Home Blog Page 24

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ মেসি রূপকথার করুণ সমাপ্তি, খলনায়ক আর্জেন্টিনা

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের শেষ আলোটুকু ছড়াতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেবেন- এমন প্রত্যাশা ছিল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। কিন্তু নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের পশ্চিম গ্যালারির পেছনে সূর্য যখন হেলে পড়ছিল, তখন ক্রমশই স্পষ্ট হতে থাকে, টুর্নামেন্টজুড়ে মেসির পায়ে যে জাদু ছিল, সেটি হঠাৎ উধাও। স্পেন ধীরে ধীরে যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছিল, তখন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা যেন সমস্ত আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।

টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে যে আর্জেন্টিনা বা যে মেসিকে আমরা দেখেছি, ফাইনালের ম্যাচে সেই দলটির চেহারা সম্পূর্ণ বিপরীত। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দল ছিল এই আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে কীভাবে ধূলিসাৎ করা যায়, সেটি তাদের জানা। তার চেয়ে বড় কথা, গোল করার সঠিক সময় নিখুঁতভাবে নির্বাচন করতে তারা সিদ্ধহস্ত। সে অভিজ্ঞতা দিয়েই দুটি ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হেরে যাওয়ার মুখ থেকে ফিরে তারা ট্রফি জয়ের দৌড়ে নিজেদের শক্তিশালী করে তোলে।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচগুলো বরাবরই নীরস হয়। তবে সেই মানদণ্ডেও এবারের ফাইনালের গতি ও ধরণ হতাশাজনক। প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে। তবে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায়, যা ছিল একেবারেই প্রত্যাশিত।

কিন্তু আর্জেন্টিনা? বিশ্বকাপের প্রায় শতবছরের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি শটও তারা নিতে পারেনি! এমনকি অতিরিক্ত ৩০ মিনিট পাওয়ার পরও তারা স্পেনের জন্য সামান্যতম হুমকিও তৈরি করতে পারেনি।

আর লিওনেল মেসি? এই ফাইনালের আগ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলকে দারুণ কিছু দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই সেটি তার স্বাভাবিক ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ। আর, ৩৯ বছর বয়সে এসে মেসির অর্জনের খাতা এতটাই পরিপূর্ণ যে- ব্যক্তিগত, ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে তার অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কারও নেই। রোববার রাতের পরাজয় তার সেই ক্যারিয়ারে সামান্য আঁচড়ও কাটবে না, সেটি ঠিক। তবে ম্যাচটি জিতলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো- সেটি নির্দ্বিধায় বলা যায়।

দিনশেষে এ সত্যটাও স্বীকার করতে হবে, গোটা টুর্নামেন্টে যে মেসি একাই দলকে টেনেছেন, ফাইনালের পুরো ম্যাচে তার উপস্থিতি একেবারে নগন্য। এর বড় কারণ অবশ্যই স্প্যানিশ রক্ষণভাগের মাস্টারক্লাস পারফরম্যান্স। তবে কেবল রক্ষণ দিয়ে তো আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে আটকে রাখা সবসময় সম্ভব নয়। তাই সবদিক থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিষ্কার টেক্কা দিয়েছে স্পেন, মেসিকেও নিষ্ক্রিয় করে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

%E0%A7%AA 1784549528

মাঠে মেসির কাছে সময় বরাবরই একটি আপেক্ষিক বিষয়। কারণ প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানাতে তিনি নিজের মতো করে সময়ের গতি যখন-তখন আটকে দিতে পারেন। এই বয়সে এসেও তিনি সময়ের দেয়াল ভেঙে দর্শকদের নিয়ে গেছেন বার্সেলোনায় কাটানো সেই সোনালি দিনগুলোতে। অনেকে মনে করেন, সময় মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি, বরং তিনি সময়ের পাশাপাশি হেঁটেছেন। কখনও হয়তো দু-এক কদম পিছিয়ে পড়েছেন, কিন্তু আবার তা পুনরুদ্ধার করেছেন।

কিন্তু ফাইনাল ম্যাচটি আমাদের একটি বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মেসি অধ্যায়ের কী সমাপ্তি ঘটল? তাকে নিয়ে এমন সংশয়ের কথা বলা হয়েছিল ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতানোর পর, আবার ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর মেসি যখন ক্ষোভে জাতীয় দল থেকে সাময়িক অবসর নেন, সেই সময়ও।

