Home Blog Page 237

বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তানের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস!

০

বাংলাদেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জন থাকলেও ভেতরে ভেতরে লঙ্কান সফরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও লাহোর থেকে কলম্বোর উদ্দেশে পাকিস্তান দলের জন্য এয়ার লঙ্কার ফ্লাইট বুকিং দিয়ে রাখা হয়েছে।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান সিরিজ শেষেই বাবর আজমদের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার কথা রয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার বা সোমবারের মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, মহসিন নাকভি এই স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পিসিবির সাবেক দুই চেয়ারম্যান নাজাম শেঠী ও রমিজ রাজার সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। সাবেক এই দুই কর্তা শ্রীলঙ্কায় দল পাঠানো এবং বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন না করার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন।

বর্তমানে লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে তারা। ক্রিকেটপ্রেমীদের মূল আকর্ষণ ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও ফ্লাইট বুকিংয়ের খবরটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সাইবার মামলায় ববি’র শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক কারাগারে

০

সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়। সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে গত ৫ ডিসেম্বর সাইবার ট্রাইব্যুনাল কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (যার জিআর নং ৭৮৯/২৫ এবং মামলা নং ১৪)।

ওই মামলার শুনানি শেষে অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এসএম শরিয়তউল্লাহ তাকে (সেলিনা বেগম) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অস্বাভাবিক সম্পর্ক, বø্যাকমেইল ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক এক কালচারাল কর্মকর্তাকে অফিসকক্ষে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করায় আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার (সেলিনা বেগম) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ববি’র উপাচার্যসহ একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাই আদালতের বাহিরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বেসরকারি চিকিৎসায় খরচ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

০

দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসা ব্যয় দিন দিন বাড়ছে, যা রোগী ও স্বজনদের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। হাসপাতাল ফি, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা, চিকিৎসক পরামর্শ ও ওষুধের খরচ মিলিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই মোট ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
রোগী ও ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, অনেক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার আগে সম্ভাব্য ব্যয়ের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয় না। ভর্তি, পরীক্ষা ও চিকিৎসার ধাপে ধাপে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যয়ের পরিমাণ অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি ও দক্ষ জনবলের সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে খরচ বেড়েছে। তবে রোগী অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, কার্যকর নজরদারির অভাব ও সেবার মান–মূল্যের স্বচ্ছতা না থাকায় খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় খরচ নিয়ন্ত্রণে নীতিগত নির্দেশনা, মূল্য তালিকার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানো না গেলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।

আগে এক লাখ টাকা ঘুস দিতে হতো, এখন লাগে ১০ লাখ: আজম জে চৌধুরী

০

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এক ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায়ে ঘুষের মাত্রা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন যে, আগে যেখানে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, বর্তমানে সেই অংক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ টাকায়। মাঠ পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন না আসায় এই পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।

আজম জে চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, এই সরকার মূলত এনজিও স্টাইলে দেশ চালানোর চেষ্টা করছে এবং ব্যবসায়ীদের কোনো মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ভূমি অফিসগুলোতে হয়রানির কথা উল্লেখ করে জানান যে, জমির মিউটেশনসহ অন্যান্য কাজে এখন এলআর ফান্ডের নামে আকাশচুম্বী অর্থ দাবি করা হচ্ছে। সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি যদি না কমে এবং ঘুষের হার যদি বহুগুণ বেড়ে যায়, তবে তাকে কি আদৌ সংস্কার বলা যায়? মাইক্রো লেভেলে অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতির এই ভয়াবহতা বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট করছে বলেও তিনি মনে করেন।

সেমিনারে তিনি বন্দর ও কাস্টমসের অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, কোনো পণ্য আমদানির পর তা এক মাসের বেশি সময় বন্দরে আটকে থাকা এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ব্যবসার গতি কমিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন যে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি, কিন্তু ‘এনজিওদের সরকার’ তা করছে না।

জ্বালানি খাতের সংকট ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবের কথাও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের উপস্থিতিতে আজম জে চৌধুরীর এই সরাসরি অভিযোগ এখন দেশের ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পারিবারিক ব্যয় ও সামাজিক চাপ: বদলাচ্ছে সম্পর্ক

০

ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অসংখ্য পরিবারের ভেতরের সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খরচ বাড়তে থাকায় পারিবারিক সিদ্ধান্ত, দায়িত্ব বণ্টন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ায় নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিভিন্ন পরিবারে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক সদস্যের আয় নির্ভরতা বাড়ছে, ফলে পারিবারিক ভূমিকা ও কর্তৃত্বের চিরাচরিত ধারণায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বামী–স্ত্রী সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা।
সামাজিক চাপও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিয়ে, উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক দায়বদ্ধতা বজায় রাখতে গিয়ে অনেক পরিবার বাস্তব সক্ষমতার বাইরে গিয়ে ব্যয় করছে। এতে আর্থিক চাপের পাশাপাশি মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি সামাজিক কাঠামোর ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলছেন, খোলামেলা পারিবারিক যোগাযোগ, বাস্তবসম্মত ব্যয় পরিকল্পনা এবং সামাজিক প্রত্যাশা পুনর্মূল্যায়ন না হলে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।

