Home Blog Page 232

ভাঙনের পর ভরসা, তিস্তার চরে কৃষকের সবুজ সংগ্রাম

০

শীতের সকালের নরম রোদে তিস্তা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরগুলো এখন সবুজে মোড়া। একসময় যেখানে ছিল শুধু বালু, ধুলা আর অনিশ্চয়তা। আজ সেখানে কৃষকের ঝড়া ঘামে জন্ম নিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চল এখন জীবনসংগ্রাম, ঘুরে দাঁড়ানো আর স্বপ্ন ফেরার গল্প শোনাচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম শেষে তিস্তার পানি নামতে শুরু করলেই ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে বিস্তীর্ণ চর। প্রথম দিকে এসব চর কেবল বালুময় প্রান্তর হিসেবেই চোখে পড়ে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে শুরু হয় মানুষের পদচারণা। স্থানীয় কৃষকেরা বাঁশের লাঠি হাতে জমির সীমানা মাপেন, বালুর ওপর টেনে নেন নতুন জীবনের রেখা। এরপর শুরু হয় চাষাবাদের প্রস্তুতি—কখনো দলবেঁধে জমি পরিষ্কার, কখনো বীজতলা তৈরি, আবার কোথাও সেচের নালা তৈরি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরজুড়ে চোখে পড়ে ভুট্টার হলুদাভ শিষ, সবুজ মরিচগাছ, কুমড়ার লতানো ডগা আর নানা জাতের শাকসবজি। কোথাও বাদাম, কোথাও আউশ ধানের চারা। উর্বর বালুমাটি ও খোলা পরিবেশে এসব ফসল দ্রুত বেড়ে উঠছে। সকালে চরজুড়ে দেখা যায় কৃষকদের ব্যস্ততা—কেউ পানি দিচ্ছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউবা ফসল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হিমালয়ের কোলে জন্ম নেওয়া তিস্তা নদী শুধু একটি জলধারা নয়। এটি উত্তরবঙ্গের জীবনরেখা। ভারতের সিকিম রাজ্যের হিমবাহ অঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে তিস্তা নেমে আসে দার্জিলিং পাহাড় পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার কাছে। এরপর রংপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ ছুঁয়ে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে নদীটি। কয়েক শতাব্দী ধরেই তিস্তা বারবার গতিপথ বদলেছে–কখনো উর্বর পলি রেখে গেছে মাঠে–ঘাটে, আবার কখনো কেড়ে নিয়েছে মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। স্বাধীনতার পর ডালিয়া ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পানিবণ্টন ও নদীশাসনের সীমাবদ্ধতায় চরাঞ্চলের মানুষ আজও প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তবুও প্রতি বছর বর্ষা শেষে তিস্তার বুকে জেগে ওঠা নতুন চর কৃষকদের সামনে খুলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ চরের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, নদীভাঙনে একসময় সব হারিয়ে ফেলেছিলাম। ঘরবাড়ি, জমিজমা—সবই গেছে তিস্তার গর্ভে। এখন এই চরে চাষ করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ফসল বিক্রি করে সংসার চলছে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনাও চালাতে পারছি। তার মতো অনেক কৃষকই নদীভাঙনের পর বারবার আশ্রয় বদলেছেন। তবুও থেমে থাকেননি। বালুচরই হয়ে উঠেছে তাদের নতুন ঠিকানা, নতুন স্বপ্নের মাঠ।

তবে এই সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি। চরাঞ্চল স্থায়ী নয়। উজান থেকে নেমে আসা হঠাৎ ঢল কিংবা অকাল বন্যায় এক রাতেই তলিয়ে যেতে পারে মাসের পর মাসের পরিশ্রম। তাই চাষাবাদের পাশাপাশি কৃষকদের মনে কাজ করে অনিশ্চয়তার শঙ্কা। অনেকেই বলেন, ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত স্বস্তি নেই। তবু জীবন থেমে থাকে না। ঝুঁকি নিয়েই তারা এগিয়ে চলেছেন।