তখনকার দিনে আলোচনা হতো, বার্সেলোনার হয়ে মেসি যেভাবে খেলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে ঠিক সেভাবে খেলতে পারবেন না। এমনকি জীবনের বড় একটি অংশ স্পেনে কাটানোর কারণে তিনি ‘যথেষ্ট আর্জেন্টাইন’ নন বলেও গুঞ্জন ছিল। ঠিক ১০ বছর পর, সেই বিতর্ককে কেবল কৌতুকই মনে হয়েছে।

আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেশের মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। কেননা তাদের প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। ফাইনাল ম্যাচের আগে অবশ্য প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি, এমনকি মেসি নিজেও দীর্ঘ আলাপে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে যতটা অর্জন করেছেন তাতেই তৃপ্ত। দুজনের কথার সুর এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল, ফাইনালের ফলাফল তাদের সাফল্যগাথাকে কোনোভাবেই ম্লান করতে পারবে না। তবে সেটি ছিল মাঠে নামার আগের কথা।

মেসির মতোই স্কালোনির গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ার এই ফাইনালের আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এবং টানা দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি উপহার দেওয়া কোচ তিনি। তবু এই ফাইনাল ছিল তার সেই সাম্রাজ্যকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ। দুটি সত্য এখানে পাশাপাশি- স্কালোনি নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচ, একই সঙ্গে এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে কৌশল ও ফলাফল।

সবকিছুর ঊর্ধ্বে এখন যা স্পষ্ট, তা হলো- গভীর এক হতাশা। আর্জেন্টিনা ও মেসির রূপকথাকে নিখুঁত সমাপ্তি দিতে না পারার কষ্ট। সোনালি সুযোগ কাজে লাগানো তো দূরের কথা, মাঠের পারফরম্যান্সে অযাচিতভাবেই তারা পুরো গল্পের খলনায়ক।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

দেশে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, শুধু চিকিৎসাসেবা বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু-জ্বর সচেতনতামূলক সাইন্টিফিক সেমিনার’-এ এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, দেশে ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এনডিএফের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি গুজব ও অপচিকিৎসা থেকে বিরত থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল)। তিনি ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, এডিস মশার জীবনচক্র, রোগের লক্ষণ, সতর্ক সংকেত, রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জটিলতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা নিতে দেরি করা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নেন বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহবুব ইসলাম মজুমদার এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ সাঈদ খান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি দেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি জনগণের পাশে থেকে চিকিৎসকদের সেবামূলক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার অন্য সহযোগীদের বিচার তখন সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, একই রায়ে তার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেটি জেনারেল কোর্ট মার্শাল দেখবে।’

তার বিরুদ্ধে সিভিল আইনে কোন মামলা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল আইনে তাকে অন্তর্ভুক্ত করাটা কতটা আইনসম্মত হবে, পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যাবে। এখন নয়। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে দুইবার বিচার করা যায় না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে (৭৭) ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ও সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ল্যান্ড মাইন খুজে বের করার জন্য আমরা কিছু যন্ত্রপাতি বিজিবিকে সরবরাহ করেছি। সেগুলো দিয়ে বিজিবি কাজ করছে, যাতে ল্যান্ড মাইন দুর্ঘটনা আর না হয়। আর কাঁটা তারের বেড়া বিষয়টি হল– বিভিন্ন কারণে মায়ানমারের সীমান্তটা আমাদের জন্য এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। এটার সঙ্গে অন্য দেশের সীমান্তে কাঁটা তারের বিষয়টা একটু ভিন্ন। আমরা মিয়ানমার সীমান্তে দেখেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সবসময় একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার মধ্যে আমরা সেন্ডুইস হচ্ছি অনেকটা। তার মধ্যে আরো কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ আছে, আরসা, আরএসও সহ বিভিন্ন সংগঠন আছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয়, যার প্রভাবটা আমাদের এখানেও আসে। যার কারণে মাদক চোরাচালান, অস্থীতিশীল অবস্থা এবং অনেক সময় গোলাগুলির কারণে সীমান্তে আমাদের নাগরিকরাও মৃত্যুবরণ করেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তাব আছে সেসব সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের জন্য।

তিনি বলেন, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে এখানে পুশইন হতে দেইনি। বিজিবি ও জনগণের সহায়তায় আমরা সফলভাবে এখনো পর্যন্ত সেটা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছিল, তার সংখ্যা বেশি নয়। সেটা আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেই নাই। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে তারা হয়তো করতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা কথা বলবো কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। আমরা বলেছি যদি সেখানে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক থাকে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করবো, যদি সত্যতা পাওয়া যায় আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা ফেরত নিয়ে আসবো। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় আমরা কাউকে অনুমোদ করবো না।

স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

ফুটবল বিশ্বের সব অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। শিরোপার মহারণ শুরুর আগে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন, কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি?

