Home Blog Page 265

সাকিবের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন তাইজুল

শেষ ব্যাটার ম্যাথিউ হামফ্রেসের উইকেটের পতনের সঙ্গে সঙ্গে লাঞ্চের ৮২ মিনিট পর শেষ হলো আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। এরই সাথে বাংলাদেশ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের ঝুলিতে জমা পড়ল ৪ উইকেট।

এই ৪ উইকেট পাওয়ার মধ্য দিয়ে সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়ে ফেললেন তাইজুল। দুই বাঁহাতি সাকিব ও তাইজুলেরই এখন টেস্ট উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ২৪৬ করে।

তবে একটা বড় পার্থক্য আছে। সাকিবের ২৪৬ উইকেট পেতে খেলতে হয়েছে ৭১ টেস্ট। আর তাইজুল সমান উইকেট শিকারি হলেন ১৪ ম্যাচ কম খেলে ৫৭ টেস্টে।

টেস্টে সাকিবের ৪ উইকেট আছে ১১ বার। তাইজুল তার চেয়ে ১ বার এগিয়ে ছিলেন আগেই। ৪ উইকেটসহ এখন তাইজুল ৪ উইকেটের পতন ঘটালেন ১৩ বার।

তার মানে টেস্টে সাকিব আল হাসানকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক উইকেট শিকারি হতে তাইজুলের দরকার আর একটি উইকেট। হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল টপকে যাবেন সাকিবকে।

৫৬ টেস্টে ২০৯ উইকেট নিয়ে এই তালিকায় তিন নম্বরে মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট শিকারি মোহাম্মদ রফিক চার নম্বরে। ৩৬ টেস্টে ৭৮ উইকেট নিয়ে সেরা পাঁচে এখনো মাশরাফি বিন মর্তুজা।

জামাল ভূইয়াঁকে স্বাক্ষরিত জার্সি পাঠিয়েছেন নেইমার

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার তার জার্সি উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূইয়াঁকে। গত বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছে জামালের হাতে। জাপানি মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হোন্ডা বাংলাদেশ ফুটসাল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। ৩২টা দল খেলবে দ্বিতীয় আসরে।

টুর্নামেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ট্রফি উন্মোচণ করা হয়, সব দলের লোগো প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে মোটো হোন্ডা দ্য অ্যামোজেনিয়া ব্রাজিলের পক্ষ থেকে নেইমার স্বাক্ষরিত ব্রাজিলের জার্সি পাঠানো হয়েছে। সেটি কাল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালের হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ হোন্ডা লিমিটেডের এমডি ও সুসুমু মরিসাওয়া এবং চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।

জার্সিতে ব্রাজিলের ভাষায় নেইমার লিখেছেন ‘টু ডিয়ার জামাল ভূইয়াঁ।’ একটি ভিডিওতে ব্রাজিলের হোন্ডা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি স্বাক্ষর করেছেন নেইমার। তিনিও হোন্ডা কোম্পানির দূত হয়ে কাজ করছেন, বাংলাদেশে কাজ করছেন জামাল ভূইয়াঁ। জামাল গত বছরও হোন্ডা কোম্পানি আয়োজিত ফুটসালে গিয়েছিলেন। তার মতে, প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের চেয়েও হোন্ডার ফুটসালে ভালো লড়াই হয়।

চট্টগ্রামে তৈরি আরও তিন জাহাজ গেল আমিরাতে

জাহাজ রপ্তানিতে আবার গতি ফিরেছে। চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড সংযুক্ত আরব আমিরাতে একসঙ্গে তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট জাহাজ রপ্তানি করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মারওয়ান শিপিং লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চট্টগ্রামের পটিয়ায় জাহাজ নির্মাণ কারখানাটির সামনে কর্ণফুলী নদীর তীরে ‘মায়ায়’আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই তিনটি জাহাজ হস্তান্তর করা হয়। জাহাজ তিনটির নাম মায়া, এমি ও মুনা। তিনটি জাহাজই ল্যান্ডিং ক্রাফট। তিনটিরই দৈর্ঘ্য ৬৯ মিটার, প্রস্থ ১৬ মিটার এবং ড্রাফট ৩ মিটার। আন্তর্জাতিক ক্ল্যাসিফিকেশন সোসাইটি বুরো ভেরিতাসের মানদণ্ড অনুযায়ী নির্মিত এবং ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। প্রায় ৭০০ বর্গমিটার ক্লিয়ার ডেক স্পেস থাকায় ভারি যন্ত্রপাতি ও বাল্ক কার্গো পরিবহনে উপযোগী।

