধন বরাবরের মতোই অটুট।

সালাহর সেই মন্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনার তীব্র স্রোত বয়ে গেছে। মাঠের ফুটবলে ধুঁকতে থাকা দলটি জেরবার আরও বিতর্কে। গত মৌসুমে অসধারণ পারফর্ম করা সালাহ এবার কয়েকটি ম্যাচের বাজে পারফরম্যান্সের পর জায়গা হারান একাদশে।

গত ৬ ডিসেম্বর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের ম্যাচের পর মিক্সড জোনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।

ক্লাবের হয়ে ‘এত কিছু করার পরও’ প্রাপ্য সম্মান না পাওয়া ও তাকে বলির পাঁঠা বানানোর অভিযোগ করেন তিনি। কোচের সঙ্গে যোগাযোগ ভেঙে পড়ার কথাও জানান তিনি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ক্লাব কর্তৃপক্ষকে।
সেটির জবাবে তিন দিন পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডেই রাখা হয়নি সালাহকে। কোচ আর্না স্লট জবাব দেন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে। সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের অনেকে স্রেফ ধুয়ে দেন লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ডকে।

তবে বাইরের এসব ঘটনার আঁচ ড্রেসিং রুমে লাগেনি বলে জোন্স জানালেন স্কাই স্পোর্টসের একটি সাক্ষাৎকারে, যেটি প্রকাশিত হয়েছে শুক্রবার।

“মো নিজে আলাদা একটি সত্তা ও নিজের ভাবনার কথা সে বলতেই পারে। আমাদের কাছে সে ক্ষমা চেয়েছে এবং ব্যাপারটি এমন ছিল, ‘যদি আমার ঘটনায় কেউ প্রভাবিত হয়ে থাকে বা কারও সেই ধরনের কিছু মনে হয়, তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ সে এমনই একজন মানুষ।”

উত্তাল কয়েকটি দিনের পর পরিস্থিতি অবশ্য শান্ত হয়ে আসে ক্রমে। গত শনিবার ব্রাইটন অ‍্যান্ড হোভ অ‍্যালবিয়নের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে সালাহকে রাখা হয়। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দলকে সহায়তা করেন তিনি গোল ও জয় পেতে। ম্যাচের পর তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসাও করেন কোচ স্লট।

সালাহ পরে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের মিশর দলে যোগ দিতে চলে যান। প্রিমিয়ার লিগে শনিবার লিভারপুল লড়বে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিপক্ষে। ১৬ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ডায়াবেটিস আজকের আধুনিক জীবনের একটি সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। জীবনযাপন, খাবারের অভ্যাস এবং স্ট্রেসের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিটি বয়সেই। তবে সঠিক অভ্যাস এবং সচেতন জীবনধারা অনুসরণ করলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০টি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।

১. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন

রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত মনিটরিং রোগের প্রাথমিক স্তরে শনাক্তকরণে সহায়ক এবং চিকিৎসা প্রয়োগে সহায়ক।
২. স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য উচ্চ ফাইবার, কম কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। সবজি, শাকসবজি, বাদাম, বাদামজাতীয় এবং পূর্ণ শস্য খাদ্য তালিকায় রাখুন।
৩. চিনির পরিমাণ কমান
মিষ্টি, কেক, চকোলেট, সোডা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি করে। তাই চিনির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটা, জগিং, সাঁতার বা যোগব্যায়াম রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন
অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
৬. পর্যাপ্ত জল পান করুন
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। এটি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়।
৭. মানসিক চাপ কমান
চিন্তা, স্ট্রেস এবং উদ্বেগ ডায়াবেটিসকে বাড়িয়ে দিতে পারে। মেডিটেশন, প্রার্থনা, হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৮. নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনিয়মিত ঘুম শরীরের হরমোন ব্যালান্সে প্রভাব ফেলে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
৯. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন
ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
১০. চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত ওষুধ এবং ইনসুলিন ব্যবহার করা জরুরি। নিজেই ওষুধের ডোজ পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ডায়াবেটিস শুধুমাত্র জীবনধারার পরিবর্তনেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদি সফলতা নিশ্চিত করে।

