Home Blog Page 25

হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ও আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকায় এবং একজন সিলেট বিভাগে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট মৃত ৭৮৮ জনের মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ শিশু। বাকি ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৩০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেটে ৯৮, রাজশাহীতে ৮৯, ময়মনসিংহে ৬৬, চট্টগ্রামে ৫৫, বরিশালে ৪৩, খুলনায় ৩১ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৬ হাজার ৫২১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮। এ সময় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩১ জনের শরীরে।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শরীরে বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে স্বামীকে হত্যায় বিষধর সাপ ব্যবহার করার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং তাদের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

নিহত অতুল পানওয়ার স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে হস্তিনাপুরে একটি শিশু বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়।

পুলিশের দাবি, বিদ্যালয়ের চালক তুষার ওরফে নিক্কির সঙ্গে দামিনীর সম্পর্ক ছিল। প্রথমে তারা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অতুলকে হত্যার চেষ্টা করেন। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে নতুন কৌশল নেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে দামিনী স্বামীর দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। অতুল অচেতন হয়ে পড়লে তার বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রথমে ঘটনাটি স্বাভাবিক সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও পরে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে কথিত হত্যার ষড়যন্ত্রের সূত্র পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি উদ্দেশ্য ছিল-২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ দাবি করা এবং পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। এ ঘটনায় দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, তুষারও বিবাহিত। অভিযোগ, তিনি নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শনিবার রাতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েতে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে শুক্রবার মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে থাকা উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি আকাশীয় হামলা প্রতিহত করেছে।

গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যকর করেছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে গত জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

রোববার আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় দুটি জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন এবং ‘অনিরাপদ নৌপথ’ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোও একই ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

এদিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর খালি করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, টানা অষ্টম রাতের মতো পরিচালিত এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী আইআরজিসি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জর্ডানে নিহত দুই সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

এই সংঘাতে নিখোঁজ থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও হলের দেয়ালে স্থাপন করা অধিকাংশ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের মেয়াদ আট মাস আগে শেষ হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নতুন সিলিন্ডার রাখার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এর ফলে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি কক্ষেই ইলেকট্রিক চুলায় রান্নার সুবিধা আছে। এই চুলা থেকে যে কোনো দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার। আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হলেও এ বিষয়ে উদাসীন প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিটি আবাসিক হলে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার স্থাপন করে প্রশাসন। এক বছর মেয়াদি এই সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ ছিল গত বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রায় আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া সিলিন্ডারগুলো পুনঃস্থাপনের জন্য এখনও সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার আছে ছয়টি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে আটটি, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবন ও মমতাজ উদ্দীন একাডেমিক ভবনে আছে সাতটি করে। এ ছাড়া হলগুলোতে প্রতিটি ব্লকের আলাদা আলাদা তলায় একটি করে সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ আমীর আলী হল, শাহ মখদুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল ও শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হল। ওই চারটি একাডেমিক ভবনের মোট ২৫টি অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের  মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিটি সিলিন্ডার ‘বেঙ্গল ফায়ার টেকনোলজি’ সরবরাহ করেছে।
শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দুলাল সরকার বলেন, আমাদের হলের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের  মেয়াদ শেষ। আমাদের ব্লকের সিলিন্ডারটি একদিন চেক করার জন্য আমরা লক খুলে পুশ করি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় কোনো গ্যাস বের হয়নি।

উদ্বেগ প্রকাশ করে সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, আমাদের ১৭টি হলে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের প্রত্যেকের কক্ষের সামনে চুলার ব্যবস্থা আছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলো প্রাথমিকভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু সব জায়গার সিলিন্ডারেরই মেয়াদ শেষ।
প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পুশরাম চন্দ্র বলেন, এটা একটা শোপিসের মতো সাজানো রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ হুসাইন আল মাহদী সমকালকে বলেন,  অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে– এটি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুতই পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, হল ও একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা খুব শিগগিরই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে সিলিন্ডারগুলো রিফিলের ব্যবস্থা করব।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান মিলনের খোঁজ এখনও মেলেনি, বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট মারিয়াম মিলন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার আশুলিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন

সেই সময় মানসুরা মারিয়ামের বয়স ছিল ১১ মাস। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের গভীরতা বোঝার মতো বয়স হয়নি তার। মানসুরার বয়স এখন প্রায় তিন বছর। কথা বলতে শিখেছে, প্রশ্ন করতে শিখেছে। আশপাশের সমবয়সী শিশুরা যখন বাবার হাত ধরে হাঁটে, খেলাধুলা করে, আদর পায়, তখন অপলক তাকিয়ে থাকে মারিয়াম। বাবার আদরের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। বাবার স্নেহের আকাঙ্ক্ষায় ছুটে গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করে, ‘সবার বাবা আছে। আমার নেই কেন? ওদের বাবা আদর করে। কোলে নেয়। আমি বাবার কাছে যাবে।’