জাহাজগুলোতে রয়েছে দুটি ইয়ানমার মূল ইঞ্জিন, ইলেকট্রো-হাইড্রোলিক র‌্যাম্প উইঞ্চ, ২৪ মিলিমিটার স্টিল ওয়্যার রোপ, উন্নত অ্যাঙ্করিং ও হাইড্রোলিক স্টিয়ারিং ব্যবস্থা। নেভিগেশনের জন্য ইনস্টল করা হয়েছে সিমরাড এস৩০০৯ ইকো সাউন্ডার, ফুরুনো জিপি-৩৯ জিপিএস, নেভিট্রন এনটি-৮৮৮৬ অটোপাইলট, রাডার ও আন্তর্জাতিক মানের কমিউনিকেশন সরঞ্জাম। এ নিয়ে চলতি বছর ছয়টি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি করছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। বছরের শুরুতে ‘রায়ান’নামে একটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং জুলাই মাসে ‘খালিদ’ ও ‘ঘায়া’ নামে দুটি টাগবোট রপ্তানি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর এবার ৩৯তম জাহাজ রপ্তানি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়েস্টার্ন মেরিন সূত্র জানায়, মারওয়ানের সঙ্গে করা চুক্তিতে মোট আটটি জাহাজ রয়েছে- দুটি টাগবোট, চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট এবং দুটি অয়েল ট্যাংকার। এর মধ্যে চারটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ও দুটি টাগবোট চলতি বছরই রফতানি করা হচ্ছে। বাকি দুটি অয়েল ট্যাংকার ২০২৬ সালের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে। জাহাজ নির্মাণযাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি দেশে বিভিন্ন ধরনের ৩৬টি জাহাজ রপ্তানি করেছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক মারওয়ান শিপিংয়ের কাছে প্রথম জাহাজ রপ্তানি করা হয় ২০১৭ সালে।

জাহাজ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হমোদি বলেন, দুই দেশের দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে। আশা করি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও জাহাজ আরব আমিরাতে রপ্তানি হবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক আবদুর রহিম খান ও ওয়েস্টার্ন মেরিনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, জাহাজ নির্মাণ একটি শ্রমঘন ও উচ্চ প্রযুক্তির ভারি শিল্প। জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ওয়েস্টার্ন মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন সোহেল হাসান বলেন, দেশে এই শিল্পের বিকাশের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি বরাদ্দ। পুঁজি পেলে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে জাহাজনির্মাণ শিল্প খাত।

এই রায় নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার বিজয়: বিএনপি

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই রায়কে দলটি নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার বিজয় এবং ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে একটি অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারই অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।

আমীর খসরু বলেন, অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এই ব্যবস্থায় কোনো কাঠামোগত দুর্বলতা থাকলে তা সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

আমীর খসরু আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকলে তা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দস কাজল বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এই রায়টি সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়। সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই সরকারব্যবস্থা আনয়ন করে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সেই সরকারব্যবস্থা বাতিল করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। আজকের রায়ের ফলে, সংবিধানে এই সরকার ব্যবস্থা অটোমেটিক্যালি পুনরুজ্জীবিত হলো, মানুষের ভোটের অধিকার আবারও প্রতিষ্ঠিত হলো।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এই রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল হলো। জনগণ এখন নির্দ্বিধায় ভোট দিতে পারবে।

ফরিদপুরে ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরের ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহরের মুন্সি ডাংগী শুকুর সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো. ইসমাইল মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ, ডিক্রিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান মাতুব্বর, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান জলিল মেম্বার, ডিক্রিরচর কৃষক দলের সভাপতি মো. আলম শেখ, সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ শামু সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন বেপারীসহ বিএনপি সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, আমি আল্লাহর কাছে সব সময় শুকরিয়া করি, আমার পিতা মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের পাশে যারা ছিলেন তারা সবাই আমার সঙ্গে আছেন এবং আমাকে ও আমার প্রতীক ধানের শীর্ষকে বিজয় করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের আর কয়েকটা দিন কষ্ট করতে হবে, ভোটের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আপনাদের মনে জোর রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে।

