Home Blog Page 260

এক মাস আগেই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল পাকিস্তান

০

আগামী ১৫ জানুয়ারি নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে পর্দা উঠবে যুব বিশ্বকাপের। ফাইনাল হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আসন্ন এই যুব বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

চলমান যুব এশিয়া কাপের দল থেকে একটি পরিবর্তন এনেছেন পাকিস্তান। বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ হুজাইফার জায়গায় স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে ডানহাতি পেসার উমর জাইবকে। যুব বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেবেন ফারহান।

বিশ্বকাপের আগে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। ত্রিদেশীয় সিরিজে ২৭ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন ফারহানরা। প্রতিটি দল সবার বিপক্ষে দুইটি করে ম্যাচ খেলবে। বিশ্বকাপের স্কোয়াড নিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে তারা।

যুব বিশ্বকাপে পাকিস্তানের গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে। ত্রিদেশীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যানেজার ও মেন্টরের দায়িত্বে থাকবেন সরফরাজ আহমেদ।

পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোয়াড—

ফারহান ইউসুফ (অধিনায়ক), উসমান খান, আব্দুল সুবহান, আহমেদ হোসেন, আলী হাসান, আলী রাজা, দানিয়াল আলী খান, হামজা জাহর, হুজাইফা আহসান, মমিন কামার, মোহাম্মদ সায়েম, মোহাম্মদ সায়ান, নিকাব শফিক, সামির মিনহাজ এবং উমর জাইব।

নীরব ঘাতক লিভার সিরোসিসের প্রাথমিক লক্ষণ না বুঝলেই বিপদ

লিভার সিরোসিস একটি নীরব ঘাতক, যা ধীরে ধীরে শরীরকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে যেকোনো সময়ই শরীরে হানা দিতে পারে জটিল এ রোগটি।

যকৃতের এ জটিল রোগ মরণব্যাধি ক্যানসারের মতোই। তাই শরীরে এ রোগ বাসা বেঁধেছে কিনা তা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরী। কেননা সাধারণ কিছু লক্ষণই লিভার সিরোসিসের কারণ হতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতি বছর যকৃতের যে সমস্যায় অনেক মানুষ আক্রান্ত হন, তা ‘লিভার সিরোসিস’ নামে পরিচিত। যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত এ অসুখের কারণ হয়ে ওঠে, যা ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। যাদের ডায়াবেটিস বা স্থূলতার সমস্যা আছে, তারাও আগে থেকে সতর্ক না হলে এ রোগ থাবা বসাতে পারে। সময়ে ধরা পড়লে যেকোনো রোগের জটিলতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘লিভার সিরোসিস’ রোগটি ধরতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়। ফলে সমাধানের পথ থাকে না তখন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বোল্ড স্কাই ও এবিপি লাইভের প্রতিবেদন অনুসারে তাই আসুন জেনে নিই লিভার সিরোসিস শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করলে প্রথমদিকে কী কী লক্ষণ শরীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে-

১। জন্ডিস: জন্ডিস হলে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। লিভার থেকে নিঃসৃত হওয়া পিত্ত বিলিরুবিনের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে জন্ডিস হয়। লিভারে ক্ষত তৈরি হলেও লিভার শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। তখন এ অসুখ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

২। ওজন হ্রাস: খাওদাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করে কিংবা কোনো রকম শরীরচর্চা ছাড়াই ওজন কমে যাচ্ছে? তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিনা কারণে ওজন কমে যাওয়া শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। লিভার সিরোসিসের কারণে, আয়রন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হয় না, যার ফলে রক্তাল্পতা হতে পারে। কমতে পারে ওজনও।

৩। পা ও গোড়ালিতে জ্বালা: পা ও গোড়ালিতে মাঝেইমাঝেই জ্বালাভাব হলে আগে থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শরীরে অ্যালবুমিন প্রোটিনের উৎপাদন কমে গেলে এ রকম সমস্যা হয়। এ প্রোটিন রক্তনালি থেকে অন্যান্য কোষে রক্তের ছড়িয়ে পড়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে এ প্রোটিন তরলের পরিমাণ কমে গেলে তা রক্তনালিকায় জমা হতে শুরু হয়। গোড়ালিতে বা পায়ের পাতায় হালকা জ্বালা অনুভব হলে আগে থেকে সচেতন তহওয়া প্রয়োজন।