ছোট্ট মেয়ের এমন প্রশ্নে বাকরুদ্ধ হয়ে যান মা সুবিতা খাতুন। ডুকরে কাঁদেন। মেয়েকে কীভাবে বোঝাবেন, তার বাবা আর কখনও ফিরে আসবে না।
মারিয়ামের বাবা মনিরুজ্জামান মিলন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার পর নিখোঁজ হন। তাঁর মরদেহও মেলেনি।

মনিরুজ্জামান মিলন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঢাকার আশুলিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। মিলনের খোঁজে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল-মর্গসহ কত জায়গায় যে গেছেন, তবুও মেলেনি সন্ধান। পরিবার বলছে, জীবিত থাকলে অবশ্যই মিলন ফিরে আসতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরের পর আশুলিয়ায় জনতার আনন্দ মিছিলে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। আশুলিয়া ও সাভার এলাকায় সেদিন ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। অনেকেই নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়। ৪৬ লাশের মধ্যে আশুলিয়া থানার সামনে একটি পিকআপে ১১টি লাশে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ। মিলনের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছায়।

মরদেহ না পাওয়া এবং কবর দেখাতে না পারায় জুলাই শহীদের তালিকায়ও নাম ওঠেনি মিলনের। অবশ্য এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের তেমন আক্ষেপ নেই। মিলনের বড় ভাই কলেজশিক্ষক সামিউল ইসলাম মিল্টন সমকালকে জানান, সেই সময় জুলাই শহীদের তালিকায় মিলনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা মৃত্যুসনদ ও কবর কোথায় জানতে চেয়েছিলেন। মরদেহ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

সামিউল বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকেই আমাকে বলেছিল, জাল মৃত্যুসনদ বানিয়ে নিতে। রাজি হইনি। মিথ্যার আশ্রয় কেন নেব? আমার ভাইয়ের লাশই যখন পেলাম না, তখন এসব নিয়ে কী করব? লাশ না পাওয়ায় আশুলিয়া থানা মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নেয়নি।

ছেলের শোকে কাতর মেরিনা বেগম। প্রায়ই কান্নাকাটি করেন। গ্রামের বাড়িতেই থাকেন তিনি। সম্প্রতি মোবাইল ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমকাল। মিলনের প্রসঙ্গে কথা বলতেই কেঁদে ওঠেন। কান্না করতে করতে বলেন, ছেলের লাশটাও পেলাম না। আর পাব বলে মনেও হয় না। আমি কত হতভাগা, শেষবারের মতো ছেলের মুখটা দেখতে পেলাম না।
তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন মিছিলে যাওয়ার আগে ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। বলেছিলাম, যাসনে বাবা। শুনছি অনেক জায়গায় গোলাগুলি হচ্ছে। গুলিটুলি লাগবে। কথা বলতে বলতে ছেলে মিছিলে চলে যায়। পরে বিকেলে কল দিই আবার কথা বলার জন্য। আর কল ধরেনি।

জানা যায়, মিলনরা দুই ভাই ও এক বোন। বাবা প্রয়াত সুরুজ্জামাল ওরফে মজিরদ্দীন কৃষিকাজ করতেন। মিলন এইচএসসি পাস করার পর ঢাকার মিরপুরে গার্মেন্টস মেশিনারিজের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বগুড়ায় বিয়ে করেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তিনি আশুলিয়ার একটি ডাইং কারখানায় সিনিয়র মেকানিক পদে  কাজ করতেন। স্ত্রী ও একমাত্র শিশু মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। আন্দোলন চলাকালে ২৮ জুলাই মিলনের স্ত্রী মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। তখন মিলন বাসায় একাই থাকতেন। প্রায় প্রতিদিন আন্দোলনে অংশ নিতেন। আন্দোলনে যাওয়ার আগে স্ত্রী সুবিতা খাতুনকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে যেতেন।

৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আনন্দে মাতে মানুষ। আনন্দ মিছিল বের হয় সড়ক থেকে মহল্লা– সবখানে। আশুলিয়ায় আনন্দ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মিলন। ওই মিছিলে হামলা ও গুলি চালায় পুলিশ। এই খবর পেয়ে স্বজনরা মিলনের মোবাইল ফোনে কল দেন। তবে তারা সাড়া পাননি। একসময় ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
স্বজনদের দাবি, পুলিশ গুলি করে মিলনকে মারার পর লাশ গুম করে দিয়েছে।
মিলনের স্ত্রী সুবিতা গাজীপুরের টঙ্গীর একটি কলেজ থেকে এবার অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। মেয়ে মারিয়ামকে নিয়ে তিনি কখনও শ্বশুরবাড়ি, কখনও একই এলাকায় বাবার বাড়ি থাকেন। চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সুবিতা জানান, মারিয়াম এখন বুঝতে শিখেছে। প্রায়ই বাবার খোঁজ করে। যখন খুব কান্নাকাটি করে তখন মোবাইল ফোনে বাবার ছবি দেখানো হয় মারিয়ামকে। ছবিতে চুমু দেয় আর বাবা-বাবা বলে ডাকতে থাকে। তখন তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না।
সমকালের সঙ্গে কথা বলার সময় সুবিতার গলা ভারী হয়ে যায়। কান্না করতে করতে বলেন, আমি স্বামী হারিয়েছি আর আমার মেয়ে বাবাকে। ওর কষ্টটা বুঝি। কিন্তু কিছুই করার নেই। মেয়ে আমার চোখের মুছে দিয়ে জানতে চায়, আম্মু– কী হয়েছে?

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে আসায় অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বাণিজ্য বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দাবানলের ধোঁয়ায় উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের আকাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ুদূষণের জন্য কানাডাকে দায়ী করে দেশটি থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পরিস্থিতিকে কানাডা সরকারের বন ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বায়ুর মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমানে কানাডাজুড়ে ৮৯৬টি সক্রিয় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি আগুন অন্টারিও প্রদেশে জ্বলছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড জানিয়েছেন, এসবের মধ্যে ৮১টি দাবানল এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা তাদের বনাঞ্চল ও ঝোপঝাড় যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষ্য, এই অব্যবস্থাপনার কারণেই বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে এবং দেশটির নাগরিকরা অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত বাতাসে শ্বাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, এই বায়ুর মান অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি শিগগিরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্রাম্পের দাবি, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন। তবে সেই ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত শুল্ক যোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কানাডার প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্যনীতি এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে তিনি একাধিকবার কানাডার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন। এর আগে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তনের দাবিতে শুল্ক বৃদ্ধির হুমকি দেন তিনি। এমনকি একপর্যায়ে কানাডাকে সার্বভৌমত্ব ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন।

অনশনের ২০তম দিনে হাসপাতালে নেওয়া হলো সোনম ওয়াংচুককে

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনরত পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক বর্তমানে সচেতন রয়েছেন এবং তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল।

এদিকে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কিছু বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশ সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

শুক্রবার ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তাদের আশঙ্কা, অনশন অব্যাহত থাকলে তার বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক দিনে তার ওজন ৮ কেজির বেশি কমেছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

দুই দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন। তার অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

গত কয়েক দিনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে তার প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনশন ভাঙার আহ্বান জানান।

যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের আয়োজক অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে।

লাল-নীলে ভাগ হয়ে আছে নিউইয়র্ক

কানাডার গহন অরণ্য থেকে ধেয়ে আসা দাবানলের কালচে কুয়াশা আর ধোঁয়ার চাদরে আচ্ছন্ন নিউইয়র্কের আকাশ। যদিও এই আকাশ দেখে বিগ অ্যাপলকে চেনা অসম্ভব; এই মায়াবী শহরকে তার প্রকৃত স্বরূপে ছুঁতে তাকাতে হয় নির্ঘুম টাইমস স্কয়ারের সেই সুবিশাল, দেদীপ্যমান বিজ্ঞাপনী দেয়ালগুলোর দিকে। সেখানে এখন নিয়ন আলোর তীব্র ছটায় ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের এক আসন্ন মহাযুদ্ধের পটভূমি– একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মায়াবী আকাশি-নীল, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেনের উদ্ধত, তপ্ত লালের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। এখানকার লোকেরা বলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তীব্র ডামাডোলের লগ্নেই নাকি কেবল এমন আড়াআড়ি লাল আর নীলে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এই কসমোপলিটন নগরী। একদিকে রিপাবলিকানদের চেনা ‘লাল’, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল’। ব্যালট বাক্সের সেই চিরন্তন বিভাজনটাই যেন এবার নেমে আসছে ফুটবল মাঠে। নিউইয়র্কের ধমনিতে এখন বইছে স্প্যানিশ আর্মাডা বনাম মেসি-সাম্রাজ্যের এক অনন্য ফুটবলীয় ‘ইলেকশন ডে’।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্যালট বাক্সের লড়াইয়ে নিউইয়র্ক বরাবরই নীল দাপটের অটল দুর্গ। কিন্তু রাজনীতির সেই চেনা নীল স্রোতকে এবার ওলটপালট করে দিয়ে, স্প্যানিশ আর্মাডার রক্তাভ লাল আর লাতিন ফুটবলের চিরন্তন আকাশি-নীল রঙে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক দ্বৈরথে মেতেছে ঘুমহীন মহানগরী নিউইয়র্ক। সকার থেকে একটু একটু করে যেন ফুটবলের মায়ায় জড়িয়ে পড়েছে এই শহরটা। এক মাস আগের কথা। জেএফকে এয়ারপোর্টের এক কোণে ‘ফুটবলে একটা কিক মারো’ বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনের বুথটার সামনে যখন সুনসান নীরবতা, কাকপক্ষীও গলত না– গতকাল সেখানে রাজ্যের ভিড় ঠেলে ছেলে-বুড়ো সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে চামড়ার গোলকটায় লাথি মারার জন্য ব্যাকুল!

