Home Blog Page 231

এবার মুয়াম্মার গাদ্দাফির-পুত্র সাইফ আল-ইসলামকে হত্যা!

০

লিবিয়ার দীর্ঘকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী উত্তরসূরি সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি এক সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানী ত্রিপোলি থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে ৫৩ বছর বয়সী সাইফকে চার বন্দুকধারী তাঁর নিজ বাসভবনের বাগানে গুলি করে হত্যা করে।

গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে ভেতরে প্রবেশ করে। সাইফ আল-ইসলামের মুখোমুখি হয়ে তারা সরাসরি গুলি বর্ষণ করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে এই ‘হত্যাকাণ্ডের’ খবর নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছেন।

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে সংস্কারের স্বপ্ন বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে সাইফ ছিলেন দেশটির অঘোষিত দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা সাইফ ইংরেজিতে ছিলেন সাবলীল। লিবিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে দশা থেকে মুক্ত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে লকার্বি বিমান হামলার ক্ষতিপূরণ এবং লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দেন। অনেক পশ্চিমা দেশ তাঁকে লিবিয়ার আধুনিক ও সংস্কারক মুখ হিসেবে বিবেচনা করত।

বিদ্রোহ, পতন ও বন্দিজীবন ২০১১ সালে যখন লিবিয়ায় বিদ্রোহ শুরু হয়, সাইফ তাঁর পশ্চিমা বন্ধুদের বদলে পরিবারের প্রতি আনুগত্য বেছে নেন। বিদ্রোহীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচিত হন। বাবার মৃত্যুর এক মাস পর নাইজারে পালানোর পথে তিনি বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়েন এবং দীর্ঘ ছয় বছর জিনতানের একটি পাহাড়ি শহরে বন্দি থাকেন। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান।

রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টা দীর্ঘ অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে ২০২১ সালে সাইফ আল-ইসলাম নাটকীয়ভাবে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন। তবে তাঁর প্রার্থিতা লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করে। তাঁর বিরোধীরা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই প্রার্থিতা প্রত্যাখ্যান করে। আইনি জটিলতা ও দণ্ডাদেশের কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়াটিই ভেস্তে যায় এবং লিবিয়া রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

সাইফ আল-ইসলামের এই করুণ মৃত্যু লিবিয়ার ইতিহাসে গাদ্দাফি যুগের প্রভাবের সর্বশেষ শক্তিশালী অধ্যায়েরও অবসান ঘটাল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পাকিস্তান কে বাদ দিয়ে উগান্ডাকে নিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে আইসিসি?

০

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তান অস্বীকৃতি জানানোয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পিসিবি যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, তবে পাকিস্তান দলকেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিকল্প হিসেবে আফ্রিকার দেশ উগান্ডাকে নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে টুর্নামেন্টের নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ বয়কট করে, তবে তা টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কাঠামো ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাই পাকিস্তান বহিষ্কৃত হলে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পরবর্তী অবস্থানে থাকা উগান্ডাই হবে টুর্নামেন্টের ২০তম দল। উগান্ডা বর্তমানে বিশ্বকাপের মূল তালিকায় থাকা দেশগুলোর বাইরে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছে।

আইসিসি প্রধানত তিনটি কারণে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে উগান্ডাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে:

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি না হলে আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাবে, যা কোনোভাবেই মানতে রাজি নয় জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসি।

পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে রেখে একটি ম্যাচ বাতিল করার চেয়ে তাদের বাদ দিয়ে একটি আগ্রহী দলকে (উগান্ডা) সুযোগ দেওয়াকে টুর্নামেন্টের ভারসাম্যের জন্য বেশি কার্যকর মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই বয়কট সংস্কৃতি রুখতে আইসিসি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিতে চায়।

পিসিবি যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে উগান্ডা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় কোনো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন নির্ভর করছে তারা বিশ্বকাপে থাকবে নাকি উগান্ডার জন্য জায়গা ছেড়ে দেবে।

সকালে দুধ চা পানের অভ্যাস? এর ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো জানেন তো

০

চা কম-বেশি সবারই পছন্দের একটি পানীয়। কেউ কেউ তো সকালে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে চায়ের কাপ খোঁজা শুরু করেন। সকালে নাশতার আগে থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় চা পান করা হয়। অফিসে কাজের ফাঁকে, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পের সময়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং খাবার টেবিলে চা থাকবেই।

চা পছন্দ হলেও অনেকেই আবার দুধ চা পছন্দ করেন। ফলে নানা কারণেই দুধ চা পান করা হয়। কিন্তু এই পছন্দের পানীয় পানে নিজের অজান্তেই যে ক্ষতি হয়, তা কি জানেন? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের সঙ্গে দুধ আর চিনি যোগ করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে এই চা পানে বেশি ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। তাহলে খালি পেটে চা পানের ক্ষতিকর দিক জেনে নেয়া যাক-

১. সকালে ঘুম থেকে উঠে বা খালি পেটে দুধ চা পান করলে গ্যাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ জন্য সঙ্গে আদা মিশিয়ে নিন।