৪। পেট ফাঁপা ও ওপর দিকে ব্যথা: অনেক দিন ধরে লিভারের কোনো সমস্যা থাকলে তলপেটে তরল জমা হয়ে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই এ পেট ফাঁপার সমস্যায় মাঝেমাঝেই ভুগে থাকেন। সেই সময় পেটও ফুলে থাকে। পেটের ওপর দিকে ব্যথা হয়। কয়েক দিন ধরে পর পর এই রকম সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হন।

৫। কালশিটে: শরীরে ঘন ঘন কালশিটে পড়ে কি? তা হলে আগে থেকে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। লিভার ভিটামিন কে- এর সাহায্যে এক ধরনের প্রোটিন উৎপাদন করে যা রক্তক্ষয় বন্ধ করে যে কোনো ক্ষত তাড়াতাড়ি ঠিক করতে সাহায্য করে। লিভার দূষিত রক্তের কোষগুলোকে বাড়তে দেয় না। ফলে লিভার যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে তখনই শরীরে এ ধরনের কালশিটে দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৬। ক্লান্তি, অবসাদ ও অস্থিরতা: যখন লিভার বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে অক্ষম হয়, তখন শরীর অলস হয়ে পড়ে। বিপাকক্রিয়ার গোলযোগ দেখা দেয়। প্রায়ই অনুভব হতে পারে দুর্বল ও অবসাদবোধ। মাথা ঘোরার সাথে বাড়তে পারে অস্থিরতাও। তাই এমন অনুভব প্রায়ই হলে এ সাধারণ লক্ষণেই শরীর জানান দিতে পারে লিভার সিরোসিস রোগটিকে।

৭। মানসিক অবস্থার পরিবর্তন: লিভার সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্ত​​প্রবাহে টক্সিন জমা হয়। যার ফলে মানসিক পরিবর্তন বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা দেখা দেয় অনেকেরই। ব্যস্ততা কিংবা কাজের চাপে এমনটা হচ্ছে এই ভেবে এ সাধারণ লক্ষণকেই অবহেলা করতে পারেন। অথচ এ লক্ষণও লিভার সিরোসিসের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

৮। বমিতে রক্ত: এটি একটি গুরুতর লক্ষণ। সিরোসিস লিভারে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করে। যার ফলে পেটের শিরা ফুলে যায় এবং রক্তপাত হয়। যদি বমিতে রক্ত দেখতে পান, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লিভার সিরোসিসের শেষ পর্যায়ে শরীরের অভ্যন্তরে শিরা-উপশিরা, রক্তবাহিকা উন্মুক্ত হয়ে যায়। ফলে শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাই জটিল এ রোগের মরণ থাবা থেকে বাঁচতে সচেতন থাকার কোনো বিকল্প নেই।

বাসি ভাত গরম করে খাচ্ছেন? একটু ভুলেই ঘটে যেতে পারে বিপদ

০

আগের দিনের বেঁচে যাওয়া ভাত, গরম করে খান অনেকেই। শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে। তাই ভাত নষ্ট হওয়ার ভয়ও থাকে না। মাইক্রোঅয়েভে গরম করে নিলে বোঝাও মুশকিল যে ভাত সঙ্গে সঙ্গে রাঁধা হয়নি। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ধরনের ভাতই ব্যাক্টেরিয়াদের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠতে পারে। যদি তা সঠিক ভাবে গরম না করা হয়। কী ভাবে ভাত রাখছেন, সে ক্ষেত্রে সেটিও বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আগের দিনের ভাত ফ্রিজে রাখা উচিত নয়?

বেঁচে যাওয়া খাবার ভালো রাখার জন্য তো ফ্রিজ নামক যন্ত্রটি রয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ভাতের জন্য এই নিয়মটি একেবারেই প্রযোজ্য নয়। ভাত ফ্রিজে রাখা যায়। তবে তার নিয়ম রয়েছে। ভাত রেঁধে, ঠান্ডা করে সঠিক ভাবে কৌটোয় ভরে রাখলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পরের দিন সঠিক ভাবে গরম করে সেই ভাত খেলে তা ডায়াবেটিকদের জন্যও ভালো। অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়, এই ধরনের ভাত খেলে। তা হলে সমস্যাটা কোথায়? পুষ্টিবিদরা বলছেন, সমস্যার সূত্রপাত হয় তার খানিক আগে থেকে। ভাত রান্না করার পর যখন তা টেবিলে দীর্ঘ ক্ষণ পরে থাকে।