উপকারী হলেও কুমড়ার বীজ কাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় কুমড়ার বীজ এখন বেশ জনপ্রিয়। বিকেলের নাশতা, সকালের ওটস কিংবা অফিসের স্ন্যাকস—সব জায়গাতেই জায়গা করে নিয়েছে এই বীজ। পুষ্টিগুণে ভরপুর কুমড়ার বীজে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যা শরীরের জন্য উপকারী।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকারী হলেও কুমড়ার বীজ সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ ২৮ থেকে ৩০ গ্রাম কুমড়ার বীজ খেতে পারেন। এর বেশি খেলে হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যাদের কিডনি বা লিভারের জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য কুমড়ার বীজ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বীজ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

অতিরিক্ত কুমড়ার বীজ খেলে গ্যাস, পেট ভারী লাগা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ এতে উচ্চমাত্রার ফাইবার রয়েছে। একই সঙ্গে এতে থাকা ফ্যাটি এসিড ও তেল অনেকের জন্য হজমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কুমড়ার বীজে ক্যালরি তুলনামূলক বেশি থাকায় অতিরিক্ত খেলে ওজন কমার বদলে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া কুমড়ার বীজ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। তাই যাদের আগে থেকেই লো ব্লাড প্রেসার রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত নয়।

কিছু মানুষের কুমড়ার বীজে অ্যালার্জিও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে পেটব্যথা, মাথাব্যথা, ত্বকে চুলকানি বা র‍্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শিশুদের কুমড়ার বীজ খাওয়ানো উচিত নয়। এতে থাকা ফাইবার ও ফ্যাটি এসিড শিশুদের পেটে ব্যথা বা হজমের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, কুমড়ার বীজ উপকারী হলেও পরিমিত ও সঠিকভাবে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর এটি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

বিচার যেন প্রকাশ্যে দেখতে পারি: ওসমান হাদির বড় ভাই

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রকাশ্যে করার দাবি জানিয়েছেন তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজায় ইমামতি করার আগে এই দাবি জানান তিনি।

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আজ লক্ষ লক্ষ তৌহিদি জনতা হাজির হয়েছেন ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নিতে। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি বার্তা দিয়ে গেছেন। হাদির একটি সন্তান রয়েছে, যার বয়স মাত্র আট মাস। সন্তান জন্মের পর সে আমাকে বলেছিল, এমন একটি নাম রাখতে, যার মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ও সাহসিকতার পরিচয় থাকবে। অনেক যাচাই-বাছাই করে আমি তার সন্তানের নাম রাখি ‘‘ফিরনাস’, একটি বিপ্লবী ও সাহসী নাম।

তিনি বলেন, ‘আজ তার সন্তানের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। আজ আমার মা পাগলপ্রায়। আমরা ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজ তার লাশ আমার কাঁধে।’

হাদির বড় ভাই বলেন, ‘আজ আপনাদের কাছে আমার একটাই দাবি। রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে জুমার নামাজের পর খুনিরা গুলি করে পালিয়ে যায়-সাত থেকে আট দিন পেরিয়ে গেলেও যদি তারা পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার কিছু জাতির জন্য আর হতে পারে না। যদি তারা পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে, তাহলে তারা কীভাবে গেল-এই প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ওসমান হাদি শহিদ হয়েছে। শহিদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে সব সময়ই প্রকাশ করত। আপনারা তার বক্তব্য শুনেছেন। হয়তো আল্লাহ তাআলা তাকে সেই শহিদি মর্যাদা দান করেছেন। কিন্তু এই ঋণ আমি কখনো ছাড়ব না। আমার ভাই শরিফ ওসমান হাদির বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পারি। সাত দিন হয়ে গেল, এখনো আমরা কিছুই করতে পারিনি-এই দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে।’

হাদির বড় ভাই বলেন, ‘আমরা ওসমান হাদির জন্য দোয়া করি, তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য দোয়া করি। তার সন্তান যখন বাবাকে দেখার জন্য কোলে আনা হয়, তখন মনে হয়-সে আর কোনো দিন জানবে না তার বাবা কেমন ছিলেন। ওসমান হাদি আর ফিরে আসবে না। ওসমান, তুমি দেখে যাও-লক্ষ লক্ষ জনতা আজ তোমার জন্য পাগল। তুমি আমাদের সবাইকে পাগল বানিয়ে দিয়ে গেছ।’

আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি-আল্লাহ যেন আমার ভাই শহিদ ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা যেন ঈমান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে তৌহিদের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি-সেই তৌফিক আল্লাহ তাআলা আমাদের দান করুন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই। আমার মেজ ভাই ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে ছিল-তার জন্য দোয়া করবেন। আমার ছোট বোন মাসুমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে, চিকিৎসকরা বলেছেন অবস্থা গুরুতর। আমাদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আমাদের আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শরিফ ওসমান হাদি, তুমি বেঁচে থাকো মানুষের হৃদয়ে। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন।’

২০২৬ সালে আর্থিক সচ্ছলতা চাই? শুরু করুন এই সহজ বাজেট ও বিনিয়োগ কৌশল দিয়ে

২০২৬ সালে ব্যক্তিগত জীবনে আর্থিক সফলতা ও সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে শুধু আয় বাড়ালেই চলবে না—প্রয়োজন সুপরিকল্পিত বাজেট, সঠিক বিনিয়োগ কৌশল এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক শৃঙ্খলা। নতুন বছরের শুরুতেই যদি সঠিক আর্থিক রূপরেখা তৈরি করা যায়, তবে সারা বছর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, সুদের হারের ওঠানামা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

 

আয়-ব্যয়ের খাতা: আর্থিক সাফল্যের প্রথম ধাপ

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ও ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ফকির আকতারুল আলম বলেন, আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি নিখুঁত আয়-ব্যয়ের হিসাব। মাসিক বাজেট তৈরি করে নিয়মিত খরচ ট্র্যাক করলে কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে—তা সহজেই চিহ্নিত করা যায়। বিশেষ করে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন ফি বন্ধ করলে সঞ্চয় বাড়ানো সম্ভব।

জরুরি তহবিল ছাড়া নয়

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইমার্জেন্সি ফান্ড গঠন এখন সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ নগদ বা লিকুইড ফান্ডে রাখা উচিত। এতে চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা হঠাৎ বড় কোনো বিপদে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ঋণের বোঝা কমানোই বুদ্ধিমানের কাজ

উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের দেনা অনেক সময় সঞ্চয়কে গ্রাস করে ফেলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ঋণের হার বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। তাই যত দ্রুত সম্ভব এসব ঋণ পরিশোধ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিনিয়োগ ও কর পরিকল্পনায় সচেতনতা

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—যেমন বাড়ি কেনা, সন্তানের শিক্ষা বা অবসরকালীন জীবন—এসবের জন্য আলাদা আলাদা তহবিল গঠন করা জরুরি। স্থায়ী আমানত, সঞ্চয়পত্র কিংবা এনবিআর অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াতের পাশাপাশি বাড়তি মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকে।

মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে বাজেট

উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৬ সালে মাসিক বাজেটে অন্তত ৮ থেকে ১০ শতাংশ বাড়তি বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থ বিশেষজ্ঞরা। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা অত্যন্ত জরুরি

হঠাৎ বড় অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় বছরের সঞ্চয় শেষ করে দেয়। তাই স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা করে রাখা মূল সঞ্চয়কে সুরক্ষিত রাখার কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডিজিটাল টুল ব্যবহারে সহজ অর্থ ব্যবস্থাপনা

ব্যাংক অ্যাপ, বিকাশ, নগদ বা ইউনেটের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়মিত বিল পরিশোধ ও খরচ পর্যবেক্ষণ করলে সময় বাঁচে এবং ভুল হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।

মাসে অন্তত একদিন আর্থিক রিভিউ

সবশেষে ফকির আকতারুল আলমের পরামর্শ—প্রতি মাসে অন্তত একদিন নিজের আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ রিভিউ করা উচিত। বাজার পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনলেই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বয়স ৫০ পার করেছেন?এই বয়সে কতটা সঞ্চয় থাকা উচিত?

