Home Blog Page 23

খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা ১২ মাস করার দাবি বিকেএমইএ’র

বর্তমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ হিসেবে ঘোষণার সময়সীমা বর্তমান ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ।

আজ শনিবার পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভা থেকে এরকম ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ অফিসে ওই জোনের সদস্যদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এতে সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কিস্তির সুবিধা দেওয়া। বিকেএমইএ বলেছে, বর্তমান সংকটে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো অবর্ণনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানই গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাই, নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ চান তারা। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি জানানো। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার দাবি জানানো হয়। এতে গ্রাহকরা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবেন।

এছাড়া, অবিলম্বে গ্যাসের সব ধরনের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে একদিকে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সিস্টেম লসও কমে আসবে।

বেসরকারি খাতে বিদেশি উৎসের ঋণেও ধীরগতি

বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ উৎসে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ। বিদেশ থেকে যে পরিমাণ ঋণ আসছে পরিশোধ হচ্ছে তার বেশি।
আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়া, রপ্তানি কমে যাওয়া, টাকার দরপতন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমাসহ বিভিন্ন কারণে ঋণের চাহিদা কমে গেছে; যার প্রভাবে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে প্রথমবারের মতো গত জুনে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। দেশি উৎসের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের ঋণেও একই পরিস্থিতি।

মূলধনি পণ্য ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেন ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ সেভাবে বাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলার দরে অস্থিরতা ছিল। এখন দুটি ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিদ্যুৎ-গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এসব কারণে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানিতে ধীরগতি রয়েছে। সুদসহ ঋণস্থিতি দীর্ঘদিন একই রকম কিংবা আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি সামান্য কমে এক হাজার ২৫ কোটি ডলারে নেমেছে। গত এপ্রিলে যা ছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ডলারে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৭ কোটি ডলার।

স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বেশি আসে করোনা-পরবর্তী ডলার সংকট শুরুর পর। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারে ওঠে। পরের বছর আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলারে। তবে পরে ডলারের দরে ব্যাপক ওঠানামার পর ব্যবসায়ীরা আবার ঋণ কমাতে শুরু করেন। ২০২৩ সাল শেষে এ ঋণ কমে এক হাজার ১৭৯ কোটি ডলারে নেমে যায়। ২০২৪ সাল শেষে আরও কমে নেমে আসে এক হাজার ১৩ কোটি ডলারে।

বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল, মূলধনি পণ্যে আমদানির জন্য এ ধরনের সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট নেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব গতি না থাকায় হয়তো এ ধরনের ঋণ কমছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে আবার দেখা যাবে মূলধন যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল আমদানি বেড়ে সামগ্রিকভাবে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে কম সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, পেট্রোবাংলা, রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মতো সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানও স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে। তবে সেই তথ্য এখানে যুক্ত করা হয় না। স্বল্পমেয়াদি ঋণের বাইরে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন খাতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে কারখানা পরিধি বাড়ানোর জন্যও উদ্যোক্তারা সেভাবে ঋণ নিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এখন এ ধরনের ঋণে কিছুটা নিরুৎসাহিত করছে। সব মিলিয়ে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বাড়ছে না। স্বল্পমেয়াদি ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার কী হবে তা ঠিক করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মে মাসে সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা কমানো হয়। সব ধরনের খরচসহ এখন সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ যোগ করে এ ধরনের ঋণ নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। আগে এসওএফআরের সঙ্গে যোগ করা যেত ৪ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে গত মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ঋণস্থিতি কমে ১১ হাজার ৯৩ কোটি ডলারে নেমেছে। তিন মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ১১ হাজার ৩৫ কোটি ডলার। গত মার্চ পর্যন্ত এই বিদেশি ঋণের মধ্যে সরকারি খাতের ৯ হাজার ৯১ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে যা ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার ছিল। বেসরকারি খাতে গত ডিসেম্বরের ২ হাজার ৬ কোটি থেকে কমে ২ হাজার ২ কোটি ডলারে নেমেছে।

আইন লঙ্ঘনের দায়ে পদক্ষেপ নেবে ইসি আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়নি এনসিপিসহ সাতটি দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিয়েছিল দলগুলো

নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা দেয়নি এনসিপিসহ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল। এ অবস্থায় দলগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র বলছে, ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন নিবন্ধিত, যারা গত বছরের শেষভাগে নিবন্ধন নিয়েছে। এই দল তিনটি হচ্ছে- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল ও আমজনতার দল। আর বাকি চারটি ২০২৩ সালে নিবন্ধন নিয়েছিল। দলগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।

এই সাতটি দলই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। সবগুলো দল ইসিতে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি গত বছরের ১৯ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়। আগের পঞ্জিকাবর্ষে দলটির কার্যক্রমের মেয়াদ ছিল মাত্র এক মাস ২১ দিন। এ বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে, আমার জানামতে দলটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইসিতে এই হিসাব পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

নিবন্ধনের দাবিতে আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের ১৩৪ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচির পর গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দলটি ইসির নিবন্ধন পায়। এ হিসাবে আগের পঞ্জিকাবর্ষের মাত্র ১০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে দলটিকে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ইসি জানিয়েছে, তারা ডাকযোগে চিঠি পাঠায়। কিন্তু আমি তা কখনোই পাইনি। নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আমার জানা আছে। তাই আমরা এখন প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছি এবং নির্বাচন কমিশনে দলের ৯ দিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

গত ১১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত জনতার দলকে আইন অনুযায়ী ২০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে। দলটির মহাসচিব আজম খান জানান, নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে ইসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি তারা।

এর আগে গত ৭ জুলাই নিবন্ধিত ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫৯টিকে চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্দেশ পায়নি। আইনি বাধ্যবাধকতা ও জরিমানার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ৫৯টি দলের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়। তবে ৩১ জুলাই শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় পেয়েছিল দলগুলো।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ঘোষিত ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর ৯(খ) বিধি অনুযায়ী, নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে আগের পঞ্জিকাবর্ষের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হয়। আর আরপিওর ৯০(এইচ) ধারা অনুযায়ী, কোনো দল টানা তিন বছর নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

ইসি সূত্র বলছে, ইসির চিঠি পাওয়ার পর ৫৯টি দলের মধ্যে ৩৮টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। আর ১৩টি দল সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করে। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শুরুতে সময়সীমার মধ্যে হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলেও পরে গত ১৩ আগস্ট জমা দেয়। এনসিপিসহ বাকি সাতটি দল হিসাব জমা দেয়নি, সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা ১৩টি দলকে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইসি। এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রভৃতি।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, ইসির চিঠি পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কমিশন তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। আর যেসব দল প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা আইন লঙ্ঘন করছে। আমরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাব। সেই অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেব।

স্মরণসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করেছেন মোশাররফ হোসেন

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন আর্থিকভাবে অসচ্ছলকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। অনেককে বিদেশেও কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশেও তাঁর অবদান ছিল।

মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ‘ফেনী আমার ফেনী, ঢাকা’। স্মরণসভায় বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মোশাররফ হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তাদের কল্যাণে তিনি কাজ করেছেন। তিনি আগে তাদের বিদেশে পাঠাতেন, পরে তারা টাকা পরিশোধ করতেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রাণু ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান তফাজ্জল হোসেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোশাররফ হোসেনের মেয়ে ও বে ইস্টার্ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারাহ আঞ্জুম বারী। এতে মোশাররফ হোসেনের রুহের মাগফেরাত ও চিরশান্তি কামনা করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে রোগী ও শিল্পের স্বার্থ দেখতে হবে

রোগীর ব্যয় কমানো, অত্যাবশ্যক ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ওষুধশিল্পের টেকসই বিকাশ– এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করে নতুন ওষুধ মূল্যনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে। আবার শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তাই তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

