Home Blog Page 230

হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বর্তমানে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুক্রবার গভীর রাতে মির্জা ফখরুল ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন এবং জ্বরে ভোগেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন।

শায়রুল কবির খান আরও বলেন, বিএনপি মহাসচিবের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। আপাতত চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না।

এর আগে শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্রামে থাকবেন।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত সালাহউদ্দিন আহমেদের

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যারা গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে চায়, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড তাদেরই কাজ। তাঁর মতে, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করতে ‘পতিত শক্তি’র সাথে দেশি-বিদেশি দোসররা জড়িত থাকতে পারে। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচনের পথকে দীর্ঘায়িত বা নস্যাৎ করা।

তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মহাসমাবেশ থেকে দেশের জনগণকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে। “কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র আর দানা বাঁধতে পারবে না—আগামী ২৫ ডিসেম্বরের সমাবেশের মাধ্যমে আমরা সেই মেসেজটিই পৌঁছে দেব।”

দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির বাকি আসনগুলোর মনোনয়নের বিষয়ে খুব দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, শহীদ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়, তারা সফল হবে না। শহীদ হাদির জানাজা ও দাফন চলাকালেই রাজনৈতিক মহলের এই বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে।

হাদি তুমি হারিয়ে যাবে না, কোনদিন কেউ তোমাকে ভুলতে পারবে না

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ওসমান শরীফ হাদিকে বিদায় দিতে আসি নাই। তুমি আমাদের বুকের মধ্যে আছো। বাংলাদেশ যত দিন টিকে থাকবে, তুমি আমাদের মধ্যে থাকবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান শরীফ হাদির জানাজায় এসে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকে এখানে হাজির হয়েছে, পথে ঢেউয়ের মত লোক আসছে, সারা বাংলাদেশ জুড়ে কোটি কোটি মানুষ আজকে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে, তারা তাকিয়ে আছে, হাদির কথা শোনার জন্য।  আজকে বিদেশে যারা আছে, বাংলাদেশি এই মুহূর্তে তারাও হাদির কথা জানতে চায়। প্রিয় ওসমান হাদি তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসি নাই। এখানে তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো এবং বাংলাদেশ যতদিন আছে তুমি সব বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজকে তোমাকে, প্রিয় হাদিকে বিদায় দিতে আসিনি। আমরা তোমার কাছে আমরা ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি যা বলে গেছো সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি, সেই ওয়াদা করার জন্য আমরা একত্র হয়েছি। সেই ওয়াদা শুধু আমরা নয়, পুরুষানুক্রমে বাংলাদেশের সব মানুষ পূরণ করবে। সেই ওয়াদা করার জন্যই আমরা তোমার কাছে আজকে এসেছি। সবাই মিলে যে যেখানেই আছি, তোমার যে মানব প্রেম, তোমার যে ভঙ্গি, মানুষের সঙ্গে উঠাবসা, তোমার যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সবাই প্রশংসা করছে। সেটা আমরা প্রাণে গ্রহণ করছি। যেটা যেন আমাদের মনে সব সময় জাগ্রত থাকে। আমরা সেটা অনুসরণ করতে পারি।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, তুমি আমাদের এমন এক মন্ত্র কানে দিয়ে গেছো সেই মন্ত্র বাংলাদেশের কেউ কোনদিন ভুলতে পারবে না। এই মন্ত্র চিরদিন আমাদের কানে বাজবে। সে মন্ত্র বাংলাদেশের বড় মন্ত্র হয়ে আমাদের জাতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তোমার মন্ত্র ছিল, চল বলবীর চির উন্নত মম শীর, এই উন্নত মম শীরের যে মন্ত্র তুমি দিয়ে গেছো, সেটা সন্তানের বাংলাদেশি সন্তানের জন্মলগ্ন থেকে যতদিন সে বেঁচে থাকবে। আমাদের শির কখনো নত হবে না। সেই মন্ত্র তুমি আমাদের দিয়ে গেছো। আমাদের সব কাজে প্রমাণ করব আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে চলবো, কারো কাছে মাথা নত করব না। সেই মন্ত্র তুমি আমাদের দিয়ে গেছো আমরা সেটা পূরণ করে যাবো।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদি তুমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলে এবং সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে নির্বাচন কীভাবে করতে হয় তারও একটা প্রক্রিয়া জানিয়ে গেছে আমাদের। সেই প্রক্রিয়া যেন আমরা সবাই মিলে গ্রহণ করি। কীভাবে প্রচার প্রচারণা কার্য চালাতে হয়, কীভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়, কীভাবে মানুষকে কষ্ট না দিয়ে তার বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়, কীভাবে বিনীতভাবে মানুষের কাছে আসতে হয়, সবকিছু তুমি শিক্ষা দিয়ে গেছো। আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করলাম, আমরা এই শিক্ষা চালু করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা সবাই আমাদের জীবনে আমাদের রাজনীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে চাই, যাতে হাদি আমাদের জীবনে স্পষ্টভাবে জাগ্রত থাকে। হাদি তুমি হারিয়ে যাবে না। কোনদিন কেউ তোমাকে ভুলতে পারবে না। তুমি যুগ যুগ ধরে আমাদের সঙ্গে থাকবে। আমাদের তোমার মন্ত্র পুরোপুর মনে করিয়ে দেবে। আমরা সেই মন্ত্র নিয়ে আজকে সামনের পথে এগিয়ে যাব। তোমাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে তোমার সঙ্গে ওয়াদা করলাম আজকে তোমাকে আল্লাহর হাতে দিলাম, আমানত রেখে গেলাম, আমরা সব সময় তোমার কথা স্মরণ রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকবো।