সোনার দাম এক লাফে বাড়লো ১৬ হাজার! এখন ১ ভরির দাম কত

০

দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভালো মানের সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা অতিক্রম করল। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই সমন্বয় করতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম বর্তমানে আকাশচুম্বী। গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি-র তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বিরল ঘটনা।

সোনার নতুন মূল্যতালিকা

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।

২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা।

১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা।

সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা।

সোনার পাশাপাশি রুপার দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা এবং ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৮ হাজার ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, এই মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অতিরিক্ত যুক্ত হবে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা দেশের গয়না ব্যবসায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জামায়াতের নারী কর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ

০

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ধারাবাহিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা। এক সপ্তাহে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগে আজ বিকালে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফখরুল ইসলামের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ তাহেরের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে একের পর এক হেনস্তার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অভিযোগ উপস্থাপনের সময় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নারী কর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অভিযোগে বলা হয়, চলতি সপ্তাহে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মী পরিকল্পিতভাবে নারী কর্মীদের অন্তত পাঁচবার হেনস্তা করেছে। নির্বাচনী প্রচারণা সাংবিধানিক অধিকার হলেও গণসংযোগে বের হলেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী বাধা সৃষ্টি ও অশালীন আচরণ করেছে। অভিযোগে নেকাব টেনে খোলার মতো আপত্তিকর ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি ভাটিয়ারি ইউনিয়নের জাহানাবাদ এলাকায় প্রথম হেনস্তার ঘটনা ঘটে। এরপর ২৬ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং পৌরসভার ইদিলপুর এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনা ঘটে। পরদিন কুমিরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লোহারপোল এলাকায় নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়। সবশেষ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভাটিয়ারি ইউনিয়নের খাদেমপাড়া এলাকায় আরেকটি ঘটনার অভিযোগ ওঠে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নারী কর্মীদের জন্য একটি নিরাপত্তাহীন পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে তারা চরম আতঙ্কে ভুগছেন এবং স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ দায়েরের সময় জামায়াতে ইসলামীর সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রচারের অভিযোগে বিএনপির ইউনিয়ন কমিটি স্থগিত

০

দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় থাকার অভিযোগে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম সালাউদ্দিন  জেলা বিএনপির প্যাডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। মাইকিং, গণসংযোগ, পথসভা ও বিভিন্ন নির্বাচনি সমাবেশে তাদের সরব উপস্থিতি দলীয় পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দেয়।

সূত্র আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার দলীয়ভাবে সতর্ক করা হলেও সংশ্লিষ্ট নেতারা তা উপেক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় উপজেলা বিএনপিকে।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করেননি। বরং তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় হয়েছে বলে জানানো হয়, যা আমাদের দলীয় শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাই উপজেলা কমিটি দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাময়িকভাবে পুরো কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বিএনপির ভেতরের টানাপড়েন দিন দিন প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

এদিকে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন কমিটি স্থগিতের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সময়োপযোগী ও কঠোর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচন ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত মঙ্গলবার একই উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জন নেতাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। ধারাবাহিক এসব সাংগঠনিক পদক্ষেপ সরাইল উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

নারীরা কখনো জামায়াতে ইসলামীর প্রধান হতে পারবেন না: শফিকুর রহমান

০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান বা আমির পদে কখনোই কোনো নারী অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী না রাখা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে আমরা কোনো নারী প্রার্থী দিচ্ছি না। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ, অন্য দলগুলোও যে খুব বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে তা বলা যাবে না। তবে আমরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এটি একদিনে সম্ভব নয়, এর অর্থ এই নয় যে আমরা নারীকে অসম্মান করছি।

ভবিষ্যতে কোনো নারী জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি না বলে জানান। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, এটি সম্ভব নয় কারণ আল্লাহ পুরুষ ও নারীকে আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষরা কখনোই সন্তান লালন-পালন বা স্তন্যদান করতে পারবে না, এটি মহান আল্লাহর বিশেষ দান। আমরা স্রষ্টার সৃষ্টি করা এই বিধান পরিবর্তন করতে পারি না।

গত তিন দশক দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের প্রধান পদে নারীর অযোগ্যতার প্রশ্নে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা নারী প্রধানমন্ত্রীদের অসম্মান করছি না, আমাদের তাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে এমন কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে যা পালন করা নারীর জন্য সীমাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মা হওয়ার পর একজন নারী যে গুরুদায়িত্ব পালন করেন, তা কোনো পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহ সবকিছু জেনেই দায়িত্ব বণ্টন করেছেন।

শিক্ষকদের বাড়তি বেতনসুবিধার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা পদনাম অন্তর্ভুক্তি এবং অগ্রিম বর্ধিত বেতনসুবিধা নিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য একটি এবং প্রথম শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দুটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন প্রাপ্য হবেন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা।

বুধবার(২৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই আদেশটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবরের সম্মতির আলোকে (চাকরি বেতন ও ভাতা) আদেশ, ২০১৫–এর ১২ (২) নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত তদানিন্তন এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট মেমোরেন্ডামের নম্বর ৮৩২-এর তফসিলে ‘সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা’ পদনাম অন্তর্ভুক্তি এবং অগ্রিম বর্ধিত বেতনসুবিধা উল্লিখিতভাবে সংযোজন করা হলো। দ্বিতীয় শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য একটি এবং প্রথম শ্রেণির এমএড বা মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য দুটি অগ্রিম বর্ধিত বেতন প্রাপ্য হবেন। আদেশটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।