এই প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজতে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টা সুপার কম্পিউটার প্রকাশ করেছে নিজেদের পূর্বাভাস। তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে স্পেন।

অপ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৪৫.১ শতাংশ। বিপরীতে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ২৯.৪ শতাংশ। এছাড়া ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কিংবা টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা ২৫.৪ শতাংশ।

অর্থাৎ, কাগজে-কলমে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার সম্ভাবনাও যথেষ্ট। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে ইতিহাস বলছে, দুই দলের লড়াইয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মুখোমুখি হয়েছে ১৪ বার। এর মধ্যে ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে দুই দল, আর ২টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। মুখোমুখি লড়াইয়ের এই ভারসাম্যই ফাইনালের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সব সময় শেষ কথা বলে না। টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা বারবার প্রতিকূল অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন খেলেছে ধারাবাহিক, আক্রমণাত্মক ও ছন্দময় ফুটবল। তাই সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস স্পেনের পক্ষে থাকলেও, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজনে ১২০ মিনিটের লড়াই। প্রয়োজনে টাইব্রেকারের নাটকীয়তাও হতে পারে এই মহারণের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন

আজ রোববার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর পর্দা নামছে।   ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আর্জেন্টিনার ভক্তরা ব্যতিক্রমী আয়োজনে মেতে উঠেছেন। ম্যাচটি রাঙিয়ে তুলতে কোটালীপাড়ার কুশলা ইউনিয়নের পবনাপাড় গ্রামে গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যরা।

পবনাপাড় গ্রামের কেএম চাঁদ মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে আজ সকাল থেকেই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। শত শত সমর্থক একজোট হয়ে প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন। এই ক্লাব চত্বরে খেলা উপভোগের জন্য ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বড় একটি স্বাস্থ্যবান গরু কিনে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে কোটালীপাড়া উপজেলার ৩ শতাধিক স্পটে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠী পৃথক পৃথক ভূরিভোজের আয়োজন করেছে। বিভিন্ন গ্রামের ক্লাবে ক্লাবে ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য বড় বড় ডিজিটাল পর্দা (প্রজেক্টর) স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন ছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে চলছে উপাদেয় খাবারের নানা আয়োজন।

আর্জেন্টিনার ভক্ত বরকতউল্লাহ বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠী গত ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা উপলক্ষেও এমন বড় ভূরিভোজের আয়োজন করেছিলাম। সেই ধারা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এবারও প্রিয় দলের ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে আমরা ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। আমরা যারা আর্জেন্টিনার সমর্থক আছি তারা তো বটেই, তা ছাড়া এলাকার এতিম ও অসহায় মানুষের জন্যও আজ রাতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছি।

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও আর্জেন্টিনার সমর্থক মান্নান শেখ বলেন, আমরা আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা উপভোগ উপলক্ষে কান্দি ইউনিয়নের আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা মিলে মোট ১২টি স্থানে প্রায় ৮ হাজার লোকের দুপুরের ও রাতের খাবারের আয়োজন করেছি। আমরা সবাই মিলে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করব। এখানে দূর-দূরান্ত থেকে যারা খেলা দেখতে আসবে, তাদের সবার জন্যই আপ্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আদালতে বাবার জবানবন্দি শাসন করতে গিয়ে লাঠির আঘাতে মেয়ের মৃত্যু, ভয়ে লাশ গুমের চেষ্টা

মা-মেয়ের ঝগড়া চলছিল। মায়ের ওপর মেয়েকে চড়াও হতে দেখে কাঠের লাঠি দিয়ে মেয়েকে আঘাত করেন বাবা। মেয়ে নড়াচড়া করায় সেই আঘাত মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আরফানা হোসেন নির্জনা। কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। আতংকে মেয়ের লাশ বস্তায় ভরে গুমের চেষ্টা করেন স্বামী-স্ত্রী।