চর অঞ্চলের কৃষিতে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। ফসল তোলা, শাকসবজি পরিচর্যা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত নানা কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তারা। এতে একদিকে পরিবারের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে নারীদের সামাজিক অবস্থানেও আসছে পরিবর্তন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নতুন চরে প্রায় ৫০ হেক্টর এবং পুরোনো চরে প্রায় ২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমি এখন আবাদযোগ্য হয়ে উঠেছে। বালুমিশ্রিত দোআঁশ মাটিতে ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকেরা এখানে ধান, ভুট্টা, সরিষা, তরমুজ, আলু, চিনাবাদাম, মরিচ, মিষ্টিকুমড়া, লাউ, পেঁয়াজ, রসুন, শিম, গম, শসা ও তামাকসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করছেন।

কৃষি বিভাগ বলছে, পরিকল্পিতভাবে আধুনিক চাষপদ্ধতি, উন্নত বীজ ও সেচসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে চরাঞ্চলের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। এবছর ১২০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হয়েছে। যা এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে তিস্তার চরে তরমুজ, খেসারি, চীনাবাদাম ও তুলার মতো অর্থকরী ফসল সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও এখানে মূলা, ক্ষীরা ও লাউয়ের বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রুবেল হুসেন জনকণ্ঠকে জানান, চরাঞ্চলের কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী, কখন বপন করতে হবে এবং কীভাবে সেচ–সার ব্যবস্থাপনা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়-এসব বিষয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তার মতে, পরিকল্পিত চাষাবাদ ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তিস্তার চরাঞ্চল ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন এলাকায় পরিণত হতে পারে।

তিস্তার জেগে ওঠা চর শুধু বালুর স্তূপ নয়। এটি মানুষের লড়াই, ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি আর আশার প্রতিচ্ছবি। সবুজে মোড়া এই চরগুলো যেন বারবার মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেও মানুষ স্বপ্ন বুনতে জানে।

এরদোয়ানের চেয়েও ইমরান খানকে বড় বিপদ মনে করতো পশ্চিমারা!

০

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশ করা ইমেইলে দেখা গেছে, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, রাশিয়ার পুতিন কিংবা চীনের শি জিনপিংয়ের চেয়েও বড় বিপদ হিসেবে দেখতেন। ফাঁস হওয়া এই নথিতে ইমরান খানকে একজন ‘পপুলিস্ট’ এবং ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমরান খানের তুলনায় ‘আইনস্টাইন’-এর মতো মেধাবী বলে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন এপস্টাইন।

নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকেই ইমরান খান ও তাঁর রাজনৈতিক দল পিটিআই-কে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে বিভিন্ন মহলে চিন্তাভাবনা চলছিল। এরদোয়ান বা পুতিনের চেয়েও ইমরান খানকে বড় হুমকি হিসেবে দেখানোর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান ক্রমাগত দাবি করে আসছেন যে তাঁর পতনের পেছনে বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে, যা এই নথির তথ্যের সঙ্গে এক ধরনের যোগসূত্র তৈরি করছে।

বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা ইমরান খানকে নিয়ে এপস্টাইন ফাইলে এমন মন্তব্য আসায় এটি স্পষ্ট যে, পশ্চিমা প্রভাবশালী মহলের একটি বড় অংশ তাঁকে শুরু থেকেই নেতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। ২০১৯ সালে এপস্টাইনের মৃত্যু হলেও তাঁর ব্যক্তিগত নথিগুলো একের পর এক বিশ্বনেতাদের সম্পর্কে প্রভাবশালী মহলের নেপথ্য দৃষ্টিভঙ্গি ও গোপন অধ্যায়গুলো সামনে নিয়ে আসছে।