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনার আসল বিস্ফোরণটা অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছে শহরের পাব আর রেস্টুরেন্টগুলোতে। ম্যানহাটানের স্যালুন কিংবা কুইন্সের স্প্যানিশপাড়ার বারগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। একদিকে সানগ্রিয়ার গ্লাসে চুমুক দিয়ে স্প্যানিশ গিটারের দ্রুত লয়ে মেতে উঠেছে যুবসমাজ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার চেনা ড্রামের তালে ‘মুচাচোস’ গানের সুরে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। উবার চালক থেকে শুরু করে ক্যাফের ওয়েটার– সবার মুখেই এক অদ্ভুত উত্তেজনার চোরাস্রোত। বিগ অ্যাপলের ধমনিতে এখন আর কোনো আমেরিকান কেতাবি ভাব নেই, সেখানে এখন রাজত্ব করছে লাতিন আমেরিকার তীব্র আবেগ আর ইউরোপীয় ফুটবলের অহংকারী আভিজাত্য।

শহরের এই তুমুল উৎসবের আলো-আঁধারির মাঝেই ম্যানহাটানের রাস্তায় চোখে পড়ে কিছু বিষণ্ন, ছন্নছাড়া অবয়ব। তারা আর কেউ নন, সাতসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা একঝাঁক ইংলিশ সমর্থক। সেমিফাইনালের মহারণে থ্রি-লায়ন্সদের বুকভাঙা বিদায়ের পর থমকে গেছে তাদের সব স্বপ্ন। অথচ ফাইনালের টিকিটটা তারা পকেটস্থ করে রেখেছিলেন অনেক আগেই, বুক বেঁধেছিলেন ইউরোর অধরা ট্রফিটা এবার অন্তত ঘরে ফিরবেই। লন্ডনের পাব ছেড়ে নিউইয়র্কের রাস্তায় এখন তারা ঘুরছেন ঠিক যেন ‘বিবাহ আসর থেকে বর পালিয়ে যাওয়া’ কোনো হতভাগ্য নিমন্ত্রিতের মতো। লাখ টাকা খরচ করে কেনা সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের অমূল্য টিকিটগুলো এখন তাদের কাছে তপ্ত কয়লার মতো হাত পোড়াচ্ছে। না পারছেন ফেলে দিতে, না পারছেন সইতে। টাইমস স্কয়ারের কোনো স্পোর্টস বারের কোণে বসে মলিন মুখে বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো গতি নেই এই ব্রিটিশদের। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ‘মুচাচোস’ কিংবা স্প্যানিশ ফ্লামেনকোর সেই করতালির উৎসব যেন তাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বকাপ ফাইনালের আঁচ পড়েছে এখানকার মিডিয়াতেও।

নিউইয়র্কের নামি দৈনিকগুলোর ‘পেজ থ্রি’ এখন আর কেবল গ্ল্যামার দুনিয়ার খামখেয়ালিপনার গল্প বলছে না, সেখানে এখন রীতিমতো চাঁদের হাট বসার উপক্রম। জেএফকে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ম্যানহাটানের রুফটপ লাউঞ্জ– সবখানেই ফিসফাস, রোববারের ফাইনালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি বক্সে বসবেন কারা? হলিউডের তাবড় মহাতারকা টম ক্রুজ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও থেকে শুরু করে ব্র্যাড পিট আর ডেভিড বেকহামের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে গ্যালারিতে গ্ল্যামারের যে সুনামি বইবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে খবরের কাগজগুলো পাতার পর পাতা ভরিয়ে ফেলছে। এমনকি মাঠের সেই হাই-ভোল্টেজ ড্রামার আগে ৯০ মিনিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, শাকিরার মতো তারকারা, যা দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের আকাঙ্ক্ষার পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।