আজ রোববার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ এ তথ্য জানান। খুলনা মহানগর হাকিম-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গত শনিবার দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা বাজারের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এর আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

গত ৮ জুলাই রাতে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নির্জনার পরিচয় শনাক্ত হয়। নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।

খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (সদর) শফিকুল ইসলাম জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে, ডিভোর্স এবং প্রায়ই পরিবারের অমতে বাড়ির বাইরে অবস্থান করায় মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তার বাবা। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসায় এসব বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাসন করতে গিয়ে অসাবধানতার বশে লাঠির আঘাতে নির্জনা নিহত হন। ভয়ে এবং আতংকে স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশটি গুমের চেষ্টা করেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা আকাশ অনুতপ্ত। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি কান্নাকাটি করছেন। একপর্যায়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। মামলার দুই আসামির দু’জনে গ্রেপ্তার ও দায় স্বীকার করায় দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।

ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১০০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব বাস কেনা এবং এর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইকুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ সচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বিআরটিসির পক্ষ থেকে এই ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলে সরকারের ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় অর্থ বিভাগ সরাসরি অনুদান না দিয়ে একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল। অর্থ বিভাগের যুক্তি ছিল, ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

বিআরটিসি পুনরায় অনুদানের দাবি জানিয়ে যুক্তি দিয়েছে যে বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য সম্ভব নয়। জনস্বার্থে পরিচালিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধের চাপ প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি ‘অনুদান’ বা ‘ইকুইটি’ হিসেবে দেওয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে বিটিআরসি।

চিঠিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সমন্বিত, দক্ষ ও ‘সবুজ পরিবহন করিডোর’ নির্মাণের লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন এখন সময়ের দাবি। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ইলেকট্রিক বাস আমদানিসহ আনুষঙ্গিক খাতের সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা ১০০টি বাসের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা হিসেবে মোট ২৪০ কোটি টাকা। বাসের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি স্টেশন নির্মাণে খরচ হবে দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া যন্ত্রাংশের জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার জন্য ২০ কোটি টাকা, বাসের পরিবহন ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের জন্য ২৫ কোটি টাকা এবং বিআরটিসির ডিপোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বিআরটিসি জানিয়েছে,  বৈদ্যুতিক বাসগুলো মূলত ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে চলাচল করবে। ঢাকার তীব্র বায়ুদূষণ রোধে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিআরটিসির দাবি, প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার ব্যয় প্রচলিত ডিজেল বা সিএনজিচালিত বাসের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় সাশ্রয় নিশ্চিত করবে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের মান আরও উন্নত হবে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান এবং ক্রয় আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করেই বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সারাবিশ্বেই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার ভর্তুকি বা অনুদান দিয়ে পরিচালনা করে থাকে। কারণ এখানে সরাসরি বাণিজ্যিক মুনাফার চেয়ে সামাজিক কল্যাণ বেশি জড়িত।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক বলেন, অনুদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন জনগণের করের টাকার কোনো অপচয় না হয়। বাস কেনা থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিসিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে যে কোনো নতুন উদ্যোগ বা বাস কিনতে তাদের বারবার সরকারের কাছে অনুদান না নিতে হয়।

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ রোরবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর পূর্ববর্তী ফেইজসমূহে যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, ‘স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর তৃতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইসিতে হিসাব জমা এবারও ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি বিএনপির

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।

রোববার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই হিসাব জমা দেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সহ-দপ্ত‌র সম্পাদক মনির হোসেন।

তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন।

বিএনপির আয়ের হিসাব অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দলটির আয় ও ব্যয় উভয়ই বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির মোট আয় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। একই সময়ে দলটির ব্যয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে বিএনপির আয় হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পরপর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।

সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখায়।

শিশুর কান্না নিয়ে ‘মজা’, নির্যাতনের ভিডিও নিজেই পোস্ট করলেন শিক্ষক

মাদ্রাসায় পড়তে আসা একটি শিশুকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এক শিক্ষক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’

ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ইমরান হোসেন নামের এক সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক পরে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। সমালোচনার মুখে ইমরান হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, শিশুটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে নিজের আচরণ ভুল ছিল বলে স্বীকার করে তিনি ক্ষমা চান।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ ছিল।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক সংগঠন আলফা স্টারের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মানবাধিকারকর্মী জাকির মাহমুদ জুয়েল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ শিশুর মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।