গতকাল শনিবার ঢাকায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ওষুধের মূল্য: বিতর্ক ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়। স্বাস্থ্য বীমার সীমিত সুযোগের কারণে এই ব্যয়ের বড় বোঝা সরাসরি রোগীকেই বহন করতে হয়। ফলে ওষুধের দাম কেবল মূল্য নির্ধারণের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় শিল্প এবং রাষ্ট্রের সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। রোগীর আর্থিক সুরক্ষা, শিল্পের সুস্থ বিকাশ, বৈজ্ঞানিক প্রাইসিং ফর্মুলা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা– এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওষুধের মূল্যনীতি তৈরি করতে হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ। শুধু দাম নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থা, ওষুধের গুণগত মান, অতিরিক্ত প্রেসক্রিপশন এবং নগর স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়নি। এ সময়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করেছে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য ওষুধ থেকে পাওয়া মুনাফা দিয়ে ওষুধে ভর্তুকি দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হয়। দুর্বল রেফারেল ব্যবস্থা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে ওষুধ সেবনের প্রবণতাও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়াচ্ছে।  অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ, জেনেরিক নামে ওষুধ বিক্রি এবং সরকারি ওষুধ খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধে নজরদারি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। ক্যান্সার, এইচআইভি, যক্ষ্মাসহ প্রায় সব ধরনের ওষুধ এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিন ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম সমন্বয় না হওয়ায় কিছু ওষুধে নেগেটিভ মার্জিন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের গেজেটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ এবং নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিতর্ক থাকলে সংশোধনের সুযোগ ছিল। কিন্তু পুরো গেজেট বাতিল করা জনস্বাস্থ্যের জন্য পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত।
রেনাটা লিমিটেডের সিইও কায়সার কবির বলেন, আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম কম। শক্তিশালী প্রতিযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সরকার বড় পরিসরে কিনে রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করলে প্রকৃত সমাধান মিলতে পারে। কারণ সব ওষুধ রোগীর জন্য সমান আর্থিক বোঝা তৈরি করে না; উচ্চমূল্যের জীবনরক্ষাকারী ওষুধেই রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্বাস্থ্য খাতে ১৮০ দিনে এক-তৃতীয়াংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে

স্বাস্থ্য খাত আধুনিকায়ন ও সেবার মান বাড়াতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ১২টি প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে চারটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন, সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অবকাঠামো সংস্কারে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে ই-হেলথ কার্ড, ই-প্রেসক্রিপশন, জনবল নিয়োগ ও পদমর্যাদা উন্নীত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে প্রশাসনিক জট রয়ে গেছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় অনুমোদন, পদ সৃজন ও আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এগুলো নির্ধারিত সময়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। এরই মধ্যে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাড়তি সময় ও মনোযোগ দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কিছু উদ্যোগে গতি কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও স্পষ্ট রোডম্যাপ, যার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশের নিচে থাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। অবকাঠামো সংস্কারেও অগ্রগতি স্পষ্ট। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে এক হাজার ৯৬৩টি অবকাঠামো মেরামতে ১৯০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হচ্ছে। এসব কাজের ভৌত অগ্রগতি শতভাগ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি হয়েছে। ১৫টি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যের বিপরীতে ভৌত অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ। তবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, অবকাঠামোগত কাজ এগোলেও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো সংক্রান্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এই প্রতিবেদন মূলত দীর্ঘ স্থবিরতার চিত্র। দৃশ্যমান উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি, খাতটি আগের জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর মতে, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে দেশের ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে পুরো স্বাস্থ্য খাতের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে কিছু রাজনৈতিক ঘোষণার অসামঞ্জস্য বাদ দিলে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির মাত্র দশমিক ৭ শতাংশে আটকে ছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা ৫ শতাংশে নেওয়ার উদ্যোগ বড় নীতিগত পদক্ষেপ।

ই-হেলথ কার্ডে ধীরগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ই-হেলথ কার্ড। ১৮০ দিনের মধ্যে পাঁচটি জেলায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য থাকলেও তা এখনও শুরু হয়নি। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে উদ্যোগটি এখনও প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও অটোমেশন কার্যক্রমে অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।

আজিমপুর প্রকল্পে অগ্রগতি সামান্য 
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজিমপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডরমিটরি ও হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পে অগ্রগতি মাত্র ১.১ শতাংশ। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তার একটি প্রকল্প গত ২৬ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। কড়াইলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও সমীক্ষা ও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নিয়োগে সুপারিশ, আটকে ভেরিফিকেশনে
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) মাধ্যমে ৪০১ জন নিয়োগের লক্ষ্য থাকলেও ৫৯৮ জনের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। ফলে বেশি প্রার্থীর সুপারিশ এলেও মাঠ পর্যায়ে নতুন জনবল যোগ দিতে সময় লাগবে।

