Home Blog Page 261

এই ৬টি আচরণই প্রমাণ করে আপনি ধীরে ধীরে বিষণ্ণতায় ডুবে যাচ্ছেন

০

বিষণ্ণতা সবসময় হঠাৎ করে আসে না। অনেক ক্ষেত্রেই এটি নীরবে, ধাপে ধাপে মানুষের আচরণ ও মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে থাকে। আমরা অনেক সময় এই পরিবর্তনগুলোকে ক্লান্তি, কাজের চাপ বা সাময়িক মনখারাপ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু আচরণই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে একজন মানুষ ধীরে ধীরে বিষণ্নতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, বিষণ্নতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে ব্যক্তিগত জীবন, কাজের দক্ষতা এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ছয়টি আচরণ দীর্ঘদিন ধরে দেখা দিলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

প্রথমত, আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
যে কাজগুলো একসময় আনন্দ দিত, সেগুলোর প্রতি হঠাৎ আগ্রহ কমে যাওয়া বিষণ্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। প্রিয় গান, সিনেমা, বই বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছা না থাকলে এবং সবকিছুই নিরর্থক মনে হতে থাকলে এটি গভীর মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও শক্তিহীনতা।
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, সামান্য কাজেই অবসন্ন বোধ হয়, তাহলে তা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ক্লান্তির ফলও হতে পারে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষণ্নতায় ভুগলে মস্তিষ্কের কার্যক্রম এমনভাবে প্রভাবিত হয় যে শরীর সবসময় শক্তিহীন মনে হয়।

তৃতীয়ত, ঘুমের ধরনে পরিবর্তন।
কেউ কেউ বিষণ্নতায় ভুগলে অতিরিক্ত ঘুমান, আবার কেউ রাতের পর রাত ঘুমোতে পারেন না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, ভোরে জেগে ওঠা কিংবা অনিদ্রা বিষণ্নতার সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত লক্ষণ।

চতুর্থত, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া।
পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া, ফোন ধরতে অনীহা, সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা—এসব আচরণ ধীরে ধীরে মানসিক একাকীত্ব তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষণ্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় নিজের সমস্যার কথা কাউকে বলতে চান না, বরং নিজেকে আলাদা করে রাখেন।

পঞ্চমত, নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক ভাবনা।
বারবার নিজেকে অযোগ্য, ব্যর্থ বা অন্যদের জন্য বোঝা মনে হওয়া বিষণ্নতার একটি গুরুতর লক্ষণ। অতীতের ছোট ভুল নিয়ে অতিরিক্ত অনুশোচনা করা কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশায় ভোগাও এই অবস্থার অংশ হতে পারে।

ষষ্ঠত, রাগ ও বিরক্তি বেড়ে যাওয়া।
বিষণ্নতা মানেই সবসময় চুপচাপ থাকা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে সামান্য বিষয়েও রেগে যাওয়া, অস্থিরতা বা বিরক্তিভাব বেড়ে যায়। পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে অকারণে ঝগড়া হওয়াও বিষণ্নতার লক্ষণ হতে পারে বলে জানান মনোবিজ্ঞানীরা।

কখন সাহায্য নেওয়া জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণগুলো যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে এবং দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সময়মতো চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিষণ্নতা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। বরং নিজের পরিবর্তনগুলো চিনে নেওয়াই সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ। যদি নিজের বা কাছের কারও আচরণে এই লক্ষণগুলো দেখতে পান, তাহলে নীরবে সহ্য না করে সাহায্যের হাত বাড়ান।

কুষ্টিয়ায় হ্যান্ডবল লিগে চ্যাম্পিয়ন সংগ্রাম স্পোর্টিং

০

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায়, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্র্রিজ লিমিটেডের (কিউট) পৃষ্ঠপোষকতায় এবং কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে কিউট কুষ্টিয়া জেলা পুরুষ হ্যান্ডবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সংগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাব। বুধবার কুষ্টিয়া সরকারিৎ কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে সংগ্রাম স্পোর্টিং ২৪-২৩ গোলে সেভেন স্টার স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে।
গত ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আসরে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে সংগ্রামের নিশাদের হাতে। ফাইনাল খেলা শেষে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, পিপিএম (বার) চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. তানভীর হোসেন।

