Home Blog Page 238

চুরির মোবাইল নম্বরে ধরা ঘাতক গৃহকর্মী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গৃহকর্মী আয়েশাকে স্বামীসহ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের তৎপরতায় পূর্বের চুরির তথ্য ও একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে ‘ক্লুলেস’ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। মোহাম্মদপুর থানার অতীতের বিভিন্ন মামলা ও জিডির তথ্য বিশ্লেষণ করে আয়েশাকে শনাক্ত করা হয়। পরে ম্যানুয়াল সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে

গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত কমিশনার এনএস নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

এদিকে মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার গৃহকর্মী আয়েশার ছয় দিন ও তার স্বামী রাব্বি শিকদারকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাদের রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এদিন তাদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. সহিদুল ওসমান মাসুম। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশিদ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এর আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ফুফু শাশুড়ির বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৮ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, গত ৮ ডিসেম্বর সকাল ৭টা ৫১ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ৩ দিন আগে কাজে যোগ দেওয়া গৃহকর্মী ‘আয়েশা’কে সন্দেহভাজন আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্বামী আজিজুল ইসলাম (৫৭)। আয়েশাকে সন্দেহ করা হলেও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এই গৃহকর্মীর কোনো ছবি, এনআইডি, মোবাইল নম্বর বা পরিচয় সংরক্ষিত না থাকা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও তাকে চেনার মতো কোনো স্পষ্ট ভিজ্যুয়াল চিত্র পাওয়া যায়নি। কারণ সে প্রতিবারই বোরকা পরে, মুখ ঢেকে আসা-যাওয়া করত। ঘটনার আশপাশে কোনো ডিজিটাল ক্লু না পেয়ে তদন্ত দল ‘ম্যানুয়াল’ উপায়ে থানায় অভিযোগ আসা গত এক বছরে গৃহকর্মী কর্তৃক সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলো খুঁজতে থাকে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করেন গলায় পোড়া দাগ, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বাস, গৃহকর্মীর পরিচয়ে সংঘটিত পূর্বের চুরি। এখানে একটি ঘটনায় আয়েশার তথ্য মিলে যায়। মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের ভুক্তভোগী একটি পরিবার থেকে পুরনো একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়, যা থেকেই শুরু হয় আসামি চিহ্নিত করার কাজ।

সিডিআরের বিশ্লেষণে পাওয়া অবস্থান ধরে হেমায়েতপুরে গিয়ে জানা যায়, নম্বরটি ব্যবহার করত রাব্বি নামে এক ব্যক্তি। তদন্তে বেরিয়ে আসে রাব্বির স্ত্রী আয়েশা। তারা পূর্বে জেনেভা ক্যাম্পে থাকত। বাদীর দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে এটি মিলে যায়। পরবর্তীতে হেমায়েতপুরে অভিযান চালানো হলে তাদের বাসার দরজায় তালা লাগানো পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অবশেষে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামে দাদা শ্বশুর বাড়ি থেকে আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় আয়েশার কাছ থেকে একটি চুরি করা ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, কাজে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় দিন সে ২ হাজার টাকা চুরি করে। তৃতীয় দিন টাকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের সময় গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। চতুর্থ দিনে সুইচ গিয়ার চাকু লুকিয়ে বাসায় আসে আয়েশা। টাকা চুরির বিষয়টি নিয়ে সেদিনও তর্কাতর্কি হয় গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে। লায়লা আফরোজ বিষয়টি ফোনে তার স্বামীকে জানাতে চেষ্টা করলে পেছন থেকে ছুরি মারে আয়েশা। এ সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে লায়লা আফরোজকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সে। মায়ের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে ওঠা নাফিসা এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে আয়েশা। নাফিসা ইন্টারকমে গার্ডকে ফোন দিতে চাইলে আয়েশা ইন্টারকমের তার ছিঁড়ে ফেলে। আয়েশার ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুজনেরই মৃত্যু হয়। ঘটনার পর নিজের রক্তমাখা কাপড় বদল করে আয়েশা। এরপর নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ব্যাকপ্যাকে নেয় ল্যাপটপ ও ফোন। ঢাকা ছাড়ার সময় সিংগাইর ব্রিজ থেকে ফোন ও পোশাকভর্তি ব্যাগ নদীতে ফেলে দেয় সে।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল বলেন, আয়েশার আগে থেকেই চুরির স্বভাব রয়েছে। এমনকি নিজের বোনের বাড়ি থেকেও ২ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করেছিল সে। এর আগে হুমায়ুন রোডে চুরির ঘটনায় থানা পুলিশ তাকে আটক করেছিল। আয়েশার গলার পোড়া রহস্য নিয়ে তিনি বলেন, গলা পোড়া নিয়ে আমরা দুই ধরনের তথ্য পেয়েছি। একবার সে নিজের মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করে নিজের গায়ে আগুন দিয়েছিলÑ তাতে ওই দাগ তৈরি হয়। আরেকটি বিষয় জানা গেছে, অন্য এক বাড়িতে কাজ করার সময় চুলার আগুনে তার গলা পুড়ে যায়।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আপনারা যারা বাসায় গৃহকর্মী রাখেন তারা তাদের পরিচয় নিশ্চিত হবেন। আপনার বাসায় কাজ করা ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও তাকে শনাক্তকারী ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে রাখবেন। কারণ আপনি বাসার গৃহকর্মীর বানানো খাবার খান, আপনার বেড রুমে গৃহকর্মী প্রবেশ করে। এখানে আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় জড়িত।