জাতীয় কবির পাশে সমাহিত হলেন ওসমান হাদি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে সমাহিত করা হয় ।

এর আগে, দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ লাখো জনতা অংশ নেন।

জানাজার নামাজ পড়ান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে বিকেলে হাদির মরদেহ বহনকারী গাড়ি ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

জানা গেছে, ওসমান হাদিকে দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে কবর প্রস্তুত করা হয়। আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে কবর খননের কাজ শুরু হয়।

ওসমান হাদির দাফনের সময় ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, প্রক্টর ড. সাইফুদ্দিন আহমদ, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

এরপর পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষ গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় ওসমান হাদিকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে শুক্রবার তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয় ও আজ বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

বিশ্বকাপে ‘অবৈধ’ খেলোয়াড় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে নাইজেরিয়া

আগামী বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, আফ্রিকা অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) একাধিক অযোগ্য খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে।

গত মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের পর টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্লে-অফ থেকে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের শেষ দুটি টিকিট নির্ধারিত হবে।

তবে এনএফএফের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিচয় বদলানো কয়েকজন খেলোয়াড়। নাইজেরিয়ার দাবি, ওই ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর হয়ে খেলা অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে আইনগতভাবে খেলার জন্য বৈধ নন। কারণ, কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি নেই, অথচ এই খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় ও ফরাসি পাসপোর্ট রয়েছে।

নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, ‘আমাদের দাবি, ফিফাকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নেই, কিন্তু তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় একাধিক দেশের পাসপোর্টধারী। আমরা এটিকে ফিফার নিয়ম ভঙ্গ এবং প্রতারণা বলেই মনে করি।’

এনএফএফ জানিয়েছে, তারা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি যুক্তি ফিফার কাছে জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি, তবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন (ফেকোফা) অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেপার্ডসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আইনের ফাঁক খুঁজে জেতার চেষ্টা করছে নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপ খেলতে হয় মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে, আইনজীবীদের কৌশলে নয়।’

সেখানে নাইজেরিয়াকে ‘খারাপ পরাজিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগটিকে অখেলোয়াড়সুলভ বলেও উল্লেখ করা হয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় একবারই জাতীয় দল পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন এবং সেটি লিখিতভাবে ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ।

ফিফা একটি দেশের হয়ে খেলতে সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্ট থাকার শর্ত দিলেও, একাধিক পাসপোর্ট রাখার বিষয়ে বাধা নেই। তবে কঙ্গোর জাতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়, এটিকেই মূল যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে নাইজেরিয়া।

ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছালে কয়েকটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রথমত, প্রমাণ অপর্যাপ্ত মনে হলে অভিযোগ খারিজ করে ডিআর কঙ্গোর যোগ্যতা বহাল রাখা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তদন্ত করে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পেলে ফেডারেশনকে জরিমানা বা সতর্কবার্তা দেওয়া হতে পারে, যদিও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত থাকবে। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে খেলাধুলাভিত্তিক শাস্তি—ম্যাচ বাতিল, প্রতিপক্ষকে জয় দেওয়া বা পয়েন্ট কর্তনের মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ছয় পয়েন্ট কেটে নেয় ফিফা। যদিও সেই সিদ্ধান্ত পরে প্রত্যাহার করা হয়, তবে পয়েন্ট আর ফেরত পায়নি তারা। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও স্থগিত খেলোয়াড় নামানোর কারণে লেসোথোর বিপক্ষে জয় হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হিসেবে গণ্য হয়েছিল।