ফরিদপুরে ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা

মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরের ডিক্রিরচরে বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলা ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজনে শহরের মুন্সি ডাংগী শুকুর সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মো. ইসমাইল মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি চৌধুরী ফারিয়ান ইউসুফ, ডিক্রিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান মাতুব্বর, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান জলিল মেম্বার, ডিক্রিরচর কৃষক দলের সভাপতি মো. আলম শেখ, সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন শেখ শামু সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন বেপারীসহ বিএনপি সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, আমি আল্লাহর কাছে সব সময় শুকরিয়া করি, আমার পিতা মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের পাশে যারা ছিলেন তারা সবাই আমার সঙ্গে আছেন এবং আমাকে ও আমার প্রতীক ধানের শীর্ষকে বিজয় করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের আর কয়েকটা দিন কষ্ট করতে হবে, ভোটের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইতে হবে। আপনাদের মনে জোর রাখতে হবে, সাহস রাখতে হবে ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদেরই হবে।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় কাজ করতে প্রস্তুত জেলেনস্কি

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে তিনি প্রস্তুত আছেন। তবে ইউরোপের বেশ কিছু মিত্রদেশ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত এ পরিকল্পনাটি রাশিয়ার স্বার্থেই বেশি কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার জেলেনস্কির কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট ওই পরিকল্পনার একটি খসড়া হাতে পেয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন।

তবে অপ্রকাশিত এই পরিকল্পনার বিষয়ে জেলেনস্কির কার্যালয় থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে জেলেনস্কির কার্যালয় বলছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আশা করছেন কূটনৈতিক সুযোগ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় মূল দিকগুলো নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হবে।

বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর বলছে, ২৮ দফার এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ও অস্ত্র ছাড় দিতে হবে। এই পরিকল্পনা–সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিকল্পনা অনুসারে, রাশিয়ার কাছে পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া হবে। এর বদলে ইউক্রেন ও ইউরোপকে ভবিষ্যতে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা থেকে নিরাপত্তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।

এই পরিকল্পনা নিয়ে এক মাস ধরে কাজ করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ইউক্রেনীয় ও রুশ দুই পক্ষের জনগণের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য শর্তগুলো নিয়ে মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। তিনি উদীয়মান এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ট্রাম্প এ বিষয়ে তাকে ব্রিফ করেছেন এবং তিনি প্রস্তাবটি সমর্থন করেছেন।

লেভিট বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষের জন্য এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। এটি দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত এবং তারা এটি নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান লেভিট।

পরে জেলেনস্কি বলেন, তিনি এই পরিকল্পনা নিয়ে কিয়েভে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

তবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নতুন উদ্যোগকে গুরুত্ব দেবে না বলেই মনে হচ্ছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা চলছে না। অবশ্যই কিছু তথ্য বিনিময় হচ্ছে। তবে এমন কোনো প্রক্রিয়া চলছে না, যাকে যোগাযোগ বলা যায়।

জেলেনস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাজ করার ইঙ্গিত দিলেও ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররা এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছে।

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, ‘ইউক্রেনের মানুষ শান্তি চায়, যা সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে। এমন টেকসই শান্তি চায়, যা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আগ্রাসনের আশঙ্কা জাগাবে না। তবে শান্তি মানে আত্মসমর্পণ করা নয়।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস বলেন, যেকোনো শান্তি প্রস্তাব কার্যকরের জন্য ইউরোপ ও ইউক্রেনের সমর্থন প্রয়োজন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাউ সিকোরস্কি বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলে ইউরোপ প্রত্যাশা করছে।

রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনীয় সেনারা দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে জেলেনস্কি চাপের মুখে পড়ছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত অক্টোবরে দাবি করেছিলেন, রুশ সেনারা চলতি বছর ইউক্রেনের প্রায় পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছেন। তবে গত ২৫ অক্টোবর ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, প্রকৃতপক্ষে ৩ হাজার ৪৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল হয়েছে।

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, প্রশ্নবিদ্ধ ভারতের বিমান প্রকল্প

দুবাই এয়ারশোতে ভারতের তেজস যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা ও আর্থিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিমান প্রকল্প নিয়ে।

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হাল) ও অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির যৌথ উদ্যোগে উন্নত তেজস যুদ্ধবিমান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।

২০২১ সালের এক চুক্তির আওতায় ভারত ৮৩টি তেজস এমকে–১এ কিনতে মোট প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সমমূল্যের চুক্তি করে। এতে প্রতিটি বিমানের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার। ট্রেইনার ভ্যারিয়েন্টের মূল্য ছিল একটু কম—প্রায় ৩৯ মিলিয়ন ডলার প্রতিটি।