তবে শুধু সেলিব্রিটিদের ঝলকানিই নয়, ম্যানহাটানের টাইমস স্কয়ার থেকে ব্রুকলিনের স্পোর্টস বারগুলোর দেয়াল ঢেকে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর বেটিং সাইটগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপনে। কে হাসবে শেষ হাসি? বাজির দুনিয়ায় জুয়াড়িরা কিন্তু ইতোমধ্যেই নিজেদের পছন্দের ছক সাজিয়ে ফেলেছেন। বাজিকরদের খাতায় স্পেন এই মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে, ট্রফি ছোঁয়ার দৌড়ে তাদের সম্ভাবনা প্রায় ৫৮ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটের করপোরেট নিউইয়র্কের বুক চিরে এখন যেন এক আদিম জুয়ার উন্মাদনা খেলা করছে; প্রতিটি ডলারের চাল, প্রতিটি বিজ্ঞাপনের স্লোগান যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে– বিগ অ্যাপল এখন আক্ষরিক অর্থেই এক আন্তর্জাতিক ফুটবল যুদ্ধক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দু।

সেখানে জ্যাকসন হাইটস, ওজোন পার্ক কিংবা ব্রঙ্কসের বাঙালি পাড়াগুলোতে ফাইনালের হাওয়া বইছে প্রবলভাবেই। প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নিউইয়র্কের এই মিনি বাংলাদেশও এখন আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত। তবে এখানে স্পেনের ‘লাল’ রঙের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এক চিরন্তন আবেগের লড়াই– আর্জেন্টিনা বনাম ‘আর্জেন্টিনা ঠেকাও’ দল! চায়ের কাপে ঝড় তুলে একদল যখন লিওনেল মেসির শেষ নৃত্যের বন্দনায় মগ্ন, অন্যদল তখন কোমর বেঁধে নেমেছে কীভাবে লাতিন এই পরাশক্তিকে মাটিতে নামানো যায়, তার হিসাব কষতে। সব ক্লান্তি ভুলে মেতে উঠেছে সেই চিরন্তন ট্রল আর তর্কে; যেখানে মেসিবন্দনার উল্টো পিঠেই তৈরি হচ্ছে এক তীব্র, অলিখিত প্রতিরোধ। সব মিলিয়ে জমজমাট এক ফাইনালের জন্য তৈরি নিউইয়র্ক।

সাড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে সংস্থার একটি মিশন গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে অর্থনীতি নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক। চলতি অর্থবছরে সরকার সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গত সপ্তাহে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দেয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

আইএমএফ মিশন মনে করছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে। তবে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হবে।
সরকারের অনুরোধে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আইএমএফের প্রতিনিধি দল গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সমাপনী বৈঠক করেন। কয়েক দিনের বৈঠকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আগামী মাসগুলোতে চলতে থাকবে। এ আলোচনা হবে ঋণের সম্ভাব্য আকার, পরিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ঋণ কর্মসূচির পাঁচ কিস্তি নেওয়ার পর দুপক্ষের সম্মতিতে তা বাতিল করা হয়।

গতকাল সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে কর্মসূচির ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির কর্মকর্তা ইভো ক্রজনার। বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাদের নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া গেছে। নতুন সম্ভাব্য কর্মসূচির পরিধি, ঋণের আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়েছ। এর ফলে সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স শক্তিশালী রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদার করা দরকার। মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখা উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবারের আলোচনায় ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনে চিহ্নিত নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে সার ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের জন্য একটি কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকি চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহীত করতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

প্রকৌশলীদের শুধু স্মার্টনেস নয়, সততাও থাকতে হবে: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট প্রকৌশলীদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। তাই দেশ গঠনে প্রকৌশলীদের স্মার্টনেসের পাশাপাশি সততা ও ন্যায়পরায়ণতা থাকতে হবে।

শুক্রবার ‘দ্য ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ’ (এফইএবি) ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর মিরপুরের একটি কনভেনশন সেন্টারে এই শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াত আমির বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে দেশে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটাতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জায়নবাদী শক্তি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে একক ইসলামবিরোধী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিশ্বরাজনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৌশলীদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে।

ফোরামের সেক্রেটারি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফইএবি ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবিদ হাসান সিদ্দিক। কর্মী শিক্ষা শিবিরে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ সেলিম উদ্দিন ও ঢাকা-১৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন প্রমুখ।