২. ঘুম থেকে উঠেই কড়া করে দুধ চা পানের জন্য পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য আগেই সাবধান হওয়া উচিত।

৩. চায়ে বিদ্যমান ট্যানিন দুধের স্পর্শে অধিকতর সক্রিয় হয়ে উঠে। ট্যানিন দাঁতে হলদে দাগ সৃষ্টি করে।

৪. সকালে দুধ চা পানের ফলে পাকস্থলীতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যা থেকে হজমের সমস্যা হয়। এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

৫. অতিরিক্ত দুধ চা পানের কারণে পেট ফাঁপা বা ব্লোটিং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬. দিনে চার-পাঁচ বার দুধ চা পান করলে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

এসব সমস্যা থেকে রক্ষায় দুধ চা-এর পরিবর্তে লিকার চা পান করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, চায়ে খুব বেশি চিনি যোগ করা যাবে না। সম্ভব হলে মধু ও লেবুর রস ব্যবহার করেন। যতটা সম্ভব খালি পেটে চা পানের অভ্যাস পরিহার করুন। প্রয়োজনে আগে একটি বিস্কুট, একমুঠো মুড়ি বা চিড়া চিবিয়ে নিতে পারেন।

বন্ধ হচ্ছে দেশের ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান

০

দেশের ৩৫টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মধ্যে ২০টিকে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুইটি প্রতিষ্ঠানকে তিন মাস এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায় বা তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবসায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হতে পারে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধেও অবসায়নের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

খেলাপি ঋণের ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৩৫টি এনবিএফআইয়ের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, এসব প্রতিষ্ঠানের বন্ধকী সম্পদের মোট মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা, যা খেলাপি ঋণের তুলনায় অত্যন্ত কম।

তিন প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময়

অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিকে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় দিয়ে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই তিন প্রতিষ্ঠান হলো—

  • বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি
  • প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানান, ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে অবলুপ্ত করা হবে। বাকি তিনটি সময় চেয়েছে, তাই তাদের তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে না পারলে তারাও অবসায়নের আওতায় পড়বে।

আমানতকারীরা পাবেন শুধু মূল টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আরও জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নের আওতায় পড়বে, সেগুলোর আমানতকারীরা শুধু মূল আমানতের অর্থ ফেরত পাবেন। কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, অন্য কিছু এনবিএফআইয়ে আমানতকারীরা মাত্র ১৮ টাকা পেয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন, যেখানে আগে তারা কিছুই পাননি।

বিশেষজ্ঞদের মত: মৃত প্রতিষ্ঠান বাঁচানো বৃথা

অর্থনীতিবিদদের মতে, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যত ‘মরে গেছে’, সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে লাভ নেই। বরং যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো টিকে আছে, সেগুলোকে কীভাবে বাঁচানো যায়, সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

তারা বলেন, একীভূতকরণ বা মার্জিংয়ের আগে দেখতে হবে, দুর্বল প্রতিষ্ঠানটি আদৌ ভালো প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ক্যান্সার’ বা ‘গ্যাংগ্রিন’-এর মতো অবস্থায় পৌঁছে গেছে, যেখানে জোর করে বাঁচানোর চেষ্টা ফলপ্রসূ হয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন করে বাঁচানো সম্ভব হলেও সব প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে গেলে সরকারের বিপুল অর্থায়ন ও সহায়তা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে সম্ভব নয়।

প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত

এরই মধ্যে তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ১৪৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মোট মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলোই বর্তমানে দেশের এনবিএফআই খাতের স্থিতিশীলতার প্রধান ভরসা।

প্রেমের ফাঁদে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ; নোবেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

০

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ‘সা রে গা মা পা’-খ্যাত গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ পিবিআই-এর (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।

আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন—গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, নোবেলের পরিচিত ছোট ভাই মাসুদ রানা এবং তার সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, নোবেল মামলার বাদী আনাননিয়া শবনম রোজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা হাতিয়ে নেন। ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ধাপে ধাপে নোবেল মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, “গত বছরের ১৩ আগস্ট রোজ সাহসী হয়ে আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই গত ৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে।”

সোমবার মামলার প্রতিবেদন গ্রহণ করার জন্য দিন ধার্য ছিল। পিবিআই-এর প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বাদীপক্ষ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার প্রতারণা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে নোবেল আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন। এবারের মামলায় তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রচারণায় গিয়ে স্বর্ণের আংটি পেলেন হান্নান মাসউদের স্ত্রী

০

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের ভালোবাসা ও আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে নির্বাচনি প্রচারণায়। স্বামীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে এক বৃদ্ধা ভোটারের কাছ থেকে স্বর্ণের আংটি উপহার পেয়েছেন হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনী।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে প্রবাসী আমির ডুবাইয়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