কোনও খাবার যদি রান্না করার পর দীর্ঘ ক্ষণ ফেলে রাখা হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যাক্টেরিয়া সহজেই সেখানে বাসা বাঁধতে পারে। সেই খাবার খেলে পেটে সংক্রমণ হয়। কিছু ক্ষেত্রে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তবে সঠিক ভাবে এয়ার-টাইট কন্টেনারে রান্না করা ভাত যদি সংরক্ষণ করতে পারেন, তা হলে কোনও সমস্যা হবে না। তবে এক বারের বেশি ভাত গরম করবেন না।

৬৬,১৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে সরকার ॥ অর্থ মন্ত্রণালয়

০

বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠী থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত এবং জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংযুক্ত করার অর্থ হচ্ছে এসব সম্পদ যাদের নামে আছে, তারা আর এগুলো বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।

একইভাবে জব্দ করা অর্থ ব্যাংক থেকে তুলতে পারবেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মুদ্রা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৩০তম বৈঠক সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রম অধিকতর দক্ষ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর কিছু ধারা যুগোপযোগী করে আইনটিকে সংশোধন করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্রাধিকার মামলাগুলোর যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগপত্র দাখিল এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত ১১টি মামলার জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মানদ- পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের জন্য এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) পক্ষ থেকে আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে চতুর্থ পর্বের মিউচুয়াল মূল্যায়ন সম্পন্ন হবে। বৈঠকে এ মিউচুয়াল মূল্যায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন অর্থ উপদেষ্টা।
বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্যসচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্রসচিব (দ্বিপক্ষীয়), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ুদূষণে বছরে মৃত্যু ১০ লাখ, জিডিপি ক্ষতি ১০ শতাংশ

০

দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল জনপদ এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখে। এক সময়ের উর্বর এই অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দূষিত বায়ুস্তরে ঢাকা পড়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের এই বিশাল অঞ্চলে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অস্বাস্থ্যকর বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছে। বায়ু দূষণ এখন আর কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের জন্য একটি চরম উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর দূষণের কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে এবং আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই দূষণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। সীমানা ছাড়িয়ে আসা এই দূষণ রুখতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ, অন্যথায় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি- উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘পরিবর্তনের নিশ্বাস : ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে (আইজিপি-এইচএফ) পরিষ্কার বাতাসের সমাধান’ শীর্ষক বইয়ে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আইজিপি-এইচএফ। দেশগুলো বায়ুদূষণের মূল উৎস। এর মধ্যে রয়েছে রান্না ও গরম করার জন্য কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়াই জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তুপুঞ্জ পোড়ানো, অদক্ষ অভ্যন্তরীণ দহন যানবাহন ব্যবহার করা, কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং অদক্ষভাবে সার ও সার ব্যবস্থাপনা করা এবং পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জ্য পোড়ানো। এসব কারণে এসব অঞ্চলে বাড়ছে দূষণ।
প্রতিবেদনে পরিষ্কার বাতাসের জন্য সমাধানগুলোকে তিনটি পারস্পরিকভাবে মূল ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি এবং বর্র্র্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের উৎসে নির্গমন হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সুরক্ষা ব্যবস্থা যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, যাতে পরিষ্কার বাতাসে রূপান্তরের সময় শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলো সুরক্ষিত থাকে। তৃতীয়ত, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজারভিত্তিক উপকরণ এবং আঞ্চলিক সমন্বয় দ্বারা সমর্থিত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু ক্ষেত্র এবং বহু বিভাগীয় অগ্রগতি বজায় রাখে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশগত অর্থনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, এই প্রতিবেদনটি দেখায় যে, সমাধানগুলো নাগালের মধ্যে রয়েছে এবং নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য সমন্বিত, সম্ভাব্য এবং প্রমাণভিত্তিক সমাধানগুলো ব্যাপকভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তব রোডম্যাপ দেওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোগ, পরিবার এবং কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তি এবং অনুশীলন গ্রহণের জন্য এবং সরকারগুলোকে তাদের সমর্থন করার জন্য শক্তিশালী আর্থিক ও অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশগুলোকে সমাধান কার্যকর করতে সহায়তা করার জন্য প্রতিবেদনে চার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতার জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে হবে। আচরণগত এবং বিনিয়োগকে পরিবেশবান্ধব করতে হবে। কাজের সমন্বয় সাধন করে, সম্মতি নিশ্চিত করে এবং জাতীয় ও স্থানীয় বাস্তবায়নকে সংযুক্ত করতে হবে। আধুনিক ও দক্ষ শিল্প কার্যক্রমের সঙ্গে ক্লিন এনার্জি, পরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন করতে অবকাঠামো গড়তে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বব্যাংকের পরিবেশ অনুশীলন ব্যবস্থাপক অ্যান জেনেট গ্লোবার বলেন, ক্লিন এয়ার অর্জনের জন্য স্থানীয়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে অব্যাহত সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং শক্তিশালী বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে সরকারের উচিত দূষণ কমানো। লাখ লাখ জীবন বাঁচাতে এবং সবার জন্য ক্লিন এয়ার সরবরাহ করার জন্য এই পথ অনুসরণ করতে পারে।