জোট করলেও ভোট হবে নিজ প্রতীকে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধানের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে জোট করলেও সব দলকে নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম।

এর আগে গত ২৬ নভেম্বর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান চ্যালেঞ্জ করে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকেÑ এমন বিধান যুক্ত করে

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাতিল চাওয়া হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএমের মহাসচিব মোমিনুল ইসলাম এ রিট দায়ের করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর নির্বাচনে নিবন্ধিত একাধিক দল জোটভুক্ত হলেও ভোট করতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীকেÑ এমন বিধান যুক্ত করে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। আগে কোনো দল জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে তারা জোটের শরিক যে কোনো দলের প্রতীক নেওয়ার সুযোগ পেত। কিন্তু সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী সে সুযোগ আর থাকছে না।

অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি মির্জা ফখরুলের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা নিন্দা ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো জায়গা নেই। কোনো সময়ই না। আমাদের মতাদর্শ যাই হোক, যে কেউ ভয়ভীতি বা শক্তির আশ্রয় নিলে তাকে একসঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

তিনি আরও লেখেন, এ মুহূর্তে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বলা হচ্ছে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমি আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাস দমনে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নেবে।

হাদিকে নেওয়া হচ্ছে এভারকেয়ার হাসপাতালে

পরিবারের সিদ্ধান্তে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ারে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঢামেক পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তার মাথায় বুলেটের আঘাত আছে। বুকে ও পায়েও আঘাত আছে। ধারণা করা হচ্ছে পায়ের আঘাতটা রিকশা থেকে পড়ে গিয়ে হতে পারে। আমরা ঢাকা মেডিকেলে একটা প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করেছি। এখন তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারের সম্মতিতেই তাকে এভারকেয়ারে নেওয়া হচ্ছে। পরিবার প্রথমদিকে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এভারকেয়ারে নেওয়ার কথা বলেছে। আমরা তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা প্রস্তুত রয়েছে। এখনই তাকে সেখানে নেওয়ার ব্যবস্থা করছি।’

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রাচারণা চালানোর সময় হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মোটর সাইকেলে দুইজন ব্যক্তি তাকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘শুক্রবার দুপুর আড়াইটার পর পরই গুলিবিদ্ধ হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন তিনি।’

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাকে গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। জুমার নামাজের আগে বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে ফেসবুকে ওসমান হাদি লেখেন, ‘যেহেতু ঢাকা-৮ এ আমার পোস্টার-ফেস্টুন কিছুই নাই, তাই আমার এখন ছেঁড়া-ছিঁড়িরও চাপ নাই। দুদকের সামনে থেইকা জুম্মা মোবারক।’

গত নভেম্বর মাসে দেশি-বিদেশি ৩০টি নম্বর থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন ওসমান হাদী। ১৪ নভেম্বর এক ফেসবুকে পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, তাকে হত্যা, তার বাড়িতে আগুনসহ তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে ভোটে লড়বেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। আসনটি রাজধানীর মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর নিয়ে গঠিত।

রাখাইনে হাসপাতালে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ৩১

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের বিমান বাহিনী। এতে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী, সাহায্য কর্মী এবং ইউএলএ-র সশস্ত্র শাখা আরাকান আর্মি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ডয়েচ ভেলেকে এ তথ্য জানায়।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) গভীর রাতে একটি সামরিক বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমা হামলায় হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) আরাকান আর্মির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যটি নিয়ন্ত্রণ করে, তবে এখনও কিছু অংশে সামরিক জান্তার সঙ্গে লড়াই করছে।

আরাকান আর্মি ডয়েচ ভেলেকে জানায়, ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে ম্রাউক-ইউ-এর সরকারি হাসপাতালে সন্ত্রাসী মায়ানমার জান্তা সরকার বিমান হামলা চালিয়েছে। নেপিদোতে ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে মানব জীবনের কোনও তোয়াক্কা না করেই নিজের নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যা করছে, তার আরেকটি উদাহরণ।