চিরনিদ্রায় কিংবদন্তি রনজিত

০

বয়স তাকে কাবু করে ফেলেছিল। কয়েক বছর ধরে কানে তেমন শুনতেন না। চলাফেরা ছিল সীমিত। বেশিরভাগ সময় সিলেট শহরে করের পাড়া বাসায় সময় কাটতেন। ৯৪ বছর বয়সে কাছের মানুষদের কাঁদিয়ে পরলোকে পাড়ি দিয়েছেন প্রখ্যাত ফুটবলার রনজিত দাস। সিলেটের একটি হাসপাতালে হৃদরোগে মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন। সিলেট থেকে রনজিত দাসের ছেলে রাজীব দাস সংবাদ মাধ্যমকে বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছেন, ‘আমার বাবা ভোর ৪টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সকালে মারা যান।’
রাজীব আরও জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩১ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রবিবার তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও রাতে আবার হার্ট অ্যাটাক করেন। রনজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের হয়ে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। এছাড়া গোলরক্ষক হিসেবে রনজিত দাস বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে ইস্পাহানি ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল সমান দাপট। তবে ফুটবলার পরিচিতিটা তাকে একটু বেশি সুনাম এনে দিয়েছে। পঞ্চাশের দশকে ফুটবল খেলার পর ঢাকায় হকি লিগে খেলেছেন ১৯৬৫-৭০ সাল পর্যন্ত।

ফুটবলে আইএফএ শিল্ডে ত্রিপুরা একাদশ ও ঢাকা মোহামেডানের জার্সি পরার অভিজ্ঞতা আছে। কলকাতা মোহামেডানের হয়ে দিল্লিতে খেলেছেন ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপে। ১৯৫৮ সালে রনজিত দাসের অধিনায়কত্বে ঢাকা ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। হকিতে অধিনায়ক ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান দলে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তনের পর খেলেছেন সোনালী ব্যাংকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সিলেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি পূর্ব পাকিস্তান যুব দল এবং আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুই ফোক গানেই সাড়া পাচ্ছেন জুঁই

০

দেশের ফোক গানের জনপ্রিয়তার কারণে স্টেজ শোতে আধুনিক গানের শিল্পীরাও ফোক গানে মনোযোগী হয়ে উঠছেন। তবে এই প্রজন্মের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইসরাত জাহান জুঁই শুরু থেকেই নিজেকে একজন ফোক গানের শিল্পী হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করে আসছেন। সম্প্রতি ইসরাত জাহান জুঁই ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে জুঁইয়ের কণ্ঠে বাউল স¤্রাট শাহ আব্দুল করিমের ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’ ও পাগল মুস্তাকের লেখা ও সুরে (মুন্সী জুয়েলের কম্পোজিশনে) ‘নতুন কইরা মন দিমু আর কারে’ গান দুটি। গান দুটি প্রকাশের পর থেকেই অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন।

জুঁই বলেন, এর আগে ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’ গান যারাই গেয়েছেন অনেকেই ভুল গেয়েছেন। আমাকে বাউল স¤্রাটের সন্তান শাহনূর জালাল ভাই গানটি নিজে দিয়ে বলেছেন তার বাবা যেভাবে লিখে গেছেন ঠিক সেভাবেই গাইতে। আমি সেভাবেই গানটি গেয়েছি। এরই মধ্যে মাত্র সাতদিনে প্রায় তিন লাখ ভিউয়ার্স গানটি উপভোগ করেছেন। বাউল স¤্রাটের গানের আবেদন যে ব্যাপক তা এই গান গেয়ে আবারও নতুন করে উপলব্ধি করছি। আর ‘নতুন কইরা মন দিমু আর কারে’ গানটির জন্যও বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। ধন্যবাদ পাগল মুস্তাক ভাইকে এত সুন্দর একটি গান আমাকে উপহার দেওয়ার জন্য। দর্শক-শ্রোতার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আমাকে তাদের ভালোবাসায় রাখার জন্য।
জুঁইয়ের কণ্ঠে মৌলিক গান ‘তুমি বুঝলা না’, ‘মিরপুর এক্সপ্রেস’, ‘পোষা পাখি’, ‘মরার কোকিলে’, ‘প্রেমের হাওয়া’ যেমন দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে ঠিক তেমনি কাভার সং হিসেবে জুঁইয়ের কণ্ঠে ‘তোমরা কইও গো বুঝাইয়া’, ‘বন্ধু আইবা’, জীবন মানেই তো যন্ত্রনা, কলিজা ভুনা, এক খান পান চাইলাম পান দিলে না, তোর পিরিতের এত জ্বালা, আইলা না আইলা না বন্ধুসহ বেশকিছূ গান জনপ্রিয়তা পায়।
নতুন বছরের শুরুতেই জুঁই গত ২, ৩, ৫, ৭, ১২ ও ১৬ জানুয়ারি স্টেজ শোতে গানে গানে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। এর আগে জুঁই ঢাকার সরকারি সংগীত কলেজ থেকে লোকসংগীতে অনার্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি একই কলেজে একই বিষয়ে মাস্টার্স করছেন।