উঠান বৈঠক শুরুর আগমুহূর্তে আমির ডুবাইয়ের বৃদ্ধা মা শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে নিজ উদ্যোগে একটি স্বর্ণের আংটি পরিয়ে দেন। তিনি এটিকে ভালোবাসা, সম্মান ও আস্থার নিদর্শন হিসেবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে পূর্বনির্ধারিত একটি উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রার্থী হান্নান মাসউদের সহধর্মিণী শ্যামলী সুলতানা জেদনী। বৈঠক শুরু হওয়ার আগে নির্ধারিত আসনে বসার সময় হঠাৎ ওই বৃদ্ধা নারী এগিয়ে এসে শ্যামলী সুলতানা জেদনীর হাতে আংটিটি পরিয়ে দেন।

এ সময় উপস্থিত নারী ভোটাররা করতালির মাধ্যমে ঘটনাটিকে স্বাগত জানান। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শ্যামলী সুলতানা জেদনী বলেন, এটি আমার স্বামীর প্রতি সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। গত দেড় বছরে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের জন্য যে কাজগুলো করেছেন—এই উপহার তারই প্রতিফলন। একজন স্ত্রী হিসেবে আমি গর্বিত।

উঠান বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ছাত্র শক্তি হাতিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আশিক এলাহীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামের শতাধিক নারী ভোটার বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং নির্বাচনি আলোচনা ও মতবিনিময়ে যুক্ত হন।

স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনি প্রচারণায় এমন আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রার্থী হান্নান মাসউদের প্রতি আস্থার বিষয়টি নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক, যা বললেন জামায়াত আমির

০

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ধন্যবাদ জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার ভেরিফাইড এক্স আইডি (টুইটার), যেখান থেকে হ্যাক হয়েছিল, সেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমি আশা করি, এখন ন্যায়বিচারটাও পাব এবং তা খুবই প্রয়োজন। দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার পক্ষে এ ধরনের আইনি উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। শাস্তি নিশ্চিত হলে অনেকেই সাবধান হয়ে যাবে।

জামায়াত আমির আরও বলেন, আশা করি, এখান থেকে অনেকেরই শিক্ষা হবে। অপেক্ষায় রইলাম, আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখার জন্য। অতি অল্প সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ।

ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশলাইন্স অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিএমপির ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাতে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখা যায়। পরে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়।

জামায়াত বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাইবার হামলা করে অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

গত ৩১ জানুয়ারি বিকেলে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের প্রতি অসম্মানমূলক একটি পোাস্ট ভাইরাল হয়। ওই পোস্টে, আধুনিক পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করে কর্মজীবী নারীদের প্রতি চরম অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।

পরে ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটির নির্বাচনি প্রচার টিম।

যুদ্ধ না করেই নামের আগে ’মুক্তিযোদ্ধা’ উপাধি ব্যবহার: জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

০

মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নিজের নামের আগে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে বগুড়া-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। সোমবার এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিধিভঙ্গের অভিযোগে এই নোটিশ জারি করা হয়।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট কাজী এরফানুর রহমানের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে অনুসন্ধান কমিটি দেখতে পায় যে, অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও প্রচারণায় নিয়মিত এই পরিচয় ব্যবহার করছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৬-এর বিধি ১৬ লঙ্ঘন করায় তাঁর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অবস্থিত কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কৈফিয়ত না দিলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

০

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপ সম্পর্কে জেনেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে তাকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।

নির্বাচনের সময় দেশে কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে, সে সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে থাকা নানা নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতার বিষয়েও ক্রিস্টেনসেন আলোচনা করেছেন বলে এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।

এর আগে প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাপ্রধানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। গত ১০ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। ‘একদিনে দুই ভোট’ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ এখন প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। নিজেদের নির্বাচনি এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তারা, ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ কার্যকরের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-র রায় পেতে প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার।

আ. লীগের ৪৮ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি: জরিপ

০

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে পরিচালিত এক মতামত জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশের বেশি মানুষ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজের যৌথভাবে পরিচালিত এই জরিপের ফল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জানান, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি আসনে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর দুই ধাপে এই জরিপ চালানো হয়েছে।

ভোট স্থানান্তরের প্রবণতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ জরিপের সবচেয়ে আলোচিত তথ্য হলো সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভোটারদের গতিপথ। দেখা গেছে, আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৬.৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্য দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।

নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি প্রবল ঝোঁক দেখা গেছে। ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেবেন এমন তরুণদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে চান।

নির্বাচনী ইস্যু ও ভোটারের অগ্রাধিকার জরিপে উঠে এসেছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রধানতম ইস্যু হলো ‘দুর্নীতি’। প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিকে প্রাধান্য দেবেন। এছাড়া অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো:

ধর্ম (৩৫.৯ শতাংশ)
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
জননিরাপত্তা

ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে ‘জনদরদি’ প্রার্থীকে বেশি পছন্দ করছেন। দল ও প্রার্থী—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন ৩৩.২ শতাংশ মানুষ।

নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাজ্যের রেডিং ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়ার আগ্রহ ইতিবাচক হলেও ভোটের দিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন, যাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়া নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, মানুষের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি ভোট সুষ্ঠু হওয়া এবং ব্যালট বাক্স দখল হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভোটাররা এখন ধর্মের চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।