এক মাস আগেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল পাকিস্তান

আগামী ১৫ জানুয়ারি নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে পর্দা উঠবে যুব বিশ্বকাপের। ফাইনাল হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আসন্ন এই যুব বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

চলমান যুব এশিয়া কাপের দল থেকে একটি পরিবর্তন এনেছেন পাকিস্তান। বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ হুজাইফার জায়গায় স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে ডানহাতি পেসার উমর জাইবকে। যুব বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন ফারহান।

বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজে ২৭ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন ফারহানরা। প্রতিটি দল সবার বিপক্ষে দুইটি করে ম্যাচ খেলবে। বিশ্বকাপের স্কোয়াড নিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে তারা।

যুব বিশ্বকাপে পাকিস্তানের গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যানেজার ও মেন্টরের দায়িত্বে থাকবেন সরফরাজ আহমেদ।

পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোয়াড—

ফারহান ইউসুফ (অধিনায়ক), উসমান খান, আব্দুল সুবহান, আহমেদ হোসেন, আলী হাসান, আলী রাজা, দানিয়াল আলী খান, হামজা জাহর, হুজাইফা আহসান, মমিন কামার, মোহাম্মদ সায়েম, মোহাম্মদ সায়ান, নিকাব শফিক, সামির মিনহাজ এবং উমর জাইব।

নীরব ঘাতক লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ না বুঝলেই বিপদ

লিভার সিরোসিস একটি নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে শরীরকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে যেকোনো সময়ই শরীরে হানা দিতে পারে জটিল এ রোগটি।

যকৃতের এ জটিল রোগ মরণব্যাধি ক্যানসারের মতোই। তাই শরীরে এ রোগ বাসা বেঁধেছে কিনা তা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরী। কেননা সাধারণ কিছু লক্ষণই লিভার সিরোসিসের কারণ হতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতি বছর যকৃতের যে সমস্যায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হন, তা ‘লিভার সিরোসিস’ নামে পরিচিত। যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত এ অসুখের কারণ হয়ে ওঠে, যা ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। যাদের ডায়াবেটিস বা স্থূলতার সমস্যা আছে, তারাও আগে থেকে সতর্ক না হলে এ রোগ থাবা বসাতে পারে। সময়ে ধরা পড়লে যেকোনো রোগের জটিলতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘লিভার সিরোসিস’ রোগটি ধরতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়। ফলে সমাধানের পথ থাকে না তখন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই ও এবিপি লাইভের প্রতিবেদন অনুসারে তাই আসুন জেনে নিই লিভার সিরোসিস শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করলে প্রথমদিকে কী কী লক্ষণ শরীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে-

১। জন্ডিস: জন্ডিস হলে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। লিভার থেকে নিঃসৃত হওয়া পিত্ত বিলিরুবিনের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে জন্ডিস হয়। লিভারে ক্ষত তৈরি হলেও লিভার শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। তখন এ অসুখ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

২। ওজন হ্রাস: খাওদাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করে কিংবা কোনো রকম শরীরচর্চা ছাড়াই ওজন কমে যাচ্ছে? তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিনা কারণে ওজন কমে যাওয়া শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। লিভার সিরোসিসের কারণে, আয়রন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হয় না, যার ফলে রক্তাল্পতা হতে পারে। কমতে পারে ওজনও।

৩। পা ও গোড়ালিতে জ্বালা: পা ও গোড়ালিতে মাঝেইমাঝেই জ্বালাভাব হলে আগে থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শরীরে অ্যালবুমিন প্রোটিনের উৎপাদন কমে গেলে এ রকম সমস্যা হয়। এ প্রোটিন রক্তনালি থেকে অন্যান্য কোষে রক্তের ছড়িয়ে পড়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে এ প্রোটিন তরলের পরিমাণ কমে গেলে তা রক্তনালিকায় জমা হতে শুরু হয়। গোড়ালিতে বা পায়ের পাতায় হালকা জ্বালা অনুভব হলে আগে থেকে সচেতন তহওয়া প্রয়োজন।

৪। পেট ফাঁপা ও ওপর দিকে ব্যথা: অনেক দিন ধরে লিভারের কোনো সমস্যা থাকলে তলপেটে তরল জমা হয়ে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই এ পেট ফাঁপার সমস্যায় মাঝেমাঝেই ভুগে থাকেন। সেই সময় পেটও ফুলে থাকে। পেটের ওপর দিকে ব্যথা হয়। কয়েক দিন ধরে পর পর এই রকম সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হন।