আজ বাজারে আসছে ১০ টাকার নতুন নোট, যা যা থাকছে নতুন নোটে

০

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে নতুন ডিজাইনের ১০ টাকার ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ছে। নতুন এ নোটটি ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইন ও সিরিজের আওতায় ২, ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট মুদ্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১ হাজার, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে এসেছে। এবার যুক্ত হলো ১০ টাকার নতুন নোট।

নতুন ১০ টাকার নোট প্রথমবারের মতো বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। প্রাথমিকভাবে নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হবে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এ নোট বিতরণ করা হবে।

নোটটির আকার ১২৩ মিলিমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ মিলিমিটার প্রস্থ। নোটের সামনের অংশের বাম পাশে রয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে জাতীয় ফুল শাপলার ছবি। পেছনের অংশে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি–২০২৪’-এর চিত্র। নোটটির রঙে গোলাপির আধিক্য রয়েছে।

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে নোটটিতে জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘১০’, বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম, ২ মিলিমিটার চওড়া রঙ পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা সুতা, সি-থ্রু ইমেজ ও মাইক্রোপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া করলে নিরাপত্তা সুতার রঙ লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে এলেও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগজ ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য ১০ টাকার স্পেসিমেন (Specimen) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয়। এসব নমুনা নোট নির্ধারিত মূল্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা জাদুঘর বিভাগ, মিরপুর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

গানম্যান নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা, অতঃপর

০

ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান গানম্যানসহ ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র বা সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে প্রবেশের বিধিনিষেধ থাকলেও তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেনাসদস্যদের ওপর চড়াও হন এই প্রার্থী। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, খালিদুজ্জামান তাঁর গাড়ি নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রবেশের সময় দায়িত্বরত সেনাসদস্যরা প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরিচয় জানতে চান এবং গানম্যান নিয়ে ভেতরে প্রবেশে বিধি-নিষেধের কথা জানান। এ সময় খালিদুজ্জামান উত্তেজিত হয়ে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা তো গান নিয়ে বসে আছেন। তারেক জিয়ার ক্ষেত্রে আপনারা জিহ্বা দিয়ে রাস্তা চেটে পরিষ্কার করছেন, আমাদের কেন যেতে দেবেন না?’

সেনাসদস্যরা বিনয়ের সঙ্গে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এটি একটি সুরক্ষিত এলাকা এবং ভেতরে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ। ক্যান্টনমেন্ট পার হওয়ার পর পুনরায় তিনি গানম্যানসহ চলাচল করতে পারবেন। কিন্তু খালিদুজ্জামান ক্রমাগত অভিযোগ করতে থাকেন যে, কিছু অফিসার ব্যক্তিস্বার্থে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করছেন এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের ‘গোলাম’ হিসেবেও অভিহিত করেন।

কথোপকথনের এক পর্যায়ে খালিদুজ্জামান ফোনের মাধ্যমে একজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেও তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর আচরণের তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা পরিকল্পিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। ৫ আগস্টের পর অনেক অফিসার আমাদের পা ধরেছেন, কিন্তু আমরা আপনাদের মতো পা-চাটা হইনি।’