জাতিগত সংখ্যালঘু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন রোগী ছিলেন। প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন।

টেলিগ্রামে একটি পোস্টে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি বলেছে, ‘সন্ত্রাসী সামরিক কাউন্সিলের বিমান বাহিনী একটি জেট ফাইটার ব্যবহার করে দুটি বোমা ফেলেছে।’

সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অং বলেন, ‘হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ মাটিতে পড়ে আছে। বাকি রোগীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’

সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অং বলেন, ‘হাসপাতালটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং নিহতদের মৃতদেহ মাটিতে পড়ে আছে। তিনি ঘটনাস্থলের যাচাই না করা ছবি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে শেয়ার করেছেন। বাকি রোগীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’

এদিকে সেনাবাহিনীর নির্ধারিত নির্বাচনের তারিখ হলো ২৮ ডিসেম্বর। এর কয়েক সপ্তাহ আগে এই হামলাটি ঘটল। জান্তা এখন প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলির কাছে হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করছে, অন্যদিকে বিদ্রোহীরা তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জানা যায়, ২০২১ সালে অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে জান্তা উৎখাত করার অনেক আগে থেকেই আরাকান আর্মি মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। পরবর্তী গৃহযুদ্ধের সময়, আরাকান আর্মি সামরিক জান্তার বিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মিয়ানমারে জান্তার একমাত্র বিমান বাহিনী রয়েছে, যা তারা বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমানভাবে ব্যবহার করছে।

আরমড কনফ্লিক্ট লোকেশন ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট অনুসারে, এই বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে জান্তা ২,১৬৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা গত বছরের ১,৭১৬টি বিমান হামলার চেয়ে বেশি।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর গঠিত বেশ কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরাকান আর্মির মতো জাতিগত সেনাবাহিনীর সাথে একত্রিত হয়েছে।

আরাকান আর্মি ২০২৩ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি থেকে জান্তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে, তার মুখপাত্র জানিয়েছেন।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

টানা ব্যর্থতার খড়গে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮ ধাপ অবনমন হয়ে ১১২তম স্থানে নেমে গেছে মেয়েদের জাতীয় দল।

গত চার মাসে চারটি ম্যাচ খেললেও একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। অক্টোবরে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই প্রীতি ম্যাচে ৩-০ ও ৫-১ ব্যবধানে হারের পর নভেম্বর-ডিসেম্বরে তিন জাতির টুর্নামেন্টেও ধারাবাহিক ব্যর্থতা-মালয়েশিয়ার কাছে ১-০ এবং আজারবাইজানের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়। চার ম্যাচে মোট ১১ গোল হজমের বিপরীতে গোল করতে পেরেছে মাত্র দুইটি-যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে র‍্যাঙ্কিংয়ে।

গত আগস্টে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে বেশি (+৮০.৫১) পয়েন্ট অর্জন করে দারুণ এগিয়েছিল বাংলাদেশ। তখন রেটিং পয়েন্ট ছিল ১১৭৯.৮৭৩। তবে নতুন তালিকায় কমে গেছে ১২.২৬ পয়েন্ট; বর্তমানে রেটিং ১১৬৭.৬১১।

নারী ফুটবলের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে স্পেন, দুইয়ে যুক্তরাষ্ট্র। এশিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে জাপান, অবস্থান ৮ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ দল ভারত (৬৭), আর নেপালও (৮৯) রয়েছে বাংলাদেশের ওপরে।

এক মামলাতেই মিলবে জমির ভোগদখল, আর লাগবে না সাক্ষী হাজিরা বা সমনের ঝামেলা

বাংলাদেশের শতবর্ষের পুরনো জমি-সংক্রান্ত বিচার ব্যবস্থায় এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে জমি মালিকদের বেদখল বা জবরদখল নিয়ে যে সমস্যা চলছিল, তা দূর করতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এখন দেশের আদালতগুলোতে জমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি হবে।

মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • সাক্ষ্য গ্রহণে সহজ পদ্ধতি:
    সাক্ষীদের আর সরাসরি আদালতে হাজির হতে হবে না। তারা লিখিত অ্যাফিডেভিট জমা দিতে পারবেন। প্রয়োজন হলে আদালতের নির্দেশে সাক্ষীদের জেরা করা হবে।

  • সমন পাঠানো ডিজিটালি:
    এখন সমন মোবাইল এসএমএস, ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো যাবে। গ্রহণের নিশ্চয়তা থাকায় সময় ও ঝামেলা কমবে।

  • মামলার সময় হ্রাস:
    দুই থেকে চারবার সময় চাওয়া হলেও, এরপর দ্রুত শুনানি ও রায় দেওয়া হবে।