জরুরি ভিডিও বার্তা দিলেন আসিফ মাহমুদ

০

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহের মধ্যে জাতির উদ্দেশে জরুরি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, তবে এই ন্যায্য আন্দোলনকে কোনোভাবেই সহিংসতা, ভাঙচুর বা বিভাজনের দিকে নিতে দেওয়া যাবে না।

ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। পুরো বাংলাদেশ আজ শোকাহত এবং যারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের বিচার আমরাও চাই। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে—সে দায়িত্ব সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতে সারাদেশের মানুষ রাজপথে নেমেছে—এটি ন্যায়বিচারের দাবি। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভাজন উসকে দিতে একটি চক্রান্তমূলক মহল সক্রিয় হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা আমরা দেখেছি, যা আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

আসিফ মাহমুদ দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কোনো সংবেদনশীল স্থাপনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যেন কোনো ক্ষতি না হয়—এটি নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে হওয়া প্রতিবাদ মিছিল যেন কেউ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

ওসমান হাদিকে একজন বীর হিসেবে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি যে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াই শুরু করেছিলেন—ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার ও ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখতেন—সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যেন সন্ত্রাস, ভাঙচুর বা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: আমান উল্লাহ আমান

০

নির্বাচন ছাড়া কখনোই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমান।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও পাকাপোক্ত করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের মূল শক্তি হলো জনগণ।

আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের তারানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে তারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও সুরক্ষা পায়।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। একটি মহল নির্বাচন বানচাল করতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। সকল বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র আরও সুদৃঢ় হবে।

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মেহেদি হাসান, ডা. মো. জাবেদ আহমেদ, ডা. মো. মাহমুদ আলম তারিক, ডা. আলী নূর পলাশ, ডা. জাকির হোসেনসহ তারানগর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সিঙ্গাপুরে হচ্ছে না ওসমান হাদির জানাজা

০

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির প্রথম জানাজা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

হাইকমিশন জানিয়েছে, গতকাল রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় তার জানাজা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই জন্য হাইকমিশন দুঃখ প্রকাশ করছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর প্রবাসীকে সিঙ্গাপুরের আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে হাইকমিশন।

এর আগে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, হাদি প্রথম জানাজা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে রওনা করবে। ঢাকায় অবতরণ করার সম্ভাব্য সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট।

এতে বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদির প্রথম জানাজা সিঙ্গাপুরের The Angullia Mosque এ (দ্য আঙ্গুলিয়া মসজিদ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।

উল্লেখ্য, আততায়ীর বুলেটে বিদ্ধ হয়ে টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারির অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে হাদির মৃত্যু হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ইতিহাস ধরে রাখতে তিনি গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ। গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে হাদির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন স্বয়ং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ভাষণের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি সংবাদ নিয়ে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই।’

হাদির মৃত্যুর খবরে গত রাত সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও গভীর শোক জানিয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে আজ দোয়া ও আগামীকাল রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি পালনের আহ্বান করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।

দুই সম্পাদককে প্রধান উপদেষ্টার ফোন, পাশে থাকার ঘোষণা

০

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী অকুতোভয় সৈনিক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় উত্তেজিত জনতা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় পত্রিকা দুটির সম্পাদকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের প্রতিষ্ঠান ও সংবাদকর্মীদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক হামলা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আপনাদের এই দুঃসময়ে সরকার আপনাদের পাশে আছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর এই হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হামলার শামিল। এই ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে এক বিরাট বাধা সৃষ্টি করেছে।

টেলিফোনে আলাপকালে সম্পাদকদের ও সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টা।

খুব শিগগিরই এই সম্পাদকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

যেসব খাবার ফ্রিজে রাখলেই ক্ষতি!