অবসর যত কাছে আসে, ততই মানুষ চিন্তিত হয় “আমার সঞ্চয় কি যথেষ্ট?”। বিশেষ করে পঞ্চাশের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকলে এই প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা ও পরিবারের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা স্বাভাবিক।

এক সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী অধিকাংশ মানুষ এখনও অবসর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চয় করতে পারেননি। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬৫ বছর বয়সে নিরাপদভাবে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করলে পঞ্চাশে আপনার মাসিক আয়ের অন্তত ৫–৬ বছরের সমপরিমাণ সঞ্চয় থাকা উচিত।
তবে, এটি সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। যেসব পরিবার তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয় করে, তাদের সঞ্চয় আরও বেশি হতে হবে। অর্থনৈতিক পরিকল্পকরা বলেন, “আপনার জীবনধারা, পরিবারের দায়িত্ব, স্বাস্থ্য ও অবসরকালীন সময়ের ব্যয়—এসব হিসাব মিলিয়ে সঞ্চয় নির্ধারণ করতে হবে।”

কিভাবে যাচাই করবেন আপনার সঞ্চয় যথেষ্ট কি না?
প্রথমে নির্ধারণ করুন অবসরে বছরে কত টাকা ব্যয় হবে। এরপর সেটি গুণ করে দেখুন কত বছর ধরে সেই ব্যয় চলবে। মুদ্রাস্ফীতি, বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসার খরচও মাথায় রাখুন। এইভাবে সহজেই হিসাব করা সম্ভব, প্রতি বছর কত টাকা সঞ্চয় করতে হবে এবং বিনিয়োগ কিভাবে বাড়াতে হবে।

যদি পিছিয়ে থাকেন, এই ৩টি পদক্ষেপ নিন
১. সরকারি পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা কাজে লাগান
সরকারি বা বেসরকারি চাকরির প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশন সুবিধা অবহেলা করবেন না। সরকারি চাকরিতে সাধারণত সঞ্চয়ের সঙ্গে মাসিক অবসরভাতা যুক্ত থাকে। বেসরকারি ক্ষেত্রে ৫০–৬০ বছর বয়সের আগে অতিরিক্ত অবদান রাখার সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগান।
২. বাড়তি সঞ্চয়ের সুযোগ ব্যবহার করুন
পঞ্চাশের পর অবসর পরিকল্পনায় ‘ক্যাচ-আপ’ সুবিধা নেওয়া সম্ভব। যেমন: নির্দিষ্ট ব্যাংক বা বিনিয়োগ পরিকল্পনায় মাসিক ১০,০০০–২০,০০০ টাকা অতিরিক্ত জমা রাখলে ভবিষ্যতে লাভজনক রিটার্ন পাওয়া যায়। এটি শুধু সঞ্চয় নয়, কর সুবিধাও দিতে পারে।
৩. জীবনযাত্রা সামঞ্জস্য করুন
যদি সঞ্চয়ের ঘাটতি থাকে, জীবনযাত্রার মান কিছুটা সরল করা প্রয়োজন। কম বিলাসিতা, ঋণ পরিশোধ, কম ভাড়া বা সাশ্রয়ী থাকার মাধ্যমে সহজভাবে অবসর কাটানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলেন, “সব স্বপ্নের জীবন হবে না, তবে পরিকল্পনা ও সঞ্চয় থাকলে নিরাপদভাবে অবসর কাটানো যায়।”
সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে, অবসর নেওয়ার পরও আংশিক কাজ চালিয়ে যাওয়া একটি বাস্তব উপায় হতে পারে।

অবসর মানে পাহাড়সম লক্ষ্য নয়। এটি একটি দীর্ঘযাত্রা, যেখানে নিজেকে বুঝে, পরিকল্পনা অনুযায়ী চলা জরুরি। পঞ্চাশে যদি মনে হয় সঞ্চয় কম, দুশ্চিন্তা নেই। এখনই শুরু করুন। ছোট ছোট পদক্ষেপে গড়ে তোলা সম্ভব একটি নিরাপদ আর্থিক ভবিষ্যৎ।