এর আগের দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে সংগ্রাম স্পোর্টিং ক্লাব ৩৩-২৮ গোলে দৌলতপুর স্পোর্টসকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১৯-১৫ গোলে সেভেন স্টার স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে হার মানে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল হ্যান্ডবল দল।

বিশ্বকাপে ‘অবৈধ’ খেলোয়াড় নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে নাইজেরিয়া

০

আগামী বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, আফ্রিকা অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনালে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) একাধিক অযোগ্য খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে।

গত মাসে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের পর টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ডিআর কঙ্গো। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্লে-অফ থেকে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের শেষ দুটি টিকিট নির্ধারিত হবে।

তবে এনএফএফের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিচয় বদলানো কয়েকজন খেলোয়াড়। নাইজেরিয়ার দাবি, ওই ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর হয়ে খেলা অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে আইনগতভাবে খেলার জন্য বৈধ নন। কারণ, কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি নেই, অথচ এই খেলোয়াড়দের ইউরোপীয় ও ফরাসি পাসপোর্ট রয়েছে।

নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, ‘আমাদের দাবি, ফিফাকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের খেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।

কঙ্গোর আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নেই, কিন্তু তাদের কয়েকজন খেলোয়াড় একাধিক দেশের পাসপোর্টধারী। আমরা এটিকে ফিফার নিয়ম ভঙ্গ এবং প্রতারণা বলেই মনে করি।’

এনএফএফ জানিয়েছে, তারা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি যুক্তি ফিফার কাছে জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি, তবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন (ফেকোফা) অভিযোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। লেপার্ডসের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আইনের ফাঁক খুঁজে জেতার চেষ্টা করছে নাইজেরিয়া। বিশ্বকাপ খেলতে হয় মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে, আইনজীবীদের কৌশলে নয়।’

সেখানে নাইজেরিয়াকে ‘খারাপ পরাজিত’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগটিকে অখেলোয়াড়সুলভ বলেও উল্লেখ করা হয়।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় একবারই জাতীয় দল পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন এবং সেটি লিখিতভাবে ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষ।

ফিফা একটি দেশের হয়ে খেলতে সংশ্লিষ্ট দেশের পাসপোর্ট থাকার শর্ত দিলেও, একাধিক পাসপোর্ট রাখার বিষয়ে বাধা নেই। তবে কঙ্গোর জাতীয় আইনে দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদিত নয়, এটিকেই মূল যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে নাইজেরিয়া।

ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পৌঁছালে কয়েকটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

প্রথমত, প্রমাণ অপর্যাপ্ত মনে হলে অভিযোগ খারিজ করে ডিআর কঙ্গোর যোগ্যতা বহাল রাখা হতে পারে। দ্বিতীয়ত, তদন্ত করে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পেলে ফেডারেশনকে জরিমানা বা সতর্কবার্তা দেওয়া হতে পারে, যদিও ম্যাচের ফল অপরিবর্তিত থাকবে। সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে খেলাধুলাভিত্তিক শাস্তি—ম্যাচ বাতিল, প্রতিপক্ষকে জয় দেওয়া বা পয়েন্ট কর্তনের মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

এর আগে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অযোগ্য খেলোয়াড় খেলানোর দায়ে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ছয় পয়েন্ট কেটে নেয় ফিফা। যদিও সেই সিদ্ধান্ত পরে প্রত্যাহার করা হয়, তবে পয়েন্ট আর ফেরত পায়নি তারা। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাও স্থগিত খেলোয়াড় নামানোর কারণে লেসোথোর বিপক্ষে জয় হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হিসেবে গণ্য হয়েছিল।

এবার বিশ্ববাজারে রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ

০

বিশ্ববাজারে রুপার দাম নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর সোনার দামেও উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদহার আরও কমাতে পারে এমন প্রত্যাশা মূল্যবান ধাতুর বাজারকে আরও উজ্জীবিত করছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) স্পট সিলভারের দাম একদিনে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। লেনদেন শুরুতে রুপার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৫২ ডলার পর্যন্ত ওঠে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ সংকট, শিল্প খাতে শক্তিশালী চাহিদা এবং জল্পনামূলক বিনিয়োগ মিলিতভাবে রুপার দামে উল্লম্ফনের কারণ হয়েছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, “রুপা এখন বিকল্প বিনিয়োগের অন্যতম আলোচিত সম্পদ। সবুজ জ্বালানি কর্মসূচির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকায় ভবিষ্যৎ চাহিদা অত্যন্ত ইতিবাচক। সরবরাহ সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়ছে।”