তবে নতুন অর্ডারের সঙ্গে ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২৫ সালে তেজস এমকে–১এ–এর আরও ৯৭টি বিমান কেনার জন্য ভারতের সর্বশেষ চুক্তির মূল্য ৭.৮ বিলিয়ন ডলার। এতে প্রতিটি বিমানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৮০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যা মূল্যস্ফীতি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

রপ্তানির ক্ষেত্রেও তেজসকে আক্রমণাত্মকভাবে বাজারজাত করছে হাল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজসের প্রতিটির সম্ভাব্য রপ্তানি মূল্য প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে দুবাইয়ের মতো আলোচিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে দুর্ঘটনা ঘটায় বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একসময় সাশ্রয়ী মূল্যের দেশীয় যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত তেজস প্রকল্প এখন নিরাপত্তা ও ব্যয়-সাশ্রয়—উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে। ভারতের বিমানবাহিনী আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা রপ্তানির লক্ষ্য সামনে রেখে এগোতে চাইলে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে প্রস্তুত কমিশন : ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতৎপরতা ও এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে প্রস্তুত ইসি।

শনিবার সকালে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস এর কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐতিহাসিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রেকর্ডসংখ্যক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের দাবিতে সমাবেশ, সড়ক অবরোধ

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করেছে বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন।

শনিবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করা হয়। এর ফলে পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারামুখী সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যানবাহনগুলোকে ডাইভারশন করে বিজয় নগর কাকরাইল সড়কের দিকে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় পরিদর্শক (পেট্রোল) বুলবুল আহমেদ বলেন, নার্সদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পল্টন মোড় থেকে যানবাহনগুলোকে ডাইভার্সন করে কাকরাইল রুটের দিকে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা শিগগিরই সড়ক ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে নার্সদের জন্য সৃজনকৃত সব পদে জ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নার্স কর্মকর্তা পদায়ন করা হোক। ১৯৭৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নার্স কর্মকর্তারাই নার্সিং শিক্ষা, প্রশাসন ও নার্সিং সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে প্রশাসন ক্যাডার থেকে মহাপরিচালক ও পরিচালক নিয়োগ হওয়ার পর থেকে নার্সরা বদলি, পদোন্নতি, নার্স নিয়োগ ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন।

‘সব অভিযোগ ভিত্তিহীন, আমি স্বৈরাচারী নই’