৫। কালশিটে: শরীরে ঘন ঘন কালশিটে পড়ে কি? তা হলে আগে থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লিভার ভিটামিন কে- এর সাহায্যে এক ধরনের প্রোটিন উৎপাদন করে যা রক্তক্ষয় বন্ধ করে যে কোনো ক্ষত তাড়াতাড়ি ঠিক করতে সাহায্য করে। লিভার দূষিত রক্তের কোষগুলোকে বাড়তে দেয় না। ফলে লিভার যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখনই শরীরে এ ধরনের কালশিটে দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৬। ক্লান্তি, অবসাদ ও অস্থিরতা: যখন লিভার বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে অক্ষম হয়, তখন শরীর অলস হয়ে পড়ে। বিপাকক্রিয়ার গোলযোগ দেখা দেয়। প্রায়ই অনুভব হতে পারে দুর্বল ও অবসাদবোধ। মাথা ঘোরার সাথে বাড়তে পারে অস্থিরতাও। তাই এমন অনুভব প্রায়ই হলে এ সাধারণ লক্ষণেই শরীর জানান দিতে পারে লিভার সিরোসিস রোগটিকে।

৭। মানসিক অবস্থার পরিবর্তন: লিভার সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্ত​​প্রবাহে টক্সিন জমা হয়। যার ফলে মানসিক পরিবর্তন বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। ব্যস্ততা কিংবা কাজের চাপে এমনটা হচ্ছে এই ভেবে এ সাধারণ লক্ষণকেই অবহেলা করতে পারেন। অথচ এ লক্ষণও লিভার সিরোসিসের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

৮। বমিতে রক্ত: এটি একটি গুরুতর লক্ষণ। সিরোসিস লিভারে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করে। যার ফলে পেটের শিরা ফুলে যায় এবং রক্তপাত হয়। যদি বমিতে রক্ত দেখতে পান, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভার সিরোসিসের শেষ পর্যায়ে শরীরের অভ্যন্তরে শিরা-উপশিরা, রক্তবাহিকা উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাই জটিল এ রোগের মরণ থাবা থেকে বাঁচতে সচেতন থাকার কোনো বিকল্প নেই।

বাসি ভাত গরম করে খাচ্ছেন? একটু ভুলেই ঘটে যেতে পারে বিপদ

আগের দিনের বেঁচে যাওয়া ভাত, গরম করে খান অনেকেই। শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে। তাই ভাত নষ্ট হওয়ার ভয়ও থাকে না। মাইক্রোঅয়েভে গরম করে নিলে বোঝাও মুশকিল যে ভাত সঙ্গে সঙ্গে রাঁধা হয়নি। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ধরনের ভাতই ব্যাক্টেরিয়াদের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে পারে। যদি তা সঠিক ভাবে গরম না করা হয়। কী ভাবে ভাত রাখছেন, সে ক্ষেত্রে সেটিও বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আগের দিনের ভাত ফ্রিজে রাখা উচিত নয়?

বেঁচে যাওয়া খাবার ভালো রাখার জন্য তো ফ্রিজ নামক যন্ত্রটি রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ভাতের জন্য এই নিয়মটি একেবারেই প্রযোজ্য নয়। ভাত ফ্রিজে রাখা যায়। তবে তার নিয়ম রয়েছে। ভাত রেঁধে, ঠান্ডা করে সঠিক ভাবে কৌটোয় ভরে রাখলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পরের দিন সঠিক ভাবে গরম করে সেই ভাত খেলে তা ডায়াবেটিকদের জন্যও ভালো। অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়, এই ধরনের ভাত খেলে। তা হলে সমস্যাটা কোথায়? পুষ্টিবিদরা বলছেন, সমস্যার সূত্রপাত হয় তার খানিক আগে থেকে। ভাত রান্না করার পর যখন তা টেবিলে দীর্ঘ ক্ষণ পরে থাকে।

কোনও খাবার যদি রান্না করার পর দীর্ঘ ক্ষণ ফেলে রাখা হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যাক্টেরিয়া সহজেই সেখানে বাসা বাঁধতে পারে। সেই খাবার খেলে পেটে সংক্রমণ হয়। কিছু ক্ষেত্রে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তবে সঠিক ভাবে এয়ার-টাইট কন্টেনারে রান্না করা ভাত যদি সংরক্ষণ করতে পারেন, তা হলে কোনও সমস্যা হবে না। তবে এক বারের বেশি ভাত গরম করবেন না।