  • এক মামলাতেই জমির ভোগদখল নিশ্চিত:
    আলাদা ‘ডিক্রিজারি’ মামলা করার প্রয়োজন নেই। রায়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে জমি মালিকের হাতে ফেরানো হবে।

  • ভুয়া দলিলের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি:
    জাল দলিল বা প্রমাণ আদালতে জমা দিলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবী এবং সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, এই সংস্কার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে। এর ফলে জমি মালিকদের হয়রানি ও আর্থিক চাপ কমবে। আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জমি-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং একক রায়ের মাধ্যমে ভোগদখল নিশ্চিত হবে।

জমি মালিকদের অবশ্যই বৈধ দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং ভোগদখলের প্রমাণসহ মামলা করতে হবে। ফলে যারা বেদখল জমি নিয়ে দীর্ঘদিন সমস্যায় ছিলেন, তারা সহজেই ন্যায়বিচার পেয়ে জমির ভোগদখল ফিরে পাবেন।

লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তি নতুন অধ্যায়ের সূচনা : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জ্ঞান ও উদ্ভাবনের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর ‘বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব)-এর ৭০ বছর পূর্তি’ উদযাপন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, তথ্য সংগঠন, জ্ঞান সংরক্ষণ, তথ্য পুনরুদ্ধার এবং ব্যবহার-সকল ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রযুক্তির সঠিক এবং ইতিবাচক প্রয়োগ লাইব্রেরিগুলোকে আরও আধুনিক, দক্ষ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তুলতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব)-এর ৭০ বছর পূর্তি উদ্যাপন উপলক্ষে ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর ‘ল্যাব ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন রিইমাজিনিং লাইব্রেরিয়ানশীপ : ফরজিং দ্য ফিউচার উইথ অল টেকনোলজিস’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে জেনে আমি আনন্দিত।’

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি (ল্যাব) একটি প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের লাইব্রেরি পেশাজীবীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করছে।

ল্যাব গত সাত দশক ধরে দেশের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান পেশার উন্নয়নে যে নিরলস ভূমিকা পালন করছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তথ্যসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে এই সম্মেলন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ গ্রন্থাগার সমিতি আয়োজিত সম্মেলনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় যা জানাল জামায়াত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তপশিল ঘোষণা করেছেন। তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে এ তপশিল ঘোষণা করেন তিনি।এর পরে তপশিলকে স্বাগত জানিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহাসন জুবায়ের বলেছেন, ‘সব রাজনৈতিক দলকে সমান সুযোগ প্রদান করা ইসির দায়িত্ব।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে একসাথে কাজ করবে ইডটকো ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে গতি আনতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (বিডিআরসিএস) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইডটকো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদর দপ্তরে সম্প্রতি ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (সিএমডি) সুনীল আইজ্যাক এবং বিডিআরসিএস-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল ইসলামের উপস্থিতিতে এ বিষয়ক সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং সংকটকালীন মুহূর্তে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সেবা দ্রুত চালু করতে একসঙ্গে কাজ করবে প্রতিষ্ঠান দুটি। দুর্যোগের সময় দ্রুত, নিরাপদ ও আরও সমন্বিত প্রস্তুতি প্রদানের লক্ষ্যেই যৌথ এই উদ্যোগ।

চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে টেকসই সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে ইডটকো ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সৌর বিদ্যুৎ চালিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয় সহায়তা এবং সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালাবে প্রতিষ্ঠান দুটি। সংকটকালীন মুহূর্তে মানবিক সহায়তা ও জনগণকে সংগঠিত করার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সচল রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা দিবে ইডটকো।

এছাড়া, জাতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে যৌথ মহড়া, স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করবে উভয় পক্ষ যা আরও সমন্বিত ও সুসংহত জরুরি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা তৈরিতে সহায়ক হবে।

ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল আইজ্যাক বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমাদের যে অভিন্ন লক্ষ্য, এই অংশীদারিত্ব তারই প্রতিফলন। ইডটকোর আছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা। অন্যদিকে রেড ক্রিসেন্টের রয়েছে মানবিক সহায়তা প্রদানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এই দুইয়ের সমন্বয়ে অধিক দুর্যোগ কবলিত অঞ্চল গুলোতে আমরা আগাম সতর্কবার্তা, নিরাপদে সরে যাওয়া, এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরে আনতে পারবো। সৌর বিদ্যুৎ চালিত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয় সহায়তা এবং সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সেইসব এলাকায় টেকসই সক্ষমতা গড়তে চাই, যেখানে জলবায়ু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একসঙ্গে আমরা আরও প্রস্তুত, নিরাপদ ও সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।”