বাংলাদেশের নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি, বর্তমানে দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ- জুনিয়র ক্রিকেটারদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে সিনিয়র ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে হস্তক্ষেপ করা। ড্রেসিংরুমে তার স্বৈরাচারী মনোভাবে অতিষ্ঠ ক্রিকেটাররা, এমনটাও বলা হচ্ছে। শিনবোনের চোট সারাতে বর্তমানে বিকেএসপিতে পুনর্বাসনে আছেন জ্যোতি। সেখানে ক্রিকবাজ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ঠাণ্ডা মাথায়।
ড্রেসিংরুমে স্বৈরাচার!
ড্রেসিংরুমে জ্যোতি স্বৈরাচার, এমন অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে তিনি বললেন, ‘আমি একদমই স্বৈরাচার নই। ড্রেসিংরুমে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জায়গা আছে এবং আমারও আছে। হ্যাঁ, অধিনায়ক হিসেবে আমি হয়তো ভিন্নভাবে সম্মানিত হই। কিন্তু সুযোগ সুবিধা ও আচরণ সবার জন্য সমান। আমি জানি না কারা এসব বলছে, কেন। কে এর পেছনে তা এখন পরিষ্কার। দেখুন, আমি দীর্ঘদিন ধরে অধিনায়ক। সবাই আমাকে পছন্দ করবে তেমন প্রত্যাশা করি না। কিন্তু আমি জানি দলের জন্য আমি কী করছি এবং আমার সত্যিকারের অভিপ্রায় কী।’
জাহানারা আলম ও রুমানা আহমেদকে বাদ দেওয়া
অনেক দিন ধরে এমন কথা শুনছি যে আমি তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছিল, কারণ তারা ভালো পারফর্ম করে অধিনায়কত্ব পাওয়ার দৌড়ে ছিল। আর হ্যাঁ, সিন্ডিকেট কী? ২০১৫ সাল থেকে জাতীয় দলের সঙ্গে খেলছি, সিনিয়রদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করছি। এমন কিছু আমি কখনো দেখিনি। ড্রেসিংরুমে সবাই আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবে না। ১১ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ১১ ধরনের ভিন্ন সম্পর্ক। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারা যদি বলে সিন্ডিকেট করে আমি তাদের সরিয়ে দিয়েছি… কাউকে সরিয়ে দেওয়ার আমি কে? আমি কি নির্বাচক?’
২০২১ সালে আমি অধিনায়ক হলেও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগ পর্যন্ত আমি নির্বাচক প্যানেলে ছিলাম না। এর আগে নির্বাচনের ব্যাপারে আলাপে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা চিল না। ১১ জনের মধ্যে কে থাকছে সেটা না জেনেই টিম মিটিংয়ে যেতো অন্য খেলোয়াড়রা, আমিও জানতাম না। ১৫ কিংবা ১৮ জনের স্কোয়াডের ব্যাপারে আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা হতো না। বোর্ডের সঙ্গে আলাপ করে এটা যাচাই করতে পারেন।’
একবার নিউজিল্যান্ডে, হাশান তিলাকরত্নে ছিলেন কোচ, রুমানা আপু, সালমা আপু এবং সম্ভবত জাহানারা আপুও বিশ্রামে ছিলেন কিংবা খেলেননি। সালমা আপু আমাকে বললেন, ‘তুই আমাদের বাইরে রেখেছিস।’ আমি বললাম, ‘সালমা আপু, বিশ্বাস করেন, আমি এই ব্যাপারে কিছু জানি না। আপনারা যেভাবে একাদশ জানতে পারতেন, আমিও সেভাবে পারি।’ তখন তিনি বললেন, ‘তাহলে তুই শুধুই টসের অধিনায়ক?’ এমন সব কথা আমাকে শুনতে হতো।
দল বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেন নির্বাচক ও প্রধান কোচ। আমি শুধু আমার প্রতিক্রিয়া জানাতাম। একই প্রক্রিয়া চিল ১৫ জনের স্কোয়াড গড়াতেও। তাহলে তারা কেন বলছিল যে আমার কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? আমি তো তখন নির্বাচক চিলাম না। নির্বাচন প্যানেলেও ছিলাম না। তারা কেন আমাকে দোষ দিচ্ছে এবং আমার প্রতি তাদের এত হিংসা-বিদ্বেষ কেন?
সালমা-রুমানাদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল জ্যোতির। কিন্তু অধিনায়কত্ব পেতেই দূরত্ব তৈরি হতে থাকল, ‘আমাকে যখন অধিনায়কত্ব দেওয়া হলো, সমস্যার শুরুও হলো। আমি শুনেছিলাম, কয়েকজন আমাকে বলেছিল যে খুব গুরুত্বপর্ণ ম্যাচের আগে চার-পাঁচজন সিদ্ধান্ত নিতো যে তারা একজন জুনিয়রের অধিনায়কত্বে খেলবে না তারা। যখন বড় ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবা উচিত, তখন তারা আমার অধীনে না খেলার পরিকল্পনা করে। কোচিং স্টাফদের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়ে পরের দিন তারা খেলত। তাদের সমস্যা হচ্ছে তারা থাকতেও আমি কেন অধিনায়ক হলাম। মূল সমস্যা হচ্ছে গ্রহণযোগ্যতা। তারা মানতেই পারতো না যে উড়ে এসে জুড়ে বসা একটি মেয়ে অধিনায়ক হবে, যখন তাদের মতো সিনিয়ররা আছে।