মার্কিন শ্রমবাজারের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, খামার বহির্ভূত খাতে নতুন ৬৪ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হলেও, নভেম্বর মাসে দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদরা এটিকে শ্রমবাজারে ধীরগতির স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

এদিকে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ভোক্তা মূল্য সূচক এবং শুক্রবার ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশিত হবে, যা ভবিষ্যৎ সুদহার সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবে।

গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরের তৃতীয় ও শেষ দফায় কোয়ার্টার-পয়েন্ট সুদহার কমানোর ঘোষণা দেয়। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বক্তব্য বাজারে তুলনামূলকভাবে নমনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ২০২৬ সালে দুটি ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানোর সম্ভাবনা হিসাব করছেন। সাধারণত কম সুদের পরিবেশে সোনাসহ অ-ফলনশীল সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় প্রবেশ এবং দেশটি থেকে অনুমোদিত তেল ট্যাঙ্কার বের হওয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, যা বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।

অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৯২০ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১,৬৩৪ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দুই মাসের সর্বোচ্চ।

রস নরম্যান বলেন, “সাদা ধাতুর পুরো খাতই সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩৫ সালের দহন ইঞ্জিন নিষিদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ায় প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের কাছে রুপা, সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতু এখন আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ হিসাবে দেখা দিচ্ছে।

১ দিনের ব্যবধানে আবারও বদলে গেলো সোনার দাম!

০

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও আকাশচুম্বী। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড ঘোষণা করেছে। নতুন দর অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এর আগে গত সোমবারও (১৫ ডিসেম্বর) প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

আমি হাদীকে রিপ্লাই দিছিলাম জামায়াতের সাথে কথা বলবো

০

ভাই আমার আমি দরকার হলে জামায়াতের নেতাদের পায়ে ধরবো ভাই, তবে তোকে কিন্তু ফিরে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ই ডিসেম্বর) নিজের ব্যাক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন সাংবাদিক ইলিয়াস।

ইলিয়াস হোসেন তার পোস্টে জানান, ঢাকা-৮ আসনে সাদিক কায়েমের নাম প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসার পর ওসমান হাদী সাদিক কায়েমকে স্বাগত জানিয়ে একটা পোস্ট করে৷ পোস্ট করার পর হাদী কেন জানি পোস্টের লিংকটা আমাকে পাঠালো৷ হয়তো বুঝাতে চেয়েছিলো সাদিক কায়েমের মতো শক্তিশালী প্রার্থী  যেন জামায়াত তার বিপরীতে না দেয়৷

কিছু জিজ্ঞেস না করেই আমি হাদীকে রিপ্লে দিয়েছিলাম উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, জামায়াতের সাথে কথা বলবো, হাদীর আসনে যেন জামায়াত কোন প্রার্থী না দেয়৷ হাদী একটা লাভ রিয়েক্ট দিলো৷ ওইটাই ছিলো আমাদের শেষ কথা৷ ডিসেম্বরের ৬ তারিখ!

পোস্টের শেষে সাংবাদিক ইলিয়াস জানান, হাদী, ভাই আমার আমি দরকার হলে জামায়াতের নেতাদের পায়ে ধরবে ভাই, তবে তোকে কিন্তু ফিরে আসতে হবে৷ প্লিজ ভাই তুই আবার আগের মতো ফোন করবি, টেক্সট করবি, আবদার করবি, প্রোগ্রামের সুচী পাঠাবি আমি আমার পেইজে শেয়ার দিবো ইনশাআল্লাহ্৷

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল : এজেডএম জাহিদ হোসেন

০

খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল,  আগের মতোই চিকিৎসা গ্রহন করছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে  এভারকেয়ার হাসপাতালের বাইরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে  বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক  এই কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘‘ উনার অবস্থা স্থিতিশীল আছে।উনি( খালেদা জিয়া) এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক যে চিকিৎসা উনাকে দেওয়া হচ্ছে সেই চিকিৎসা উনি ঠিকমতো গ্রহণ করতে পারছেন এ

‘‘ উনার শারীরিক অবস্থা গত কয়েকদিন পূর্বেও যে অবস্থায় ছিল… আলহামদুলিল্লাহ উনি সেটি মেনটেইন করতে পারছেন।”

গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এর তিন দিন পর তার ফুসফুসে সংক্রামণ হলে তার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড ।

‘আশাবাদী আমরা’

বিএনপি চেয়ারপারসন সুস্থ হয়ে উঠবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘ উনার সাথে সম্পৃক্ত আমরা যারা এই হসপিটালের চিকিৎসকরা অত্যন্ত আশাবাদী ইনশাআল্লাহ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যাবেন।”

‘‘ তারপরেও মনে রাখতে হবে, উনার বয়সের চেয়ে বেশি উনার যে অসুস্থতা এবং উনাকে পরিকল্পিতভাবে যেরকম অসুস্থ অবস্থার মধ্যে বিগত সময়ে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়া যায়নি অথবা দিতে দেওয়া হয়নি সেই কারণেই উনার শারীরিক জটিলতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে…. এবার উনি বেশি সময় পার করছেন।”

‘জনাব তারেক-জুবাইদা সার্বক্ষনিক দেখছেন’

জাহিদ  বলেন, এই বিষয়ে আমি শুধু আপনাদের এইটুকু অবহিত করতে চাই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান উনার সহধর্মিনী  জুবাইদা রহমান সবসময় উনার চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করছেন এবং উনার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহ-ধর্মিনী  সৈয়দ শামিলা রহমান, ম্যাডামের ভাই শামীম  এস্কান্দার, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিকভাবে আছেন,  খোঁজ-খবর রাখছেন। উনার পাশে তো আর থাকা যাচ্ছে না যেহেতু উনি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে আছে আজ উনারা হসপিটালে অথবা হসপিটালের বাইরে অবস্থান করে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছেন।”

এছাড়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান, উপদেষ্টাগণ, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য কতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক জাহিদ।

‘নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান’

অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘‘ এই হাসপাতালে আরো অনেক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। সেই সমস্ত রোগীদের চিকিৎসা যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করছেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে সকলকে অনুরোধ করতে চাই, এই হসপিটাল সবার জন্য উন্মুক্ত। এই হসপিটালের সেবা গ্রহণ করার সুযোগ সবারই আছে।”

‘‘  কাজেই আপনারা পূর্বে যারা সেবা গ্রহণ গ্রহণ করবেন এবং কোন অবস্থাতেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আপনাদের চিকিৎসার কোন ব্যাঘাত ঢুকবে না এবং আমরা কোন নেতাকর্মী কোন ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করবে না। এটা আমরা বিশ্বাস করি, এটা আমরা আশা রাখি।”

‘যে ভারত খুনি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও; বাবরের পথ ধরো সেভেন সিস্টার্স স্বাধীন করো’

০

ঢাকার বুকে আবারও যেন জুলাইয়ের উত্তাল স্লোগান। অগ্নিঝরা হাওয়া রাজধানীর বাতাসে। পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে দাসত্বের প্রতিবাদ। কুটনৈতিক দরবারে কড়া বার্তা। বর্তমান সরকারকে হুঁশিয়ারি। দেশ প্রেমিক ছাত্রজনতা এক কণ্ঠে একসূরে ক্ষোভ প্রতিবাদের স্লোগান। “যে ভারত খুনি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও” “যেই ভারত হাসিনা পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও”। ” বাবরের পথ ধরো সেভেন সিস্টার্স  স্বাধীন করো”, ” যেই ভারত জঙ্গি পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও” ,  ” যেই ভারত কসাই পালে সেই ভারত ভেঙ্গে দাও”। ” দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা”, ” গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী” , আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম। বুধবার ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ কর্মসূচিতে  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনের মোর্চা ‘জুলাই ঐক্য’র’ব্যনারে এই দৃশ্যপট দেখা গেছে ।

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ ভারতে পালিয়ে থাকা সব খুনিদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি এবং ভারতীয় প্রক্সি রাজনৈতিক দল, মিডিয়ালীগ ও সরকারি কর্মকর্তাদের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই কর্মসূচী পালন করা হয়।  সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একটি অংশ, ডাকসু, জাকসুর একাধিক নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। বুধবার বিকেলে কর্মসূচিটি রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু হয়ে মধ্য বাড্ডা পর্যন্ত অগ্রসর হলে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। পরে কর্মসূচিটি সেখানে থামিয়ে দিলে হাজারও মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচী সমাবেশে রূপ নেয়। জুলাই ঐক্যের নেতাকর্মীরা তখন মধ্য বাড্ডায় অবস্থান নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন।