সেনাসদস্যরা তাঁকে নিয়ম মেনে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানালে এবং ভিডিও করতে নিষেধ করলে তিনি আরও ক্ষুব্ধ হন। শেষ পর্যন্ত গানম্যান ছাড়া ভেতরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এবং বাইরে হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এই ঘটনায় নির্বাচনী পরিবেশ এবং সেনাবাহিনীর বিধিনিষেধ পালন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পবিত্র শবে বরাত আজ

সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ মঙ্গলবার  দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে মুসলমানগণ পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার  সরকারি ছুটি থাকবে।
এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা এবং মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে প্রধান উপদেষ্টা শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, ‘মহিমান্বিত এই রাতে আমরা ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভ করতে পারি। আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহ তায়ালার অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফিরাত।’
এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ মাগরিবের নামাজের পর ওয়াজ মাহফিলের মধ্য দিয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র লাইলাতুল বরাতের অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলী শাহজাদা লেন জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী।
রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে ওয়াজ করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান।
ব্যক্তিগত নফল ইবাদত ও জিকির আযকারের জন্য বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সারা রাত মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শবে বরাতের অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অনুরূপ আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব সারাদেশে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে সোমবার র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব  চৌধুরী জানান- শবে বরাত উপলক্ষে মুসল্লিরা দেশব্যাপী ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ ও জিকিরের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবেন। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘœভাবে শবে বরাত উদ্যাপন নিশ্চিত করতে র‌্যাব ফোর্সেস অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে শবে বরাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে।
শবে বরাত শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে র‌্যাব ফোর্সেসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুমের নম্বরে ০১৭৭৭৭২০০২৯ যোগাযোগ করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগ

০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীবিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলে বঙ্গভবনে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। দলটির অভিযোগ, বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করেই এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বঙ্গভবনে যাবে। সেখানে তারা এই ঘটনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

জামায়াতের দাবি, বঙ্গভবনের ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে একটি ফিশিং মেইলের মাধ্যমে জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে নারীবিদ্বেষমূলক একটি পোস্ট দেয়া হয়, যা দলটির ভাষায় ডা. শফিকুর রহমানের অবস্থান ও রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে সরকারি ই-মেইলের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাহমুদুর রহমান জানান, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ বঙ্গভবনের একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছে। ওই ই-মেইল থেকে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকে সিসিতে রেখে ‘Case-Study-Election.accdr’ নামের একটি ফাইল পাঠানো হয়, যার বিষয় হিসেবে ‘আর্জেন্ট’ উল্লেখ ছিল। পরে ওই ফাইলেই ক্লিক করার মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারের অফিসিয়াল ই-মেইল assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd ব্যবহার করে ওই ফিশিং মেইলটি পাঠানো হয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমানের মেইলে পাঠানো ওই ফাইলে ক্লিক করার পরই এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে অল্প সময়ের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড ছিল। ওই সময়ের মধ্যেই বিতর্কিত পোস্টটি দেয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।

জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওই নারীবিদ্বেষমূলক পোস্টটি ডা. শফিকুর রহমান বা তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেউই দেননি। বরং পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে বিব্রত করতে এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করছে।

আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ

০

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪.১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এই ভূকম্পন ঘটে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪.১, যা ‘হালকা’ শ্রেণির। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায়।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার নামে দুই কলেজের নামকরণ

০

ঢাকা ও ফেনীর দুটি কলেজের নাম পরিবর্তন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে নামকরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল ও রাজশাহীর আরও দুটি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের গত বছরের ২৯ ডিসেম্বরের নির্দেশনার আলোকে অধিভুক্ত চারটি বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুরের পল্লবী মহিলা ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন করে শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ রাখা হয়েছে। ফেনীর ফুলগাজী মহিলা কলেজের নতুন নাম হয়েছে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ।

এ ছাড়া, টাঙ্গাইলের বাসাইল ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে বাসাইল এমদাদ হামিদা কলেজ এবং রাজশাহীর বাগমারার সালেহা-ইমারত ডিগ্রি কলেজের নতুন নামকরণ করা হয়েছে সাঁকোয়া কলেজ।

প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট সব অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।