পদ সৃজনে প্রশাসনিক জট
বিদ্যমান জনবলের পদমর্যাদা উন্নীত করার উদ্যোগে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নার্সিং সুপারভাইজারদের এক হাজার ২০৮টি পদ নবম গ্রেডে এবং অন্য পদগুলো পঞ্চম ও সপ্তম গ্রেডে উন্নীত করতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে ১৫ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং দুই হাজার ৪৭০টি মিডওয়াইফ পদ সৃজনের প্রস্তাবও জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এগুলো এখনও অনুমোদন পায়নি। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পদ সৃজন ও পদমর্যাদা উন্নীত করার বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংস্কারে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, জনবল বৃদ্ধি ও সংস্কারে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা। আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসব জট দ্রুত কাটানোই মূল চ্যালেঞ্জ।

জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ সমকালকে বলেন, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও স্পষ্ট রোডম্যাপ, যার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও অনেকটাই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি স্পষ্ট নয়। শুধু শয্যা বাড়ালেই সেবার মান বাড়ে না; জনবল, বাজেট, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বললেন
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে হামের টিকার মজুত নিশ্চিত করা এবং টিকাদান জোরদার করা অন্যতম। তিনি জানান, টিকার সংকট কাটিয়ে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ২৯৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, শিশুদের জন্য ২৫ শয্যার চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য ১৫টি শয্যা থাকবে। এ জন্য হাসপাতাল ভবনের পরিসরও বাড়ানো হবে।

শর্ত না মানলে বাতিল হতে পারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা, সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের অধ্যয়ন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

Untitled%20design%20(99) 1787382445

দূতাবাস আরও বলেছে, সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সব সময় ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে শুধু বর্তমান ভিসার ওপরই প্রভাব পড়বে না, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে দূতাবাসের বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় আগুন পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে বেনাপোলের পথে স্বজনেরা

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার সকালে একজনের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। আর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্য এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা কলকাতা থেকে বেনাপোল সীমান্তের পথে রওনা দিয়েছেন।

কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড থেকে শনিবার ভোরে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন। ভারতীয় সময় ভোর ৬টার দিকে রওনা হয়ে সকাল ১০টার মধ্যে সীমান্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকারের শেষকৃত্য শনিবার দিবাগত রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিমতলা শ্মশানঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়।

এদিকে শনিবার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার পরিবারের সদস্য আকরাম আলী (৭৪), আফসানা শারমীন (২৭) ও স্বর্ণাশীষ দত্ত (২) এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর (৩৭) মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে।

মরদেহগুলো নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশে ফেরার সময় পিস ওয়ার্ল্ডে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ। এ সময় প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মো. জিল্লুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আকন্দসহ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় কলেরার টিকা শুরু

কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪ উপজেলা ও থানায় দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর প্রথম ধাপ চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা নেওয়া জরুরি। এক বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী সব সুস্থ ব্যক্তি বিনামূল্যে এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র ও ইপিআই বুথে টিকা দেওয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও অঞ্চল এবং মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি চলবে।

হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকাই নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ইউরিকল প্লাস’ বর্তমানে প্রচলিত কলেরার টিকাগুলোর মধ্যে নিরাপদ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা বমি ভাব বা সাময়িক ডায়রিয়ার মতো মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ব্যাপকভাবে টিকাদানের সুফল ও ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হয়েছে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। গ্যাভিও (টিকাদান বিষয়ক বৈশ্বিক জোট) অনেক আগে টিকার ব্যবস্থা করেছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু টিকার মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বলছে, দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নির্মূলে বিশুদ্ধ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি

দীর্ঘদিন ধরে রেফ্রিজারেটরের কনডেনসার তৈরিতে কপার বা তামার ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। উচ্চ তাপ পরিবাহিতা, ক্ষয় প্রতিরোধ ও সহজে মেরামতের সুবিধার কারণে এটি ছিল বহুল ব্যবহৃত উপাদান। তবে সময়ের সঙ্গে রেফ্রিজারেটরের প্রযুক্তি ও চাহিদা বদলেছে। এখন শুধু কনডেনসারের তাপ পরিবাহিতা নয়; কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, কম রেফ্রিজারেন্ট চার্জ, কম ওজন, ক্ষয় প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ও পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় কপারের প্রচলিত ব্যবহারের জায়গায় অ্যালুমিনিয়াম, কোটেড স্টিল, জিঙ্ক-অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম কোটেড উপকরণ এবং অল-অ্যালুমিনিয়াম মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জারের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এটি শুধু একটি ধাতুর বদলে আরেকটি ধাতুর ব্যবহার নয়; বরং পুরো রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির বিবর্তনের অংশ।

কেন বদলাচ্ছে কনডেনসারের প্রযুক্তি
আধুনিক রেফ্রিজারেটরের কর্মক্ষমতা শুধু কনডেনসারের উপাদানের ওপর নির্ভর করে না। টিউবের আকৃতি ও পুরুত্ব, পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল, ফিনের নকশা, বাতাস ও রেফ্রিজারেন্টের প্রবাহ এবং পুরো কুলিং সিস্টেমের নকশাও গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রজন্মের কম্প্রেসর, উন্নত ইনসুলেশন, ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট। ফলে পুরো সিস্টেমকে অপটিমাইজ করে কার্যকর কুলিং নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মাইক্রোচ্যানেল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন
আধুনিক কনডেনসার প্রযুক্তির অন্যতম উদাহরণ মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার। এতে গোলাকার টিউবের পরিবর্তে বহু ক্ষুদ্র চ্যানেলযুক্ত সমতল অ্যালুমিনিয়াম টিউব ব্যবহার করা হয়। এই নকশায় কম জায়গায় বড় কার্যকর হিট ট্রান্সফার সারফেস তৈরি করা সম্ভব। ফলে কনডেনসার হয় তুলনামূলক হালকা ও কমপ্যাক্ট, পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণও কমানো যায়।

International Journal of Refrigeration-এ প্রকাশিত R600a রেফ্রিজারেটর বিষয়ক একটি গবেষণায় মাইক্রোচ্যানেল কনডেনসারের নকশা অপটিমাইজ করে মোট রেফ্রিজারেন্ট চার্জ প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, আধুনিক কনডেনসারে শুধু ধাতু নয়, হিট এক্সচেঞ্জারের নকশাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ZAM কোটিংয়ে ক্ষয় প্রতিরোধে নতুন সমাধান
স্টিল বা অন্য উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষয় প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে জিঙ্ক-অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম বা ZAM কোটিং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এ প্রযুক্তিতে স্টিলের ওপর বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা ও ক্ষয়কারী উপাদান থেকে মূল ধাতুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। Nippon Steel-এর সল্ট-স্প্রে পরীক্ষায় তাদের ZAM কোটিং সাধারণ হট-ডিপ জিঙ্ক কোটিংয়ের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ার ফল দেখিয়েছে।

কপার সাধারণত অরক্ষিত স্টিলের তুলনায় বেশি ক্ষয়রোধী হলেও আধুনিক কনডেনসারে এই সরাসরি তুলনা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। কারণ এখন স্টিলের ওপর ZAM-এর মতো উন্নত ক্ষয়রোধী প্রলেপ ও অতিরিক্ত পলিমার সুরক্ষা ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আর্দ্রতা, লবণাক্ততা, দূষণ ও কিছু রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কপারেও ক্ষয় হতে পারে। ফলে কনডেনসারের স্থায়িত্ব শুধু মূল ধাতুর ওপর নয়, কোটিং ও সুরক্ষা প্রযুক্তির ওপরও নির্ভর করে।

Corrosion Science সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাতেও সোডিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত পরিবেশে Zn-Al-Mg কোটিংয়ের উন্নত ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষায় আরও এক ধাপ
কিছু আধুনিক কনডেনসারে ZAM কোটিংয়ের ওপর হিট-শ্রিংক পলিমার স্লিভ বা অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও লবণাক্ত বাতাসের সঙ্গে মূল ধাতুর সরাসরি সংস্পর্শ আরও কমানো যায়।