জুলাই ঐক্যের সংগঠক ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময় থেকে ভারতের প্রক্সিরা নতুন করে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশে গণ-হত্যা চালানো সব খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত। সর্বশেষ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা জুলাইয়ের অস্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর আনন্দ-উল্লাস করে ভারতীয়রা। বাংলাদেশ ২.০-এ কোনো আধিপত্যবাদকে আমরা মেনে নেবো না। চব্বিশের খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের আটক করার কোনো উদ্যেগ নেই। জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রজনতাঁর উপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের কোনো অগ্রগতি নেই। দিনদুপুরে আমার ভাই হাদিকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে সেই অপরাধীদের এখনো গ্রেফতাঁর করতে পারে নাই। শুনে রেখো ইন্টোরিম দুই হাজার ছাত্রজনতার রক্তের উপর তোমাদের এজন্যই বসানো হয় নাই। যদি খুনি হাসিনাকে ভারত থেকে বিচার করতে না পারো তাহলে যেই পথে হাসিনা গিয়েছে তোমাদেরও সেই কাঠগড়ায় দাড় করানো হবে। ‘আজকে আমরা তোমাদের প্রতি আমাদের যে ঘৃণা, সেই ঘৃণা প্রদর্শনের জন্য হাইকমিশন পর্যন্ত এসেছি। আজকে এখানে থেমেছি; যদি তোমরা সংশোধন না হও, তাহলে ভেতরেও (হাইকমিশন) ঢুকব।’

জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক, ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদীকে হত্যার চেষ্টাকারী কোথায় পাওয়া গিয়েছে ভারতে। এর মানে কী? হাদী ভাইয়ের বুকে এই গুলি কে চালিয়ে? এই গুলি ভারত চালিয়েছে। হাদির গায়ে গুলি কেন? ভারত তুই জবাব দিনি… । তিনি বলেন, হুঁশিয়ার করে বলে দিতে চাই বাংলাদেশের জমিনে আর কোনো ভারতের বস্তির টোকাইদের ছাড় দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের সেবাদাসী হাসিনাকে যেভাবে উৎখাত করা হয়েছে সেইভাবে ভারতের বস্তির সন্তানদেরও উৎখাত করা হবে। সেভাবে এইবার সেভেন সিস্টার্স খেলে দেওয়া হবে। ভারত যদি খুনিদের ফেরত না দেয় তাহলে বাংলাদেশ থেকে বাজেট বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়। দুই হাজার ছাত্রজনতার রক্তের উপর দাঁড়ানো সরকারের একমাত্র দায়িত্ব ছিলো হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনা, কিন্তু সেটা তাঁরা করতে পারেনি। বাংলাদেষের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারতের সাথে গোপন বৈঠক করে বলেও অভিযো তুলেন মোসাদ্দেক। এটা জুলাইয়ের শহীদদের সাথে গাদ্দারী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভারত থেকে খুনি কসাইদের ফেরতের বিষয়ে কী পদক্ষেপ সেটা আমরা জানতে চাই। ভারতের রাজধানী দুইটা, একটা দিল্লিতে আরেকটা কাওরান বাজারে বলেও দাবী তোলা হয়।

হুঁশিয়ারি দিয়ে মোসাদ্দেক আলী বলেন, পরের বার আমরা আসব, সবারে হাতে থাকবে কুন্তা-কুড়াল। একটা ইটও আস্তা রাখা হবে না এখানে। বাংলাদেশ থেকে ভারতের সকল হাইকমিশনার উচ্ছেদ করে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সমালোচনা করে মোসাদ্দেক বলেন, আমরা ভেবেছিলাম উনি (তৌহিদ) ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন কিন্তু তার কাজকর্ম আমাদেরকে হতাশ করেছে। এখন পর্যন্ত হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কোনো চোখ রাঙানো প্রতিবাদ আমরা দেখি নাই, সীমান্তে হত্যা হয় তারও কোনো প্রতিবাদ আমরা দেখি নাই। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন,যদি এভাবে চালাইতে থাকেন তাহলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে আপনার পদত্যাগ চাইতে বাধ্য হবো।