০

ফ্রিজ আমাদের রান্নাঘরের অন্যতম ভরসার হাতিয়ার। খাবারকে টাটকা রাখে, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং সময় বাঁচায়। তবে সব খাবারই ফ্রিজের ঠান্ডা পরিবেশে ভালো থাকে না। কিছু খাবার ফ্রিজে রাখলে স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ হারায়, কখনো কখনো স্বাস্থ্য ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। জেনে নিন, কোন কোন খাবার ফ্রিজের ঠান্ডা বাতাসে কখনো রাখা উচিত নয়।

ফ্রিজে রাখা উচিৎ নয় এমন খাবার-

আলু: ঠান্ডায় আলুর শর্করা চিনিতে পরিণত হয়, ফলে রান্নার স্বাদ নষ্ট হয়। শুষ্ক ও হালকা ঠান্ডা জায়গায় রাখুন।
কলা: ফ্রিজে রাখলে দ্রুত কালচে হয়ে যায়। আধাপাকা কলা ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন।
তরমুজ: পুরো তরমুজ ফ্রিজে রাখবেন না। ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে অনেক দিন টিকে থাকে। কেটে রাখা হলে অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
তুলসি পাতা: ঠান্ডায় গন্ধ হারায় এবং কালো দাগ পড়ে। সামান্য পানিতে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন।
পেঁয়াজ: আলুর পাশে রাখবেন না। বাতাস চলাচলকারী উষ্ণ স্থানে আলাদা রাখুন।
কফি: ফ্রিজে রাখলে সুবাস নষ্ট হয়। বায়ুরোধী পাত্রে, সূর্যালোক থেকে দূরে রাখুন।
রসুন: ফ্রিজে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে। শুকনো, উষ্ণ স্থানে সংরক্ষণ করুন।
হট সস বা ঝাল সস: ভিনেগার থাকায় ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে ঝাঁজ কমে যায়।
পাউরুটি: ফ্রিজে রাখলে শক্ত ও বাসি হয়ে যায়। রুম টেম্পারেচারে সংরক্ষণ করুন।
তেল (বিশেষ করে অলিভ অয়েল): ফ্রিজে জমে যায়, গঠন ও গন্ধ নষ্ট হয়।
মধু: ফ্রিজে রাখলে স্ফটিক হয়ে শক্ত হয়। বায়ুরোধী পাত্রে ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন।
কুমড়া: ঠান্ডায় নরম হয়ে যায়। শুষ্ক, ঠান্ডা স্থানে রাখুন।
খুবানি, কিউই, পিচ, আম: ফ্রিজে রাখলে টেক্সচার নষ্ট হয়। ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন।
চিনাবাদাম মাখন (পিনাট বাটার): ফ্রিজে শক্ত হয়ে মাখা কঠিন হয়। রুম টেম্পারেচারে রাখুন।
ময়দা: ফ্রিজে রাখার প্রয়োজন নেই। শুকনো, বদ্ধ পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
আচার: ভিনেগার থাকায় ঘরে ভালো থাকে। ফ্রিজে রাখলে স্বাদ কমে।
সয়াসস: ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও ঘ্রাণ নষ্ট হয়।
ডিম: ফ্রিজে রাখলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে, তবে ঘরের তাপমাত্রায় রাখলেও স্বাদ অটুট থাকে।
অ্যাভোকাডো: পাকা না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজে রাখবেন না।
শুকনো মাংস (জার্কি বা বিলটং): আর্দ্র পরিবেশে নষ্ট হয়। শুকনো, বদ্ধ পাত্রে রাখুন।
টমেটো: ফ্রিজে রাখলে স্বাদ ও টেক্সচার নষ্ট হয়। উষ্ণ স্থানে রাখুন।
সালাদ: ড্রেসিং না মেশানো হলে ঘরের তাপমাত্রায় কিছুক্ষণ ভালো থাকে।
ক্যাপসিকাম বা বেল পেপার: ফ্রিজে রাখলে ঝাঁজ ও স্বাদ কমে।
সব খাবার ফ্রিজে রাখলেই ভালো থাকে না। খাবারের ধরন অনুযায়ী সংরক্ষণ পদ্ধতি জানলে খাবারের আসল স্বাদ, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব। সচেতন সংরক্ষণই নিশ্চিত করবে সুস্থতা এবং টাটকা খাবারের আসল স্বাদ।