ফলে কনডেনসারের স্থায়িত্ব এখন শুধু মূল উপাদান দিয়ে নয়; বরং কোটিং, প্রতিরক্ষামূলক স্তর ও পুরো নির্মাণপ্রযুক্তির সমন্বয়ে বিচার করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্টেও বদলেছে নকশা
আধুনিক রেফ্রিজারেটরে R600a বা আইসোবিউটেনের ব্যবহার বাড়ছে। এর গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেশনে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় R600a ব্যবহার করে উচ্চ দক্ষতার রেফ্রিজারেটর তৈরিতে পুরো রেফ্রিজারেশন সাইকেল অপটিমাইজ এবং রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের কনডেনসারকে আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, পুরো উচ্চ দক্ষতার কুলিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে নকশা করা হচ্ছে।

মেরামতের চেয়ে ত্রুটি কমানোর চেষ্টা
কপার কনডেনসারের পরিচিত সুবিধা হলো মেরামতযোগ্যতা। তবে নতুন প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শুরু থেকেই ত্রুটির ঝুঁকি কমানোর ওপর। উন্নত উৎপাদনপ্রক্রিয়া, স্বয়ংক্রিয় ম্যানুফ্যাকচারিং, ক্ষয় প্রতিরোধী কোটিং, মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এমন কনডেনসার তৈরির চেষ্টা চলছে, যাতে দীর্ঘ সময়ে মেরামতের প্রয়োজন কম হয়।

উৎপাদন ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা
অ্যালুমিনিয়াম হালকা এবং মাইক্রোচ্যানেল প্রযুক্তিতে কমপ্যাক্ট হিট এক্সচেঞ্জার তৈরির উপযোগী। স্টিলও আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে পণ্যের ওজন কমানো, উৎপাদন সহজ করা এবং বিভিন্ন নকশায় রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় কম কাঁচামাল, কম রেফ্রিজারেন্ট ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী পণ্য তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত বাতাস রেফ্রিজারেটরের ধাতব যন্ত্রাংশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই এ দেশের বাজারে নতুন প্রজন্মের কনডেনসারের ক্ষেত্রে ক্ষয় প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ।

ZAM কোটিং ও অতিরিক্ত পলিমার সুরক্ষা আর্দ্রতা ও লবণাক্ত পরিবেশ থেকে ধাতুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রায় কার্যকর কুলিং নিশ্চিত করতে কনডেনসার, কম্প্রেসর, রেফ্রিজারেন্ট ও ইভাপোরেটরের সমন্বিত নকশাও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেতাদের মান যাচাইয়ের ধারণাও বদলাচ্ছে
দীর্ঘদিন ধরে কপার কনডেনসার অনেক ক্রেতার কাছে ভালো রেফ্রিজারেটরের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তবে এখন শুধু কনডেনসারের উপাদান নয়; জ্বালানি দক্ষতা, উচ্চ তাপমাত্রায় কুলিং পারফরম্যান্স, ক্ষয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রেফ্রিজারেন্ট, কম্প্রেসর, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ প্রশ্নটি এখন শুধু ‘কনডেনসার কী দিয়ে তৈরি’—এখানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ‘পুরো কুলিং সিস্টেমটি কতটা দক্ষ, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য’—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেশনের পথে শিল্পখাত
রেফ্রিজারেশন শিল্প এখন কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, কম রেফ্রিজারেন্ট চার্জ, কম ওজন, উন্নত ক্ষয় প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা—এসব বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করার দিকে এগোচ্ছে।

মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার, অ্যালুমিনিয়াম, ZAM-কোটেড স্টিল, মাল্টি-লেয়ার করোশন প্রোটেকশন এবং R600a-এর মতো পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট এই পরিবর্তনেরই অংশ।

কপার দীর্ঘদিন ধরে রেফ্রিজারেশন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন তার পাশাপাশি এবং অনেক ক্ষেত্রে তার জায়গায় আসছে নতুন উপাদান, উন্নত হিট এক্সচেঞ্জার ডিজাইন ও সুরক্ষা প্রযুক্তি। তাই এই পরিবর্তনকে শুধু ‘কপার থেকে অন্য ধাতুতে যাওয়া’ নয়, বরং আরও হালকা, দক্ষ, ক্ষয়-প্রতিরোধী ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তিতে উত্তরণ হিসেবেই দেখা যায়।