জুলাই ঐক্যের সংগঠক ইসরাফিল ফরাজি  বলেন, ‘আজকের এই কর্মসূচি ছিল একটি সতর্কবার্তা। আমরা জানতে পেরেছি, ভারত লবিস্ট নিয়োগ করেছে গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগের জন্য, যারা বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের কাছে যাচ্ছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকেও একইভাবে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।’ভারতের সঙ্গে থেকে যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায়, তাদের ‘সাবধান করে দিয়ে’ ইসরাফিল ফরাজি বলেন, ‘আজ আমরা থেমে যাচ্ছি, সামনে আমাদের থামানোর ক্ষমতা প্রশাসন দেখাতে পারবে না। আজ আমরা হাজারে এসেছি, সামনে লাখে আসব। শেখ হাসিনাসহ সকল খুনিদের যদি ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, তাহলে সামনের দিনগুলো ভারতের জন্য ভালো হবে না।’

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ২৫ ডিসেম্বর ঘিরে বিএনপির বিশাল প্রস্তুতি

০

দীর্ঘ ১৮ বছর লন্ডনে নির্বাসন কাটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখছে না দলটি।

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ইতিমধ্যে একটি শক্তিশালী অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ কমিটির আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিটকে বিমানবন্দরে সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।

দক্ষ কর্মীদের নিয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা দল গঠন করা হচ্ছে, যারা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী গন্তব্য পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সূত্রমতে, ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দরে নামার পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য গন্তব্যগুলো হলো: বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হাসপাতালে যাবেন চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে।

তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন, যা খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’র পাশেই অবস্থিত। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তাঁর বসার জন্য পৃথক কক্ষ ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তারেক রহমান দেশে ফিরেই সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সোমবার ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দেশের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে এবং পাড়া-মহল্লায় সশরীরে নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশবাসী আমাদের নেতার অপেক্ষায় আছে। ২৫ ডিসেম্বর নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।”

রাজশাহীতে কাল শুরু হচ্ছে আন্তঃকলেজ ফুটবলের তৃতীয় আসর

০

রাজশাহীতে তৃতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী বিভাগীয় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে বিভাগের ৮টি জেলার ১৬টি কলেজ দল। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার উদ্বোধন করবেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ। উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহীর নওহাটা সরকারি কলেজের মুখোমুখি হবে পাবনা জেলার বেড়া সরকারি কলেজ। এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শুরু হবে চার দিনব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল লড়াই। তৃতীয় আসরের এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে- রাজশাহী জেলা থেকে নওহাটা সরকারি কলেজ ও সরদহ সরকারি কলেজ; পাবনা জেলা থেকে বেড়া সরকারি কলেজ ও আটঘড়িয়া সরকারি কলেজ; নাটোর জেলা থেকে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ ও সিংড়া দমদমা পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ; সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে গজাইল অনার্স কলেজ ও বেলকুচি সরকারি কলেজ; বগুড়া জেলা থেকে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ও বগুড়া সরকারি জেলা কলেজ; জয়পুরহাট জেলা থেকে সরকারি মুজিবুর রহমান আক্কেলপুরী কলেজ ও কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদ্রাসা; নওগাঁ জেলা থেকে সাপাহার সরকারি কলেজ ও মহাদেবপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, চার দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে মোট ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার  প্রথম রাউন্ডের ৮টি ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে প্রতিযোগিতা। প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম ও শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম রাউন্ডে প্রতিটি জেলার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নকআউট ভিত্তিতে অংশ নেবে। বিজয়ী ৮টি দল উঠবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। দ্বিতীয় রাউন্ডে মোট ৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রথম রাউন্ডের জয়ী দলগুলো মুখোমুখি হবে। সেখান থেকে চারটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। সেমিফাইনালের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে নির্ধারিত দিনে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়াম  মাঠে। সেমিফাইনাল শেষে বিজয়ী দুটি দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে। ফাইনাল ম্যাচ শেষে টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিভাগীয় কমিশনার।

এ বিষয়ে বিভাগীয় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,“বিভাগীয় পর্যায়ে এ ধরনের আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী ও উৎসাহী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফুটবল চর্চার বিস্তার এবং প্রকৃত প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “তৃতীয়বারের মতো রাজশাহীতে এমন বিভাগীয় আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ইতোমধ্যে এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কলেজ পর্যায়ের ফুটবলে নতুন উদ্দীপনা ও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে—এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।