৬৬,১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে সরকার ॥ অর্থ মন্ত্রণালয়

বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত এবং জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত করার অর্থ হচ্ছে এসব সম্পদ যাদের নামে আছে, তারা আর এগুলো বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।

একইভাবে জব্দ করা অর্থ ব্যাংক থেকে তুলতে পারবেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৩০তম বৈঠক সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রম অধিকতর দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর কিছু ধারা যুগোপযোগী করে আইনটিকে সংশোধন করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্রাধিকার মামলাগুলোর যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগপত্র দাখিল এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত ১১টি মামলার জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মানদ- পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের জন্য এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) পক্ষ থেকে আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে চতুর্থ পর্বের মিউচুয়াল মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে। বৈঠকে এ মিউচুয়াল মূল্যায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন অর্থ উপদেষ্টা।
বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্যসচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রসচিব (দ্বিপক্ষীয়), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণে বছরে মৃত্যু ১০ লাখ, জিডিপি ক্ষতি ১০ শতাংশ

দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল জনপদ এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে। এক সময়ের উর্বর এই অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দূষিত বায়ুস্তরে ঢাকা পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের এই বিশাল অঞ্চলে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অস্বাস্থ্যকর বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছে। বায়ু দূষণ এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের জন্য একটি চরম উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর দূষণের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে এবং আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দূষণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। সীমানা ছাড়িয়ে আসা এই দূষণ রুখতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ, অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি- উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘পরিবর্তনের নিশ্বাস : ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে (আইজিপি-এইচএফ) পরিষ্কার বাতাসের সমাধান’ শীর্ষক বইয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আইজিপি-এইচএফ। দেশগুলো বায়ুদূষণের মূল উৎস। এর মধ্যে রয়েছে রান্না ও গরম করার জন্য কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়াই জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তুপুঞ্জ পোড়ানো, অদক্ষ অভ্যন্তরীণ দহন যানবাহন ব্যবহার করা, কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং অদক্ষভাবে সার ও সার ব্যবস্থাপনা করা এবং পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জ্য পোড়ানো। এসব কারণে এসব অঞ্চলে বাড়ছে দূষণ।
প্রতিবেদনে পরিষ্কার বাতাসের জন্য সমাধানগুলোকে তিনটি পারস্পরিকভাবে মূল ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি এবং বর্র্র্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের উৎসে নির্গমন হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সুরক্ষা ব্যবস্থা যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, যাতে পরিষ্কার বাতাসে রূপান্তরের সময় শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলো সুরক্ষিত থাকে। তৃতীয়ত, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজারভিত্তিক উপকরণ এবং আঞ্চলিক সমন্বয় দ্বারা সমর্থিত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু ক্ষেত্র এবং বহু বিভাগীয় অগ্রগতি বজায় রাখে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশগত অর্থনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, এই প্রতিবেদনটি দেখায় যে, সমাধানগুলো নাগালের মধ্যে রয়েছে এবং নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য সমন্বিত, সম্ভাব্য এবং প্রমাণভিত্তিক সমাধানগুলো ব্যাপকভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তব রোডম্যাপ দেওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোগ, পরিবার এবং কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তি এবং অনুশীলন গ্রহণের জন্য এবং সরকারগুলোকে তাদের সমর্থন করার জন্য শক্তিশালী আর্থিক ও অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশগুলোকে সমাধান কার্যকর করতে সহায়তা করার জন্য প্রতিবেদনে চার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতার জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে হবে। আচরণগত এবং বিনিয়োগকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে। কাজের সমন্বয় সাধন করে, সম্মতি নিশ্চিত করে এবং জাতীয় ও স্থানীয় বাস্তবায়নকে সংযুক্ত করতে হবে। আধুনিক ও দক্ষ শিল্প কার্যক্রমের সঙ্গে ক্লিন এনার্জি, পরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করতে অবকাঠামো গড়তে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ অনুশীলন ব্যবস্থাপক অ্যান জেনেট গ্লোবার বলেন, ক্লিন এয়ার অর্জনের জন্য স্থানীয়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে অব্যাহত সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং শক্তিশালী বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে সরকারের উচিত দূষণ কমানো। লাখ লাখ জীবন বাঁচাতে এবং সবার জন্য ক্লিন এয়ার সরবরাহ করার জন্য এই পথ অনুসরণ করতে পারে।