জুনিয়রদের গালাগালি ও শারীরিক নির্যাতন
এটা মিথ্যা অভিযোগ। শুধু একজন এই কথা বলেছে, একাধিক জুনিয়র নয়।’
ওই সময়ের উত্তেজনায় আমি হয়তো বলতে পারি, ‘বল উঠাচ্ছ না কেন?’ ‘আরো ভালো করতে পারতে’, ‘স্টাম্প বরাবর বল কর’। এসব তো সবাই বলে। আমার কথা বেশি শোনা যেতো কারণ মাউথপিস আমার কাছে। আমি রেগে যেতাম কারণ আমার সেরা ফিল্ডারদের কাছ থেকে আরো বেশি চাইতাম। কিন্তু কেন আমি গালি দিবো? আমি মানসিকভাবে অসুস্থ? আমি এমন পরিবার থেকে আসিনি, কাউকে গালি দেওয়ার অধিকার আমার নেই।’
আপনারা জুনিয়র-সিনিয়রদের সঙ্গে এই ব্যাপারে জানতে চাইতে পারেন। আমি শুনলাম জাহানারা আপু অভিযোগ করেছেন, কেউ অস্ট্রেলিয়ায় তাকে ডেকে বলেছে, ‘আমাদের বাঁচান, জ্যোতি আপু আমাদের মারছে।’ আমি যদি কাউকে মারতাম, সেখানে কি টিম ম্যানেজমেন্ট ছিল না? কোচেরা? কেন টিম ম্যানেজমেন্টকে না বলে কেউ একজন অস্ট্রেলিয়াতে ফোন দিয়ে জানাল। এসবের কী কোনো মানে আছে?
মুর্শিদা বলেছিল ২০২২ সালে এনসিএলে আমি তাকে থাপ্পড় মেরেছি। কিন্তু ওই বছর তো আমি তার দলেই খেলিনি, ভিন্ন দলে ছিলাম। তার সঙ্গে তো কথাই হতো না। আমি তাকে থাপ্পড় দিয়েছি, কে দেখেছে? তার কাছে কী প্রমাণ আছে? মিসফিল্ডের পর সর্বোচ্চ আমি বলতে পারি, ‘তুমি কী করছ, বোকা?’
প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। অনেকবার আমি বলেছি, ‘আরে ভাই, কী করছ তুমি, এটা হচ্ছে না। এভাবে করো।’ গালিগালাজ করতে পারি না আমি। আমার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যে ভাষা ব্যবহার করি, সেটা তো এখানে করা যাবে না। কেউ যদি শোনে আমার কোনো বন্ধুর সঙ্গে মজা করছি, তাহলে সে বলতে পারে না যে জ্যোতি বাজে ভাষা ব্যবহার করে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
শ্রীলঙ্কায় মারুফাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া ও তার কান্না, এটা নিয়ে লোকেরা নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছে। আসলে কী ঘ টেছিল বলছি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কায় আমরা এ টিমের সঙ্গে খেলছিলাম। পাকিস্তান সিরিজ থেকে মারুফার উঁচু ক্যাচ ধরায় সমস্যা হচ্ছিল। মারুফা আমার দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার। আমি তাকে খুব বিশ্বাস করি। সে জোরে দৌড়ায়। তারা হিটিং ও থ্রোয়িং চমৎকার। সে দলের জন্য সম্পদ। কিন্তু ক্যাচিং তার দুর্বলতা ছিল।
ম্যাচের দিন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি ছিল। ‘এ’ টিম ও জাতীয় দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মারুফা ক্যাচ ফেলল। তার বোলিং কোটা ততক্ষণে শেষ। ক্যাচ ফেলার পর সে তার হাতের দিকে তাকাচ্ছিল, তার হাতে হয়তো আঘাত করেছিল বল। আমি বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছিলাম, চিন্তা হচ্ছিল তার হাতে আঘাত লাগল কি না। সে ডানহাতে বোলিং করে, সেই হাতেই আঘাত। আরো অনেক ফিল্ডার ছিল, তাই আমি বলেছিলাম, ‘মারুফা, তুই বের হয়ে যা।’ আবারো সে হাতে আঘাত পাক, সেই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছিলাম না। আমি কিপিংয়ে ছিলাম এবং সে লং অনেক, আমি তাকে চিৎকার করে বলেছিলাম, ‘মারুফা তুই বের হয়ে যা।’ সেটাই হয়তো তাকে কষ্ট দিয়েছিল।
পরে ম্যাচ শেষে আমি তার কাছে যাই, সে ছোট। তাকে আমি অনেক ভালোবাসি। তার কাছে গিয়ে দেখলাম, সে কাঁদছে। তথাকথিত সিনিয়ররা তাকে শান্ত করছে। আমি তাকে আমার ছোট বোনের মতো করে জড়িয়ে ধরলাম এবং বললাম, ‘বাবা, আমি তোকে এই কারণে বের হতে বলেছি।’ তখন সে বলল, ‘আপু, আমি সেজন্য কাঁদছি না। আমি কাঁদছি কারণ ক্যাচ মিস করেই যাচ্ছি।’
তাকে পরে বললাম, ‘কখনো ভাবিস না আমি তোর ওপর আস্থা হারিয়েছি। কিন্তু আমি চাই না তুই এনিয়ে আত্মবিশ্বাস হারা।’ সে ক্যাচ মিসের জন্য কাঁদছিল, আমি মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য না।